পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

বঙ্গের গুণ্ডা দমন ২০২৬ : বিরোধী দমন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিল দুটিতে অনুমোদন দিয়েছেন। গুণ্ডা দমন বিল পেশ করার সময় নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি কথা দিচ্ছেন এই আইন কখনই রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু তা কি সম্ভব? ইতিহাস কিংবা সমাজবিজ্ঞান কি তাই বলে?

বিবর্তন, ধর্ষণ, সংস্কার এবং এনকাউন্টার - একটি সামান্য আলোচনা

আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এনকাউন্টার সংস্কৃতি একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের (তিনি অপরাধী হলেও) আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এনকাউন্টারের মাধ্যমে পুলিশ নিজেই একই সাথে তদন্তকারী, বিচারক এবং জল্লাদের ভূমিকা পালন করে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ভয় আর ভয়

বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোদী মিডিয়া বেশ কিছু দিন ধরে অনবরত প্রচার করছিল, যে তিনি এই ভীড়কে উস্কেছেন, অথচ ঘটনা পরম্পরা তা বলে না। এই একই পদ্ধতিতে উমর খালিদ, কানহাইয়া কুমারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে কানহাইয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। উমর এখনো জেলে। এরপর পশ্চিমবঙ্গে নতুন গুন্ডা দমন বিল আসছে। এটাও তো সেই ভয় দেখানোই। যখন শাসকদল নিজেরাই ভীড়তন্ত্রকে মদত দিচ্ছে, তখন এই ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য কী?

ছায়া ভূত

মহিম গাঙ্গুলী ব্রাঞ্চে ঢুকতেই নানান ব্যস্ততার মধ্যেও যথারীতি তাকে লক্ষ্য করল ২২ বছর ধরে কর্মরত গ্রুপ স্টাফ সুরেশ যশ।আসুন আসুন, বসুন-বলে তার দিকে এগিয়ে গেল।মহিম বাবুও ব্যস্ততার সঙ্গে বলল–“না না আজ বুসার বেশি সময় লাই,ই রাস্তা পেরিয়ে যাছিলুম ,ভাবলুম তুদের নতুন ম্যানেজার এয়েছে তাই একবার দেখাক করে যাই”।

ফুটবল : আ পলিটিক্যাল গেম

২০০৫ সালে আইভরি কোস্টের কিংবদন্তি ফুটবলার দিদিয়ের দ্রোগবা ও তাঁর সতীর্থরা জাতীয় টেলিভিশনে হাঁটু গেড়ে বসে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অস্ত্র ত্যাগ করার এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানান। তারা বলেন, "আফ্রিকার মতো এতগুলো দেশ নিয়ে গঠিত একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হতে পারে না।" হাঁটু গেড়ে বসা নতমস্তক ফুটবলাদের ভালোবাসার বাণী মেনে নেয়ে দুই পক্ষ। তাই ফুটবল সেদিনও ছিল একটা রাজনৈতিক খেলা আর আজকের বিশ্বকাপ দেখেও সেটাই মনে হচ্ছে।

মব, ক্রাউড ও ডিম ইতিবৃত্ত

মব ভায়োলেন্সের শিকার হয় আর্থিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও লিঙ্গ রাজনীতির প্রান্তিক লোকজনেরা। ভারতে ডাইনি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা নতুন কোনও বিষয় নয়। কোনো নারী একটু নিয়মের বাইরে গিয়ে বিরুদ্ধাচরণ করলেই তাকে দাগিয়ে দাও চরিত্রহীন বলে আর সেই নারীর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলো উন্মত্ত জনতাকে। রাজনৈতিক নেতাদের মদতে বাড়তে থাকা ঘৃণার আবহে ডিম ছুঁড়ে মারা, কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর স্বাভাবিক বলে মান্যতা পেলে তার ফল ভুগতে হবে কিন্তু সবাইকেই।

তফাৎ ছিল, তফাৎ থাকবে

বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এক নতুন বিতর্ক উস্কিয়ে দিয়েছেন। নতুন নয়, পুরনো কথাই। তবে যেহেতু সরকারে এসেছেন, তাই নতুন করে বলেছেন। শমীকবাবু বলেছেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের 'গুণ্ডা'রা শ্যামাপ্রসাদের মাথায় পাথর ছুড়ে তাঁকে রক্তাক্ত করেছিলেন৷ সরাসরি নাম না করেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করলেন। খুব সচেতনভাবেই ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হচ্ছে। সুভাষচন্দ্র বসুকে যাঁরা শ্রদ্ধা করেন, তাঁরা শমীক ভট্টাচার্যের কাছে জবাবদিহি চাইবেন না? জানতে চাইবেন না, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে আদৌ তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না কি?

উচ্ছেদ ও আন্দোলন — হকাররা ব্যবসায়িক অধিকার ফিরে পাবেন?

রেল স্টেশনের অধিকাংশ হকার'রা এখন বলছেন, আর.এস.এস ও বিজেপি পুঁজিপতিদের সরকার, আমাদের নয়। যখন একদিকে হকার উচ্ছেদ হচ্ছে তখন অন্যদিকে অধিকার থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে বাদ গেছে, তাঁরাও তো উচ্ছেদ হচ্ছেন। সমস্ত রকম উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আন্দোলন আরো সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন, কিন্তু তা হচ্ছে কি? শুধু আইনি লড়াই কি এই আন্দোলনকে দিশা দেখাতে পারে, নাকি অন্যরকম কিছু ভাবনার প্রয়োজন আছে?

আরও পুরানো লেখাগুলি

মাছে ভাতে বাঙালিকে নিরামিষাশী বানানোটাই উদ্দেশ্য ?

দেশের অর্থনীতি যত দুর্বল হয়েছে, বেকারত্বের সংকট যত বৃদ্ধি পেয়েছে, সময়ের সাথে রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র, কলকাতা শহরের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের প্রয়োজনীয়তার ছবিও বদলেছে। আগে অনেক অভিভাবক বলতেন, কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিল খাওয়ানোর কী দরকার? গ্রামের স্কুলগুলোতে খাওয়ালে ওরা একটু বেশি খেতে পায়! লকডাউনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর আজ এ'কথা বলতে পারেন, এমন অভিভাবকের সংখ্যা নিঃসন্দেহে কমেছে।

'সর্দার উধম': সমকালীন সময়ে ইতিহাস-পাঠের রাজনীতি

উধমের ২১ বছরের অপেক্ষা সেই ক্ষয়েরই গল্প। আদালতের জবানবন্দিতে উধম যখন বলেন, “I did it for my country, and my country is not just India”, তখন তিনি জাতি-রাষ্ট্রের সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমানা ভেঙে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী এক আন্তর্জাতিক সংহতির কথা বলেন। সর্দার উধম বলিউডের প্রচলিত বায়োপিকের চেনা ছক ভেঙে ইতিহাসকে ‘অনুভব’ করায়। এটা শহিদ নির্মাণ করে না, শহিদ হওয়ার দামটা দেখায়। তাই ছবিটির সারকথা: এটি ‘আজকের ভারতে একটি জরুরি সাংস্কৃতিক স্মারক’।

আখ্যান

'সর্দার উধম': সমকালীন সময়ে ইতিহাস-পাঠের রাজনীতি

উধমের ২১ বছরের অপেক্ষা সেই ক্ষয়েরই গল্প। আদালতের জবানবন্দিতে উধম যখন বলেন, “I did it for my country, and my country is not just India”, তখন তিনি জাতি-রাষ্ট্রের সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমানা ভেঙে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী এক আন্তর্জাতিক সংহতির কথা বলেন। সর্দার উধম বলিউডের প্রচলিত বায়োপিকের চেনা ছক ভেঙে ইতিহাসকে ‘অনুভব’ করায়। এটা শহিদ নির্মাণ করে না, শহিদ হওয়ার দামটা দেখায়। তাই ছবিটির সারকথা: এটি ‘আজকের ভারতে একটি জরুরি সাংস্কৃতিক স্মারক’।

মাছে ভাতে বাঙালিকে নিরামিষাশী বানানোটাই উদ্দেশ্য ?

দেশের অর্থনীতি যত দুর্বল হয়েছে, বেকারত্বের সংকট যত বৃদ্ধি পেয়েছে, সময়ের সাথে রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র, কলকাতা শহরের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের প্রয়োজনীয়তার ছবিও বদলেছে। আগে অনেক অভিভাবক বলতেন, কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিল খাওয়ানোর কী দরকার? গ্রামের স্কুলগুলোতে খাওয়ালে ওরা একটু বেশি খেতে পায়! লকডাউনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর আজ এ'কথা বলতে পারেন, এমন অভিভাবকের সংখ্যা নিঃসন্দেহে কমেছে।

ভরসা নয়, ভাঁওতার বাজেট

এবারের রাজ্য বাজেটকে যুগান্তকারী অর্ধ শতাব্দীর বাম-তৃণমূলের অপশাসনের জমানার পরে সুশাসনের ও শিল্প বান্ধব পুঁজি গঠনকারী বাজেট বলে প্রচার মাধ্যমে শোরগোল পড়ে গেছে। এই বাজেটের আগে প্রাক্তন সরকার নির্বাচন পূর্ববর্তী একটি অন্তর্বর্তী পুরো ২০২৬-২৭ সালের বাজেট পেশ করেছিল। ঐরূপ অন্তর্বর্তী বাজেটে বেশ কিছু বরাদ্দ অসম্পূর্ণ থাকে তাই সেটির বরাদ্দের পরিমাণ কম থাকে। তবুও সেটিকেই মাপকাঠি ধরে আলোচনা করতে গেলে দেখা যাবে এটি ভরসা নয়, ভাঁওতার বাজেট।

ভয়

স্কুলে এলেই হামিদ ভয় পায়। বিশেষ করে স্কুলের ওই পরিত্যক্ত ঘরটা- যার পেছন দিকে সবুজ ঘাসে ঢাকা বিশাল গোরস্থান- মানুষ মরলে যেখানে মানুষের লাশ নিয়ে গিয়ে সবাই গোর দেয়। যখন ইস্কুলের পেছন দিকে পরিত্যক্ত ওই ঘরটার দিকে হামিদের চোখ যায়, গোরস্থানের ওপরেও তার দৃষ্টি পড়ে, তার বুকের ভেতরটা শূণ্য হয়ে যায়। কেমন যেন শিরশির করে ওঠে। কলিজা ঠান্ডা মেরে যায়। গলা শুকিয়ে আসে। ভয়ে সে তখন দোস্ত মতিকে জড়িয়ে ধরে।

সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ - নামবদল না ইতিহাস বদল? পর্ব ৫-৬

RSS নামে সংগঠনের ঐতিহাসিক উৎস কোথায়?এবং ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল? এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বৈধতার অন্যতম উৎস হলো স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তরাধিকার। যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। ফলে RSS-এর ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকার প্রশ্নটি শুধু অতীতের নয়; বর্তমানেরও প্রশ্ন। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ থেকে সমকালীন বাংলার রাষ্ট্র, ইতিহাস ও গণতন্ত্র পর্ব ৫-৬ সেই ইতিহাসকে ফিরে দেখার চেষ্টা।

সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ - নামবদল না ইতিহাস বদল? পর্ব ৩-৪

একজন ইতিহাসবিদ যখন শ্যামাপ্রসাদকে দেখেন, তখন তিনি ১৯৪০-এর দশকের রাজনৈতিক সংকট, দেশভাগের বাস্তবতা, হিন্দু মহাসভার ভূমিকা, কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ এবং স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়া—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করেনকিন্তু রাজনৈতিক স্মৃতি সাধারণত এত ধৈর্যশীল নয়। স্মৃতি বেছে নেয়। কিছু ঘটনাকে উজ্জ্বল করে। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ থেকে সমকালীন বাংলার রাষ্ট্র, ইতিহাস ও গণতন্ত্র পর্ব ৩-৪ পর্বে সেই ইতিহাসকে খুঁজে দেখার চেষ্টা।