পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

পুরানো লেখাগুলি

সকলি কৃত্রিম নহে

গৃহিনীরই মনে করিয়ে দেবার কথা, প্রত্যেকবারই সেই পুরনো কৌশলে মনে করিয়ে দেন। কৌশলটা এরকম, " সামনের মাসের ২৬ তারিখ সন্ধ্যেবেলাতেও কি তুমি এরকম আড্ডা দিতে বেরিয়ে যাবে? " বহুকাল আগে বোকার মতন প্রশ্ন কিরে ফেলেছিলাম, " কেন বলো তো? ওই দিন বাড়িতে কোনো কাজ আছে নাকি?" ঝাঁঝালো জবাব এসেছিল, " ওই তারিখটাতেই আমার বাবা আমার হাত -পা বেঁধে আমাকে জলে ফেলে দিয়েছিল! হুঁ! রসকষহীন মানুষ একটা! " হাতপা বেঁধে জলে ফেলে দেওয়া প্রবচনটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মনে পড়ে গেসল ছাব্বিশ তারিখটির বিশেষত্বটি কি! তবে এবারে আর গৃহিনীকে মনে পড়াতে হয় নি আমাদের পুত্রটির কারণে।

ফরাসী জনতার রায় - পশ্চিমে সূর্যোদয়

প্যারি কমিউন দুনিয়াকে দিয়েছিল সর্বহারার আন্তর্জাতিক সংগীত - ল্য ইন্টারন্যাশনালি। বিতাড়িত কমিউনার্ড ইউজিন পতিয়ের লন্ডনে বসে লিখেছিলেন 'লা ইন্টারন্যাশনালি'। উচ্ছ্বসিত ফরাসী জনতার সোচ্চার সমবেত কন্ঠে আজ আবার লা ইন্টারন্যাশনালি। জ্যঁ-লুক মেঁলশঁ প্যারিসের রাস্তায় সমবেত জনতার মাঝে মঞ্চে উঠছেন জনতাকে অভিবাদন জানাতে, লাখো লাখো জনতা সেখানে।

আত্মপরিচয়ের সংকট

আজ পশ্চিমবাংলার মানুষ বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে তৃণমূলকেই বিশ্বাসযোগ্য দল বলে মনে করছে। যদি বাম শক্তি জিএসটির প্রশ্নে বিজেপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচার আন্দোলন চালাত, যদি নোট বন্দি- রাফায়েল চুক্তি- তিন কৃষি আইন- এনআরসি- অন্যায় ভাবে গণ কন্ঠকে কারাগারে পাঠানো- এনআইএ ইডি- সিবিআই এর বাড়াবাড়ি ও ব্যবহার এগুলো নিয়ে লড়াই করলে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে বামেদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়তো। পরিবর্তে বামেরা এসবই তৃণমূল কে এই রাজ্যে দুর্বল করবে ধরে নিয়ে দূর থেকে মজা দেখেছে।

বিজেপি বনাম আরএসএসঃ রাগ-অভিমান না নাটক

বাজারে জোর খবর বিজেপির নির্বাচনী রথ ২৪০ আসনে আটকে যাওয়ায় আরএসএস বেজায় ক্ষুব্ধ। অনেকে বলছেন দল যদি ৩০০ আসন পেত তাহলে নাগপুরের গুরুরা বিশ্বগুরুর একাধিপত্য মাথা পেতে মেনে নিতেন। অনেকে বলছেন বিজেপি বিপাকে পড়লে সংঘ খুশিই হয় কারণ তখন তাঁদের গুরুত্বটা প্রতীয়মান হয়ে ওঠে। কিন্তু সত্যিটা কী? বিজেপি এবং আরএসএসের মধ্যে কি দূরত্ব বাড়ছে?

খেয়াঘাট

এই গ্রামের বাইরে বড় একটা যায়নি হাবুল মাঝি। নৌকা নিয়ে ব্রাহ্মণী নদীর তীরের শিবরাত্রির মেলায় যাওয়া ছাড়া। দু একবার অবশ্য নবদ্বীপ গেছে পার্বণে। এই তার পৃথিবী। কলকাতার নাম শুনেছে, টিভিতেও দেখেছে, লোকে লোকারণ্য, যেন বারমাস মেলা লেগে আছে। অবশ্য কলকাতার গঙ্গা নদী দেখার একটা সাধ আছে, কিন্তু সাধ্য কোথায়? এই বই নদীর উপরেই খেয়া পারাপার করছে তার তিন গুষ্টি, এ নদীও তো ব্রাহ্মণী হয়ে গঙ্গা বেয়ে বৈতরণীর ঘাটেই ঠেকেছে। জল স্পর্শ করে মাথায় ঠেকায় মাঝি।

হকার সরাতে বুলডোজার?: অপারেশন সানশাইন ২.০!!

অপারেশন সানশাইন বিরোধী আন্দোলনের কালজয়ী নেতৃত্বও আজকের এই উচ্ছেদ নিয়ে নিঃশর্ত ভাবে হকারদের পাশে নেই। কেন? দাবার চালে অন্য খেলায় কি মগ্ন তাঁরা? অপারেশন সানশাইনের সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া বুলু পোদ্দারের কথা কি তাঁরা ভুলে গেছেন? তাঁরা কি ভুলে গেছেন লকডাউনের সময় কীভাবে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন এই শহরেরই তিন হকার।

উন্নয়ন সবার জন্য হলে, হকার উচ্ছেদ তবে কার জন্য?

হকার উচ্ছেদের বা নিয়ন্ত্রণের পেছনে যে যুক্তি সেটি বৈধতার যুক্তি ও নাগরিক নিয়মের যুক্তি। পথ তো পথচারীদের জন্য সেখানে কেউ জিনিষ বিক্রি করবেন কেন? কথাটা মোটেই ফেলে দেওয়ার মত নয়। সত্যিই তো পথ জোড়া ডালা নিয়ে বসলে পথিকদের হাটতে অসুবিধা হওয়ারই তো কথা। এর পরের যুক্তি সৌন্দর্যায়নের, হকারি অসুন্দর। যেমন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সুন্দর নিউ টাউনে হকারদের ঝুপড়ি দেখতে মোটে ভালো লাগে না। এই দুই যুক্তির সাথে আসলে মিলে মিশে আছে বৈধতার যুক্তি। কেন কেউ অনুমতি ছাড়া কোনও জায়গায় ডালা নিয়ে বসেই যাবেন? সেটা তো অবৈধ।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্গঠন করবেন নরেন্দ্র মোদি?

আজকাল নরেন্দ্র মোদিরা এমন হাবভাব করছেন যে মনে হচ্ছে বুঝিবা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় নতুনভাবে গড়ে তোলাটা বিজেপির পরিকল্পনা। কিন্তু আসলে সে পরিকল্পনা পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের। ২০০৭-এ অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়া শীর্ষ বৈঠকে ভারতের বিহার রাজ্যে প্রাচীন নালন্দা মহাবিহারের কাছেই নালন্দার নামে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা আলোচনা হয়। দক্ষিণ এশিয় দেশগুলি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০২৪ সালে একটা ভবন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলমান খেলতে শুরু করে দিলেন। ভাষণ দিলেন নালন্দা গৌরব তারা ফিরিয়ে আনবেন।

আরও পুরানো লেখাগুলি

NEET-NET-NTA ঃ মুমূর্ষু শিক্ষাব্যবস্থা

৩২ বছর আগেই এক-দেশ-এক-পরীক্ষার ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বহু বছর ঠাণ্ডা ঘরে থাকার পর ২০১০ এবং ২০১৩ সালে দুটি কমিটি এনটিএ বাস্তবায়িত করার নীল নকশা তৈরি করে জমা দেয় সরকারের কাছে। ২০১৭ সালের বাজেট ভাষণে এই সংস্থা তৈরির ঘোষণা হয়। সেই কারণেই কি বিরোধী কংগ্রেস এই এনটিএ এবং কেন্দ্রীভূত এক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ভাঙার কথা বলতে এতো দ্বিধান্বিত?

ভৈরবী

ভট্টপাড়ার ভৈরবপাড়ের চন্দ্রিমা গাছে উঠে পেয়ারা পাড়ে। জলকাদা মাঠে ছেলেদের সঙ্গে খেলে। খড়ি কেটে জ্বালানি তৈরি করে। ভৈররের তীরের লকলকে নরম ঘাস কেটে আনে বুড়ি গাভীর জন্য। ভাগলপুরী এই গাইটি এককালে তার বাবা বড়-বাড়ির যজমানের গৃহপ্রবেশের সময় দানে পেয়েছিল।

আখ্যান

ভৈরবী

ভট্টপাড়ার ভৈরবপাড়ের চন্দ্রিমা গাছে উঠে পেয়ারা পাড়ে। জলকাদা মাঠে ছেলেদের সঙ্গে খেলে। খড়ি কেটে জ্বালানি তৈরি করে। ভৈররের তীরের লকলকে নরম ঘাস কেটে আনে বুড়ি গাভীর জন্য। ভাগলপুরী এই গাইটি এককালে তার বাবা বড়-বাড়ির যজমানের গৃহপ্রবেশের সময় দানে পেয়েছিল।

NEET-NET-NTA ঃ মুমূর্ষু শিক্ষাব্যবস্থা

৩২ বছর আগেই এক-দেশ-এক-পরীক্ষার ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বহু বছর ঠাণ্ডা ঘরে থাকার পর ২০১০ এবং ২০১৩ সালে দুটি কমিটি এনটিএ বাস্তবায়িত করার নীল নকশা তৈরি করে জমা দেয় সরকারের কাছে। ২০১৭ সালের বাজেট ভাষণে এই সংস্থা তৈরির ঘোষণা হয়। সেই কারণেই কি বিরোধী কংগ্রেস এই এনটিএ এবং কেন্দ্রীভূত এক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ভাঙার কথা বলতে এতো দ্বিধান্বিত?

জোট বাঁধ... তৈরি হও...

দেবাশিস আইচ। বাচ্চুদা। সারা জীবন শুধু লড়েই গেল। সেই স্কটিশ চার্চ কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় থেকেই দেখছি। সিঙ্গল পয়েন্ট এজেন্ডা। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে লড়াই। গণতন্ত্র চাই। সবার কথা বলার অধিকার চাই। ৩৮ বছর বাদেও কিছু বললেই তুমি বলতে, ছাড়াতো। আমি আছি। লড়ে যাবো।

ইন্ডিয়া জোটের কাছে আমাদের প্রত্যাশা

অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে, আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, তবে এবার তাঁর ক্ষমতা কিছুটা হলেও কমেছে। তবে বিরোধীরাও কিঞ্চিৎ শক্তি বাড়িয়েছে। এবার এই নতুন সরকারকে কীভাবে চাপে রাখা সম্ভব, তা নিয়ে একটু কথা বলার প্রয়োজন। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে, সংসদের নতুন অধিবেশন, তার আগে এই কথাগুলো হয়তো প্রাসঙ্গিক হলেও হতে পারে।

ভোকাট্টা

বাংলা নতুন বছর আসার আগেই মান্তু খাটে উঠে দু-পা উঁচু করে ক্যালেন্ডারের পাতা উলটে দেখে নেয়। এপ্রিল মাসের চোদ্দ কি পনেরো তারিখ হয় পয়লা বৈশাখ। ঐদিন সকাল সকাল বাথরুমে বাবার রাখা মলয় চন্দন সাবান দিয়ে চান করে ওরা সবাই। এরপর পরই মা তাড়া দেয় মামাবাড়ি যাবার জন্য। মামাবাড়িতে এইদিন ভোজ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় মুসলিম মুখ নেই অর্থাৎ মুখোশ নেই

বিজেপি একক গরিষ্ঠতার বুড়ি ছুঁতে না পারায় ও ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত দুই দলের সমর্থন বিনা ‘ফির বার মোদি সরকার’ হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিজেপির নেতৃত্বে সরকার হলেও এবার বুঝি সমঝে চলবে। মোদি সরকার গঠনে ঐ দুই দল মুখ্য সহায় হল বটে, কিন্তু ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী’ প্রবাদ বচনে তুড়ি মেরে বিজেপি নিজের লাইনেই কদম বাড়াল। ৭৩ জনের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় একজনও মুসলিম মুখের ঠাঁই হল না। ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল।