বিকেল শেষ হয়ে আসছে। সন্ধ্যা আসন্ন। ইনসান আলি বসে আছে তার বাড়ির বৈঠক-বারান্দায় একটি চেয়ারে। সামনে চলমান রাস্তা। মানুষ হাঁটছে কম। সাইকেল চলছে আরও কম। তবে বেশি বেশি চলছে টোটো, মোটরবাইক আর চারচাকা। মাঝে মধ্যে ছোট লরি। এই মফস্বলে ‘হাতি’ নামে যার পরিচিতি।
চন্দ্রতালে তখন নীল আকাশের ছায়া, পাশে খাড়া দাঁড়িয়ে ধূ ধূ রুক্ষ পাহাড়। চন্দ্রতালের রঙ কখনো সবুজ, কখনো নীল। আমি বলি, সে এক অপূর্ব দৃশ্য। সুহৃদ ছোট্ট করে বলে হু।
‘লোকটাকে আমি একদিন মেরেই ফেলব।‘ প্যান্টের পিছন দিকে ঝালমুড়ির হাতটা মুছতে মুছতে খুব ঠাণ্ডা স্থির গলায় বলে গজাল। আঁতকে উঠে ওর দিকে তাকাই। ও কাকে মারার কথা ভাবছে, সেটা আমি জানি। এখুনি সামনে দিয়ে গেছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে একটা লাজুক হাসিও দিয়েছে। সামনের দাঁতগুলো গুঠখা, বিড়ি খেয়ে একদম কালো। ‘লোকটাকে আমি একদিন মেরেই ফেলব।‘ প্যান্টের পিছন দিকে ঝালমুড়ির হাতটা মুছতে মুছতে খুব ঠাণ্ডা স্থির গলায় বলে গজাল। আঁতকে উঠে ওর দিকে তাকাই। ও কাকে মারার কথা ভাবছে, সেটা আমি জানি। এখুনি সামনে দিয়ে গেছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে একটা লাজুক হাসিও দিয়েছে। সামনের দাঁতগুলো গুঠখা, বিড়ি খেয়ে একদম কালো।
কথাটা শুনে নিশারের মাথাটা কেমন যেন হালকা হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মাথা ঘুরে পড়বে। সামনে প্রায় বুক অবধি উঁচু কাউন্টার। দু'পাশে স্টিলের দুটো স্ট্যান্ড যাতে লাল ফিতে বাধা, লাইনগুলো আলাদা করার জন্য। ঝুঁকে পড়লো সে কাউন্টার। দুটো হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো কাউন্টারের প্লাইটপ। লোকটা কথাটা বলে আবার মন দিয়েছে নিজের ডেস্কের কম্পিউটারে। এসি চলছে। তবু ঘাম হচ্ছে নিশারের।
স্নেহ যে আজ পরীক্ষা কেমন দিল কে জানে ! এত ফোকাসের অভাব। পড়তে বসে একবার উঠবে, জল খাবে। একবার উঠবে, ওয়াশরুম যাবে। একবার উঠবে, হেড ফোন খুঁজবে। প্রতিদিন অফিসের পর ভাল লাগে এই লড়াই করতে? কিছু বলতে গেলে, শাসন করতে গেলেই ছেলের গোসা। মুখে মুখে তর্ক।আজকাল ছেলেপিলেদের এত সাহস হয় কী করে? আমরা তো…যাক গে।
অফিসের দামী কাচের দেওয়ালের ওপারে তখন পড়ন্ত বিকেলের আদুরে রোদ। বিদেশের বিকেল—নির্মল, ঠান্ডা, হিসেবি। গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়েছে, রাস্তা ভরে গেছে কমলা রঙের কার্পেটে। সবকিছু সুন্দর, ছবির মতো।
SIR-কে শুধু ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে বিষয়টির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গভীরতা ধরা পড়ে না। ভোটার তালিকা কোনও সাধারণ সরকারি ডেটাবেস নয়। সেটি নাগরিকের নির্বাচনী অস্তিত্বের নথি। সেখানে নাম থাকা মানে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার কার্যকর থাকা; নাম না থাকা মানে সেই অধিকারটি বাস্তবে প্রয়োগ করতে না পারা। ফলে একটি নাম মুছে দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব একটি সাধারণ ডেটা-সংশোধনের চেয়ে অনেক বেশি।
যন্তরমন্তর আন্দোলনের সময় অথবা আমাদের দেশে সাম্প্রতিককালের যেকোনো আন্দোলনের সময় বারবারই আমরা গান্ধীর কথা স্মরণ করছি। তার একটি কারণ অবশ্যই অহিংস আন্দোলন এবং আরেকটি হলো অনশন সত্যাগ্রহ ।এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ভেবে দেখতে পারি আজকের জেন জি আন্দোলনের সাথে গান্ধীর সম্পর্ক কীরকম ত হতে পারে।
নির্মমভাবে দমন-পীড়নকারী এমন সব একনায়ক কেন্দ্রিক বা নির্বাচনী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যই হলো যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে, মতাদর্শভিত্তিক দলীয় কাঠামোর বাইরে, গণতন্ত্রপ্রেমী জন-আন্দোলনগুলো সংগঠিতভাবে তীব্র জন-অসন্তোষ প্রকাশ এবং স্বৈরাচারী সরকার পতনের লক্ষ্যে অহিংস রাজনীতিকেই অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিয়েছে, আর সেই আন্দোলনে সহিংসতার বিরুদ্ধে পাল্টা সহিংসতায় উত্তর দেওয়ার বদলে বিদ্রুপ করেন রাষ্ট্রের হিংস্রতাকে।
একশ বছর আগে রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে উঠে এসেছে আজকের দিনের ভয়ানক পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট চালচিত্র। বিপন্ন হিমালয় ও আরাবল্লি পর্বতরাজি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেলে ভারত সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বৃহৎ অঞ্চল রূখাশুখা মরুভূমি বই অন্য কিছু নয়। প্রকৃতি প্রেমিক রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ ও সংগীতে প্রকৃতি ভাবনা নিয়ে এই লেখা নিশ্চিত পাঠক পড়বেন। আজ প্রথম পর্ব।
একশ বছর আগে রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে উঠে এসেছে আজকের দিনের ভয়ানক পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট চালচিত্র। বিপন্ন হিমালয় ও আরাবল্লি পর্বতরাজি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেলে ভারত সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বৃহৎ অঞ্চল রূখাশুখা মরুভূমি বই অন্য কিছু নয়। প্রকৃতি প্রেমিক রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ ও সংগীতে প্রকৃতি ভাবনা নিয়ে এই লেখা নিশ্চিত পাঠক পড়বেন। আজ প্রথম পর্ব।
নির্মমভাবে দমন-পীড়নকারী এমন সব একনায়ক কেন্দ্রিক বা নির্বাচনী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যই হলো যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে, মতাদর্শভিত্তিক দলীয় কাঠামোর বাইরে, গণতন্ত্রপ্রেমী জন-আন্দোলনগুলো সংগঠিতভাবে তীব্র জন-অসন্তোষ প্রকাশ এবং স্বৈরাচারী সরকার পতনের লক্ষ্যে অহিংস রাজনীতিকেই অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিয়েছে, আর সেই আন্দোলনে সহিংসতার বিরুদ্ধে পাল্টা সহিংসতায় উত্তর দেওয়ার বদলে বিদ্রুপ করেন রাষ্ট্রের হিংস্রতাকে।
২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পৃথিবীব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর গড়ে ৪.৭ মিলিমিটার করে বাড়লেও, ২০২৪ সালে তা লাফিয়ে রেকর্ড ৫.৯ মিলিমিটারে গিয়ে ঠেকেছে—যা স্পষ্ট করে দেয় যে জলস্তর এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়ংকর গতিতে বাড়ছে। শতাব্দীর শেষ অর্থাৎ ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর কমপক্ষে ০.৫৫ মিটার থেকে শুরু করে চরম পরিস্থিতিতে ১ মিটার বা তারও বেশি উঁচুতে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, কী হতে পারে তাহলে? আন্দাজ করলেই ভয় লাগছে না?
গত এপ্রিল-জুন তিনমাসের উপসাগরীয় যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিস্থিতিতেও দেশের জিডিপি তার আগের বছরের ওই সময়ের জিডিপির তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে। আবারো ভক্তবৃন্দ দলে দলে নাম সঙ্কীর্তন করতে নেমে পড়েছেন। ওদিকে মোদি সরকারের পূর্বতন অর্থসচিব শ্রী সুভাষ চন্দ্র গর্গ জিডিপির বৃদ্ধির হার নিয়ে টিপ্পনি কেটেছেন। তাহলে সত্যিটা কী? যা বলা হয়, না তার পিছনেও কোনও সত্যি আছে?
আজ সহমনের গল্প বিভাগে থাকল, ৩ টি অণুগল্প
১৯৩০ সালে যখন ইউরোপে মুসোলিনির কালো জামা বাহিনী কুচকাওয়াজ করছে, তখন ভারতে হিন্দু মহাসভার নেতা ডা. বি এস মুঞ্জে ইউরোপ ঘুরে এসে নাসিকে ভোঁসলা মিলিটারি স্কুল বানাচ্ছেন। অন্যদিকে জওহরলাল নেহেরু তার কন্যা ইন্দিরাকে লেখা চিঠিতে বলছেন এই সামরিকীকরণ, এই ইউনিফর্ম, এই কুচকাওয়াজের মধ্যেই ফ্যাসিবাদের ছায়া আছে। তখন থেকেই শুরু। এরপর প্রতিটি দশকে এই 'শব্দ'টি হাতবদল হয়েই চলেছে।