মার্কস বলেছিলেন ধর্ম আফিম। জেন জি যোগ করল: রাষ্ট্রের ভয়টাও আফিম। মায়ানমার ২০০৭-এর বৌদ্ধ সন্যাসী, লাতিন আমেরিকার লিবারেশন থিওলজি, সুফিদের জিকির - সব ভাষা কিন্তু আলাদা, সুর একটাই: মুক্তি। বাংলার বামপন্থী সংগঠনগুলোকেও এখন মানতে হচ্ছে: 'সংগঠিত চেতনা' এক এবং একমাত্র মন্ত্র না। স্বতঃস্ফূর্ততাকেও মান্যতা দিতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের পরিসর অনেক বড়।
যন্তর মন্তরে এদেশের তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি শাসকের দিকে আঙুল তুলছে। যাকে সামান্য একটি স্থানিক প্রতিবাদ আন্দোলন ভাবা হয়েছিল, এক লহমায় তা গোটা দেশের আন্দোলন হয়ে উঠেছে । কীভাবে যেন এই ছেলেমেয়েরা গোটা দেশ থেকে এসে ভরে দিল দিল্লির সব পথ। এদের এমন সাহস হবে কেউ কি কখনো ভেবেছে? বারবার ভারতভাগ্যবিধাতাকে তো কিছু মানুষই রক্ষা করেন। এইভাবেই তো গণতন্ত্র জয়ী হয়।
শীতের রাত। কিন্তু মালতীর গা জ্বলছিল। ক্লিনিকের ভেরতটা নোংরা, দেওয়ালে মাছি বসে আছে, আর ওই ডাক্তার নামধারী মানুষটার হাত কাঁপছিল কি না সেটা স্পষ্ট মনে নেই- কারণ তার আগেই সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।
ক্ষমতা আর কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। সে কেন্দ্রহীন। কিন্তু সর্বত্র। জর্জ অরওয়েলের 1984 এর "Big Brother is watching you" ছিল একমুখী নজরদারি। রাষ্ট্রের একচোখ। আজকেরটা উল্টো। "Everyone is watching everyone"। এবং আমরা নিজেরাই দেখাতে চাই। অরওয়েলের টেলিস্ক্রিন ছিল ঘরের কোণে। আমাদের টেলিস্ক্রিন আমরা হাতে নিয়ে ঘুরি।
বিগত কয়েক বছরের পরীক্ষার্থীরা, ছাত্রের পিঠোপিঠি দুএক বছর বড় যারা, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আর জীবিত নেই। পরীক্ষা দিয়েছে, কিন্তু সরকারি সংস্থার জালিয়াতির জন্য পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। বছরের পর বছরের পরিশ্রম, না খাওয়া, আর্থিক টান, কাজ না পাওয়ার আশঙ্কা, অতিবড়লোকেদের একের পর এক পুকুরচুরি - সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানসিক স্মশানে পরিণত হয়েছে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্র। তারপর যদি নতুন প্রজন্মের ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এই পরীক্ষা ব্যবস্থা, এই শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে, তখন তাঁরা দেশদ্রোহী হয় কী করে? আমাদেরই তো উচিৎ ওঁদের লড়াইতে শক্তি জোগানোর, আমরা না করলে অন্যায় করছি।
গোটা দেশে একটিই দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে বলা হচ্ছে। তবেই তো এক দেশে একটিই আইন, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো। অ -বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি প্রথমেই নাকচ করে দিয়েছে, আর বিজেপি শাসিত একেক রাজ্য যে যার মতো করে এই আইন চালু করছে, অভিন্ন দেওয়ানি আইন হচ্ছে তাই রাজ্যে রাজ্যে আলাদা। তাহলে কি করে বলা যায় যে এই আইন অভিন্ন? এক দেশে এক আইন হচ্ছে?.
আজ যারা ওয়াংচুককে 'দেশবিরোধী' বা 'উস্কানিদাতা' বলে গালি দিচ্ছেন, তারা কি বোঝেন যে তাঁর চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই আর বর্তমান দিল্লির শাসকদলের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ? সেই জন্যেই যখন শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোনাম ওয়াংচুক সহ ছাত্ররা অনশনে, যখন সারা দেশে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবীতে সংসদ অভিযান হবে, তখন কেন এই আইটি সেল ও গোদী মিডিয়া উল্টে সোনামকেই আক্রমণ করছেন?
আমি নাকি বাবার কোনও গুণই পাই নি। বিস্তর খাটার ক্ষমতা থাকলে কী হয় একেবারেই বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। এমনকী চেহারাতেও বাবার ছাপ নেই কোনও। চোখমুখ বা গায়ের রঙ দিয়ে কেউ নাকি মেলাতেই পারবে না আমাকে। একেবারে টকটকে ফরসা, মাথায় বাবা-কাকাদের চেয়ে অনেকটাই ছাড়িয়ে, স্কুলে থাকতেই একেবারে ষণ্ডামার্কা।
আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এনকাউন্টার সংস্কৃতি একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের (তিনি অপরাধী হলেও) আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এনকাউন্টারের মাধ্যমে পুলিশ নিজেই একই সাথে তদন্তকারী, বিচারক এবং জল্লাদের ভূমিকা পালন করে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিল দুটিতে অনুমোদন দিয়েছেন। গুণ্ডা দমন বিল পেশ করার সময় নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি কথা দিচ্ছেন এই আইন কখনই রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু তা কি সম্ভব? ইতিহাস কিংবা সমাজবিজ্ঞান কি তাই বলে?
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিল দুটিতে অনুমোদন দিয়েছেন। গুণ্ডা দমন বিল পেশ করার সময় নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি কথা দিচ্ছেন এই আইন কখনই রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু তা কি সম্ভব? ইতিহাস কিংবা সমাজবিজ্ঞান কি তাই বলে?
আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এনকাউন্টার সংস্কৃতি একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের (তিনি অপরাধী হলেও) আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এনকাউন্টারের মাধ্যমে পুলিশ নিজেই একই সাথে তদন্তকারী, বিচারক এবং জল্লাদের ভূমিকা পালন করে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোদী মিডিয়া বেশ কিছু দিন ধরে অনবরত প্রচার করছিল, যে তিনি এই ভীড়কে উস্কেছেন, অথচ ঘটনা পরম্পরা তা বলে না। এই একই পদ্ধতিতে উমর খালিদ, কানহাইয়া কুমারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে কানহাইয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। উমর এখনো জেলে। এরপর পশ্চিমবঙ্গে নতুন গুন্ডা দমন বিল আসছে। এটাও তো সেই ভয় দেখানোই। যখন শাসকদল নিজেরাই ভীড়তন্ত্রকে মদত দিচ্ছে, তখন এই ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য কী?
মহিম গাঙ্গুলী ব্রাঞ্চে ঢুকতেই নানান ব্যস্ততার মধ্যেও যথারীতি তাকে লক্ষ্য করল ২২ বছর ধরে কর্মরত গ্রুপ স্টাফ সুরেশ যশ।আসুন আসুন, বসুন-বলে তার দিকে এগিয়ে গেল।মহিম বাবুও ব্যস্ততার সঙ্গে বলল–“না না আজ বুসার বেশি সময় লাই,ই রাস্তা পেরিয়ে যাছিলুম ,ভাবলুম তুদের নতুন ম্যানেজার এয়েছে তাই একবার দেখাক করে যাই”।
২০০৫ সালে আইভরি কোস্টের কিংবদন্তি ফুটবলার দিদিয়ের দ্রোগবা ও তাঁর সতীর্থরা জাতীয় টেলিভিশনে হাঁটু গেড়ে বসে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অস্ত্র ত্যাগ করার এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানান। তারা বলেন, "আফ্রিকার মতো এতগুলো দেশ নিয়ে গঠিত একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হতে পারে না।" হাঁটু গেড়ে বসা নতমস্তক ফুটবলাদের ভালোবাসার বাণী মেনে নেয়ে দুই পক্ষ। তাই ফুটবল সেদিনও ছিল একটা রাজনৈতিক খেলা আর আজকের বিশ্বকাপ দেখেও সেটাই মনে হচ্ছে।
মব ভায়োলেন্সের শিকার হয় আর্থিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও লিঙ্গ রাজনীতির প্রান্তিক লোকজনেরা। ভারতে ডাইনি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা নতুন কোনও বিষয় নয়। কোনো নারী একটু নিয়মের বাইরে গিয়ে বিরুদ্ধাচরণ করলেই তাকে দাগিয়ে দাও চরিত্রহীন বলে আর সেই নারীর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলো উন্মত্ত জনতাকে। রাজনৈতিক নেতাদের মদতে বাড়তে থাকা ঘৃণার আবহে ডিম ছুঁড়ে মারা, কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর স্বাভাবিক বলে মান্যতা পেলে তার ফল ভুগতে হবে কিন্তু সবাইকেই।