হাতিকে কেন্দ্র করে কেবল রাজকীয় শক্তির প্রকাশ ঘটেনি, বরং গভীর আধ্যাত্মিক এবং অনুভূতিমূলক শিল্পকর্মও সৃষ্টি হয়েছে। তেমনই এক অনন্য টেরাকোটা মোটিফ হলো ‘নবনারীকুঞ্জ’। তাছাড়া টেরাকোটা চিত্রে হাতির প্যানেল ও শিকারের দৃশ্যে হাতির বিবরণ উঠে আসে। বাংলায় বিষ্ণুপুর, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমানে এমন টেরাকোটা চিত্র পাওয়া যায়।
যুদ্ধটা খুব নতুন কিছু নয়। যুদ্ধটা সবসময় হয়েছে এবং যুদ্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে একটা ক্ষমতা বা আধিপত্যের বিস্তার। আর যার শক্তি আছে সে শক্তিহীন যে সমস্ত দেশগুলো রয়েছে বা জাতি রাষ্ট্র রয়েছে, সেখান থেকে লুণ্ঠন করা এবং নিজেদের অর্থনীতি বা নিজেদের সামাজিক যে গঠন, তাকে আরো শক্তিশালী করা।
পরিবেশ আন্দোলন আসলে সরব হয়েছে উন্নয়নের বিরূদ্ধে নয় – তাঁরা বিরোধ করে এসেছেন উন্নয়নের সেই রাজনীতিকে, যা জংগল, পাহাড়, নদীর মত সামুদায়িক সম্পদকে ইচ্ছে মত ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে মত। পুনর্বাসনের পরিকল্পনা না করে বড় বাঁধ, স্থনীয় মানুষের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় না গিয়ে কয়লা খনি, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চওড়া হাইওয়ে – এই সবই আসলে অপরিণামদর্শীতা।
ফ্যাসিস্ট শক্তি তার রূপ বদলে খানিক যুগোপযোগী করে নিলেও গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণ অবাধ। অর্থাৎ মানুষ চায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রকৃত নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা শাসক নির্বাচিত করবে এবং সাধারণ মানুষের এই অসামান্য ক্ষমতার চাহিদা চূড়ান্ত ও আপোষহীন। বর্তমানে ফ্যাসিস্টরাও কোন সুযোগে একবার ভোটে জিতে আর ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। গণতান্ত্রিক সমস্ত শক্তি কি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট শাসকদের মাত করতে পারবে?
বিভাজনের রাজনীতি বৃদ্ধিকে থমকে দেয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে দেশের মাঠপর্যায় পর্যন্ত—সর্বত্রই কৃষি উন্নয়ন, মাটির সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব চাষে মুসলিম চাষিদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ প্রশাসনিক স্বীকৃতিতে যখন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তখন তা অর্থনৈতিক প্রগতির পথকেই রুদ্ধ করে। স্বাধীনতা দিবসের দিন, রাজ্যপালের কৃষকদের সম্মান জানানোর সময়ে, না হলে বাংলার একজনও মুসলমান কৃষক পাওয়া যায় না, তা কি হতে পারে?
প্রায় নিভু নিভু করেও জ্বালিয়ে রাখা নীল আগুনের উপরে লোহার কড়াইয়ের ভিতর হালকা বাদামি হয়ে ওঠা তরল ঘিয়ে গোটা গরম মশলার ফোড়ন পড়ার গন্ধ জানলা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে রাস্তার টিপ কলের তলে জমা জলের ভিতর মুখ ডুবানো পাড়ার ল্যাংড়া কালো বিড়াল কয়লার নাকে গেলে তার কি করে গত সপ্তাহের নলির হাড় চিবানোর স্মৃতি মনে আসে সে এক আশ্চর্য ব্যাপার।
এই সাতলুজ কিন্তু সিনেমা সহজে মুক্তি পায়নি। প্রথমে নাম ছিল Punjab 95। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন একশো সাতাশটি 'কাট' চাইল। প্রযোজকরা মানলেন না। আদালতে গেলেন। প্রায় তিন বছর পর ২০২৬ এ এসে ৩রা জুলাই ছবিটি জি ফাইভে (ZEE 5) এল। নাম হল সাতলুজ। কোনো কাট ছিল না। মুক্তির আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ভারত সরকার তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ম ২০২১ এর ধারা ৩ ব্যবহার করে ছবিটি ব্লক করার নির্দেশ দিল। সিনেমা না হলে এই গল্পটি হারিয়ে যেত। রাষ্ট্র এখন সেই সিনেমাকেও হারাতে চাইছে। কিন্তু কেন?
যে শাসক একদিন নেতাজীকে নিয়ে গদগদ ভাব দেখিয়েছিলেন৷ দিল্লিতে বড় আয়োজন করে বলেছিলেন নেতাজীর সমস্ত অপ্রকাশিত নথি প্রকাশ করা হবে, বাঙালি আবেগে তখন নাগপুরীয় চাড্ডি পরে নাচতে শুরু করেছিল৷ আজকে নেতাজিকে অপমান করছে তার দলের একজন সাংসদ ৷ তিনি রাজ্যসভার একজন সদস্য৷ তবুও নীরবতা চলছে৷ গুজরাটি বা হিন্দুস্থানীরা নয় ৷ খোদ সনাতনী বাঙালিরা নেতাজীকে ব্রিটিশের দালাল বলছে৷
কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ। সকালের বাতাসে হিমের ছোঁয়া, শীতের আগমনী বার্তা। রাস্তার দু’পাশে ধানগাছগুলোতে সোনালি রং লেগেছে, যেন মাটির বুক জুড়ে কেউ সোনার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এবারের ফলন ভালোই হয়েছ,বেশ খুশি মনে হারান পুকুরের দিকে যাচ্ছিল।
ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রিলে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে স্লোগান ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আসলে এটি বিগত ২৩ -২৪ বছরে মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলা। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে এবং তারা যে ভারতকে দেখেন তা বিশ্বের তুলনায় বেশ খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ছিল তাদের প্রথম খেলার মাঠ। আপনি তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না।
ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রিলে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে স্লোগান ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আসলে এটি বিগত ২৩ -২৪ বছরে মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলা। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে এবং তারা যে ভারতকে দেখেন তা বিশ্বের তুলনায় বেশ খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ছিল তাদের প্রথম খেলার মাঠ। আপনি তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না।
কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ। সকালের বাতাসে হিমের ছোঁয়া, শীতের আগমনী বার্তা। রাস্তার দু’পাশে ধানগাছগুলোতে সোনালি রং লেগেছে, যেন মাটির বুক জুড়ে কেউ সোনার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এবারের ফলন ভালোই হয়েছ,বেশ খুশি মনে হারান পুকুরের দিকে যাচ্ছিল।
২০২৪ সালের চটকল ত্রিপাক্ষিক চুক্তি’র পর থেকে কারখানার ভেতরে ভয়ংকর বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা মত পুরোনো মেশিন (মোটা, হাঁসিয়া) উপড়ে ফেলতে শুরু করে। পুরোনো শ্রমিকদের আরও মজুরি কমিয়ে গায়ের জোরে ‘বিভাগ বদলি’ করে নতুন মেশিনে কাজ শিখতে পাঠায়। “ঘরের ছেলে ঘর দেখভালের দায়িত্ব পেলেন, ঘরের লোকেদের অবস্থা ভালো হবে” — জুন মাসের মাঝামাঝি সময় এই কথাই বলেছিলেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ কিছু শ্রমিকেরা। এখন কী অবস্থা চটকল এবং সেখানকার শ্রমিকদের?
যখন রাজ্যগুলিই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রধান দায়িত্ব বহন করে, তখন রাজ্য সরকারগুলিকে এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি নিজেরাই পরিচালনা করতে দেওয়া উচিত। তাই শিক্ষাকে যৌথ তালিকা থেকে ফিরিয়ে রাজ্য তালিকায় আনা উচিত। সেক্ষেত্রে রাজ্যগুলি শিক্ষার ফলাফলের জন্য আরও দায়বদ্ধ হবে, যার ফলে আরও ভাল শাসন ও পরিচালনা সম্ভব। রাজ্যগুলি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নীতি তৈরি করতে পারবে।
গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! কিন্তু আজকের সময়ে উল্টোটাই সত্যি, লেখা পড়া করার জন্যেই প্রতিবাদ করতে হবে।
যন্তর মন্তরে যখন ছাত্ররা অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে যখন সংসদ চলো অভিযানে সামিল হয়েছিলেন তখন একটা দৃশ্য দেখা গেছে যা নিয়ে হয়ত সেই সময়ে আমরা অনেকেই হাসাহাসি করেছি তা হল অনেকেই নানান মুখোশ, নানান ভাবে সেজে ঐ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। তখন হয়ত আমরা বুঝতে পারিনি, যে ছাত্রযুবরা কি শুধুমাত্র মজা করার জন্য ঐরকম সেজে এসেছিলেন? না একেবারেই তা নয়। সবকিছুই রেকর্ড করা হচ্ছিল। তা থেকে বাঁচবার জন্যেই অনেকেই ঐরকম সেজে এসেছিলেন।