পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

হৃৎপিণ্ডে আঘাত না করে নাক কান কাটলে রাক্ষস মরবে?

মনে পড়ে যাচ্ছে, কলকাতা ১৯৬৫-৬৬’র কথা। খাদ্যের জন্য আন্দোলন; আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলি--বসিরহাট, বারাসাত, কৃষ্ণনগর। খাদ্য চাই, সেই চাওয়া আদায় করে নেবে আন্দোলনকারীরা, এমনই প্রতিজ্ঞা! ৪৫ জন শহীদ। আন্দোলনের এই প্রসার, জনতার এই রুদ্ররোষ কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দলগুলির কল্পনার বাইরে, এবং এই আন্দোলনকে সহমর্মিতা দেখিয়েই তাদের ক্ষমতায় আসা!

সব কিছু মনে রাখা হবে

মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাঁটা অধিকাংশই কথায় কথায় বিশ্বাস করাবে মুসলমানরা আর বাঙালি এক নয়। মুসলমানরা বাঙালি নয়। ইসলামোফোবিয়া এদে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। না, এখানেই শেষ নয়। আসামে এনআরসি নিয়ে ১৯ লক্ষ বাঙালিকে বাস্তুহীন করা বিশ্বগুরু এদের কাছে ফ্যাসিস্ট নয়। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভদ্রবিত্ত বাঙালিকে অধিকাংশ বাসে, ট্রেনে, অফিসে বিদ্বেষ ছড়াতে দেখেছি। সুতরাং একদিন মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিদ্বেষ কমে কি?

কেন্দ্রের বঞ্চনা : বাংলা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার পিএম স্কুল ফর রাইসিং ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে পিএমশ্রি) বলে একটি প্রকল্প চালু করে। সেই প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি ব্লকে একটি করে মডেল স্কুল চালু করতে হবে যার মাধ্যমে নতুন শিক্ষা নীতির প্রচলন করা হবে। তিনটি রাজ্য পিএমশ্রির জন্য মৌ সাক্ষর করতে অস্বীকৃত হয় – কেরালা, তামিলনাডু এবং পশ্চিমবঙ্গ। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্র এই তিনটি রাজ্যের প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা অভিযানের টাকা আটকে দেয়।

আম্বেদকরের ভারত-ভাবনা ও জনতার ভোটাধিকার

আজ বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিন। আজ আমরা আবার সেই একই দৃশ্য দেখতে পাব। আম্বেদকরের পতাকার পদদলনকারীদের আম্বেদকরের স্মৃতিতে সমবেত রুদালী। ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সময়, যেখানে তিনি খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, সেখানে তিনি সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে স্বাধীনতার পরপরই ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যেখানে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা সম্পত্তির ভিত্তিতে ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ করা হয়নি।

দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমানে আঘাতে

মোথাবাড়িতে যা হয়েছে, অন্যত্রও যা হচ্ছে, সে সব অসহায় মানুষের অসহায়তা। এসআইআর প্রক্রিয়া তো আদালতে গেছিল। প্রশান্ত ভূষণও আমার মতো সামান্য মানুষের কথাই বলেছেন গতকাল। কেন বৈধতা যাচাই-এর কাজ সর্বোচ্চ বিচারালয় ফেলে রেখেছেন? কেন বিচারালয়, সরাসরি প্রাশাসনিক হস্তক্ষেপ করে, ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে চলা রাজ্যে, এনআইএ-কে তদন্ত দিচ্ছেন? তাঁরা যখন আলগোছে ও অবহেলায় মন্তব্য করেন, একজন এবারে ভোট দিতে না পারলে কী আছে, পরের বার দেবে, সেটা কি স্বাভাবিক?

বৃষ্টি, তোমার জন্য

আজ ভোর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঝমঝম শব্দ করে বৃষ্টি পড়ছে। তার সঙ্গে হাওয়ার গোঙানি। খোলা জানলা দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা স্বচ্ছন্দে ঘরে ঢুকে, ঘরের মেঝে তার সঙ্গে বিছানার অল্প একটু অংশ ভিজিয়ে দিয়েছে। জানলা বন্ধ করতে গিয়ে বাইরের দিকে চেয়ে চমকে উঠলাম।

মসজিদকে রাজনৈতিক গুটি বানানো, মুসলমান মানুষজনই প্রত্যাখান করছে

মসজিদ হল ‘আল্লাহর ঘর’—বিশুদ্ধতা ও ঐক্যের পবিত্র প্রতীক। নির্বাচনী লাভের জন্য এ ধরনের গভীর ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানো শুধু অনৈতিকই নয়, বিশ্বাসের মূল মূল্যবোধের সরাসরি বিরোধীও”। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, "যখন ক্ষমতার তাড়নায় কোনো উপাসনালয়কে 'তুরুপের তাস'-এ পরিণত করা হয়, তখন এ ধরনের রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।" যতই প্রধানমন্ত্রী কিংবা অন্যরা বলার চেষ্টা করুক, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই, মানুষ বিশ্বাস করছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা ‘দ্বিচারিতা’: এন্তোনিও কস্তা'র আহ্বান ও একপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার সমীকরণ

ইরানের চারপাশ ঘিরে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়, এটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ভাবনায় একটি অস্তিত্বগত সংকট তৈরি করে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন বা আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যখন হাজার হাজার মার্কিন সেনা, অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং বিশাল নৌবহর অবস্থান করে, তখন ইরানের জন্য এটি একটি ‘ভার্চুয়াল অবরোধ’ হিসেবে কাজ করে।

আরও পুরানো লেখাগুলি

মহিলাদের নাম বাদের উদ্দেশ্য কী?

লক্ষ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে হওয়া এই অপরিলক্ষিত নির্বাচনের ঢক্কানিনাদের মধ্যে ভেসে আসছে “মেয়েদের উন্নয়ন”, “নিরাপত্তা”, “সম্মান”-এর মত শব্দগুলি। বিগত নির্বাচনগুলিতে সরকার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মেয়েরা নির্ণায়ক শক্তি হয়ে এসেছেন। কিন্তু এস আই আর-এর কোপে গত ১০ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ভোটারদের সংখ্যা সবচেয়ে কমে গেছে।

এসআইআর একটি হিন্দুত্ব প্রকল্প যেখানে মেয়েদের ঠাঁই নেই

গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব যদি হয় প্রতিনিধি নির্বাচন তাহলে ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার যা কিছুটা হলেও ভারতভাগ্যবিধাতার নির্ণায়ক ভূমিকা এনে দেয়। আজ আমরা লক্ষ্য করছি এস আই আরের নাম করে এই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে মেয়েদের থেকে।

আখ্যান

এসআইআর একটি হিন্দুত্ব প্রকল্প যেখানে মেয়েদের ঠাঁই নেই

গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব যদি হয় প্রতিনিধি নির্বাচন তাহলে ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার যা কিছুটা হলেও ভারতভাগ্যবিধাতার নির্ণায়ক ভূমিকা এনে দেয়। আজ আমরা লক্ষ্য করছি এস আই আরের নাম করে এই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে মেয়েদের থেকে।

মহিলাদের নাম বাদের উদ্দেশ্য কী?

লক্ষ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে হওয়া এই অপরিলক্ষিত নির্বাচনের ঢক্কানিনাদের মধ্যে ভেসে আসছে “মেয়েদের উন্নয়ন”, “নিরাপত্তা”, “সম্মান”-এর মত শব্দগুলি। বিগত নির্বাচনগুলিতে সরকার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মেয়েরা নির্ণায়ক শক্তি হয়ে এসেছেন। কিন্তু এস আই আর-এর কোপে গত ১০ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ভোটারদের সংখ্যা সবচেয়ে কমে গেছে।

গণতন্ত্র - ছোঃ

গ্রামের নাম শান্তিনগর। নামটা শান্তি দিয়ে শুরু হলেও, গত এক মাস ধরে সেখানে শান্তির ‘শ’ পর্যন্ত নেই। ভোটার লিস্ট সংশোধন অভিযান চলছে যে। মহল্লায় মহল্লায় শুনানি কেদ্র। কে শোনে, কার কথা? গোটা বঙ্গ জুড়েই এখন সেই বহুচর্চিত বিতর্ক –ভোট আগে না ভোটার আগে?

লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি মুসলিম খেদাও অভিযানের হাতিয়ার

আজ যারা বৈধ ভোটারদের আন্দোলনে দেশদ্রোহের গন্ধ পাচ্ছেন তারা কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির অসঙ্গতি নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলছেন না। তারা যদি সত্যি গণতান্ত্রিক মূলবোধে বিশ্বাসী হতেন তাহলে অবশ্যই প্রশ্নগুলো তুলতেন। প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে না বরং তার সামনে ট্রাইবুনালের গাজর ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। আজ পর্যন্ত কিভাবে ট্রাইবুনাল কাজ করবে, এত কম সময়ের মধ্যে কিভাবে শুনানী সম্ভব -- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যায় নি।

এবারের ভোটে তবে কি-‘মনশ্রী’প্রকল্প চালু!

১৯৫২র প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জওহরলাল নেহেরু নির্বাচনে জেতার পর একটি ওজনদার বক্তব্যে তাঁর মত ব্যক্ত করেছিলেন যেখানে নির্বাচকমণ্ডলীকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তাঁদের চিন্তা ও বোধকে সম্মান না জানিয়ে তিনি থাকতে পারেন নি। "তথাকথিত নিরক্ষর ভোটাররা সম্ভবত অনেক শিক্ষিতদের চেয়েও এই নির্বাচনকে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়েছে এবং ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার নিয়ে আমার মনে যেটুকু সন্দেহ ছিল, তা পুরোপুরি দূর হয়ে গেছে।” সেই মানুষদের যদি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে?

ফস্কা গেঁড়োর কথা

নির্বাচন কমিশনের প্রবণতা দেখে বোঝা যাচ্ছে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন কায়েম করে তারা এরাজ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। মুখ্যমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমে অপসারণ করার ঝুঁকি না নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর সমগ্র প্রশাসনযন্ত্র কে আপাদমস্তক ডানা ছেঁটে দিয়ে, নির্বাচন কমিশন নিজের ইচ্ছা ও পছন্দমত ভোট করতে চায়।