পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

ফসল চেনে না ধর্ম

বিভাজনের রাজনীতি বৃদ্ধিকে থমকে দেয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে দেশের মাঠপর্যায় পর্যন্ত—সর্বত্রই কৃষি উন্নয়ন, মাটির সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব চাষে মুসলিম চাষিদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ প্রশাসনিক স্বীকৃতিতে যখন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তখন তা অর্থনৈতিক প্রগতির পথকেই রুদ্ধ করে। স্বাধীনতা দিবসের দিন, রাজ্যপালের কৃষকদের সম্মান জানানোর সময়ে, না হলে বাংলার একজনও মুসলমান কৃষক পাওয়া যায় না, তা কি হতে পারে?

পাক

প্রায় নিভু নিভু করেও জ্বালিয়ে রাখা নীল আগুনের উপরে লোহার কড়াইয়ের ভিতর হালকা বাদামি হয়ে ওঠা তরল ঘিয়ে গোটা গরম মশলার ফোড়ন পড়ার গন্ধ জানলা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে রাস্তার টিপ কলের তলে জমা জলের ভিতর মুখ ডুবানো পাড়ার ল্যাংড়া কালো বিড়াল কয়লার নাকে গেলে তার কি করে গত সপ্তাহের নলির হাড় চিবানোর স্মৃতি মনে আসে সে এক আশ্চর্য ব্যাপার।

নদী ভোলে না - সাতলুজ : সেন্সরশিপ ও মানবাধিকারের আর্কাইভ

এই সাতলুজ কিন্তু সিনেমা সহজে মুক্তি পায়নি। প্রথমে নাম ছিল Punjab 95। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন একশো সাতাশটি 'কাট' চাইল। প্রযোজকরা মানলেন না। আদালতে গেলেন। প্রায় তিন বছর পর ২০২৬ এ এসে ৩রা জুলাই ছবিটি জি ফাইভে (ZEE 5) এল। নাম হল সাতলুজ। কোনো কাট ছিল না। মুক্তির আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ভারত সরকার তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ম ২০২১ এর ধারা ৩ ব্যবহার করে ছবিটি ব্লক করার নির্দেশ দিল। সিনেমা না হলে এই গল্পটি হারিয়ে যেত। রাষ্ট্র এখন সেই সিনেমাকেও হারাতে চাইছে। কিন্তু কেন?

পোশাক দেখে চিনতে পারছেন? ইনি আমাদের নেতাজি

যে শাসক একদিন নেতাজীকে নিয়ে গদগদ ভাব দেখিয়েছিলেন৷ দিল্লিতে বড় আয়োজন করে বলেছিলেন নেতাজীর সমস্ত অপ্রকাশিত নথি প্রকাশ করা হবে, বাঙালি আবেগে তখন নাগপুরীয় চাড্ডি পরে নাচতে শুরু করেছিল৷ আজকে নেতাজিকে অপমান করছে তার দলের একজন সাংসদ ৷ তিনি রাজ‍্যসভার একজন সদস্য৷ তবুও নীরবতা চলছে৷ গুজরাটি বা হিন্দুস্থানীরা নয় ৷ খোদ সনাতনী বাঙালিরা নেতাজীকে ব্রিটিশের দালাল বলছে৷

সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্টদের মধ্যে ঔদার্য খুঁজে পেয়েছেন তসলিমা

তসলিমা নাসরিন বুঝতে পারেন না, কী ‘মুক্ত’ সুপবন বয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে! তিনি ভাষণ দেন. কবিতা পড়েন, আপ্লুত হন। তিনি সেকুলার মিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন এই রাজ্যে। সেকুলার কথাটিকেই যে রাজনৈতিক দল বর্জন করতে চায়, যে দলের সমর্থকরা সেই শব্দকে ‘সিক্যুলার’ বলে ব্যঙ্গের বস্তুতে পরিণত করেছে, সেই দলের নেতা মন্ত্রী সান্ত্রীদের সাড়ম্বর উপস্থিতি ও আবাহনে কোন ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা তিনি উপভোগ করলেন।

স্বৈরাচারের পরিণতি করুণই হয়

ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রিলে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে স্লোগান ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আসলে এটি বিগত ২৩ -২৪ বছরে মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলা। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে এবং তারা যে ভারতকে দেখেন তা বিশ্বের তুলনায় বেশ খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ছিল তাদের প্রথম খেলার মাঠ। আপনি তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না।

ঘোড়ার ডিমের গল্প

কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ। সকালের বাতাসে হিমের ছোঁয়া, শীতের আগমনী বার্তা। রাস্তার দু’পাশে ধানগাছগুলোতে সোনালি রং লেগেছে, যেন মাটির বুক জুড়ে কেউ সোনার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এবারের ফলন ভালোই হয়েছ,বেশ খুশি মনে হারান পুকুরের দিকে যাচ্ছিল।

বিজেপির তিন মাস, শ্রমিকের আরও সর্বনাশ —

২০২৪ সালের চটকল ত্রিপাক্ষিক চুক্তি’র পর থেকে কারখানার ভেতরে ভয়ংকর বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা মত পুরোনো মেশিন (মোটা, হাঁসিয়া) উপড়ে ফেলতে শুরু করে। পুরোনো শ্রমিকদের আরও মজুরি কমিয়ে গায়ের জোরে ‘বিভাগ বদলি’ করে নতুন মেশিনে কাজ শিখতে পাঠায়। “ঘরের ছেলে ঘর দেখভালের দায়িত্ব পেলেন, ঘরের লোকেদের অবস্থা ভালো হবে” — জুন মাসের মাঝামাঝি সময় এই কথাই বলেছিলেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ কিছু শ্রমিকেরা। এখন কী অবস্থা চটকল এবং সেখানকার শ্রমিকদের?

আরও পুরানো লেখাগুলি

এই নজরদারির গণতন্ত্র কি আমরা চাই?

যন্তর মন্তরে যখন ছাত্ররা অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে যখন সংসদ চলো অভিযানে সামিল হয়েছিলেন তখন একটা দৃশ্য দেখা গেছে যা নিয়ে হয়ত সেই সময়ে আমরা অনেকেই হাসাহাসি করেছি তা হল অনেকেই নানান মুখোশ, নানান ভাবে সেজে ঐ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। তখন হয়ত আমরা বুঝতে পারিনি, যে ছাত্রযুবরা কি শুধুমাত্র মজা করার জন্য ঐরকম সেজে এসেছিলেন? না একেবারেই তা নয়। সবকিছুই রেকর্ড করা হচ্ছিল। তা থেকে বাঁচবার জন্যেই অনেকেই ঐরকম সেজে এসেছিলেন।

লেখা পড়া করে যে প্রতিবাদ করে সে

গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! কিন্তু আজকের সময়ে উল্টোটাই সত্যি, লেখা পড়া করার জন্যেই প্রতিবাদ করতে হবে।

আখ্যান

লেখা পড়া করে যে প্রতিবাদ করে সে

গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! কিন্তু আজকের সময়ে উল্টোটাই সত্যি, লেখা পড়া করার জন্যেই প্রতিবাদ করতে হবে।

এই নজরদারির গণতন্ত্র কি আমরা চাই?

যন্তর মন্তরে যখন ছাত্ররা অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে যখন সংসদ চলো অভিযানে সামিল হয়েছিলেন তখন একটা দৃশ্য দেখা গেছে যা নিয়ে হয়ত সেই সময়ে আমরা অনেকেই হাসাহাসি করেছি তা হল অনেকেই নানান মুখোশ, নানান ভাবে সেজে ঐ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। তখন হয়ত আমরা বুঝতে পারিনি, যে ছাত্রযুবরা কি শুধুমাত্র মজা করার জন্য ঐরকম সেজে এসেছিলেন? না একেবারেই তা নয়। সবকিছুই রেকর্ড করা হচ্ছিল। তা থেকে বাঁচবার জন্যেই অনেকেই ঐরকম সেজে এসেছিলেন।

লজেন্সের বুলেটে উত্তরণের গল্প

বর্ধমান স্টেশনে চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থেকে নামার পরও খবরের কাগজটা দু’হাতের তালুতে দুমড়ে-মুচড়ে ধরে রাখল রণজয়। কাগজের ভেতরের পাতায় চার লাইনের একটা ছোট খবর ছিল। খবরটা পড়ার পর থেকেই তার চশমার কাচ দুটো তীব্র বাষ্পে ঝাপসা হয়ে উঠছে।

সরকারি স্কুলের নাভিশ্বাস দশা

প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ ও কাজের বাজারের সঙ্গে সংযুক্তিহীনতা সরকারি স্কুল সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে এক নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।ভোটের ডিউটি হোক বা জনগণণা, এসআইআর হোক বা অন্য কাজে শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজে লাগানোর ফলে স্বাভাবিক ভাবে স্কুলে পঠন-পাঠনের মান নেমে যায়। এই অবস্থায় অনেক কম পরিকাঠামো নিয়ে আসরে উপস্থিত হয় প্রাইভেট স্কুল। সেই জন্যেই কি সরকারি স্কুলগুলো এইরকম ধুঁকছে?

লাঠির সামনে লহরী- রাষ্ট্র যখন তাল হারাল

মার্কস বলেছিলেন ধর্ম আফিম। জেন জি যোগ করল: রাষ্ট্রের ভয়টাও আফিম। মায়ানমার ২০০৭-এর বৌদ্ধ সন্যাসী, লাতিন আমেরিকার লিবারেশন থিওলজি, সুফিদের জিকির - সব ভাষা কিন্তু আলাদা, সুর একটাই: মুক্তি। বাংলার বামপন্থী সংগঠনগুলোকেও এখন মানতে হচ্ছে: 'সংগঠিত চেতনা' এক এবং একমাত্র মন্ত্র না। স্বতঃস্ফূর্ততাকেও মান্যতা দিতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের পরিসর অনেক বড়।

গণতন্ত্র তো এইভাবেই জয়ী হয় বারবার

যন্তর মন্তরে এদেশের তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি শাসকের দিকে আঙুল তুলছে। যাকে সামান্য একটি স্থানিক প্রতিবাদ আন্দোলন ভাবা হয়েছিল, এক লহমায় তা গোটা দেশের আন্দোলন হয়ে উঠেছে । কীভাবে যেন এই ছেলেমেয়েরা গোটা দেশ থেকে এসে ভরে দিল দিল্লির সব পথ। এদের এমন সাহস হবে কেউ কি কখনো ভেবেছে? বারবার ভারতভাগ্যবিধাতাকে তো কিছু মানুষই রক্ষা করেন। এইভাবেই তো গণতন্ত্র জয়ী হয়।