পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

চিন্তামণিও আর চিনি যোগাতে পারছেন না

বর্তমান চিনির মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো উৎপাদন খোদই অনেক কমে যাওয়া — নভেম্বরে আখ মাড়াই শুরুর সময় করা প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল ৩৪.৪ মিলিয়ন টন মোট উৎপাদনের। এই ৩.৫ মিলিয়ন টনের ঘাটতি আরও অনেক আগেই অনুমান করা উচিত ছিল। তার দিকে সরকার নজর দেয়নি, উল্টে প্রত্যকবার যেটা করে থাকে, সেটাই করেছে, মানুষকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চিনি খেতে বারণ করেছে, কিন্তু তাতে তো সমস্যার সমাধান হবে না।

হীরক রাজার দরবার ও আজকের উদয়ন পণ্ডিতেরা

সত্যজিৎ রায় তাঁর ছবিতে কোনো হতাশার সমাপ্তি টানেননি। সেই অন্ধকারের মধ্যেও আগুন জ্বালিয়ে রেখেছিলেন পাহাড়ে আত্মগোপন করে থাকা উদয়ন পণ্ডিত। পেয়াদারা তাঁকে ধরতে পারেনি, কারণ সত্যকে শিকলে বাঁধা যায় না। শেষ পর্যন্ত সেই শিক্ষকই প্রজাদের চোখ খুলে দিয়েছিলেন, একত্রিত করেছিলেন জনতার সুপ্ত প্রতিরোধকে। আজকেও কি তেমনটাই হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলি আইনের পরে এমনটা মনে হওয়া কি খুব অস্বাভাবিক?

“বন্দে মাতরম” সঙ্গীত বিতর্ক

বন্দে মাতরম গানটি জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা প্রদানের প্রশ্নে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। কংগ্রেসের প্রভাবশালী অহিন্দু নেতাদের অনেকেরই এই গানে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের কারণে একে সর্বসাধারণের জন্য জাতীয় সঙ্গীত রূপে বরণ করার ব্যাপারে আপত্তি ছিল। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ নিজেও এই আপত্তির প্রসঙ্গ তুলেই গানটির দুটি স্তবকের বেশি গ্রহণ না করার পক্ষে মত রাখেন। আজকে কেন আবার এই গানের প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে?

“আমার বিস্ময় জাগে নিষ্ঠুর শৃঙ্খল দুই হাতে”... তবুও শিল্পীরা আঁকে ...

আজকে আমার দেশে যখন একটি সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু বছর ধরে মানুষের মধ্যে বিভেদ বাড়াচ্ছে; বন জঙ্গল কেটে বন্ধু পুঁজিপতিদের হাতে মাটির নীচের শেষ জলের বিন্দুটুকুও বেচে দিতে বদ্ধপরিকর; সেই সরকার তীব্র উল্লাস প্রচুর টাকার দম্ভ আর রাষ্ট্র ক্ষমতার বড় অংশ চুরি করে যা খুশি তাই করছে; এত কিছুর মধ্যেও কোনো একজন শিল্পীর দেওয়ালকে তারা ভয় পায়, ভয় পায় তাঁর আঁকা সেই খিদে পেটের জল শুকনো চোখের স্কেচগুলোকে, সেই জন্যেই ওরা চিত্তপ্রসাদের ছবি মুছে দেয়।

লাল পলাশের ভোর

বাঁক নিতেই গাড়িটা থেমে গেল। মুনির বেশ বিরক্ত। ও গাড়ির গ্লাস খুলে দূরের খেতি জমি দেখছিল। শরতের নীলাকাশ। চারপাশে রোদ ঝলমল করছে। এবার ছুটিটা কাটাবে শান্তিনিকেতনের কাছাকাছি বঙ্গছত্রে। তার এখানে থাকতে খুব ভাল লাগে। সেই কবে এসেছিল ও। এখানে থাকে তার ফুপুর জামাই ইসরুপ দোলা ভাই। দারুণ মানুষ।

কিয়ারোস্তমির ফ্রেমে জেন জি ও রাজপথ

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে জেন জি আন্দোলন দেখা গেছে, তার সাথে কিয়ারোস্তমির এই ভাষার একটি গভীর সংযোগ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এই আন্দোলনগুলো প্রচলিত দলকেন্দ্রিক, আত্মস্বার্থে ভরপুর রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিয়েছে। কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া, কোনো দলীয় পতাকা ছাড়া, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল ইমেজকে সম্বল করে কীভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব, তা এই আন্দোলনগুলি দেখিয়েছে।

শ্লোগানে শ্লোগানে ভরা দেওয়ালে দেওয়ালে…

এরাজ্যের সরকার বাহাদুর কি জানে আরেকটি মৌল সত্যকে : শুধু যাদবপুর কেন, পৃথিবী জুড়ে ছাত্র ছাত্রীরা সাধারণভাবে রাষ্ট্রমুখী হয় না। প্রশ্নবিহীন আনুগত্য প্রদর্শন করে না। জ্ঞান অর্জন, যুক্তি বোধ তাদের প্রশ্ন করতে শেখায়, তর্ক করতে শেখায়, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়। সেই জন্যেই তারা বিশ্বজুড়ে প্যালেস্টাইন মানুষের পাশে সংহতির আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে, সেই জন্যেই দেওয়ালে দেওয়ালে শ্লোগান লেখা হয়।

সমাজে শালীনতার দায় কি শুধু মেয়েদের?

ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কি শুধু মেয়েদের পোশাকে আবদ্ধ? উৎসবের কি আদৌ কোনো 'ড্রেস কোড' হয়? পোশাকের শালীনতার সংজ্ঞাটাই-বা কে ঠিক করল? যে কঙ্গনা রানাওয়াত 'ফ্যাশন', 'কুইন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন, সেই কঙ্গনা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেনই-বা মহিলাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারংবার কাঠগড়ায় তুলছেন? মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষেরা তাদের লক্ষ্য করবে বলে—এহেন ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই ফসল।

আরও পুরানো লেখাগুলি

গৌরী লঙ্কেশ: সাংবাদিকতার মুখ

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র যখন ডিম থেরাপিকে জনরোষ বলে সমর্থন করে, ধর্ষণের ঘটনার রাজসাক্ষীকে যখন রাতের অন্ধকারে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হয়; তখন মুখে কুলুপ এঁটে রাখা সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করতে শেখায় গৌরীর মতো মহিলা সাংবাদিকেরা। গৌরী লঙ্কেশদের মৃত্যু হয় না। যেখানে যত শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন করছে, ছাত্ররা প্রতিবাদে রাজপথে নামছে, শাসকের মারের প্রতিবাদে গলা তুলছে, তাদের সবার কন্ঠস্বর হয়ে আছে গৌরী লঙ্কেশ।

গরম ভাতের গন্ধ

কলকাতার উপকণ্ঠে ছোট্ট একটি সরকারি বিদ্যালয়—উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি খুব বড় নয়। পুরোনো দোতলা ভবনের দেওয়ালে কোথাও রং খসে পড়েছে, কোথাও বৃষ্টির জল শুকিয়ে কালচে দাগ ফেলেছে।

আখ্যান

গরম ভাতের গন্ধ

কলকাতার উপকণ্ঠে ছোট্ট একটি সরকারি বিদ্যালয়—উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি খুব বড় নয়। পুরোনো দোতলা ভবনের দেওয়ালে কোথাও রং খসে পড়েছে, কোথাও বৃষ্টির জল শুকিয়ে কালচে দাগ ফেলেছে।

গৌরী লঙ্কেশ: সাংবাদিকতার মুখ

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র যখন ডিম থেরাপিকে জনরোষ বলে সমর্থন করে, ধর্ষণের ঘটনার রাজসাক্ষীকে যখন রাতের অন্ধকারে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হয়; তখন মুখে কুলুপ এঁটে রাখা সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করতে শেখায় গৌরীর মতো মহিলা সাংবাদিকেরা। গৌরী লঙ্কেশদের মৃত্যু হয় না। যেখানে যত শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন করছে, ছাত্ররা প্রতিবাদে রাজপথে নামছে, শাসকের মারের প্রতিবাদে গলা তুলছে, তাদের সবার কন্ঠস্বর হয়ে আছে গৌরী লঙ্কেশ।

পর্দার ওপারে যে মানুষ

শহরটির নাম ছিল জনপদ। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যেত একটি প্রশস্ত নদী। নাম তার মত। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নদীর ওপর একটি সেতু তৈরি হতো। সেতুটির নাম—ব্যালট। সেতু পার হয়ে মানুষ যে দিকে যেত, পরবর্তী পাঁচ বছর শহরটি সেদিকেই চলত।

ভোটার তালিকা থেকে ভিক্ষার থালা: বিজেপি সরকারের আগামী সেনসাস

মহাশ্বেতা দেবীর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে এমনই এক নারীর ছবি, যার অস্তিত্ব রাষ্ট্রের খাতায় কোনওদিন ঠিকমতো লেখাই হয়নি—আদিবাসী, ভূমিহীন, স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত কিংবা নিজের নামে একটুকরো জমিও নেই এমন এক নারী, যাকে প্রমাণ করতে হয় নিজের অস্তিত্বকে। বিজেপি সরকার যে জনগণনা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তাতে কত মানুষকে যে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে কে জানে!

এক যাযাবরের স্বপ্নযাত্রা : মৃত্যুপুরী নেপালের দিনলিপি

কাঠমান্ডুর 'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট'–এর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে অজস্র হিমবাহ-হ্রদ। সেখান থেকেই নেপালের এই বিপর্যয়। “হিমালয় কি তবে আমাদের সতর্ক করছে? বারবার করেই জানান দিচ্ছে –বরফের শরীর বদলে যাচ্ছে, পাহাড়ের স্থিতি বদলে যাচ্ছে, নদীর আচরণ বদলে যাচ্ছে। আর আমরা এখনও উন্নয়নের পুরোনো সংজ্ঞাতেই আটকে আছি। বিপর্যয়কারী এই উন্নয়নযজ্ঞকে প্রশ্ন করছি না।

পরবর্তী সংবাদ

আজ কয়েকদিন হল আমাদের পাড়ার হাওয়াটা এলোমেলো ভাবে বইছে। সেজন্য গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক আতঙ্কের ছায়া। আমিও এমন অস্বাভাবিকতার ছোঁয়ায়, এক অস্বস্তির মধ্যে আছি। আসলে অপ্রীতিকর কোন কিছুই আমার কোনদিন পছন্দ নয়। পাড়ার এমন অসুস্থ পরিবেশ আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে, বারবার মনে হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে, মানুষতো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ইটের আঘাত পাটকেলে দিতে শুরু করবে।