বর্তমানে পৃথিবী এক চরম সসংকটকাল পার করছে। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মহাকাশ জয়ের গল্প, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুবেলা দুমুঠো অন্নের সংস্থান করতে নাভিশ্বাস। অক্সফামের সাম্প্রতিক রিপোর্টটি এই রূঢ় বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। রিপোর্টটির মূল সুর হলো—বিশ্ব আজ 'গণতন্ত্র' থেকে বিচ্যুত হয়ে 'অলিগার্কি' বা ধনকুবেরদের শাসনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে ।
১. ধনকুবেরদের উত্থান: এক অদ্ভুত সমান্তরাল বিশ্ব
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি এমনভাবে কাজ করছে যেখানে ধনীরা আরও দ্রুত ধনী হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। একে আমরা নিচের পাঁচটি উপ-বিভাগে ভেঙে আলোচনা করতে পারি:
ক) সম্পদের অভূতপূর্ব বৃদ্ধি: রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের শুরুতে বিলিয়নেয়ার বা ধনকুবেরদের মোট সম্পদ ১৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে । এই বিশাল টাকা দিয়ে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের হাতে প্রায় ২১,০০০ টাকা (২৫০ ডলার) তুলে দেওয়া সম্ভব। তবুও বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ গত বছরের তুলনায় কমবে না, বরং ৫০০ বিলিয়ন ডলার বেশিই থাকবে! গত এক বছরে তাদের সম্পদ যে হারে বেড়েছে, তা আগের পাঁচ বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় ৩ গুণ বেশি । অর্থাৎ, ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি এখন 'বুলেট ট্রেনের' মতো।
খ) বিলিয়নেয়ারের সংখ্যায় রেকর্ড: ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে । এর মানে হলো, সম্পদ এখন আর ছড়িয়ে নেই, বরং হাতেগোনা কিছু মানুষের সিন্দুকে আটকে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ইলনমাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আধ-ট্রিলিয়ন (৫০০ বিলিয়ন) ডলারের মালিক হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন । এটি কোনো ব্যক্তির পক্ষে আগে কল্পনাও করা যেত না।
গ) ভারত ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৈষম্য: রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সম্পদের বৃদ্ধি সমানভাবে হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নেয়াররা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। তবে ভারতের মতোদেশগুলোতেও মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিল্পপতির হাতে দেশের অর্ধেকের বেশি সম্পদ চলে গেছে। ভারতের শীর্ষ ১% অতি-ধনীরা এখন যা সম্পদের মালিক (প্রায় ৪০%), তা দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চেয়ে হাজার গুণ বেশিবিলাসবহুল । উল্লেখ্য, বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন অনুযায়ী শীর্ষ ১% সম্পদের দিক থেকে ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ বৈষম্যপূর্ণ দেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাশিয়ার পরেই যার অবস্থান ।
ঘ) লিঙ্গ ও জাতিগত বৈষম্য: এই বিশাল সম্পদের মালিকানা কিন্তু সবার হাতে নেই। বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় নারীদের সংখ্যা মাত্র ১৩%। অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মূলত পুরুষতান্ত্রিক। জাতিগতভাবেও দেখা গেছে, সাদা চামড়ার মানুষদের হাতে সম্পদের পরিমাণ কৃষ্ণাঙ্গ বা বাদামী চামড়ার মানুষদের চেয়ে অনেক বেশি।
ঙ) কেন এটি একটি বড় বিপদ? অক্সফাম সতর্ক করছে যে, সম্পদ যখন কয়েকজনের হাতে বন্দি হয়, তখন তারা কেবল দামি গাড়ি বা বাড়ি কেনেন না, তারা 'ক্ষমতা' কেনেন। তারা রাজনীতির নিয়ম বদলে দেন। তারা কর ফাঁকি দেওয়ার রাস্তা তৈরি করেন। তারা এমন আইন বানান যাতে শ্রমিকদের বেতন কম থাকে আর তাদের লাভ বাড়তে থাকে।
রিপোর্টটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে যে, পৃথিবী এখন আর সবার জন্য সমান নয়। এটি একটি "উইনারটেকস অল" (Winner takes all) অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ঐশ্বর্য কোটি কোটি মানুষের দারিদ্র্যের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এটি কেবল টাকার অভাব নয়, এটি একটি বড় ধরনের সামাজিক এবং মানবিক সংকট।
২. অর্থনৈতিক বৈষম্য যখন রাজনৈতিক ক্ষমতা
সাধারণত গণতন্ত্রের নিয়ম হলো—'এক জন মানুষ, একটি ভোট'। কিন্তু বর্তমানে বিপুল অর্থবিত্ত এই নিয়মকে বদলে দিচ্ছে। টাকা কীভাবে রাজনীতিকে কবজা করছে, তা নিচের কয়েকটি ধাপে বোঝা সম্ভব:
(ক) নির্বাচনের খরচ ও ধনীদের বিনিয়োগ: আজকাল যেকোনো বড় দেশে নির্বাচন জেতা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণ প্রার্থীরা যেখানে হিমশিম খান, সেখানে বিলিয়নেয়াররা কোটি কোটি টাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে 'ডোনেশন' বা অনুদান হিসেবে দেন। এর ফলে যখন কোনো দল বা নেতা বিপুল পরিমাণ কর্পোরেট টাকা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি সাধারণ মানুষের চেয়ে ওই দাতা শিল্পপতির স্বার্থ রক্ষায় বেশিমনোযোগী হন। ভারতেও নির্বাচনীবন্ড (আগে ছিল) বা অন্যান্য গোপন উপায়ে বড় বড়শিল্পগোষ্ঠী রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থ সাহায্য করে। এটি আদতে এক ধরনের 'বিনিয়োগ', যা পরে সরকারি প্রকল্পের কাজ বা কর ছাড়ের মাধ্যমে তারা উশুল করে নেয়।
(খ) লবিং বা পর্দার আড়ালের প্রভাব: বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো পেশাদার 'লবিস্ট' নিয়োগ করে।যেমনএপস্টিন (Epstein) অন্যকাজেরপাশাপাশিএইকাজওকরতেন। এদের কাজ হলো মন্ত্রীদের বা সরকারি কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে নিজেদের ব্যবসার জন্য সুবিধাজনক আইন তৈরি করানো। তারা এমনভাবে আইন সংশোধন করছে যাতে তাদের কর (Tax) কম লাগে, কিন্তু মুনাফা বেশি হয়। পরিবেশ রক্ষার কড়া নিয়মগুলো অনেক সময় শিথিল করে দেওয়া হয় কেবল বড় শিল্পগোষ্ঠীর চাপে।
(গ) সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ: রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের বিলিয়নেয়াররা সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় ৪,০০০ গুণ বেশি হারে সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। যখন একজন বড় ব্যবসায়ী নিজেই ক্ষমতার কেন্দ্রে বসেন, তখন তার ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থ আর জাতীয় স্বার্থের মধ্যে ফারাক করা কঠিন হয়ে পড়ে। একে বলা হয় 'স্টেট ক্যাপচার' (State Capture) বা রাষ্ট্রের দখলদারি।
(ঘ) সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর কমে যাওয়া: টাকা যখন ক্ষমতার প্রধান চাবিকাঠি হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ শ্রমিক, কৃষক বা মধ্যবিত্ত মানুষের দাবিগুলো গুরুত্ব হারায়। সরকার অনেক সময় শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো খাতে খরচ কমিয়ে দেয় (Austerity), কিন্তু বড় ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকি বা বিশাল ঋণ মকুবের ব্যবস্থা করে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোট দিলেও নীতি নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা থাকে না, যাকে অক্সফাম 'রাজনৈতিক দারিদ্র্য' হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
(ঙ) গণতন্ত্র বনাম অলিগার্কি: এই পরিস্থিতির কারণে গণতন্ত্র ক্রমশ 'অলিগার্কি' বা 'ধনতন্ত্রে' পরিণত হচ্ছে। অর্থাৎ দেশ চলছে কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ইশারায়। এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বিপদ। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বৈষম্য কেবল 'টাকার অভাব' নয়, এটি 'অধিকারের অভাব'। টাকা যখন রাজনীতিকে কিনে নেয়, তখন সাধারণ মানুষের ভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়, আর দেশ পরিচালিত হয় ধনকুবেরদের স্বার্থে। এটি গণতন্ত্রের মূল ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
৩. গণমাধ্যমের দখলদারি: যখন তথ্য হয়ে ওঠে ধনীদের অস্ত্র
আমরা প্রতিদিন যে খবর পড়ি বা দেখি, তা কোনো নিরপেক্ষ আয়না নয়; বরং তা প্রায়ই বড় বড়বিলিয়নেয়ারদের স্বার্থে পালিশ করা একটি ছবি। তথ্য যখন মুষ্টিমেয় কয়েকজনের সম্পত্তিতে পরিণত হয়, তখন সাধারণ মানুষ অন্ধকারে থাকে।
(ক) সারা বিশ্বের পরিস্থিতি: কর্পোরেট মালিকানারমরণফাঁদ: বর্তমানে সারা বিশ্বে গণমাধ্যম আর কেবল একটি সেবা নয়, এটি একটি বড় ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি প্রভাবশালী মিডিয়া এখন মাত্র ৫-৬টি বিশাল কর্পোরেট সংস্থার হাতে । এই মালিকরা এমন কোনো খবর প্রকাশ করেন না যা তাদের মূল ব্যবসায়িক স্বার্থে (যেমন খনি, তেল বা অস্ত্র ব্যবসা) আঘাত করতে পারে। ইলনমাস্কেরমতো ব্যক্তিরা যখন 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এর মতো বড় প্ল্যাটফর্ম কেনেন, তখন তারা সেটিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেন। অক্সফাম রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সোশ্যালমিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ৯টিই মাত্র ৬ জন বিলিয়নেয়ারেরনিয়ন্ত্রণে । বড় বড়বিলিয়নেয়াররাগণমাধ্যম ব্যবহার করে এমন এক ধরনের চিন্তাধারা প্রচার করেন যা তাদের শাসনকে বৈধতা দেয়। একে বলা হয় 'তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা'।
(খ) ভারতের বাস্তবতা: ভারতের ক্ষেত্রে এই মিডিয়া দখলদারির চিত্রটি সারা বিশ্বের তুলনায় আরও বেশিউদ্বেগজনক। রিপোর্টে ভারতের জন্য যে বিষয়গুলো আলাদাভাবে উঠে এসেছে তা হল ভারতে প্রথম সারির প্রায় সব কটি প্রধান নিউজ চ্যানেল এবং প্রভাবশালী সংবাদপত্র এখন সরাসরি বড় বড়শিল্পগোষ্ঠীর (যেমন আদানি বা আম্বানি গোষ্ঠী) মালিকানাধীন অথবা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের সাথে যুক্ত। এর ফলে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করার চেয়ে মালিকের স্বার্থ রক্ষা করতে বেশি বাধ্য হন। এতে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যা—যেমন রেকর্ড বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি বা কৃষকদের দুরবস্থা—নিয়ে আলোচনার বদলে ভারতের মিডিয়াতে অনেক সময় সাম্প্রদায়িক বিতর্ক বা বিনোদনমূলক খবরকে সারাদিন হেডলাইন হিসেবে রাখা হয়। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, ভারতের বড় ব্যবসায়ীরা মিডিয়াকে কেবল ব্যবসার জন্য নয়, বরং সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার 'ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে সরকারি নীতির সমালোচনা করার জায়গাটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভারতের মূল ধারার মিডিয়ায় দলিত, আদিবাসী, নারী এবং প্রান্তিক শ্রমিকদের সমস্যা প্রায় অনুপস্থিত। অক্সফাম বলছে, মিডিয়া এখন কেবল 'ধনীদের জন্য, ধনীদের দ্বারা' একটি ক্লাবে পরিণত হয়েছে। গ্রাম ভারতের কান্না স্টুডিওর ঝলমলে আলোয় হারিয়ে যায়।
যখন মিডিয়ার মালিক কোনো প্রভাবশালী বিলিয়নেয়ার হন, তখন গণতন্ত্রের শেষ রক্ষাকবচটিও ভেঙে পড়ে। ভারতসহ সারা বিশ্বে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানিমূলক মামলা (Strategic Lawsuits Against Public Participation) করে তাদের মুখ বন্ধ করা হয়। বড় বড় কোম্পানিগুলো সাংবাদিকদের ওপর 'মানহানি'র মামলা ঠুকে দেয় যাতে তারা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করতে ভয় পায়। চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দক্ষ সাংবাদিকও নিজেদের সেন্সর করতে বাধ্য হন। তারা জানেন যে মালিকের বিরুদ্ধে বা মালিকের বন্ধুর (সরকার) বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের কেরিয়ারধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
এই রিপোর্ট আমাদের সতর্ক করছে যে, সারা বিশ্বেই তথ্য এখন 'পণ্য' হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতে মিডিয়ার স্বাধীনতা বড় পুঁজির কাছে বন্দি। যখন সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না, তখন মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়—যা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে এবং ধনীদের শাসনকে (Oligarchy) পাকাপোক্ত করে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা কেবল সাংবাদিকদের কাজ নয়, এটি ভারতের গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই।
৪. সাশ্রয়ী নীতি ও দারিদ্র্যের নির্মমতা: গরিবের পকেটে টান, ধনীদেরপোয়াবারো
সহজ কথায়, 'সাশ্রয়ী নীতি' বা অস্টেরিটি (Austerity) হলো সরকারের এমন এক সিদ্ধান্ত যেখানে দেশের খরচ কমাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রেশনের ভর্তুকি বা পেনশনেরমতোজনকল্যাণমূলক খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়। অক্সফাম বলছে, এই নীতি আদতে দারিদ্র্য দূর করার বদলে গরিব মানুষকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
(ক) সারা বিশ্বের পরিস্থিতি: এক বিশাল মানবিক সংকট: বিশ্বজুড়ে এখন এক অসম লড়াই চলছে। একদিকে যখন বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নূন্যতম প্রয়োজনগুলো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রতি চারজনে একজন মানুষ (প্রায় ২০০ কোটি মানুষ) নিয়মিত ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটায় । ৩৮৩ কোটি মানুষ অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যাদারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে । বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ তাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বাজেট কমিয়ে দিয়েছে। অথচ এই দেশগুলোই বড় বড় কোম্পানিকে কর ছাড় (Tax Cut) দিচ্ছে। অক্সফাম বলছে, সরকারগুলো "পুনর্বণ্টনের বদলে সাশ্রয়" বেছে নিচ্ছে, যার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
(খ) ভারতের সাশ্রয়ী নীতি: ভারতের ক্ষেত্রে এই সাশ্রয়ী নীতির প্রভাব অত্যন্ত গভীর এবং এটি সামাজিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলছে যেমন ভারতে সরকারি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বিশ্বের অন্যতম নিম্নতম। এর ফলে মানুষ বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৫-এর তথ্য বলছে, ভারতের মাথাপিছু গড় সম্পদ ডলারের নিরিখে কমেছে, আর জিনিসহগ(জিনিসহগ (Gini Coefficient) হলো পরিসংখ্যানের একটি মাপকাঠি যা কোনো দেশ বা অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আয় বা সম্পদ কতটা অসমভাবে বিতরণ করা হয়েছে তা বোঝায়। ইতালীয়পরিসংখ্যানবিদকোরাডোজিনি ১৯১২ সালে এটি তৈরি করেন।)০.৭৪-এ পৌঁছেছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমান। সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষকের অভাব এবং পরিকাঠামোর অভাবে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। ডিজিটাল ডিভাইড বা প্রযুক্তির অসম ব্যবহারের ফলে গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা ধনীদের তুলনায় ৫ গুণ বেশি পিছিয়ে রয়েছে। রান্নার গ্যাস, রেশন বা সারের ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ার ফলে সরাসরি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ছে। যখন চাল, ডাল বা তেলের দাম বাড়ে, তখন একজন বিলিয়নেয়ারের কিছু যায় আসে না, কিন্তু একজন শ্রমিকের থালা থেকে খাবার কমে যায়। ভারতে বেকারত্বের হার বাড়ছে, অথচ যারা কাজ করছেন তাদের মজুরি মূল্যস্ফীতির সাথে তাল মেলাতে পারছে না।
(গ) আরও কিছু তথ্য: সাশ্রয়ী নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মহিলারা। সরকারি পরিষেবা বন্ধ হলে ঘরের যত্ন বা অসুস্থের সেবার পুরো ভার মহিলাদের ওপর পড়ে, যার ফলে তারা আর উপার্জনের কাজে বেরোতে পারেন না। ভারতে মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এই কারণেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যেখানে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ মাত্র ১৫.৭%। সরকার যখন বলে "টাকা নেই," তখন তারা আসলে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ কর (যেমন GST) বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বড়লোকদের ওপর 'ওয়েলথ ট্যাক্স' বা সম্পদ কর বসায় না (ভারতে ১৯৮৫ সালে এস্টেট ডিউটি বাতিল করা হয়েছে)। এই সাশ্রয়ী নীতির ফলে ভারতের ধনী অঞ্চলের মানুষের গড় আয়ু দরিদ্র অঞ্চলের মানুষের চেয়ে প্রায় ৭-১০ বছর বেশি। অর্থাৎ, দারিদ্র্য কেবল কষ্ট দেয় না, মানুষের জীবনও কেড়ে নেয়।
এই রিপোর্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে যে, সরকারের কাছে "টাকা নেই" কথাটি একটি অজুহাত মাত্র। আসলে সেই টাকা দিয়ে বড়লোকদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে আর গরিবের থালা থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ভারত যদি এই সাশ্রয়ী নীতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ না বাড়ায়, তবে দারিদ্র্যের এই শিকল ভাঙা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
৫. দমনের সংস্কৃতি বনাম প্রতিবাদের অধিকার: যখন প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হয়
সহজ কথায়, যখন সাধারণ মানুষ বৈষম্য, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা অধিকার হরণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে, তখন সরকারগুলো তাদের দাবি শোনার পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগ করে মুখ বন্ধ করার যে পথ বেছে নেয়, তাকেই বলা হচ্ছে 'দমনের সংস্কৃতি'।
(ক) সারা বিশ্বের পরিস্থিতি: অধিকার হরণের বিশ্বায়ন: অক্সফাম বলছে, বর্তমানে অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই 'রিপ্রেশন ওভার রিডিস্ট্রিবিউশন' (Repression over Redistribution) অর্থাৎ সম্পদ বণ্টনের চেয়ে দমন-পীড়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের বহু দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং জলকামান ব্যবহার করা এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কেনিয়া, নাইজেরিয়া এবং ইকুয়েডরে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী নীতির (Austerity) বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যাপক সরকারি দমন-পীড়ন দেখা গেছে। সারা বিশ্বে গত কয়েক বছরে কয়েকশো পরিবেশ রক্ষাকারী এবং মানবাধিকার কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বা জেলে বন্দি করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা বড় বড়বিলিয়নেয়ারদের খনি বা শিল্প প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সরকারগুলো এখন উন্নত স্পাইওয়্যার (যেমন পেগাসাস) এবং ফেসিয়ালরিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে।
(খ) ভারতের রিপোর্ট: গুরুত্ব ও কঠোর বাস্তবতা: ভারতের ক্ষেত্রে প্রতিবাদের অধিকার এবং দমনের সংস্কৃতির মধ্যে লড়াইটি অত্যন্ত তীব্র। ভারতে কৃষক আন্দোলন বা সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলনের মতো বড় জমায়েতগুলোকে দমন করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদীদের 'দেশবিরোধী' বা 'বাইরের চক্রান্ত' হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা গেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতে ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক, ছাত্রনেতা এবং সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র মতো কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে বিচার শুরুর আগেই অনেকে দীর্ঘ সময় জেলে বন্দি থাকছেন। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট বন্ধ করার রেকর্ড ভারতের। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া রুখতে বা সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বারবার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা বাকস্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। ভারতে এনজিও (NGO) বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর কাজ করার পরিধি কমিয়ে আনা হচ্ছে। ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (FCRA) ব্যবহার করে অনেক সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, যারা মানবাধিকার বা বৈষম্য নিয়ে কাজ করছিল।
(গ) আরও কিছু তথ্য: সারা বিশ্বেই নতুন নতুন শ্রম আইন তৈরি করে শ্রমিকদের ধর্মঘট করার বা ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে। ভারতেও নতুন 'লেবার কোড' নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের আদিবাসী এলাকাগুলোতে যেখানে বড় বড়শিল্পপতিরা খনি প্রকল্প গড়তে চাইছেন, সেখানে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে। ছত্তিশগড় বা ওড়িশারমতো রাজ্যে আদিবাসী আন্দোলনকারীদের প্রায়ই মাওবাদী তকমা দিয়ে দমন করা হয়।
এই রিপোর্ট আমাদের সতর্ক করছে যে, গণতন্ত্রের আসল শক্তি হলো প্রশ্ন করার অধিকার। যখন সরকার বিলিয়নেয়ারদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ওপর লাঠি বা জেল-জুলুম চালায়, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্র বিপন্ন। ভারত যদি তার বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বর এবং প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করতে না পারে, তবে উন্নয়ন কেবল মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতেই বন্দি থাকবে। প্রতিবাদের অধিকার হারানো মানেই হলো শোষণের পথ প্রশস্ত হওয়া।
৬. উত্তরণের পথ: কী করা প্রয়োজন?
অক্সফাম বলছে, এই সংকট থেকে বেরোতে হলে আমাদের রাজনীতির মূলে এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হবে। সমাধানগুলো নিচে দেওয়া হলো:
(ক) সারা বিশ্বের নিরিখে সমাধান: আন্তর্জাতিক সংহতি: সারা বিশ্বকে একজোট হয়ে এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যা কোনো নির্দিষ্ট দেশ একা করতে পারবে না।
· গ্লোবাল ওয়েলথ ট্যাক্স: বিশ্বের অতি-ধনীদের ওপর নূন্যতম ২% সম্পদ কর বসানোর একটি বৈশ্বিক চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। জি-২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই এটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিলিয়নেয়ারদের কার্যকর করহার মাত্র ০.৩% থেকে ০.৪%।
· ট্যাক্স হেভেন বন্ধ করা: বড় বড়বিলিয়নেয়াররা তাদের টাকা বিদেশের ট্যাক্স হেভেনে (যেখানে কর দিতে হয় না) লুকিয়ে রাখেন। এটি বন্ধ করতে একটি আন্তর্জাতিক কর কাঠামো বা 'ইউএন ট্যাক্স কনভেনশন' গড়ার কথা বলা হয়েছে।
· ঋণ মকুব: গরিব দেশগুলো যে বিপুল বৈদেশিক ঋণের বোঝায় ডুবে আছে, তা মকুব করার দাবি জানিয়েছে অক্সফাম। এতে সেই দেশগুলো তাদের টাকা সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে খরচ করতে পারবে।
(খ) ভারতের রিপোর্ট: গুরুত্ব ও পদক্ষেপ: ভারতের জন্য অক্সফাম কিছু সুনির্দিষ্ট সমাধানের কথা বলেছে, যা ভারতের বৈষম্য কমাতে জাদুর মতো কাজ করতে পারে:
· ভারতের সম্পদ কর: ভারতে বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের ওপর বার্ষিক সম্পদ কর এবং 'ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স' (উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ওপর কর) পুনরায় চালু করা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০০ পরিবারের ওপর মাত্র ২-৩% কর বসালে যে অর্থ আসবে, তা দিয়ে দেশের পুরো 'আয়ুষ্মান ভারত' বা স্বাস্থ্য বিমার অভাব দূর করা যাবে।
· জনসেবায় বিনিয়োগ বাড়ানো: ভারতের মোট জিডিপির অন্তত ৬% শিক্ষা এবং ৩% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর বেসরকারি হাসপাতালের চড়া বিল মেটাতে গিয়ে দেউলিয়া হতে হবে না।
· ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিকের অধিকার: ভারতে অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সম্মানজনক 'লিভিংওয়েজ' বা জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও বিমার আওতায় আনতে হবে।
· রাজনৈতিক সংস্কার: রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে হবে। বড় বড়শিল্পপতিরা যাতে গোপনে দলগুলোকে টাকা দিয়ে নীতি কেনাবেচা করতে না পারে, তার জন্য কঠোর আইন প্রয়োজন। নির্বাচনীবন্ডের বিকল্প হিসেবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
(গ) আরও কিছু প্রস্তাবনা:
· লিমিট্যারিয়ানিজম: এই ধারণা অনুযায়ী, একজন মানুষ ঠিক কত পরিমাণ ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হতে পারবেন, তার একটি সর্বোচ্চ সীমা (Upper Limit) ঠিক করে দেওয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত সম্পদ কেবল বিলাসিতা বাড়ায় না, গণতন্ত্রকে কলুষিত করে।
· বেসরকারীকরণ বন্ধ করা: শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোকে মুনাফার জায়গা হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। ভারতের রেল বা অন্যান্য জনসেবা ক্ষেত্রকে বেসরকারীকরণ থেকে রক্ষা করার কথা রিপোর্টে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
· ডিজিটাল সমতা: ভারতের গ্রামীণ এলাকার শিশুদের জন্য সুলভ ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা, যাতে তারা শহরের ধনীদের সাথে সমানভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।
· ইউনিয়ন করার অধিকার: শ্রমিক সংগঠন বা ইউনিয়নকে শক্তিশালী করা। পরিসংখ্যান বলছে, যেখানে ইউনিয়ন শক্তিশালী, সেখানে বেতন বৈষম্য অনেক কম থাকে।
উত্তরণের পথটি আসলে খুব সহজ—"ধনীদের পকেট থেকে সেই টাকা বের করা যা তারা অন্যায্যভাবেজমিয়েছেন এবং তা সাধারণ মানুষের কল্যাণে খরচ করা।" ভারত যদি কেবল ১% অতি-ধনীর ওপর কড়া নজর দেয় এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারে বিনিয়োগ বাড়ায়, তবেই এই বৈষম্যের শিকল ভাঙা সম্ভব। এটি কেবল অর্থনীতির কথা নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার লড়াই। ভারতের সংবিধানের 'সাম্য' ও 'ন্যায়বিচারের' অঙ্গীকার পূরণ করার এটাই একমাত্র পথ।
পরিশেষে, "Resisting the Rule of the Rich" রিপোর্টটি আমাদের এই বার্তা দেয় যে, বৈষম্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফসল। ভারত হোক বা বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্ত—গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে সম্পদের এই পাহাড় ভাঙা জরুরি। যদি এখনই সম্পদ পুনর্বণ্টন এবং ধনীদের ওপর কর আরোপের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে 'জনগণের শাসন' কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। আমরা এমন এক পৃথিবী চাই যেখানে ১ শতাংশ মানুষের বিলাসিতার চেয়ে ৯৯ শতাংশ মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রেফারেন্স:
১. Economic Times. (২০২৬, জানুয়ারি ২০). How billionaires got $2.5 trillion richer and reshaped politics, media & democracy in 2025: Oxfam report. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
২. Moneycontrol. (২০২৫, ডিসেম্বর ১১). India’s 1% controls 40% of wealth, rivaling inequality levels in South Africa, Russia. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
৩. Zucman, G. (২০২৪, জুন). A blueprint for a coordinated minimum effective taxation standard for ultra-high-net-worth individuals. EU Tax Observatory. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
৪. Lexology. (২০২৫, জুলাই ২). Wealth Preservation Strategies: Inheritance Tax Planning for High-Net-Worth Individuals in India. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
৫. PTS News. (২০২৬, জানুয়ারি ১৯). Billionaires‘ wealth totals hit record high, top 12 richer than poorest 4 billion. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
৬. Times Now. (২০২৫, জুলাই ৪). Worse Than British Era? India’s Income Inequality Crisis Now Bigger Than Colonial Times. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
৭. Center for Economic and Social Rights. (২০২৫, জুলাই ১). Spain and Brazil’s call to tax the super-rich can shift global norms. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
৮. Mondaq. (২০২৫, জুলাই ৭). Wealth Preservation Strategies: Inheritance Tax Planning For High-Net-Worth Individuals In India. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
৯. Profit by Pakistan Today. (২০২৬, জানুয়ারি ২০). Billionaires’ wealth soars to record $18.3 trillion in 2025, amplifying global inequality, Oxfam reports. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]
১০. The Wire. (২০২৫, ডিসেম্বর ১৮). India’s Wealth Gap Grows and Average Wealth Falls, But Millionaires Surge. [সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]