পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কেন? কতটা অভিন্ন ? কার স্বার্থে ?

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 201 view(s)
  • লিখেছেন : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়
গোটা দেশে একটিই দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে বলা হচ্ছে। তবেই তো এক দেশে একটিই আইন, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো। অ -বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি প্রথমেই নাকচ করে দিয়েছে, আর বিজেপি শাসিত একেক রাজ্য যে যার মতো করে এই আইন চালু করছে, অভিন্ন দেওয়ানি আইন হচ্ছে তাই রাজ্যে রাজ্যে আলাদা। তাহলে কি করে বলা যায় যে এই আইন অভিন্ন? এক দেশে এক আইন হচ্ছে?.

যে শাসক নিজেই  দেশটাকে  হিন্দুদের রাষ্ট্র বানাতে চায়, সেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার স্বার্থে,এই প্রশ্নের উত্তর সকলেরই জানা। তবুও সরকারি ভাষ্যেই  প্রশ্ন ওঠে, কারণ তারা বলছেন এক দেশে এক আইন হবে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণের জিজ্ঞাস্য: সেই আইনের উদ্দেশ্য কী? যে আইন তারা করতে চাইছে সেটা কতটা হিন্দুর কতটা মুসলিম কতটা খ্রিস্টান বা অন্য ধর্ম সম্প্রদায় এবং জনজাতির? রাজনৈতিকভাবেই আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে যে,  জনজাতিদের বাদ দিয়েই "  সবার জন্য এক আইন"  তৈরি হবে । মজার ব্যাপার, বলা হচ্ছে  গোটা দেশে একটিই  দেওয়ানি আইন হবে বলা হচ্ছে, কিন্তু হচ্ছে উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে বাদ দিয়ে।

 গোটা দেশে একটিই দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে বলা হচ্ছে। তবেই তো এক দেশে একটিই আইন, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো। অ -বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি প্রথমেই নাকচ করে দিয়েছে, আর বিজেপি শাসিত একেক রাজ্য যে যার মতো করে এই আইন চালু করছে, অভিন্ন দেওয়ানি আইন হচ্ছে তাই রাজ্যে রাজ্যে আলাদা। তাহলে কি করে বলা যায় যে এই আইন অভিন্ন? এক দেশে এক আইন হচ্ছে?.

 কার লাভ, কার স্বার্থে?

 নারীদের স্বাধিকার রক্ষার নামে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে তাতে কি প্রকৃতই নারীদের লাভ হবে? কর্মরত মুসলিম মহিলা যে রোজগার করে ইসলামী মতে তাতে স্বামীর কোন ভাগ বা দাবি থাকে না। যে দেশে বহু সম্প্রদায়, নানা ধর্মের নানা গোষ্ঠী,তাতে সামাজিক রীতিতে এতকাল যে প্রথা চলে এসেছে তাকে বিলোপ করেবিভাজন সেখানে  এক আইন চালুর উদ্দেশ্য কী ?? কাদের জন্য আইন হবে? কোন আইন যা সকলের জন্য  সমানভাবে প্রযোজ্য হবে?  অভিন্ন দেওয়ানি বিধি শুনতে খুব ভালো। ধর্ম বর্ণ জাতি নির্বিশেষে সকলের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হোক। এ কথা ভেবেছিলেন সংবিধানের প্রণেতারা ।সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে (Article 44) পরিষ্কার বলা আছে যে, রাষ্ট্র দেশজুড়ে একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার চেষ্টা করবে। সরকার জানাচ্ছে, তারা কোনো নতুন বা জোরপূর্বক আইন আনছে না, বরং সংবিধান প্রণেতাদের স্বপ্ন ও নির্দেশকেই বাস্তবায়ন করতে চাইছে। এই তাদের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংবিধানকেই মান্যতা করে তৈরি হচ্ছে 

সরকারের যুক্তি

সারা দেশে যদি একটিই ফৌজদারি আইন থাকতে পারে, তাহলে দেওয়ানি আইন কেন বিভিন্ন রকম হবে? তাছাড়া এটা তো কোন ধর্মীয় আইন নয়। সকল ধর্ম বর্ণ জাতি নির্বিশেষে  সকল নাগরিককে  একই আইনের অধীনে আনার জন্যেএই বিধি তৈরি হচ্ছে। এতে অসাম্য কমবে বিশেষত মেয়েদের মধ্যে।   এই দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার রীতি আইনত স্বীকৃত আছে বলেই এদেশে এত বেশি লিঙ্গ বৈষম্য। তার অবসানে এবং নারীর সমানাধিকারের স্বার্থে এই বিলের প্রয়োজন।  বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পত্তির অধিকারে মুসলিম নারীরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তেমনি বহুবিবাহ ও বাল্য বিবাহ রুখতে সব ধর্মের সব ধরনের সমাজে এই আইন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে।সমাজকে তাই আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে এই আইন যুগান্তকারী ভূমিকা নেবে।

কেন আপত্তি?

সব ধর্মের মূল সংগঠনগুলির সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা করে তবেই এই মর্মে একটি বিধি আনা উচিত হবে। যেমন নারীর  সমান অধিকারের উদ্দেশ্যে এই আইন হচ্ছে বলা সত্বেও মুসলিম নারীদের নিজেদেরই প্রবল আপত্তি রয়েছে। তাদের সংশয়: ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তাদের নিজেদের অর্জিত রোজগারের অর্থে স্বামীদের কোন ভাগ বা দাবি থাকে না। এই আইন চালু হলে সেই অধিকার থেকে কর্মরত মুসলিম মেয়েরা বঞ্চিত হবে  নাকি? 
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে কি বিশেষ বিবাহ প্রথা নিবারক আইন বা পারিবারিক হিংসা নিবারক আইনের মতন যে  সব বিভিন্ন আইন রয়েছে,সেগুলিও কি থাকবে?
ইতিপূর্বে উত্তরাখণ্ড গুজরাট এবং আসামে বিজেপি সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছে।  তাকে অনুসরণ করেই কি এরাজ্যেও একই ধারার আইন বলবৎ হবে? রাজ্যের সর্বস্তরের মহিলাদের সঙ্গে আলোচনা করে, এই মর্মে বিধি চূড়ান্ত করা হোক বলে বিভিন্ন বিরোধীদল দাবি করেছে।

ইতিহাস কী বলে

জন সংঘ তৈরি করার সময় নিজেদের ম্যানিফেস্টো তে এক দেশে এক আইন চেয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ।কিন্তু তিনি ধর্মীয় রাষ্ট্র চান নি।তাঁর কথায়, ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রভাবনা ভারতের চরিত্র বিরোধী, একইসঙ্গে বলা ছিল যে জনসংঘের মূলনীতি হল এক দেশ ,এক জাতি ,এক সংস্কৃতি এবং অবশ্যই সারাদেশে একই আইনের শাসন।পরবর্তীকালে সংবিধান তৈরির সময় মৌলিক অধিকারের তালিকায় দিওয়ানি বিধিকে রাখা হবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। শেষে সর্দার বল্লভভাই পাটলের দেওয়ানি বিধি কে মৌলিক অধিকার উপ-কমিটি ভোটাভুটি করে সিদ্ধান্ত নেয়, অভিন্ন রাখা হবে। ধর্মাচরণের অধিকারের থেকে তখনই ইউসিসি-কে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
আজ সেসব ভুলে গেছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব। এখন উল্টোটাই হচ্ছে। সবার জন্য একই আইন বলা সত্ত্বেও বারানসীতে  একই অপরাধে একসঙ্গে ১৪ জনকে সাজা ঘোষণা হল দুরকম :  হিন্দু অপরাধীদের দু'ঘণ্টার মধ্যে জামিন হয়ে গেল আর বাকি ৯ জনকে দু মাস জেল হাজত শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার অপরাধে। মধ্যপ্রদেশের গরু পাচারকারী সন্দেহে নিরাপরাধ জনৈক মুসলিমকে গণহত্যা করাবার অপরাধে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত করার পর বিচারককেই সাম্প্রদায়িক কটূক্তি ও চরম শাস্তির হুমকি দেওয়া হল। প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত আইনজীবীরা শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির কাছে প্রশ্ন তুললেন দেশের বিচার ব্যবস্থা কি তাহলে এভাবেই মৌলবাদীদের কাছে বিপন্ন হবে? অভিন্ন দেওয়ানী বিধি তাহলে কোন কাজে লাগবে? কাদের স্বার্থে?

 যাদের জন্য আইন

অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে সব থেকে বেশি যাদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তারা হলেন মহিলা।দেশের মহিলাদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্ম জাত ইত্যাদি সামাজিক ব্যবস্থায় পারিবারিক রীতি ও নিজস্ব গোষ্ঠীগত বৈশিষ্ট্যের দারুণ বিভিন্নতা রয়েছে।মজার ব্যাপার, তারা সেগুলির মধ্যেই  সাবলীল যাপনের অনুকূল পরিবেশ পান,যদিও তাদের  উন্নতি ও উন্নততর জীবনের জন্য বাইরে থেকে সংস্কারের দাবি জানানো হয় অভিন্ন আইন প্রসঙ্গে আলোচনা করে দেশের সকল ধর্ম বর্ণ জাতের মহিলার সংগঠন All India Democratic Women's Association ( AIDWA) আইন কমিশনের কাছে লিখিত বক্তব্যে জানান,  "অভিন্নতা মানে সমতা নয় এবং অভিন্নতাকে মহিলাদের জন্য সমতা ও ন্যায়বিচারের সাথে তুলনা করা যায় না। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আসলে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার দ্বারা চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ধর্ম, বর্ণ, বর্ণ, যৌন অভিমুখীতা এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি সাধারণ আইন দিয়ে ধর্ম, রীতিনীতি এবং ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত আইনগুলি প্রতিস্থাপন করা হয়। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কেবল মুসলিম আইন এবং ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে আসা উপজাতীয় অঞ্চল সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনগুলি বাতিল করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। প্রস্তাবিত আইনে নারীর অধিকার ও সমতার সাথে সম্পর্কিত যে বিষয়গুলি আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে তার জন্য আইন কমিশনের উচিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারীসহ এই বিষয়ে কাজ করা সকলের সাথে কথা বলা।" বস্তুত ২১ তম আইন কমিশনও একইভাবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির  প্রস্তাব নস্যাৎ করে তাই নিয়ে আরও বেশি আলোচনার ও ভাবার প্রস্তাব রেখেছিল।  ২২ তম আইন কমিশন ফের  অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রসঙ্গে জনগণের মতামত চেয়েছিল,কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো রায় দিতে পারে নি। দু দুটো আইন কমিশন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রসঙ্গে কোনো সম্মতি সূচক সায় দেন নি।  দেশের সমস্ত স্তরের সংগঠন এই নিয়ে আরো বেশি ভালো করে বিচার করে আলোচনা করবার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে।

 

কিন্তু আরএসএস বা বিজেপির ভাবনা অন্য।তাদের বক্তব্য: বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিরোধিতা করা হচ্ছে। এতে অসাম্য বাড়ছে। মোদির কথায় , একটি পরিবারে যেমন সকলের জন্য একটিই আইন থাকে তেমনি দেশেও হওয়া উচিত। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্যকে প্রতিষ্ঠা করাই আধুনিক সমাজ গঠনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য না ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্য এই দ্বন্দ্বে আপাতত বিতর্ক আটকে আছে। দুর্ভাগ্য এটাই যে, দেওয়ানি বিধি অভিন্ন হবে হলেও তা শেষ পর্যন্ত সমাজে কতটা অসাম্য দূর করে সকল শ্রেণি জাত ও লিঙ্গের মধ্যে কতটা সমতাবিধান করতে পারবে সেটা নিয়ে সকলেই অনিশ্চিত,এটা নিয়ে কেউ ভাবছে না। তাছাড়া এটাও ঠিক যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রচলিত হলে তা সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ এর অধীনে ধর্ম পালন ও প্রচারের যে অধিকার এবং ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সংখ্যালঘুদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি সংগ্রহ অধিকারকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে খর্ব করছে। মুসলিম এবং খ্রিষ্টান ও ভয়ে সঙ্গে অন্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো এই অভিন্ন দেওয়ানী বিধির প্রস্তাবকে মনে করছে যে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অনুশীলনগুলি মুছে দিতে পারে। এমনকি  বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও নানা রকম ব্যক্তিগত আইন, পারিবারিক প্রথা রয়েছে। বিভিন্ন গোষ্ঠীর মুসলিমদের মধ্যেও আলাদা আলাদা রীতি ও বিধি চালু।  কাশ্মীরে মুসলিমদের পারিবারিক প্রথা মুসলিম শরিয়তি আইনের থেকে অনেকটাই আলাদা। অন্যদিকে নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, মিজোরামের জনজাতিভুক্ত মানুষের পারিবারিক রীতিনীতিকে সংবিধানে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। এখানে  সংবিধানের মৌলিক অধিকার জড়িত। সংবিধানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়কে নিজস্ব ধর্মীয় বিষয় পরিচালনা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রথা রক্ষা করারও অধিকার রয়েছে। ফলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে গিয়ে ধর্মাচরণের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেও এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে এই আশঙ্কায়। All India Muslim Personal Law Board, Sikh Personal Law Board, Federation of Catholic Associations of Delhi and Confederation of Dalit and Tribals, All India Backwards and Minority Communities Employee Federation, All India Ravidasiya Dharam Sangathan, National Conference for Minorities, Sikh Talmail Group Committee for Protection of Religious and Cultural Diversities একটি যৌথ প্রস্তাবে বলেছে যে, সামাজিক গোষ্ঠী, উপজাতি, দলিত এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রথাগত আইন এবং ধর্মীয় অনুশীলনে হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার সরকারের নেই।


অথচ অভিযোগ,  আরএসএস এবং বিজেপি চাইছে হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের জন্য এই অভিন্ন আইনকে কার্যকর করতে। অমর্ত্য সেন বলেছিলেন, অভিন্ন দেওয়ানী বিধি মানেই হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সকলের দেশ ভারত।  যাপনে বৈচিত্র্যই ভারতের সংস্কৃতি, এদেশের সাধনা।
জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে তাই এই ইস্যুতে উচিত আরও আলোচনা করা এবং এই আইন কার্যকর করা থেকে আপাতত বিরত থাকা।

0 Comments

Post Comment