পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

এই সময় নিয়ে ৩ টি অণু গল্প লিখলেন ব্রতী মুখোপাধ্যায়।

Read more


ফুচিক আলাদুমবার যাবে বলে বেরিয়েছিল। বাস কন্ডাকটর বলল, “কোথায় যাবেন?” ... সময় নেই ঘন্টা নেই আইন নেই মজুরি নেই... আজকের সময় নিয়ে ৩টি ছোট গল্প লিখলেন উপল মুখোপাধ্যায়

Read more


একটা সফটওয়্যার যেখানে নামের বানান ঠিক করা যায়, এমনকি ট্রাইবালদেরও! তা থেকে গাছপালা, বন্যজন্তু, শাপ, পাখপাখালি, গাছ-কাটা, শ’মিল— সব বেরচ্ছে বানান ছাড়া। মেরুনা মুর্মু বা অন্য আদিবাসী সাঁওতালের সঙ্গে কি শুধু জঙ্গলের সম্পর্ক, বানানের কোন সম্পর্কই নেই?

Read more


এতদিন যখন হয়নি, আর হবে না। ইদ্রিস কাকা আক্রান্ত হবার ভয় ফুৎকারে উড়িলে দিলেন। মুখে মৃদু হাসি। যেন ইতোমধ্যে জয় করে ফেলেছেন কিছু। এদিকে ডিমের দাম ছয়। গেছিলেন এক ক্রেট ডিম কিনতে। কেনা হল মোটে দশটা। সংসারে ডিম ছাড়াও তেল লাগে, নুন লাগে, শাক-সব্জি-মশলাপাতি লাগে। সেইদিকে নজর দিতে গিয়ে একেবারে দুম-ফটাস।

Read more

by সাদিক হোসেন | 02 October, 2020 | 0 Comment(s) | 577 | Tags : Lockdown Story


সেই নিবিড় সময়ে লোকটা এসে দাঁড়ায়। ফাঁকা বেঞ্চটায় এসে বসে। গোবিন্দকে দেখে। গোবিন্দও সেদিকে তাকায়। লোকটার গায়ের চামড়া পুড়ে যাওয়া, রোদে গোটানো। মাথায় উসকোখুসকো চুল। চোখ মুখে ক্লান্তির ছাপ। আবার সেই চেহারায় কোথায় যেন লুকানো ভরা অতীতের ছাপ। এমন লোক তো আশপাশের মানুষ নয়!

Read more


গাফফার সানাউল্লামাস্টারের কুরবানির উটটাকে দেখছে। উটটা বুঝি খিদের জ্বালায় জাবর কাটছে! তার দুই কষা বেয়ে সাদা সাদা ফ্যানা গড়িয়ে পড়ছে। যা দেখে গাফফারের মনে হচ্ছে, তার অবস্থাও ওই উটটার মতো। সেও জাবর কাটছে। তবে পার্থক্য যেটুকু- উটটার মতো তার কষা বেয়ে সাদা সাদা ফ্যানা গড়িয়ে পড়ছে না। পড়বে কী করে? আসলে সে তার মুখে জমা ফ্যানা গিলে গিলে খাচ্ছে, নিজের পেট ভরাচ্ছে।

Read more


যখন সব বাড়তি সেন্টুরা কাদার মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতে দেখা যায় সে সময় বারান্দার বাতাসে দিল্লী থেকে ভেসে আসা জয় ভীম, লোহিয়াজির নারা, জগদীশবাবুর ইনকিলাব আর ছোটানাগপুরের উলগুলান চাঙ্গা করে তুলছে হাথরসের কাহানিমালা।

Read more


দুই বাংলা মিলিয়ে বেঁচে থাকা লেখক ছোট-গল্প ও সাহিত্য-চর্চায় প্রায় নবীন। জন্মসাল ১৯৮৫। সৃজন সাহিত্য নামে পত্রিকার সম্পাদক। ২০১৩ সালে অস্থির ঢাকা ঘুরে লিখেছিলেন, শাহবাগ আন্দোলন ও চলমান বাংলাদেশ, এই নামের এক ডকুমেন্টারি পুস্তিকা।

Read more

by বিষ্ণু সরকার | 06 November, 2020 | 2 Comment(s) | 551 | Tags : short story


অচ্ছুত, চিত্রার ছেলে এবং অনাথনামা-- সহমনের গল্প বিভাগে আজ থাকলো তিনটি অণুগল্প

Read more


এখানে বাতাসে বিষ নেই। শহর থেকে দূরে। চিমনির কালো ধোঁয়া,গাড়ির আওয়াজ কিচ্ছুটি নেই। রান্নাঘরের তাড়াও নেই। মনে পড়ল,আজ ধ্যানের ক্লাস আছে। নিয়ম মেনে। ঘন্টা খানেক। সবই নিয়মের। মেনে চলেন। মানিয়ে চলেন। জীবন। নতুন বাড়ি। নতুন পরিবার!

Read more


লোকটি রঙ বদলায়।কিন্তু এই রাতের অন্ধকারে নদীর বালিতে কেবলই একাএকাই লুকোচুরি খেলছে গণশা,অন্ধকার জোছনা হয়ে বালিতে ছবি আঁকছে।দেখে পাগল বলবেরে তকে উটে আয়।কে যেনো ডাকে গণশাকে।

Read more

by আয়েশা খাতুন | 28 November, 2020 | 0 Comment(s) | 537 | Tags : Short Story


এই রকম ঝামেলা থেকে অট্টহাসতলা আর সোনারুন্দি থেকে বহু লোক এসে শিমুলিয়া গ্রামে আজাদ মির্জার বাড়ি আক্রমণ করে। তার গোয়ালের গরু নিয়ে পালায়। আজাদ মির্জা তালেবর লোক। সে পার্টি করে। তার হয়ে কথা বলবে, দরকারে লাঠি ধরবে, এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়। যারা অট্টহাসতলা আর সোনারুন্দি থেকে এসেছে, তারা কেউ নারান পণ্ডিত বা সোমেন চক্রবর্তীর চেনা লোক নয়। গুলি বোমা পিস্তল এনে আজাদ মির্জার বাড়ি তছনছ করে পোস্টার লাগিয়ে গিয়েছে, গোমাতার কোনও অপমান তারা সহ্য করবে না! এই সময়ের একটি গল্প লিখলেন শামিম আহমেদ

Read more


পরদিন সকলের উত্তেজনার নিরসন ঘটিয়ে এবার দু’জনে ফোন স্ক্রিনের সামনে এসে হাজির। আজ দোয়েল মিহিরের দেওয়া একটা সুতির টপ পরেছে। তাতে খুব সুন্দর কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ছবি আঁকা। দোয়েল কলেজ স্ট্রিট চেনে।মায়ের সঙ্গে গিয়েছে গেল বার।

Read more


আমাদের কুলদেবতা ভদ্র। তার ইচ্ছায় আমাদের গোষ্ঠীতে পড়াশোনার চল শুরু হয়েছে। মেয়েটির মৃত্যুর প্রসঙ্গে,যাঁরা আমাদের মধ্যে শিক্ষিত,তাঁরা পুনরায় মহান ব্যাক্তিদের উক্তি স্মরণ করলেন পৃথিবীতে শুধুমাত্র একটিই ভালো আছে,জ্ঞান। আর একটিই খারাপ আছে,অজ্ঞতা।

Read more


এর মধ্যেই বয়সভিত্তিক বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় দারুণ ফুটবল খেলার পরিচয় রাখতে শুরু করেছে প্রমিত। স্কুল পর্যায়ের এক প্রতিযোগিতায় হ্যাটট্রিক করায় কাগজেও নাম বেরল প্রমিতের। গর্বে ফুলে উঠল অসিতবাবুর বুক। ছেলে বড় ফুটবলার হবে।

Read more


ছেলেটাকে আমার সেই পুরনো পাড়াটা, আমার সেই ডাং-গুলি চোর-চোর খেলার দিনগুলিকে দেখানোর ইচ্ছে হচ্ছিল খুব। সেই সব ভাঙা পুকুর পাড়, কুলগাছ। সেই ফাঁকা প্লট, পাখির ডাক। এক সেই প্রাইমারি স্কুলটাই টিকে আছে কোনও মতে।

Read more


সত্যি দলিতরা কী কী কাজ করতে পারে তা অতি দীর্ঘ এক প্রকল্পনাই বটে যার সঙ্গে স্কুলের সামনের দোকানটি বন্ধ থাকবে কিনা, মানব চেনের বাবুদিগের প্রতিবাদের মতো একশো দিনের মাথায় মাটির ঝুড়ি সারিবদ্ধ দলিতের নিরবিচ্ছিন্ন কনভেয়ার বেল্ট থাকবে কিনা, ইতিহাস - ভূগোল আর দেড় হাজার পাতার বইয়ের নিখুঁত পৃথিবী নির্যাস সংযোগ ছাড়াই লেখার মতলব হতে থাকবে। সহমনের গল্প বিভাগে লিখলেন উপল মুখোপাধ্যায়

Read more


মেঘবালিকা শব্দ করে কাঁদে মেঘবালিকা শব্দ করে হাসে মেঘবালিকার বুকের মাঝে ব্যথা মেঘবালিকার মৃত্যু শ্রাবণ মাসে।

Read more


এই প্রতিভা নিয়ে সে জীবিকা অর্জন করতে পারবে সেটা ফ্রাউ ফ্রিডা কোন দিনও ভাবেনি। কিন্তু ভিয়েনার নিষ্ঠুর ঠান্ডায় জীবন অতিবাহিত করা তার পক্ষে দুঃসহ হয়ে পড়ল। তারপর সে বসবাস করার জন্য প্রথম যে বাড়িটা পছন্দ হল সেখানে কাজের খোঁজ করল। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল সে কি কাজ পারে সে নিপাট সত্যটাই বললঃ “আমি স্বপ্ন দেখি”।

Read more


এসব নিয়ে বলার সময় আর আসুক, আমি চাইনা। আসলে অজস্র নেই নিয়ে আমার যে চারপাশ, ভালবাসা সেখানে আছে কিনা বা থাকলেও আমার বোধ্য নয়। যেজন্যে মনে হয়, আমিও কাউকে ভালবাসতে পারিনি । যদি কখনও পারি বা সেই বোধ খুঁজে পাই, তোকেই জানাব।

Read more


ডিভোর্স শব্দটাকে অভিধানের ঘেরাটোপ থেকে বার করতে মানুষ বড় ভয় পায়। খাঁচার পাখি উড়তে গিয়ে যদি মাথা ঘুরে পড়ে যায়? আমাদের ঘরবাড়ির বাইরের দেওয়ালের রঙটা ঝকঝকে রাখতেই হয়, তা সে ভিতরে যতই চামচিকে বাসা বাঁধুক না কেন! *মেঘ-অরণ্যকথা* র গল্প লিখলেন অনিন্দিতা দে।

Read more


হঠাৎই ঘুম ভেঙ্গে যায় তোতার পাশে অমিত নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। কি বিরক্তিকর আওয়াজ। দিনে অকারণে চিৎকার করে আর রাতে বিশ্রী নাক ডাকে। প্রেম ভালোবাসা বলতে শুধু বোঝে শরীর। তোতার গা ঘিন ঘিন করে। শহর জুড়ে এখন প্রেমের মরসুম, সেই ভালবাসা, মন্দবাসার গল্প লিখলেন মৌসুমী রায়।

Read more


এবার মৌলভীর ফতোয়াতে নিজের জন্য নয়, বাড়িতে মা কোনও বিড়ম্বনায় পড়বে কিনা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি। আমার জন্য মায়ের জানাজা-কবর গাঁয়ের লোকে হারাম করে দেবে না তো? মায়ের যে বড় সখ! হ্যাঁ, সখই। আমার আব্বা যেখানে শায়িত আছেন, সেই কলাপুকুরের পাড়ে বেলগাছের ছায়ায়, মাত্র তিন বাই সাত ফুট মাটি।

Read more


নিজের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে দেখতে পায় নিজেরই গলায় দড়ির সরু দাগ । আত্মহত্যাপ্রবণতা এসব ভারী ভারী কথা ক্রমশ ওর নিজেরই কাছে হালকা হয়ে আসে ।

Read more


তিনি আজন্মের পথিক এই রসের ভিয়ানে । চলাই জীবন। প্রতিপক্ষের কাদা-পাঁক যত ছিটকে এসে পড়বে ধোপদুরস্ত কাপড়ে ততই জীবনের কামড় অনুভূত হবে, চলার অর্থ খুঁজে পাওয়া যাবে । জীবন চলুক এভাবেই । শেষ কোথায়, কতদূরে……কিভাবে ? তাই জানতেই তিনি আজও পথিক…….জীবন পথের পথিক……

Read more


রাত ঘন হয়ে এল আরও। এবার বিশ্রাম নেবার আয়োজন করতে হবে ওদের। রুনার এত তাড়াতাড়ি ঘুম আসে না। সে তার সিটে গিয়ে ম্যাগাজিন নিয়ে বসল। ইয়াসিনের দেরি করলে চলবে না, সারাদিনে অনেক কাজ করার আছে। তার সঙ্গীসাথীরা এই ট্রেনেই অন্য কামরায় আছে।

Read more


নির্দেশিকা জারি করল চৌকিদার— • কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে না। যতক্ষণ দিনের আলো থাকবে, যতক্ষণ অধস্তনেরা মনে করবে, ততক্ষণই কাজ চলবে। • সকল মজুর কাজ করতে বাধ্য থাকবে। • জ্বালানির জন্য তারা কয়লার গুঁড়োই পাবে, কয়লা নয়। • কাজ চলাকালীন কোনও মজুরের মৃত্যু ঘটলে তার পরিবারের একজনকে কাজে বহাল করা হবে। সবটা গড়গড় করে পড়ে চৌকিদার ফিরে গেল...তারপর কি হল?

Read more


কশিরন ভাবে সব জায়গা এসি হলে কতটা টাকা লাগতে পারে। হিসেব করতে পারে না।।এসির দাম তার জানা নেই। পাখা একটা লাগানো আছে তার বড়বেটার ঘরে কিন্তু তার দামও জানা নেই তার। কখনো সখনো পাখার হাওয়া খাবার সৌভাগ্য হয়েছে তার কিন্তু সব সময় না। আর পাখা লাগাবেই বা কোথাও। পাখা লাগানোর জন্য ছাদ চাই।

Read more


সেদিনের ছবিটা আজ এতগুলো বছর পরেও পরিষ্কার । মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছিল অলীকের কথা। বক্তৃতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কয়েকটা মুহূর্ত দাঁড়িয়েছিল করিডরে । তারপরে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়েছিল ছেলেটার সামনে । কে দেখছে, কি ভাবছে, এসব চিন্তা মাথাতেই আসেনি । সরাসরি বলেছিল,' আমি অনন্যা । ফাইনাল ইয়ার পল সায়েন্স । আপনি এতক্ষণ যা যা বললেন তা কি কোনোদিন সম্ভব হবে আমাদের দেশে?'

Read more


রঙ ময়লা হলেও চোখের চাহনি বড় মায়ায় ভরা। দেখে নিবারণ। মেয়েটাও অবাক হয়ে দেখে নিবারণকে। ওপারের চশমার কারখানায় কাজ করে। কারখানা বন্ধ হলে বেলাবেলি বাড়ি ফেরে।তবে এই ঘাটে পেরোয় না।

Read more


একটা ছেলে ডান হাত দিয়ে লম্বা শিক ধরে আছে। সে ধরার জায়গাটা কাপড় দিয়ে মুড়ে রেখেছে। বোঝাই যাচ্ছে শিকটা গরম। সে গরম দিয়ে দিয়ে চোখ তৈরি করছিল- অদ্ভূত মুখোশের। সেই ছৌয়ের মুখোশটা বীভৎস একটা মুখ। বীভৎস আর অদ্ভূত। মুখোশেটায় চোখের জায়গাটা আঁকার পর একটা গর্ত করতে হয় আর ছ্যাঁতততত ছ্যাঁতততত আওয়াজ করে চোখ তৈরি করা চলতে থাকে।

Read more


সিমিকে মারলে ও নিজে ভীষণ আহত হয়। কোলের মধ্যে মুখ গুঁজে মেয়েটা অভিমানে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। বিজন হেরে যাবার মতো অসহায় বোধ করে। আগে তাপু সিমিকে বকলে বিজন চাপা রাগে গরগর করতে করতে তিন দিন কথা বলা বন্ধ রাখত। এখন সে কিছু বললে তাপু চেঁচিয়ে ওঠে—মেয়েকে তুমি পাঁচ মিনিট দেখার সময় পাও? চব্বিশ ঘণ্টার কতক্ষণ তুমি বাড়িতে থাক? মেয়ের খাওয়া, পরা, পড়ানো, ঘুম পাড়ানো এর কোনোটাতেই তোমাকে পাওয়া যাবে না, শুধু শাসন করলে তোমার মাথাব্যথা বেড়ে ওঠে।

Read more


মিলিয়ে যায় রাতে পরম শান্তিতে ঘুম আসে মহাদেবের । শেষ রাতের স্বপ্নমাখা চোখে দেখে - দূরে - আরো দূরে - বহুদূরে তার পক্ষীরাজ ঘোড়া , গিলে করা ধুতি পাঞ্জাবী উড়িয়ে ছুটে চলেছে । ঘড়ি , আংটি , হার , বোতামের ঝিলিক ঝাপসা হ'তে হ'তে হ'তে - একসময় ।

Read more


ছেলেগুলো চলে গেলে ফাঁকা বাড়িটাও একা হয়ে যায়। পুরোপুরি একা হয়ে যান অবনী মাস্টার। এত দিন তবু অলকানন্দা ছিল। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে, সুখে-দুঃখে দুজনে দুজনের পাশে থাকতেন। ভরসা পেতেন স্ত্রীর সঙ্গে নিজেদের দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করতে গিয়ে। গত বছর হঠাৎ করেই অলকানন্দা চলে যাওয়ার পর এখন আরও একা হয়ে গেছেন তিনি। যে রাতে অলকানন্দার হাতটা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল, মাস্টার বুকের কাছে টেনে নিয়ে টের পেয়েছিলেন অসাড়। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। হয়তো সময় হয়ে গেলে কারোরই কিছুই করার থাকে না।

Read more


টেস্ট হল। রঞ্জিতের রিপোর্ট এল করোনা পজিটিভ। সেইসঙ্গে দ্রুত অবনতি হল শরীরের। বেশী সময় দিল না রঞ্জিত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা অক্সিজেন সিলিন্ডার এসে পৌছনোর আগেই শেষ নিঃশ্বাসটা আর ধরে রাখতে পারল না স্মিতার সরকারী কর্মচারী স্বামী।

Read more


সকলে আশ্চর্য হয় এমন নতুন ঠাকুরের নাম শুনে। একজন জিজ্ঞেস করে " এ আবার কোন ঠাউর গো বিশ্ব? কত ঠাউরির নাম শুনিচি, এ ঠাউরির নাম তো শুনি নাই।"

Read more


শিবনাথ মালাকার গ্রামের মাতব্বর। প্রভূত ধন সম্পত্তি, সেই সুবাদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিধানসভা তপশীলি সমষ্টি হয়ে গেলেই নাকি শাসক দলের ক্যান্ডিডেট এমন কানাঘুষো। শিবনাথ কাকুর সঙ্গে পল্লবদের পরিবারের একটা অম্লমধুর সম্পর্ক অনেকদিন থেকেই। রক্তারক্তির একটা শিশুকাণ্ড ঘটেছিল বাবার বালক বয়সে। যদিও সেসব চুকে বুকে গেছিল শৈশবেই। সম্পন্ন দুই কৃষক পরিবারের ছেলেরা বন্ধুই ছিল, কিন্তু পিসের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না শিবনাথ কাকার। শিবনাথ মালাকারের বাড়াভাতে ছাই দিয়ে যে বিয়ে করে ফেলল আপিকে।

Read more


পাখিদের কনসার্ট , নিষ্পাপ ভোর , বেহালার সুরের মতো অস্তরাগ , পূর্ণিমায় নেমে এসে গল্প করে চাঁদ , অমবস্যা রাতে জ্যোতিষ্কদের মেলা , দারুণ ৷ খুব সুখেই ছিল তিনজন আত্মা , ইদানিং সেই সুখ নিজ নিজ কারণে অসুখের গভীরে তলিয়ে যেতে বসেছে ৷

Read more


জোব বলল, " এককালে ছিল। সরকার‌ই সে সব অক্ষর পরিচয় ও অংকের ব‌ই ছেপেছিল। পরে সে সব ব‌ই ফুরিয়ে যাবার পর আর ছাপেনি। মহাকরণে পাঁচ-সাত বছর ধরে যাতায়াতের পরে‌ও কোনো সুবিধে করতে পারেনি। তারপর ব‌ইয়ের আশা ছেড়ে দিয়ে শ্রুতি আর স্মৃতির উপর বত্রিশটি রাত-পাঠশাল চলছে।"

Read more


একেবারে সত্যি কথা। মাস্টারি করে আমাদের মানুষ করা যেখানে আমার আব্বার লক্ষ্য, সেখানে সাবেদ সেখের লক্ষ্য বছর বছর জমি কেনা। এই তো, গত বছর আমার বড়ভাইকে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি করতে প্রচুর টাকা লেগেছে। ওই টাকা জোগাড় করতে আব্বাকে আমাদের মরিচডাঙার আড়াই বিঘার দাগটা বিক্রি করতে হয়েছিল। মরিচডাঙার সেই আড়াই বিঘা জমির মালিক এখন সাবেদ সেখ। স্বভাবতই সাবেদ সেখের ওরকম কথা বলা সাজে। আব্বা কিংবা আমরা তার ওই সব কথা নিয়ে ভাবি না।

Read more


কবিতার প্রতি ওর অনুরাগ ছিল প্রগাঢ়। নির্মলেন্দু গুণের সমস্ত প্রেমের কবিতা ছিল ওর মুখস্থ; প্রেমিকাদের হৃদয় হরণে এই গুণটি বেশ কাজে লাগাতে পারত ও। ওইগুলোর মধ্যে কিছু কবিতা যে ওর বানানো, তা শফিক না বললেও আমি বুঝতাম।

Read more


ভোর বেলায় বেশ কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেলো। এখন থেমে গেছে। জাম গাছের মোটা পাতাগুলো এখনো কিছুটা জল ধরে রেখেছে তাদের সর্বাঙ্গে। সজনে পাতাগুলো তুলনায় তাদের ঝাড়া ঝাপটা চেহারা এখনই শুকিয়ে নেবার জন্যে হালকা রোদে গা নাড়া দিয়ে দিয়ে শুকিয়ে উঠছে। এসে গেছে ছাতারে পাখির দল। ভিজে মাটির উপরে ভিজে পাতা উল্টে উল্টে খুঁজছে তারা পোকামাকড়। ডালে ডালে নড়াচড়া করতে শুরু করে দিয়েছে কাঠবিড়ালির দল। একটা বেজি বেরিয়ে এলো বাগানের কোন থেকে, সঙ্গে একটা বাচ্চা। এগিয়ে আস্তে আস্তে একেবারে জানালার কাছে এসে পড়লো। তারপর মুখ তুলে দেখতে পেল মুগ্ধাকে - আর দেখতে পেয়ে নব্বই ডিগ্রি কোণে বেঁকে পালিয়ে গেলো ডানদিকের পাঁচিলের ধারে।

Read more


১ বামনদের গ্রামের পাশে একটা মস্ত বড়ো ঝিল ছিল। সেই ঝিলের ওপারেই ছিল খেলার মাঠ। সেই মাঠে খেলতে যেতে ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের খুব কষ্ট হতো। সকালে বা বিকালে হাঁটতে যেতে বূদ্ধ বা বূদ্ধাদের দম বেরিয়ে যেত। ঝিলের গা দিয়ে অনেকটা ঘুরে তবে তারা সেই খেলার মাঠে পৌঁছত। একদিন গ্রামের মোড়ল বললেন, আমরা এই ঝিলের ওপর একটা ব্রিজ বানাব। তোমরা রাজি তো? গ্রামের সবাই এই প্রস্তাব শুনে একদম হইচই করে উঠল।

Read more


মনের ভিতরের একটা জানালা খুলে দিয়েছে নীরালি। নামের বৃত্তান্ত নাই বা জানলে তোমরা, শুধু এইটুকু জেনো যে তার নাম নীরালি, মেয়ে ছাড়া কাকে নিয়েই বা কবিতা আর কাকে নিয়েই বা গান গল্প বলো! বড়ো লাচার বাবো, ইঞ গালমারা ক্যা শুনবে? ইয়া তো লিতকার গালমারা, এই তো ধর ক্যানে চয়ত মাস্যের র‍্যোদ বটে গো মাথার অপরে, বারোটা চাঁন্দুবুঙ্গা মাথাটকে ফাটিন্দিচ্ছে র‍্যোদে, মাটিটর অপরে ট্যাংট তো রেখায় যায় না খো। কেন্তনা সি কুন ছুটু থেকে গোগোর তি ধরে আগুনের অপরে হ্যাঁটে হ্যাঁটে পায়ের তুলাটতে তো ঘুড়ার পারা লুহার ল্যাল পিন্দে লিয়েছি! মাটিট ক্যামুন লিজের হুয়ে যেলছে দ্যাখ আপনি থেকেই। তো কুথা যাব্বো কুন ব্যাগে যাব্বো গো! বাবোকুড়া কুন ব্যাগে যাব্বো?

Read more


হায়দরাবাদ থেকে মল্লিনাথ কলকাতায় ফিরছেন। এসেছিলেন ছেলের সঙ্গে। ক’দিন হায়দরাবাদে কাটিয়ে ফিরছেন। একা ত্রিশ ঘণ্টার জার্নি খুবই ক্লান্তিকর। থ্রি-টিয়ার নন-এ.সি. কোচে রিজার্ভেশন। হাওড়া থেকে রিটার্ন জার্নি করা ছিল। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। ওদের ছুটি নেই। নতুন চাকরি। বছরে এক-আধবারের বেশি আসতে পারে না। প্রথমদিকে তাঁকে আর মা-কে ওখানে যাওয়ার জন্য ঘন ঘন ফোন করত। মল্লিনাথ বুঝতেন প্রথম প্রথম শুভময়ের মানিয়ে নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। তবু মানুষকে সব রকম পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। শুভময় এখন যেমন মানিয়ে নিতে পেরেছে। তাঁর-ও ছিল বদলির চাকরি। সারা জীবন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ঘুরে তাঁকে চাকরি করতে হয়েছে। এখন ভাবেন সেটা ভালোই হয়েছিল। নিজের রাজ্যকে চেনার সুযোগ পেয়েছিলেন। চাকরির সুবাদে শুভময় ভারতবর্ষকে দেখার সুযোগ পেয়েছে। এই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই ওর জীবনে কাজে লাগবে।

Read more

by অমর দে | 08 August, 2021 | 0 Comment(s) | 465 | Tags : A Short Story Amar De Amma


নলিনীকান্তর দুর্লভ যত সংগ্রহ আছে তার মধ্যে থেকে একটিকে আজ বার করলেন তোরঙ্গ থেকে। একটি ছবি। স্বচ্ছ প্লাসটিকের প্যাকেটে ভরে বিছানার ওপর রাখলেন। তক্তপোষের অর্ধেকটা দখল করে আছে বইখাতা, খবরের কাগজের কাটিং ভরা গোটাকতক ফাইল আর চেপ্টে যাওয়া দুটো বালিশ। সুপর্ণা, বড় ছেলের বউ ইস্ত্রি করা ধুতি-পাঞ্জাবী রেখে গেছে বিছানার ওপর। পরতে পরতে বললেন, 'খাবার হলো বৌমা?’

Read more


শোনা গল্প। বন্ধুর কাছে শোনা। অনেকদিন ধরেই ভাবছি সবাইকে গল্পটি শোনাই। ভাবছিলাম কোথা থেকে আরম্ভ করি। শোনা তো, একটু এলোমেলো ছিলই। তার ওপর বলেছিল, আসলে গল্প নয়। গল্প নয় মানে সত্যি। হতে পারে, না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। অথবা কোথাও সত্যি, কোথাও আবার কাল্পনিক সুতো দিয়ে মুড়ে দেয়া। গল্পটি একদিক দিয়ে দেখতে গেলে অনসূয়ার। অনসূয়ার একসময় মনে হতে থাকে কেউ হয়ত তাকে হত্যা করবে। অন্যদিক দিয়ে দেখলে গল্পটি বলা যেতে পারে প্রিয়াংশুরও। প্রিয়াংশু একদিন জানতে পারল তার স্ত্রী এইরকম ভয় পাচ্ছে। আসলে তখন চারপাশ থেকে অতিরিক্ত খুনখারাপির খবর আসছিল। সে এক বর্ষার রাত্তির। দুই বন্ধু, ঘর খালি, বোতল নিয়ে বসেছিলাম। তা কথা হচ্ছিল ওই খুনটুন নিয়েই। আমি জিগগেস করেছিলাম--- খুন করার পরে অপরাধী সারাজীবন নিজের বউবাচ্চার সঙ্গে কেমন আচরণ করে?

Read more


ঘরে মন টেকে না বিনোদ ডোমের। মাঘের ছ-তারিখ হয়ে গেল। পৌষের তেইশ তারিখে মহাজন এসেছিল। তিনপণ কুঁড়চির মালা ঘরে গাঁথা পড়ে আছে। হাতে টাকা না এলে গাছ আনতে পারবে না। বন-কমিটির ফি জমা দিতে হবে। হাতও ফাঁকা, সংসারও ফাঁকা। বউ গেছে বড়োমেয়ের ঘর ডিহরে। শৈলেশ্বরের মেলায় তিনদিন ভিডিও-শো হবে। মেয়ে খবর পাঠিয়েছিল। ছেলে গেছে আরামবাগ। আরামবাগের যাত্রাদল তেরোখানা আসর পেয়েছে। ছেলে ফুলুট বাজাবে। নাতিদুটো গোল্লায় গেছে। বাঁশির বদলে বাঁশ ধরেছে। দিনেরবেলা এর-তার জমিতে খাটে, রাতে বনের পথ ধরে মানুষজন গেলে মাথায় লাঠি তোলে।

Read more


“তপু আজও ফিরে নাই- মিনু দেখল বাবার গলার স্বর ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসছে। দু’চোখের পাতায় ঘুম এলিয়ে পড়েছে। তপু বা তপন জগদীশের ছেলে, মিনুর একমাত্র দাদা। পারিবারিক দোকানের মাল সওদা করতে সদরে গেছে দিন সাতেক হল। এখনও ফেরেনি, দিন দুয়েক ধরে বৃদ্ধ দিনে অন্তত বার চার পাঁচেক ছেলের কথা জিজ্ঞেস করে। ওষুধ খাওয়ানো হয়ে গেছে। এখন মিনু তোয়ালে দিয়ে বাবার মুখ মুছিয়ে সাদা চাদরটা বুক বরাবর তেনে দিল। বাবার মাথায়, কপালে হাত বুলিয়ে মমতার গলায় বলল – লক্ষীছেলের মতো ঘুমিয়ে পড় –”

Read more


“আল্লাহ দান করে যাবে হাশরের ময়দানে……বান্দা……।“ বুঁদ হয়ে আছে তজু। দুই হাড়গিলে হাঁটুর মাঝে ঠেসে গোঁজা উসকোখুসকো মাথা। তজু ভাবছে, ইহকালে কী আর আছে? ক-দিনের জন্যে আর এই শরীরজীবন? আল্লাহর হুকুম হলেই, দপ করে নিভে যাবে। আসলবাড়ি তো কবর। যতদিন যাচ্ছে ততই বেবাগি হয়ে উঠছে তজু। তাকে সংসারে বেঁধে রাখতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে মারিয়ম। মাঝেমধ্যেই ঠুকমুক লেগে যাচ্ছে দুজনে। মারিয়মের মোদ্দাকথা, তার স্বামী গায়ে-গতরে খাটুক, অন্য পাঁচটা লোকের মতো হকের রোজগার করুক। কারও ঘাড়ে চেপে ভাগের উপার্জন বন্ধ করুক।

Read more


ধুসর রঙের পর্দাগুলো উড়ছে। কেউ যেন বাতাস লেলিয়ে দিয়েছে ওগুলোয়। প্রলয় বাতাস। একজন নিঃসঙ্গ ঘোড়সওয়ার দাঁড়িয়ে পড়েছে দূরে। আমি তবু এগিয়ে যাচ্ছি এক-পা এক-পা করে। আকাশ থেকে ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে আলো। একখণ্ড মেঘ উড়ে এল কোথা থেকে। নেমে এল যেন একটা প্রাচীনকাল। দেখলাম ঘোড়সওয়ারটা এবার পালাচ্ছে ধুলো উড়িয়ে। যেদিক থেকে এসেছিল সেই দিকেই পালাচ্ছে। আকাশ থেকে কী পড়ছে ওগুলো! এক-একটা ইতিহাসের পাতা! উড়ে যাওয়া সেই পাতা থেকে খসে খসে পড়ছে সাদা কাপড়ের মোড়ক।

Read more


দিন পনের ধরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নো ম্যানস ল্যান্ডে পড়ে আছে এক নারী। নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার মতো সমস্ত আয়োজন ওর পোশাকে আছে। বাড়তি একটি পা অচল হওয়ার কারণে তাকে ঢাকা কিংবা কলকাতার ফুটপাতে পড়ে থাকা ভিখারি হিসেবে ভেবে নিতেও অসুবিধা হবে না কারো। নো ম্যানস ল্যান্ডের নিচু জমির দুপাশে পানির মাঝখানে একটা বাড়ির সমান উঁচু ঢিবিতে নারীটি পড়ে আছে। কিভাবে গেল, কোনদিক থেকে গেল, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

Read more


বিরিয়ানির খুসবু পাচ্ছে ওসমান। কিন্তু সত্যিই কি? না কি সে শুধুই ভেবে নিচ্ছে নিজের মতো করে। সে ভেবে নিচ্ছে বিরিয়ানির ফিনফিনে আর ফরসা চালের কথা। ভেবে নিচ্ছে এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ বা জাফরানের কথা। গোস্তের মশলাদার টুকরো। আলু। আর পাতের উপর থেকে মুখের দিকে উঠে আসতে থাকা গরম ভাপের কথা। শালপাতার থালায় ঢেলে দেওয়া ফিনফিনে ভাতের গা থেকে থেকে উঠে আসা ধোঁয়ার সেই উমো উমো উষ্ণতা পেয়ে ওসমান কেমন ‘আহ্‌’ করে উঠল ভাবো। আর পাশে বসে থাকা ফকির কেমন বলে উঠল, আল্লারে ডাক এখন, কাঁদাকাটা করে লাভ নাই, এখন ফেরেশতারাই— । আর ফকিরের কথাতেই চোখ খুলল ওসমানের। হায় আল্লা, এসব কী ভাবছিল সে! ওসমান তো এখন বাড়ির বারান্দায় মা হাসিনা বানুর বালিশ ঘেঁষে বসে। কাল বিকেলে দেখতে এসে মৌলবি ওমর আলি জবাব দিয়ে গেছে। বলে গেছে, ফুকে আর হবার নয় কিছু, পারলে খাজা খতম পড়া। দুআ কর। সবার দুআ আর আল্লার মেহেরবানিতে যদি— ।

Read more


নারী নরকের দুয়ার; অতঃপর আমিনা পানির কুলকুল ধারাপাতে সিক্ত নিজেকে বিধৌত করতে থাকে অবিশ্রান্ত; দেহ খানি পানির ছলছলানিতে মুখরিত। পানির ঢলানি দেহজুড়ে অবসাদ-গ্লানি হতে উত্তরণ করে চলে। সূর্যের প্রথম অরুণ কিরণ অংকিত প্রত্যুষে। শীতলতা কুয়ার পানির; আমিনা কুয়া হতে পানি তোলে; পানি মাথায়, সর্বাঙ্গে ঢালে। অনর্গল, গলগল করা এই পানির প্রবাহে ভিজে চলে সে। জলক্রীড়া তার শরীরময়।

Read more


জাতীয় সড়ক থেকে বাঁদিকে এই যে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়কটা ঢুকে হারিয়ে গেছে দুপাশের সবুজ ক্ষেতখামারের মধ্যে ঠিক তার একটু আগে গাড়িটা থামাল শুভম। গাড়ি বলতে স্কুটি। পেছন থেকে আস্তে করে রাস্তায় নামল হিমু— হিমাদ্রি। খা খা পিচ সড়ক। ভাদ্রের ভরদুপুরের অক্লান্ত সূর্যালোক সেই সড়কের ওপর দিয়ে পিছলে যাচ্ছে। হেলমেটটা খুলতে খুলতে হিমু দেখল সামনে সড়কের ওপর জলরেখার মৃদু মৃদু কম্পন। মরীচিকা। বাঁকের মুখেই দাঁড় করানো পুলিশ জিপটা থেকে একজন খাকি উর্দি এগিয়ে এল ওদের স্কুটির দিকে। অফিসার না কনস্টেবল? মরুক গে! এই জিপ এবং তার ভেতরের মানুষগুলোর এই জায়গায় অবস্থিতি, অবাঞ্ছিত হলেও, গোচরে ছিল ওদের। --কোথায় যাচ্ছেন? --বন্ধুর বাড়ি। হেলমেটটা খুলে মাস্কটা নামাতে নামাতে বলল শুভম...

Read more

by সোমেন বসু | 17 October, 2021 | 0 Comment(s) | 374 | Tags : short story covid 19


সত্যি কথা বলতে কি, আমার যাবার তেমন ইচ্ছে ছিল না। ফিরে আসার পরেও মনে হচ্ছে, না গেলেই কি ভাল হত? শুধু তো ক’টা টাকার জন্য। কাজটা পড়েছিল শুক্রবারে। তার মানে আবার অফিসে ছুটি নিতে হবে। ছুটির দিন হলেও না হয় একটা কথা ছিল। চট করে যাওয়াই যায়। কিন্তু, শুক্রবার সারাদিনের কাজ। ব্যস্ততার বহর এখন ঠিক বোঝাও যাচ্ছে না। খোলসা করে ওরা বলছেও না কিছু। অথচ ভোরবেলাতেই বেরিয়ে পড়া, গভীর রাত অবধি কাজ। যদি কোনও কারণে শুক্রবারের পরের দিনটা অফিসে না যেতে পারি, সোমবার অফিসে ঢুকে বড়সাহেবের মূর্তির দিকে আর তাকানোই যাবে না। ভাবছি বেশ খানিকক্ষণ। ভাবার সময় দিলে তো। মুম্বই থেকে ক্রমাগত তাগাদা দিয়ে চলেছে রাজু। সমানে মেসেজ। শিগগির জানান। এটা বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে প্রজেক্ট। আপনি রাজি হলে তবেই ওদের সঙ্গে ফাইনাল কথা হবে। অফিসের কাজের ফাঁকে টুং টাং করে হোয়্যাটসঅ্যাপ মেসেজ। এই এক জ্বালা হয়েছে। যখন-তখন যেখানে-সেখানে ফোন বেজে ওঠে। ফোনে পাওয়া গেল না তো তাকে খুঁচিয়ে যাবার একশো এক তরিকা। নিঃশ্বাস নেবার ফুরসত দেবে না। যাকে চাই, তাকে তক্ষুনি চাই।

Read more


বাপের জম্মে ব্যবসা এত মন্দা যায়নি নিতাই দাসের। অজ পাড়া গাঁ হাটবারে মাঠের মধ্যে বট গাছের নীচে দোকানের বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে ব্যবসা করে নিতাই। এই ভরা বর্ষায় মরশুমে এভাবে অস্থায়ী দোকান বসাতে খুব অসুবিধে হয় ঠিকই কিন্তু অন্যান্য বছর খদ্দের থাকে এই সময়টাতেই। কত গ্রামের লোকের কত সমস্যা। সব সমস্যার সমাধানই মজুত নিতাই দাসের কাছে। এভাবে গ্রামে গ্রামে হাটবারে দোকান খুলে বসলেও পলার পার গ্রামের গোবিন হালাইয়ের চা স্টলেই নিতাইয়ের মূল ঘাঁটি।

Read more


হাওড়া জেলার নারিকেলদহ গ্রামে আমাদের পৈতৃক বাড়িটা পেল্লায় বড়। দোতলায় আটটা শোবার ঘর। তারই মধ্যে বাড়ির পশ্চিম দিকে দুটো ঘর নিয়ে থাকে আমার জ্যাঠতুতো দাদা, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। আর থাকে ওর ল্যাব্রাডর কুকুর কালু। কালু নামটা বড়ই বেমানান কারণ কুকুরটা ধপধপে সাদা। বাড়ির পূর্ব দিকটা বেশির ভাগ সময় তালা দেওয়াই থাকে। নিচের তলায়, মানে একতলায়, বেশির ভাগ ঘরই ভাড়া দেওয়া। ছোট ছোট পরিবার। তাদের ছেলেমেয়েরা সবে থ্রী -ফোর এ উঠেছে।

Read more


টার্গেটের সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে আর ইয়েতির মত বসটার লাল চোখ দেখে কোনোমতে রাতজাগা কফিময় সপ্তাহটা কাটলো। রবিবারের ক্যাবলা বিকেলটার মাদকতাই আলাদা,অনেকটা অবৈধ প্রেমিকের মত! অন্য সপ্তাহগুলোর মত ল্যাদ খেয়ে পড়ে না থেকে নিজেকে বললাম--"জাগো বাঙালী জাগো,কবে আর বাঁচতে শিখবে...." ইত্যাদি! গুগলদা আসার পর থেকে দিকশূন্যপুরে হারিয়ে যাওয়ার বিলাসিতা করা হয়নি অনেকদিন,তাই ফোনটাকে বাড়ি রেখে "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া" গোছের একটা হাবভাব করে গলি খুঁজতে বেরিয়ে পড়লাম!

Read more


আমার ছেলেবেলা যে বাড়িতে কেটেছে সেটি ওপার বাংলার চলচিত্র পরিচালক মৃণাল সেনের জন্মভিটা। ফরিদপুর, ঝিলটুলী। বাড়িটি ১৯৪৭ সালে আমার মায়ের দাদা আয়নুল ইসলাম চৌধুরী’র কাছে মৃণাল সেন-এর পিতা এডভোকেট দীনেশ সেন বিক্রি করে দিয়ে ওপারে মানে পশ্চিম বঙ্গে চলে যান। সে-সময় মৃণাল সেন তরুণ, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। বাড়িটি প্রায় ১ একর ৮২ শতাংশ জমির ওপর। মূল বাড়ি ছাড়া সামনে বাগান এবং পেছনে বড় পুকুর আছে। মৃণাল সেনের ছোট বোন রেবা ওই পুকুরে পড়ে মারা যায় ওনারা বাড়ি ছাড়ার বছর দশেক আগে ।

Read more


কনক বোসবাড়ির কাজটা তাড়াতাড়ি সেরে রওনা দেয় দত্তপুকুর শ্রমজীবী ক্যান্টিনে। আগে বোসবাড়ির রান্না, বাসনমাজা, কাপড়কাচা, ঘরের মেঝে মোছা, উঠোন ঝাঁট দেওয়া সব কাজই করতো। কি এক রোগ এলো পোড়া দেশে। ওরা সব কাজ বন্ধ করে দিল। অনেক কাকুতি মিনতি করে আধা মাইনেতে বাইরের বাগান আর উঠোন ঝাঁট দেওয়ার কাজটুকু বজায় রেখেছে। তার স্বামী পরেশ পল্ল্যে বোম্বে গিয়েছিল সোনার কাজ করতে। সেখানেও করোনা দেখা দেওয়ায় মালিক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। বলে দিয়েছে যে যার দেশে ফিরে যেতে। তাদেরই বা দোষ কি। বাজার বন্ধ, দুবাইয়ের খদ্দেররা আর আসছে না। বসিয়ে বসিয়ে কতদিন তাদের খাওয়াবে।

Read more