পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

পুরানো লেখাগুলি

পোশাক দেখে চিনতে পারছেন? ইনি আমাদের নেতাজি

যে শাসক একদিন নেতাজীকে নিয়ে গদগদ ভাব দেখিয়েছিলেন৷ দিল্লিতে বড় আয়োজন করে বলেছিলেন নেতাজীর সমস্ত অপ্রকাশিত নথি প্রকাশ করা হবে, বাঙালি আবেগে তখন নাগপুরীয় চাড্ডি পরে নাচতে শুরু করেছিল৷ আজকে নেতাজিকে অপমান করছে তার দলের একজন সাংসদ ৷ তিনি রাজ‍্যসভার একজন সদস্য৷ তবুও নীরবতা চলছে৷ গুজরাটি বা হিন্দুস্থানীরা নয় ৷ খোদ সনাতনী বাঙালিরা নেতাজীকে ব্রিটিশের দালাল বলছে৷

সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্টদের মধ্যে ঔদার্য খুঁজে পেয়েছেন তসলিমা

তসলিমা নাসরিন বুঝতে পারেন না, কী ‘মুক্ত’ সুপবন বয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে! তিনি ভাষণ দেন. কবিতা পড়েন, আপ্লুত হন। তিনি সেকুলার মিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন এই রাজ্যে। সেকুলার কথাটিকেই যে রাজনৈতিক দল বর্জন করতে চায়, যে দলের সমর্থকরা সেই শব্দকে ‘সিক্যুলার’ বলে ব্যঙ্গের বস্তুতে পরিণত করেছে, সেই দলের নেতা মন্ত্রী সান্ত্রীদের সাড়ম্বর উপস্থিতি ও আবাহনে কোন ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা তিনি উপভোগ করলেন।

স্বৈরাচারের পরিণতি করুণই হয়

ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রিলে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে স্লোগান ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আসলে এটি বিগত ২৩ -২৪ বছরে মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলা। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে এবং তারা যে ভারতকে দেখেন তা বিশ্বের তুলনায় বেশ খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ছিল তাদের প্রথম খেলার মাঠ। আপনি তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন না।

ঘোড়ার ডিমের গল্প

কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ। সকালের বাতাসে হিমের ছোঁয়া, শীতের আগমনী বার্তা। রাস্তার দু’পাশে ধানগাছগুলোতে সোনালি রং লেগেছে, যেন মাটির বুক জুড়ে কেউ সোনার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এবারের ফলন ভালোই হয়েছ,বেশ খুশি মনে হারান পুকুরের দিকে যাচ্ছিল।

বিজেপির তিন মাস, শ্রমিকের আরও সর্বনাশ —

২০২৪ সালের চটকল ত্রিপাক্ষিক চুক্তি’র পর থেকে কারখানার ভেতরে ভয়ংকর বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা মত পুরোনো মেশিন (মোটা, হাঁসিয়া) উপড়ে ফেলতে শুরু করে। পুরোনো শ্রমিকদের আরও মজুরি কমিয়ে গায়ের জোরে ‘বিভাগ বদলি’ করে নতুন মেশিনে কাজ শিখতে পাঠায়। “ঘরের ছেলে ঘর দেখভালের দায়িত্ব পেলেন, ঘরের লোকেদের অবস্থা ভালো হবে” — জুন মাসের মাঝামাঝি সময় এই কথাই বলেছিলেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ কিছু শ্রমিকেরা। এখন কী অবস্থা চটকল এবং সেখানকার শ্রমিকদের?

শিক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রীয়তার পক্ষে যুক্তি

যখন রাজ্যগুলিই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রধান দায়িত্ব বহন করে, তখন রাজ্য সরকারগুলিকে এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি নিজেরাই পরিচালনা করতে দেওয়া উচিত। তাই শিক্ষাকে যৌথ তালিকা থেকে ফিরিয়ে রাজ্য তালিকায় আনা উচিত। সেক্ষেত্রে রাজ্যগুলি শিক্ষার ফলাফলের জন্য আরও দায়বদ্ধ হবে, যার ফলে আরও ভাল শাসন ও পরিচালনা সম্ভব। রাজ্যগুলি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নীতি তৈরি করতে পারবে।

লেখা পড়া করে যে প্রতিবাদ করে সে

গত ১৫ বছরে ভারত জুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই এই অধঃপতনের কারণ বোঝা যাবে। সরকারি কলেজ কি একটিও তৈরী হয়েছে ইদানিং কালে? প্রতিযোগিতা বাড়ানোর নানা ইন্ধন তো দিচ্ছে সরকার। এমন তীব্র প্রতিযোগিতা, যার বলি হয়ে কোনও নীট জয়ী বলে বসে যে "পড়লেই তো হয়, প্রতিবাদ করে সময় নষ্ট না করে!" এর সৃষ্টি তো আমাদের সরকারের হাতে! কিন্তু আজকের সময়ে উল্টোটাই সত্যি, লেখা পড়া করার জন্যেই প্রতিবাদ করতে হবে।

এই নজরদারির গণতন্ত্র কি আমরা চাই?

যন্তর মন্তরে যখন ছাত্ররা অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে যখন সংসদ চলো অভিযানে সামিল হয়েছিলেন তখন একটা দৃশ্য দেখা গেছে যা নিয়ে হয়ত সেই সময়ে আমরা অনেকেই হাসাহাসি করেছি তা হল অনেকেই নানান মুখোশ, নানান ভাবে সেজে ঐ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। তখন হয়ত আমরা বুঝতে পারিনি, যে ছাত্রযুবরা কি শুধুমাত্র মজা করার জন্য ঐরকম সেজে এসেছিলেন? না একেবারেই তা নয়। সবকিছুই রেকর্ড করা হচ্ছিল। তা থেকে বাঁচবার জন্যেই অনেকেই ঐরকম সেজে এসেছিলেন।

আরও পুরানো লেখাগুলি

লাঠির সামনে লহরী- রাষ্ট্র যখন তাল হারাল

মার্কস বলেছিলেন ধর্ম আফিম। জেন জি যোগ করল: রাষ্ট্রের ভয়টাও আফিম। মায়ানমার ২০০৭-এর বৌদ্ধ সন্যাসী, লাতিন আমেরিকার লিবারেশন থিওলজি, সুফিদের জিকির - সব ভাষা কিন্তু আলাদা, সুর একটাই: মুক্তি। বাংলার বামপন্থী সংগঠনগুলোকেও এখন মানতে হচ্ছে: 'সংগঠিত চেতনা' এক এবং একমাত্র মন্ত্র না। স্বতঃস্ফূর্ততাকেও মান্যতা দিতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের পরিসর অনেক বড়।

সরকারি স্কুলের নাভিশ্বাস দশা

প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ ও কাজের বাজারের সঙ্গে সংযুক্তিহীনতা সরকারি স্কুল সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে এক নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।ভোটের ডিউটি হোক বা জনগণণা, এসআইআর হোক বা অন্য কাজে শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজে লাগানোর ফলে স্বাভাবিক ভাবে স্কুলে পঠন-পাঠনের মান নেমে যায়। এই অবস্থায় অনেক কম পরিকাঠামো নিয়ে আসরে উপস্থিত হয় প্রাইভেট স্কুল। সেই জন্যেই কি সরকারি স্কুলগুলো এইরকম ধুঁকছে?

আখ্যান

সরকারি স্কুলের নাভিশ্বাস দশা

প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ ও কাজের বাজারের সঙ্গে সংযুক্তিহীনতা সরকারি স্কুল সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে এক নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।ভোটের ডিউটি হোক বা জনগণণা, এসআইআর হোক বা অন্য কাজে শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজে লাগানোর ফলে স্বাভাবিক ভাবে স্কুলে পঠন-পাঠনের মান নেমে যায়। এই অবস্থায় অনেক কম পরিকাঠামো নিয়ে আসরে উপস্থিত হয় প্রাইভেট স্কুল। সেই জন্যেই কি সরকারি স্কুলগুলো এইরকম ধুঁকছে?

লাঠির সামনে লহরী- রাষ্ট্র যখন তাল হারাল

মার্কস বলেছিলেন ধর্ম আফিম। জেন জি যোগ করল: রাষ্ট্রের ভয়টাও আফিম। মায়ানমার ২০০৭-এর বৌদ্ধ সন্যাসী, লাতিন আমেরিকার লিবারেশন থিওলজি, সুফিদের জিকির - সব ভাষা কিন্তু আলাদা, সুর একটাই: মুক্তি। বাংলার বামপন্থী সংগঠনগুলোকেও এখন মানতে হচ্ছে: 'সংগঠিত চেতনা' এক এবং একমাত্র মন্ত্র না। স্বতঃস্ফূর্ততাকেও মান্যতা দিতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের পরিসর অনেক বড়।

গণতন্ত্র তো এইভাবেই জয়ী হয় বারবার

যন্তর মন্তরে এদেশের তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি শাসকের দিকে আঙুল তুলছে। যাকে সামান্য একটি স্থানিক প্রতিবাদ আন্দোলন ভাবা হয়েছিল, এক লহমায় তা গোটা দেশের আন্দোলন হয়ে উঠেছে । কীভাবে যেন এই ছেলেমেয়েরা গোটা দেশ থেকে এসে ভরে দিল দিল্লির সব পথ। এদের এমন সাহস হবে কেউ কি কখনো ভেবেছে? বারবার ভারতভাগ্যবিধাতাকে তো কিছু মানুষই রক্ষা করেন। এইভাবেই তো গণতন্ত্র জয়ী হয়।

ফাঁকা শরীরের গান

শীতের রাত। কিন্তু মালতীর গা জ্বলছিল। ক্লিনিকের ভেরতটা নোংরা, দেওয়ালে মাছি বসে আছে, আর ওই ডাক্তার নামধারী মানুষটার হাত কাঁপছিল কি না সেটা স্পষ্ট মনে নেই- কারণ তার আগেই সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।

যেখানে প্রহরী নেই, সেখানেও শাসন: প্যানঅপ্টিকনের নতুন রূপ

ক্ষমতা আর কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। সে কেন্দ্রহীন। কিন্তু সর্বত্র। জর্জ অরওয়েলের 1984 এর "Big Brother is watching you" ছিল একমুখী নজরদারি। রাষ্ট্রের একচোখ। আজকেরটা উল্টো। "Everyone is watching everyone"। এবং আমরা নিজেরাই দেখাতে চাই। অরওয়েলের টেলিস্ক্রিন ছিল ঘরের কোণে। আমাদের টেলিস্ক্রিন আমরা হাতে নিয়ে ঘুরি।

রাতের চেয়েও অন্ধকার

বিগত কয়েক বছরের পরীক্ষার্থীরা, ছাত্রের পিঠোপিঠি দুএক বছর বড় যারা, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আর জীবিত নেই। পরীক্ষা দিয়েছে, কিন্তু সরকারি সংস্থার জালিয়াতির জন্য পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। বছরের পর বছরের পরিশ্রম, না খাওয়া, আর্থিক টান, কাজ না পাওয়ার আশঙ্কা, অতিবড়লোকেদের একের পর এক পুকুরচুরি - সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানসিক স্মশানে পরিণত হয়েছে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্র। তারপর যদি নতুন প্রজন্মের ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এই পরীক্ষা ব্যবস্থা, এই শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে, তখন তাঁরা দেশদ্রোহী হয় কী করে? আমাদেরই তো উচিৎ ওঁদের লড়াইতে শক্তি জোগানোর, আমরা না করলে অন্যায় করছি।