পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

পুরানো লেখাগুলি

অন্ধকারের অলিন্দে ন্যায়বিচার

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। হিমাচল প্রদেশের প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর তাঁর সুপ্রিম কোর্টে আসার গতি ছিল বিস্ময়কর। সিনিয়রিটির লম্বা তালিকা থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে এত দ্রুত সর্বোচ্চ আদালতে টেনে আনা হলো? এই দ্রুত উত্তরণ প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ মহলের কাছে তাঁর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম এবং তারা তাঁকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসাতে মরিয়া ছিল।

আমি ইতিহাস আমাকে স্মরণ রেখো

একটু ইতিহাস স্মরণে রাখলে অমিত শাহ ও মোদিজি দেখতে পেতেন সুলতানি থেকে মুঘল যুগ পর্যন্ত কোন শক্তি বাংলাকে কখনো দিল্লির প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে আনতে পারেনি। এনে থাকলেও সেটা খুবই সাময়িক। এমনকি গুপ্ত রাজারা মূলত উত্তর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করলেও, গুপ্ত দের সামন্ত নরেন্দ্র গুপ্ত বা নরেন্দ্রাদিত্য, যিনি শশাঙ্ক নামে পরিচিত। তার হাতে স্বাধীন গৌড়ের প্রতিষ্ঠা হয়। বাংলা কনৌজের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়।

বোবা টানেল

রান্নার গ্যাস পাওয়া যাক বা না-যাক, কলিকাতা কলিকাতাই … সঙ্গে কুয়াশা ঘেরা হাইরাইজের একটা ছবি জুড়ে দিয়েছে। জানে ও, কী পোস্ট অনুগামীরা পছন্দ করবেন।ইন্সটাগ্রামে এরই মধ্যে এত ফলোয়ার! সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া করে চলেছে। কি যে আনন্দ পায় এতে কে জানে ! পাগলী একটা !

অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন ১

সংসারের মাঝপথে হঠাৎ ছন্দপতন। পেঁপে আর পেপসি নিয়ে গন্ডগোলের সূত্রপাত। জ্যৈষ্ঠ মাসের মঙ্গলবার। গনগনে রোদে কার গাছ থেকে কে জানে, এক বস্তা পেঁপে পেড়ে বস্তাবন্দি করে কাঁধে নিয়ে ঘরে আসে লখাই। বস্তাটা ঘরের মেঝেতে ধপাস করে নামিয়ে আদরিনীকে ডাকে।

হৃৎপিণ্ডে আঘাত না করে নাক কান কাটলে রাক্ষস মরবে?

মনে পড়ে যাচ্ছে, কলকাতা ১৯৬৫-৬৬’র কথা। খাদ্যের জন্য আন্দোলন; আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলি--বসিরহাট, বারাসাত, কৃষ্ণনগর। খাদ্য চাই, সেই চাওয়া আদায় করে নেবে আন্দোলনকারীরা, এমনই প্রতিজ্ঞা! ৪৫ জন শহীদ। আন্দোলনের এই প্রসার, জনতার এই রুদ্ররোষ কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দলগুলির কল্পনার বাইরে, এবং এই আন্দোলনকে সহমর্মিতা দেখিয়েই তাদের ক্ষমতায় আসা!

সব কিছু মনে রাখা হবে

মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাঁটা অধিকাংশই কথায় কথায় বিশ্বাস করাবে মুসলমানরা আর বাঙালি এক নয়। মুসলমানরা বাঙালি নয়। ইসলামোফোবিয়া এদে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। না, এখানেই শেষ নয়। আসামে এনআরসি নিয়ে ১৯ লক্ষ বাঙালিকে বাস্তুহীন করা বিশ্বগুরু এদের কাছে ফ্যাসিস্ট নয়। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভদ্রবিত্ত বাঙালিকে অধিকাংশ বাসে, ট্রেনে, অফিসে বিদ্বেষ ছড়াতে দেখেছি। সুতরাং একদিন মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিদ্বেষ কমে কি?

কেন্দ্রের বঞ্চনা : বাংলা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পিএম স্কুল ফর রাইসিং ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে পিএমশ্রি) বলে একটি প্রকল্প চালু করে। সেই প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি ব্লকে একটি করে মডেল স্কুল চালু করতে হবে যার মাধ্যমে নতুন শিক্ষা নীতির প্রচলন করা হবে। তিনটি রাজ্য পিএমশ্রির জন্য মৌ সাক্ষর করতে অস্বীকৃত হয় – কেরালা, তামিলনাডু এবং পশ্চিমবঙ্গ। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্র এই তিনটি রাজ্যের প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকা আটকে দেয়।

আম্বেদকরের ভারত-ভাবনা ও জনতার ভোটাধিকার

আজ বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিন। আজ আমরা আবার সেই একই দৃশ্য দেখতে পাব। আম্বেদকরের পতাকার পদদলনকারীদের আম্বেদকরের স্মৃতিতে সমবেত রুদালী। ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সময়, যেখানে তিনি খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, সেখানে তিনি সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে স্বাধীনতার পরপরই ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যেখানে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা সম্পত্তির ভিত্তিতে ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ করা হয়নি।

আরও পুরানো লেখাগুলি

মসজিদকে রাজনৈতিক গুটি বানানো, মুসলমান মানুষজনই প্রত্যাখান করছে

মসজিদ হল ‘আল্লাহর ঘর’—বিশুদ্ধতা ও ঐক্যের পবিত্র প্রতীক। নির্বাচনী লাভের জন্য এ ধরনের গভীর ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানো শুধু অনৈতিকই নয়, বিশ্বাসের মূল মূল্যবোধের সরাসরি বিরোধীও”। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, "যখন ক্ষমতার তাড়নায় কোনো উপাসনালয়কে 'তুরুপের তাস'-এ পরিণত করা হয়, তখন এ ধরনের রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।" যতই প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্যরা বলার চেষ্টা করুক, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই, মানুষ বিশ্বাস করছে না।

বৃষ্টি, তোমার জন্য

আজ ভোর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঝমঝম শব্দ করে বৃষ্টি পড়ছে। তার সঙ্গে হাওয়ার গোঙানি। খোলা জানলা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা স্বচ্ছন্দে ঘরে ঢুকে, ঘরের মেঝে তার সঙ্গে বিছানার অল্প একটু অংশ ভিজিয়ে দিয়েছে। জানলা বন্ধ করতে গিয়ে বাইরের দিকে চেয়ে চমকে উঠলাম।

আখ্যান

বৃষ্টি, তোমার জন্য

আজ ভোর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঝমঝম শব্দ করে বৃষ্টি পড়ছে। তার সঙ্গে হাওয়ার গোঙানি। খোলা জানলা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা স্বচ্ছন্দে ঘরে ঢুকে, ঘরের মেঝে তার সঙ্গে বিছানার অল্প একটু অংশ ভিজিয়ে দিয়েছে। জানলা বন্ধ করতে গিয়ে বাইরের দিকে চেয়ে চমকে উঠলাম।

মসজিদকে রাজনৈতিক গুটি বানানো, মুসলমান মানুষজনই প্রত্যাখান করছে

মসজিদ হল ‘আল্লাহর ঘর’—বিশুদ্ধতা ও ঐক্যের পবিত্র প্রতীক। নির্বাচনী লাভের জন্য এ ধরনের গভীর ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানো শুধু অনৈতিকই নয়, বিশ্বাসের মূল মূল্যবোধের সরাসরি বিরোধীও”। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, "যখন ক্ষমতার তাড়নায় কোনো উপাসনালয়কে 'তুরুপের তাস'-এ পরিণত করা হয়, তখন এ ধরনের রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।" যতই প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্যরা বলার চেষ্টা করুক, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই, মানুষ বিশ্বাস করছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা ‘দ্বিচারিতা’: এন্তোনিও কস্তা'র আহ্বান ও একপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার সমীকরণ

ইরানের চারপাশ ঘিরে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়, এটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ভাবনায় একটি অস্তিত্বগত সংকট তৈরি করে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন বা আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যখন হাজার হাজার মার্কিন সেনা, অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং বিশাল নৌবহর অবস্থান করে, তখন ইরানের জন্য এটি একটি ‘ভার্চুয়াল অবরোধ’ হিসেবে কাজ করে।

জলশূন্য ডিজিটাল

ইন্টারনেটকে বলা হয় মেঘ। মেঘের রাজ্য। ভার্চুয়াল দুনিয়া। এই মেঘের কোনো দেশ নেই, কোনো সীমানা নেই, কোনো ধর্ম নেই, কোনো বর্ণ নেই। এই মেঘ শুধুই শুভ্র, শুধুই সুন্দর, শুধুই অনন্ত। এই মিথ আমাদের বলা হয়েছে বারবার। টেক কোম্পানিগুলো এই মিথ তৈরি করেছে। সরকার এই মিথ পুষেছে। আমরা এই মিথ কিনেছি।

এসআইআর একটি হিন্দুত্ব প্রকল্প যেখানে মেয়েদের ঠাঁই নেই

গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব যদি হয় প্রতিনিধি নির্বাচন তাহলে ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার যা কিছুটা হলেও ভারতভাগ্যবিধাতার নির্ণায়ক ভূমিকা এনে দেয়। আজ আমরা লক্ষ্য করছি এস আই আরের নাম করে এই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে মেয়েদের থেকে।

মহিলাদের নাম বাদের উদ্দেশ্য কী?

লক্ষ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে হওয়া এই অপরিলক্ষিত নির্বাচনের ঢক্কানিনাদের মধ্যে ভেসে আসছে “মেয়েদের উন্নয়ন”, “নিরাপত্তা”, “সম্মান”-এর মত শব্দগুলি। বিগত নির্বাচনগুলিতে সরকার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মেয়েরা নির্ণায়ক শক্তি হয়ে এসেছেন। কিন্তু এস আই আর-এর কোপে গত ১০ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ভোটারদের সংখ্যা সবচেয়ে কমে গেছে।