ফ্যাসিস্ট শক্তি তার রূপ বদলে খানিক যুগোপযোগী করে নিলেও গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণ অবাধ। অর্থাৎ মানুষ চায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রকৃত নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা শাসক নির্বাচিত করবে এবং সাধারণ মানুষের এই অসামান্য ক্ষমতার চাহিদা চূড়ান্ত ও আপোষহীন। বর্তমানে ফ্যাসিস্টরাও কোন সুযোগে একবার ভোটে জিতে আর ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। গণতান্ত্রিক সমস্ত শক্তি কি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট শাসকদের মাত করতে পারবে?
বিভাজনের রাজনীতি বৃদ্ধিকে থমকে দেয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে দেশের মাঠপর্যায় পর্যন্ত—সর্বত্রই কৃষি উন্নয়ন, মাটির সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব চাষে মুসলিম চাষিদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ প্রশাসনিক স্বীকৃতিতে যখন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তখন তা অর্থনৈতিক প্রগতির পথকেই রুদ্ধ করে। স্বাধীনতা দিবসের দিন, রাজ্যপালের কৃষকদের সম্মান জানানোর সময়ে, না হলে বাংলার একজনও মুসলমান কৃষক পাওয়া যায় না, তা কি হতে পারে?
প্রায় নিভু নিভু করেও জ্বালিয়ে রাখা নীল আগুনের উপরে লোহার কড়াইয়ের ভিতর হালকা বাদামি হয়ে ওঠা তরল ঘিয়ে গোটা গরম মশলার ফোড়ন পড়ার গন্ধ জানলা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে রাস্তার টিপ কলের তলে জমা জলের ভিতর মুখ ডুবানো পাড়ার ল্যাংড়া কালো বিড়াল কয়লার নাকে গেলে তার কি করে গত সপ্তাহের নলির হাড় চিবানোর স্মৃতি মনে আসে সে এক আশ্চর্য ব্যাপার।
এই সাতলুজ কিন্তু সিনেমা সহজে মুক্তি পায়নি। প্রথমে নাম ছিল Punjab 95। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন একশো সাতাশটি 'কাট' চাইল। প্রযোজকরা মানলেন না। আদালতে গেলেন। প্রায় তিন বছর পর ২০২৬ এ এসে ৩রা জুলাই ছবিটি জি ফাইভে (ZEE 5) এল। নাম হল সাতলুজ। কোনো কাট ছিল না। মুক্তির আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ভারত সরকার তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ম ২০২১ এর ধারা ৩ ব্যবহার করে ছবিটি ব্লক করার নির্দেশ দিল। সিনেমা না হলে এই গল্পটি হারিয়ে যেত। রাষ্ট্র এখন সেই সিনেমাকেও হারাতে চাইছে। কিন্তু কেন?
যে শাসক একদিন নেতাজীকে নিয়ে গদগদ ভাব দেখিয়েছিলেন৷ দিল্লিতে বড় আয়োজন করে বলেছিলেন নেতাজীর সমস্ত অপ্রকাশিত নথি প্রকাশ করা হবে, বাঙালি আবেগে তখন নাগপুরীয় চাড্ডি পরে নাচতে শুরু করেছিল৷ আজকে নেতাজিকে অপমান করছে তার দলের একজন সাংসদ ৷ তিনি রাজ্যসভার একজন সদস্য৷ তবুও নীরবতা চলছে৷ গুজরাটি বা হিন্দুস্থানীরা নয় ৷ খোদ সনাতনী বাঙালিরা নেতাজীকে ব্রিটিশের দালাল বলছে৷
তসলিমা নাসরিন বুঝতে পারেন না, কী ‘মুক্ত’ সুপবন বয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে! তিনি ভাষণ দেন. কবিতা পড়েন, আপ্লুত হন। তিনি সেকুলার মিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন এই রাজ্যে। সেকুলার কথাটিকেই যে রাজনৈতিক দল বর্জন করতে চায়, যে দলের সমর্থকরা সেই শব্দকে ‘সিক্যুলার’ বলে ব্যঙ্গের বস্তুতে পরিণত করেছে, সেই দলের নেতা মন্ত্রী সান্ত্রীদের সাড়ম্বর উপস্থিতি ও আবাহনে কোন ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা তিনি উপভোগ করলেন।
ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রিলে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে স্লোগান ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আসলে এটি বিগত ২৩ -২৪ বছরে মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলা। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে এবং তারা যে ভারতকে দেখেন তা বিশ্বের তুলনায় বেশ খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ছিল তাদের প্রথম খেলার মাঠ। আপনি তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না।
কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ। সকালের বাতাসে হিমের ছোঁয়া, শীতের আগমনী বার্তা। রাস্তার দু’পাশে ধানগাছগুলোতে সোনালি রং লেগেছে, যেন মাটির বুক জুড়ে কেউ সোনার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এবারের ফলন ভালোই হয়েছ,বেশ খুশি মনে হারান পুকুরের দিকে যাচ্ছিল।
গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! কিন্তু আজকের সময়ে উল্টোটাই সত্যি, লেখা পড়া করার জন্যেই প্রতিবাদ করতে হবে।
যখন রাজ্যগুলিই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রধান দায়িত্ব বহন করে, তখন রাজ্য সরকারগুলিকে এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি নিজেরাই পরিচালনা করতে দেওয়া উচিত। তাই শিক্ষাকে যৌথ তালিকা থেকে ফিরিয়ে রাজ্য তালিকায় আনা উচিত। সেক্ষেত্রে রাজ্যগুলি শিক্ষার ফলাফলের জন্য আরও দায়বদ্ধ হবে, যার ফলে আরও ভাল শাসন ও পরিচালনা সম্ভব। রাজ্যগুলি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নীতি তৈরি করতে পারবে।
যখন রাজ্যগুলিই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রধান দায়িত্ব বহন করে, তখন রাজ্য সরকারগুলিকে এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি নিজেরাই পরিচালনা করতে দেওয়া উচিত। তাই শিক্ষাকে যৌথ তালিকা থেকে ফিরিয়ে রাজ্য তালিকায় আনা উচিত। সেক্ষেত্রে রাজ্যগুলি শিক্ষার ফলাফলের জন্য আরও দায়বদ্ধ হবে, যার ফলে আরও ভাল শাসন ও পরিচালনা সম্ভব। রাজ্যগুলি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নীতি তৈরি করতে পারবে।
গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! কিন্তু আজকের সময়ে উল্টোটাই সত্যি, লেখা পড়া করার জন্যেই প্রতিবাদ করতে হবে।
যন্তর মন্তরে যখন ছাত্ররা অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে যখন সংসদ চলো অভিযানে সামিল হয়েছিলেন তখন একটা দৃশ্য দেখা গেছে যা নিয়ে হয়ত সেই সময়ে আমরা অনেকেই হাসাহাসি করেছি তা হল অনেকেই নানান মুখোশ, নানান ভাবে সেজে ঐ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। তখন হয়ত আমরা বুঝতে পারিনি, যে ছাত্রযুবরা কি শুধুমাত্র মজা করার জন্য ঐরকম সেজে এসেছিলেন? না একেবারেই তা নয়। সবকিছুই রেকর্ড করা হচ্ছিল। তা থেকে বাঁচবার জন্যেই অনেকেই ঐরকম সেজে এসেছিলেন।
বর্ধমান স্টেশনে চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থেকে নামার পরও খবরের কাগজটা দু’হাতের তালুতে দুমড়ে-মুচড়ে ধরে রাখল রণজয়। কাগজের ভেতরের পাতায় চার লাইনের একটা ছোট খবর ছিল। খবরটা পড়ার পর থেকেই তার চশমার কাচ দুটো তীব্র বাষ্পে ঝাপসা হয়ে উঠছে।
প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ ও কাজের বাজারের সঙ্গে সংযুক্তিহীনতা সরকারি স্কুল সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে এক নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।ভোটের ডিউটি হোক বা জনগণণা, এসআইআর হোক বা অন্য কাজে শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজে লাগানোর ফলে স্বাভাবিক ভাবে স্কুলে পঠন-পাঠনের মান নেমে যায়। এই অবস্থায় অনেক কম পরিকাঠামো নিয়ে আসরে উপস্থিত হয় প্রাইভেট স্কুল। সেই জন্যেই কি সরকারি স্কুলগুলো এইরকম ধুঁকছে?
মার্কস বলেছিলেন ধর্ম আফিম। জেন জি যোগ করল: রাষ্ট্রের ভয়টাও আফিম। মায়ানমার ২০০৭-এর বৌদ্ধ সন্যাসী, লাতিন আমেরিকার লিবারেশন থিওলজি, সুফিদের জিকির - সব ভাষা কিন্তু আলাদা, সুর একটাই: মুক্তি। বাংলার বামপন্থী সংগঠনগুলোকেও এখন মানতে হচ্ছে: 'সংগঠিত চেতনা' এক এবং একমাত্র মন্ত্র না। স্বতঃস্ফূর্ততাকেও মান্যতা দিতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের পরিসর অনেক বড়।