পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

তৃণমূল কংগ্রেস : মা যা হইয়াছেন

  • 08 April, 2022
  • 0 Comment(s)
  • 600 view(s)
  • লিখেছেন : শোভনলাল চক্রবর্তী
এটা স্পষ্ট তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব কোন বিকল্প নীতি বা কর্মসূচী নেই। প্রধানতঃ কংগ্রেসের পথই তাদের পথ। সাংগঠনিক পদ্ধতিতে চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক এক এবং দল চালানোর অর্থনৈতিক উৎসও প্রধানতঃ যে দলের পরিচ্ছন্ন নয় সেই দল জনস্বার্থে কোন কাজ করতে পারে না। ক্ষমতায় থাকার জন্য যতই বামপন্থী ধ্যান ধারণা বা বামপন্থী মুখোশ পরুক না কেন নীতি ও কর্মসূচীরও পথ চলাতে তারা আদ্যোপান্ত দক্ষিণপন্থার ধারক ও বাহক।

১৯৯৮ সালের ১লা জানুয়ারী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়। এ রাজ্যের কংগ্রেস ভেঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরী হয়। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস তৈরী হয়েছিল কংগ্রেসের মধ্যেকার আভ্যন্তরীণ বিতর্ক থেকে। মমতা ব্যানার্জী ও তার সঙ্গীরা কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে কোণঠাসা হয়ে গড়ে তোলেন তৃণমূল কংগ্রেস। ভারতের শাসন ব্যবস্থায় প্রধান শাসক দল কংগ্রেসের সাথে নীতিগত মৌলিক মতপার্থক্যের জন্য মমতা ব্যানার্জীরা বিকল্প দল গড়েননি। অর্থাৎ কংগ্রেসের নীতিগত অবস্থানের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন মৌলিক তফাৎ ছিল না। কংগ্রেস এদেশে শাসক শ্রেণির প্রতিক্রিয়াশীল মতাদর্শ ও রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসও রাজ্যে সেই মতাদর্শ ও রাজনীতিরই ধারক ও বাহক। এর উপর প্রবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই দলে ন্যূনতম আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। শ্রেণিশোষণমূলক শাসন ব্যবস্থা চালাবার জন্য ‘গণতান্ত্রিক কাঠামোর’ একটি পদ্ধতি এই দেশে চালু আছে এবং কেন্দ্রীয় শাসকদলগুলি একটি ছোট্ট চক্র দ্বারা পরিচালিত হলেও তাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় একটি ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’ রাখতে বাধ্য হয়। শেষ বিচারে হয়তো ঐ ‘চক্র’ই সব সিদ্ধান্ত নেয়, তবু আপাত গণতান্ত্রিক একটি ব্যবস্থা তাদের রাখতে হয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আলোচনা করা যাক। কংগ্রেস একটি রাজনৈতিক দল হলেও তার প্রভাবিত বিভিন্ন গণসংগঠনগুলির নিজস্ব কিছু প্রক্রিয়া আছে। শেষ বিচারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তাদের প্রভাবিত গণসংগঠনগুলি মেনে নিলেও অন্তবর্তীকালীন পর্যায়ে, তাদের কিছু নিজস্বতা থাকে। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় এই মোড়ক না থাকলে আমাদের মতো বিশাল দেশে ‘গণতন্ত্র’ সম্পর্কে যে প্রচলিত ধারণা আছে তার সাথে সাযুজ্য রেখে চলা সম্ভব নয়। কিন্তু এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একেবারেই ব্যতিক্রমী। প্রবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই দলটির নির্ধারক শক্তি এক জনই— তিনি মমতা ব্যানার্জী। তিনিই তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারী মনোনীত করেন, এমনকি সমস্ত গণসংগঠনেরও পদাধিকারী স্থির করে দেন। অর্থাৎ শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়— তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র, যুব, নারী সংগঠনের প্রধান কে হবেন তা স্থির উনি করেন। এখানে ‘গণতান্ত্রিক’ প্রক্রিয়ার ন্যূনতম মোড়কও নেওয়া হয় না। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে খুব জাঁকজমক করে নেতাজী ইনডোরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্মেলন হয়েছিল। বলা হয়েছিল এই সম্মেলনে সাংগঠনিক নির্বাচন হবে। ঐ সম্মেলনে সৌগত রায় প্রস্তাব রাখেন, ‘আজকের সম্মেলন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসাবে মমতা ব্যানার্জীকে নির্বাচিত করছে।’ সমবেত সবাই দু’হাত তুলে তা সমর্থন করলেন। মমতা ব্যানার্জী চেয়ারম্যান হলেন। এরপরই মুকুল রায় একটি প্রস্তাব রাখলেন, তা হলো— ‘তৃণমূল কংগ্রেসের বাকী সব পদাধিকারীদের মনোনীত করার ভার এই সম্মেলন মমতা ব্যানার্জীর উপর অর্পণ করছে।’ এটাও সিদ্ধান্ত হয়ে গেল। অর্থাৎ দলটার একটাই ‘‘নির্বাচিত’’ ব্যক্তি— তার নাম মমতা ব্যানার্জী। চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই দলে ছিটেফোঁটা গণতান্ত্রিক বাতাবরণ নেই। সমস্ত কিছুই নির্ধারণ করেন এক ব্যক্তি। এবার আসা যাক তৃণমূল কংগ্রেসের অর্থের উৎস প্রসঙ্গে। দলের প্রধান অবলম্বন কি? কংগ্রেস বা বিজেপিকে বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি তহবিল গড়তে টাকা দেয় এটা প্রমাণিত সত্য। সাধারণভাবে সিপিআই(এম) দলের মতো সংগঠনগুলি কর্পোরেট হাউস কিংবা অন্যসূত্রে অনুদান পেলেও তাদের আয়ের অন্যতম উৎস হলো অসংখ্য পার্টি কর্মীর লেভি কিংবা গণসংগ্রহ। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের অর্থনৈতিক উৎস কি? মমতা ব্যানার্জী প্রায়শই বলেন, ‘ছবি এঁকে,বই লিখে তা বিক্রি করে আমরা তহবিল তুলি’। কিন্তু ছবি এঁকে বা বই বিক্রি করে যে কোন দল চলে না এটা একটা শিশুও জানে। অর্থাগমের গোটাটাই ধোঁয়াশায় ভরা। টাকা পাবার সূত্রটা মোটেই পরিচ্ছন্ন নয়। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে ‘মানি মার্কেটের’ রমরমা অবস্থা দেখে একথা বলাই যায় এই ‘মানি মার্কেট’ এর একটা বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিলে যায়। মানিমার্কেট ফাটকা পুঁজিরই একটি অঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একটা বিশৃঙ্খল দলের পক্ষেও ফাটকা পুঁজির সাথে গাঁটছড়া বাঁধাটা সহজ। এখানে এরা একে অন্যের পরিপূরক।

সুতরাং এটা স্পষ্ট তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব কোন বিকল্প নীতি বা কর্মসূচী নেই। প্রধানতঃ কংগ্রেসের পথই তাদের পথ। সাংগঠনিক পদ্ধতিতে চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক এক এবং দল চালানোর অর্থনৈতিক উৎসও প্রধানতঃ যে দলের পরিচ্ছন্ন নয় সেই দল জনস্বার্থে কোন কাজ করতে পারে না। ক্ষমতায় থাকার জন্য যতই বামপন্থী ধ্যান ধারণা বা বামপন্থী মুখোশ পরুক না কেন নীতি ও কর্মসূচীরও পথ চলাতে তারা আদ্যোপান্ত দক্ষিণপন্থার ধারক ও বাহক। এখান থেকেই আমরা খোঁজার চেষ্টা করবো কেন মমতা ব্যানার্জীরা তাদের নীতিগত অবস্থান অন্যরকম হওয়া সত্ত্বেও মাঝে মাঝে সেজ কিংবা এফডিআই এর বিরোধিতা করেন কিংবা সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো লড়াইয়ের পক্ষ অবলম্বন করেন।তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই রাজ্যে পরিচিতি বেড়ে ওঠে সিপিআই(এম)-কে তীব্র বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে। রাজ্য কংগ্রেসের ভাঙ্গনের পর নিচুতলার কর্মীরা বেশীর ভাগই তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হয়। আবার কংগ্রেস বা বিজেপি-র সাথে জোট বেঁধেই সংসদীয় রাজনীতির আঙ্গিনায় তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে চলে এবং রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে চিহ্নিত হয়। ১৯৯৮ থেকে ২০১১ - এই পর্যায়ে প্রতিটি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হয় কংগ্রেস নতুবা বিজেপির সাথে রাজনৈতিক জোট গড়ে তুলেছে।সেই সময়ে রাজনৈতিক ভাবে মমতা ব্যানার্জী কিংবা তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস বা বিজেপি-র বিরোধিতা করেনি । শুধু ভোট বাড়ানোর লক্ষে একজনকে ছেড়ে অপর জনের সাথে জোট গড়েছে। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের কৃষক আন্দোলন দেখে মমতা ব্যানার্জী এবং তৃণমূল কংগ্রেস তার সুর একটু পাল্টায়। দলটি মূল্যায়ন করে যে পশ্চিমবঙ্গের গরিষ্ঠ জনমানস বামপন্থী ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং এরাজ্যে শাসকদল হতে গেলে ‘বামপন্থী’ মুখোশ পরতে হবে। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কৃষকদের প্রতিরোধ সংগ্রাম তাকে এই সুযোগ এনে দেয়। সিপিআই(এম)-এর আদর্শহীনতা, সন্ত্রাস, খোলাখুলি বৃহৎ পুঁজিপতিদের তোষণ ইত্যাদিতে বিরক্ত হয়ে বহু বামপন্থী ভাবধারার মানুষ বিরক্ত ও হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পর এই বিরাট সংখ্যক মানুষের সমর্থন মমতা ব্যানার্জী নিজের পক্ষে নিয়ে যেতে সমর্থ হন। যার ফলশ্রুতিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস জোট। সিপিআই(এম) দলের সামগ্রিক অধঃপতন গোটা রাজ্যে সংসদীয় রাজনীতিতে এক শূন্যতার সৃষ্টি করে। বহু মানুষ সিপিআই(এম) সহ বামফ্রন্টের পতন চায়। এই জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস সামনে চলে আসে। সিপিআই(এম) হঠাও একমাত্র শ্লোগান ছিল তার। আর তৃণমূল কংগ্রেসের বৃদ্ধি সিপিআই(এম) কে বিরোধিতা করেই। ফলে প্রধানত নেতিবাচক প্রবণতায় ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জোট। প্রসঙ্গত আরো একটি বিষয় উল্লেখ করতেই হয়। সেই সময়ে এরাজ্যে সমর্থনের বিচারে সিপিআই(এম) সহ বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, বা অন্যদের সম্মিলিত শক্তি ছিল প্রায় সমান। অর্থাৎ ক্ষমতায় যাবার জন্য আসন সংখ্যা নির্ধারক শক্তি হিসাবে কাজ করে, শতকরা হিসাবে নয়। সুতরাং ভোটের ২ বা ৩ শতাংশ এদিক ওদিক হলেই আসন সংখ্যার প্রচুর তারতম্য ঘটে। এদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় ৩৫ লাখ ভোটের ব্যবধানেই আসন সংখ্যা ২৩০ থেকে ৬০ হয়ে যায়। সুতরাং পুরোনো কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কের সাথে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম) এর বিরোধিতা থেকে জনগণের যে নতুন সমর্থন তৃণমূল কংগ্রেস পায় তার ভিত্তিতেই প্রধান বিরোধীদল থেকে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে তারা পরিণত হয়। এখানে আরো একটি বিষয়কে উল্লেখ করতে হবে — শাসকদের কেন্দ্রীয় নীতিকে এরাজ্যে সিপিআই(এম) পরিচালিত বামসরকার ৩৪ বছর ধরে বাস্তবায়িত করেছে। শাসকশ্রেণির সাথে নানা মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সিপিআই(এম) বর্তমান ব্যবস্থা বা বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে ভালো শাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু ২০০৬ এর পর থেকে তার সেই বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। অর্থাৎ যে দক্ষতার সাথে জনগণের শাসক হয়ে তারা কাজ করছিল সেই দক্ষতা দেখাতে তারা ব্যর্থ হয়। খুব স্বাভাবিক ভাবে শাসকশ্রেণির বিভিন্ন অংশ ‘বিপদ’ বুঝে মমতা ব্যানার্জী পরিচালিত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি ‘সহযোগিতা’র হাত প্রসারিত করে। অর্থাৎ শাসকশ্রেণির মূল লক্ষ্য, যাই ঘটুক না কেন বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যে রাষ্ট্রকাঠামো আছে তার বিরুদ্ধে যেন শ্রমিক ও মেহনতিরা চলে না যায়। যে ঘটনাই ঘটুক, তা যেন বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। স্বাভাবিকভাবে শাসকশ্রেণি (বৃহৎ দেশি বিদেশী কর্পোরেট পুঁজি, সামন্ত শক্তির অবশেষ) যখন দেখলো সিপিআই(এম) দলের বিশ্বাসযোগ্যতা কমছে তখন তারা মমতা ব্যানার্জী ও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ অবলম্বন করে। এর মানে কি তারা সমস্ত শক্তি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর পাশে দাঁড়ালো? না তা নয়। সব সময়ই শাসকশ্রেণির প্রধান লক্ষ্য থাকে যে যতই প্রতিবাদী আন্দোলন হোক না কেন সেই আন্দোলন যেন তাদের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্মণরেখার অর্থাৎ বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে আটকে থাকে। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস পরবর্তীতে শাসকশ্রেণির কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে, সেটা একটা দীর্ঘ পরিক্রমার বিষয়। কিন্তু সিপিআই(এম) দল বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবার পর তাদের তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ অবলম্বন করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা থাকে না। সুতরাং প্রধানতঃ দক্ষিণপন্থী অবস্থান বজায় রেখেও ‘বামপন্থী’ মুখোশ পরে শ্রমিক কৃষকদের স্বার্থের কথা তারস্বরে ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেস তার শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে নেয়। এই পর্যায়ে শাসকশ্রেণির বড়ো অংশই তাদের পক্ষ অবলম্বন করে। মোটামুটি এই কারণে ২০১১ তে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস জোট এরাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে যে যাত্রা তৃণমূল কংগ্রেস শুরু করেছিল ২০১১ সালে সেই পর্যায় শেষ হয়। এবার এই শক্তিটির মূল্যায়ন করে দেখা যাক এই দলটির বর্তমান অবস্থানটা ঠিক কি। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন চালাবার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই বলা দরকার এদেশে শাসকদলের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা মমতা ব্যানার্জী ও তার দল চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতায় আসীন হবার দিন থেকে বনধ ও ধর্মঘট সহ মেহনতি মানুষের সব ধরনের প্রতিবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার হুমকি দিয়ে এবং নানাধরনের সামিট করে বৃহৎ পুঁজিপতিদের কাছে বার্তা পৌঁছতে পেরেছে যে তারা সিঙ্গুরে টাটাদের বিরুদ্ধে যতই আন্দোলন করুক, তা ঘটানো হয়েছে নির্বাচনী বিজয়ের হাতিয়ার হিসাবে। সেটার সাথে তাদের শাসনকার্যকে বড় পুঁজিপতিরা যেন কখনই গুলিয়ে না ফেলে। বরং তাদের রাজত্বে বৃহৎ পুঁজিপতিরা নিশ্চিন্তে পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারেন, তাদের কোন ক্ষতির আশংকা নেই। এটা আরো স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায় তারা বৃহৎ পুঁজিপতিদের দ্বারা সংঘটিত শ্রমিক ও মেহনতি মানুষদের ওপর বিভিন্ন হামলা নিয়ে টুঁ শব্দটিও করেন না। যে দুটি বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি প্রচার করে তা হলো পাহাড় ও জঙ্গলমহলে তার সাফল্য। দুটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে অতীতের ধারাবাহিকতাতেই মমতা ব্যানার্জী চলার চেষ্টা করেছে অর্থাৎ জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের মূল প্রশ্নটিকে বাদ দিয়ে দার্জিলিং-এ সিপিআই(এম) যেভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেছিল এবং ব্যর্থ হয়েছিল একই কায়দায় মমতা ব্যানার্জীও চেষ্টা করছেন। অনিবার্যভাবে সেটাও ব্যর্থ হবে। মূল প্রশ্নের রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া পাহাড় শান্ত হতে পারে না। জঙ্গলমহলে অন্যতম মূল দাবী ছিল যৌথবাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে। সেই যৌথবাহিনীকে মোতায়েন রেখেই মমতা ব্যানার্জী জঙ্গলমহলকে শান্ত রেখেছে। অর্থাৎ শাসকদের ‘উদ্যত বন্দুকের নল’ জঙ্গলমহলকে হাসাচ্ছে। যেভাবে সিপিআই(এম) দল গোটা জঙ্গলমহলে হার্মাদ বাহিনী গড়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো এখন এখানে তা করে তৃণমূলের ভৈরববাহিনী। মাওবাদী নেতা ‘আজাদ’ হত্যার পর মমতা ব্যানার্জী কুম্ভীরাশ্রু ফেলেন আবার কিষাণজীকে যৌথবাহিনী দিয়ে হত্যাও করান। এখানেও সিপিআই(এম) দলের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই মমতা ব্যানার্জীরা চলছে। তফাৎ একটাই। জঙ্গলমহলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য একবারই গিয়েছিলেন আর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বারবার যাচ্ছেন। আসলে এর কারণ হলো বুদ্ধদেবের সাথে একটা পার্টি ছিল, সেখানে বুদ্ধদেবের ব্যক্তিগতভাবে যাওয়া না যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। জেলা সম্পাদক দীপক সরকার বা পার্টিকে দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো। আর মমতা ব্যানার্জীর দল যেহেতু ঐক্যবদ্ধ সুশৃঙ্খল দল হিসাবে গড়েই ওঠেনি এখানে ব্যক্তি মমতাই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার একমাত্র চাবিকাঠি। তাই তাকেই সব কাজে সামনে থাকতে হয়। এখানে ব্যক্তিই সর্বোত্তম। এই মিথ ভেঙ্গে গেলে দলটাও অচল হয়ে যাবে।

মমতা ব্যানার্জীর খুচরো ব্যবসায়ে বৃহৎ পুঁজির বিরোধিতা ও সেজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দেখে অনেক বামপন্থী মানুষ বিভ্রান্ত হন। তারা এটাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কথা বলেন। আপাতদৃষ্টিতে এটা ইতিবাচক বলেই মনে হয়। কিন্তু এদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন সংসদীয় দলগুলো এই রাজনৈতিক কৌশল বারবারই গ্রহণ করেছে। যেমন ১৯৯১ সালে ‘নয়া অর্থনৈতিক নীতি’ যখন এদেশে আসছিল তখন সবচেয়ে বেশী বিরোধিতা করেছিল বিজেপি ও আরএসএস। তারা শ্লোগান তুলেছিল ‘কোলগেট’ নয় ‘বাবুল’। বয়কট কর বহুজাতিক পণ্য। আবার ক্ষমতায় এসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এদেশে নয়া অর্থনৈতিক নীতিকে দারুণভাবে বাস্তবায়িত করেছিল। ২০০২ সালে যখন বিজেপি সরকারের আমলে খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশী পুঁজির প্রসঙ্গটি এসেছিল তখন তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল কংগ্রেস। এই কংগ্রেসই ক্ষমতায় থাকার সময় আমেরিকার নির্দেশে ‘খুচরো ব্যবসায়ে সরাসরি বিদেশী পুঁজি’ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। সুতরাং মমতা ব্যানার্জীরও এই বিরোধিতা রাজ্যের বামপন্থী ভোটব্যাঙ্ককে ধরার জন্যই, এছাড়া অন্য কোন কারণ নেই। তিনি যা করেছেন তা নিজেদের শক্তি বাড়াতে। জনগণের স্বার্থ এখানে উপলক্ষ মাত্র। আর খুচরো ব্যবসায় সরাসরি বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগের প্রশ্নে বিরোধিতা করতে হলে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করতে হয়। যখন মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ কি তা বুঝি না’ তখন তার দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়। পুঁজিপতিদের বিভিন্ন সামিটে দেশি বিদেশী বৃহৎ পুঁজিপতিদের নির্দ্বিধায় পুঁজি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো এবং উন্নয়ন মানে বৃহৎ পুঁজির বিনিয়োগ এই তত্ত্ব যখন মমতা ব্যানার্জীরা রাখেন তখন তার সাথে বুদ্ধদেবের পার্থক্য করা যায় না। কৃষিতে সাম্রাজ্যবাদী অনুপ্রবেশ অর্থাৎ বীজ, সার প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিদেশী বহুজাতিক সংস্থাগুলির অবাধ অনুপ্রবেশ চলছে। তার বিরুদ্ধে একটি ব্যবস্থাও নেবার কথা মমতা ব্যানার্জীরা বলেননি। ক্ষমতায় থাকার জন্য বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম কয়েকটা বছর বাদ দিয়ে সিপিআই(এম) যে পদ্ধতি নিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী এবং তৃণমূল কংগ্রেস একই পদক্ষেপ নিচ্ছে। সিপিআই(এম) এর কৌশল ছিল ‘উন্নয়ন’ এর নামে বৃহৎ একচেটিয়া পুঁজির ঢোকার অবাধ রাস্তার ব্যবস্থা করা, অপরদিকে শ্রমিক ও মেহনতি দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষকে না দেখে নানা ধর্ম ও বর্ণের বিভাজনকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে ভোটব্যাঙ্ক স্ফীত করা বা সুরক্ষিত রাখা। বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বা ব্যক্তির উপর ‘দলীয়’ ও ‘রাষ্ট্রীয়’ সন্ত্রাস নামিয়ে এনে যে কোনভাবে ক্ষমতায় থাকার কৌশল সিপিএম-এর মতো মমতা ব্যানার্জীরাও গ্রহণ করেছে। একদিকে বৃহৎ পুঁজিপতিদের তুষ্ট রাখার কৌশল নেওয়া, অপরদিকে সংখ্যালঘু ও নিম্নবর্ণের ভোটব্যাঙ্ক তৈরীতে কিছু জনপ্রিয় কর্মসূচী নেওয়া যেমন ইমামভাতা, মাদ্রাসার জন্য বিশেষ অনুদান, কিংবা নিম্নশ্রেণির মধ্যে ‘মতুয়া’দের ভোট ব্যাঙ্ক আছে বলে তাদের জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া। ব্যাপক বেকারত্ব যখন রাজ্যকে গভীর সংকটের মধ্যে ফেলেছে সেই সময় সেই জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের কোনও প্রচেষ্টা না নিয়ে ক্লাবগুলিকে আর্থিক অনুদান দিয়ে যুবসমাজকে তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন "শ্রী" ও "দুয়ারে সরকার" - এর নামে বামপন্থী প্রকল্প গুলিকেই নাম বদলে চালাচ্ছেন। অপরদিকে যে কোন বিরোধী মতের ওপর দলীয় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামিয়ে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট কর্মসূচীকে বাদ দিয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোট যেন সঙ্গে থাকে তার জন্য সব সময় নানা পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে। সাধারণভাবে মানুষের পিছিয়ে থাকা অবস্থানের জন্য ‘পপুলিষ্ট’ কার্যক্রম একটা সময়ের জন্য ভালো কাজ দেয়— এটাকে ভিত্তি করেই মমতা ব্যানার্জীদের শাসনকার্য চলছে। একটু ব্যাখ্যা করে বলা যাক। মুসলিম মানুষদের মধ্যে গরীবদের সংখ্যাই সর্বাধিক, তাদের অবস্থার কীভাবে উন্নতি হতে পারে, কর্মসংস্থান কীভাবে হবে সেই কাজ করার চেয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগকে যত্নের সঙ্গে তারা রক্ষা করছে। এই সস্তা পদ্ধতি প্রয়োগ করে তারা ভোটব্যাঙ্ককে সুরক্ষিত রাখতে চায়। অথচ এর কুফল সুদূরপ্রসারী। এ পদ্ধতি ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেয় এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বীজ রোপণ করে।

এতদসত্ত্বেও কি বলা যায় মমতা ব্যানার্জী বা তার দল বৃহৎপুঁজির আস্থাভাজন হয়ে পড়েছে? এই প্রক্রিয়ায় তাদের ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত তৈরী হবে? না, একথা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ যে দীর্ঘ পথ হাঁটার মধ্যে দিয়ে এই বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরী হয় সেই সময় এখনো অতিক্রান্ত হয়নি। বরং বলা যায়, সেই প্রক্রিয়া এখনোও চলছে। গুজরাটে ব্যাপক দাঙ্গা সংগঠিত করে এবং সকল ধরনের শ্রমিক কৃষক বিক্ষোভকে সন্ত্রাসের আবহাওয়া সৃষ্টি করে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করার সক্ষমতা দেখিয়ে নরেন্দ্র মোদী বৃহৎ পুঁজির আস্থাভাজন হয়েছে। এখন তাকে উন্নয়নের প্রতীক বলে কেন্দ্রীয় স্তরে তুলে ধরা হচ্ছে। এই নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষানিরীক্ষা চলেছে। এরাজ্যের ক্ষেত্রে ৩৪ বছরের বামশাসন এবং মমতার শাসনের তুলনামূলক পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। কিছুটা ‘শুদ্ধিকৃত’ সিপিআই(এম) না জনপ্রিয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, কে আগামীদিনে আবার ক্ষমতায় ফিরবে — এই বিষয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। কিন্তু পরীক্ষা নিরীক্ষা অব্যাহত। এই বিষয়ে এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। আমরা জানি ‘ইতিহাসে জনগণই নির্ধারক শক্তি, ব্যক্তি নয়’। কিন্তু মানব সমাজের ইতিহাসে আমরা দেখেছি কোন কিছু বিকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেমন মমতা ব্যানার্জী। মমতা ব্যানার্জী ছাড়া এই দলটি কার্যত শূন্য। মমতা ব্যানার্জীকে আবর্ত করেই এই দলটি চলছে। ফলে ব্যক্তি মমতা ব্যানার্জীই এখানে নির্ধারক। ভারতে শাসকশ্রেণি ক্ষমতায় থাকার জন্য যে মডেল তৈরী করেছে তার সাথে এখনও মমতা ব্যানার্জীর আচরণ সাযুজ্যপূর্ণ হয়ে উঠেনি। তার চরিত্রের খামখেয়ালীপনা, ক্রুরতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, বোকামি-এর সাথে অন্য আরও উপাদান আছে।যদি স্বৈরতন্ত্রী বিজেপি'কে রুখতে আর একটা স্বৈরতন্ত্রী আবহাওয়া বজায় রাখতে হয় তার জন্য ব্যক্তি মমতা ও তার দল খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতের প্রধান শাসকরা প্রধানত কাজ করতে চায় এমনভাবে যাকে ‘আইনী স্বৈরতন্ত্র’ আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। ‘আঘাত করো ও তারপর অ্যাকোমোডেট করো’ এটাই তাদের এই মুহূর্তের নীতি। সুতরাং এর সাথে ব্যক্তি মমতা ও তার দল এখনও সাযুজ্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারছে না। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এটা আরো গুরুত্বপূর্ণ।বনধ বা হরতালের বিরুদ্ধে ‘রাফ এণ্ড টাফ’ হয়ে, জঙ্গলমহলে যৌথবাহিনী দিয়ে ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করে, নানারকম সামিট করে বৃহৎ পুঁজির বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের নানা প্রচেষ্টা মমতা ব্যানার্জীরা করছেন। কিন্তু শৃঙ্খলাহীন দল, বহুক্ষেত্রে নেত্রীর অস্থিরতা, রাজ্যের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের বিরোধী অবস্থান — এগুলি শাসক শ্রেণির আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে কাজ করছে। অপরদিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে সিপিআই(এম)। কিন্তু জনমানসে দলটির বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে থাকার দরুন খুব ধীরে এই প্রক্রিয়া চলছে। একদিকে মমতা ব্যানার্জীর জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়া অপরদিকে সিপিআই(এম) দলের একটু একটু করে সংঘবদ্ধ হবার চেষ্টা এরাজ্যে সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতার প্রশ্নটিকে নতুন করে এক দোলাচলে ফেলতে শুরু করেছে। যেহেতু ক্ষমতা বিন্যাসের এই পর্যায়টি একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা থেকে এখনই সমস্ত পরিষ্কার করে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু একটা কথা খুব স্পষ্ট করেই বলা যায়,সেটা হল তৃণমূল কংগ্রেস শাসকদের একটা দল, যে দল শ্রমিকশ্রেণি, কৃষক সমাজ সহ অন্যান্য মেহনতি মানুষের পক্ষ অবলম্বনকারী নয়। এই দল কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচী হাজির করেনি যার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের লড়াই জোরদার হয়। বিপরীতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, বিশৃঙ্খল এই দল শেষবিচারে ভারতের শাসকশ্রেণির স্বার্থই সুরক্ষিত করছে এবং জনবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।বর্তমানে তৃণমূলের নিচের দিকের কর্মীরা বুঝে গেছেন যে নিজের ঘর গোছানোই শ্রেয়। বৃহৎ পুঁজির হাত ধরে উন্নয়ন যে তৃণমূল কংগ্রেসের কম্ম নয় সেটা এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার। যেহেতু নিচু তোলার কর্মীরা বুঝেছেন যে পার্টি করে চাকরি পাওয়ার আশা নেই, তাই ক্ষমতা এখন ছড়িয়ে পড়েছে অনুভূমিক ভাবে। সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, কয়লা, গরু, খাদান কিছুই বাদ নেই আর তারই ফলশ্রুতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের রাশ যে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে নেই তা এরাজ্যের মানুষ টের পেতে শুরু করেছেন।আগামী দিনে এই সঙ্কট আরও প্রকট হবে, একথা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

0 Comments

Post Comment