পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

রক্ত

  • 05 November, 2023
  • 0 Comment(s)
  • 639 view(s)
  • লিখেছেন : দেবাশিস মজুমদার
দাঙ্গার সময়। চারিদিকে রক্তস্রোতে ভাসছে রাস্তাঘাট। হঠাত হঠাত জ্বলে উঠছে আগুনের লেলিহান শিখা, রইছে রক্তধারা নদীস্রোতের মত। মানুষ যেন রক্তপিপাসু ভ্যাম্পায়ার। ধর্মের নামে শুধু সে রক্ত চায়, নরবলি আর মানুষের কুরবানির হিড়িক চলেছে চারিদিকে। মৃত্যুর ধ্বংসলীলার তাণ্ডব চলছে সর্বত্র।

পুলিশ-প্রশাসন আছে। না থাকার মত করেই আছে। পুলিশ আছে রাস্তায় পড়ে থাকা লাশগুলোকে ময়না তদন্তে পাঠানোর জন্য আর প্রশাসন আছে অগুণতি মৃতদেহগুলিকে তাদের ধর্মের পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যা হিসাবে ঘোষণা করার জন্য। শেয়ার বাজারের মত লাশের সংখ্যার ওঠানামা প্রকাশ পাচ্ছে খবরে। নাম-পরিচয় ধরে লাশের সনাক্তকরণ চলছে শহরে।

বৃষ্টি পড়ছিল খুব জোরে। মুষলধারে বলা যায়। এই বৃষ্টির তোড়ও মানুষের মনের হিংসার আগুনকে নেভাতে পারছিল না। বৃষ্টির তেজের সঙ্গে সঙ্গে মানুষরূপী হিংস্র পশুদের রক্তপিপাসাও যেন বেড়ে চলেছিল। পূর্বপাড়ার দিক থেকে একটা গোলযোগ উঠেছিল। সেদিক থেকেই একজন ছুটতে ছুটতে এল বড় বটগাছটার দিকে। তাকে তাড়া করেছে কারা যেন। সে দ্রুত দেখল সামনে একটা পরিত্যক্ত বাড়ি। বাড়ির শ্যাওলা জমে থাকা ভঙ্গুর দেওয়ালে একসময়ের বৈভবের ইতিহাস উঁকি মেরে যাচ্ছে। এই বর্ষার প্রকৃতিতে বিষাক্ত সাপখোপ এই ভাঙা বাড়িতে থাকা আশ্চর্য কিছু নয়, কিন্তু আগন্তুকের মনে হল ওই উদ্দাম হিংস্র ভিড়ের তুলনায় বিষধর সাপও অনেক বেশী নিরাপদ। সে উপায়ান্তর না দেখে দ্রুত গিয়ে ঢুকল ওই পরিত্যক্ত বাড়ির মধ্যে।

বাইরে গোলযোগ তীব্র হয়ে উঠল। কারা যেন উগ্র ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে চলে গেল ছুটে। আগন্তুক আরও ভেতরের দিকে এগোলো। যাতে বাইরের হামলাকারীরা তার উপস্থিতি কোনওভাবে টের না পায়। ভেতরটা এই দিনের আলোতেও অন্ধকার। কারও উপস্থিতি নেই সেখানে। একটু হিসহিসানির শব্দ যেন পাওয়া গেল। সাপের উপস্থিতি, নাকি কারও দীর্ঘনিঃশ্বাস। হঠাতই কে যেন ভেতর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসতে চাইল। অসাবধানতা বশত সে হুড়মুড় করে এসে পড়ল আগন্তুকের ঘাড়ে। দুজনেই হকচকিয়ে গেল একে অন্যেকে দেখে। ওই বাদল দিলের আধো-অন্ধকারে দুজনে সন্দেহজনকভাবে তাকালো একে-অন্যের দিকে। কেউ কারও পরিচয় বুঝতে পারছে না। পোশাকে আর চেহারায় কারও কোনও বিশেষত্ব নেই। দ্বিতীয়জনই প্রথমে আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল, ‘কে? কে তুমি?’

আগন্তুক পাল্টা প্রশ্নে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে?’

ভেতর থেকে আসা জন বলে উঠল, ‘নাম বল, কি নাম?’

আগন্তুক আবার বলল, ‘আগে তোমার নাম বল’।

দুজনে একটু একটু করে নিজেদের দিকে পিছিয়ে নিজেদেরকে একে অন্যের থেকে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অবশেষে আগন্তুকই বলল, ‘আমার নাম সাহিল, সাহিল আ......’

দ্বিতীয়জন এইটুকু শুনেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল, আর আগন্তুকের পুরো নাম বলা শেষ হওয়ার আগেই বলল, ‘আমার নাম সমীর’।

দুজনে এক মুহুর্তের জন্য একে অপরকে মেপে নিল। দুজনেই ক্ষতবিক্ষত, দুজনেরই শরীরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে রক্ত ঝরছে। তার মধ্যেও দুজনের মধ্যে একটা আশ্বস্ত হওয়ার প্রচেষ্টা।

সাহিল জিজ্ঞেস করল, ‘লোকজন তাড়া করেছিল?’

সমীর বলল, ‘বেশ কয়েকজন, লাঠি, তরোয়াল অনেক কিছুই ছিল হাতে’।

সাহিল বলল, ‘আমারও একই অবস্থা। ধরেও ফেলেছিল প্রায়, কোনওরকমে ওদের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে এখানে ঢুকে পড়েছি’।

সমীর বলল, ‘আধ-ঘন্টা আগে আমিও এখানে ঢুকেছি। বাইরে বেরোতে ভয় লাগছে। একটা আওয়াজ শুনে মনে হল......’।

সাহিল বলে উঠল, ‘দাঙ্গাবাজদের আওয়াজ, কোনওরকমে ওদের হাত থেকেই নিজেকে রক্ষা করেছি এখানে ঢুকে। আর কেউ আছে কি এখানে?’

সমীর বলল, ‘মনে তো হয় না’।

সাহিল বলল, ‘বিষাক্ত সাপখোপ থাকতে পারে, কোনওভাবে নিজেদেরকে কিছুক্ষণ বাঁচিয়ে রাখতে হবে’।

সমীর তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মাথা থেকে রক্ত ঝরছে তো তোমার’।

সাহিল বলল, ‘একজন দাঙ্গাবাজের লাঠির বাড়ি পড়েছিল মাথায়, তোমারও তো কানের পাশ দিয়ে রক্ত ঝরছে’।

সমীর বলল, ‘একটা তরোয়ালের কোপ কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে ঘাড়ে পড়েছে, কানের পাশ আর ঘাড় দিয়ে রক্ত ঝরছে আমার। কিছুসময় অপেক্ষা করেই বেরোতে হবে, যেভাবেই হোক দাঙ্গাবাজদের এড়িয়ে বড় রাস্তার ওপাশের পুলিশ পোস্টের কাছে পৌছে গেলে নিশ্চিন্ত’।

সাহিল দেখল কথাটার মধ্যে যুক্তি আছে। বাইরে বৃষ্টির তেজ আরও বাড়ল। আহত দুইজন কোনওমতে ওই পোড়ো পরিত্যক্ত বাড়িতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। দুজনেই একে-অন্যের ক্ষতস্থান মাঝে মাঝে লক্ষ্য করছে। অন্যজনের গা থেকে ঝরে পড়া রক্তধারাকে বড় আপন মনে হচ্ছে।

সাহিল আর থাকতে না পেরে বলল, ‘সব দোষ ওই ব্যাটাদের। আমাদের ওপর অত্যাচার ওরাই শুরু করেছে। আমি তো কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না, কোনও সাতে পাঁচে থাকি না, কিন্তু আমাকে যেভাবে ওরা আক্রমণ করল, আমি এখন বুঝতে পারছি, ওই ব্যাটাদের রক্তেই দোষ, দূষিত রক্ত, তাই আমাদের রক্ত ঝরাচ্ছে নির্মমভাবে’।

সমীর বলে উঠল, ‘ঠিক বলেছ, আমিও তো কারও মধ্যে নেই, তাও আমাকেও আক্রমণ করল। ঠিক বলেছ রক্তের দোষ। ওদের রক্ত যেদিন ঝরবে, সেদিন বুঝবে রক্তের কদর। আজ আমাদের রক্ত ঝরাচ্ছে, একদিন ওদেরও এই রক্তের মূল্য দিতে হবে’।

হঠাতই বেখেয়ালে একটা বিষধর কোটর থেকে বেরিয়ে স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল বেয়ে নেমে এসেছিল প্রায় সাহিলের ঘাড়ে, সময়মত সেটা দেখতে পেয়ে সমীর তাকে হ্যাঁচকা টানে সরিয়ে আনল নিজের দিকে, বিষধর সাপটা থপাক করে পড়ে গেল মেঝেতে।

সাহিল কিছুটা কেঁপে উঠে বলল, ‘কি সাংঘাতিক। সমীর ভাই তুমি যদি সময় মত আমাকে সরিয়ে না দিতে তাহলে আমি ওই বিষধরের শিকার হয়ে যেতাম। মারাত্মক বিষ ওর, একটা ছোবল খেলে আর দেখতে হত না’।

সাপটা এঁকেবেঁকে অন্ধকার একটা ঘরের দিকে চলে গেল।

সেদিকে তাকিয়ে সমীর বলে উঠল, ‘আল্লাহর দোয়া ভাইজান, ঠিক সময়ে আমার চোখ পড়েছিল ওই বিষধরটার ওপর নইলে ও আপনাকে কামড়ালে আর দেখতে হত না’।

সমীরের কথাটা শুনেই চোখ বড় বড় হয়ে গেল সাহিলের। সে বলে উঠল, ‘কি বললে তুমি? কার দোয়া বললে?’

সমীর অবাক হয়ে বলল, ‘কেন ভাইজান, তুমি আমি সকলে যাকে ডাকি, আমরা সকলে যার ইবাদত করি, সেই আল্লাহতালার দোয়ার কথাই বললাম’।

সাহিল অবাক হয়ে বলল, ‘তার মানে? কি নাম তোমার? পুরো নাম কি তোমার?’

সমীর আরও অবাক হয়ে বলল, ‘কেন ভাইজান? আমার নাম তো আগেই বলেছি, আমার পুরো নাম সমীর আহমেদ খান’।

সাহিল কেঁপে উঠে বলল, ‘তুমি মুসলমান?’

সমীর আরও অবাক হয়ে গেল, সে বলল, ‘ভাইজান, এত অবাক হচ্ছ কেন? আমরা একই ধর্ম একই মজহবের লোক, আমিও তোমার মতই মুসলমান’।

সাহিল কিছুটা রেগে কিছুটা হতবাক হয়ে বলল, ‘কে বলল আমি মুসলমান? আমার নাম সাহিল আচার্য, আমি হিন্দু, ব্রাহ্মণ, আমাকে যারা তাড়া করেছিল তারা তোমার ধর্মের ধ্বজাধারী’।

সমীরও এবার রেগে আর হতাশ হয়ে বলল, ‘ইয়া আল্লাহ, তুমিও সেই কাফেরদের একজন, যারা আমাকে খুন করতে চেয়েছিল, আর আমি কি না তাদেরই একজনের প্রাণ বাঁচালাম’।

সাহিল বলে উঠল, ‘প্রাণ বাঁচানো তোমার ধর্মে নেই, তোমরা শুধু প্রাণ নিতে জানো, খুন করতে জানো, আমাকে যারা মারতে চেয়েছিল তাদের একজন এখানে লুকিয়ে আছে জানলে আমিও তোমাকে ছেড়ে কথা বলতাম না, ভগবানের দিব্যি তোমাদের সব অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতাম আজ’।

প্রথমে ছিল ভয়, তারপর দুজনের প্রতি একে অন্যের সহমর্মিতা, একে অন্যেকে আপন-ভাই হচ্ছিল তাদের, রক্তের সম্পর্ক অনুভব করছিল তারা, এখন ভয়ঙ্কর রাগে ঘৃণায় বাইরের ওই দাঙ্গাবাজদের মত তারাও যেন একে অন্যের রক্তের পিপাসু হয়ে উঠল। দুজনেই সেই আদিম আক্রোশে একে অন্যেকে আক্রমণ করতে উদ্যত হল আর ঠিক তখনই ওই অন্ধকার ঘরের ভেতর থেকে কে যেন কেঁদে উঠল, কার যেন শিশুকন্ঠে আর্তনাদ শোনা গেল। দুজনেই প্রথমে কিছুটা হতবাক হয়ে গেল, তারপর দুজনেই ছুটে গেল সেই আওয়াজ লক্ষ্য করে সেই ঘরের ভেতর।

ঘরের সামনেটা অন্ধকার হলেও পেছনের দিকে একটা দেওয়ালের কিছুটা খসে পড়েছে। সেখান দিয়ে বাইরের আলো ভেতরে কিছুটা আসছে। বেশি নয় গোটা পাঁচের ইঁটের ভাঙা অংশ। সেখান থেকেই আওয়াজটা আসছে। ভাঙা অংশটার থেকে কিছুটা দূর দিয়ে চলে গেল বিষধরটা সেটা স্পষ্ট দেখল দুজনে, তার কয়েকহাত দূরেই একটা বছর দুই-আড়াইয়ের শিশু বসে অঝোরে কাঁদছে। কোনও অজ্ঞাত কারণে সে এতক্ষণ চুপ করে ছিল, বা কান্নার আওয়াজ হয়ত কম ছিল, বাইরের উত্তেজনা আর বৃষ্টির আওয়াজে হয়ত তার রোদনের আওয়াজ কানে পৌছায়নি দুইজনের। হয়ে থাকতে পারে অনেককিছুই। শিশুটি হয়ত এখন তারস্বরে কেঁদে উঠেছে ক্ষিদের জ্বালায়। সম্পূর্ণ নগ্ন সেই শিশুর পাশেই পড়ে রয়েছে এক বিবস্ত্র নারী দেহ। দুজনেই প্রথমে ভাবল বোধহয় বিষধরই মেয়েটির মৃত্যুর কারণ। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখল আরও ভয়ঙ্কর দৃশ্য। সেই দেহ এক পাগলী ভিখারিনীর দেহ। তাকে সর্বাঙ্গে পাশবিক অত্যাচারের চিহ্ন সুস্পষ্ট। হয়ত বাঁচার তাগিদে সে ওই দুধের শিশুকে সে আশ্রয় নিয়েছিল এই পরিত্যক্ত বাড়ির এই ঘরে, হয়ত বৃষ্টি বা হয়ত ওই দাঙ্গাবাজদের কোনও দলের হাত থেকে বাঁচতে সে ঢুকে পড়েছিল এই ঘরে তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের ধনটিকে নিয়ে। না সে বাঁচতে পারেনি। বাইরের ওই পাষণ্ড শকুনেরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। পাগলী ভিখারিনীর গায়ে কোনও ধর্মের চিহ্ন, কোনও ধর্মের প্রতীক নেই। কোন ধর্মের ধ্বজাধারীরা তার এই হাল করেছে তারাও কোনও চিহ্ন ফেলে যায়নি। শিশুটির গায়েও কোনও ধর্মের ছাপ নেই। আছে শুধু রক্ত। মেয়েটির সর্বাঙ্গে অত্যাচারের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া রক্ত। তার নিষ্প্রাণ দেহের বিশেষ বিশেষ স্থান থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত প্রমাণ দিচ্ছে কি ভয়ঙ্কর অত্যাচার হয়েছে তার ওপর। পাশবিক, না না দানবিক বললেও কম বলা হয়। পাশে ক্রন্দনরত শিশুটির গায়েও রক্তের ছোপ, না এ তার রক্ত নয়, তার মায়ের রক্ত। সেই রক্তেও নেই কোনও ধর্মের ছাপ, আছে শুধু নৃশংসতার বেদনা আর তার মায়ের শেষ স্নেহের রেশ। বাচ্চাটার কান্নায় আছে শুধু ক্ষিদের জ্বালা আছে বাঁচার শেষ আকুতি।

সমীর বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিল। বাচ্চাটা কেঁদেই চলেছে। সাহিলের দিকে তাকিয়ে সে বলল, ‘বাচ্চাটা না খেতে পেলে মরে যাবে ভাইজান, কিন্তু এ কোন ধর্মের, তোমার না আমার ধর্মের তা তো জানি না’।

সাহিল বলল, ‘ও ওর মায়ের সন্তান সমীর ভাই। যে মাকে আমরা সবাই মিলে রক্তাক্ত করে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছি। ও এই দেশের সন্তান। আজ শুধু ও নয়, ওর মতই সারা দেশ কাঁদছে ভাই। আর তার জন্য দায়ী আমরাই। ধর্ম আর সম্প্রদায়ের কথা বলার অনেকেই আছে, কিছু মানুষের হয়ে কথা বলার কেউ নেই। তোমার-আমার-ওই বাচ্চাটার আর ওর মায়ের রক্তে কি পার্থক্য আছে বলতে পারো, লাল রক্তই তো বইছে আমাদের শিরায় ধমনীতে। রক্তের রঙে আর স্রোতে আমি তো পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি না এখন’।

সমীর বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে বলল, ‘ঠিকই বলেছ ভাইজান, ওই বিষধরের থেকেও আমরা এখন ভয়ঙ্কর, এই বাচ্চাটাকে বাঁচিয়েই চল শুরু করি মানুষ গড়ে তলার নতুন যুগ, হয়ত সেইজন্যেই আমরা এখানে এসে পড়েছি দুইজনে’।

সমীর আর সাহিল একে অন্যের দিকে তাকালো, একে অন্যের ক্ষতস্থান থেকে ঝরে পড়া রক্তের ধারার দিকে তাকালো, সেই রক্তে আবার যেন ভাতৃত্বের আভাস পেল তারা, তাদের শরীরের রক্তধারা যেন বয়ে গিয়ে মিশে যেতে চাইছে ওই নিথর পাগলী ভিখারিনীর দেহের রক্তের সাথে। সেই রক্ত তো মায়ের রক্ত, তার শেষ চিহ্ন ওই শিশুটিকে বাঁচানোর শপথ নিল দুজনে, প্রয়োজনে নিজেদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দুর বিনিময়ে। বাইরে বৃষ্টিধারার আর দাঙ্গাবাজদের হুঙ্কারের শব্দ এখন আর শোনা যাচ্ছে না।

 

0 Comments

Post Comment