পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

অন্যান্য পোস্ট

ঘোড়া হাসছে

আমরা বাজারে যাই খালি হাতে। সঙ্গে থলে রাখি না। মাছ-মাংস, সবজি আর যা যা দরকার কিনে আনি প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগে। জিনিসপত্র বাড়ি পৌঁছলেই সেই ক্যারি ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলি বাইরে। বাইরে বাতাস। ক্যারি ব্যাগ বাতাসে উড়ে বেড়ায়। শেষপর্যন্ত তা পশুপক্ষীর গলায় তো বটেই আমাদেরও গলার ফাঁস হয় কিংবা পেটে গিয়ে জমা হয় মৃত্যুর কারণ হিসেবে। আমরা তার হিসেব রাখি না। এত কিছুর পরেও আমরা বাঁচতে চাই। ঘোড়া হাসবে না তো কী! ঘোড়া হাসছে, আমরা কাঁদছি ...

কৃষি বিলের ছ’মাস পরে

মুরগী, চিংড়িচাষ, কাটাপোনা – সবইতো এখনই কোম্পানি চাষের আওতায়। দিব্যি তো চলছে। মুরগী, ডিমের দাম কমেছে কত – সস্তায় প্রোটিন পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে -এ কথাও শোনা যাচ্ছে আকাশে বাতাসে। কিন্তু সেই মাছের ডেডবডি, হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক সমৃদ্ধ মুরগীর খাদ্যগুণের কথা আর নাই বা তুললাম। কোম্পানি এসেছে মুনাফা করতে – তার দোষ দেখিনা। কিন্তু রাশি রাশি শহুরে মানুষ এই সাব স্ট্যান্ডার্ড খাবারের পিছনে দৌড়চ্ছেন – আর রাশি রাশি গ্রামের মানুষও চাট্টি দেশী হাঁস মুরগী পুঁটিমাছ পোষার বদলে বাজার থেকে কুখাদ্য কিনে খাচ্ছেন – আর ১১৫ টা দেশের মধ্যে বিশ্ব ক্ষুধাসূচকে ১০২ নম্বর জায়গা দখল করে আমরা এখনও কোম্পানির গুন গাইছি –

শঙ্খ ঘোষ: সহকর্মী ও প্রিয় কবি

শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ আয়োজিত একটি আলোচনা চক্রে।তখন কাশীশ্বরী কলেজে সবে যোগ দিয়েছি।তাঁর ‘বাবরের প্রার্থনা' প্রকাশিত। কবিতাটা মনে হচ্ছে যেন আমাদের জন্যই লেখা-আমরা যারা সন্তানকে ঘিরে আশঙ্কা আর সংশয় এর মধ্যেই থাকি। কবিতার প্রথম অংশ - ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও/ আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক- তখন সবার মুখে মুখে ফেরে।কিন্তু পরের অংশে কবি যখন বলেন- পাথর করে দাও আমাকে নিশ্চল/ আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক- তৎক্ষণাৎ মনে পড়ে যায় বিভূতিভূষণের গল্প 'মেঘমল্লার'-এর সেই যুবকের কথা।সেই প্রদ্যুম্ন-যে আত্মবিস্মৃতা দেবী সরস্বতীকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য শিল্প সংস্কৃতি চর্চার সুস্থ পরিবেশ আবারো পৃথিবী কে উপহার দেওয়ার জন্য নিজেকে পাথর করে ফেলেছিল।

আপিদিদার ভাতের হাঁড়ি

শিবনাথ মালাকার গ্রামের মাতব্বর। প্রভূত ধন সম্পত্তি, সেই সুবাদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিধানসভা তপশীলি সমষ্টি হয়ে গেলেই নাকি শাসক দলের ক্যান্ডিডেট এমন কানাঘুষো। শিবনাথ কাকুর সঙ্গে পল্লবদের পরিবারের একটা অম্লমধুর সম্পর্ক অনেকদিন থেকেই। রক্তারক্তির একটা শিশুকাণ্ড ঘটেছিল বাবার বালক বয়সে। যদিও সেসব চুকে বুকে গেছিল শৈশবেই। সম্পন্ন দুই কৃষক পরিবারের ছেলেরা বন্ধুই ছিল, কিন্তু পিসের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না শিবনাথ কাকার। শিবনাথ মালাকারের বাড়াভাতে ছাই দিয়ে যে বিয়ে করে ফেলল আপিকে।

দোসর পুঁজির কথা পর্ব-৮ হাইওয়ে-র কথা

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ভারত সরকার সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে “টট” মডেল গ্রহণ করে। এই “টট” কথাটি আসলে এসেছে ইউরোপ থেকে, যেখানে এই মডেল চলছে দ্বিতীয়-বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী “পুনর্গঠন”-এর পর থেকেই। মার্কিন দেশের দেওয়া “পুনর্গঠন”-এর ঋণ শোধের এটি একটি পরিচিত পদ্ধতি হয়ে ওঠে। এই মডেল অনুসারে, মহাসড়ক বা হাইওয়ে-র যানবাহন চলাচলের ওপর ট্যাক্স বসিয়ে, সেই টাকায় রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ সহ অন্যান্য খরচা চালানোসহ রাস্তা তৈরির খরচা তোলা হবে। সেই খরচা উঠে গেলে এই ট্যাক্সও আর নেওয়া হবে না।

সুচেতনা, যদিও তুমি দূরতর দ্বীপ : প্রসঙ্গ লাক্ষাদ্বীপ

লাক্ষা সাগরে মালাবার উপকূলে ভারতের কেন্দ্রশাশিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপ। প্রাকৃতিক রূপ-ঐশর্য্যময় ভূমি এই প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ। সেই আকর্ষণে এখানে ভ্রমণ-পিপাসু মানুষের যাতায়াত। লাক্ষাদ্বীপ সম্পর্কে এর বেশি বিশেষ কিছু আমরা অনেকেই জানি না। জানলেও বোধহয় আমাদের অভ্যাসের দৃষ্টিতে দ্বীপবাসীদের ঠিক বুঝতে পারি না। তবু জানা যাক। বোঝাবুঝি যা-ই হোক, জানা ভীষণ দরকার। লাক্ষাদ্বীপ এখন বর্গিহানার শিকার। লাক্ষাদ্বীপবাসী সাহায্যপ্রার্থী। এদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

কোভিড টিকা ও সনাক্তকরণ : চিকিৎসা ব্যবস্থাই চলে যাচ্ছে নাগালের বাইরে

আধার, পরিচয়পত্র, আরোগ্য সেতু বা কো উইনের মতো মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ফাঁদে ফেলে সরকার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আসলে তাদের কাছে প্রতিষেধক রয়েছে সীমিত এবং সরকার বেসরকারি ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছে। সেটাকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্যই এত সব আয়োজন। যখন যে কোনও ইচ্ছুক ব্যক্তিকে যে কোনও জায়গায় প্রতিষেধক দেওয়াটা জরুরী, তখন তাঁরা নানান টালবাহানা করছে। যখন জরুরী পালস পোলিওর মতো, প্রতি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই প্রতিষেধক দেওয়া তখন সরকার কেন এই তথ্য চাইছে, বা এই সব নিয়ে প্রতিদিন নিত্য নতুন নিয়ম চালু করছে, তা কি ভেবে দেখার সময় হয়নি?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পঞ্চাশের মন্বন্তর এবং একটি সরকারি বিজ্ঞাপন

বাঙালির প্রধান খাদ্যদ্রব্য চালের অভাব দেখা দেওয়ায় ভাতের জন্য সারা বাংলায় হাহাকার পড়ে যায়। গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে দুর্ভিক্ষ। পথে-প্রান্তরে লুটিয়ে পড়তে থাকে না খাওয়া মানুষের দল। এখানে-ওখানে পড়ে থাকতে দেখা যায় হাড্ডিসার লাশের সারি। ওই সময় জরুরি খাদ্য সরবরাহের জন্য চার্চিলের কাছে আবেদন করেও বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে ভারতের তৎকালীন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। বিভিন্ন গ্রাম থেকে তখন বুভুক্ষু হাজার হাজার মানুষ একমুঠো অন্নের আশায় স্রোতের মতো ছুটে আসছে কলকাতার দিকে। দেখা গেছে, ওইসব অভাগা মানুষেরা দলে দলে পথের ওপর পড়ে হয় ধুঁকছে না হয় আবর্জনার পাশে উচ্ছিষ্টে ভাগ বসাতে একে অপরের সঙ্গে লড়ছে। পাশাপাশি ওই একই সময়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তা এবং তাদের তোষামুদে অবস্থাপন্ন ভারতীয় লোকজন বাড়িতে বসে ভূরিভোজ করছে।

নিয়মিত কলাম

পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস ও দোসর-পুঁজি

পুঁজিপতিরা প্রাণীজগতের সাধারণ সম্পত্তি, জল-জঙ্গল-জমি-বাতাসকে নিজেদের মালিকানার আওতায় এনে, সেগুলিকে ফোকটে-পাওয়া-পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে মুনাফা করতে চাইছে। এই কাজে সে দেশে দেশে পুঁজি-বান্ধব সরকার গঠনে পুরোদমে নেমে পড়েছে। রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে পুঁজির দোসর, চলছে দোসর-পুঁজি আর রাষ্ট্রের যুগলবন্দী!

ব্রহ্মতেজ ও বাণী

অ্যান্টিন্যাশনালরা বলছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সরকার কিছুই করছে না। একদম বাজে কথা। আসলে সরকার দারুণ লড়ছে। দেখল হুতোম প্যাঁচা

আখ্যান

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে

সকলে আশ্চর্য হয় এমন নতুন ঠাকুরের নাম শুনে। একজন জিজ্ঞেস করে " এ আবার কোন ঠাউর গো বিশ্ব? কত ঠাউরির নাম শুনিচি, এ ঠাউরির নাম তো শুনি নাই।"

দোসর পুঁজির কিস্যা পর্ব ৭ এবার রেলের পালা

ভারতীয় রেল তার পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য ভারতের করদাতা জনতার টাকায় অনেক লগ্নি করেছে, তার মধ্যে সব কিছুই যে ভারতের জনতার প্রয়োজনে এমন নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বাধ্যবাধকতা অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়, যেমন মুম্বাই-আমেদাবাদ “বুলেট ট্রেন” প্রকল্প। কিন্তু রেলের পরিকাঠামোর অন্যান্য অনেক উন্নয়ন রেলের জন্য এবং তা আম জনতার জন্যও প্রয়োজনীয়। এমন একটা প্রকল্প দ্রুতগতি পার্শেল সরবরাহ ব্যবস্থা। পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা দিল্লি ও মুম্বইয়ের মধ্যে ১১৩ দিন চালানো হয়। এই ব্যবস্থার নিশ্চিত দ্রুতগামিতায় আশ্বস্ত হয়ে আমাজন ইন্ডিয়া এই ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করে এবং ভারতীয় রেল শুধু আমাজন-এর কাছ থেকেই ২ কোটি টাকা লাভ করে। রেল ব্যবস্থার ছড়িয়ে পড়ার হার বেড়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বের রেল-বাজারে ভারতীয় রেল তৃতীয় স্থান দখল করবে, এবং বিশ্বের বাজারের ১০ শতাংশ কব্জা করবে।

কি চেয়েছিল তাঁরা?

বেকারত্ব কুড়ে খাবার এক পূর্বাভাস ঝড়ের মত বয়ে আসছে। তাই আগামী দিনে যে, নতুন নিয়োগের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে,তা নিশ্চিত।ফলে লাফিয়ে বাড়বে স্কুলছুটের সংখ‍্যা।পড়াশুনো বন্ধ করে দেবে এক বিরাট ছাত্রসমাজ।তাই "লেখাপড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে" বলেও শিশুমনকে পড়াশুনোয় উৎসাহিত করা যাবেনা আর।হয়তো সবশুনে শিশুরাও বলবে,কি হবে লেখাপড়া করে?কাজই তো নেই।এতদিন জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়ানো বলতে তারা যা বুঝতো,সময় তাদের শেখাল এই কথা কতটা অর্থহীন।

অথঃ মেষ সংবাদ

বলিলাম, “মহাশয়, এক ভয়ানক মেষকাণ্ড ঘটিয়াছে।” “মেষকাণ্ড? কী কহ? ভারতীয়রা তো গোকুলেই তিষ্ঠে। তোমাদিগের বাঁকাচাঁদ সেই সেইবারে এক গো-মোকদ্দমায় আমাকে ফাঁসাইয়াছিল বলিয়া মনে পড়িতেছে, কিন্তু মেষ, … মেষ, না, স্মরণে আসিতেছে না! আর একটু বিস্তারে বলিতে হইবে।” “বাঙালির বিশেষ সৌভাগ্য গুণে বড়লাট ভবনে এক অতিশয় মহাশয়ের আগমন ঘটিয়াছে। বাঙালিদিগকে পদ্মপাঠে আপ্লুত করিয়া এক বিশেষ শ্মশ্রূধারী ভজনান্তে স্বর্ণবঙ্গ স্থাপনায় তিনি আপনাকে সম্পূর্ণ নিবেদন করিয়া রাখিয়াছেন। অথচ বঙ্গবাসী তাহা গ্রহণ করিতে সম্মত নহে, কেহ কেহ তাঁহার বাসভবনের সম্মুখের উন্মুক্ত প্রান্তরে কতিপয় মেষ লইয়া বিচরণ করিয়া গিয়াছে।” একটুখানি শ্বাসবায়ু আত্মসাত করিয়া আদি বচন সমাপ্ত করিতে প্রয়াস পাইলাম, “মহাজনকে উত্তমরূপে দর্শাইয়া। ইহাতেই সেই লাটসাহেব প্রচণ্ড কুপিত হইয়াছেন। অদ্যপি তাঁহাকে শান্ত করিতে হইবে। উপায় বলিয়া দিন মহাশয়।”

সরকারী কর্মচারী

টেস্ট হল। রঞ্জিতের রিপোর্ট এল করোনা পজিটিভ। সেইসঙ্গে দ্রুত অবনতি হল শরীরের। বেশী সময় দিল না রঞ্জিত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা অক্সিজেন সিলিন্ডার এসে পৌছনোর আগেই শেষ নিঃশ্বাসটা আর ধরে রাখতে পারল না স্মিতার সরকারী কর্মচারী স্বামী।

লকডাউনের ছাদলিপি

ক্রমে বেলাশেষের পাখিরা সঙ্গীদের ডাক দিয়ে বাসায় ফেরে, চারপাশে বিকেলের স্নিগ্ধ হাওয়া বয়, মাধবীলতার সুগন্ধে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে পশ্চিমে সূর্য ঢলে পরে। আশপাশের গ্রাম থেকে আজান আর শাঁখের শব্দ একসাথে শোনা যায়। আকাশের গায়ে এক চিলতে চাঁদ ওঠে। মশাদের আগমনের আগেই ছাদের কাব্যে ছেদ পরে, মাদুর গোটানোর পালা শুরু হয়। কিন্তু দুটো তারা না দেখে কি ঘরে ঢোকা যায়। সেই ছোটবেলার গ্রাম গঞ্জের সংস্কার, এই প্রজন্মও বহন করছে। দুই তারা হয়তো একতার প্রতীক, হয়তো মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া পৃথিবীতে একা একা বাঁচা যায় না। তাই সন্ধ্যাতারা আর তার দোসরকে দেখে তবে লকডাউনের দিনলিপি শেষ হয়। রাত নামে।