পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

অন্যান্য পোস্ট

ফিরে গেলো ফেরিওয়ালা বলে গেলোনা

অনলাইনে মোচা পৌঁছে যায় ডোর টু ডোর । হাফদামে লেগিংস, কুর্তা, প্লাজো পেয়ে উদ্বেল জেন এক্স । অথচ চোখের সামনে ম‍্যাজিকের মত উধাও হল শহরের ফেরিওয়ালা । ফুটপাথ জুড়ে ছড়িয়ে বসা ক্ষুদ্র দোকানি মাথা নীচু করে ফিরে গেল গ্রামে ।

আমাকে খুঁজে দে জলফড়িং

টার্গেটের সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে আর ইয়েতির মত বসটার লাল চোখ দেখে কোনোমতে রাতজাগা কফিময় সপ্তাহটা কাটলো। রবিবারের ক্যাবলা বিকেলটার মাদকতাই আলাদা,অনেকটা অবৈধ প্রেমিকের মত! অন্য সপ্তাহগুলোর মত ল্যাদ খেয়ে পড়ে না থেকে নিজেকে বললাম--"জাগো বাঙালী জাগো,কবে আর বাঁচতে শিখবে...." ইত্যাদি! গুগলদা আসার পর থেকে দিকশূন্যপুরে হারিয়ে যাওয়ার বিলাসিতা করা হয়নি অনেকদিন,তাই ফোনটাকে বাড়ি রেখে "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া" গোছের একটা হাবভাব করে গলি খুঁজতে বেরিয়ে পড়লাম!

আন্দোলনজীবীদের’ আন্দোলনের বর্ষপূর্তি

আমাদের দেশে যে কোনও জোরালো আন্দোলন ভাঙ্গার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে তাতে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করা। বৃটিশদের দেখানো সেই চিরাচরিত পথে শাসকরা গত পঁচাত্তর বছর ধরে বিভিন্ন আন্দোলন ধূর্তভাবে দমন করেছে। গত মে মাস থেকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ বেড়ে যায়। গোরক্ষার নামে, নানা অজুহাতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ হয়েছে, তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছে এমনকি খুনও হয়েছে। কিন্তু তাও তাঁরা সফল হননি, আজকে কিছুদিন পর সেই কৃষক আন্দোলনের বর্ষপুর্তি হবে।

গান্ধী-সাভারকার বিতর্ক: ইতিহাসের সাক্ষ্যই শেষ কথা

সাভারকারের জাতি বিদ্বেষী তত্ত্বের ভিত্তিতে তৈরি হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণা যে আদতে একটি কাল্পনিক, অবাস্তব রাষ্ট্র সে সম্পর্কে যত তাড়াতাড়ি বোধোদয় ঘটে ততই মঙ্গল। হিন্দ স্বরাজের গান্ধীর সঙ্গে হিন্দু রাষ্ট্রের সাভারকারকে যুক্ত করার অপচেষ্টা চলছে। যে গান্ধীকে হত্যা করল আরএসএস, তাদের মতবাদের কারিগরকে গান্ধীর সঙ্গে জুড়ে দিলেই ইতিহাস বদলে দেওয়া যাবে না।

শেষ দেখা

হাওড়া জেলার নারিকেলদহ গ্রামে আমাদের পৈতৃক বাড়িটা পেল্লায় বড়। দোতলায় আটটা শোবার ঘর। তারই মধ্যে বাড়ির পশ্চিম দিকে দুটো ঘর নিয়ে থাকে আমার জ্যাঠতুতো দাদা, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। আর থাকে ওর ল্যাব্রাডর কুকুর কালু। কালু নামটা বড়ই বেমানান কারণ কুকুরটা ধপধপে সাদা। বাড়ির পূর্ব দিকটা বেশির ভাগ সময় তালা দেওয়াই থাকে। নিচের তলায়, মানে একতলায়, বেশির ভাগ ঘরই ভাড়া দেওয়া। ছোট ছোট পরিবার। তাদের ছেলেমেয়েরা সবে থ্রী -ফোর এ উঠেছে।

ভারতের মাদকবিরোধী আইন: প্রয়োজন আমূল সংস্কার

খুব কম করে বললেও ভারতবর্ষে মাদকাসক্তির চিকিৎসা এখনও ভয়াবহ রকমের মধ্যযুগীয়। একজন “ সামাজিক মদ্যপায়ী” এবং মদ্যপের মধ্যে যে ফারাক আছে একজন বিনোদনমূলক ব্যবহারকারী ও একজন মাদকাসক্তের ফারাক তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি। নতুন আইনে মাদকাসক্ত রেহাই পাবেন কিন্তু বিনোদনের জন্য মাদক ব্যবহারকারী পাবেন না? তবে কি বিনোদনের জন্য মাদক ব্যবহারকারীর শাস্তির হাত থেকে বাঁচার একমাত্র রাস্তা নিজেকে আসক্ত বলে মেনে নেওয়া? সাম্প্রতিক শাহরুখ খানের ছেলেকে নিয়ে যা হল, তাকে কিভাবে দেখলেন রনি সেন

পিঠেতে খাবার বোঝা তবু খাবার যাবে না ছোঁয়া

২০২০ সালের কালান্তক ভাইরাস ও লকডাউন নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে অ্যাপনির্ভর তথাকথিত স্বাধীন পেশার পরিষেবা শ্রমিকদের। ইতিউতি চালু হওয়া মাত্র ‘ডেলিভারি পার্টনার’রা ভিড় করে আছেন রেস্টুরেন্টের সামনে, গত বছরের জুলাই মাস থেকে, কিন্তু সেই মত অর্ডার আসছে কোথায় ? কিভাবে চলছে তাঁদের? যে স্বপ্ন দেখতে গিয়ে, এই যুবক যুবতীরা এই ডেলিভারি পার্টনার হয়ে উঠেছিলেন, তাঁরা কি ভালো আছেন আজকে?

তাবিজ

বাপের জম্মে ব্যবসা এত মন্দা যায়নি নিতাই দাসের। অজ পাড়া গাঁ হাটবারে মাঠের মধ্যে বট গাছের নীচে দোকানের বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে ব্যবসা করে নিতাই। এই ভরা বর্ষায় মরশুমে এভাবে অস্থায়ী দোকান বসাতে খুব অসুবিধে হয় ঠিকই কিন্তু অন্যান্য বছর খদ্দের থাকে এই সময়টাতেই। কত গ্রামের লোকের কত সমস্যা। সব সমস্যার সমাধানই মজুত নিতাই দাসের কাছে। এভাবে গ্রামে গ্রামে হাটবারে দোকান খুলে বসলেও পলার পার গ্রামের গোবিন হালাইয়ের চা স্টলেই নিতাইয়ের মূল ঘাঁটি।

নিয়মিত কলাম

পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস ও দোসর-পুঁজি

পুঁজিপতিরা প্রাণীজগতের সাধারণ সম্পত্তি, জল-জঙ্গল-জমি-বাতাসকে নিজেদের মালিকানার আওতায় এনে, সেগুলিকে ফোকটে-পাওয়া-পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে মুনাফা করতে চাইছে। এই কাজে সে দেশে দেশে পুঁজি-বান্ধব সরকার গঠনে পুরোদমে নেমে পড়েছে। রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে পুঁজির দোসর, চলছে দোসর-পুঁজি আর রাষ্ট্রের যুগলবন্দী!

ব্রহ্মতেজ ও বাণী

অ্যান্টিন্যাশনালরা বলছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সরকার কিছুই করছে না। একদম বাজে কথা। আসলে সরকার দারুণ লড়ছে। দেখল হুতোম প্যাঁচা

আখ্যান

টিপের আমি, টিপের তুমি --- তাই দিয়ে যায় চেনা!

সম্প্রতি কপালের টিপ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ফ্যাব ইন্ডিয়ার একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু কেন? এর মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে সংখ্যালঘু মানুষের অস্তিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করার ইঙ্গিত। রয়েছে মহিলা শরীরকে ধর্মের নামে ঢেলে সাজানোর ছক। একই সঙ্গে প্রশ্ন, বিতর্কিত অ্যাড কন্টেন্টের জন্ম কোথাও এই বিতর্কগুলিকে উস্কে দেওয়ার জন্যই তৈরি হচ্ছে না তো! ফ্যাব ইন্ডিয়া বিতর্কে সমস্যার খোঁজ করলেন সংবিদা লাহিড়ী

স্কুল কবে খুলবে স্যার

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, স্কুল খোলা হবে, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী অবধি। কিন্তু এতোদিন কিভাবে চলেছে? কি বলছেন একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক? আসুন একটু দেখে নেওয়া যাক, কি চাইছেন বহু শিক্ষক? এই যে সমাজের এক অংশের মানুষ ভাবছেন, শিক্ষকেরা বসে বসে মাইনে নিচ্ছেন, তাঁরা কি তাই চাইছেন?

চামড়া

সত্যি কথা বলতে কি, আমার যাবার তেমন ইচ্ছে ছিল না। ফিরে আসার পরেও মনে হচ্ছে, না গেলেই কি ভাল হত? শুধু তো ক’টা টাকার জন্য। কাজটা পড়েছিল শুক্রবারে। তার মানে আবার অফিসে ছুটি নিতে হবে। ছুটির দিন হলেও না হয় একটা কথা ছিল। চট করে যাওয়াই যায়। কিন্তু, শুক্রবার সারাদিনের কাজ। ব্যস্ততার বহর এখন ঠিক বোঝাও যাচ্ছে না। খোলসা করে ওরা বলছেও না কিছু। অথচ ভোরবেলাতেই বেরিয়ে পড়া, গভীর রাত অবধি কাজ। যদি কোনও কারণে শুক্রবারের পরের দিনটা অফিসে না যেতে পারি, সোমবার অফিসে ঢুকে বড়সাহেবের মূর্তির দিকে আর তাকানোই যাবে না। ভাবছি বেশ খানিকক্ষণ। ভাবার সময় দিলে তো। মুম্বই থেকে ক্রমাগত তাগাদা দিয়ে চলেছে রাজু। সমানে মেসেজ। শিগগির জানান। এটা বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে প্রজেক্ট। আপনি রাজি হলে তবেই ওদের সঙ্গে ফাইনাল কথা হবে। অফিসের কাজের ফাঁকে টুং টাং করে হোয়্যাটসঅ্যাপ মেসেজ। এই এক জ্বালা হয়েছে। যখন-তখন যেখানে-সেখানে ফোন বেজে ওঠে। ফোনে পাওয়া গেল না তো তাকে খুঁচিয়ে যাবার একশো এক তরিকা। নিঃশ্বাস নেবার ফুরসত দেবে না। যাকে চাই, তাকে তক্ষুনি চাই।

সংখ্যাগুরুর দায়িত্ব কি সংখ্যালঘুর অধিকার সুনিশ্চিত করা নয়?

একটি দেশে সংখ্যাগুরুর দায়িত্ব সংখ্যালঘুর অধিকার সুনিশ্চিত করা, সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়া৷ বাংলাদেশিরা ব্যর্থ হয়েছে৷ কিন্তু অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এদেশে? এদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে হিন্দুত্ববাদের পূজারীরা কতখানি সোচ্চার? তাঁরা নিজ দেশে কতখানি দায়িত্ব পালন করেছেন? আখলাখের খুনিদের সাজা চেয়েছেন? সংখ্যালঘুর লিঞ্চিংয়ে অভিযুক্তদের সংবর্ধনা দিলে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন? বেছে বেছে বিশেষ ধর্মের সংখ্যালঘুদের রাতারাতি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর উদ্যোগ হলে রুখে দাঁড়িয়ে বলেছেন, কারও বাপের ক্ষমতা নেই পাঁচপ্রজন্ম এদেশে থাকা সংখ্যালঘু পরিবারের কাগজ দেখার কথা বলার? না বলেননি৷ উল্টে 'এদেশে থাকতে হলে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে থাকতে হবে' মানসিকতাই উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের বেদনাবিধুর শারদস্মৃতি: কিছু ব্যক্তিগত আনুষঙ্গিক চেতনা-যাতনা

বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ এই সহিংসতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন। এই বাংলায়ও অনেকেই প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। কিন্তু কিছু কিছু প্রতিবাদের ধরণ-ধারন এখনও ভাবাচ্ছে। সেই গতে বাঁধা আমরা-ওরা চলছে। এইভাবে বেছে বেছে প্রতিবাদী হওয়াটাও কম বড় অপরাধ নয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, তার পরবর্তী হতাশা, আক্রোশ এবং প্রতিবাদ যার যার তার তার হয়ে গেলে সেটা পরবর্তী দাঙ্গার ইন্ধন যোগানো ছাড়া আর অন্য কোনো কাজেই আসেনা।

ভারতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর একই দশা

কোরান-কাণ্ডে দেখা গেল, মূল পূজা মণ্ডপ সংলগ্ন আলাদা মণ্ডপে বাঙালি হিন্দুদের দুর্গাপূজার রীতির বাইরে গিয়ে রাম-সীতা-হনুমানের মূর্তি রাখা হয়েছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে হিন্দুদের এক বড়সড় প্রতিবাদ মিছিলে স্লোগান শোনা গেল, জয় শ্রী রাম, হর হর মহাদেব, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও। মানে দাঁড়ায়, বাংলাদেশে হিন্দু-মেরুকরণের চোরাস্রোত বইতে শুরু করেছে।