পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বদলের হাওয়া কেমন ও কোনদিকে?

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 200 view(s)
  • লিখেছেন : দেবজিৎ ভট্টাচার্য
পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে বদলের বদল ঘটলো। এই নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে সব থেকে নির্মম ও রক্তক্ষয়ী হিসেবে লেখা থাকলো। আগে যে হিংসার অনুশীলন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে করতো, এখন তা কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেটাকেই আরও ভয়ানক হিংস্রতার রূপ দিলো। নির্বাচনে জেতার পরেও তারই প্রমাণ মিলছে।

বদল চাই, বদল চাই — বলতে বলতে বদলে গেল রঙ। সবুজ বদলে গেরুয়া এলো। বদলে গেলো অনেক চেনা মানুষের মুখগুলো। কেউ ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালালেন। কেউ নিজের ঘরে নিজ-স্বেচ্ছায় নির্বাসন গ্রহণ করলেন। আবার, কেউ কেউ মনের খুশিতে গালাগাল দিতে দিতে বাইকে চেপে উড়ে বেড়ালেন। উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের এমনভাবেই দিন কেটে গেলো। শ্রমজীবী জনগণের জীবনে কোনো প্রকারের বদল এলো? এখন তাঁরা নতুন রঙের নতুন সরকারের নতুন ধরনের অত্যাচারের সম্মুখীন হওয়ার প্রস্তুতি-পর্বে প্রবেশ করলো। 

৪ঠা মে (২০২৬) দুপুর থেকে মনে হতে শুরু হলো — বিজেপিই আসলে গোপন রাজনৈতিক অনুশীলন করছিল। এতদিন বহু জায়গায় বিজেপির ঝান্ডা দেখা যাচ্ছিল না, অনেক প্রার্থী কারোর চেনা নয়, সেই বিজেপি পশ্চিমবাংলার বিধানসভা নির্বাচনে দু'শো উপরে আসন পেলো। এই দেখে আকাশ থেকে শ্রী রামচন্দ্র ও তাঁর সশস্ত্র দলবলেরাও খানিকক্ষণ কেঁদে ভাসালো। এখনকার জনগণ বুঝলো, পরিবেশেরও বদল ঘটলো, বহু গরম শেষে বৃষ্টি এলো। সেই বৃষ্টির তলায় পাড়ার অটো ও টোটো স্ট্যান্ড থেকে পৌরসভা এবং পঞ্চায়েতগুলোয় পদ্মেরা ফুটলো। বদলের এমন জোয়ারে রাতারাতি মরে গেলো ঘাসফুল ও ভেসে গেলো বাংলার সংবাদমাধ্যমগুলো। আগে যে কাজের দায়িত্ব কেবল ‘রিপাবলিক বাংলা’র ময়ূখ ও স্বর্ণালীর ছিলো। এখন তাঁদের কাজের জায়গাতেও প্রতিযোগিতা ভরপুর বেড়ে গেলো। তাঁদের পেটের ভাতে হাত বসালো ঘণ্টা খানেকের সুমন। তিনি এবিপি'র স্টুডিও-তে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে মুসলনমানদের ভয় দেখানোর ধরন বদলিয়ে ফেলে সরাসরি আর.এস.এস ও বিজেপির হিংস্র ব্রাহ্মণ্যবাদী এজেন্ডা প্রচারে মাঠে নেমে এলেন।

এর ঠিক সাত মাস আগে থেকে বদল ঘটবার শুরুওয়াত হয়েছিল, পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে। বদলের সর্বপ্রথম হাতিয়ার ছিলো, এস.আই.আর। নির্বাচন কমিশন সেই সময় থেকে বাংলার রাজনীতির প্রথম স্থানে উঠে এলো। প্রায় সাত মাস তারাই এখানকার সরকার চালালো। অঘোষিত মুখ্যমন্ত্রী হলেন, জ্ঞানেশ কুমার। তিনি এখানকার স্বঘোষিত মুখ্যমন্ত্রী মমতার সব অস্ত্র একে একে কেড়ে নিলেন, মোদি-শাহের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে। প্রথম রাউন্ডে এর শুরুওয়াত হলো ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়া ধরে। যেইখানে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি পশ্চিমবাংলার স্বঘোষিত মূখ্যমন্ত্রী'র পার্টি-পঞ্চায়েত-সমবায় ও পৌরসভার দুষ্ট-দামাল ভাই ও ভাইপো'রা(দুর্নীতিগ্রস্ত-চোর-জমিখোর-ঠিকাদার) অনেকেই বাদ গেলেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রবেশ ঘটলো; স্বঘোষিত পুলিশমন্ত্রী মমতার পুলিশ-প্রশাসনিক দফতরের আগাপাশতলা বদলানোর মধ্য দিয়ে। এখানেই শেষ হলো? না, তা নয়। এখনও তৃতীয় রাউন্ড বাকি ছিলো। নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফার পাঁচদিন আগে থেকে মমতার আশীর্বাদপ্রাপ্ত বাকি সাঙ্গপাঙ্গদের গ্রেফতারি শুরু হলো। এই তিন থেকে পাঁচদিনের মধ্যে প্রায় ৩০০০ জন গ্রেফতার হলেন। অর্থাৎ, পশ্চিমবাংলায় স্বঘোষিত মুখ্যমন্ত্রী মমতার সামন্তশক্তি (পার্টি-পুলিশ-পঞ্চায়েত-সমবায়) ও মমতা-কেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী(পার্টি-পুলিশ-পঞ্চায়েত-সমবায় আমলাতন্ত্র ও পুলিশ-প্রশাসনিক দফতর) শাসনের গোটা কাঠামোটা ভেঙে পড়লো। এরাই আসলে অঞ্চলে অঞ্চলে মমতার হয়ে দেশিবিদেশি বড় পুঁজিপতি বা বিদেশি লগ্নি পুঁজির মধ্যে যোগসূত্র গড়ে তুলে জনগণের উন্নয়নে দিনরাত এক করে খাটতেন। যারই পরিণাম ছিলো আর.জি.কর থেকে হাঁসখালি মর্মান্তিক ঘটনাগুলো। এবং গ্রামে গ্রামে কৃষকের জমি লুঠ থেকে শহরে প্রমোটিং শিল্প, কাজের ছাঁটাই, চাকরি দেওয়ার নামে দুর্নীতি ইত্যাদি।

তবে এইসব ছিলো সাত মাসের অঘোষিত সরকার নির্বাচন কমিশনের বদল। পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে বদলের বদল ঘটলো উত্তর ও পশ্চিমভারতের বসবাসরত কেন্দ্রীয় বিজেপি যখন পশ্চিমবাংলার (পূর্ব ভারতের) অস্থায়ী-বসবাসকারী হয়ে উঠলো। নরেন্দ্র মোদি চরম গরমের সকালে সাল গায়ে দিয়ে গঙ্গা ভ্রমণে বেড়ালেন। অমিত শাহ ঝুলিতে করে বয়ে আনলেন, ইডি-সিবিআই-এনআইএ এবং পুলিশ-প্রশাসনিক দফতর ও প্রায় ২.৫০ লাখ আধাসেনা। পশ্চিমবাংলায় 'অনুপ্রবেশকারী'র কোটা পূরণ হলো। অবশেষে, ৯১ লাখ নাগরিক বাদ যাওয়াতে যা পাওয়া যায়নি এখন তা খুঁজে পাওয়া গেলো। এবং, ধীরে ধীরে অঞ্চলে অঞ্চলে আরএসএস ও বিজেপির ব্রাহ্মণ্যবাদী-সামন্তশক্তির উত্থান লক্ষ্য করা গেলো — মেদিনীপুর থেকে মালদা হয়ে হুগলী থেকে কলকাতা জুড়ে তৃণমূলের দামাল ভাইয়েরা বেধড়ক মার খেলো। বিজেপি সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনী পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এলো। পশ্চিমবাংলায় জন্ম নিলো এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় দেবগানের 'সিংঘম' রাজনীতি। গোটা সময় জুড়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার অবস্থা পরিবারের সব থেকে লোভী ও ভীতু বাপের মতন দেখাচ্ছিল। জোর যার ক্ষমতা তার, বাপের সম্পত্তিতে অধিকার তার, বাপ তার — ঠিক তেমনি হলো। তিন সন্তান; কেন্দ্র, রাজ্য ও জনগণ। বিচারব্যবস্থা নব্বই শতাংশই কেন্দ্রের পক্ষ নিলো, দশ শতাংশ রাজ্যে এবং জনগণের জন্য পড়ে রইলো শূন্য। শুভেন্দু অধিকারি থেকে দিলীপ ঘোষ, অমিত শাহদের বিজেপি সমগ্র রাষ্টশক্তি জোরে পশ্চিমবাংলা দখল করে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে সব থেকে নিম্নমানের ভীতু রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করলো। 

পশ্চিমবাংলার জনগণ, নাগরিকের সব থেকে ট্র্যাজেডিপূর্ণ অবস্থা হলো। পশ্চিমবাংলার কলকাতা-কেন্দ্রিক রাজনীতির মধ্যবিত্ত-মালিকেরা, স্বঘোষিত প্রগতিশীল ও বামেদের বড় অংশ কমেডি দেখালো — এস.আই.আর থেকে নির্বাচনের শেষের সময় পর্যন্ত। অনেক জনগণ যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের উত্থান ঘটিয়ে এস.আই.আর বাতিল থেকে নির্বাচন বয়কটের আওয়াজ তুললেন সেইখানে মধ্যবিত্তদের স্বঘোষিত প্রগতিশীল ও বামপার্টিগুলো নিত্য-নতুন 'তত্ত্ব' আবিষ্কার করলো। যেমন — 'স্বচ্ছ এস.আই.আর' থেকে ভোটের দিন 'কালা দিবস পালন'।(৯১ লাখ নাগরিক বাদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দফতরের সামগ্রিক শক্তি ও বিচার ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র এবং প্রশাসনিক — সর্বত্র শক্তিকে ব্যবহার করে বিধানসভা নির্বাচন সংগঠিত হলো। এই নির্বাচন 'বয়কট' করা কোনো বৈপ্লবিক দাবি ছিলো না। বরং, গণতান্ত্রিক ও মানবিক দাবিতে পরিণত হয়েছিল। অনেক শ্রমজীবী নাগরিকদের মুখেমুখে নির্বাচন 'বয়কট'-এর দাবি ঘুরছিল। কিন্তু, কোনো রাজনৈতিক দল তাঁদের পাশে না থাকায় অধিকাংশ নাগরিকেরা ভোট দিতে বাধ্য হলেন। এটা ইতিহাসে চরম ব্যর্থতা হিসেবে লেখা হবে। কিন্তু, যে এগিয়ে থাকা অংশ, ‘গণতান্ত্রিক’, 'প্রগতিশীল' রাজনৈতিক দলেরা এস.আই.আর বাতিলের দাবিতে আওয়াজ তুলেছিল অনেকেই ভোট কর্মী হয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করালো। কেউ আবার দল বেঁধে 'বয়কট'-এর বদলে 'কালা দিবস'-এর ডাক দিয়ে ভোট দিয়ে এলো। এটা ইতিহাসে নৃশংসকারী সুবিধাবাদের নোংরা পর্যায় হিসেবে লেখা থাকবে।) এসব জনগণের কাজে না লাগলেও শাসক শ্রেণিগুলোর কাজে লেগে গেলো। কলকাতা শহরে কিছু জায়গা জমায়েত ও জটলা পাকানোতে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া, বিভিন্ন বুথগুলোতে প্রতিবাদী-প্রতিরোধী উদ্যোগ ভেস্তে গেলো। ফলে, ক্ষমতার সব থেকে উপরে থাকা শ্রেণিগুলো চূড়ান্তভাবে লাভবান হলো। তিন ঘোষের এক ঘোষ(শতরুপ) টিভি স্টুডিও-র বাইরে বেড়ানো থেকে বঞ্চিত হলেন, দুই ঘোষ(কুণাল ও রুদ্রনীল) দুই ধরনের ফুল ফোটালেন, বিধানসভায় জায়গা পেলেন। এই উন্নয়ন সি.পি.আই.এমের হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার এনেছে, সেলিম থেকে সুজন ‘শূন্য’ থেকে ‘এক’ হয়ে বিজেপি সঙ্গে সাড়ে চার শতাংশ (ভোটের হার) পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করলেন। শুধু দুর্ভাগা লেনিন, মূর্তিতে ভাঙা পড়লেন। এই দেখে অনেকেই নচিকেতাকে খুঁজতে বেড়ালেন, যিনি মমতার মধ্যেই লেনিন দেখেছিলেন। লেনিনের মূর্তি ভেঙে পড়ার উপরে পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে এস.আই.আরের তৈরি করা ভোটার তালিকাটি স্বীকৃতি পেয়েছে, এন.আর.সি আরও পাকাপোক্ত হয়েছে। গণহত্যাকারী অমিত শাহদের রাষ্ট্রবাদী-শক্তির মডেল সাংবিধানিকভাবে জয়ী হলো, মমতার সইয়ের কলমের কালী সাড়ে চোদ্দ বছরে মাথায় ফুরিয়ে এলো। পাশপাশি, আবারও পরিষ্কার হলো যে, মাও সেতুং থেকে চারু মজুমদার তথা এদেশের বিপ্লবী-জনগণ কেন সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদকেই বিপ্লবের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মধ্যবিত্তের নেতৃত্বে থাকা নিয়ে বিপ্লবী-জনগণ কেন বারেবারে প্রশ্ন তুলেছেন। 

পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে বদলের বদল ঘটলো। এই নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে সব থেকে নির্মম ও রক্তক্ষয়ী হিসেবে লেখা থাকলো। আগে যে হিংসার অনুশীলন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে করতো, এখন তা কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেটাকেই আরও ভয়ানক হিংস্রতার রূপ দিলো। নির্বাচনে জেতার পরেও তারই প্রমাণ মিলছে। যে আধাসেনা বিজেপির হয়ে বুথ দখল করেছিল এখন তারা বুলডোজার নিয়ে মুসলমান নাগরিকের সম্পত্তি ভাঙছে, অনেককে মারছে। বিগত ছয় মাস ধরে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন নাগরিকের প্রাণ গেলো। শিশুও ধর্ষিত হলো। পশ্চিমবাংলার রাজনীতি ছন্নছাড়া, অ-সংগঠিত আঞ্চলিক ফ্যাসিবাদ থেকে আরও ভয়াবহ, কেন্দ্রীভূত ও সংগঠিত ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটালো। বিজেপি সদ্য জিতেছে, সরকার গঠন করেনি এখনও। ৯ মে সরকার গঠনের পর ‘ঝুলিয়ে মারা’র হুমকি এখন থেকে বাতাসে ভাসছে। নারী সুরক্ষা, জিহাদিদের থেকে সুরক্ষা, কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের থেকে সুরক্ষার অজুহাতে অঞ্চলে অঞ্চলে পুলিশি ক্যাম্প ও আর.এস.এসের মতাদর্শভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী(ছেলে ও মেয়েদের) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। সরকারি স্কুলগুলো আর.এস.এসের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিংস্রতার তালায় বন্দি হতে চলছে। অঞ্চলে অঞ্চলে এস.টি.এফ-এন.আই.এ-র ছোট ছোট ফাঁড়ি(আউট পোস্ট) তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে মালদহে ‘এস.আই.আর বিরোধী প্রতিরোধে’র ঘটনায় নেমে আসা দমনপীড়নের পর থেকে। পশ্চিমবাংলার নির্বাচনী রাজনীতি আরএসএসের 'এক দেশ এক পার্টি' ও 'এক দেশ এক ভোট'-এ অন্তর্ভুক্ত হলো, এই নির্বাচন সফলতা পাওয়ার মধ্য দিয়ে।

এখন বদলের বদল ঘটছে, আগামীতে আরও বেশি পরিমাণে ঘটবে। এই বদল সুস্থ সমাজের বিপক্ষে, আরও বাজের দিকে বইবে। শ্রমজীবী জনগণের দিকে কার নজর আছে? জনগণের প্রতি কাদের নজর থাকবে? জনগণ রাস্তার আন্দোলনে ক্রমশ উত্তাল হচ্ছে, আগামীতে আরও হবে। রাষ্ট্র বনাম জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং শাসক শ্রেণিগুলো বনাম শ্রমিক শ্রেণিগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হতে চলেছে। তা এই নিকৃষ্টমানের জঘন্য জনবিরোধী এস.আই.আর ও নির্বাচনী পদ্ধতি এবং এস.আই.আর বিরোধী আন্দোলন ভাঙতে রাষ্ট্রশক্তির অতিরিক্ত সক্রিয়তাই অনেকখানি বুঝিয়ে দিয়েছে। এমনি বাস্তবিক অবস্থা জনগণকে বিদ্রোহী করে তুলছে। জনগণ রাজনৈতিক বন্ধু ও শক্র চিহ্নিত করতে অনেকখানি দক্ষ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবাংলার জনগণ সমস্ত জনবিরোধী শক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বর্গদের ধীরে ধীরে চারিদিক থেকে ঘিরে নিচ্ছে। সর্বোপরি জনগণেরই শক্তি বাড়ছে, জনবিরোধী রাষ্টবাদী শক্তিরই শক্তি কমছে। সেইসব ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী মোদি-শাহ ও উদারবাদী এবং সুবিধাবাদী-সংশোধনবাদী মধ্যবিত্ত নেতৃত্বের দার্শনিক নজরের বাইরে। তাঁদের পশ্চিমবাংলার প্রকৃত বিদ্রোহী ইতিহাস সম্বন্ধে অজানা রয়েছে। এখানকার শ্রমজীবী নাগরিকদের জন্ম রাজনীতির গর্ভে এবং বড় হওয়া বিদ্রোহের কোলে। তাই এই বদলের বদল থেকে যে, ভালোর দিকে যাওয়া সম্ভব সেই আশা ব্যাপক পরিমাণে রয়েছে। মাও সেতুং বলেছেন, "প্রতিক্রিয়াশীলরা দেখে দেখে সব থেকে ভারী পাথরটাই তোলে নিজের পায়ে চাপানোর জন্য।" ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী শক্তির পশ্চিমবাংলা দখলকে এখন সেই ভারী পাথরে পরিণত করবার শপথ গ্রহণের সময় এসেছে।

0 Comments

Post Comment