পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

অন্যান্য পোস্ট

করোনাঃ বনাম আমি তুমি

প্রথম বিশ্বের দেশও যখন এই ভাইরাসের খপ্পরে পড়ে তখন তড়িঘড়ি তা সংবাদ শিরোনামে; তাই ঘটেছে এবারেও। এই মুহূর্তে পরিযায়ী, কাজহীন শ্রমিকের ঢল রাজ্যে রাজ্যে; তারা অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত; নিভৃত গৃহবাস ক’জনের সম্ভব তা অনুমেয়। ১০০০-১৫০০ কিলোমিটার পথ গোরুর মতো গাদাগাদি করে ট্রাকে, পায়ে হেঁটে, সাইকেলে, অভুক্ত আর অনাহারে থেকে  স্বাভাবিক Immunity-ই তলানিতে

অরাজনীতির রাজনীতি

মধ্যবিত্ত ঘরে বসে। লকডাউন ডিপ্রেশন উদযাপন করছে। আর লক্ষ লক্ষ শ্রমিক হেঁটে চলেছেন অনন্যোপায় হয়ে। মৃত্যুমিছিল চলছে। এরই মাঝে রামমন্দিরের টাকার বন্দোবস্ত হয়েছে। দেশের সবকিছু বিক্রি করা হয়েছে। আমাদের হেলদোল নেই। এই নিয়ে পরে আলোচনা করব, কিন্তু আদত সত্যিটা একটু বলে যাই। সেটা হোলো আপনার আমার এখনও শোকের অবকাশ আছে। ভয়ানক ডিপ্রেশন হলে এই খবর এড়িয়ে যাবার ক্ষমতা আছে। অনেকের নেই। শ্রমিকের নেই।

অনলাইন ক্লাস: এখানেও বৈষম্য

ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য হচ্ছে। সচ্ছল পরিবারের ছেলে মেয়েরা অনলাইনে বা গ্রূপে ক্লাস করার পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কাজে লাগাক, না লাগাক সুযোগ তো পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতন বাবা মা গ্রূপে ছেলে মেয়েদের হয়ে প্রশ্ন করছেন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে মেয়েরা যাঁদের স্মার্টফোন ব্যবহারের কোন সামর্থ্য নেই, উপায় নেই তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছে অনলাইন বা গ্রপের ক্লাস থেকে। ওরা এই সুযোগ পেলে নিজেদেরকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে সম্পৃক্ত করে আরো ভালো রেজাল্টের দিকে এগিয়ে যেত।

ওরা কারা…

আজ গোটা ভারত তাদেরকে পরিযায়ী শ্রমিক বলছে, তাদের কথা ভাবছে। কাস্তে হাতুড়ি, পদ্ম ফুল থেকে শুরু করে ঘাস ফুল সবাই টিভিতে দুঃখ প্রকাশ করছে, অনেক উপদেশ দিচ্ছে এবং একে অপরকে দোষারোপ করছে। আসল কথা হল এরা কারা, এই মহামারির আগে কি তারা এই দেশের কেউ ছিল না, নাকি সেই সময় কোনো ফুল মালিকের সময় হয়নি নিজের ক্ষেতের ফসলের দিকে চোখ দেওয়ার?

নিয়মিত কলাম

বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি

বাঙালীর বুদ্ধি নিয়ে রসিকতা করা উচিৎ কাজ হয় না। বিশেষ কলকেতার বাবু বিবি হলেন বুদ্ধির বেস্পতি। বিলাতে ডারউইন সায়েব গবেষণা করে বলেচেন বানর হতে ইভলিউশন হয়ে মানুষ হয়েচে, বানরের যে জাতি মানুষ হয়েচে সে জাতি গত হয়েচে। কলকেতার বাবু বিবিদের দেখে মালুম হয় ইভলিউশন একুনো চলেচে। এনারা আরো উন্নত নমুনা হবার জন্যি বিলক্ষণ পরিশ্রম কচ্চেন।

লকডাউনের খাওয়া দাওয়া

এদানি সরকার বাহাদুরের ভারী মায়া দয়া হয়েচে। দেশ সুদ্ধ তালা ঝুলিয়েচেন, ছোটলোকে খেতে পাচ্চে না এ কতা যতক্ষণ নিন্দুকে বলেচেন ততক্ষণ কানে তোলেননি। কদিন হল বড়বাবু স্বপ্নাদেশ পেয়েচেন যে যে পথে আটকে পড়েচে সকলকে নিজ নিজ বাটীতে পৌঁচে না দিলে অমরাবতীর প্যাটেলের স্ট্যাচুতে চিড় দ্যাকা দেবে। তাই হেঁকে বল্লেন, এই, এদের সব যে যেকানে যাবে পাঠিয়ে দাও।

আখ্যান

ফুটপাত থেকে কেনা একটি বইয়ের গল্প

যখন এই লকডাউনে সবাই কিছু না কিছু ছুট পেলেও আজ টানা ৪৬ দিন বইবাজার একেবারেই বন্ধ। কেমন আছেন ছাপাইকর্মী, বাঁধাইকর্মী, প্রকাশক, বইবিক্রেতারা। কিংবা ফুটপাতে বই সাজিয়ে যাঁরা পুরনো বই বিক্রি করেন! কেমন আছেন তাঁরা। জানি না। এনিয়ে কোনও মিডিয়ায় তেমন খবরও নেই।

ভাষা ব্যাকরণের ‘পুরুষ’ এবং আমরা

ভাষা ব্যাকরণের উদাহরণ টেনে মাঝে মাঝেই বলা যায় কিছু কথা, পুরুষ তিন প্রকার। আমি, আমরা, আমাদের- এসব হল উত্তম পুরুষ। (ইংরেজিতে First Person)। তুমি, তোমরা, তোমাদের- হল মধ্যম পুরুষ (Second Person)। আর সে, তাহারা, তাহাদের- হল প্রথম পুরুষ। (অর্থাৎ Third Person)।

সাইবার-জগতে টক্সিক ম্যাস্কুলিনিটি

সাইবার জগতে বিষাক্ত পৌরুষ বা টক্সিক ম্যাসকুলিনিটির প্রকাশ নতুন নয়, বিরলও নয়। বরং যৌন নির্যাতনের নবতম অবতার সেটিই। এতদসত্বেও সাউথ দিল্লির স্কুলছাত্রদের গোপন ইন্সটাগ্রাম গ্রুপ সকলকে হতবাক করেছে। এই বিস্ময়ের কারণ সম্ভবত দুটি।

বাঙাল কহেকা

আমার সাহিত্যচর্চায় আমি কখনোই ভাষা নিয়ে তেমন কিছু ভাবিনি। ভাবতে হয়নি। আমার চারপাশে যারা আছে, যাদের আমি সবসময় দেখি-কথা বলি, এমনকি গাছপালা, পশুপক্ষী, ইটপাথর, ধুলাবালি- এরাই সব আমার সাহিত্যে চরিত্র হয়ে উঠে আসে। নিজের নিজের ভাষায় কথা বলে। মনের ভাব প্রকাশ করে। একে অপরের সান্নিধ্য লাভ করে। এটাই তো স্বাভাবিক। আজ ২৫শে বৈশাখ একটি লেখা

দুই মহামানব স্মরণে

কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা, আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা আর আগামী কাল বিশ্বকবির আবির্ভাব তিথি। এই প্রথম বার আমরা দুই মহামানবের জন্মতিথি ঘরে বসে পালন করছি, নিজেদের মতন করে। বর্তমান বিষম পরিস্থিতিতে এঁদের দেখানো পথের প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছে এই প্রবন্ধ টি।

আমাদের কাল যেভাবে কেটে যায়

আমাদের কথার বলার স্বাধীনতা ঠিক ওই বাবুটির বাতাস টেপার মতো। স্বাদহীন কথা বলে আমরাও আমাদের স্বাধীনতাকে পুষিয়ে নিচ্ছি। স্থান-কাল যাই হোক- রাজনৈতিক মঞ্চ হোক কিংবা ধর্মীয় জালসা, টিভির টক-শো হোক কিংবা খবরের কাগজ, রক হোক কিংবা চায়ের দোকান, বাস কিংবা ট্রেণ, তার ওপর আজকাল হয়েছে ফেস্‌বুক, ট্যুইটার। অবশ্য এতে আমাদের লাভ না হলেও এই করোনাকালে ক্ষতি কিছু হচ্ছে না! দিব্যি কাল কেটে যাচ্ছে ...