পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

আমি কিরকমভাবে বেঁচে আছি তুই এসে…

  • 24 March, 2024
  • 0 Comment(s)
  • 407 view(s)
  • লিখেছেন : দেবাশিস সরকার
ইলেকশন আসা মানেই সরকারি কর্মচারীদের বাঁশ ! এ সত্যি কথাটা কেউ লেখে না । তিন দিন ধরে ট্রেনিংয়ে যাও , ভোটের আগের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে ছুঁচটি অব্দি বুঝে নিয়ে গাছ তলায় চট পেতে বসে সব মেলাও , তারপর হন্যে হয়ে তোমার অন্য ভোট সহকর্মীদের খুঁজে নাও, তারপর স্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অজস্র বাসের মধ্যে নির্দিষ্ট বাসটিকে খুঁজে নিয়ে আবার অপেক্ষা করতে থাকো ওই বাসটি আরো দুটি ভোটকেন্দ্রের লোকজন, মালপত্তর সমেত কখন ছাড়ে !

তারপর  ভোটগ্রহণ  কেন্দ্রে পৌঁছে  এটা করো ….তারপর সেটা খোঁজ নাও…তারপর…..! সে এক বিশাল ঝঞ্ঝাটের ব্যাপার ! লিখতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে ! যাঁরা ভোটের কাজ করেছেন তাঁরা জানেন ।

 

 তাই নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা হয়ে যাওয়া মাত্র আমরা ভয়ে ভয়ে থাকতাম ! এবার যেন আমাদের অফিসটা ওদের নজর এড়িয়ে যায়, হে ঠাকুর ! তো গত বিধানসভা নির্বাচনে আবার যখন একটি অজ পাড়াগাঁয়ের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে আমার নাম এল….!

থাক ! চাক্ষুষ বাস্তবের কথাই হোক।

 

 যেতে হোল । এবার অবিশ্যি আর অতটা ভয়ডর নেই । কেননা , এর আগে দু-দুটি নির্বাচনে কাজ করার অভিজ্ঞতায় আমি এখন বেশ পাকাপোক্ত ।

কোষ্ঠকাঠিন্যের রুগীদের মতো ব্যাজারমুখো বিরক্তিতে লাইনে দাঁড়িয়ে সব নিলুম । সরকারি কর্মচারীরা কে কতটা ভদ্র তার একটা আঁচ এই ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোতে এলেই মাপা যাবে । খিস্তির খই ফুটছে সকলের মুখেই !

 আমি সারা সকালটি বসে বসে  / সাধের ব্যালট পেপার গুনিনু ! সন্ধেয় বাহক ট্রাকটি আমাদের উগরে দিয়ে গেল একটা ঝুমকালো অন্ধকারে ঢাকা একটা মোরাম রাস্তার ওপরে । " ও দ্যাবাশিসদা ! ই কুথায় নামাই দিলেক গ ! ইখেনে ত খাবা দাবা কিছোই মিলব্যাক     নাই !", উদ্বেগ ঝরে পড়ল আমাদের প্রথম পোলিং অফিসারের গলায় l আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে একটি আধেক তৈরি হওয়া স্কুলবাড়ি । মাটির । নতুন ত্রিপল দিয়ে ছাদটি ঢাকা আছে , দরজা জানালায় শুধু ফ্রেম বসানো । ভেতরে ঢোকা গেল। বোঝা গেল দিনে রাতে কিছু গৃহহীন গরু , বাছুর থাকে এখানে। ইতস্তত ছড়ানো প্রচুর শুকনো ও কাঁচা গোবর সে সাক্ষ্য বহন করছে । ওঃ! ক্যানসারের মহার্ঘ ওষুধের কি অপচয় ! দিলীপদাও দেখলে  আপসোস করবে !

" ই বাবা ! ইখেনে রাত কাটাবো কেমন করে গ !  ইটা ইশকুল ন খুঁয়াড় !", অসন্তোষ ঝরে পড়লো আমাদের দ্বিতীয় পোলিং অফিসারের গলায় । প্রচুর ন্যাংটা ভুটুং ছেলে ভিড় করেছিল ট্রাক আসার সঙ্গে সঙ্গেই । তাদেরই কাউকে কাউকে ধরে দশ টাকা বিশ টাকার বিনিময়ে চৌকিদারকে খবর পাঠানো গেল । তিনি হেলতে দুলতে আসার পরে প্রচুর পারিশ্রমিকের বিনিময়ে জায়গাটি সাফ সুতরো করার ব্যবস্থা , দু মাইল দূরের হাইস্কুল থেকে কিছু ব্বেঞ্চ আনানো পানীয় জল , কেরোসিন তেল , রাতের খাবারের ব্যবস্থা… করা গেল । আশা ছিল , কুরুপক্ষ পাণ্ডবপক্ষের কোন না কোন নেতার দর্শন পাবো ," নাঃ ! আসে নাই । কাল সকালে আইসব্যাক। "        

"কনটিনজেন্সির টাকাগুলো দিয়ে আপনি আজকের রাতের খরচটা করেন । আমি একটু হেগে আসছি।", মুখে গুড়াকু লাগিয়ে ঝোলা থেকে টর্চ বের করে বেরিয়ে যাওয়ার আগে সদুপদেশ দিয়ে গেলেন আমাদের থার্ড পোলিং অফিসার । বোঝা গেল  নিকটবর্তী পুকুরটির হদিস তিনি আগেই জেনে নিয়েছেন । শরীরে ক্লান্তি ঘাই মারছিল জালে পড়া শোল মাছের মতো। মশাদের গান শুনতে শুনতে সেই রাতটা কাটল ।

তখনও কাকেরা গু খেতে শুরু করেনি, সেই ঝুঝকো ভোরে ছোপধরা দাঁতে খেঁকুরেমার্কা একটা বছর চল্লিশের লোক এসে বলল,  "নমস্কার!"

– নমস্কার ! আপনি ?

— আমি পোলিং এজেন্ট । লুঙ্গি হঠাও পার্টির ।

 – লুঙ্গি হঠাও ! মানে?

– ওই যারা লুঙ্গি দেখে হিন্দু কি মোচলমান চিনতে পেরে যায় গো!  হাঁই লিন আমার পোরচয় পত্ত ! – থাক। পরে দেবেন। ভোট শুরু হতে দেরি আছে ।

— কুথায় আর ডেরি! গরমের বেলা, ঝপ কইরে হঁয়ে যাব্যাক স্যার! তা, কাল কখন আইলেন ?

 

 সকালের চা না পেয়ে এমনিতেই মেজাজটা খিঁচড়ে আছে। সারারাত ঘুম হয়নি , দরজা জানালায় ফ্রেম বা পাল্লা বসানো নেই, খোঁদলটা আছে খালি। যখের ধনের মতো ব্যালট পেপারগুলো কোলে আগলে নিয়ে বসে ছিলুম , সাতসকালে কে এর সঙ্গে বকবক করবে ! তবে লোকটা গায়ে পড়া, একটু মোড়ল গোছের, বলল, " ব্যালটপেপার গুলান সই করে রেখেছ্যান ?" সচকিত হয়ে প্রশ্ন করি, "কেন বলুন তো ? লোকটা হো হো করে হেসে ওঠে। দম নিয়ে বলে, "চমকাবেন নাই স্যার ! চমকাবেন নাই। ঘাবড়ানোর কুছু নাই । শোবোই হামদের ভোট। কেউই উয়াদের ভোটার নাই। হঁ ! দিব্যাক দুচার জন, যাদের এখন তককো চৈতন্য হয় নাই ! দেখলেন নাই এখন তককো উয়াদের কনো পোলিং এজেন্ট আইলো নাই! ত ,  আপনি কুন ইউনিয়ন করেন ? "   – কেন বলুন তো ?

– না ! এমনিই পুছছি ক্যালা! কেন্দে আর রাজ্যে যদি একটাই দল পাওয়ারে থাকে  তাথে ত সরকারি কর্মচারী গুলানের দমে সুবিস্তা। মাইনে বাড়ানো লিয়ে তাহালে আর খেঁচাখেঁচি করতে হব্যাক নাই ! সেই লেগেই তো সবাই পুরনো ইউনিয়ন ছেড়ে হামদের 'ওখিল ভারত…' – ইয়ে – তারপর কি ভুলে গেলম ক্যালা! ত,  সেই ইউনিয়নে চইলে আসেন! ফুর্তিতে ডিপটি করেন! বঠে কিনা? লয় ? — বেশ ! এটি বলার জন্যেই এসেছেন ?

— উটা তেমন ইমপটেন লয় , আপনার কাছে রিকোস্ট, আপনি কিন্তুক হামদের সঙে টুকচু সহযোগিতা কইরব্যান  স্যার !

– মানে ?

— মানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটটো যাতে মিটে যায় ! এই আর কি ! বুইল্যান নাই ? আপনার সঙে ত কেবল রুল হাতে দাঁত ক্যালানো দুটো ছোঁড়া ! গোলমাল লাগলে ইয়ারা  কি সামহাল দিতে পাইরব্যাক ? হাতে বন্দুক থাকলেও না হয় লোকে  সমঝে চলত !  লয় কি ? এই বিরান জায়গায় মার খাঁয়ে  অগগ্যান হঁয়ে গেলে হাসপাতাল তককো লিয়ে যাতে যাতেই রাস্তায় পেরান বায়ু বেরাঁই যাবেক ক্যালা ! দরকারটো  কি নিয়মমত চলার ? শুনেন ! পেরাই শ' পাঁচেক  মুসলমান মেয়াছেলা  বোরখা পরে ভোট দিতে আইসব্যাক । উয়াদের আবার বোরখা তুলে মুখ দেখার হুকুম করবেন নাই  ক্যালা !

–  সে আবার কি ! পুরুষরাও তো বোরখা পরে ভোট দিয়ে চলে যেতে পারে । সন্দেহ হলে দেখব না কেন?

– তবে ত গন্ডগোলটা আপনিই শুরু করলেন বাঁড়া !  ইয়ারা আপনাদের মতন শহুরে লোকের ঘরের বউ বিটি লয় । ইয়ারা মাঠে ঘাটে খাটে । হাত ,পাগুলোন ত টুকচু কেঠো কেঠো হব্যাকই । বোরখা খুলে মুখ দেখতে গেলে গটা মুসলমান পাড়ার লোক যেদি ক্ষেপে যায়  তাহালে  কি হব্যাক বুইতে পারচ্যান নাই ! জান লিয়ে আর ফিরতে পাইরব্যান নাই ক্যালা !

বললাম, "হয়েছে ? আসুন এখন । আপনারা বৃথা চেষ্টা করছেন ! আমাকে এসব ভয় দেখিয়ে  কোন লাভ নেই । যেমন নিয়ম তেমনিভাবেই ভোট হবে । আসুন এখন ! "

খেঁকুরেমার্কা লোকটা আমার মুখের সামনে ডান হাতে তর্জণী উঁচিয়ে বলল, "অ ! ভাল কথায় কাজ হলো নাই? তাইলে শুনেন! হামদের কাছে খবর ছিলই, সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কিছু কিছু বেদো লোক এখনো আছে  তারা যে থালাতে খায় সেই থালাতেই হাগে শালারা ! পোয়সা লিচ্ছে সরকারের আবার পঁদে কাঠিও কইরছে ! কিন্তুক আমরাও ইবার দেখে লুবো ক্যালা! আপনি কি করে শান্তিতে থাকেন দেখে লুবো।"

ভয় নয়, তেতো লাগছিল পরিবেশটা। মনে হচ্ছিল, সজোরে একটা ঘুঁষি মেরে ওর পেঁচি মস্তানির জবাবটা দিয়ে দিই! পরক্ষণেই ভেবে দেখলাম, ভোটের দিনে এই সাতসকালেই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লে যদি ভোটটাই বানচাল হয়ে যায় ! আমাকে তো সাসপেনশন লেটার ধরাবেই আমাদের ব্যাঙ্ক।

ঠিক আছে ! সময়মতো পরে একদিন ঠিকঠাক জবাবটা দেওয়া যাবে ! আপাতত…..!

 সেই থেকে এইসব হাফ নেতা, সিকি নেতাগুলোর ওপর আমার রাগ !

 

 ।।   দুই ।।

 

'পুরুলিয়াবার্তা'  নামের সাপ্তাহিক খবরের কাগজটি চোখের সামনে নাচিয়ে লোকটা বলে, "নমইস্কার ! আমি 'ফতোয়া ঘর'  থিকে আইসচি। আপনি একজন কোবি ? আমরা ত জানথম নাই ক্যালা! আমাদের ন্যাতা কবি ধর আপনাকে আজ সন্দেবেলায় দেখা কইরতে বইলেচে। যাবেন! "

মাথায় একটা খুচরো চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়ে লোকটি চলে যায়। 'পুরুলিয়া বার্তা’র সম্পাদক রতন চৌবের অনেকবার তাগাদার পরে ওই কবিতাটা ওকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলাম। ওটা তেমন কিছুই হয়নি। অশ্লীলতার নামগন্ধও নেই, এদের পার্টির বিরুদ্ধেও তো কোন কথা ছিল না ! তাহলে 'ফতোয়া ঘর'  আমাকে ডাকে কেন ? কবি ধরকে দেখেছি । এই অঞ্চলের নেতা। সে যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যেই যেন মিছিলে গলার শিরা ফুলিয়ে চেঁচায় ! পাড়ার মোড়ে জনসভাগুলিতেও প্রধান বক্তা সে । নামটি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মজাও করেছি । বলেছি যে ' স্বর্গের ডেসপ্যাচ ক্লার্কের ভুলে ও ভুল জায়গায় এসে জন্ম নিয়েছে ! কবি বা কবিতা দুটোই ওর নাগালের বাইরে। 'সিদ্ধান্ত নিলুম, যাবোনা। সহকর্মীরা বলল , "খবরদার ! জলে বাস করি আমরা আর ওরা হলো কুমির। মারধোর করতে তো কেউ পার্টি অফিসে ডাকে না । সুতরাং যাবে !"  গেলাম, দূরুদূরু বুকে! পাঁচ, ছজন ফর্সা–কালো–শুঁটকো–মোটা লোকের মধ্যমণি হয়ে বসে থাকা কবি ধরকে দেখে আপ্যায়িত হবার ভঙ্গি করে বলে উঠলাম, "ডেকেছিলেন?"

কবি ধর বলল," বসেন ! এই ছেইলা গুলোকে বহুতবার বইলেছি কি আপনাদের মতন লোকজনকে লিয়ে আসতে। ত, উয়াদের সে দম নাই। আর ইদিকে আমারও সময় কুথায় ! ত, গেল মাসের 'পুরুল্যা বার্তা'টো পড়ার পর থিকে কেবলই মনে লিচ্ছিল কি এই কোবিটো আপনিই বটে ক্যালা! ত কাল রতনদার সঙে দেখা হতে শুধোলম । হঁ ! ঠিকেই ! ইন্তেজার কইতে কইতে কাল পুলিনকে ধমকাঁইছি, " ক্যালা ! বইসে বইসে গিলচু আর ভুঁড়ি  বাগচ্চু ! "           

"কিন্তু , ওই কবিতাটির মধ্যে তো তেমন কিছুই নেই যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে!", একটু সতর্ক ভঙ্গিতে আমি বলি ।

— না না ! তা লয় তা লয় । উ পোদ্যটো লিয়ে হামদের কনো মাথাব্যথাই নাই । ইকথাই বইলতে ডাকলম কি আপনি হামদের সঙ্গে আইসচ্যান নাই ক্যানে ? আর আপনার পোদ্যর মইধ্যে ক্যানে রুখে দাঁড়াবার কথা থাইকব্যাক নাই ? পোদ্যর শেষে উ ঝিটো অমন মাথা নিচু করে বেরাঁই যাবার বদলে আরো দশটা ঝিকে লিয়ে এসে ক্যানে হল্লা জুড়ব্যাক নাই ? চl আমাদের মহিলা পগতি সংঘ কি বইসে বইসে ছিঁড়ছে নাকি ? আপনার পোদ্যর মধ্যে টুকচু বদল আপনাকে একজন সফল কোবি করে তুলব্যাক বলেই হামদের ধারণা । ন কি বলো গ তুমরা ? ফর্সা, কালো, শুঁটকো, মোটা লোকগুলো তারিফ করার ভঙ্গিতে সমঝদারের মতন ঘাড় নাড়ে । এতে উৎসাহিত হয়ে কবি ধর বলে ওঠে, "আপনি হামদের সঙ্গে আসেন ! এক শহরে থাকি সামাজিক মাইনষের মইধ্যে মিলমিশ ত থাকতে হব্যাকই ! আসছে মাসের বাইশ তারিখটো আমরা 'পোতিবাদ দিবস' হিসাবে পালন করি । সন্দেবেলায় রিতুপন্না, পোসেনজিৎ আর বোম্বের কি কি সব আটিস লিয়ে ফাংশন ! একটা পচার পুস্তিকাও বেরায়, 'গেরুয়া মোজা', উটাতে আপনার একটা পোদ্য লেখুন ! "

প্রচন্ড রাগ হয় আমার, সেটা সামলে বলে উঠি, "দেখুন আমি পোদ্য লিখতে পারি না। কবিতা লেখার চেষ্টা করি মাত্র। কোথাও ছাপা হবে সে আশাও আমি করিনা । পরে যদি কখনো লিখে ফেলি দিয়ে যাব আপনাকে। ঠিক আছে ?

— শুনেন,শুনেন ! যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন ! আপনার ঐ কোবিতা আর আমার পোদ্য সবোই ওই একোই মালের রকমফের ! হাঃ হাঃ হাঃ ! এমনিতে আমাদের শিবিরে কোবি ল্যাখকদের কনো অভাবই নাই ! গদাই ! গিজগিজ কইরছে বললেই চলে ! আর আমাদের গেরুয়া মোজা কাগজটা কনো এলিতেলি কাগজ লয় !  এই 'গেরুয়া মোজা' কাগজটায় লেখে কত ল্যাখক বিখ্যাত হঁয়ে গেলেক ! আমাদের কাগজ কনো ল্যাখককে খোশামুদি করে নাই কখনো ! আপনি যখন ই সমাজে বাস কইরছ্যান তখন ভাইবলম একবার পরস্তাবটো জানায়ে দেখি ! একবার চানস দিয়ে দেখি ! ত কাউকে যদি ভূতে কিলোয় ত আমি কি কইরতে   পারি ! ই ত দেখচি ক্যালা 'রগা' পাঁঠার ইয়া ব্বড় বিচি ! এই লেগেই ইসব মানুষগুলোনকে কেউই পুঁছে নাই কনোদিন ! হঁ :! আসেন এখন !

জ্বলন্ত চোখে এই চামচাটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। পায়ে পা লাগিয়ে ঝামেলা করতে এসেছে মালটা ! গূঢ় অভিসন্ধি আছে  একটা। ঠিক আছে, সবদিনই তো একইরকম ভাবে যাবে না! সময়মতো জবাবটা ঠিকঠাক দেব না হয় !

সেদিন থেকে এইসব চামচাগুলোর ওপরেও আমার রাগ ।

 

 ।।  তিন ।।

 

গল্প আর সত্যি কথার মধ্যে তফাত খুব তলিয়ে না দেখলে বোঝা যায় না। গল্পকে পাঠকের বিশ্বাস অর্জনের জন্যে মাপা শব্দে মাপা বাক্যে সাবধানে পা ফেলতে হয় , ওদিকে যা সত্যি তার সেরকমের কোন দায় নেই বলে কোনরকম ফ্রেম বা আঙ্গিকের তোয়াক্কাই সে করে না ! অদ্ভুত হতেও দ্বিধা করে না । আমাদের ক্রিমিনাল যেমন ! এই কমাস আগেই আমাকে বোঝাচ্ছিল সে, "ধরেন ক্যানে , কদিন আগেই আপনাদের নিশ্চিন্দিপুরের ইস্টেট ব্যাঙ্কটোয় ডাকাতি হল নাই ? চুয়াত্তর লাখ টাকা ডাকাতি, সকাল এগারোটায়, মনে আছে কিনা ?

 — ওই ডাকাত দলটায়  তুমি ছিলে নাকি ?

 — হঃ  হঃ হঃ ! আপনি রসিক বঠে! আমার পিস্তল, বোমা কিছোই নাই!  আমার দল কুথায় !

—  ঠিক আছে। আশকথা পাশকথা না বলে সরাসরি কাজের কথায় এসো তো !  আমার কাজটা করে দেবে কি না ?

 — আগে আমার কথাটা শুনে ল্যান ! টিভিতে দেখেছেন কি, পরের দিনকে সন্দেবেলায় আসানসোল রেল টেশন থিকে একজনকে আবার সেদিনকেই রাতের বেলায় ধানবাদ এর কনো হোটেল থিকে আরেকজন ব্যাঙ্ক ডাকাতকে পুলুশ গেপতার  কইরছে ?

–  হ্যাঁ ! গ্রেফতার করছে মানে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে এসে জিপে তুলছে , সেটা দেখেছি ।

—  বেশ !  ইবার পশনো, নারীর ইজ্জত লিইচে কি খুন বা ডাকাতি, যাকে ধরা হলেক তার মুখ কাপড়ে ঢাকা থাইকব্যাক ক্যানে? দু'লম্বর পশনো, পুলুশ কি টিভির কেমেরাকে আগে থিকে বলে দেয় , 'আসানসোলে কি ধানবাদে কিমিনালটো লুকাঁয়ে আছে, উয়াকে গেপতার কইরতে যেছি, ফটো তুলে দেখাবি চ ! 'ইসব কাজ কি খুল্লাম খুল্লা হব্যাক  ন কি গোপনে গোপনে হব্যাক ?

 

হুঁ ! এটা একটা ভাববার মতো কথা বটে !  অন দা স্পট টিভি ক্যামেরা যায় কি করে ! আর অপরাধীদের মুখ কাপড়ে ঢাকা থাকবে কেন ? অপরাধ এখনও প্রমাণিত হয়নি , তাই তার সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় তার মুখ টিভিতে বা অন্য গণমাধ্যমে দেখানো যাবে না ,  এই যুক্তির আড়ালে তো অজস্র সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে !  আমাকে ভাবনায় ফেলে দিয়ে ক্রিমিনাল হাসে , বলে "সিগ্রেট দিব্যান একটা ? " আমি  জানি আমি যে প্রস্তাবটা ওর কাছে রেখেছি তার সুবাদে ও আমাকে দুয়ে নেবে একটু , তাই বলি , "স্যরি ! ভুলে গেছিলাম। সিগারেট , মদ, মাংস সবই খাওয়াবো তোমাকে। আগে আমি যে কাজটা করাতে এসেছি সে কাজটা করে দাও ! আজ আমার তাড়াহুড়ো কিছু নেই , অনেক সময় আছে । তোমারও তো বোধহয় হাত ফাঁকা।  কদিন কিছু জোটেনি মনে হচ্ছে ! লাস্ট ট্রেনেই বাড়ি ফিরছো তো ?  "

ক্রিমিনাল বুক পকেট থেকে মোবাইল বার করে দেখায়,  "সাতদিন কিছু মিলে নাই, বেকার বসে আছি। আজ মন বলছে কি ডাকবাবু ফোন কইরতে পারে । নাইলে পুলুশের জিপ আমার ঘরের দুয়ার তককো যাব্যাক। দুয়ারে সরকারের বদলে দুয়ারে পুলিশ ! হঃ হঃ হঃ !  তাথে উয়াদের আর পরোয়া কি ! থানার পোয়সার তেল ! "

 প্রথমে নিজের, পরে ক্রিমিনালের ঠোঁটের সিগারেট অগ্নিসংযোগ করলাম । আয়েশ করে ধোঁয়া  ছেড়ে ক্রিমিনাল বলে, "ত, যে কথা হচ্ছিল ! ইস্টেট ব্যাঙ্কটোর যে ডাকাতটাকে আসানসোল রেল টেশন থিকে ধরা হলেক , উটো ছিলম আমি ! প্রথমে কিষেনজির কায়দায় গামছাটো মাথায় মুখে ঢাকা দিলম , তারপর কেমেরা চালু হলেক । তারপর আমাকে জেরা করে ধানবাদ, ঝরিয়া আর দুগ্গাপুর থিকে আরো তিনজন ডাকাতকে ধরা হঁয়েছে বলে দুনিয়া জানে। টিভিতে বইলেছে উয়াদের কাছে উদধার হঁয়েছে চব্বিশ লাখ । বঠে কিনা ? "দু'চার টান সিগারেট টানতেই গদগদ করে এতগুলো ইনফরমেশনে আমি অবাক হতেও ভুলে যাই ! পেটে মদ আর মাংস পড়লে আরও কি কি উগরোবে কে জানে ! যদিও জানি আপাতত আমার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই তবুও একজন সরকারি ব্যাঙ্কের কেরানি হিসেবে কেমন যেন ভয় লাগে ! সত্যি সত্যিই ডাকাত দলটায় ছিল নাকি শালা ?

ক্রিমিনাল বলে চলে, "সাতদিন হাজত খাটতে হল। ডাকবাবু দিলেক তিরিশ হাজার, জন প্রতি তিরিশ করে ছটা কিমিনালের পেচনে ডাকবাবুর খরচা একলাখ আশি । শুনা যায় ডাকাতদল লিজেদের তিরিশ রেখে ডাকবাবু কে দিয়েছিল চুয়াল্লিশ লাখ । চুয়াল্লিশের মইধ্যে সরকারের ঘরে উদধার বাবদ দেখাতে হঁয়েছে চব্বিশ আর পুলুশের কুড়ি লাখ । এই কুড়ি লাখের এক লাখ আশি কিমিনালদের , বাকি টাকা ইবার উয়াদের লিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি । "

– ভাগাভাগি মানে  ?

— ডাকবাবুকে কি একা খেতে দিব্যাক নাকি থানা ? আমি ঠিকঠাক নাই জানি   তবে জজ উকিল থিকে কনোসটেবল তককো ভাগাভাগি হব্যাক নাই ? কনোসটেবলরা অবইশ্য হামদের থিকে ত বঠেই এমনকি পুলুশের ডেরাইভারের থেকেও  কম ভাগ পায়। তবে আমরা আদার বেপারি, সবোই কি আমাদের কাছে খুল্লম খুল্লা ওপেন করে দিব্যাক ! তাই জাহাজের খবর লিয়ে আমাদের কনো লাভ নাই । ভাগাভাগি লিয়ে কনোসটেবলগুলনেরও জ্বালা আছে, তাই একমাত্তক উয়াদের সঙেই আমাদের সুখ দুঃখের কথা হতোক । তিরিশের এর মইধ্যে পুঁচিশ  ভাদির মাকে দিলম । উ খুশ ত আমিও খুশ ।

— ভাদি কে ?

এ প্রশ্নে ক্রিমিনাল বোধহয়  রেগে যায়, কেমন যেন কাঠ কাঠ ভঙ্গিতে বলে ওঠে , "ভাদি আমার মেয়া বঠে। ভাদির মা মানে আমার পরিবার। আমি কি নাঙ করি যে নিজের কষ্টের কামাইয়ের টাকা নিজের পরিবারকে না দিয়ে ওইন্য  কাউকে দিব ? কথার মাঝে উল্টোপাল্টা পশনো করে লাইনের গাড়িকে বেলাইন কইরে দিচ্ছেন ! চুপ মারলাম ক্যালা ! "

ক্রিমিনাল চুপ করে যেতে আমি কপাল চাপড়াই। তীরে এসে তরি ডুবলো! কাঁচুমাচু মুখে একটি সিগারেট বের করে নিবেদনের ভঙ্গিতে ওর সামনে তুলে ধরি । গম্ভীরমুখেই ধোঁয়া ছেড়ে ক্রিমিনাল বোধহয় একটু নরম হয় । আমাকে স্বস্তি দিয়ে বলতে শুরু করে আবার," তবে মাস পাঁচেক আর কাজ মিলব্যাক নাই, ইটাই যা পরেশানি।"

— কেন ?

— ক্যানে কি না , অইন্য কিমিনালগুলোকেও ত কাজ দিতে হব্যাক । নাইলে ত চুরি ছিনতাই হব্যাক রাস্তায় । তবে আশায় আছি তিনমূল আর বিজেপিতে একটা দুটো মারপিট কিংবা একটা দুটো ধরষন কেস  কি আর নাই হব্যাক !  নাইলে আবার খুচরা কাজকামের ধান্দা কইরতে হব্যাক !

— আচ্ছা , আমাদের এখানে তুমি কি একাই নাকি তোমার মত আরো কেউ কেউ আছে ?

— আমি যদ্দুর জানি  তাথে পুরা জেলায় ন' জন আছে । হামদের ত আর আপনাদের মতন ইউনান নাই তাই অব্যরথ ফিগারটো বইলতে লাইরলম ।

 কথাকটি বলে ক্রিমিনাল হাতের সিগারেটে মন দেয় । হঠাৎ করে ওর মোবাইলে টুংটাং শব্দে একটা মেসেজ ঢুকে যায় । ও মন দিয়ে মেসেজ দেখতে থাকে ।  আমি জানি এই মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজেই ওর কাছে থানার ডাকবাবুর থেকে খবর চলে আসে, কোথায় কবে পুলিশের কাছে ওকে ধরা দিতে হবে । উৎপল ওর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিল এই ট্রেনে ডেলি প্যাসেঞ্জারির দিনগুলোতেই । ক্রিমিনালও ডেলি প্যাসেঞ্জার। বর্ধমান থেকে এই নিশ্চিন্দিপুরে রোজ  আসে ও কাজকামের ধান্দায় ।  আবার রোজ শেষ ট্রেনটি ধরে বাড়িও ফিরে যায় । আমাদের প্রথম আলাপে আমার চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মত কিছু তথ্যও দিয়েছিল উৎপল আর ক্রিমিনাল উভয়েই !

ধরা যাক, একশো কোটি বা দুশো কোটি টাকার মালিক কোন পলিটিশিয়ান অথবা শিল্পপতি বা তার ছেলে রক্ষিতাকে খুন করল । সেই জেলে যাবে অথবা তারই ফাঁসি হবে ? টাকাগুলো তাহলে রয়েছে কি করতে? যে থানার আওতায় অপরাধটি  সংঘটিত হচ্ছে সেই থানার ডাকবাবুর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে শিল্পপতি অথবা তার প্রতিনিধির। শিল্পপতি বা পলিটিশিয়ান তো পুলিশের খাতায় পলাতক ! দরদাম ফাইনাল হবার পর বিহারের সাসারাম থেকে সেই কোটিপতিকে মুখ ঢাকা অবস্থায় গ্রেফতার করা হবে। ঢাকা মুখের আড়ালে আমাদের এই ক্রিমিনালটি অথবা অন্য কোন ক্রিমিনাল পুলিশের ভ্যানে উঠবে। ক্রিমিনালের মোবাইলে নির্দেশ যাবে পুলিশের কাছে অথবা কোর্টে তাকে কি বলতে হবে !

 " ধরেন ক্যানে ধনঞ্জয়ের ফাঁসি হলেক। উয়ার বদলে আমরা কেউ যাই নাই , ক্যানে কি না ধনঞ্জয় টাকা দিব্যাক কুথা থেকে? তেবে হামদের মইধ্যে দুজন যাবজ্জীবন লিইছে। সিখেনে বিশ লাখ টাকা রেট। একবার চানস পেলে শালা লাফিয়ে লুব ! তাহালে সারাজীবন আর কিমিনালগিরি কইরতে হব্যাক নাই । "

— বেশ ! সে সুযোগ যখন আসবে তখন না হয় সেরকম ব্যবস্থা হবে । তবে এখন তুমি আমার কেসটায় কি করছো বলো দেখি ! 

— হাঁই দ্যাখেন ! আমার প্যাশা'টাই আপনি বুজতে চাইছ্যান  নাই। আমার মুরোদ কুথা ?

— আরে ! আমি তো তোমাকে মারপিট বা খুনোখুনি করার কথা বলছি না ! পার্টির জোরে বা দলের জোরে এরা মাঝে মাঝেই আমার মতন এরকম নিরীহ লোককে পার্টি অফিসে ডেকে অপমান করে, ধমকায় বা জরিমানা করে। থানা পুলিশ করে কোন লাভ নেই, পুলিশ আমার কথা শুনবে না বরং ওদের কথাই শুনবে ! পাল্টা মস্তানি দেখানোর যদি কেউ থাকে তাহলে তার কাছে এরা গুটিয়ে থাকে। এতদিন ধরে তো তোমাকে চিনি, তুমি আমাকে বিশ্বাস করে অনেক কথাই বলেছো, তাই ভাবলাম তুমি হয়তো আমার জন্য এই কাজটুকু আগ বাড়িয়ে করে দেবে !

—হুঁ !  বুইলম ! এমন ভয় দেখাতে হব্যাক যাতে ইয়াদের পঁদের গু তেলোয় উঠে যায়, ইয়ারা আর কাউর উপর অইত্যাচার করার হিম্মত না করে । তাই ত ?

— হ্যাঁ ! মারপিট নয়, এটুকুই !

— উঁহু ! ইটা আমার দ্বারা নাই হব্যাক ।

— হবে না ?

– আমার দল নাই, বোমা নাই, পিস্তল নাই, গায়ে মুরোদও নাই! সুপারি লিবার মুরোদ আমার কুথায়! আমি কি বাহুবলী বঠি ন কি ?

 দ্যাখেন সার, অ্যাকশনের কাজ আমার লয়।আমার কাজ অ্যাকশনের পরে। মুখে গামছা ঢাকা দিয়ে পুলুশ ভ্যানে উঠে যাব, হাজত খাটব, জামিনে বাইরে আসব , কোর্টে এক দুবার  হাজিরা দুব, খালাস হব্যক, ব্যাস ! ডিবটি শেষ ! সুপারি লিবার আলাদা লোক আছে বাবু !

— কোথায় ? এখানে আছে ?

— বাজার মোড়ে  'বাহুবলী অডার সাপ্লায়ারের' ওপিসে যান ! উয়াদের সঙে দরদাম ফাইনাল করে ইবার থানার ডাকবাবুর সঙে ফাইনাল করেন । ডাকবাবুকে আমার কথা বলে কনো লাভ নাই সার । ডাকবাবুর লিস্টে আমার আগে আরো চারজন কিমিনাল বইসে আছে । আমার পালা আসতে আসতে এখনও দুমাস ত লাইগবব্যাকই !  হঁ ! বিজেপি আর তিনমূলে মারপিট আর ধরষন  কেস যেদি  বেড়ে যায় তাহালে ই মাসেই চানস হতে পারে ।

 আমি হতাশ হয়ে গেলাম। অত্যাচারের বদলা নিতে তাহলে প্রথমে বাহুবলী তারপর ডাকবাবু দু জায়গায় টাকা ঢালতে হবে ?  বাপরে ! কত লাগতে পারে  ? ক্রিমিনাল বলল , "তা  - ধরেন, বাহুবলী কি বিশ হাজার না লিব্যাক ! তা বাদে ডাকবাবু ত একা লয়, পুরা থানায় ভাগ বাঁটোয়ারা হব্যাক, এক লাখের কমে উয়ারা কেস হাতে লিব্যাক ক্যানে ! ধরে রাখেন দু লাখের মতন লাইগব্যাক ।"

  দু  লা –খ ! দু লাখ টাকা কি মুখের কথা !  আপাতত অত টাকা জোগাড় করি কোথা থেকে ! ব্যাঙ্কে যা আছে তা থেকে দশ বিশ হাজার অব্দি…!  এ ভাবনার মাঝে ক্রিমিনাল বলে, "শুনেন স্যার ! ইসব বদলা–ফদলার লাইন আমনাদের লয়। মানিবেগে যারা গুণে গুণে টাকা রাখে তারা ই ধাতের লয় গো ! গুণাগুণি লয়, মুঠো করে ধরে যারা পকটে টাকা ভরে, মুঠো করে বার করে কিমিনাল, পুলুশ তাদিগেই সেলাম ঠুকে। ইসব ভাবনা ছাড়েন, ঘরে যান ! ভালুকের সঙ দোস্তি কইরতে গেলে সারা গায়ে কালো কালো লোম ভত্তি না থাকলে চলে কি বাবু !

 হুঁ ! ঠিকই ! রাস্তায় ঘাটে এর ওর মুখঝামটা, কানমলা খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে , এটাই ঠিক হয়ে আছে ! অন্যরকম ভাবনার সুযোগ নেই ! কথাগুলো শুনতে হচ্ছে কার কাছ থেকে ? একটা অন্ধকার জগতের জীব, একটা ক্রিমিনালের কাছ থেকে ! ওঃ !

 

 

 সেই থেকে এইসব ক্রিমিনালদের  ওপরেও আমার রাগ !

 

 

 

      #################

 

 

 

 

 

 

 

0 Comments

Post Comment