একদিকে প্রধান বিচারপতি যখন আরশোলা ও পরজীবীর ভাষা ব্যবহার করছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদকারীদের "আন্দোলনজীবী" বলছেন। আকাশছোঁয়া বেকারত্বের চাপে পিষ্ট যুবকদের তিনি স্বনির্ভরতার নামে রাস্তায় পকোড়া বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন, অথচ প্রতিদিন হকাররা বুলডোজারের মুখে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। দিল্লিতে সমাবেশের পরে পুণা শহরেও হয়ে গেল আরশোলাদের সমাবেশ। কলকাতা কবে দেখবে?
কলকাতা বা বেশীরভাগ তথাকথিত উন্নতিশীল শহরে আর কারখানা থাকে না। থাকলেও আস্তে আস্তে তুলে অন্যত্র নেবার ব্যবস্থা চলছে সর্বত্রই। পোস্ট ফোর্ডিয়ান (ফোর্ডের গাড়ির কারখানা ঘিরে ডেট্রয়েট হয়েছিল যেমন) মডেল এখন। অতএব শ্রমিক আসার দরকার নেই। আজ উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ প্রবন্ধের চতুর্থ ও শেষ পর্ব।
বৈধতার কোনো স্থির-নিশ্চিত চিরন্তন সংজ্ঞা নেই। হামুরাবির আমলে শাসকের যে অধিকার 'বৈধ' বলে কথিত, আজ তাকে 'বৈধ' বলে মানা চলে না। যেমন ভবঘুরেমি যদি ঐচ্ছিকও হয়, তাকেও অবৈধ বলা চলে না। উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ, এই প্রবন্ধের আজ তৃতীয় পর্ব।
১৯৪৭-এর খণ্ডিত স্বাধীনতার পর যে উদ্বাস্তু স্রোত তা কলকাতাতেও আছড়ে পড়েছিল। শিয়ালদা দিয়ে প্রবেশ করে বা সীমান্ত দিয়ে, ক্যাম্পে ক্যাম্পে বা অন্যান্য জায়গায় যাবার পাশাপাশিই কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে জীবন-জীবিকা নিয়ে ভাবতে হচ্ছিল তাঁদের। উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ এই প্রবন্ধের আজ দ্বিতীয় পর্ব।
গতকাল জালিয়ানওয়ালাবাগের কায়দায় চারদিক ঘিরে ফেলে পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, রেল পুলিশ যেভাবে যাদবপুরের ষ্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে বুলডোজার নিয়ে আক্রমণ চালালো, তা শুধু নিন্দনীয় নয় নারকীয়। এই আক্রমণ প্রতিহত করার উপায় সাধারণ মানুষের নেই, তা সত্ত্বেও তাঁরা যথাসম্ভব প্রতিরোধ করেছেন, কিন্তু এটা অসম লড়াই। এই প্রসঙ্গেই আজকের এই উচ্ছেদের আয়নায় বিত্তের মুখ লেখাটি চার পর্বে প্রকাশিত হবে। চারিদিকে যে ভাবে বুলডোজারের হুঙ্কার দেখা যাচ্ছে, সেই সময়ে প্রাসঙ্গিক এই কথাগুলো। আজ প্রথম পর্ব।
আশরাফিলকে ফেরানো যায়নি। নিজের সম্ভাবনা আর আতিকের সংকল্পে ইতি টেনে চলে গেছে সে পরবাসের পথ ধরে। আশরাফিল চলে গেল যেদিন, রওনা হওয়ার আগে আতিকের কাছে গিয়েছিল দেখা করতে। তার সামনে মাথা তুলতে পারেনি, মুখ নীচু করে কথা বলেছিল। স্যার, আজ আমি চলে যাচ্চি।
আজ অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন এই ধারাবাহিক উপন্যাসটির অষ্টম পর্ব। আগের পর্বের সূত্র এই লেখার প্রথমে। লিখেছেন হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাড়ার সরলা বৌদি সকাল আটটা থেকে দাঁড়িয়ে ছিল। দুপুরে যখন তার হাতে ফর্ম এল, সে উল্টেপাল্টে দেখে সরল মনেই বললে – “এটা ফরম, না মাধ্যমিকের টেস্ট পেপার?” প্রথম পাতায় নাম, দ্বিতীয় পাতায় ঠিকানা, তৃতীয় পাতায় ব্যাঙ্ক, চতুর্থ পাতায় পরিচয়পত্র, ইসব পেরিয়ে শেষে বারো পর্বে ঘোষণা – আমি বাংলাদেশী লই, ঘুষপেটিয়া রুহিঙ্গা লই, আমি খাঁটি ভারতীয় বটেক।
আয়ুস্মান ভারত কি একটা বড় দুর্নীতি? শোনা যাচ্ছে মৃত রোগীদের নামে চিকিৎসার বিল জমা পড়েছে। বিহারে আয়ুষ্মান ভারতের অডিটে দেখা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সংশোধিত টার্গেট ছিল ৬.১৮ কোটি সুবিধাভোক্তা, কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের মাত্র ৪১ শতাংশ যাচাই করা সম্ভব হয়। অথচ স্বাস্থ্য কভারেজ দেওয়ার দাবি করা হচ্ছিল অযাচাইকৃত ব্যক্তিদের। আরো অনেক দুর্নীতির হাল হকিকৎ পাওয়া যাবে এই প্রবন্ধে।
দিন গড়াতে গড়াতে একদিন দু'ভাইয়ের সীমানা বরাবর দেওয়ালগাঁথা এবং প্লাস্টারের কাজ শেষ হ'লো। আটফুট উঁচু দেয়াল। ফলত দু'ভাইয়ের মুখ দেখাদেখি একেবারেই বন্ধ। গাছগুলো যেন দাদার অনুগত হয়ে লখাইয়ের বাড়ির দিকে উকিঝুঁকি মারতে থাকলো অনবরত। আজ অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন এই ধারাবাহিকের সপ্তম কিস্তি। আগের লেখার সূত্র এই লেখার শেষে।
দিন গড়াতে গড়াতে একদিন দু'ভাইয়ের সীমানা বরাবর দেওয়ালগাঁথা এবং প্লাস্টারের কাজ শেষ হ'লো। আটফুট উঁচু দেয়াল। ফলত দু'ভাইয়ের মুখ দেখাদেখি একেবারেই বন্ধ। গাছগুলো যেন দাদার অনুগত হয়ে লখাইয়ের বাড়ির দিকে উকিঝুঁকি মারতে থাকলো অনবরত। আজ অন্তরীক্ষের অদ্বিতীয় সম্বোধন এই ধারাবাহিকের সপ্তম কিস্তি। আগের লেখার সূত্র এই লেখার শেষে।
আয়ুস্মান ভারত কি একটা বড় দুর্নীতি? শোনা যাচ্ছে মৃত রোগীদের নামে চিকিৎসার বিল জমা পড়েছে। বিহারে আয়ুষ্মান ভারতের অডিটে দেখা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সংশোধিত টার্গেট ছিল ৬.১৮ কোটি সুবিধাভোক্তা, কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের মাত্র ৪১ শতাংশ যাচাই করা সম্ভব হয়। অথচ স্বাস্থ্য কভারেজ দেওয়ার দাবি করা হচ্ছিল অযাচাইকৃত ব্যক্তিদের। আরো অনেক দুর্নীতির হাল হকিকৎ পাওয়া যাবে এই প্রবন্ধে।
রিজার্ভ ব্যাংকের লেটেস্ট রিপোর্ট বলছে, এ দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ফ্রড হয়। কিন্তু এই জালিয়াতি কোনো বাইরের শত্রুর আক্রমণ ছিল না; এটা ছিল খোদ সিস্টেমের ভেতর থেকে, সিস্টেমের রক্ষকদের হাত দিয়ে পুরো কাঠামোটাকে উইপোকার মতো খেয়ে ফেলার এক নিখুঁত গল্প।
মীর আমার বন্ধু। যার বাড়ি মুর্শিদাবাদ। সময়টাই সহজ ছিল তখন। আমাদের সকাল কেটেছে বিলাস খান-ই তোড়িতে, তো বেলা গড়িয়েছে বৃন্দাবনী সারং-এর সুরে। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ে ফেলেছি মুজতবা আলী থেকে ধূর্যটি প্রসাদ। আমাদের কান পেকেছে বিলায়েত খাঁ - রবিশঙ্করে। মন কেমনের দুপুরগুলোয় সঙ্গ দিয়েছে জীবনানন্দ - আল মাহমুদ। সন্ধের দখল নিয়েছে দীপ্তি নাভাল - ফারুক শেখ। সেই বড় হয়ে ওঠা, সেই চেনা মানুষেরা যখন চোখের সামনে বদলে যান, তখন অসুবিধা হয়।
দাদার গৃহপ্রবেশের পর তার কী হবে? এইসব ভাবতে ভাবতেই একদিন রামের নতুন বাড়ি তৈরির কাজ দেখতে হঠাৎ এসে হাজির হলেন এক প্রোমোটার। মিঃ বটব্যাল। এই শহরের অলিতে গলিতে তাঁর বিশাল বিশাল ফ্ল্যাট। জমিজমার তো সীমা-পরিসীমা নেই।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট তৃণমূল কংগ্রসকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনে ফেলেছিল। ভোট শতাংশ এবং প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে জোট খুব পিছিয়ে ছিল না। কিন্তু আসন সংখ্যার ভালো রকম পার্থক্য হয়ে যায়। এর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন হতে থাকে। জেলায় জেলায় বামপন্থী বহু সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করতে থাকেন। অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির করুণ পরিণতি শেষ পর্ব লিখলেন শংকর, সাথে খোঁজার চেষ্টা করলেন বেরোনোর রাস্তা।