পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

আতিকের সংকল্প এবং একটি পরিসংখ্যান বিষয়ক কথোপকথন

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 201 view(s)
  • লিখেছেন : মনসুর মণ্ডল
আশরাফিলকে ফেরানো যায়নি। নিজের সম্ভাবনা আর আতিকের সংকল্পে ইতি টেনে চলে গেছে সে পরবাসের পথ ধরে। আশরাফিল চলে গেল যেদিন, রওনা হওয়ার আগে আতিকের কাছে গিয়েছিল দেখা করতে। তার সামনে মাথা তুলতে পারেনি, মুখ নীচু করে কথা বলেছিল। স্যার, আজ আমি চলে যাচ্চি।

আশরাফিলকে ফেরানো যায়নি। নিজের সম্ভাবনা আর আতিকের সংকল্পে ইতি টেনে চলে গেছে সে পরবাসের পথ ধরে। 
আশরাফিল চলে গেল যেদিন, রওনা হওয়ার আগে আতিকের কাছে গিয়েছিল দেখা করতে। তার সামনে মাথা তুলতে পারেনি, মুখ নীচু করে কথা বলেছিল।
স্যার, আজ আমি চলে যাচ্চি। 
ও। জরি কাজই করবি?
হ্যাঁ।
কথাবার্তা ঠিকঠাক হয়েছে তো? 
সাবির ভাই সব ঠিক করে রেখেছে। তার সঙ্গেই যাচ্চি। চলি স্যার। 
চলে যাওয়ার সময় আশরাফিল মুখ তুলতেই আতিক দেখে তার থমথমে মুখ, বিষণ্ণতা চোখজুড়ে। কী তার ভাষা, পড়তে চেয়ে ভাবে – তাকে কি  ফেরানো যায় না? তার ডাকে আশরাফিল সামনে এসে দাঁড়ায়। 
আর একবার কি দেখা যায় না? মিশন না হোক, তুই আমার কাছে পড়বি। তোর আব্বাও চায়, তুই পড়া চালিয়ে যা। আজকের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবি না? কী রে, পারবি তো?
পারব না, স্যার। পড়তে আমার আর ভাল লাগে না। চলি স্যার। 
সপ্তম শ্রেণি থেকে একটানা আতিকের আতিকের গৃহশিক্ষকতার ব্যাচের ছাত্র ছিল আশরাফিল। আগে সে পরীক্ষায় নম্বর পেত সাতের কোঠায়। তখন তার গৃহশিক্ষক ছিল না। সপ্তম শ্রেণি থেকে নম্বর থাকত নব্বই ছুঁইছুঁই। নবম পর্যন্ত এরকমই চলেছিল। দশমে পৌঁছে তার পড়াশোনায় ফাঁকি শুরু হল। এদিকটা সামলে নেওয়ার বিশ্বাসে চেষ্টায় কমতি ছিল না আতিকের। তার কলেজের এক সহপাঠী আবাসিক মুসলিম মিশনে পড়ায়। তার সঙ্গে কথা বলে রেখেছিল, আশরাফিলকে মাধ্যমিকের পর বিনা বেতনের বন্দোবস্তে মিশনে ভর্তি করে দেবে। শর্ত ছিল একটিই— মাধ্যমিকে অন্তত আশি শতাংশ নম্বর চাই। মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হল যেদিন, আশরাফিল মার্কশীট দেখাতে আসে না দেখে আতিক নিজেই তাদের বাড়ি গিয়েছিল। মার্কশীট হাতে নিয়ে কয়েক মুহূর্ত কথা বলতে পারেনি। এতকিছুর পরও ছাপান্ন শতাংশে আটকে গেল! 
মিশন তো হবে না। কী করবি এখন?
মুম্বাই যাব। জরির কাজ করব।
আশ্চর্য হয়েছিল আতিক – ছাত্রের কথায় এতটুকু দ্বিধা নেই। রাগ হয়েছিল তার অধঃপতনে।
সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিস দেখছি, তখন তো আর কিছু বলার নেই। 
আশরাফিলের এই পরিণামের মূলে ছিল কতটা দারিদ্র্যের তাড়না, কতটা পারিপার্শ্বিকের ছায়া, ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি আতিক। যা-ই হোক, সব তো আশরাফিলকে নিয়েই। সেই নিয়ে হতাশায় তার সঙ্গে আর কথা বলতে ইচ্ছে হয়নি আতিকের। কিন্তু বিদায়বেলায় আশরাফিল্কে দেখে তার মনে হল, হয় তো তার মনে কোথাও দ্বিধা রয়ে গেছে; নইলে তাকে অমন মনমরা লাগে কেন? 
আতিকের ভিতর আলোড়ন, এ শুধু বাইরের নয়, ভিতরের তাগিদও ছিল। তার সাত বছরের গৃহশিক্ষকতায় শুরু থেকেই শিক্ষক হিসাবে যথেষ্ট সুনাম হয়েছে। কোন ছাত্র ব্যর্থ হলেও তাতে ইতর-বিশেষ হওয়ার নয়। কিন্তু তার নিজের মধ্যে আশরাফিলের জন্য আলাদা জায়গা ছিল। তার আশা ছিল, আশরাফিল এলাকায় সেরা রেজাল্ট করবে। ছাত্রের কৃতিত্বে আতিকের অবদান যতটা, ব্যর্থতার দায়ভাগ ততটাই, এটা তার কাছে ছিল সহজ সত্য। সেই ভার তার বহন করা সহজ হয়নি। 
আশরাফিলের ব্যর্থতার পরেও লোকের কাছে আতিক ভাল গৃহশিক্ষক। কিন্তু সে নিজের কাছে ছিল সঙ্কুচিত। আতিকের সঙ্গে আমার তার গৃহশিক্ষকতা নিয়ে আলাপের মাঝে সেকথা বলতে তার দ্বিধা ছিল না। 
স্কুল শিক্ষক হওয়ার সংকল্প ছিল আমার। শিক্ষকতার জন্য বেশ কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষে চাকরির বয়স আরও তিন বছর থাকা সত্ত্বেও আর পরীক্ষায় বসিনি। সে’ আমার হতাশা নাকি অনাস্থা, ঠিক বুঝতে পারিনি, যেমন বুঝতে পারিনি কোথায় আটকালাম – মুসলিম পরিচয়ে, নাকি অন্য কারণ ছিল। তখন থেকেই প্রাইভেট পড়াতে লেগে পড়লাম। আর্থিক দিক দিয়ে আমার আক্ষেপের কোন কারণ ছিল না। আমি বাড়ির এক ছেলে, আমাদের মধ্য কৃষক পরিবার। সময়ে আক্ষেপ-বিক্ষেপ ভুলে প্রাইভেট পড়ানোতে আমার সেরাটা দিতে চেয়েছি সবসময়। আমার ব্যাচে ভাল রেজাল্ট করে এমন ছাত্র-ছাত্রী নেহাত কম ছিল না। ভাল লাগত এ নিয়ে নিজের কাছে জবাবদিহিতে। আমার চাকরি না পাওয়া প্রথম প্রথম ব্যর্থতা মনে হলেও পরে বুঝে নিয়েছিলাম, এ ব্যর্থতা নয়,  জীবনের এক অসম্পূর্ণতা। মনে হত, দিনে দিনে আমি অসম্পূর্ণতাকে অতিক্রম করে যাচ্ছি। কিন্তু আশরাফিলের পরিণাম সবকিছু এলোমেলো করে দিল। যেকথা আগে ভাবিনি, আগেও আমার ব্যাচের কেউ কেউ স্কুলছুট হয়েছে, তাদের অনেকেই ভিন রাজ্যে চলে গেছে ভাল রোজগারের আশায়, সেসব আশরাফিলে মিলে আমাকে তাড়িত করে তুলল। আমার দায়বদ্ধতার মূল্য কতটুকু? কীসেই বা আত্মমর্যাদা? 
ভালয়-মন্দয় ছাত্র পড়াই, গ্রামের ঘেরাটোপে পড়ে থাকি, যেন নিজেকে লুকিয়ে রাখি। জেদ চেপে বসল মনে, ঘেরাটোপ ছেড়ে বের হওয়া চাই। নিজেকে প্রমাণ করতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকতাই সঠিক জায়গা।
তখন থেকেই তার মাথায় ঘুরছিল, যদি সে কোন মুসলিম মিশনে পড়ানোর সুযোগ পায়, তা হলে নিস্তার পায়। সব মিশনই আবাসিক। সেখানে আবাসিক শিক্ষক হয়ে থাকতে পারবে। প্রথমেই তার কলেজের সহপাঠী মিশনের শিক্ষক মুস্তাফিজুরের কথা মনে হল। মোবাইলে তার ফোন নম্বর ছিল। কথা বলতে দেরি করল না। 
আরে, তোকে ফোন করতাম আজ-কালের মধ্যে। আমাদের মিশনে ফিজিক্সের একজন টিচার লাগবে। তা হলে তুই অ্যাপ্লাই কর। 
করব। 
এখনো নোটিফিকেশন হয়নি। সপ্তাহ দুয়েক পরে হওয়ার কথা। আমি তোর কথা হেড স্যারকে বলেছি। তিনি বেশ আগ্রহী। এমনও হতে পারে, নোটিফিকেশন হল না, সরাসরি পেয়ে গেলি। তুই রাজি থাকলে এগোতে পারি।
যেভাবেই হোক, এটা পেলে ভালই হয়। আসলে আমি প্রাইভেট পড়ানো ছেড়ে দেব ঠিক করেছি। 
এক কাজ কর, আজই আমার হোয়াটসঅ্যাপে তোর এইচএস, বিএসসি, এমএসসির মার্কশীটের কপি দে। আশা রাখি, পেয়ে যাবি। 
দেখা যাক। সবকিছু পাঠিয়ে দিচ্ছি। ধন্যবাদ তোকে, আমাকে মনে রেখেছিস।
আতিক, ক্লাসমেটকে ভুলে যাওয়া যেতে পারে, ক্লাসের ভাল ছাত্রকে নয়। 
আতিক মিশনে দরকারি কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়ে প্রথমেই তার ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অন্যত্র পড়ানোর ব্যবস্থা করতে লেগে পড়ল। চেনাজানা তিনজনের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাসও পেয়ে গেল। তার আর কোন পিছুটান রইল না। বাকি কটা দিন নিয়ম মতো পড়িয়ে যাওয়া। 
তার শিক্ষকতার রোজনামচায় ছাত্রছাত্রীরা ছিল আগের মতোই। আগের মতোই পড়তে আসে, পড়ার ফাঁকে কলরব করে, তার রেশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। তারা জানত না স্যার তাদের ছেড়ে চলে যাবে। আতিক শিক্ষণে-শাসনে ডুবে থাকে, আর দেখে যায় ছেলেমেয়েদের আবেগ-উচ্ছলতা। তারই মধ্যে পিছনের যে দিনগুলি নিতান্ত পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক মনে করে সে পিছনে ফেলে যেতে চেয়েছিল, সেসব এখনকার দেখার চোখে ছবি হয়ে ফুটে ওঠে।            
দিনে দিনে আমি অদ্ভুত পিছুটান অনুভব করতে থাকি। এতদিন গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়িয়েছি। এখন আমাদের গ্রামে দুটো ব্যাচ, পাশের গ্রামে একটা। ইদানিং মাস গেলে তেরো-চোদ্দ  হাজার টাকা পাই। তেরো কিংবা চোদ্দ, মানে এর-ওর বেতন মেটাতে কমতি হয় প্রায়ই। তবে আমার প্রতি অভিভাবকদের কৃতজ্ঞতা-সম্ভ্রম দেখানোয় কমতি দেখিনি কখনও। আশরাফিল আমার জীবনে একটা ক্ষত – ব্যর্থতার স্থায়ী ছাপ। এই গ্রাম কত ব্যর্থতা বয়ে চলে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা স্কুলছুট হয় হামেশা। প্রতিবেশে পরিযায়ী শ্রমের জেল্লা লাগে। তার সঙ্গেই মিলে থাকে স্থবিরতা। তথাপি আমি পড়িয়ে গেছি, ছেলেমেয়েরা হৈ-হৈ করে পড়তে এসেছে। যাদের যখন প্রাইভেট পড়া থাকেনি, তখন এই পরিবেশ তাদের বইমুখী করে রাখত। বাপ-মায়েরা খুশি হত সকাল-সন্ধ্যায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় মন দেখে। গ্রামে নিয়ত এই আলো-আঁধারির টানাপড়েন চলে। আমার বেকারত্বের ভার লাঘব করতে চেয়ে আমি তো আলোর পথে থেকেছি এতদিন।
এতদূর পৌঁছে আতিক থমকে দাঁড়ায়। ব্যক্তিক আর নৈর্ব্যক্তিক বোধের টানাপড়েনে পড়ে তার মায়ের কাছে স্থিরতা খুঁজে পেতে চায়।
মা আগে ছেলেকে বলতে শুনেছিলেন, মিশনের চাকরি স্থায়ী। মাসিক বেতন পনেরো হাজার টাকা, সঙ্গে বিনা খরচে মিশন্নে থাকা-খাওয়া। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকতার কদর ব্যাপারটা তো আছেই। ছেলের কথায় মা আরও বুঝেছিলেন, আশরাফিলের ছাত্রজীবনের পরিণাম ছেলের শিক্ষকের মর্যাদাবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আবার দুদিন আগে আশরাফিলের যেকথা তার মায়ের মুখে শুনেছিলেন, তাতে বুঝেছিলেন, আতিককে নিয়ে আশরাফিলের মনে কষ্ট আছে। কিন্তু আতিকের প্রত্যাশার সামনে তার মূল্য কতটুকুই বা ভেবে সেকথা তাকে বলার ইচ্ছে হয়নি তাঁর। আজ ছেলের আর্তিতে মা বুঝি তার মনের তল খুঁজে পান, দেখেন আশরাফিল সেখানে মূল্যহীন নয়।
যদি অর্থ-সম্মানের কথা ভেবে মিশনে যেতে চাস, তা হলে তাই কর। আর যদি আশরাফিলের পরিণাম দেখে তোর মন ভেঙে গিয়ে থাকে, ভাবচিস গ্রামে পড়ে থাকার মানে নাই, তা হলে বলব, মনকে শক্ত কর। 
শক্ত করব, কী সেই বাঁধন? 
আশরাফিল মুম্বাই গ্যাচে তিন মাস হল। এর মধ্যে আট-দশবার বাড়িতে ফোন করেছিল। প্রায় দিনই তোর কথা বলত -- তুই কেমন আচিস, কতজন পড়ে তোর কাছে, এসব। শেষ পরশু ফোন করেছিল, তখন ওর মাকে বলেছিল, “আতিক স্যারের মান রাখতে পারিনি। স্যারকে ব’লো, আমাকে যেন ক্ষমা করে।” সেদিন বিকেলে ওর মা এসেছিল আমার কাছে। বলল ছেলের সব কথা। এইখানটা যদি ধরতে পারিস, তা হলে তোর মিশনে না যাওয়াই ভাল।      
তখন আতিকের মন জুড়ে বিষণ্ণতা নেমে এল। বিষণ্ণতার খেই ধরে প্রসন্নতার তালাস শুরু করল মনে মনে।
অতঃপর আতিক মিশনে যেতে চায় না শুনে মুস্তাফিজুর আফশোস করতে লাগল।
ভেবে দেখ, তোর মিশনে পড়ানো, এটা বেটার অপর্চুনিটি।  তোর অ্যাকাডেমিক কোয়ালিফিকেশন দেখে ভ্যাকান্সি নটিফিকেশন হবে না বলে মিশন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। স্রেফ একটা ইন্টার্ভিউ। ধরে নে, চাকরি পাকা। 
মিশন কাছাকাছি হলে সমস্যা ছিল না। এখান থেকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার পথ। রোজ যাওয়া-আসা সম্ভব নয়। আসলে এখানকার ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না আমার।   
আতিক বলল তার আত্ম-উপলব্ধির কথা। বলল, আমি দুঃখিত। কিছু মনে করিস না।
না, না, ঠিক আছে। তোর ভাবনাকে ছোট করে দেখি কী করে? আফ্টার অল, আমিও একই সোসাইটিতে বিলং করি। 
দেশে মুসলিমদের শিক্ষা নিয়ে অনেক বিচার-বিশ্লেষণ রয়েছে। ২০১১ সাল পর্যন্ত সবই পিছিয়ে থাকার সালতামামি। কিন্তু একদিন হঠাৎ অন্যতর একটি তথ্যে আমার চোখ আটকে গেল। ‘অল ইণ্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন’ দেখাচ্ছে, ২০১৩-’১৪ থেকে ২০১৭-’১৮ এই কয় বছরে সারা দেশে মুসলিমদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির হার সাঁইত্রিশ শতাংশ, যেখানে সাধারণভাবে বৃদ্ধি আঠারো শতাংশ। আমি দেখলাম, পিছনের পরিসংখ্যানগুলি পিছনে ফেলে মুসলমান সমাজে এই উত্তরণ, এখানে আতিক এক কারিগর। তার সঙ্গে আগের দিন আলাপের সময় এই তথ্য আমার জানা ছিল না। ভাবলাম, এই নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা যাক। শুনে সে খুশি হবে।   
আতিক দুইবেলা ছাত্র পড়ায়। ব্যস্ত মানুষ। তায় পাশের গ্রামের। আমাদের দুজনের দেখা বিশেষ হয় না। মিশনে ‘না’ করার পর তার সঙ্গে আমার সময় নিয়ে কথা হয়েছিল সেই প্রথম। তারপর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। মাঝে একদিন পথে তার সঙ্গে দেখা হলে কুশল বিনিময়টুকুই হয়েছিল। আজ-কাল করে এক বিকালে অপেক্ষার ক্ষান্তি হল। তাদের গ্রামের মোড়ে তার দেখা পেলাম। পাশেই চায়ের দোকান। তার পাশে একটি ছোট সাঁকো। সাঁকোয় বসে চায়ের পাত্র হাতে দুজনের আলাপ শুরু হল। কথায় কথায় আমি তাকে ঐ পরিসংখ্যানের কথা বললাম। শুনে সে স্পষ্টতই চমকিত দেখলাম।  
এটা একটা ভাল খবর। চারপাশে পরিবর্তন একটা অনুমান হত। এরকম স্পষ্ট করে জানার সুযোগ আগে হয়নি।
আমিও কি জানতাম? ক’দিন আগে এই তথ্য হাতে পেয়ে গেলাম। পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান, বেরিয়েছে আঠেরোর জুলাইয়ে। এখন নভেম্বর। সাত বছর হল তুমি প্রাইভেট পড়াচ্ছ, তাই তো? 
হ্যাঁ। আসলে কী বলতে চাইছ, তা কিন্তু বুঝলাম না।
বলতে চাইছি, মুসলমান সমাজে শিক্ষায় এই উত্তরণে তোমাদের,  তোমার মতো শিক্ষকদের অবদান অনেকখানি। 
চেয়ে দেখলাম তার দুই চোখে তাদের কীর্তি-কথার ঝলক। সে’ ছিল ক্ষণিকের অনুভব। ক্ষণিকেই মিলিয়ে গেল তার রেশ। 
এই পরিসংখ্যানে আশরাফিলদের ঠাঁই নাই। তার হিসাব কেউ রাখে? 

 

0 Comments

Post Comment