পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

মাতৃভাষা

বন্ধুর মা নাম জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম 'রাকেশ'। তারপর এটা ওটা খেতে দিলেন।অনেক যত্ন সহকারে ভালোবেসে খাইয়ে,গল্প শুরু করলেন। সেদিনের অনেক জমজমাটি আড্ডা। শেষের দিকে বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলেন। বাবার নাম জিজ্ঞেস করলেন। বাবার নাম যখন শুনলেন নুরুল ইসলাম। তারপর উদ্ভুত একটা কথা বেরিয়ে আসলো "ওহ,তোমরা মুসলমান? আমি রাকেশ নাম শুনে ভেবেছিলাম বাঙালি। "

চূড়ান্ত আদর্শ-নৈতিকতাহীন রাজনীতিতে বিরোধীজোট শাসককে চ্যালেঞ্জ করার অবস্থায় নেই

রামমন্দিরের ধর্মীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সংসদীয় নির্বাচনের দৌড়ে, সবচেয়ে বড় প্রশ্নটাই হলো বহু চর্চিত বিরোধী ঐক্য সম্ভব কিনা ! পুরস্কার অথবা কারাবাস, বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে এটাই যখন 'নিউ নর্ম্যাল' এক দেশ, এক দল, এক নেতা তত্ব কে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে, তখন বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে এই ভাবনা অবান্তর নয় কি ? যদিও দেশটাকে শাসকদলের শীর্ষ থেকে তৃণমূল স্তরের নেতা পর্যন্ত গণতন্ত্রের মাতৃভূমি হিসেবে প্রচার করে থাকেন। সেই গণতন্ত্রের নিউ নর্ম্যালে নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে বিরোধীদের।

কন্ঠ তোমার রুদ্ধ আজিকে লেখনী শিকলপরা

ফরাসি সাংবাদিক ভ্যানেসা ডোনাক-কে বিদ্বেষপ্রসূত সংবাদ পরিবেশনের অপরাধে বলপূর্বক ভারত থেকে বহিষ্কার করা হল। এমনিতেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিরিখে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৬১তম। এই ঘটনায় তথাকথিত সেই স্বাধীনতা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠেছে।

তৃতীয় প্রকৃতি

—হেয়ার ম্যাসেজ নেবে, দিদি? —দিলে তো খুব ভাল হয় রে। চুলের যা অবস্থা। চুলের গুছি ভাগকরে গোড়ায় গোড়ায় তেল দিয়ে নিপুণভাবে হাত চালাতে শুরু করে কোয়েল। আরামে মধুর চোখ বুজে আসে। মুখ ফস্কে প্রশ্ন করে ফেলে, এতদিন আসিসনি কেন রে, কোয়েল?

পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি - ঘুড়িগুলোই লড়াইয়ের নতুন হাতিয়ার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে লণ্ডনের নাগরিকরা জার্মান বোমারু বিমানের লাগাতার হামলার বিরুদ্ধে আকাশে উড়িয়ে দিতেন শয়ে শয়ে বেলুন। ওই বেলুনের শক্ত সুতো বোমারু বিমানের প্রপেলারে জড়িয়ে গিয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করতো। এর কোন উত্তর জার্মান যুদ্ধবাজদের জানা ছিলনা। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সৃজনশীল জনতা বাঁচার অস্ত্র তৈরি করেন। আজকে কৃষকেরা ঘুড়ি উড়িয়ে ড্রোণকে অকেজো করে লড়াইয়ের নতুন পন্থা দেখাচ্ছেন।

বাধ্যতামূলক সরস্বতী বন্দনা - কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন

আজ সরস্বতী পুজো । পাড়ায় পাড়ায়, স্কুল কলেজে ছেলে মেয়েরা মেতে উঠছে এই পুজোয়। জটিল এই সময়ে দাঁড়িয়ে পুরোনো এক বিতর্ক মনে পড়ছে আর সরকারের বর্তমান ভূমিকায় আতঙ্কিত হচ্ছি। সময়টা ২০০১ সাল। বিজেপির নেতৃত্বে প্রথম এনডিএ সরকার দেশের ক্ষমতায়। একটা জিগির উঠলো - সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী বন্দনা বাধ্যতামূলক করা হবে। সেই বিতর্ককে আবার ফিরে দেখার চেষ্টা এই লেখায়।

বিজেপি আর এস এস এর বিপদ ভালোভাবে না বুঝলে তার মোকাবিলা অসম্ভব

প্রশ্ন তৃণমূলকে আক্রমণ করা নিয়ে নয়। প্রশ্ন বিজেপি আর এস এস এর বিপদকে তুলনামূলকভাবে বেশ খানিকটা ছোট করে দেখা ও দেখানোর। মূল রাজনৈতিক নিশানা এই মুহূর্তে কারা এবং কেন, সেটা স্থির করার। এই প্রশ্নে গোড়ায় গলদের ফলে সি পি আই (এম) প্রভাবিত জনগণের কাছে এই বার্তা যায় যে তৃণমূল কংগ্রেস দল ও সরকারই বামপন্থীদের এই মুহূর্তের মূল নিশানা এবং বামপন্থীদের মূল রাজনৈতিক কাজ হল যেন তেন প্রকারেণ তৃণমূলকে পরাস্ত করা ও তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটানো।

সফল প্রবঞ্চক হও, আশীর্বাদ রইল

যেদিন ওরা তোমায় নিয়ে গেল, সেই মুহূর্তে আমি তোমার পাশে উপস্থিত ছিলাম না। এখন তুমি যেখানে আছ, তা তোমার জন্য স্বর্গ হবে নাকি বধ্যভূমি, সেটার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তোমার উপর। তোমার জীবনের পরিণতি কোন দিকে যাবে, সে অনিশ্চয়তার কথা ভেবে মা হিসেবে আমার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত, কিন্তু, আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনচক্রে সন্তানের জন্য চিন্তা করার কোনও অবকাশ নেই।

আরও পুরানো লেখাগুলি

রাম, এক উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন রাজা

রাম কে? রাম হলেন একজন তৃপ্ত রাজা - তপস্বী রাজা, যিনি খাওয়ার পরিবর্তে খাওয়ান, তথাপিও তার সবসময় যথেষ্ট সম্পদ থাকে। রামায়ণ উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন একজন রাজার গল্প। কোনো আত্মতৃপ্ত বা অলস রাজা নয়, একজন সহানুভূতিশীল রাজা – অন্য মানুষের ক্ষুধার প্রতি সংবেদনশীল এক রাজা। আজকে যাঁরা রামের নামে জয়ধ্বনি করছে, তাঁরা কি এই গল্পগুলো জানে?

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৪: বাকসর্বস্বতার আড়াল পেরিয়ে

সব কা সাথ,সব কা বিকাশ' তখনই সম্ভব যখন গরীব মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এ কথা বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় বারংবার প্রমাণিত যে এ মুহূর্তে গ্রাম ভারতে গরীব মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল ' মহাত্মা গান্ধী ন্যাশানাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট' (MNREGA)। নরেন্দ্র মোদি একদা এই প্রকল্পকে ' গর্ত খোঁড়ার প্রকল্প ' বলে উপহাস করেছেন কিন্তু অতিমারী পর্বে গ্রাম ভারতকে একটা মাত্রা পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছিল এই প্রকল্প।

আখ্যান

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৪: বাকসর্বস্বতার আড়াল পেরিয়ে

সব কা সাথ,সব কা বিকাশ' তখনই সম্ভব যখন গরীব মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এ কথা বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় বারংবার প্রমাণিত যে এ মুহূর্তে গ্রাম ভারতে গরীব মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল ' মহাত্মা গান্ধী ন্যাশানাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট' (MNREGA)। নরেন্দ্র মোদি একদা এই প্রকল্পকে ' গর্ত খোঁড়ার প্রকল্প ' বলে উপহাস করেছেন কিন্তু অতিমারী পর্বে গ্রাম ভারতকে একটা মাত্রা পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছিল এই প্রকল্প।

রাম, এক উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন রাজা

রাম কে? রাম হলেন একজন তৃপ্ত রাজা - তপস্বী রাজা, যিনি খাওয়ার পরিবর্তে খাওয়ান, তথাপিও তার সবসময় যথেষ্ট সম্পদ থাকে। রামায়ণ উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন একজন রাজার গল্প। কোনো আত্মতৃপ্ত বা অলস রাজা নয়, একজন সহানুভূতিশীল রাজা – অন্য মানুষের ক্ষুধার প্রতি সংবেদনশীল এক রাজা। আজকে যাঁরা রামের নামে জয়ধ্বনি করছে, তাঁরা কি এই গল্পগুলো জানে?

উদ্বাস্তু

লাল টাই আর ধবধবে সাদা ইউনিফর্ম পরে তিন্নি দাদুর সামনে এসে দাঁড়াল । ‘দাদু ,এই দেখ আমার নতুন ড্রেস।’ এখন সকাল আটটা । তিন্নি এখানকার নামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে। এ বছর ক্লাস ফাইভে উঠল । প্রত্যেক বছর নতুন ক্লাসে উঠলেই তিন্নিকে দু সেট ইউনিফর্ম বানিয়ে দেওয়া হয়। পুরোনোগুলো ভালো থাকলেও বাতিল হয়ে যায় ।

নীতিশ কুমার তো জোকার, কিন্তু তার চারপাশে কারা?

যখন গত ১০ আগস্ট বিজেপি জোট ছেড়ে এই নীতিশ কুমারই বেরিয়ে এসে মহাগঠবন্ধনের সরকার তৈরি করেছিলেন, তখন আমরাও তো কোনও প্রশ্ন করিনি, আমরাও তো তখন মনে মনেই আনন্দিত হয়েছিলাম। আজ ঠিক উল্টোটা হবার পরে সেই আমরাই দুঃখিত, আমরাই পালটুরাম পালটুরাম বলে চিৎকার করছি সেই আমরাও তো তখনই জানতাম যে নীতিশ পালটুরাম।

একদিন মহাত্মা গান্ধী হেঁটেছিলেন, আজ রাহুল গান্ধী হাঁটছেন

একদিন আমরা দেখেছি, মহাত্মা গান্ধীকে হাঁটতে, আজ আর এক গান্ধী পথে আছেন। মানুষ তার সাথে জুড়েছেন। চক্রব্যূহ ভেদ করা বড় কঠিন। বিশেষ যখন জ্যেষ্ঠরা সাথে যেতে ভয় পায়। তখন তো একলাই চলা। অভিমন্যু ফেরার কৌশল জানতেন না। তবু ঢুকেছিলেন। বর্ষীয়ান গান্ধীচিন্তাবিদ কুমার প্রশান্ত যেমন বলেছেন, অন্তত রাহুল ঢুকেছেন।‌ সেটাই‌ সত্য।

গোবর্ধনের ব্যক্তিগত দু'চার কথা

আমার নাম গোবর্ধন। মা ডাকত খোকা। কিন্তু বন্ধুরা ডাকত গোবরা। বলত --- শালা, তোর মাথায় গোবর পোরা। মাথা নিয়ে আমার দুটো সমস্যা। শাকপোস্ত আর গোবর। শাকপোস্তে পরে আসছি, আগে গোবর।