মহিম গাঙ্গুলী ব্রাঞ্চে ঢুকতেই নানান ব্যস্ততার মধ্যেও যথারীতি তাকে লক্ষ্য করল ২২ বছর ধরে কর্মরত গ্রুপ স্টাফ সুরেশ যশ।আসুন আসুন, বসুন-বলে তার দিকে এগিয়ে গেল।মহিম বাবুও ব্যস্ততার সঙ্গে বলল–“না না আজ বুসার বেশি সময় লাই,ই রাস্তা পেরিয়ে যাছিলুম ,ভাবলুম তুদের নতুন ম্যানেজার এয়েছে তাই একবার দেখাক করে যাই”।
২০০৫ সালে আইভরি কোস্টের কিংবদন্তি ফুটবলার দিদিয়ের দ্রোগবা ও তাঁর সতীর্থরা জাতীয় টেলিভিশনে হাঁটু গেড়ে বসে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অস্ত্র ত্যাগ করার এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানান। তারা বলেন, "আফ্রিকার মতো এতগুলো দেশ নিয়ে গঠিত একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হতে পারে না।" হাঁটু গেড়ে বসা নতমস্তক ফুটবলাদের ভালোবাসার বাণী মেনে নেয়ে দুই পক্ষ। তাই ফুটবল সেদিনও ছিল একটা রাজনৈতিক খেলা আর আজকের বিশ্বকাপ দেখেও সেটাই মনে হচ্ছে।
মব ভায়োলেন্সের শিকার হয় আর্থিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও লিঙ্গ রাজনীতির প্রান্তিক লোকজনেরা। ভারতে ডাইনি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা নতুন কোনও বিষয় নয়। কোনো নারী একটু নিয়মের বাইরে গিয়ে বিরুদ্ধাচরণ করলেই তাকে দাগিয়ে দাও চরিত্রহীন বলে আর সেই নারীর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলো উন্মত্ত জনতাকে। রাজনৈতিক নেতাদের মদতে বাড়তে থাকা ঘৃণার আবহে ডিম ছুঁড়ে মারা, কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর স্বাভাবিক বলে মান্যতা পেলে তার ফল ভুগতে হবে কিন্তু সবাইকেই।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এক নতুন বিতর্ক উস্কিয়ে দিয়েছেন। নতুন নয়, পুরনো কথাই। তবে যেহেতু সরকারে এসেছেন, তাই নতুন করে বলেছেন। শমীকবাবু বলেছেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের 'গুণ্ডা'রা শ্যামাপ্রসাদের মাথায় পাথর ছুড়ে তাঁকে রক্তাক্ত করেছিলেন৷ সরাসরি নাম না করেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করলেন। খুব সচেতনভাবেই ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হচ্ছে। সুভাষচন্দ্র বসুকে যাঁরা শ্রদ্ধা করেন, তাঁরা শমীক ভট্টাচার্যের কাছে জবাবদিহি চাইবেন না? জানতে চাইবেন না, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আদৌ তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না কি?
রেল স্টেশনের অধিকাংশ হকার'রা এখন বলছেন, আর.এস.এস ও বিজেপি পুঁজিপতিদের সরকার, আমাদের নয়। যখন একদিকে হকার উচ্ছেদ হচ্ছে তখন অন্যদিকে অধিকার থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে বাদ গেছে, তাঁরাও তো উচ্ছেদ হচ্ছেন। সমস্ত রকম উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আন্দোলন আরো সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন, কিন্তু তা হচ্ছে কি? শুধু আইনি লড়াই কি এই আন্দোলনকে দিশা দেখাতে পারে, নাকি অন্যরকম কিছু ভাবনার প্রয়োজন আছে?
সারাদিনের ক্লান্তির পর শ্যামলীর কাছে রাতটুকু যেন শীতের হিমেল আবেশ। বিছানায় শুয়ে বালিশের উপর মাথা রাখার অপেক্ষা। তারপর সে উড়ে চলে যায় কখনো কাশ্মীরের ডাল লেকে ভেসে চলা চলমান বোটে। কখনো গোয়ার কোভালাম সি বিচ এ নীল সমুদ্রের তীরে বসে প্রিয়তমের কোলের উপর মাথা রেখে নতুন সংসারের জাল বোনে। শুধু শরীরখানা পড়ে থাকে এই ছোট্ট বিছানায়।
উধমের ২১ বছরের অপেক্ষা সেই ক্ষয়েরই গল্প। আদালতের জবানবন্দিতে উধম যখন বলেন, “I did it for my country, and my country is not just India”, তখন তিনি জাতি-রাষ্ট্রের সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমানা ভেঙে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী এক আন্তর্জাতিক সংহতির কথা বলেন। সর্দার উধম বলিউডের প্রচলিত বায়োপিকের চেনা ছক ভেঙে ইতিহাসকে ‘অনুভব’ করায়। এটা শহিদ নির্মাণ করে না, শহিদ হওয়ার দামটা দেখায়। তাই ছবিটির সারকথা: এটি ‘আজকের ভারতে একটি জরুরি সাংস্কৃতিক স্মারক’।
দেশের অর্থনীতি যত দুর্বল হয়েছে, বেকারত্বের সংকট যত বৃদ্ধি পেয়েছে, সময়ের সাথে রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র, কলকাতা শহরের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের প্রয়োজনীয়তার ছবিও বদলেছে। আগে অনেক অভিভাবক বলতেন, কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিল খাওয়ানোর কী দরকার? গ্রামের স্কুলগুলোতে খাওয়ালে ওরা একটু বেশি খেতে পায়! লকডাউনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর আজ এ'কথা বলতে পারেন, এমন অভিভাবকের সংখ্যা নিঃসন্দেহে কমেছে।
RSS নামে সংগঠনের ঐতিহাসিক উৎস কোথায়?এবং ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল? এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বৈধতার অন্যতম উৎস হলো স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তরাধিকার। যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। ফলে RSS-এর ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকার প্রশ্নটি শুধু অতীতের নয়; বর্তমানেরও প্রশ্ন। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ থেকে সমকালীন বাংলার রাষ্ট্র, ইতিহাস ও গণতন্ত্র পর্ব ৫-৬ সেই ইতিহাসকে ফিরে দেখার চেষ্টা।
স্কুলে এলেই হামিদ ভয় পায়। বিশেষ করে স্কুলের ওই পরিত্যক্ত ঘরটা- যার পেছন দিকে সবুজ ঘাসে ঢাকা বিশাল গোরস্থান- মানুষ মরলে যেখানে মানুষের লাশ নিয়ে গিয়ে সবাই গোর দেয়। যখন ইস্কুলের পেছন দিকে পরিত্যক্ত ওই ঘরটার দিকে হামিদের চোখ যায়, গোরস্থানের ওপরেও তার দৃষ্টি পড়ে, তার বুকের ভেতরটা শূণ্য হয়ে যায়। কেমন যেন শিরশির করে ওঠে। কলিজা ঠান্ডা মেরে যায়। গলা শুকিয়ে আসে। ভয়ে সে তখন দোস্ত মতিকে জড়িয়ে ধরে।
স্কুলে এলেই হামিদ ভয় পায়। বিশেষ করে স্কুলের ওই পরিত্যক্ত ঘরটা- যার পেছন দিকে সবুজ ঘাসে ঢাকা বিশাল গোরস্থান- মানুষ মরলে যেখানে মানুষের লাশ নিয়ে গিয়ে সবাই গোর দেয়। যখন ইস্কুলের পেছন দিকে পরিত্যক্ত ওই ঘরটার দিকে হামিদের চোখ যায়, গোরস্থানের ওপরেও তার দৃষ্টি পড়ে, তার বুকের ভেতরটা শূণ্য হয়ে যায়। কেমন যেন শিরশির করে ওঠে। কলিজা ঠান্ডা মেরে যায়। গলা শুকিয়ে আসে। ভয়ে সে তখন দোস্ত মতিকে জড়িয়ে ধরে।
RSS নামে সংগঠনের ঐতিহাসিক উৎস কোথায়?এবং ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল? এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বৈধতার অন্যতম উৎস হলো স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তরাধিকার। যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। ফলে RSS-এর ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকার প্রশ্নটি শুধু অতীতের নয়; বর্তমানেরও প্রশ্ন। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ থেকে সমকালীন বাংলার রাষ্ট্র, ইতিহাস ও গণতন্ত্র পর্ব ৫-৬ সেই ইতিহাসকে ফিরে দেখার চেষ্টা।
একজন ইতিহাসবিদ যখন শ্যামাপ্রসাদকে দেখেন, তখন তিনি ১৯৪০-এর দশকের রাজনৈতিক সংকট, দেশভাগের বাস্তবতা, হিন্দু মহাসভার ভূমিকা, কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ এবং স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়া—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করেনকিন্তু রাজনৈতিক স্মৃতি সাধারণত এত ধৈর্যশীল নয়। স্মৃতি বেছে নেয়। কিছু ঘটনাকে উজ্জ্বল করে। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ থেকে সমকালীন বাংলার রাষ্ট্র, ইতিহাস ও গণতন্ত্র পর্ব ৩-৪ পর্বে সেই ইতিহাসকে খুঁজে দেখার চেষ্টা।
২০২৬ সালের কলকাতায় একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে স্থানীয় এবং প্রশাসনিক। একটি রাস্তার পুরোনো নাম মুছে নতুন নাম বসানো হয়েছে। শহরের মানচিত্রে একটি শব্দের জায়গায় আরেকটি শব্দ এসেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি প্রতীকী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মাত্র। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। কয়েক পর্বে লেখক, এই রাস্তার নামবদলের ইতিহাসকে ফিরে দেখার চেষ্টা করলেন।
ইন্দোনেশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের মেরে ফেলার গোটা ঘটনাটাতেই দেখবেন জনতার একটা ভূমিকা ছিল। সেই সময়ে তাদের একটা অংশ যেমন প্রগতিশীল আন্দোলনের শরিক ছিল তেমনই অন্য আর একটি অংশ ফ্যাসিবাদীদের প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে প্রগতিবিরুদ্ধ গণ-আন্দোলনের শরিক হয়ে পড়ে। আজকের ডিম থেরাপি বা ডিমোক্রেসি আসলে ছদ্মবেশে ফ্যাসিবাদের জমি তৈরি করছে, তা যদি না বোঝা যায়, তাহলে আর কিসের বামপন্থী আন্দোলন ?
এক অর্থে বিদ্যালয় একটি ক্ষুদ্র সমাজ। সেখানে যা ঘটে, শিশু সেটিকেই সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে গ্রহণ করে। এখন যদি সেই ক্ষুদ্র সমাজে শিশু দেখে যে বড়রা ক্ষোভ প্রকাশ করতে মারধর করেন, অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় রাস্তায়, এবং কর্তৃপক্ষকে অপমান করা যায় প্রকাশ্যে — তাহলে সে বড় হয়ে ঠিক তাই-ই করবে। কারণ সে তো সেটাই শিখেছে। আগে হিংসা ছিল স্থানীয়। যারা সামনে থাকতেন তারা দেখতেন। এখন হিংসা ভাইরাল সেই ভাইরাল হিংসা দেখে শিশু শেখে — এই কাজ করলে মানুষ হাততালি দেয়।