গণতন্ত্রকে ভাঙার জন্য সব সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে হয় না, বুথ দখল করতে হয় না, কিংবা ভোটের দিন হিংসা ছড়াতেও হয় না। কখনও কখনও গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকারটিকে আঘাত করা যায় তার অনেক আগেই—একটি নামকে একটি তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়ে। কোনও ঘোষণা ছাড়াই, কোনও দৃশ্যমান রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছাড়াই, একটি কম্পিউটার-নির্ভর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে। মানুষের অস্তিত্ব তখনও থাকে, সে নাগরিক হিসেবেও থাকে, কিন্তু নির্বাচনের দিন তার রাজনৈতিক অস্তিত্বটি আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
এই কারণেই Special Intensive Revision বা SIR-কে শুধু ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে বিষয়টির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গভীরতা ধরা পড়ে না। ভোটার তালিকা কোনও সাধারণ সরকারি ডেটাবেস নয়। সেটি নাগরিকের নির্বাচনী অস্তিত্বের নথি। সেখানে নাম থাকা মানে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার কার্যকর থাকা; নাম না থাকা মানে সেই অধিকারটি বাস্তবে প্রয়োগ করতে না পারা। ফলে একটি নাম মুছে দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব একটি সাধারণ ডেটা-সংশোধনের চেয়ে অনেক বেশি।
এখানেই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাটি জরুরি। ২৭ মে ২০২৬-এ Supreme Court SIR পরিচালনার জন্য Election Commission-এর সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বিহারের SIR-কে বৈধ বলে মেনে নিয়েছে। আদালত SIR-কে নিজে থেকেই অসাংবিধানিক বলেনি। বরং Article 324-এর অধীনে ভোটার তালিকার বিশুদ্ধতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের এই ধরনের revision করার ক্ষমতা আছে বলেই রায় দিয়েছে। (SCI API)
কিন্তু এখানেই বিতর্কের শেষ নয়; বরং প্রকৃত প্রশ্নটি এখান থেকেই শুরু। কোনও প্রতিষ্ঠান কোনও কাজ করার ক্ষমতা রাখে—এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করছে—এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রশ্ন। SIR করার ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হওয়া মানে এই নয় যে SIR-এর প্রতিটি deletion স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যায়সঙ্গত। একটি নির্দিষ্ট নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি ভুল তথ্য, পর্যাপ্ত notice-এর অভাব, শুনানির অপ্রতুলতা, disproportionate burden, বৈষম্যমূলক প্রভাব অথবা কার্যকর appeal-এর অনুপস্থিতি থাকে, তাহলে সেই নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সাংবিধানিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
অর্থাৎ প্রশ্নটি আর ‘SIR বৈধ কি না’—এত সরল নয়। প্রশ্ন হল, একটি বৈধ প্রশাসনিক ক্ষমতা কি এমনভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে যাতে বৈধ ভোটারকে তার ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য রাষ্ট্রের কাছে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হয়?
এই প্রশ্নটি এখন আর নিছক তাত্ত্বিক নয়। ২০২৬-এর SIR-এর বিভিন্ন পর্যায়ে ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে draft roll থেকে ১৩.৩৭ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। এটিকে অবশ্যই ‘স্থায়ীভাবে ১৩.৩৭ কোটি ভোটার মুছে দেওয়া হয়েছে’ বলা যাবে না, কারণ এগুলি draft-stage exclusion এবং claims ও objections-এর মাধ্যমে বহু নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু সংখ্যাটির ব্যাপ্তিই দেখিয়ে দেয় যে এটি নিছক কয়েকটি বিচ্ছিন্ন clerical error-এর ঘটনা নয়। দিল্লিতে প্রায় ১.৪৫ কোটি ভোটারের মধ্যে ৪৭.৫–৪৭.৭ লক্ষ নাম draft roll-এ রাখা হয়নি—অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। মহারাষ্ট্রে প্রায় ৯.৭৮ কোটি থেকে ৭.৭১ কোটি নাম draft roll-এ এসেছে; প্রায় ২.০৬–২.০৭ কোটি নাম বাদ পড়েছে। (Loksatta)
এই সংখ্যাগুলির পিছনে অবশ্যই বাস্তব কারণ থাকতে পারে—মৃত্যু, স্থায়ী স্থানান্তর, duplicate registration, ঠিকানায় কাউকে না পাওয়া ইত্যাদি। কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই মৃত বা duplicate ভোটারের নাম অনন্তকাল ধরে রাখতে পারে না। ভোটার তালিকা সংশোধন করা Election Commission-এর স্বাভাবিক দায়িত্ব। সমস্যা সেখানে নয়। সমস্যা হল, ভুলভাবে বাদ পড়া একজন বৈধ ভোটারের ক্ষেত্রে ভুলের মূল্য কে বহন করবে?
ধরা যাক, একটি database বলল একজন শ্রমিক তাঁর পুরনো ঠিকানায় নেই। বাস্তবে তিনি হয়তো নির্মাণশ্রমিক, কয়েক মাস কাজের জন্য অন্য শহরে গিয়েছিলেন। একজন গৃহকর্মী হয়তো কাজের বাড়ির কাছাকাছি থাকার জন্য ঠিকানা বদলেছেন, কিন্তু স্থায়ী নথি বদলাননি। একজন পরিযায়ী শ্রমিকের নাম গ্রামের তালিকায় আছে, কাজের জন্য সে অন্য রাজ্যে থাকে। একজন বৃদ্ধ মানুষের নথি পুরনো, একজন বিধবা মহিলার কাগজপত্র অসম্পূর্ণ, একজন ভাড়াটে বহুবার বাড়ি বদলেছেন। এদের প্রত্যেকের জন্য ‘ঠিকানায় পাওয়া যায়নি’ বা ‘logical discrepancy’ একটি প্রশাসনিক category হতে পারে; কিন্তু মানুষের জীবনে তার অর্থ একেবারে অন্যরকম।
একজন মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী হয়তো একদিন অফিসে ছুটি নিয়ে BLO-র কাছে যেতে পারবেন, online form পূরণ করতে পারবেন, আইনজীবীর সাহায্য নিতে পারবেন। কিন্তু একজন দিনমজুরের কাছে প্রশাসনিক verification-এর জন্য একদিন সময় দেওয়া মানে অনেক সময় একদিনের মজুরি হারানো। একজন গৃহশ্রমিকের কাছে document জোগাড় করা মানে কাজের বাড়ি থেকে ছুটি নেওয়া। একজন পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে পুরনো ঠিকানায় ফিরে যাওয়া মানে ট্রেনের ভাড়া, কাজের ক্ষতি এবং অনিশ্চয়তা। ফলে একই administrative procedure কাগজে সবার জন্য সমান হলেও বাস্তবে তার খরচ সবার জন্য সমান নয়।
এখানেই formal equality এবং substantive equality-এর পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র বলতে পারে—‘সবাইকে appeal করার সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই সুযোগ ব্যবহার করার সামর্থ্য কি সবার সমান?
এই প্রশ্নের সবচেয়ে শক্তিশালী বাস্তব প্রমাণ পশ্চিমবঙ্গের SIR-পরবর্তী appellate process। Election Commission-এর RTI-উত্তর অনুযায়ী, ৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত West Bengal-এর appellate tribunals-এ ৩৮,১০,৬২০টি appeal এসেছিল। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ৮২,৭৮২টি নিষ্পত্তি হয়েছিল—অর্থাৎ প্রায় ২.১৭ শতাংশ। আরও গুরুত্বপূর্ণ, নিষ্পত্তি হওয়া ওই ৮২,৭৮২টির মধ্যে ৭৫,৪৪৩ জনের নাম পুনরায় electoral roll-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; মাত্র ৭,৩৩৯টি ক্ষেত্রে exclusion বহাল থেকেছে। অর্থাৎ নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির ৯১.১৩ শতাংশে ভোটারের নাম ফিরেছে। (The Indian Express)
এই ৯১.১৩ শতাংশকে অবশ্যই সঠিকভাবে পড়তে হবে। এর অর্থ এই যে পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া সব ভোটারের ৯১ শতাংশ ভুলভাবে বাদ পড়েছিলেন। তবে ৩৮ লক্ষের বেশি appeal-এর মধ্যে এখনও বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হয়নি এবং ৯১.১৩ শতাংশ হল নিষ্পত্তি হওয়া ৮২,৭৮২টি মামলার মধ্যে পুনর্বহালের হার। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতাটি মেনে নিয়েও সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে sample-টির বিচার হয়েছে, তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে tribunal ভোটারের নাম ফিরিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে—প্রাথমিক verification ব্যবস্থার error rate কতটা ছিল? কোন ধরনের ভুল সবচেয়ে বেশি হয়েছে? কোন category-র ভোটার বেশি affected? BLO-level verification, database matching এবং adjudication-এর মধ্যে কোথায় ত্রুটি তৈরি হয়েছে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, যদি appeal-এর সুযোগই না থাকে, অথবা appeal নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আইনি সুযোগটি কাগজে থাকলেও বাস্তবে কতটা কার্যকর?
গণতন্ত্রে due process-এর অর্থ শুধু ‘আপিল করতে পারবেন’ বলা নয়। due process-এর অর্থ হল—আপনি জানবেন কেন আপনার নাম বাদ পড়েছে; আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে; আপনি সহজে প্রমাণ দিতে পারবেন; শুনানি বাস্তবসম্মত হবে; সিদ্ধান্ত একটি নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে হবে; এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগে আপনার নাম ফিরিয়ে আনার কার্যকর সুযোগ থাকবে।
এই জায়গায় West Bengal-এর ৯১.১৩ শতাংশ restoration rate একটি সতর্কবার্তা—চূড়ান্ত সত্য নয়, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ warning signal। এর সঙ্গে আরেকটি পরিসংখ্যানগত প্রশ্ন জুড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গে ২৭,২৮,৫০০ জন ভোটারকে ‘Not Eligible’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে বলে RTI-তে তথ্য এসেছে, অথচ appellate process-এ appeal-এর সংখ্যা ৩৮,১০,৬২০। এই দুই সংখ্যার পার্থক্যের ব্যাখ্যা কমিশনের কাছ থেকে আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার। দুই category একেবারে একই population বোঝায় কি না, কোন ধরনের appeal অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কতগুলি appeal deletion-এর বিরুদ্ধে এবং কতগুলি অন্য ধরনের electoral-roll dispute—এসব category-wise data প্রকাশ না হলে পরিসংখ্যানের রাজনৈতিক অর্থ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কিন্তু স্বচ্ছতার স্বার্থে এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে থাকা জরুরি।
কারণ নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা যেমন গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য, তেমনই স্বাধীনতা কখনও জবাবদিহির বিকল্প হতে পারে না। এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন SIR-এর database-driven character সামনে আসে। ‘Logical discrepancy’ কোনও মানুষের রাজনৈতিক মতামত নয়; এটি একটি data-matching result। কিন্তু data কখনও নিজে থেকে সত্য নয়। data তৈরি হয় নথি থেকে, নথি তৈরি হয় মানুষের জীবন থেকে, আর মানুষের জীবন কখনও database-এর মতো সরল নয়। একই ব্যক্তির নামের বানান বদলাতে পারে, পিতার নামের spelling বদলাতে পারে, বাড়ির ঠিকানা বদলাতে পারে, পুরনো roll-এ একটি তথ্য থাকতে পারে, নতুন নথিতে অন্য তথ্য। একটি algorithm বা automated matching system সেই discrepancy শনাক্ত করতে পারে; কিন্তু discrepancy শনাক্ত হওয়া এবং মানুষটি ভোট দেওয়ার অযোগ্য—এই দুই সিদ্ধান্ত এক জিনিস নয়।
সুতরাং technology-এর প্রশ্নটি প্রযুক্তিবিরোধী হওয়া নয়। বরং প্রশ্নটি হল—algorithm কি তদন্তের সূচনা করবে, নাকি algorithm-ই চূড়ান্ত বিচারক হয়ে উঠবে? এই প্রশ্নের সঙ্গে targeted deletion-এর অভিযোগও জড়িয়ে পড়েছে। এখানে অত্যন্ত সতর্ক থাকা দরকার। কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক মহল থেকে উঠেছে; তার ডকুমেন্টসও আছে। তাই অভিযোগটির গুরুত্ব যাচাই করার জন্য category-wise, constituency-wise এবং demographic data প্রকাশ করা উচিত।
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে করা একটি বিশ্লেষণে ‘logical discrepancy’ category-তে মুসলিম ভোটারদের উপস্থিতি তাঁদের সংশ্লিষ্ট এলাকার আনুমানিক মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাতে বেশি দেখা গেছে। Chowringhee-তে logical discrepancy-র তালিকায় মুসলিম ভোটারের অংশ প্রায় ৭১.৭ শতাংশ, Entally-তে ৭২.৩ শতাংশ, Beleghata-তে প্রায় ৬৭.৮ শতাংশ; Jorasanko এবং Cossipore-Belgachhia-তেও এই অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল বলে রিপোর্ট হয়েছে। এই population share এবং voter-share সরাসরি এক জিনিস নয়; তাই এগুলি discrimination-এর চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এমন pattern থাকলে সেটিকে independent audit-এর বিষয় অবশ্যই করা উচিত।(Alt News) ‘Targeted deletion’-এর অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, SIR-এর জেলা ও বিধানসভা-ভিত্তিক পরিসংখ্যানে। পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর আগে ভোটার ছিল প্রায় ৭.৬৬ কোটি। পরবর্তী পর্যায়গুলিতে মোট প্রায় ৯০.৮৩ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে adjudication-পরবর্তী ‘not eligible’ ভোটারের সংখ্যা ৪,৫৫,১৩৭, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩,২৫,৬৬৬, মালদায় ২,৩৯,৩৭৫ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২,২২,৯২৯। অর্থাৎ এই চার জেলাতেই adjudication-পরবর্তী exclusion প্রায় ১২.৪৩ লক্ষ। এর সঙ্গে SIR-এর প্রথম পর্যায়ে ASDD—Absent, Shifted, Dead, Duplicate—category-তে বাদ পড়া নাম যোগ করলে সংখ্যাটি আরও বড় হয়। মুর্শিদাবাদে প্রথম পর্যায়ের ASDD deletion ছিল প্রায় ২.৯৪ লক্ষ, ফলে দুই পর্যায় মিলিয়ে exclusion-এর সংখ্যা প্রায় ৭.৪৯ লক্ষ; মালদায় ASDD প্রায় ৪.৬০ লক্ষ, adjudication-এ আরও ২.৩৯ লক্ষ, অর্থাৎ প্রায় ৬.৯৯ লক্ষ। এই দুই জেলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং মালদায় প্রায় ৫১ শতাংশ।
আরও বিস্তৃত ছবিতে দেখা যায়, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দশটি জেলায়—কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং দুই ২৪ পরগনা—মিলিয়ে প্রায় ৫২.২৪ লক্ষ নাম deletion-এর আওতায় এসেছে, যা রাজ্যের মোট deletion-এর প্রায় ৫৭.৫ শতাংশ। ওই দশ জেলার deleted voters-এর ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম বলে Election Commission-এর জেলা-ভিত্তিক তথ্য উদ্ধৃত করে রিপোর্ট হয়েছে। কমিশনের ব্যাখ্যা, সীমান্তবর্তী এলাকার বহু ভোটার নির্ধারিত নথি দিতে পারেননি। এখানেই তদন্তের আসল জায়গা: এই অতিরিক্ত exclusion কি ওই অঞ্চলের বাস্তব জনসংখ্যাগত ও নথিগত বৈশিষ্ট্যের স্বাভাবিক ফল, নাকি কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উপর verification-এর burden disproportionate হয়ে পড়েছে?
এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নির্বাচনী ফলের সঙ্গে deletion-এর সংখ্যা তুলনা করলে। একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ১৬০টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট deletion—বিভিন্ন category মিলিয়ে—২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর victory margin-এর চেয়ে বেশি। এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টির মধ্যে ১৯টি, উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টির মধ্যে ২৭টি এবং মুর্শিদাবাদের ২২টির মধ্যে ১৬টি আসন রয়েছে। এটি কোনও নির্বাচনী ফল manipulation-এর প্রমাণ নয়; কিন্তু যেখানে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা আগের জয়ের ব্যবধানকে ছাড়িয়ে যায়, সেখানে electoral impact অস্বীকারও করা যায় না। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় SIR-এর পর রাজনৈতিক ফলাফলেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে—২০২১-এ তৃণমূল ২২টির মধ্যে ২০টি আসন জিতলেও ২০২৬-এ জয়ী হয় ৯টিতে। এই পরিবর্তনের কারণকে SIR-এর deletion দিয়ে এককভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না; turnout, প্রার্থী, জোট, রাজনৈতিক মেরুকরণসহ বহু কারণ কাজ করে। কিন্তু এত বড় exclusion-এর পর নির্বাচনী ফলের উপর তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে স্বাধীন মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত খুব নির্দিষ্ট: মুর্শিদাবাদে ৪,৫৫,১৩৭, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩,২৫,৬৬৬, মালদায় ২,৩৯,৩৭৫ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২,২২,৯২৯ জনকে ‘not eligible’ করার পেছনে category-wise কারণ কী? তাঁদের মধ্যে কতজন মৃত, কতজন স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, কতজন duplicate এবং কতজন শুধু documentary বা logical discrepancy-র কারণে বাদ পড়েছেন? প্রতিটি category-তে ধর্ম, লিঙ্গ, বয়স, সামাজিক গোষ্ঠী ও আর্থিক অবস্থার pattern কী?
এই তথ্য প্রকাশিত হলেই বোঝা যাবে—SIR নিছক electoral roll correction, নাকি তার প্রয়োগে কোনও জনগোষ্ঠীর উপর disproportionate exclusion তৈরি হয়েছে। কারণ গণতন্ত্রে সন্দেহের উত্তর আরও বড় দাবি নয়, আরও স্বচ্ছ তথ্য।
একই যুক্তি দিল্লির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। Delhi SIR-এর draft data-তে দেখা গেছে, ২০২৫-এর Assembly election-এ যেসব জেলায় turnout তুলনামূলক কম ছিল, সেখানে draft deletion rate তুলনামূলক বেশি। South East-এ turnout ছিল ৫৬.৪ শতাংশ, deletion rate ৪৩.৬১ শতাংশ; New Delhi-তে turnout ৫৭.২৩ শতাংশ এবং deletion ৩৯.০২ শতাংশ; South Delhi-তে turnout ৫৮.২ শতাংশ এবং deletion ৩৮.৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে Northeast-এ turnout ৬৬.২৫ শতাংশ হলেও deletion ২৯.০৩ শতাংশ এবং Southwest-এ turnout ৬১.০৯ শতাংশ, deletion ২৬.৮১ শতাংশ। (The Indian Express)
এখানেও সতর্কতা জরুরি। Correlation manipulation-এর proof নয়। কম turnout-এর সঙ্গে বেশি deletion-এর সম্পর্ক থাকার অন্য প্রশাসনিক কারণও থাকতে পারে। কিন্তু এই ধরনের statistical pattern দেখা গেলে সেটিকে ‘কাকতালীয়’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে independent investigation করা উচিত। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বজায় রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হল তথ্য গোপন করা নয়, তথ্য আরও বেশি প্রকাশ করা।
এই কারণেই SIR-এর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সম্ভবত আরও একটি তালিকা প্রকাশ করা নয়; বরং একটি স্বাধীন audit trail তৈরি করা। কতজনের নাম কোন কারণে বাদ গেল? কতজন ‘absent’? কতজন ‘shifted’? কতজন মৃত? কতজন duplicate? কতজন logical discrepancy? কোন demographic group-এ কোন category-র হার কত? কতজন appeal করলেন? কতজনের নাম ফিরল? কতজনের appeal খারিজ হল? কোন district-এ restoration rate কত? কোন constituency-তে error rate বেশি? এই তথ্যগুলি anonymised aggregate format-এ প্রকাশ করতে কোনও গণতান্ত্রিক ক্ষতি নেই। বরং তাতেই আস্থা বাড়বে।
এখানেই Election Commission-এর institutional credibility-র প্রশ্ন আসে। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শক্তি শুধু তার ক্ষমতায় নয়; তার internal transparency-তেও। এই প্রসঙ্গে Ashok Lavasa-র ঘটনাটি মনে পড়ে। ২০১৯ সালে Election Commissioner হিসেবে তিনি Narendra Modi এবং Amit Shah-এর বিরুদ্ধে Model Code of Conduct সংক্রান্ত কয়েকটি অভিযোগে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন এবং তাঁর dissenting view চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নথিভুক্ত করার পক্ষে ছিলেন। কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত সেই অবস্থান গ্রহণ করেনি; ২-১ সিদ্ধান্তে তাঁর মত আলাদাভাবে record-এ রাখার প্রশ্নটি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি MCC-সংক্রান্ত বৈঠক থেকে recuse করেন এবং ২০২০ সালে Election Commission ছেড়ে Asian Development Bank-এ যোগ দেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের Income Tax scrutiny-র ঘটনাও সেই সময়ে আলোচনায় আসে, যদিও পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল এবং তাঁকে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছিল—এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে করা যায় না।
কিন্তু ঘটনাটির রাজনৈতিক শিক্ষা অন্য জায়গায়। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভিতরে dissent-এর স্থান কতটা? সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত কি dissent-কে অদৃশ্য করে দিতে পারে? নাগরিক যদি জানতে না পারেন যে কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভিতরেও গুরুতর মতভেদ ছিল, তাহলে institutional accountability কীভাবে তৈরি হবে?
আজ SIR-এর ক্ষেত্রে প্রশ্নটি আরও বড়। একটি algorithmic বা administrative decision-এর বিরুদ্ধে যদি একজন ভোটার আপত্তি করেন, সেই আপত্তির স্বাধীন পরীক্ষা কোথায়? Kapil Sibal এই প্রশ্নটিকেই আরও রাজনৈতিক ভাষায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং Election Commission যদি নিজেই পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ নাগরিক বিচার চাইবেন কোথায়? এই অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য না ধরে একটি গণতান্ত্রিক warning হিসেবে দেখা উচিত। কারণ electoral roll-এর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তকারী প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা নিয়ে যদি ভোটারের মনে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে শুধু প্রশাসনিক correctness যথেষ্ট নয়—বিশ্বাস পুনর্গঠনের জন্য institutional transparency দরকার।
Prashant Bhushan-ও SIR-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে একই ধরনের সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলেছিলেন—Article 14-এর equality, Article ১৯ ও ২১-এর অধিকার এবং Articles ৩২৫ ও ৩২৬-এর electoral framework-এর সঙ্গে SIR-এর সম্পর্ক নিয়ে। তাঁর পক্ষ থেকে SIR-কে exclusionary এবং disproportionate বলে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। Supreme Court শেষ পর্যন্ত সেই বৃহত্তর challenge গ্রহণ করেনি এবং SIR-এর ক্ষমতাকে বৈধ বলেছে। কিন্তু petitioners যে প্রশ্নগুলি তুলেছিলেন—বিশেষ করে inclusion-এর প্রক্রিয়া কতটা ন্যায্য, burden of proof কার উপর, এবং exclusion-এর বিরুদ্ধে effective remedy কতটা সহজ—সেগুলি SIR-এর বাস্তব প্রয়োগ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এখনও প্রাসঙ্গিক। (SCI API)
এখানে একটি মৌলিক সাংবিধানিক নীতি সামনে রাখা দরকার—গণতন্ত্রে inclusion হওয়া উচিত নিয়ম; exclusion হওয়া উচিত ব্যতিক্রম। কারণ ভোটার তালিকায় নাম যোগ করা মানে একজন যোগ্য নাগরিককে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা, আর নাম বাদ দেওয়া মানে তাঁর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দরজা বন্ধ করা। তাই exclusion-এর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের burden of accuracy যত বেশি হবে, গণতন্ত্র তত নিরাপদ হবে। নাগরিককে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে—এই ধারণা একেবারে অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু কেন, এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় না। রাষ্ট্রের database ভুল করলে সেই ভুলের বোঝা সম্পূর্ণভাবে নাগরিকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায় কি না, সেটিই প্রশ্ন।
এখানে SIR এবং citizenship determination-কে এক করে দেখাও ভুল হবে। Supreme Court স্পষ্ট করেছে যে electoral roll থেকে নাম বাদ পড়া নিজে থেকেই citizenship হারানোর সমান নয়। SIR-এর মূল বিষয় electoral eligibility এবং electoral roll। ফলে ‘ভোটার তালিকায় নাম নেই = নাগরিক নন’—এই সরল সমীকরণ আইনগতভাবে সঠিক নয়। (SCI API) তাহলে BLO দের কে নাগরিক আর কে নাগরিক নন, বিচার করার অধিকার কে দিল?
কিন্তু সাধারণ মানুষের উদ্বেগটি অন্য জায়গায়। কোনও নাগরিকের নাম electoral roll থেকে বাদ পড়লে সে ভোট দিতে পারে না। পরবর্তী কোনও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সেটিকে সরাসরি এক করা না গেলেও, নথি-নির্ভর verification-এর যে চাপ তৈরি হয়, তা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে। তাই SIR-কে NRC বা citizenship determination বলে চিহ্নিত করা যেমন আইনগতভাবে ভুল, তেমনই এর documentary burden এবং political exclusion-এর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন না তোলাও ভুল।
আর এই সমস্ত প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিকের জীবনকে আমরা সাধারণত অর্থনৈতিক পরিচয়ে দেখি—সে factory worker, construction worker, domestic worker, agricultural labourer, delivery worker, contract worker, migrant worker। কিন্তু শ্রমিক শুধু উৎপাদনের মানুষ নয়; সে একজন নাগরিকও। সে কর দেয়, শ্রম দেয়, বাজার চালায়, শহর বানায়, খাদ্য উৎপাদন করে, পরিষেবা চালায়। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সময় তার ভোটাধিকারই তার সবচেয়ে বড় bargaining power। কারখানার গেটে শ্রমিক মজুরি নিয়ে দরকষাকষি করে। রাষ্ট্রের দরজায় সে সামাজিক নিরাপত্তা, ration, healthcare, education, housing, pension, employment এবং শ্রমিকের অধিকার নিয়ে দরকষাকষি করে। সেই রাজনৈতিক দরকষাকষির সবচেয়ে মৌলিক অস্ত্র হল ভোট। তাই ভোটার তালিকা থেকে শ্রমিকের নাম বাদ পড়া কেবল একটি electoral problem নয়; এটি তার political bargaining power কমিয়ে দেয়।
যে শ্রমিকের মজুরি কম, যে contract worker চাকরির নিশ্চয়তা পায় না, যে কৃষিশ্রমিকের জমি নেই, যে পরিযায়ী শ্রমিক কাজের জন্য বারবার ঠিকানা বদলায়—তার প্রশাসনিক vulnerability-ই সবচেয়ে বেশি। অথচ SIR-এর verification process-এ স্থায়ী ঠিকানা, পুরনো নথি, family linkage, documentary consistency—এই জিনিসগুলির গুরুত্ব যত বাড়ে, informal এবং mobile population-এর burden তত বাড়তে পারে। অর্থাৎ সমাজে যারা ইতিমধ্যেই সবচেয়ে অনিরাপদ, administrative error-এর অভিঘাতও তাদের উপর তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে।
এখানে একটি অস্বস্তিকর রাজনৈতিক সত্য সামনে আসে—অর্থনীতিতে শ্রমিক অপরিহার্য, কিন্তু রাজনীতিতে তাকে অদৃশ্য করা সম্ভব। আর সেই অদৃশ্যকরণ যদি ঘটে, তা সব সময় প্রকাশ্য repression-এর মতো দেখায় না। কখনও তা একটি form। কখনও একটি database। কখনও একটি mismatch। কখনও ‘absent’। কখনও ‘shifted’। কখনও ‘logical discrepancy’। এবং শেষ পর্যন্ত—একটি নামহীন ভোটার। তাই SIR-এর বিরুদ্ধে লড়াই মানে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে লড়াই নয়। বরং দাবি হওয়া উচিত—সঠিক ভোটার তালিকা চাই, ভুলভাবে বাদ দেওয়ার মূল কারণ কী।
যে মানুষটি বৈধ ভোটার, তাকে নিজের নাম ফেরত পাওয়ার জন্য অসীম প্রশাসনিক দৌড়ে পাঠানো যাবে না। appeal mechanism থাকতে হবে সহজ, দ্রুত এবং স্থানীয়ভাবে accessible। hearing-এর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক burden থাকা চলবে না। online-এর পাশাপাশি offline ব্যবস্থা থাকতে হবে। migrant workers-এর জন্য special facilitation দরকার। elderly এবং disabled voters-এর জন্য বাড়িভিত্তিক assistance দরকার। প্রতিটি deletion-এর কারণ নাগরিককে জানাতে হবে। এবং কোনও automated matching-এর ফলাফলকে human verification ছাড়া final exclusion-এর ভিত্তি করা কেন হবে? এর পাশাপাশি একটি independent social audit দরকার। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিত্ব থাকতেই পারে, কিন্তু তার সঙ্গে civil society, election law experts, data experts, labour organisations, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং independent observers-কে যুক্ত করতে হবে। কারণ ভোটার তালিকা শুধু রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের রাজনৈতিক অস্তিত্বের নথি।
এখানেই ‘Deleted Voters’ বা ‘বাদ পড়া ভোটারদের মোর্চা’-র মতো একটি নাগরিক উদ্যোগের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি কোনও রাজনৈতিক দলের শাখা হওয়ার দরকার নেই। স্থানীয় স্তরে কাজ হতে পারে—কার নাম বাদ গেছে তা খুঁজে দেখা, deletion-এর কারণ সংগ্রহ করা, appeal করতে সাহায্য করা, শ্রমিক ও পরিযায়ী মানুষের document সংগ্রহে সহায়তা করা, district-wise data সংগ্রহ করা, restoration rate প্রকাশ করা এবং কোথায় অস্বাভাবিক exclusion হচ্ছে তা চিহ্নিত করা। Trade union-গুলিরও এখানে ভূমিকা আছে। এতদিন শ্রমিকের ভোটাধিকারকে শ্রমিক সংগঠনের মূল দাবির সঙ্গে আলাদা করে দেখা হয়েছে। অথচ বাস্তবে মজুরি, শ্রম আইন, সামাজিক নিরাপত্তা, pension, স্বাস্থ্য, housing—সবকিছুর সঙ্গে রাষ্ট্রের নীতি জড়িত। সেই নীতি পরিবর্তনের রাজনৈতিক ক্ষমতা শ্রমিকের ভোটেই নিহিত। তাই শ্রমিক সংগঠনের agenda-তে একটি নতুন প্রশ্ন ঢোকা দরকার—‘কাজের অধিকার যেমন শ্রমিকের অধিকার, ভোটের তালিকায় নিজের নাম থাকার অধিকারও তেমনই নাগরিক অধিকার।’
শেষ পর্যন্ত SIR-এর বিতর্ক আমাদের একটি আরও বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। গণতন্ত্র কি শুধু ভোটের দিন উপস্থিত থাকার নাম? নাকি ভোটের আগেই নাগরিকের নামটি সুরক্ষিত থাকার নাম? যদি একটি বৈধ ভোটারের নাম ভুল করে বাদ যায়, তাহলে শুধু তাকে বলা যায় না—‘আপনি appeal করুন।’ রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে হবে—ভুলটি হল কেন? কতজনের হয়েছে? কোন অঞ্চলে বেশি হয়েছে? কোন শ্রেণির মানুষের বেশি হয়েছে? কতজন ফিরে এসেছে? কতজন এখনও অপেক্ষা করছে? কতজন appeal করতে পারেনি? এবং কেন?
কারণ একটি গণতন্ত্রে নাগরিককে বারবার প্রমাণ করতে হয় না যে সে অস্তিত্বশীল। রাষ্ট্রের কাজ হল নাগরিকের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে সুরক্ষিত রাখা। আজ যে প্রশ্নটি তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি SIR করা উচিত কি না—এটি সবসময় নাও হতে পারে। প্রশ্ন হল, একজন যোগ্য নাগরিকের নাম মুছে ফেলার আগে রাষ্ট্র কতটা নিশ্চিত হবে, আর ভুল করে মুছে ফেললে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কত দ্রুত নেবে?
SIR-এর সাংবিধানিক ক্ষমতা Supreme Court স্বীকার করেছে। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে—এমন সর্বজনীন সিদ্ধান্তও এখনই দেওয়া যায় না। কিন্তু ১৩ কোটিরও বেশি draft-stage exclusion, দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের বিপুল পরিবর্তন, পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ appeal, নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় ৯১.১৩ শতাংশ restoration, demographic pattern নিয়ে প্রশ্ন এবং institutional transparency নিয়ে পুরনো বিতর্ক—সবকিছু একসঙ্গে একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিপদ সবসময় দৃশ্যমান হয় না। কখনও গণতন্ত্রকে আক্রমণ করতে বন্দুক লাগে না। লাগে একটি database, একটি form, একটি ভুল match, একটি অস্পষ্ট category এবং এমন একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—যেখানে বাদ পড়া মানুষটিকেই প্রমাণ করতে হয় যে সে বাদ পড়ার যোগ্য নয়। সেই কারণেই ভোটার তালিকা কেবল নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক নথি নয়। এটি মানুষের রাজনৈতিক উপস্থিতির দলিল। আর সেই দলিলে একটি নাম মুছে দেওয়া মানে কেবল একটি ঘর খালি করা নয়—কখনও কখনও একজন নাগরিকের কণ্ঠকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ থেকে অদৃশ্য করে দেওয়া। গণতন্ত্রের দরজা খোলা রাখার প্রথম শর্ত তাই একটাই—যোগ্য নাগরিককে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া। আর কাউকে বাইরে রেখে দিলে, কেন বাইরে রাখা হল তার জবাব রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।