পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বাংলাতে কেন এমন ফল বামেদের ১

  • 10 June, 2024
  • 0 Comment(s)
  • 1052 view(s)
  • লিখেছেন : গৌতম রায়
বাংলায় বামেদের কেন এমন হতাশাজনক ফল হলো, এর থেকে বেরোনোর রাস্তাই বা কী? এই নিয়ে একটি ধারাবাহিক আলোচনা করলেন গৌতম রায়। প্রথম পর্ব।

 

অনেকেই আশা করেছিলেন, অষ্টাদশ লোকসভার ভোটে বামেদের, ‘শূন্য’র গেরো কাটবে। ভোট প্রচারে বামেদের সভাতে যে পরিমাণ ভিড় হয়েছিল, তাতে অনেকের এটাও মনে হয়েছিল, শূন্যের গেরো কাটবেই বামেদের। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, বামেদের শূন্যের গেরো কাটলো না। মাত্র দুজন, মহঃ সেলিম আর সুজন চক্রবর্তী জামানত বাঁচাতে পারলেন। বাকি সব বাম প্রার্থীর জামানত জব্দ।

কেন এমন হলো? এই প্রশ্নটা কেবলমাত্র বাম শিবিরেই নয়। বাম বিরোধী শিবিরেও বামেদের এই ফল ঘিরে বিস্ময়।তৃণমূলের এক প্রার্থী, এখন সাংসদ, এই নিবন্ধকারকে বলেছিলেন,  মুর্শিদাবাদে সেলিম জিতবেন ই। তাঁর নিজের দলের প্রার্থী আবু তাহেরের শারীরিক অবস্থা ঘিরে সদ্য জেতা তৃণমূল সাংসদের ভোটের দুমাস আগেই স্পষ্ট ধারণা ছিল। উনি তো প্রায় হুইল চিয়ারেই বন্দি। সিপিআইএম একটা আসন পাবেই। সেটা মুর্শিদাবাদ।

সেই মুর্শিদাবাদের ও সেলিম জিততে পারলেন না। জিতবার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মপ্রত্যয়ী তিনি ছিলেন। মিডিয়াকে বা দলের কর্মী সমর্থকদের বিশেষ উৎসাহ দেওয়ার জন্য, নিছক কথার কথা হিসেবে তিনি নিজের জেতার কথা বলেছিলেন এটা কারোর কাছেই মনে হয় নি। তাই সেলিমের পরাজয় কেবল তাঁর নিজের দলের কর্মী সমর্থকদের কাছেই নয়, বিরোধীদের ও আশ্চর্য করেছিল।

নির্বাচনী সভা গুলিতে জনসমাগমের নিরিখে বামেরা বেশ ভালোই একটা সাড়া ফেলতে পেরেছিল। বিভিন্ন রোডশোতেও যে পরিমাণ ভিড় হয়েছে, সেটা ছিল যথেষ্ট উল্লেখ করবার মত একটা বিষয়। কিন্তু দেখা গেল, ভোটের বাক্সে নির্বাচনী প্রচার সভা বা রোড শোর কোনো প্রতিফলন ঘটল না । সেলিমই একমাত্র বাম প্রার্থী যিনি দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তাছাড়া সুজন, সৃজন, দীপ্সিতা ধর ইত্যাদি যাঁদেরকে ঘিরে যথেষ্ট প্রচারের  আলো ছিল। মানুষের মধ্যে একটা ইতিবাচক ধারণা ছিল।

ভোটের ফলে দেখতে পাওয়া গেল এঁরা প্রত্যেকেই দ্বিতীয় স্থানে ও থাকতে পারেননি। তৃতীয় স্থানে চলে এসেছেন। অথচ এঁদের প্রত্যেকেরই নিজের নিজের নির্বাচন কেন্দ্রে একটা জনপ্রিয়তা কিন্তু আমরা ভোটের প্রচার পর্বে দেখতে পেয়েছি। যে সংবাদ মাধ্যম বিগত বারো- তেরো  বছর ধরে, তাঁদের বাণিজ্যিক কারণেই, বামেদের ঘিরে বিশেষ একটা খবর করে না, সেইসব মাধ্যমগুলিতেও আমরা সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটের আগে দেখতে পেয়েছি, বামেদের ঘিরে একটা ইতিবাচক দিকের কথা তাঁরা লিখছেন ।

তাহলে এত কিছু সত্বেও কেন বামেদের নির্বাচনী ফল আশানুরূপ তো নয়ই, প্রায় চিন্তার বাইরে এমনতর হলো?

সাংগঠনিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে যে বামেরা খুব একটা ভালো জায়গায় নেই, এটা নতুন করে বলবার মতো কোনো বিষয় নয় । কিন্তু সাংগঠনিক নানা কমজোরিভাব থাকা সত্ত্বেও বিগত প্রায় তিন বছর আগে মহম্মদ সেলিম যখন সিপিআই(এমে)র রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তারপর থেকে যে ধরনের গণমুখী আন্দোলন  সিপিআই(এম) দলকে করতে দেখা গেছে, সেই ধরনের প্রবণতা কিন্তু তাঁদের ২০১১তে সরকার চলে যাওয়ার পরে বিশেষ দেখা যায়নি ।

সেলিম যেভাবে কেবল তাঁর নিজের দলের মধ্যেই নয়, গোটা তৃণমূল,  বিজেপি বিরোধী যে মানুষজন আছেন, তাঁদের মধ্যে যে ধরনের সাড়া ফেলতে পেরেছেন, তার নিরিখে অনেকেই অনুমান করেছিলেন যে, সেই সাড়ার একটা ইতিবাচক প্রভাব ভোট বাক্সে পড়বে। কিন্তু দেখা গেল তা পড়েনি। তাহলে কেন এমনটা হল?

এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই বলতে হয়, শাসক তৃণমূলের সংগঠনিক বিষয়টি যথেষ্ট এলোমেলো হওয়া সত্বেও  যেহেতু শাসন ক্ষমতা তাঁদের হাতে রয়েছে, সেই কারণে তাঁরা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গরীব, প্রথাগত শিক্ষা না পাওয়া মানুষজন এবং সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় , এঁদের ভিতরে যেভাবে আলংকারিক উন্নয়ন পৌঁছে দিতে পেরেছে, তার ফসল অনেকটাই তাঁদের ঘরে উঠেছে।

অপরপক্ষে বামপন্থীরা যে দীর্ঘ ৩৪ বছর রাজ্য সরকার পরিচালনা করেছে, সেই সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে  আলঙ্কারিক উন্নয়নকে, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই কখনো খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ফলে তাঁদের যে উন্নয়নের মডেল ছিল, অর্থাৎ  মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কিছু সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়, সেগুলি সব সময় হাতে গরম কোনো ফল দিতে না পারায়, একেবারে গরীব গুর্বো মানুষদের মধ্যে যে ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল, আর তৃণমূল কংগ্রেস, এই আলংকারিক উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে গরিব মানুষের আর্থ-সামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতির উন্নয়ন অপেক্ষা, তাঁদের কিছু রিলিফের যে চেষ্টা করেছে, সেই বিষয়গুলি কিন্তু গরিব মানুষ একটু বেশি রকমের গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছে।

একজন মধ্যবিত্ত খুব সহজে বুঝবে না ১০০০ টাকার গুরুত্ব কতখানি। কারণ, ১০০০ টাকা তাঁর কাছে খরচের ক্ষেত্রে যে ধরনের পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করে, সেটা কিন্তু একটা প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে করে না। একজন প্রান্তিক মানুষ, যিনি দিন আনা, দিন খাওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর পারিবারিক কাঠামোকে বজায় রাখবার জন্য লড়াই করে চলেছেন, তাঁর বাড়ির একজন মহিলা, তিনি যখন হাতে নগদ একটা টাকা পাচ্ছেন, সেই নগদ টাকার গুরুত্ব, সেই গরিব মানুষটির উপরে, একটা অন্য রকমের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। নগদ টাকা হঠাৎ করে একটা হাতে এসে যাওয়ার যে প্রতিক্রিয়া গরিব মানুষের মধ্যে হয়, সেটা কিন্তু মধ্যবিত্তের পক্ষে অনুভব করা যথেষ্ট কঠিন। আজকের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে একজন মধ্যবিত্ত, এক সন্ধ্যার বিনোদনে এক  হাজার টাকা খরচ করেন বা তার থেকেও বেশি টাকা খরচ করেন। কিন্তু একজন নিম্ন আয়ের মানুষ, সে যদি পড়ে পাওয়া চোদ্দ  আনা হিসেবে এই লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে পাঁচশো বা হাজার টাকা পায়, সেটাকে সে নিজের একটা আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে ধরতে শুরু করে। বিশেষ করে যখন একাংশের স্বঘোষিত অতি বিপ্লবীরা সরকার থেকে দেওয়া এইসব অনুদান গুলিকে খুব বাজে ধরনের কটাক্ষ করতে শুরু করে, তখন সে কটাক্ষের জের কিন্তু একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের উপর। আর সেটা স্বাভাবিকভাবে প্রতিফলিত হয় সেই পরিবারের পুরুষদের উপরেও।

৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাঁদের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, অর্থাৎ মানুষকে কিছুটা রিলিফ বা স্বস্তি দেওয়া , সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তাঁরা রাজ্যের বেকার সমস্যার সমাধান, কোনো যাদুকরের জাদু দন্ড দিয়ে এক মুহূর্তে করে দিতে পারবে না বুঝেই চালু করেছিল বেকার ভাতা। সেই বেকার ভাতা কিন্তু সম্ভ্রান্ত ঘরের যুবক-যুবতীরা, যাঁরা নানা ধরনের আর্থ-সামাজিক কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তখন চাকরি পাননি, সেটা গ্রহণ করেছিল। আর টাকার মূল্যমান তখন যা ছিল, সেখানে একটি বেকার যুবক, সরকারের কাছ থেকে মাসিক একটা অনুদান পাচ্ছে বেকার হিসেবে, সেই গোটা ব্যাপারটা তাঁদের একটা মাসের হাত খরচের পক্ষে খুব একটা খারাপ ছিল না।

এই যে বেকার ভাতা বা এই ধরনের রিলিফের বিষয়, সেই বিষয়টিকে ঘিরে তখন সদ্য ক্ষমতাচ্যুত কংগ্রেস সেই রকম ভাবনার জগতে ছিল না। ওই বেকার ভাতা কে ঘিরে উপহাস করবার মত কোনো চিন্তার, মেধাভিত্তিক প্রয়াস তাঁরা দেখাতে পারে নি। সেদিনের বেকার ভাতা র থেকে আজকের মমতা সরকারের দেওয়া লক্ষীর ভান্ডার বা বিভিন্ন ভাতার ব্যবহারিক দিকের একটা মৌলিক ফারাক আছে।

সেই ফারাকটি হলো, বামফ্রন্টের আমলে বেকার ভাতা, বার্ধক্য ভাতা ইত্যাদি প্রদানের প্রশ্নে কখনো দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মানুষের প্রয়োজনীয়তাটাকেই একমাত্র গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে বামপন্থীদের নিজস্ব বৃত্তের বাইরে বহু মানুষ সেদিন কিন্তু নির্দ্বিধায় সেই সব ভাতা গুলি পেয়েছিলেন। কোনো অবস্থাতেই ভাতা পাওয়ার জন্য যে সমস্ত নিয়মাবলী তখন ছিল, বিশেষ করে কমিশনার, যাকে এখন বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল আইনের সংশোধনের পর কাউন্সিলর বলা হয়, বিধায়ক, এঁদের কারোর কাছ থেকে শংসাপত্র পাওয়া ইত্যাদি প্রশ্নে আজকের নিরিখে পক্ষপাত মূলক আচরণের সম্মুখীন হতে হয় নি। সেদিনের গরিব মানুষ, বিশেষ করে যাঁরা বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, বরঞ্চ বলা যেতে পারে, সেই সময় তাঁরা বামফ্রন্টের বিরোধী শিবিরেই অবস্থান করছিলেন, তাঁরা কখনোই তেমন কোনো সমস্যায় পড়েন নি।

এই যে পক্ষপাতহীন ব্যবহার সাধারণ মানুষ পেয়েছিলেন, সেই প্রজন্মটা এখন প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে আর নেই। বামফ্রন্টের সরকারের প্রথম দিকের এই পদ্ধতি যে শেষের দিকে খুব ভালোভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেই দাবি কিন্তু করতে পারা যায় না। পরবর্তী সময়ে অনেক পক্ষপাত মূলক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বামপন্থীদের সঙ্গে তৃণমূলের ফারাকটা এই যে, পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে, সুনির্দিষ্ট ভাবে যদি সেই অভিযোগ বামপন্থী নেতাদের কাছে পৌঁছতো, তাহলে তার প্রতিকার হতো। কিন্তু তৃণমূলের সময় দেখা গেছে, নিজেদের রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরে এই ধরনের ভাতা পাওয়ার জায়গা গুলি ক্রমশঃ সংকুচিত হচ্ছে। তৃণমূল দলের কাছে এ সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়ে কোনো সময়েই, কোনো রকম প্রতিকার সাধারণ মানুষ পায় না ।

ফলে এই সময়কালে সরকারের থেকে দেওয়া এইসব সুযোগ গুলো পাবার জন্য বহু মানুষ, যাঁরা বামপন্থী শিবির ভুক্ত ছিলেন ,তাঁরা কিন্তু বর্তমান শাসক শিবিরের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং সেই সম্পর্কের জেরে তারা এই সরকারি সুযোগ-সুবিধা গুলো পাচ্ছেন। এই মানুষজনদেরই একটা অংশ কিন্তু বামপন্থীদের ভোটের মিছিলে, মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু সরকারের থেকে পাওয়া এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা গুলিকে যখন শীর্ষস্থরের বামপন্থী নেতারা নয়, ভূমি স্তরের একদল কর্মী , বিশেষ করে যারা ফেসবুকে বিপ্লব করেন, আর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রায় কলতলার ঝগড়ার মত করে, যুক্তি তর্ক এই সমস্ত কিছু ধার না ধরেই, এইসব ভাতাগুলিকে অত্যন্ত নিম্নস্তরের শব্দ প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে উপহাস করেন, তখন কিন্তু ডান- বাম উভয় শিবিরের যে গরিব মানুষ, যাঁরা এইসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা গুলি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একটা ভিন্ন মানসিকতা তৈরি হয়। সেই মানসিকতার জের কিন্তু ভোট বাক্সে পড়েছে।

বামপন্থীরা যদি টেলিভিশন চ্যানেলে আলোচনার জন্য যে সমস্ত লোকজন , দলীয় পরিকাঠামোকে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে চ্যানেলের  লোকজনের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যবহার করে আলোচনাগুলিতে চলে যাচ্ছেন এবং বহু ক্ষেত্রে সেইসব আলোচনায় বিরোধীদের, রাজনৈতিক আক্রমণ না করে, একেবারে ব্যক্তি স্তরে আক্রমণ করছেন, সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে  একটা সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভাবনার এখনই ভাবতে শুরু না করেন, তাহলে ভোট রাজনীতির নিরিখে বামপন্থীদের যে খরা চলছে ,খান থেকে বেরিয়ে আসার জায়গাটা বেশ মুশকিল হয়ে যাবে।

 আর একটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে হয়, সেটা হল এই যে টেলিভিশন চ্যানেলই হোক বা স্ট্রিট কর্নারই হোক, জনসভাই  হোক, একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাচন ভঙ্গিমায় যে ধরনের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখতে পাওয়া যায়, সেটা কিন্তু সব সময় বামপন্থী মানসিকতার মানুষজনেরাও ঠিক মেনে নিতে পারেন না। মহঃ  সেলিম যে আবেগ নিয়ে, যে বাচনিক দক্ষতা নিয়ে একটা সময়ে সংসদের মধ্যে নারদা কান্ডকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সাংসদদের দিকে সরাসরি ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, সেই আঙ্গিক, সেই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, যদি একটা পাড়ার নেতা দেখায়, তাহলে কিন্তু বড় অংশের লোকেদের মধ্যে সেলিমের সংসদে দেওয়া বক্তৃতা বা তার পরের ঘটনাবলী যে গুরুত্ব পেয়েছিল, সেই গুরুত্বটা অনেকটা ফিকে হয়ে যায়। টেলিভিশনের চ্যানেলে বসে একটা অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে একাংশের মিডিয়ার দ্বারা তৈরি হয়ে যারা নেতা হয়েছেন, তাদের আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটাও কিন্তু ভাববার বিষয়। এই টেলিভিশন নির্ভর নেতারা, যাঁদের একটা ক্রেজ গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচার সভা গুলিতে বামপন্থী শিবিরে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল, তাঁদের বেশিরভাগই নানা ধরনের মজাদার কথার ভিতর দিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণকে প্রায় পাড়ার রকের ঝগড়ার স্তরে নামিয়ে আনতেন । সেটা  পারলেও রাজনৈতিক বিষয়গুলিকে শান্ত, ঋজু অথচ দৃঢ়ভাবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম তাঁরা হননি। ফলে তাঁদের জনসভায় মানুষের প্রচুর ভিড় হলেও, তার প্রতিফলন আমরা ভোট বাক্সে দেখতে পাই নি।

0 Comments

Post Comment