পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বেজে উঠছে কি সময়ের ঘড়ি

  • 29 October, 2022
  • 0 Comment(s)
  • 1080 view(s)
  • লিখেছেন : শঙ্কর রায়
কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধি কি সত্যিই দারিদ্র্যদূরীকরণে সহায়ক হবে? এ প্রশ্ন মৌলিকভাবে জরুরী, কিন্তু এখন লক্ষ্য হিন্দু রাষ্ট্রের শকটকে শুধু রোখা নয়, ভেঙ্গে চূর্ণ করাও। সেই সংকল্প রূপায়নের ভিত গড়বে এই কর্মসূচি, সেই প্রত্যাশা কোটি কোটি মানুষের। তাছাড়া এই মুহূর্তে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার্থে মোদী-শাহর ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিকল্প কিছু নেই।তার জন্য সমস্ত বিরোধী পক্ষকে একটা জায়গায় আসতেই হবে। এই ভারত জোরো পদ যাত্রা সেই সম্ভাবনাকে সবল করবে।

ছোট্ট শ্লোগান, অথচ মানুষের মনের মধ্যে প্রবেশ করেছেঃ ‘ নফরৎ ছোড়ো/ভারত জোড়ো।’ যারা এখন এতে উৎসাহিত, উল্লসিত ও অনুপ্রাণিত ( বলছি সংবাদ মাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কলমচি ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কথা – সবাই না হলেও) অনেকে প্রথমের দিকে নাক সিঁটকে ছিলেন। কন্যাকুমারিকা থেকে ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই পাঁচ মাসব্যাপী পরিক্রমা প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে , কাশ্মিরে গিয়ে শেষ হবে ।এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস ছাড়াও প্রায় দেড়শো সংগঠন যোগ দিয়েছে, যারা কোন রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলি হেলনে চলে না।শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে  ডেস্কটপে বা ল্যাপটপে বসে কয়েক হাজার মাইল দূরে ভারত জোড়ো যাত্রায় শামিল হওয়া হাজার হাজার মানুষের মনের  কম্পন রেখচিত্র দেখা যায় না।।
কংগ্রেস কিভাবে নিজেদের সাংগঠনিকভাবে সংহত ও পুনরুজ্জীবিত করবে, সেটা কংগ্রেসের নিজেদের ব্যাপার। কলমচি ও পন্ডিতমন্য উত্তর-সম্পাদকীয়-লিখিয়েরা নয়, কংগ্রেসের গা চুলকালে তো কংগ্রেসীদেরই চুলকাতে হবে, বাইরের কেউ নয়। তাছাড়া কংগ্রেসের এই করা উচিৎ, রাহুল গান্ধীকে দিয়ে হবে না (মাথায় শুধু মাত্র কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী-নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে সরানোর ভাবনা) ইত্যাদি যারা লিখছেন, তাঁরা কংগ্রেসের নীচের তলার যে খবর রাখেন না, ভারত জোড়ো যাত্রা তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবশ্য তাঁরা এতে মোটেই অখুশি বা ক্রুদ্ধ তা বলছি না। তাঁরা বরং খুশি, ভাবছেন কংগ্রেস মোদি-শাহ কুশাসন অবসানের সংকল্প রূপায়নের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবার হিম্মত রাখে।  
এ প্রসঙ্গে  দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত  গত ২২ অগাস্টের এক সভায় এই পদযাত্রায় অংশ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাগুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অধিকাংশই। সভার উদ্যোক্তা মেধা পাটকর, অরুণা রায়, যোগেন্দ্র যাদব প্রভৃতি সুশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা, যাঁরা সারা বছর মাঠে নেমে মানুষের পাশে মানুষের অধিকারের সপক্ষে সোচ্চার হন। নাক সিঁটকানো জনবিচ্ছিন্ন কলমচিরা রাহুল গান্ধীর উদ্ভিদ্যমান রাজনৈতিক সচেতনতা (যা নানা নিরীক্ষা, ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে) দেখতে পান নি, কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় যে পরাধীন ভারতের কংগ্রেসের চরিত্র কিছূটা হলেও ফিরে পাবার সংকেত ( কংগ্রেস রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশী ছিল রাজনৈতিক মঞ্চ), এটা তাঁদের মাথায় আসে নি। যখন দেখেছেন একদিকে যেমন রাহুল গান্ধী হাঁটছেন, মানুষের মধ্যে যাবার চেষ্টা করছেন-যাচ্ছেনও- অন্য পাশে পাশাপাশি চলেছেন যোগেন্দ্র যাদব ও কানহাইয়া কুমার, তাঁদের অনেকের হুঁশ হয়েছে, এটাই আশার কথা।
এই পদযাত্রা যে  ইতিবাচক , তা মানুষ উপলব্ধি করছেন। শুধু যে এই কর্মসূচি রূপায়ন  কংগ্রেসের মরা গাঙে বান ডাকতে পারে, তা নয়। তবে প্রবীন কংগ্রেসীরা আশান্বিত যে  এই যাত্রার মধ্য দিয়ে নীচের তলার কর্মীরা  আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন আবার,।  গোষ্ঠীদ্বন্দে জর্জরিত  ১৩৭ বছরের পার্টি  চাঙ্গা হয়ে উঠবে, এই আশায় তাঁরা উজ্জীবিত। বাস্তবে কী হবে তা দেখাই যাক না। আগে থেকে জ্যোতিষীর মত ভবিষ্যৎবাণী করা হাস্যকর। নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এই পদযাত্রা, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। ভারত জোড়ো অভিযান সঙ্ঘ পরিবারের মানুষের  মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়ানোর চক্রান্তর বিরুদ্ধে , যার প্রধান মদতদাতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয়  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌ আর গোটা ভারতীয় জনতা পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। মোদী সরকারের সর্বনাশা ও ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট(আদানি-আম্বানি)পদলেহী অর্থনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার পদযাত্রীরা, যে নীতিগুলির জন্য সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে-পড়া কোটি কোটি মানুষ বিপন্ন। এই পদযাত্রায়  সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দু রাষ্ট্র আওয়াজ  অন্তরালে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাম্প্রদায়িকতাবাদের বিরুদ্ধে সরব হবার মদত যোগাচ্ছে, যোগাবে।

আরও পড়ুন https://sahomon.com/welcome/singlepost/is-the-bharat-jodo-yatra-compelling-the-rss-bjp-to-say-its-time-for-uniting-the-country

এক প্রবীণ সাংবাদিক একটি আন্তর্জাল দৈনিকে লিখেছেন, “আসলে কংগ্রেসের ব্যর্থতার সুযোগে মোদীর সাফল্য গান্ধি পরিবারকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সনিয়া, রাহুলরা জানেন, ভবিষ্যৎ তাঁদের ক্ষমা করবে না। নরেন্দ্র মোদীর দুঃশাসনের ইতিহাস পর্যালোচনা করতে বসলে গান্ধি পরিবারের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের ব্যর্থতাও সমানভাবে কাটাছেড়া করা হবে। তাই আরও মুখ পোড়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বিরতি নিলেন মা ও ছেলে।” কংগ্রেসের অভ্যন্তরে কি হচ্ছে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। প্রাক্তন কংগ্রেসী প্রধান মন্ত্রী   পি ভি নরসিমহা রাওয়ের আমলে, যখন সেই সময়ের কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরী কংগ্রেসের প্রায় পঞ্চত্ব প্রাপ্তির ব্যবস্থা করছিলেন (না জেনে না বুঝে), তখন প্রকাশ্য রাজনীতি-অনীহ সোনিয়া গান্ধি কংগ্রেসকে চাঙ্গা করেছিলেন, নচেৎ ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আবার জিতত, অটল বিহারী বাজপেয়ী পুনর্বার প্রধানমন্ত্রী হতেন। সাবেক কংগ্রেসীরা একথা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন, সেই মানসিকতা কি তা অনুধাবন করে যা খুশি লেখা যায়, কিন্তু বাস্তবের ঘড়িতে সেই কাঁটা নড়ে না।
এই সময়ে ফেসবুকে জাতীয় কংগ্রেসকে প্রকাশ্যভাবে  বিশ্বাসঘাতক বললে সবচেয়ে খুশি হয় তো বিজেপি। সরকারী মার্ক্সবাদী দলগুলি যখন  ভারতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের সাংগঠনিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে ও জনগণ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার অর্থ তাদের হাত থেকে খসে পড়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধের পতাকা,  তখন জাতীয় বুর্জোয়াদের একাংশ সেই পতাকা তুলে ধরছে।
কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধি কি সত্যিই দারিদ্র্যদূরীকরণে সহায়ক হবে? এ প্রশ্ন মৌলিকভাবে জরুরী, কিন্তু এখন লক্ষ্য হিন্দু রাষ্ট্রের শকটকে শুধু রোখা নয়, ভেঙ্গে চূর্ণ করাও। সেই সংকল্প রূপায়নের ভিত গড়বে এই কর্মসূচি, সেই প্রত্যাশা কোটি কোটি মানুষের। তাছাড়া  এই মুহূর্তে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার্থে  মোদী-শাহর ফ্যাসিবাদী সরকারকে  ক্ষমতা থেকে সরানোর  বিকল্প কিছু নেই।তার জন্য সমস্ত বিরোধী পক্ষকে একটা জায়গায় আসতেই হবে। এই পদযাত্রা সেই সম্ভাবনাকে সবল করবে।  

https://twitter.com/sumonseng/status/1585453368272900096?s=20&t=V-PsDcH-5OY2YA-EEtijQw
 
ভারতের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান স্বাধীনতা আন্দোলনের ফসল। সঙ্ঘ পরিবার ও তার রাজনৈতিক দল স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করে না, করার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শীর্ষতম নেতৃত্ব ( সাভারকার, হেডগেওয়ার ও গোলওয়ালকর) ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী সরকারের আজ্ঞাবহ ছিলেন। তাই সঙ্ঘ পরিবার মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে ফেলতে চাইছে। তার বিরুদ্ধেই ভারত জোড়ো আন্দোলন।
বেজে উঠুক সময়ের ঘড়ি।

0 Comments

Post Comment