পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

পুরানো লেখাগুলি

সুন্দরের বন্ধন নিষ্ঠুরের হাতে, ঘুচাবে কে?

সার্বিকভাবে সমস্ত স্তরে বামপন্থার বিরুদ্ধে আক্রমণে নামার আগে ভারতে এই শক্তিটির বিরুদ্ধেই প্রথমে আক্রমণে নেমেছে মোদী-অমিত শাহর বিজেপি-আর,এস,এস। সে কারণে আজকের ফ্যসিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন শক্তিদের সার্বিক নির্ভরতার ভরকেন্দ্রকেও এই মূহুর্তে পাল্টে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়। ভারতের উচ্চকিত সর্বহারা শ্রেণী মূলত বিজেপি-আর,এস,এসের সাংস্কৃতিক শক্তি, তাদের অন্তরে তীব্র বাহ্মন্যবাদী অবশেষ। সেই কারণেই ঐ পরিসরে গতানুগতিক আন্দোলন চলুক কিন্তু এক্ষণে ঐ দিক থেকে মাত্রাতিরিক্ত দৃষ্টি সরিয়ে মধ্যবিত্ত উদারনীতিবাদী সাংস্কৃতিক শ্রেণীটিকে বিশেষভাবে সংগঠিত করা দরকার।

ছায়াপথ

স্বামী কেন আসামী । অসাধারণ পালা । সুযোগ জীবনে একবারই আসে । এখনও যারা টিক্যাট কাটেন নাই তাড়াতাড়ি আসেন ।আগামী চৌঠা মাঘ । রাত্রি দশ ঘটিকায় । কলীবাড়ির মাঠে । শীঘ্র শীঘ্র আসেন । মঞ্জুরী অপেরার নবতম যাত্রাপালা । কলকাতার সাড়া জাগানো যাত্রা । সারারাত্রি ব্যাপী…..।

প্রতিবাদের কণ্ঠরুদ্ধ করাই লক্ষ্য

'নিন্দারে করিব ধ্বংস কণ্ঠরুদ্ধ করি। নিস্তব্ধ করিয়া দিব মুখরা নগরী স্পর্ধিত রসনা তার দৃঢ়বলে চাপি মোর পাদপীঠতলে।... রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গান্ধারীর আবেদন'এ এই দম্ভোক্তি করেছিল দুর্যোধন। শুনিয়েছিল পিতা ধৃতরাষ্ট্রকে। কিন্তু প্রজাদের কণ্ঠরুদ্ধ করেও শেষরক্ষা করতে পারেনি দুর্যোধন। এমনকী, মামা শকুনি, সখা কর্ণ ও ভাই দুঃশাসনকে নিয়েও পারেনি। মোদী কি পারবেন, সমস্ত শব্দকে স্তব্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ বন্ধ করতে?

কর্পোরেটিয় অ-শোকদম্ভ

এই নব্য-ভারতে অ-শোকীয় কর্পোরেট দম্ভে আবহমানকাল ভারতবর্ষ যে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পতত্ত্ব প্রয়োগ করে বিশালতম থেকে ক্ষুদ্রতম শিল্পকর্ম স্থাপন করেছে, আধুনিক কর্পোরেট যুগে সেই শিল্পতত্ত্বের বিসর্জনের বাজনা বেজে উঠেছে। নোট-বাতিল প্রকল্পে তিনি চাষী-কারিগর-হকারদের বাজার খেয়েছেন, মুড়ি বা টক দই বা কারিগরির ওপর জিএসটি প্রয়োগ করে প্রাতিষ্ঠানিক কর্পোরেট উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরের অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যমীদের যতটুকু শক্ত মাজা ছিল তাকেও ভেঙে দেওয়ার উদ্যম নিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় লাভ হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির অভয়হস্ত মাথায় থাকা ডিজিটাল যুগের কর্পোরেটের। দাঁত-মুখ-খিঁচিয়ে থাকা নতুন চার-সিংহ নরেন্দ্র মোদির যুগেরই যোগ্য প্রতীক।

উড়ুক উড়ুক তারা

ধপ্ করে শামুকের বস্তাটা কোমর থেকে নামিয়ে রেখে নিজেও সেই ভাবে বসে পড়ল পলাশী। কোমর যেন যন্ত্রণায় ছিঁড়ে পড়তে চায় --- টনটন করে! কম দূরত্ব নাকি বল্লির বিল ? শামুক ধরে বস্তা কোমরে তোলার পর হাঁটো আর হাঁটো, যতক্ষণ না কোমর ছিঁড়ে পড়ছে, যন্ত্রণায় টনটন করছে ততক্ষণ রেহাই নেই!

মেয়েদের মিশন: দ্বিতীয় শ্রেণির অনধিকারচর্চা

স্বামী বিবেকানন্দ ব্রহ্মচারিণীগণের জন্য মঠ প্রতিষ্ঠার সঙ্কল্প করিয়াছিলেন, ঐ সঙ্কল্পকে ভিত্তি করিয়াই নিবেদিতা এই বিদ্যালয়ের স্থাপনা করিয়াছিলেন। এই বিদ্যালয়ের কার্য্যেই নিবেদিতা তাঁহার জীবন উৎসর্গ করিয়াছিলেন, এবং এই বিদ্যালয়ের কার্য্যেই তাঁহার জীবনদানও করিয়া গিয়াছেন। বোসপাড়ার একটী ছোট গলি, তাহার ভিতর একটী ক্ষুদ্র বিদ্যালয় এবং নিবেদিতার ন্যায় অসাধারণ প্রতিভাশালিনী একান্ত নিষ্ঠাব্রতাবলম্বিনী রমণী, যাঁহার পক্ষে পৃথিবীতে কোন কার্য্যে সফল হওয়াই অসম্ভব ছিল না,—নিবেদিতা তাঁহার সমস্ত জীবন ঐ ক্ষুদ্র বিদ্যালয়ের জন্য দান করিয়া গিয়াছেন।

সেন্ট্রাল ভিস্তার নতুন সিংহ কি নরখাদক ?

স্বাধীন ভারতের জাতীয় প্রতীক, যা প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন এক ভাস্কর্য থেকে গৃহীত, তাতে তো সব নাগরিকের উত্তরাধিকার। আশ্চর্য প্রাচীন আর সর্বসমন্বয়ী এই দেশের তা অহংকারও বটে, তাকে বিকৃত করে একেবারে পার্লামেন্টের মাথায় বসানোর অধিকার কারোরই থাকতে পারে না। শুরু হয়েছে এই জাতীয় প্রতীক নিয়ে বিতর্ক।

প্লাস্টিক সভ্যতা

এই তৈলকে ভাঙ্গিয়া চুরিয়া ইহা হইতে এক মহান অজেয় অমর বস্তু বানাইবে মনুষ্যকুল, যাহা প্রকৃতিতে কোনওদিন ছিল না। convenience-এর ইহাই চূড়ান্ত ধাপ - তাহাকে বলিবে প্লাস্টিক। এই প্লাস্টিক যদিও হঠাৎ করিয়াই আবিস্কৃত হইবে বিংশ শতকের শুরুতে – কিন্তু তাহার গুনাবলী দেখি মানুষ চমৎকৃত হইবে। এই প্লাস্টিক মাটির তলায় পুঁতিলে ক্ষয় হয়না – টুকরো টুকরো হইয়া সর্বত্র এমনভাবে মিশিয়া যায় যে আমারও ক্ষমতা নাই সেই সব জায়গায় পৌঁছাইবার – শরীরের স্নেহ পদার্থে, মাতৃদুগ্ধে – প্লাস্টিক কোথায় থাকিবে না! প্লাস্টিক সস্তা, নরম অথচ শক্ত, ক্ষীণকায় অথচ বৃহদাকার। কিভাবে প্লাস্টিক আমাদের ক্ষতি করিবে, সেই সংক্রান্ত একটি আলোচনা

আরও পুরানো লেখাগুলি

ট্রানজিস্টর

কিছু মানুষের মস্তিষ্কে গুজব আর ভুল বোঝাবুঝি, অজ্ঞানতা আর লাগামছাড়া আবেগ অবিচ্ছেদ্য অঙ্গের মত বিদ্যমান। শরীরে প্রতিটা বুলেট গেঁথে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল বিপ্লবের প্রতি আনুগত্যের এক একটি স্মৃতি ......... স্বাধীনতার স্লোগানের জবাবে ছুঁড়ে দেওয়া মুষ্টিবদ্ধ হাত ...... গলার শির ফুলিয়ে বলা ‘আজাদী’ ......

মুনাফা, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য জনস্বাস্থ্যের জরুরী অবস্থা মানে, পুলিশি ব্যবস্থা

সাম্প্রতিক অতিমারী নিয়ে পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মারাত্মক আতঙ্কিত প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার, নৈতিকতা অনেক বেশি লঙ্ঘিত হওয়া সত্ত্বেও জনসাধারণের আক্রোশ কিন্তু নজরে পড়ল না। শুরু থেকেই কোভিড-১৯এর অতিমারীতে অতিনির্মম স্বাস্থ্য নীতি গ্রহণ করা হল, যা কিনা সেই আদিম যুগের থেকেও কঠিন, ভয়ঙ্কর।

আখ্যান

মুনাফা, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য জনস্বাস্থ্যের জরুরী অবস্থা মানে, পুলিশি ব্যবস্থা

সাম্প্রতিক অতিমারী নিয়ে পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মারাত্মক আতঙ্কিত প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার, নৈতিকতা অনেক বেশি লঙ্ঘিত হওয়া সত্ত্বেও জনসাধারণের আক্রোশ কিন্তু নজরে পড়ল না। শুরু থেকেই কোভিড-১৯এর অতিমারীতে অতিনির্মম স্বাস্থ্য নীতি গ্রহণ করা হল, যা কিনা সেই আদিম যুগের থেকেও কঠিন, ভয়ঙ্কর।

ট্রানজিস্টর

কিছু মানুষের মস্তিষ্কে গুজব আর ভুল বোঝাবুঝি, অজ্ঞানতা আর লাগামছাড়া আবেগ অবিচ্ছেদ্য অঙ্গের মত বিদ্যমান। শরীরে প্রতিটা বুলেট গেঁথে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল বিপ্লবের প্রতি আনুগত্যের এক একটি স্মৃতি ......... স্বাধীনতার স্লোগানের জবাবে ছুঁড়ে দেওয়া মুষ্টিবদ্ধ হাত ...... গলার শির ফুলিয়ে বলা ‘আজাদী’ ......

“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?”

বিজেপি-বিরোধী দলগুলো আজ পথহারা পথিক। তা না হলে এরা কংগ্রেসকে পায়ের তলায় রাখতে চাইছে কেন? এখন কি এর উপযুক্ত সময়! তৃণমূল কংগ্রেসের ডিক্টেটর ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কংগ্রেসকে দাবিয়ে রাখতে চায়। বিজেপি-বিরোধী ব্যাপক ঐক্য গড়া যে সহজ নয়, তার প্রমাণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের দ্রৌপদী মুর্মুকে সমর্থন।

রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, এক উপেক্ষিত নায়কের গল্প

কেউ কি মনে রেখেছে মহেঞ্জোদারো আবিষ্কারকের কথা। ছোটবেলায় পড়েছে সবাই রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় আবিষ্কার করেছিলেন মহেঞ্জোদারো। কিন্তু তাঁর জন্মদিন, তাঁর জীবন এসব নিয়ে চিন্তিত নয় বাংলার সমাজ। গত ১২ এপ্রিল তাঁর ১৩৭ তম জন্মদিন চলে গেল নি:শব্দে। আধুনিক ইতিহাস চর্চার অন্যতম নক্ষত্র প্রাচীন লিপি ও মুদ্রার একজন জহুরিও ছিলেন তিনি। তিনি প্রয়াত হয়েছেন আজ থেকে ৯২ বছর আগে ২৩ মে। মাত্র ৪৫ বছরের জীবনকালে ইতিহাসচর্চায় ছাপ রেখে গেছেন এই কৃতি বাঙালী।

ফ্যাসিবাদী ভারতে স্বাগত

বৃত্ত ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে; এখন যে কোনও দিন, যে কোনও সময়ে, যে কোনও স্থানে, বিনা কারণে অথবা মামুলি কারণে প্রতিবাদী মানুষ গ্রেপ্তার হতে পারেন এবং তাঁকে অজানা স্থানে চালান করা হতে পারে। সমাজকর্মী তিস্তা সীতলাবাদ এবং ভুয়ো খবরের পর্দা ফাঁস করার অন্যতম মুখ মহম্মদ জুবেইরের গ্রেপ্তারি তাই প্রমাণ করে। প্রতিবাদের পরিসর ক্রমশ ছোটো হয়ে আসছে, প্রতিবাদীদের হাজতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ঘুরে এখন দাঁড়াতেই হবে কারণ আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

চটাদার পরামর্শ

চটাদা এযুগের একজন লোকাল জিনিয়াস। জানেন না, এমন জিনিস দুনিয়ায় খুব কম। প্রশ্ন থেকে উত্তরে যেতে ওনার সময় এত কম লাগে যে অনেক সময় সন্দেহ হয়, উনি কি আন্দাজে জানতেন কী জিগ্যেস করব। কিন্তু একটা জিনিস আগে থেকে ভেবে রাখতে হয়। চটাদা ভুল প্রশ্ন খুব অপছন্দ করেন। যা হোক কিছু জিগ্যেস করলেই হবে না। জ্ঞাতব্যটা ঠিকঠাক হওয়া চাই। নইলে চা সিঙ্গারা বিনিয়োগ ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।