পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh
ব্যঙ্গচিত্র

পুরানো লেখাগুলি

ইলিয়াস শাহী বংশ আর আদিনা মসজিদ বিতর্ক

ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের ছেলে সুলতান সিকান্দার শাহের (১৩৫৭-১৩৮০) আমলেই আদিনা মসজিদ তৈরি হয় আনুমানিক ১৩৭৫সালে। এ এস আইয়ের সুরক্ষায় থাকা মালদা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে পাণ্ডুয়ার সেই মসজিদের তলায় সংঘ পরিবার বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের কায়দা মতো ভেঙে দেওয়া আদিনাথ শিব মন্দিরের অবস্থিতির দাবি জানিয়ে আসছে। বিজেপি বাংলার তখতে বসার পর সেই ন্যারেটিভকে ঘিরে কর্ম তৎপরতা শুরু হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস কী বলে?

মুম্বাই, কিয়ারোস্তোমি ও কিছু ‘দিমাগি’ ছেলেমেয়ে

সাত-আট বছরের দুই বন্ধু, আহমদ এবং নেমাতজাদে, ক্লাসে পাশাপাশি বসে। দ্বিতীয়জনের হোমওয়ার্কের খাতা প্রথমজন ভুল করে বাড়ি নিয়ে য্যয়। স্কুলের শিক্ষক নেমাতজাদেকে জানিয়ে দিয়েছে পরের দিন খাতা জমা না দিতে পারলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। বাড়ি গিয়ে আহমদ যখন আবিষ্কার করে যে বন্ধুর খাতা তার ব্যাগে ঢুকে গেছে তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় যে ভাবেই হোক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে সেটা পৌঁছে দিতে হবে। আহমদ কি পারবে তার কাছে সে খাতা পৌঁছে দিতে?

আরশোলার গর্জনে ভয় পেয়েছে সরকার

বিজেপির মূল ভোটব্যাংক আসে যে গ্রামীণ ভারত ও হিন্দিবলয় থেকে, সেখানকার তরুণ প্রজন্মের এক বিরাট অংশ আজ চরম ক্ষুব্ধ। চিন্তিত না হলে, বিজেপির মতো দল—যারা সাধারণত আন্দোলনকারীদের সাথে সহসা আলোচনায় বসতে বিশ্বাসী নয়—তাদের নেতাদেরও পিছু হটে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হতে হতো না এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হতো না।

‘মূর্খের শাসন’ ও ‘দিমাগি নকশাল’ প্রসঙ্গে

আজ থেকে একশ আটাত্তর বছর আগে ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’র শুরুতেই মার্কস লিখেছিলেন : একটা ভূত সারা য়ুরোপকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, সেটা হচ্ছে কমিউনিজমের ভূত। আর এতবছর পরে এসেও আমাদের দেশের সরকারকে একটা ভূত অহর্নিশ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর সেটা হচ্ছে নকশাল তথা মাওবাদীদের ভূত।

বাঘবন্দী

অষ্টগ্রামের বামাচরণ আর কৃপাচরণ দুই ভাই। বাবা সাধুচরণ। লিভারের অসুখে ভুগে ভুগে মরার আগে সব জমি সে দিয়ে গেল বড় ছেলে, বামাচরণের হাতে।

প্রাচীন ভারতের রূপকল্পে মহাগজ

হাতিকে কেন্দ্র করে কেবল রাজকীয় শক্তির প্রকাশ ঘটেনি, বরং গভীর আধ্যাত্মিক এবং অনুভূতিমূলক শিল্পকর্মও সৃষ্টি হয়েছে। তেমনই এক অনন্য টেরাকোটা মোটিফ হলো ‘নবনারীকুঞ্জ’। তাছাড়া টেরাকোটা চিত্রে হাতির প্যানেল ও শিকারের দৃশ্যে হাতির বিবরণ উঠে আসে। বাংলায় বিষ্ণুপুর, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমানে এমন টেরাকোটা চিত্র পাওয়া যায়।

বারুদের গন্ধে মুনাফার হিসেব

যুদ্ধটা খুব নতুন কিছু নয়। যুদ্ধটা সবসময় হয়েছে এবং যুদ্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে একটা ক্ষমতা বা আধিপত্যের বিস্তার। আর যার শক্তি আছে সে শক্তিহীন যে সমস্ত দেশগুলো রয়েছে বা জাতি রাষ্ট্র রয়েছে, সেখান থেকে লুণ্ঠন করা এবং নিজেদের অর্থনীতি বা নিজেদের সামাজিক যে গঠন, তাকে আরো শক্তিশালী করা।

তা বলে কি উন্নয়ন হবে না?

পরিবেশ আন্দোলন আসলে সরব হয়েছে উন্নয়নের বিরূদ্ধে নয় – তাঁরা বিরোধ করে এসেছেন উন্নয়নের সেই রাজনীতিকে, যা জংগল, পাহাড়, নদীর মত সামুদায়িক সম্পদকে ইচ্ছে মত ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে মত। পুনর্বাসনের পরিকল্পনা না করে বড় বাঁধ, স্থনীয় মানুষের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় না গিয়ে কয়লা খনি, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চওড়া হাইওয়ে – এই সবই আসলে অপরিণামদর্শীতা।

আরও পুরানো লেখাগুলি

পাক

প্রায় নিভু নিভু করেও জ্বালিয়ে রাখা নীল আগুনের উপরে লোহার কড়াইয়ের ভিতর হালকা বাদামি হয়ে ওঠা তরল ঘিয়ে গোটা গরম মশলার ফোড়ন পড়ার গন্ধ জানলা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে রাস্তার টিপ কলের তলে জমা জলের ভিতর মুখ ডুবানো পাড়ার ল্যাংড়া কালো বিড়াল কয়লার নাকে গেলে তার কি করে গত সপ্তাহের নলির হাড় চিবানোর স্মৃতি মনে আসে সে এক আশ্চর্য ব্যাপার।

ফসল চেনে না ধর্ম

বিভাজনের রাজনীতি বৃদ্ধিকে থমকে দেয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে দেশের মাঠপর্যায় পর্যন্ত—সর্বত্রই কৃষি উন্নয়ন, মাটির সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব চাষে মুসলিম চাষিদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ প্রশাসনিক স্বীকৃতিতে যখন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তখন তা অর্থনৈতিক প্রগতির পথকেই রুদ্ধ করে। স্বাধীনতা দিবসের দিন, রাজ্যপালের কৃষকদের সম্মান জানানোর সময়ে, না হলে বাংলার একজনও মুসলমান কৃষক পাওয়া যায় না, তা কি হতে পারে?

আখ্যান

ফসল চেনে না ধর্ম

বিভাজনের রাজনীতি বৃদ্ধিকে থমকে দেয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে দেশের মাঠপর্যায় পর্যন্ত—সর্বত্রই কৃষি উন্নয়ন, মাটির সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব চাষে মুসলিম চাষিদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ প্রশাসনিক স্বীকৃতিতে যখন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তখন তা অর্থনৈতিক প্রগতির পথকেই রুদ্ধ করে। স্বাধীনতা দিবসের দিন, রাজ্যপালের কৃষকদের সম্মান জানানোর সময়ে, না হলে বাংলার একজনও মুসলমান কৃষক পাওয়া যায় না, তা কি হতে পারে?

পাক

প্রায় নিভু নিভু করেও জ্বালিয়ে রাখা নীল আগুনের উপরে লোহার কড়াইয়ের ভিতর হালকা বাদামি হয়ে ওঠা তরল ঘিয়ে গোটা গরম মশলার ফোড়ন পড়ার গন্ধ জানলা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে রাস্তার টিপ কলের তলে জমা জলের ভিতর মুখ ডুবানো পাড়ার ল্যাংড়া কালো বিড়াল কয়লার নাকে গেলে তার কি করে গত সপ্তাহের নলির হাড় চিবানোর স্মৃতি মনে আসে সে এক আশ্চর্য ব্যাপার।

নদী ভোলে না - সাতলুজ : সেন্সরশিপ ও মানবাধিকারের আর্কাইভ

এই সাতলুজ কিন্তু সিনেমা সহজে মুক্তি পায়নি। প্রথমে নাম ছিল Punjab 95। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন একশো সাতাশটি 'কাট' চাইল। প্রযোজকরা মানলেন না। আদালতে গেলেন। প্রায় তিন বছর পর ২০২৬ এ এসে ৩রা জুলাই ছবিটি জি ফাইভে (ZEE 5) এল। নাম হল সাতলুজ। কোনো কাট ছিল না। মুক্তির আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ভারত সরকার তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ম ২০২১ এর ধারা ৩ ব্যবহার করে ছবিটি ব্লক করার নির্দেশ দিল। সিনেমা না হলে এই গল্পটি হারিয়ে যেত। রাষ্ট্র এখন সেই সিনেমাকেও হারাতে চাইছে। কিন্তু কেন?

পোশাক দেখে চিনতে পারছেন? ইনি আমাদের নেতাজি

যে শাসক একদিন নেতাজীকে নিয়ে গদগদ ভাব দেখিয়েছিলেন৷ দিল্লিতে বড় আয়োজন করে বলেছিলেন নেতাজীর সমস্ত অপ্রকাশিত নথি প্রকাশ করা হবে, বাঙালি আবেগে তখন নাগপুরীয় চাড্ডি পরে নাচতে শুরু করেছিল৷ আজকে নেতাজিকে অপমান করছে তার দলের একজন সাংসদ ৷ তিনি রাজ‍্যসভার একজন সদস্য৷ তবুও নীরবতা চলছে৷ গুজরাটি বা হিন্দুস্থানীরা নয় ৷ খোদ সনাতনী বাঙালিরা নেতাজীকে ব্রিটিশের দালাল বলছে৷

সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্টদের মধ্যে ঔদার্য খুঁজে পেয়েছেন তসলিমা

তসলিমা নাসরিন বুঝতে পারেন না, কী ‘মুক্ত’ সুপবন বয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে! তিনি ভাষণ দেন. কবিতা পড়েন, আপ্লুত হন। তিনি সেকুলার মিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন এই রাজ্যে। সেকুলার কথাটিকেই যে রাজনৈতিক দল বর্জন করতে চায়, যে দলের সমর্থকরা সেই শব্দকে ‘সিক্যুলার’ বলে ব্যঙ্গের বস্তুতে পরিণত করেছে, সেই দলের নেতা মন্ত্রী সান্ত্রীদের সাড়ম্বর উপস্থিতি ও আবাহনে কোন ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা তিনি উপভোগ করলেন।

স্বৈরাচারের পরিণতি করুণই হয়

ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রিলে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে স্লোগান ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আসলে এটি বিগত ২৩ -২৪ বছরে মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলা। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে এবং তারা যে ভারতকে দেখেন তা বিশ্বের তুলনায় বেশ খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ছিল তাদের প্রথম খেলার মাঠ। আপনি তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না।