পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

উজান-কথা

  • 01 August, 2021
  • 1 Comment(s)
  • 484 view(s)
  • লিখেছেন : আয়েশা খাতুন
মনের ভিতরের একটা জানালা খুলে দিয়েছে নীরালি। নামের বৃত্তান্ত নাই বা জানলে তোমরা, শুধু এইটুকু জেনো যে তার নাম নীরালি, মেয়ে ছাড়া কাকে নিয়েই বা কবিতা আর কাকে নিয়েই বা গান গল্প বলো! বড়ো লাচার বাবো, ইঞ গালমারা ক্যা শুনবে? ইয়া তো লিতকার গালমারা, এই তো ধর ক্যানে চয়ত মাস্যের র‍্যোদ বটে গো মাথার অপরে, বারোটা চাঁন্দুবুঙ্গা মাথাটকে ফাটিন্দিচ্ছে র‍্যোদে, মাটিটর অপরে ট্যাংট তো রেখায় যায় না খো। কেন্তনা সি কুন ছুটু থেকে গোগোর তি ধরে আগুনের অপরে হ্যাঁটে হ্যাঁটে পায়ের তুলাটতে তো ঘুড়ার পারা লুহার ল্যাল পিন্দে লিয়েছি! মাটিট ক্যামুন লিজের হুয়ে যেলছে দ্যাখ আপনি থেকেই। তো কুথা যাব্বো কুন ব্যাগে যাব্বো গো! বাবোকুড়া কুন ব্যাগে যাব্বো?

অপূর্ব নরম সোনালি রোদ উঠেছে। রোদ্দুর তো নয়, যেন ঘানি থেকে পিষে আনা সরষের তেল। পূব আকাশ এখন সারি সারি হাতির শুঁড় হয়ে আকাশ থেকে মাটিতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই রুমালি রোদ দ্বারকা নদীর জলে পড়ে এক হলুসা রঙ জল-ময় হয়ে মাছেদের সঙ্গে খেলে বেড়াচ্ছে। দ্বারকা নদী অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। সাঁওতাল বিদ্রোহের সময় সাঁওতালরা দিকুদের গাঁয়ের তাজা রক্ত নিজেদের গায়ে মেখে সেই সারাব ধুয়েছিলো প্রথমবার এই নদীর জলে। সে সময় সে নদীর জল কি হাঁড়িয়া হয়েছিল? নাকি লাল সারাব! তা না হলে কি আর মাছেরা মাতাল হতে পারত সেদিন! আর আজ এ জলধির রূপ অন্য। সারা বছর এখন আর এই দ্বারকা নদীতে জল থাকে না। এখন থাকে শুধু এক নদী কাশ ফুল। মেঘেরা এক না-জানা অভিমানে এই এলাকা থেকে চলে গেছে। আচ্ছা মেঘ চলে গেলে কি আর গাছ-পালা, সবুজ ঘাস মাথা তুলতে পারে? ও দিকে মেঘের অন্য অভিযোগ। সে বলে, আচ্ছা তোমরা যে বল আমি চলে গেছি কিন্তু এই মরুভূমির মহাসাগরে যদি আমাকে কেউ নঙ্গর হয়ে না ধরে রাখে তা হলে আমি দাঁড়াব কি করে বল তো? অন্য নঙ্গররা তো আমাকে টেনে নেয়। বারংবার এই কথা বলার পরও যখন ইট পাথর বালি মাটি বুঝতেই পারছে না তখন মেঘ নিজেই বলল,ওহে তাও জানো না আমাদের ধরে রাখার নঙ্গোরের নাম? যাকে সহজ কথায় বলা হয় গাছ। সবুজ পাতার জঙ্গল। বাজে কথা বলো না। মেঘ ইট পাথরদের কথা শোনে না। সে বল, না না সেসব হারিয়ে গেছে। এখন যা আছে তা দিয়ে তোমাদের বোকামির ঘর বাঁধা যায় কিন্তু তা দিয়ে তো আর মেঘের নঙ্গর বাঁধা যায় না!

এই দ্বারকা নদী যেখানে তার মধ্যগতি শেষ করে নিম্ন গতিতে পড়েছে তার ঠিক এক কিলোমিটারের মধ্যে নদী বেশ প্রশস্ত আর একটু হলেও তুলনায় গভীর।এখানে কি করে যেন এক নদী জল, সারা বছর একটা নৌকা পারাপার করে। আর এই জল কাজল কালো। নদীর দুই তীরে ঘন বাঁশ-জঙ্গল, মাঝে মাঝে তালগাছ আর গাঢ়-সবুজ জাম আর বকুলের ডাল। মাছেদের অমন তেলচুঁক শরীর মাছরাঙাদের ঠোঁটে উন্মাদনা এনে দেয়। ট্যাস্কোনা পাখিদের নোয়ানো বাঁশের ডগায় বসে অপেক্ষার দোল খাওয়া। ভোরবেলা নৌকাটা বাঁধা থাকে এই নদীর ঘাটে। জল তখন স্থির আর এই আয়নাতে নৌকার কোনো উল্টো সোজা বোঝা যায় না। এখানে যেন এক শিল্পী অতি যত্নে ছবি এঁকে রেখেছে। আজ এখন এই জাফরানি জলে কালো নাওখানি একাই অবগাহন করে।

দেখতে দেখতে এই রূপ বদলে যায়। চারি দিকে পাখির ঝাঁক চক্রাকারে উড়ে যায়। হাল্কা বাতাসে বাঁশের পাতারা জেগে ওঠে নদীর জলে তিরতির করে ঢেউগড়ানো চোখ মেলে। এই ফাঁকে একটা মাছ নড়ে উঠলে নীল পালকের সাজানো পাখা বড়শির মত ঝাঁপ মেরে তুলে আনে রোদ মাখা কচি-রূপোলী মাছ। মাছ যত তড়পাই তার পাখনা থেকে জল টুপ টুপ থেকে ফিংদিয়ে ঝরে পড়ে নদীর জলে আর অমনি নদীর জল ক্ষেপে ওঠে, শুরু হয় তার প্রতিদিনের আক্ষেপ। হাজার ঢেউ, ঢেউ ভেঙে ভেঙে কেবলই এই আকাশি নদীতে বয়ে এল এক বিকেলি নোটিশ। লিচিনপুর সমেত সারেন্ডা অধ্যুষিত ছোট ছোট টিলার অধিবাসীদের আপন আপন অভিবাস ছেড়ে চলে যেতে হবে ময়ূরাক্ষীর পূর্ব তীরে যেখানে এক প্রাণহীন গ্রাম আটাত্তরের বন্যার ভাঙা নদীর চৌমহুনির চরে গজিয়ে তুলেছে স্তানীয় লোপাটি নেতারা।

এই নোটিসকে ওখানের মানুষেরা তুচ্ছাতিতুচ্ছ করে ফেলে দিয়েছে এর আগে। কিন্তু এই বার সত্যি সত্যিই ছেড়ে চলে যেতে হবে ঘর-বাড়ি, গ্রাম। ঘাস মাটি পিঁপড়ের সারি আর এই কালো জলের কালো সিক্কারা। আর সেই মূল-নিবাসীদের তাড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে এক পুরাতনী মূল-নিবাসী যুবক যার এখনকার নাম বাবু। এই বাবুকে কয়েকটি প্রশ্ন করবে বলে ঠিক করে রেখেছে নীরালি কিন্তু সময় আর হয় না। আজ এই অতি সকালে এক নদীর বাঁকে এক ঝাঁক হাঁস ভেসে এসেছে। ক-দিন হল তাদের দেখতে এসেছিল এই নীরালি, আর এখানে এই নৌকাতে দেখা হয়ে গেল বাবুর সঙ্গে। বাবু একাই নৌকা বাইছে আর নীরালি সাহস করে সেই নাওটাতে উঠে বসেছে। এই তো সুযোগ বাবুকে প্রশ্ন করার। বাবুকে কিছু কথা বলতে শুরু করেছে নীরালি।

ভাবছিস কী, দুঃখের গালমারাট কুরতে আসেছি! না না উট তো লিতকার গালমারা বটে, ইঞঃ কথাটর খানিক ফারাক আছে বৈকি। হ্যেয় গো, তুরা তো আমাদেরকে আমাদের উড়া থেকে জুমি থেকে বুন থেকে ডাহার থেকে ঘুটু থেকে গাড্ডা থেকে তাড়িন দিলি। আমাদের ডাঙ্গারা আমাদের কাড্ডা, মেরম, গেডে সগুলি ক্যাড়ে লিলি। আমাদের বাঁচবার দাতরোম কাড়ে লিজেই বল্লি লিলিন। আমাদের মরদ গুলানকে তুদের উড়ার মুনিশ করে লিলি। আমাদের কাটিকাটি গিদরে গুলানকে তুদের ঘরের বাগাল করে লিলি। আমাদের প্যাটে আখুন তুদের গিদরে ভরে দিলি, কী দুঃখের গালমারা আমাদের! এই গালমারাট আখন লিতক্যের আর লয়খো। ইয়াট এক মস্তবড়ো পুরানো কিসসা বটে। কুনু দিন আমাদের গিদরে যদি আমাদের প্যাটে ধরে জনম দিতে পারি তো তারা এই কিসসাট তালের পাতাতে, ঝাড়ের পাতাতে, জজর পাতাতে ল্যাখে রাখবে, ইঞঃ গালমারা ট তুখে শুনায়তে আসেনিখো গো বাবোকুড়া!

ত যে গালমারাট আমি শুনায়তে আসেছি সিটো বুলি তুখে। শুনেছি নাকি বিনা ছুরি-বুঠিতে দিকুদেরকে মারেছিস, তু নাকি বিনা ছুরি-বুঠিতে হড় দিকে ম্যারেছিস? বিনা রক্তে সব দিকু হড় নাকি মর‍্যে যেলছে মোড়ে বছ্যোরের ল্যাগে? ওই মরাগুলা নাকি পচব্বে নাখো, খেরাপ হব্বে নাখো, লষটো হব্বে নাখো? ওই মরা দিকু গুলান নাকি জ্যান্ত লাশ হুঁয়ে ঘুরে বেড়ায়ছে।

যে দিকু গুলান তুদের ল্যাঠ্যাল ছেলো, আমাদেরই জ্যাতভাই ছেলো, হড় ছেলো তখুন, সেই হড় গুলান দিকু হুঁয়ে গ্যালো। আমাদের সব ক্যাড়েকুড়ে লিয়ে তুদের আগ্নেতে হুড়ুর তলা ব্যান্ধ্যে দিঁয়েছ্যেল, বাবা-লো! সে কি রাগ দিকু গুলার! যদি বুলত্যাম, হারে তু ক্যামুন করে এতয় খুন খারাবি কুরছিস আমাদের সাঁথে? তু তো আমাদেরই পারা হড় ছিলিসর‍্যা! এ কুথাট শুনেই তাদের কি র‍্যাগ গুসা! বাব্বা-লো! চড় চাপড় ম্যারেও চুপ হতোই নাখো। একট ঠ্যিঙ্গা দ্যাখ্যানে বলত কি, বিশি বিশি বুলবি যুদ্দি এই ঠ্যাঙ্গাটকে তুদের পোঙ্গা দিয়ে ভরে দুব্বোঃ হাঁ-হ্যাঁ বাবাঃ!

এ সব কুথা শুনে জানের ভ্যাঁতরট থথর করে বতরে ক্যাঁপে উঠত। বাবা লো! ক্যারা দ্যাশে আলো! মরদটকে কুথা পাব্বো? সি ত ক্যার উড়াতে মুনিষ হুঁয়ে পড়ে আছ? কুন শুঁড়ির মদের সালে মাতাল হুঁয়ে ঘুমিন আছে! আমাদের ত দেব্তা নাইখো যি বাঁচাবে, আমাদের ত শয়তান নাইখো যি লোব দিখাব্বে! আমাদের ত আর মাটি নাইখো, আমাদের তো সুন্মান নাই খো। আমাদের ত গিদরে নাই খো যি একদিন না একদিন শোধ তুইলবে। আমাদের ত নিন্দো বিলা নাইখো যি আবার সব ঠিক হুয়ে যেয়ে লোতুন করে গড়তে লাগবো। আমরা ত মত বুটি, যতই ঠ্যিঙ্গা দিয়ে মার ক্যানে, মরবোই না। আমাদেরকে যতই তাড় ক্যানে আমরা আলামারা হবই না। আমাদেরকে যতই মাটি ছাড়া কর ক্যানে মাটি আমাদেরকে ছাড়বেক না। আমরা যত দউড়ব আমাদের গতর থেকে ছুটুছুটু জিলের ছেঁচড়া মাটির চ্যাঙ্গোড় হয়ে ছ্যাড়ে ছ্যাড়ে পড়ে আমাদেরই মাটি হুবে, জুমি হুবে, গাড্ডা হুবে। তুরা লারবি গো আমাদেরকে তাড়িন দিতেই, বড্ডো লাচার হব্বি।

দ্যাখ ক্যানে কথাট সত্যিই বটে কি লয়? আমাদের মতুন হড়দেরকে ম্যারতে ম্যারতে আমাদের উড়াকুড়ি কাড়তে কাড়তে যখুন তুরা দিকু হুয়ে আমাদের তাড়ছিলিস তখুন আমরা ঝ্যোড়ের পারা বাতাসে লিজেদেরকে উড়িন লিলাম পাহাড়ের উপরে। আমরা যখুন জানুম ঘুটু, জজ ঘুটু ছ্যাড়ে, রল-কানালি ছ্যাড়ে কালো মাথামুটা মরাখোকো ডুরাগুলার পারা পাথর ধরে ধরে পাহাড়ের মাথায় উঠছিলোম তখুন তুরা দাঁড়িনে আমাদের বতর দেখেছিলিস।আমাদের ঝরে পড়া ঘাম দেখে ছিলিস আর হাসতে হাসতে মাটিতে উলঠিন উলঠিন পড়ছিলিস। আমাদের কুড়িগুলান কে তখন তুরা লিছিলিস, তাদের রোঃ-দায় দেখবার শুনবার সুময় ছিলই না, লিজের জানটকে বাঁচাবো বলে র‍্যা!

আমাদের এই দুঃখের গান দিকুদেরকে শুনাতে যায়নি কুনু দিন। উয়োরাতো দিকু-হড় লয়খো। দ্যাখ ক্যানে আমাদের দুঃখের গান শুনতে শুনতে কালোকালো পাথর গুলান তাদের গতরের পাশে ঘাস জনম দিল। মেরম, ডাঙ্গারাগুলার জনম দিল, তাদের বুকে আমাদের বসতে দিল, নিন্দোবিলা দিল, তিঙ্গুতে বল দিল, মকায় দিল চুঁহা দিল, মাদলের কাঠ দিল, চামড়া দিল, বাঁশের বাঁশি, বুকে মুন দিলো, আলাং এ লাগাম দিল আর আমদের চোখে শরম দিল। মাথার আগুন কাড়ে লিয়ে মাথায় বুদ্ধি দিল আর বলল, বাইরের ধরম থেকে দূরে ছিলিস আর দূরেই থাকিস, মুঞের ধরম গাছটতে জল ঢালিস।

এতো কথা নীরালি বলে একটু থামল। তখন বাবুর নাওখানা উত্তর পূর্ব থেকে বেরিয়ে এসে নদীর মাঝ বরাবর ভাসছে। বাবুর কোন কান নেই, সে কি স্থির উন্মাদ। নীরালি তার এই স্থির উন্মাদনাকে অবজ্ঞা করে। নীরালির কপালে তখন অনেকগুলো কালো ফুটকি ফুটে উঠল যা তার ভয়ের কারণে নয়, তার কালোবর্ণ তাকে সাহসি করে তোলে। সে পুনরায় বলতে শুরু করল, তাই তো করছিলম, কেন্ত না এই কুথাট শুনে আমি তর কাছে আলোম-গো বাবোকুড়া, এই কুথাট জানবার ল্যাগে জি তু কি মন্তর শিখেছিস বটে তুদের বুঙ্গার কাছে যে বিনা ছুরি-বুঠিতে দিকুদেরকে মারেছিস, তু নাকি বিনা ছুরি-বুঠিতে হড় দিকে ম্যারেছিস? বিনা রক্তে সব দিকু হড় নাকি মর‍্যে যেলছে, মোড়ে বছ্যোরের ল্যাগে? ওই মরাগুলা নাকি পচব্বে না খো , খারাপ হব্বে না খো, লস্টো হব্বে নাখো? ওই মরা দিকুগুলান নাকি জ্যান্ত লাশ হুঁয়ে ঘুরে বেড়ায়ছেয়। নীরালি এক ধমক দিয়ে বলে, হ্যেয় গো এই মন্তরটর নাম নাকি গণোতনতর?

বাবাঃ-লো! ই কথাট শুনে তো আমাদের বুকের ভ্যাঁতরট আবার রিমিলের পারা আঁচলপাঁছল কচ্ছে গো। হ্যায় দ্যাখ কেনে গো, হ্যায় কথাট শুনে ক্যামুন লান্দায় লাগছে মুনে। এই মন্তরটর নাম নাকি গণোতনতর ?

বাবুর নাও এবারে মীন ধরার জন্য তৈরি। কিন্তু এ যে দ্বারকা নদী, বেশি দূর যেতে পারবে না। এর ঢেউ নেই টানও নেই, শুধু এই লিচিনপুরের ঘাট কেমন করে ছবি হয়ে আছে। নীরালি বাবুর মিন ধরার উদ্যোগ দেখে ঠোঁট টান করে রইল। এই সময় সে একটু থেমে যায়, বাবুর মীন ধরার ব্যাঘাত ঘটলে নীরালির এখনই কথাবলা শেষ হবে।

নৌকা নড়ে উঠল, মাছেরা ছলবল করে নাওয়ের পাশ দিয়ে পালিয়ে গেল,দু একটি মাছ লাফ দিয়ে জলের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে লুকাল। বাঁশের ডালে বসে থাকা নীল পালক বাতাসে বিছিয়ে দিয়ে জলের দিকে এগিয়ে এল রূপোলি পিঠে ছোঁ মারার জন্য। কিছু ক্ষণ টালমাটাল পরিস্থিতি, এখন সামলে নিল নদী, এখন শান্ত আর ধীর। নীরালি কথা লীশাড়ি বলতে থাকল।

দ্যাখ ক্যানে ত্যামউন করে কি আর বুলার আছে! আমাদের গোগোর মুখের কথাট কবে ভুলে গেলছি আখ্যুন মুখে ঝড়াম ঝড়াম করে বাংলা বেরয়, ঝড়াম ঝড়াম করে হিন্দি বেরয়, আগে গুরুগুলান হড়-কথা বোজতো, আখ্যুন খুবই বাংলা বোজে। আবার বাংলা গুরুগুলান ছ মাসের কাগজের সাঁথে গালমারা করে আমাদের অলচিকিটকে হজম করতে শিখ্যাছে, আর আমাদের অলচিকিট তে নাকি বাঙলার গুরুগুলান চাকরি করছ্যে আর ঝুড়িতে ঝুড়িতে ঘ্যাঁস না খিয়ে বড্ডই টাকা খাচ্ছে? তা ই কথাট তো লান্দাবারি কথা আছে, নাকি বুলতো বাবোকুড়া ?

নীরালির থামা নেই, কথার শেষ নেই, এখন যেন সে এক আষাঢ় নদী। ছাপিয়ে ছাপিয়ে নদীর দু-কূলকে ভাসিয়ে দিয়ে যায়।

বাবোকুড়া এক শব্দহীন নির্লজ্জ মূর্তি যেন। বসে আছে নীরালিদের ঘর থেকে চুরি করে নিয়ে আসা সেই রাজ সিংহাসনে যার চারিদিকে পাহারা দিচ্ছে সেই হড় থেকে দিকু হয়ে যাওয়া খাঁসটে রঙের পোশাক পরা দিকুরা।

বাবোকুড়ার হাত নিশপিশ করছে নীরালিকে ধরার জন্য। নীরালি মাটির মেয়ে তার গায়ে আছে হরিণের মাংস। যে মাংসের গন্ধ বাবোকুড়াদের মাতাল করে। বাবোকুড়ার মাঝে মাঝে ঘুম পাচ্ছিল, কারন ওই হরিণের মাংস সে ক্ষণে ক্ষণে খায় আর দিকুরা জোগান দেয়। বাবোকুড়ার ঝিমুনি দেখে নীরালি খলখল করে হেসে উঠল। নীরালি এবারে প্রশ্ন তুলল, হ্যায় বাবোকুড়া আখন তো আর আমাদের উড়া-কুড়ি নাই খো। কেন্তনা তুদের তো উড়া চায় যিথা আগুন লাগাবি মুনের সুখে। তুদের তো কুড়ি চায় যাখে নিয়ে ঠ্যিঙ্গা ঢুকাবি মুনে শখে। তাহলে কি তুরা সি কামট কে থামিন দিলি? এ কথা বলে নীরালি একবার তার শরীরটাতে ঝাঁকুনি দিয়ে বললো, তাতো হবার পারে না, তদের তো শুয়োরের জিল যায়ই চায়! তা হলে কি এবারে দিকুদের উড়াতে আগুন দিলি আর দিকুদের কুড়ি নিয়ে ঠ্যিঙ্গা গাতি কচ্চিস? হে হে আমার তো লান্দায় পাছে-ই ইবারে খানিক বুদ্ধি করতে পারছি। দিকুরা আখন নাকি কেবলই গরু নিয়ে পদ্য ল্যাখছে, গরুগুলানকে প্যাটে ধরছে, গরুর জনম দিচ্ছে। দিকুর চেহে নাকি আখ্যন গরুর চড়া বাজার ? হে হে আমার তো খুব লান্দায় পাছে। বাবোকুড়া এই দিকুগুলান এক দিন হড় থেকে দিকু হুয়ে গ্যালো তুদের ডরে জান বাঁচাতে। বাবোকুড়া দিকুদের একবার শুধা ক্যানে, যে জান বাঁচাতে তারা একদিন হড় থেকে দিকু হুয়ে ছ্যালো আজ কি জান বাঁচাতে দিকু থেকে ডাংরা হয়ে যাবে?

1 Comments

Sarmistha Saha

01 August, 2021

অসাধারণ শব্দটি তো বাংলা শব্দ। বাংলা ভাষা নিরালীকে লিখতে লজ্জা করছে। তবে পড়শির মর্মবেদনা মন কে ভারাক্রান্ত করে দিল।

Post Comment