পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

সমাজে শালীনতার দায় কি শুধু মেয়েদের?

  • 09 September, 2026
  • 0 Comment(s)
  • 310 view(s)
  • লিখেছেন : ত্রিয়াশা লাহিড়ী
ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কি শুধু মেয়েদের পোশাকে আবদ্ধ? উৎসবের কি আদৌ কোনো 'ড্রেস কোড' হয়? পোশাকের শালীনতার সংজ্ঞাটাই-বা কে ঠিক করল? যে কঙ্গনা রানাওয়াত 'ফ্যাশন', 'কুইন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন, সেই কঙ্গনা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেনই-বা মহিলাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারংবার কাঠগড়ায় তুলছেন? মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষেরা তাদের লক্ষ্য করবে বলে—এহেন ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই ফসল।

সাম্প্রতিককালে বলিউড তারকা কৃতি শ্যানন, একটি গয়নার বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে তুমুল বিতর্কের মধ্যমণি হয়েছেন। বিজ্ঞাপনে কৃতির পরা ধবধবে সাদা পোশাকের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ পেরিয়ে তরজা পৌঁছেছে বক্ষবিভাজিকায়। রাখীবন্ধনের মতো 'পবিত্র' উৎসবকে থিম হিসেবে ব্যবহার করে এমন কাজ কি করা যায়? চারিদিকে সে এক সাংঘাতিক হুলুস্থুল কাণ্ড! রীতিমতো ছিছিকার পড়ে গেছে। গয়নার কোম্পানি তর্ক এড়িয়ে গিয়ে বিজ্ঞাপন মুছে ফেলেছে। এমতাবস্থায়, কৃতী শ্যাননের পাশে দাঁড়িয়েছে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে, কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো বিজেপির নেতা-নেত্রীরা, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছে। এ-ঘটনা অবিশ্যি বিজেপির কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত নয়।

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে চার মাস ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে এক শিক্ষক এবং স্কুল-ম্যানেজারের ছেলে। স্কুল ছুটির পর মেয়েটিকে কেবিনে ডাকা হত। প্রায় নিয়মিত তার উপর যৌন-নিপীড়ন চালানো হত। ২৭ আগস্ট, কিশোরী আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কাশ্মীরের কিশতোয়ারে আদিবাসী নাবালিকাকে তারই স্কুলের এক শিক্ষক কয়েক মাস ধরে বারংবার ধর্ষণ করে। মেয়েটি গর্ভবতী হলে ওই শিক্ষক তার গর্ভপাত করানোর জন্য শশব্যস্ত হয়ে পড়ে। গর্ভপাতের চেষ্টার পর ২০ আগস্ট মেয়েটি মারা যায়। আবারও উত্তরপ্রদেশ—গাজিয়াবাদ। ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে বাড়ি থেকে নুডুলস্ কিনতে বের হয়। দেড় ঘণ্টা পর মেয়ে ফিরলে বাবা জানতে চায় তার এত সময় লাগল কেন! সেই মুহূর্তে মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং মা-কে জানায়, তাদের পরিচিত তিন যুবক তাকে ধর্ষণ করেছে। অভিযুক্ত ছেলেগুলির বয়স ১৫, ১৭ এবং ১৮। মধ্যপ্রদেশে ৯ বছরের শিশুকন্যা প্রতিবেশীর কাছে ধর্ষিত হয়েছে। গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ধর্ষিতার ১১ বছর বয়সী দাদা। স্কুল-ফিরতি পথে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। আগস্টের শুরুর দিকে, এক গভীর রাতে ওড়িশার কটকে দুই সহকর্মী বন্ধু গাড়িতে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। আচমকা ৬ জন পুরুষের একটি দল তাদের গাড়ি থামিয়ে পুরুষটিকে মারধর করে এবং মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে। গত মাসে অর্থাৎ স্বাধীনতার মাসে, স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর, এতগুলো ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতে দিনপ্রতি গড়ে প্রায় ৮০-৯০টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়। দেশের সুশীল সমাজ সেই তথ্য-পরিসংখ্যানের হিসাব রাখে?

গার্হস্থ্য হিংসা, বৈবাহিক ধর্ষণ, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনা দেশের আনাচে-কানাচে আকচার ঘটে চলেছে। লক্ষ লক্ষ নাম-না-জানা নির্যাতিতাদের যন্ত্রণার কথা খবরের কাগজে পড়ে, তাদের হাড়গিলে-ছিন্নভিন্ন চেহারা দেখে এক অংশের মানুষের মাথা হেট হয় না। অথচ, কৃতি শ্যাননের ক্লিভেজ দেখে তারা শরমে মরে যায়। কেন বলুন তো? কাশ্মীরের কাঠুয়ায় যখন মাত্র ৮ বছরের আসিফাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়, তখন সেই ধর্ষকদের সমর্থনে 'হিন্দু একতা মঞ্চ' একটি মিছিল বের করে—ভারতের পতাকা হাতে সেই মিছিলে হাঁটে দু'জন বিজেপি মন্ত্রী। উন্নাওতে চাকরি দেওয়ার নাম করে এক নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে ধর্ষণ করে কুলদীপ সিং সেঙ্গার—তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ। পুলিশ ধর্ষিতার বাবাকে অস্ত্র আইনের মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার করে এবং তারপর জেল-হেফাজতে তাঁকে খুন করে ফেলে রাখে। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে একটি দলিত মেয়েকে চারজন উচ্চবর্ণের যুবক গণধর্ষণ করে—তাঁকে শ্বাসরোধ ক'রে খুন করে—মেয়েটি যাতে বয়ান দিতে না পারে, সেজন্য তাঁর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরিবারের সম্মতি ছাড়াই নির্যাতিতার মরদেহ পেট্রোল ঢেলে রাতের অন্ধকারে জ্বালিয়ে দেয় স্বয়ং ইউপি পুলিশ। ভারতের প্রথম সারির মহিলা কুস্তিগীররা ভারতের রেসলিং ফেডারেশনের সভাপতি ব্রীজভূষণ শরণ সিং-এর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনে। দিল্লির রাজপথ আটকে আন্দোলন চালিয়ে যায়। সেইসময় ব্রীজভূষণকে মিডিয়াতে মহিলা কুস্তিগীরদের চরিত্রের দিকে আঙুল তুলতে দেখা যায়। কয়েক মাস আগে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাক্তন বিজেপি সাংসদকে আদালত নির্দোষ ঘোষণা করে। গুজরাট দাঙ্গার সময় ১১জন হিন্দুত্ববাদী দলের কর্মী, ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানোকে ধর্ষণ করে। তাঁর ৩ বছরের কন্যাসন্তানকে পাথরে আছড়ে হত্যা করে। সেদিনের ঘটনায়, তাঁদের পুরো পরিবারের প্রায় ১৪ জন সদস্যকে দাঙ্গাবাজদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়। মামলা চলাকালীন অনবরত বিলকিস ও এই ঘটনার সাক্ষীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট, স্বাধীনতার ৭৫ তম দিবসে, গুজরাট সরকার 'কারা মওকুফ নীতি' প্রয়োগ করে, ভালো আচরণের যুক্তি দেখিয়ে ১১জন ধর্ষককে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে দেয়। 'বিশ্ব হিন্দু পরিষদ'-এর সদস্যরা ওই ধর্ষকদের মাথায় তিলক কেটে, ফুলমালা পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেয়—এই বেনজির দৃশ্য, ক্লিভেজ 'দেখানো' কৃতি শ্যাননের বিজ্ঞাপনের চেয়ে বেশি ভয়ানক নয় কি? কাঠুয়া, উন্নাও, হাথরাসের একটি ঘটনাও শালীনতা-অশালীনতার মাপকাঠি তৈরি করা সমাজের চোখে ধরা পড়েনি।

এ'বার আসা যাক, ক্লিভেজ 'দেখানো'র প্রসঙ্গে। যুগ যুগ ধরে, পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতিতে মুনাফা বাড়াতে নারীদেহকে সামনে রেখে বিজ্ঞাপন তৈরি হয়। মার্ক্সবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বলা যায়, পুঁজিবাদ মানবিক সত্তা থেকে নারীদেহকে বিচ্ছিন্ন করে ভোগ্য পণ্যে পরিণত করে। পুঁজিবাদকে টিকে থাকতে হলে ক্রমাগত নতুন পণ্যের বাজার তৈরি করতে হয়। বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলি, মহিলাদের অবচেতন মনে, নিজেদের শরীর নিয়ে বিবিধ উপায়ে হীনমন্যতায় ভোগার কারণও তৈরি করে ফেলে। ভাবটা এমন, যেন সাবান, ক্রিম, পাউডার, লোশন মেখে ত্বক বলিরেখাহীন, ফর্সা, উজ্জ্বল রাখার প্রয়োজন শুধু মেয়েদেরই আছে! আদ্যোপান্ত পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় তাই পুরুষের সুগন্ধির বিজ্ঞাপনও লাস্যময়ী নারী ছাড়া বানানো হয় না। পুঁজিবাদের মুনাফার কথা মাথায় রেখে বাজার ঠিক করে স্টাইল-ফ্যাশন। মহিলারা অনেকসময় অনিচ্ছাকৃত বাজারের তৈরি করা সেই স্টাইল এবং ফ্যাশনকেই অনুকরণ করে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নারীবাদের চতুর্থ তরঙ্গের প্রভাবে বর্তমানে বিজ্ঞাপনের রীতিতে খানিক বদল এসেছে। এ-কথা ভুললে চলবে না—পুঁজিবাদ, নারীবাদের আবেগকে পণ্যে পরিণত করতে সক্ষম। আজকাল নারীর ক্ষমতায়নকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে বিজ্ঞাপন তৈরি হচ্ছে। তারা বলছে, দেহের গড়ন, ত্বকের রঙ সৌন্দর্য্যের মাপকাঠি হতে পারে না। লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে কারোর কোনো মাথাব্যথা নেই। কোম্পানিগুলি চায় নতুন বিপণন কৌশল। তাই আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস থেকে 'শ্রমজীবী' শব্দটা অবলীলায় বাদ পড়েছে। নারী দিবস উপলক্ষ্যে, শপিং মল থেকে অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট—সর্বত্র মহিলাদের বহু উপহার-সামগ্রীর উপর ছাড় দেওয়া হয়। এর কারণ ভেবে দেখেছেন? পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চায়, সমাজে মহিলাদের দুটি মাত্র অবস্থান থাকবে। হয় সে উপভোক্তা, নয় পণ্যবস্তু।

ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কি শুধু মেয়েদের পোশাকে আবদ্ধ? উৎসবের কি আদৌ কোনো 'ড্রেস কোড' হয়? পোশাকের শালীনতার সংজ্ঞাটাই-বা কে ঠিক করল? যে কঙ্গনা রানাওয়াত 'ফ্যাশন', 'কুইন'-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন, সেই কঙ্গনা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেনই-বা মহিলাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে বারংবার কাঠগড়ায় তুলছেন? মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরে পুরুষেরা তাদের লক্ষ্য করবে বলে—এহেন ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই ফসল। পোশাক কারোর চরিত্র বিচার করে না। পোশাক কখনো ধর্ষণের কারণ হতে পারে না৷ বিশ্বাস না হলে ইউটিউব খুলে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত "ইজ ইট মাই ফল্ট?" নামক প্রদর্শনীর কয়েকটি ভিডিও দেখতে পারেন। দেখবেন সেখানে ধর্ষিতা শিশু এবং মহিলারা যেই পোশাক পরে ধর্ষিত হয়েছিল, সেইসমস্ত পোশাক টাঙানো রয়েছে। সেখানে রয়েছে ঢিলাঢালা জামা, ট্রাউজার, ফুলহাতা সোয়েটার, এমনকি কার্টুন আঁকা শিশুর জামা। 

কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্রের পুণে শহরে রাহুল গান্ধী 'ছাত্র কি গুঞ্জ'-এর একটি জমায়েতে গিয়েছিলেন। সেখানে মহিলারা নির্দ্বিধায় তাকে নিজেদের সমস্যার কথা জানায়। আজও দেশ জুড়ে ঘরে ঘরে কন্যাসন্তানকে লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হতে হয়। পরিবারগুলির মধ্যে অভাবের তাড়নায় মেয়েদের পড়াশোনা না শিখিয়ে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। সেই বাল্যবিবাহ রুখতে, নানান চলতে থাকা সামাজিক প্রকল্প যখন বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে আদৌ সরকার কি আন্তরিক তার 'বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও' কর্মসূচীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, নাকি সেটাও একটা নির্বাচনী চমক? এছাড়া প্রতি পদে সুরক্ষার অভাব বোধ করে মেয়েরা। মেয়েরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে, কলম ধরলে, গান গাইলে এফআইআর দায়ের হয়, সামাজিকভাবে তাদের কোনঠাসা করা হয়। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের মুখে গালিগালাজ শুনতে নারাজ। ফলতঃ পুলিশের যাতায়াত লেগে থাকে প্রতিবাদী মহিলাদের বাড়িতে। দেশের প্রধান বিরোধী দলনেতা—একজন পুরুষ নেতা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনুবাদী দর্শনকে ভেঙেচুরে দেয়—তখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা তাঁকে অভিবাদন জানায়। সামাজিকমাধ্যমে যখন সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে রাহুল বলছেন—মহিলারা অবশ্যই কারোর মেয়ে, কারোর বোন, কারোর স্ত্রী—তবে মহিলাদের প্রথম এবং প্রধান পরিচয় তিনি একজন স্বাধীন দেশের স্বাধীন নারী—তখন দেশের মানুষ রাহুলের প্রশংসায় বিহ্বল হয়ে পড়ে। কারণ, এই দৃশ্য ভারতের বুকে বিরল। কোনো ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতার মুখে এর আগে নারী-স্বাধীনতার কথা এত জোরালো ভাষ্যে শোনা যায়নি বলেই রাহুল গান্ধীর তারিফ প্রাপ্য। 

ইতিহাসের দলিলপত্র বলছে, লাগাতার লড়াই-সংগ্রাম করে মেয়েরা নিজেদের স্বাধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। বিজেপি-আরএসএস শত চেষ্টা করেও তা কেড়ে নিতে পারবে না। এখন প্রশ্ন ওঠে, রাহুল গান্ধীর কথাগুলো দিনের পর দিন ভারতীয় মহিলারা বলে আসছেন—পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিমুহূর্তে ঘরে-বাইরে তারা লড়াই জারি রাখছেন—অথচ, তাদের কথা কি এত মানুষের কাছে এর আগে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে কখনো? যদি আগেই তা হত, তবে কি কৃতি শ্যাননের মতো অভিনেত্রী থেকে পাড়ার মেয়ে কাকলি—সব্বাইকে যখন-তখন, ইচ্ছে হলেই কারণে-অকারণে আতশ কাঁচের নীচে রেখে বিচার করা হত? প্রগতিশীল দেশে, মুক্তচিন্তার জগতে, শালীনতার দায়ভার কেবল মহিলাদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া বুঝি এতটাই সহজ?

0 Comments

Post Comment