পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

ইউএপিএ নিয়ে সিপিআই( এম) এর দ্বিচারিতা ঃ রাজনৈতিক বিতর্কের আহ্বান

  • 07 September, 2022
  • 0 Comment(s)
  • 705 view(s)
  • লিখেছেন : সুমন কল্যাণ মৌলিক
আমাদের অজানা নয় যে ভীমা-কোঁরেগাও মামলায় যখন একের পর এক কবি,সাহিত্যিক,সাংবাদিক, অধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ইউএপিএ আইনে তখন সিপিএম ঘনিষ্ঠ ও পার্টি সদস্য বুদ্ধিজীবিরা এই অন্যায় রুখতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু নিজেদের শাসনে তারা শুধু এই কুখ্যাত আইনের প্রয়োগই করছেন না,একই সঙ্গে চরম প্রতিহিংসা পরায়ণ,প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান নিচ্ছেন যার সাম্প্রতিক উদাহরণ হল কেরলের রূপেশ মামলা।

আজকের ভারতবর্ষে নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার সংক্রান্ত যে কোন আলোচনায় কুখ্যাত,চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক এবং মানবিকতা বিরোধী ইউএপিএ (UAPA) আইনের উল্লেখ এক অনিবার্য বিষয়। সমস্ত বিরোধী স্বরকে কোন না কোন তকমা ( ' শহুরে নকশাল', ' মাওবাদী' অথবা ' দেশদ্রোহী ', ' জাতীয়তাবিরোধী') লাগিয়ে প্রমাণবিহীনভাবে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে তাদের হেনস্থা, জেলে পচিয়ে মারা বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের এবং রাজ্যে রাজ্যে নানা দলের সরকারের মুখ্য রাষ্ট্রীয় দমন- পীড়নের নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই নীতির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শাসক দলগুলির প্রধান অস্ত্র অবশ্যই ইউ এ পি এ।২০২০ সালে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী প্রতাপ ভানু মেহেতা একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন-- বিরোধী,প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে(dissent) বোঝার জন্য রাষ্ট্রের কোন ভাষা জানা নেই, আছে কেবল একটি মাত্র ভাষা, তা হল বিরোধী কণ্ঠস্বরকে ' অপরাধী '( Criminal) তকমা দেওয়ার।আসলে সংবিধানে বিরোধী মতামতের, বহু স্বরের স্বীকৃতি থাকলেও রাষ্ট্র, সরকার চায় মানুষের বা নাগরিকের প্রশ্নহীন আনুগত্য।

বিচার প্রক্রিয়াটি আসলে শাস্তির আরেক নামঃইউ এ পি এ আইন কতোটা খারাপ,কতটা অমানবিক তা বর্তমান নিবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয় নয় তবু সামগ্রিকতার স্বার্থে আমরা এ বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থিত করতে চাই।

রাজ্যসভায় সিপিআই( এম) সাংসদ এ.এ.রহিমের করা একটি প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লিখিতভাবে জানিয়েছেন ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সারা দেশে ইউ এ পি এ তে ৫,০২৭টি মামলা হয়েছে যাতে ২৪,১৩৪ জন মানুষ অভিযুক্ত।এই বিশাল সংখ্যক অভিযুক্তের মধ্যে মাত্র ২১২ জন দন্ডিত হয়েছেন,৩৮৬ জন বেকসুর খালাস পেয়েছেন।কিন্তু সংখ্যা গরিষ্ঠ অভিযুক্ত মানুষ দিনের পর দিন বিনা বিচারে আটকে রয়েছেন কারণ এই আইনের ধারাগুলি এতই ভয়ংকর যে জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুসারে ২০১৬ সাল থেকে ৩,০৪৭ জন,২০১৭ থেকে ৪,০৯৮ জন,২০১৮ থেকে ৪,৮৬২ জন,২০১৯ থেকে ৫,৬৪৫ জন এবং ২০২০ থেকে ৬,৪৮২ জন বিচারের আশায় জেলে দিন গুনছেন। ইউএপিএ তে অভিযুক্ত হওয়া এবং তার পর বিচার শুরু হওয়ার গোটা প্রক্রিয়াটিকে এককথায় বলা যায় -- ''process is the punishment ''।

ইউএপিএ প্রশ্নে সংসদীয় দলগুলির ভূমিকাঃ আমরা প্রথমেই উল্লেখ করেছি বিরুদ্ধ কণ্ঠস্বরকে দমন করার লক্ষ্যে,যে কোন প্রতিস্পর্ধাকে গুড়িয়ে দিতে ভারতের সংসদীয় রাজনৈতিক দলগুলি এই দানবীয় আইনটিকে যথেচ্ছ ভাবে ব্যবহার করছেন।এই আইনের প্রয়োগ ও তার কার্যকারিতা নিয়ে দেশের প্রধান শাসক দল বিজেপি এবং এখনো পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ( যারা আবার এই আইনের মূল রূপকার) নিঃসন্দেহ। যদিও কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতা ও দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি.চিদামবরম সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় ব্যক্তিগত কলামে ইউএপিএ আইনের প্রায়োগিক ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন।কিন্তু তার হঠাৎ বিবেক জেগে ওঠার গল্প হালে খুব একটা পাণি পায় নি কারণ একথা সবার জানা যে পি.চিদামবরম ও কপিল সিব্বাল এই সংশোধিত ইউএপিএ রচনার প্রধান কারিগর।আঞ্চলিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও ছবিটা আলাদা কিছু নয়।তামিলনাড়ুর জয়ললিতা বা স্ট্যালিন,ঝাড়খন্ডের হেমন্ত সোরেন, ওড়িশার নবীন পট্টনায়ক, বিহারের নীতিশকুমার বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের যে কোন রাজ্য-- ইউএপিএ প্রয়োগ করতে কেউ কম যান না।বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দোপাধ্যায় মাওবাদী মুখপাত্র আজাদের পুলিশ কর্তৃক এনকাউন্টার হত্যা হলে সরব হন,কিন্তু তার নেতৃত্বে পশ্চিম বঙ্গে ২০১১ সালে পরিবর্তনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি প্রথম থেকেই হয়ে ওঠেন মানবাধিকার হরণের প্রধান মুখ।এনকাউন্টার কিলিং, যে কোন প্রতিবাদীকে মাওবাদী বলে দেগে দেওয়া,বিরুদ্ধ কণ্ঠকে ইউএপিএ আইনে ফাঁসিয়ে দিয়ে জেলের মধ্যে পচিয়ে মারা তার রাজ্যে আজ স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।আমরা বলতে পারি বিজেপি, কংগ্রেস বা আঞ্চলিক দলগুলোর নীতিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান এই কুখ্যাত আইনের পক্ষে।

এবং সিপিআই(এম) ঃ সংসদীয় দলগুলির তালিকায় সিপিআই(এম) দলের উল্লেখ না করার কারণ খুব স্পষ্ট ভাষায় বললে তাদের দ্বিচারিতা মূলক(double standard) অবস্থান।ভারতে সংসদীয় বামদলগুলির মধ্যে বড়ো শরিক ইউএপিএ প্রশ্নে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে,তত্ত্ব কথায় এই কুখ্যাত আইনের অগণতান্ত্রিক চরিত্রটিকে বারংবার উন্মোচিত করছে,তাদের দলীয় মুখপত্রে এ নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করছে কিন্তু যেখানে সিপিএম নিজেরা শাসন ক্ষমতায় আছে সেখানে তারা বিরুদ্ধ স্বরকে দমন করার জন্য ইউএপিএ আইনের সাহায্য নিচ্ছে। এই দ্বিচারিতার জ্বলন্ত উদাহরণ হল পলিটব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়ন শাসিত কেরল।২০১৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২১ সালের ১৯ মে পর্যন্ত কেরালায় সেখানকার এল ডি এফ সরকার ইউএপিএ ধারায় ১৪৫টি মামলা দায়ের করেছে।

বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার।সিপিআই( এম) পার্টির ইউএপিএ প্রশ্নে তাদের আদর্শগত অবস্থান বোঝার জন্য আমরা পার্টি সদস্য সীতারাম ইয়েচুরির একটি বক্তব্য উপস্থিত করছি--'ইউএপিএ আইন রাজ্যের ক্ষমতার উপর কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ও দখলদারি।আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের ব্যাপার।অথচ ইউএপিএতে সংশোধনীর সাহায্যে যে কোন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে রাজ্যকে এড়িয়ে কেন্দ্র যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে।যখন প্রথম ইউএপিএ আইনকে সংসদে ফেলা হয় তখন সিপিএম তার বিরোধিতা করে কারণ এই আইন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ। '( দেশাভিমানী পত্রিকা, নভেম্বর ৪,২০১৯)।

আরেক পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র পিল্লাই ইউএপিএ আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার পার্টির তীব্র বিরোধিতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন -- ' Sedition charges in the country are being used recklessly and with political motive,UAPA is slapped in a wrong manner.invoking sedition provisons and using them against writers and artists by raking up baseless charges was unacceptable ''।(ডেকান ক্রনিকলস,ডিসেম্বর ২১,২০১৬)।প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য পিল্লাই এর বক্তব্যের পটভূমি হল তার নিজের দলের মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক কেরলে শিল্পী কে.পি.নাদির ও লেখক সি.কমলের বিরুদ্ধে ইউএপিএ প্রয়োগ। এ কথাও আমাদের অজানা নয় যে ভীমা-কোঁরেগাও মামলায় যখন একের পর এক কবি,সাহিত্যিক,সাংবাদিক, অধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ইউএপিএ আইনে তখন সিপিএম ঘনিষ্ঠ ও পার্টি সদস্য বুদ্ধিজীবিরা এই অন্যায় রুখতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু নিজেদের শাসনে তারা শুধু এই কুখ্যাত আইনের প্রয়োগই করছেন না,একই সঙ্গে চরম প্রতিহিংসা পরায়ণ,প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান নিচ্ছেন যার সাম্প্রতিক উদাহরণ হল কেরলের রূপেশ মামলা।

অথ রূপেশ কথাঃ২০১৫ সালের মে মাসে মাওবাদী নেতা হিসাবে অভিযুক্ত রূপেশ নামে এক যুবক ও তার চার সঙ্গীকে কোয়েম্বাটুর থেকে ২৫ কিমি দূরে গ্রেপ্তার করে কেটালা,কর্ণাটক,তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স। রূপেশ ছাড়া বাকি তিনজন জামিন পান।এর আগে ২০১৩ সালে রূপেশ ও আরো কয়েক জনের বিরুদ্ধে কোজিকোড় জেলার কুট্টাডি থানায় পুলিশ দুটো মামলা দায়ের করে।এরপর ২০১৪ সালে ঐ জেলারই ভালায়াম থানায় রূপেশদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।যেহেতু মামলাগুলিতে রূপেশ ছাড়া অন্য অভিযুক্তরা পলাতক তাই পুলিশ রূপেশের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।প্রত্যেকটি মামলায় অভিযোগ ও ধারাগুলো মোটের উপর একরকম -- রূপেশ ও তার সঙ্গীরা বন্দুক নিয়ে জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামে যায়,নিষিদ্ধ সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করে ও গ্রামবাসীদের সহযোগিতা চায়।ধারাগুলি হল -- ১৪৩(বেআইনি জমায়েত), ১৪৭(দাঙ্গা),১৪৮( অস্ত্র নিয়ে হাঙ্গামা),১২৪ক(রাষ্ট্রদ্রোহ),২০,৩৮( নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়ার অপরাধ)। ইউএপিএ আইনের ৪৫ নং ধারা অনুসারে কাউকে এই ধারায় অভিযুক্ত করতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি আবশ্যক। এই ধারাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে তদন্ত কালে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যে সমস্ত প্রমাণ সংগৃহীত হয়েছে তা এক কমিটির কাছে(Recommending Authority) নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের জন্য পাঠাতে হবে।সেই কমিটি তাদের সুপারিশ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে(Sanctioning Authority) পাঠাবে।এই ধারায় নির্দিষ্ট সময়সীমারও উল্লেখ আছে।অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত প্রমাণ দাখিলের সাত দিনের মধ্যে রেকমন্ডিং অথরিটি তাদের সুপারিশ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।আর সেই সুপারিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে স্যাংশন অথরিটি তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।রূপেশের ক্ষেত্রে এই সনয়সীমা তো মানাই হয় নি বরং ছয় মাস পরে ইউএপিএ লাগু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রূপেশ ইউএপিএ অনুমতির আদেশ নাকচের দাবিতে কোজিকোড় সেশন কোর্টে এক আবেদন করে যা নাকচ হয়।তারপর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বিজয়রাঘবন রূপেশের বিরুদ্ধে জারি ইউএপিএ ধারা বাতিল করেন।তার মতে প্রচুর দেরি করে ইউএপিএ আনা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য এর আগে পালাকাড সেশন কোর্টের বিচারপতি ভি.প্রকাশ এই একই যুক্তিতে রূপেশের বিরুদ্ধে আনা ইউ এ পি এ ধারা বাতিল করে দেন(২০২০,৯ সেপ্টেম্বর)। রায় দিতে গিয়ে কেরল পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে বিচারপতি বলেন--' dishonest intention... to detain the accused in jail indefinitely ''।

উচ্চতর আদালতের এই রায় সত্বেও সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন এল ডি এফ চুপ করে বসে থাকে নি। তারা সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানিয়ে বলে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতির এজলাসে এই মামলার বিচার হয়েছে যা বিধিসম্মত নয়। এই মামলার বিচার ডিভিশন বেঞ্চে হওয়া উচিত। সেই মোতাবেক কেরল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রূপেশ মামলার শুনানি হয় কিন্তু রায় অপরিবর্তিত থাকে।একের পর এক রায় শুধু রূপেশের পক্ষেই যায় নি,একই সঙ্গে তা কেরলের বামপন্থী সরকারের রাজনৈতিক দ্বিচারিতাকে উন্মুক্ত করে।শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী এবার পলিটব্যুরো সদস্য তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের নির্দেশে কেরল সরকার সুপ্রিম কোর্টে রায়ের রিভিউ চেয়ে আবেদন করেছে।

রূপেশের বিষয়টি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।এর আগে ঐ রাজ্যে খোদ সিপিআই(এম) দলের দুই তরুণ ক্যাডার অ্যালান সুহেব ও তাহা ফসলকে মাওবাদী সংশ্রবের অভিযোগে ইউএপিএ তে অভিযুক্ত করা হয়।তা নিয়ে সেসময় সিপিআই( এম) রাজ্য কমিটির একদল সদস্য বাম সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেয়।সেসময় সীতারাম ইয়েচুরি হস্তক্ষেপ করে বলেন এই দুই তরুণ সদস্যকে মুক্ত করতে সমস্ত রকমের আইনি পথ নেওয়া হবে।পশ্চিম বঙ্গের মানুষ জানেন সিঙ্গুর- নন্দীগ্রাম - লালগড়ে গণ আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে সিপিআই,আরএসপি,ফরোয়ার্ড ব্লক প্রভৃতি বাম শরিকদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য গণআন্দোলনের কর্মীদের উপর যথেচ্ছ ইউএপিএ প্রয়োগ করেন।দেশের মধ্যে প্রথম বিচারাধীন ইউএপিএ বন্দী হিসাবে জেলের মধ্যে শহীদ হন পিপলস মার্চ পত্রিকার সম্পাদক স্বপন দাশগুপ্ত।

শেষের কথাঃ ইউএপিএ নিয়ে সিপিআই(এম) দলের এই দ্বিচারিতা তাদের বিকল্প সরকার ও মতাদর্শের ধারণাকে হাস্যকর করে তুলছে।একই সঙ্গে তা ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটা বড়ো আঘাত।যদি সিপিআই(এম) নিজেদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের সৈনিক মনে করে তবে তাদের এই সুবিধাবাদী রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন করতে হবে এবং তা এখনই।

0 Comments

Post Comment