পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

অন্যান্য পোস্ট

লেখাপড়া করে যে করোনায় মরে সে

স্কুল কলেজ খোলা নিয়ে সরকারি স্তরে নীরবতার আরও একটি বড় কারণ শিক্ষা সম্পর্কে সরকারি ব্যবস্থার উদাসীনতা এবং সম্যক উপলব্ধির অভাব। স্কুল কলেজ খুলে গেলে লাগামছাড়া সংক্রমণ বৃদ্ধির যুক্তি বিচিত্র এবং অতি দুর্বল । বাদুড় ঝোলা স্পেশাল ট্রেন, মিনি বাস অটোয় চেপে পরিবারের বড়রা যখন জীবিকার প্রয়োজনে প্রবল সংক্রমণ সম্ভাবনা নিয়ে বাড়ির বাইরে পা রেখে দিনান্তে বাড়ি ফিরছে , তখন সেই বাড়ির খুদে পড়ুয়ারা কি সেই সংক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে? এমনকি স্কুল কলেজের ক্লাস ঘরের জন ঘনত্বের চেয়ে বেশি পাড়ার মাছের বাজার কিংবা শপিং মলে প্রবেশ অবাধ যদি হয় তবে কোন বাধায় স্কুল কলেজের দরজা বন্ধ থাকবে? সংক্রমণ পরিস্থিতির বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে যেমন পরীক্ষামূলক ভাবে ধাপে ধাপে দোকান, বাজার, অফিস কাছারি, কল কারখানা খোলা হয়েছে ঠিক একই কায়দায় কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না ?

চলুন এবার সকলে মিলে স্কুল খোলা যাক

স্কুল খোলার পক্ষে আমাদের সোচ্চার হবার সময় কিন্তু এসে গেছে। আমরা আজও যদি নীরব থাকি তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়সীমা যত দীর্ঘায়িত হবে সংক্রমনের ভয়, কর্মস্থলে না যাওয়ার অভ্যেস, স্কুল ও পঠনপাঠনের সাথে পড়ুয়াদের দূরত্ব যেদিন শাখা প্রশাখা বিস্তার করবে সেদিন শিক্ষা নামক বটবৃক্ষটি নেতিয়ে পড়লে আমরা সে দিনটির জন্য প্রস্তুত তো?

রত্নাকরের পিতা

“তপু আজও ফিরে নাই- মিনু দেখল বাবার গলার স্বর ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসছে। দু’চোখের পাতায় ঘুম এলিয়ে পড়েছে। তপু বা তপন জগদীশের ছেলে, মিনুর একমাত্র দাদা। পারিবারিক দোকানের মাল সওদা করতে সদরে গেছে দিন সাতেক হল। এখনও ফেরেনি, দিন দুয়েক ধরে বৃদ্ধ দিনে অন্তত বার চার পাঁচেক ছেলের কথা জিজ্ঞেস করে। ওষুধ খাওয়ানো হয়ে গেছে। এখন মিনু তোয়ালে দিয়ে বাবার মুখ মুছিয়ে সাদা চাদরটা বুক বরাবর তেনে দিল। বাবার মাথায়, কপালে হাত বুলিয়ে মমতার গলায় বলল – লক্ষীছেলের মতো ঘুমিয়ে পড় –”

আফগানিস্তান: তপ্ত কড়াই থেকে উনুনে

আফগানিস্তানের যেন এটাই নিয়তি। গত একশো বছরের ইতিহাসে টানা চল্লিশ বছরের অধিক কোনও শাসনকাল নেই আফগানিস্তানে। ইতিহাসের পুনবাবৃত্তি কি ঘটতেই থাকবে এ ভাবেই!

যে সোনার পদক হয়তো অলিম্পিকের সোনার থেকেও দামী

খেলার ভেতর দিয়ে এই যে সীমানা ভাঙার আদর্শ এবং শিক্ষার কথা 'টীম ইন্ডিয়া' বলছে, তা আজকের নয়। আমরা বাংলার মানুষরা সেই ইতিহাসের উত্তরসূরিতা বহন করি। 'ভারতীয় ফুটবলের জনক' নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর ২৭শে অগাস্ট জন্মদিন ছিল। নগেন্দ্রপ্রসাদ যখন দেখেছিলেন নিজের হাতে বড় ক'রে তোলা ওয়েলিংটন ক্লাব তথাকথিত নীচুজাতের কুমোর পরিবারের ছেলে মণি দাসকে জাতের কারণে রিক্রুট করাচ্ছে না, তখন নিজে সেই ক্লাব থেকে বেরিয়ে এসে প্রায় ৫০০ জন সদস্য সমর্থক নিয়ে শোভাবাজার ক্লাব তৈরী করেছিলেন। মোহনবাগান ক্লাবেরও আগে তৈরী হয়েছিল সেই ক্লাব। আর তার প্রথম রিক্রুটমেন্ট ছিল মণি দাস।

মৌজা ডোমপাটি

ঘরে মন টেকে না বিনোদ ডোমের। মাঘের ছ-তারিখ হয়ে গেল। পৌষের তেইশ তারিখে মহাজন এসেছিল। তিনপণ কুঁড়চির মালা ঘরে গাঁথা পড়ে আছে। হাতে টাকা না এলে গাছ আনতে পারবে না। বন-কমিটির ফি জমা দিতে হবে। হাতও ফাঁকা, সংসারও ফাঁকা। বউ গেছে বড়োমেয়ের ঘর ডিহরে। শৈলেশ্বরের মেলায় তিনদিন ভিডিও-শো হবে। মেয়ে খবর পাঠিয়েছিল। ছেলে গেছে আরামবাগ। আরামবাগের যাত্রাদল তেরোখানা আসর পেয়েছে। ছেলে ফুলুট বাজাবে। নাতিদুটো গোল্লায় গেছে। বাঁশির বদলে বাঁশ ধরেছে। দিনেরবেলা এর-তার জমিতে খাটে, রাতে বনের পথ ধরে মানুষজন গেলে মাথায় লাঠি তোলে।

ভাল তালেবান খারাপ তালেবান

তালেবান নিছক কোনও সামরিক বা রাজনৈতিক শক্তি নয়, তালেবান একটা মৌলবাদী তত্ত্বও বটে। তাই সামরিক অভিযান দিয়ে তাকে সাময়িক উৎখাত করা গেলেও মূলোচ্ছেদ করা যায়নি। আবারও আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফিরেছে তালেবান। এখন তারা নাকি আর আগের মতো খারাপ নেই— তারা এখন ভাল তালেবান।

নিয়ন আলোয় পণ্য হল, ‘যাঁরা’ ছিল সব ব্যক্তিগত

আপনার সম্পর্কে জোগাড় করা ভুরি ভুরি তথ্য কিন্তু ফেসবুক বিক্রি করে না। অনেকেই ভাবেন তথ্য বিক্রি করে ফেসবুক টাকা পায় – না তা নয়, যেখানে পণ্য আপনি – সেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো আসলে দরকার আপনার ভার্চুয়াল ওই মডেলের জন্য, যেখানে কম্পানীগুলো নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে আপনার সম্পর্কে, ভবিষ্যতে ঠিক কোথায় কখন, কোন জিনিসটা আপনি করবেন – এবং যাতে করে আরও নিশ্চিতভাবে, আপনাকে ওই বিজ্ঞাপনদাতাদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে।

নিয়মিত কলাম

পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস ও দোসর-পুঁজি

পুঁজিপতিরা প্রাণীজগতের সাধারণ সম্পত্তি, জল-জঙ্গল-জমি-বাতাসকে নিজেদের মালিকানার আওতায় এনে, সেগুলিকে ফোকটে-পাওয়া-পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে মুনাফা করতে চাইছে। এই কাজে সে দেশে দেশে পুঁজি-বান্ধব সরকার গঠনে পুরোদমে নেমে পড়েছে। রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে পুঁজির দোসর, চলছে দোসর-পুঁজি আর রাষ্ট্রের যুগলবন্দী!

ব্রহ্মতেজ ও বাণী

অ্যান্টিন্যাশনালরা বলছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সরকার কিছুই করছে না। একদম বাজে কথা। আসলে সরকার দারুণ লড়ছে। দেখল হুতোম প্যাঁচা

আখ্যান

বর্ষারাতের গল্প

শোনা গল্প। বন্ধুর কাছে শোনা। অনেকদিন ধরেই ভাবছি সবাইকে গল্পটি শোনাই। ভাবছিলাম কোথা থেকে আরম্ভ করি। শোনা তো, একটু এলোমেলো ছিলই। তার ওপর বলেছিল, আসলে গল্প নয়। গল্প নয় মানে সত্যি। হতে পারে, না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। অথবা কোথাও সত্যি, কোথাও আবার কাল্পনিক সুতো দিয়ে মুড়ে দেয়া। গল্পটি একদিক দিয়ে দেখতে গেলে অনসূয়ার। অনসূয়ার একসময় মনে হতে থাকে কেউ হয়ত তাকে হত্যা করবে। অন্যদিক দিয়ে দেখলে গল্পটি বলা যেতে পারে প্রিয়াংশুরও। প্রিয়াংশু একদিন জানতে পারল তার স্ত্রী এইরকম ভয় পাচ্ছে। আসলে তখন চারপাশ থেকে অতিরিক্ত খুনখারাপির খবর আসছিল। সে এক বর্ষার রাত্তির। দুই বন্ধু, ঘর খালি, বোতল নিয়ে বসেছিলাম। তা কথা হচ্ছিল ওই খুনটুন নিয়েই। আমি জিগগেস করেছিলাম--- খুন করার পরে অপরাধী সারাজীবন নিজের বউবাচ্চার সঙ্গে কেমন আচরণ করে?

দেশ খুঁজে ফেরা ঘরে ও বাইরে: 'স্বাধীনতা পঁচাত্তরে' নারী

নারীর 'স্বাধীনতার লড়াই' তাই চিরকালই দ্বিবিধ। ঘরের আর বাইরের। স্বাধীনতার ৭৫ তম বছরে এ লেখা লিখতে বসলাম বটে, কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা নারীর স্বাধীনতার একটি একক হতে পারে বড়জোর। 'রাজনৈতিক' কথাটিও নারীবাদের আওতায় এলে অর্থের সম্প্রসারণ ঘটায়, কারণ সেখানে 'ব্যক্তিগতও রাজনৈতিক'। অতএব খাতায় কলমে ভারত রাষ্ট্রের স্বাধীনতা যে নারীর স্বাধীনতার সমার্থক নয়, তা বলাই বাহুল্য। ঠিক যেমন খাতায় কলমে নানা আইনি বা সাংবিধানিক অধিকার থাকলেই নারীর অধিকার নিশ্চিত হয় না৷

কণ্ঠরোধের আইন-ঔপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

দেশদ্রোহিতা’ আইনের বেশ কিছু ধারা ১৮৭০ সালে গৃহীত হয়। এমন বক্তব্য বা লেখা যা সরকারের প্রতি ‘অসন্তোষের উদ্রেক’ করে তাকেই দেশদ্রোহিতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৮৯৮-এর সংশোধনীতে এই দেশদ্রোহিতার ধারণা ও নীতিকে আরও তীক্ষ্ণ করা হয় এবং যে কোনো ধরণের সরকারের প্রতি ‘এনমিটি' বা বিরুদ্ধতাকেই চিহ্নিত করা হয় দেশদ্রোহ হিসেবে। বাল গঙ্গাধর তিলকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলার পরবর্তীতেই এই সংশোধনী গৃহীত হয় এবং তিলকের বিরুদ্ধে মামলার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কেশরী ও মারাঠা পত্রিকায় ‘ব্রিটিশ রাজ’ বিরোধী প্রচার।

ভ্রমণ-কাহিনী

নলিনীকান্তর দুর্লভ যত সংগ্রহ আছে তার মধ্যে থেকে একটিকে আজ বার করলেন তোরঙ্গ থেকে। একটি ছবি। স্বচ্ছ প্লাসটিকের প্যাকেটে ভরে বিছানার ওপর রাখলেন। তক্তপোষের অর্ধেকটা দখল করে আছে বইখাতা, খবরের কাগজের কাটিং ভরা গোটাকতক ফাইল আর চেপ্টে যাওয়া দুটো বালিশ। সুপর্ণা, বড় ছেলের বউ ইস্ত্রি করা ধুতি-পাঞ্জাবী রেখে গেছে বিছানার ওপর। পরতে পরতে বললেন, 'খাবার হলো বৌমা?’

নিরন্তর সোশ্যাল মিডিয়া যাপন, জোহনারিজম ও ফোমো

সমাজ মাধ্যম অনেকটা সেই শুঁড়িখানার মত যেখানে অনেকের কথা একসঙ্গে শোনা যায় উচ্চগ্রামে, কিন্তু সেখান থেকে কোনও অর্থ খুঁজে পাওয়া ভার। এই কোলাহলই "ফোমো"-র সবচেয়ে বড় অভিশাপ। যখন সবাই কথা বলছেন কোনও কথা না শুনেই, শুনছেনও না শুনেই, তখন আর কোনও কথারই দাম থাকে না। তখন যে কোনও শোক, ক্রোধ, হতাশা শেষ অবধি এক প্রতিযোগিতামূলক উৎসব হয়ে রয়ে যায়। অর্থহীনতার উৎসব। কিন্তু কেন এমনটা হয়? মনস্তাত্ত্বিকরা বলছেন এর জন্য দায়ী বিভ্রান্তি। না সত্য না মিথ্যার বিভ্রান্তি। আর এইখানে প্রবেশ করবে সমাজ মাধ্যমের দৌলতে আমাদের শব্দভান্ডারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শব্দ জোহনারিজম। যার অর্থ হল একটা সহজ সরল সত্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মানুষের সামনে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উপস্থাপন করা। এই ফোমো আর জোহনারিজম নিয়ে লিখলেন শোভনলাল চক্রবর্তী

করোনা পরিস্থিতিতে ভাঙছে পিতৃতান্ত্রিক অচলায়তন

আমরা ছোটবেলা থেকেই একরকম পরিবার প্রতিষ্ঠানে তার নিজস্ব রীতি নীতি ধ্যান ধারণার মধ্যে আর পিতৃতান্ত্রিক, হেটেরোনরমেটিভ সমাজে বড় হয়ে উঠতে উঠতে সেটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাই। সমাজে এই প্রতিষ্ঠিত একক পরিকাঠামোকে মানতে আমরা বাধ্য। আর এই সমাজই 'ভালো সম্পর্ক' বা বলা ভালো 'ভালো মেয়ে'র সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়। তথাকথিত 'ভালো' সম্পর্ক মানে যেখানে 'আমি শুধু তোমার' বলে মনের দরজায় খিল এঁটে বসে থাকি, বিশেষত মহিলারা। ভালো মেয়েরা নিজেদের চাহিদার কথা বলেন না, পুরুষ চাইলে সোহাগে মোড়া হিসেবেই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সবকিছু মেনে নেন। তাদের আর কাউকে কস্মিনকালেও ভালো লাগতে পারে না। নিজের শরীরের উপরেও তাদের কোন অধিকার থাকতে পারে না। লিখলেন সৌমি জানা।