কারণ একটাই, আমার যে অভিজ্ঞতা এই সংগঠনগুলোকে ভেতর থেকে দীর্ঘদিন দেখবার, সে অভিজ্ঞতাআর কারুর নেই। এবং তার সঙ্গে আজ যুক্ত হয়েছে আমার নতুন অন্তর্দৃষ্টি।আমেরিকায় চল্লিশ বছর বসবাস করে এবং সেখানে প্রায় তিরিশ বছর রাস্তায় নেমে রাজনীতি করার সুবাদে সে বিশ্বায়িত অন্তর্দৃষ্টি আরো প্রখর হয়েছে।
বুঝতে পারি এখন, কোন কোন ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা আজ আর গোপন, ব্যক্তিগত রাখা উচিৎ নয়। মানুষের প্রয়োজনে, দেশকে, পৃথিবীকে বাঁচানোর প্রয়োজনেই তা প্রকাশ করা দরকার।আমাদের পরের প্রজন্ম হয়তো অপেক্ষা করে আছে সেসব কথা শোনবার জন্যে।
আরএসএস নামক সংগঠনে মেয়েদের ভূমিকা চিরকালই গৌণ।
আমরা যখন গোয়াবাগান শাখায় তুমুল কাবাডি খেলে কলকাতা চ্যাম্পিয়ন, মানিকতলা, উল্টোডাঙা, দেশবন্ধু পার্ক, লালাবাগান এসব জায়গায় আমাদের টিম দেখলেই ওরা ভয়ে কাঁপে, তখন আমরা মেল্ মাচো। আমাদের হরিশ চোপরা, বিজয়-কৃষ্ণকান্ত
শ্যাম ব্রাদার্স, রামকানাই যামিনীরঞ্জন পাল বাড়ির রঞ্জন, আর তাদের সঙ্গে অধম এই পার্থ ওরফে বাবুয়া। ছোটদের কাছে রোল মডেল বাবুয়াদা।
সেই সময়ে হরমোন বইছে প্রবল বেগে। এবং তার সঙ্গে সঙ্গে বইছে নারীজাতি সম্পর্কে অবজ্ঞা মেয়েগুলো আবার মানুষ নাকি?
আমাদের কালীদার ছেলে শিবাজী আমার ভাইয়ের মতো, বন্ধু। ওরা তখন সুকীয়া স্ট্রীটে।মানিকতলা শাখার স্বয়ংসেবক। অর্থাৎ সদস্য। সদস্য পদ, খাতা বা চাঁদা অবশ্য নেই।কোনোকালেই ছিল না। ছেলেরা আসতো, যেতো।
কংগ্রেস বা কমিউনিস্ট বাড়ির ছেলেরা আমার কথায় শাখায় খেলতে আসতো, আর তারপর বাড়ির লোকেরা জানতে পারলে কান ধরে টেনে নিয়ে যেতো।আমার বইগুলোতে লিখেছি, আমি বোধহয় এমন এক উঠতি নেতা ছিলাম, যে আমাদের ওই অঞ্চলের সব কটা ছেলেকে একবার না একবার আমাদের গোয়াবাগান শাখায় ধরে নিয়ে গেছি।আমিও জানতাম না আরএসএস আসলে কী, আর ওরাও না যাদের বাড়ি কোনো রাজনীতি তেমন ছিলোনা, তারা থেকে যেতো অনেকেই।যাদের বাড়িতে কোনো একটা রাজনৈতিক দর্শন ছিল -- কংগ্রেস অথবা কমিউনিস্ট --তারা ছেলেদের বারণ করে দিতো।
আরএসএস সম্পর্কে হিন্দুত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ এসবের বাইরেও মারাত্মক ক্রিমিনাল রেকর্ডের অভিযোগ ছিল। তাদের নাথুরাম গডসে গান্ধীকে খুন করেছিল।চল্লিশের শেষে আর পঞ্চাশের প্রথমে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ছিল সোশ্যাল পারিয়া। ঘৃণ্য, পরিত্যাজ্য।
নাথুরাম গডসেকে সরাসরি আরএসএসের সদস্য বলে প্রমাণ করা যায়নি কোর্টে।তার প্রধান কারণ ওটাই -- ওদের কোনো মেম্বারশিপ রেকর্ড বা রেজিস্টার ছিলোনা।কোনো সদস্য চাঁদা ছিলোনা।
আমার দীর্ঘ প্রায় দু দশকের আরএসএস জীবনে আমি কোনওদিন কোনো চাঁদা দিইনি আরএসএসকে
শুধু গুরুদক্ষিণা নামক ট্যাক্স বহির্ভূত লক্ষ কোটি টাকা তোলার বার্ষিক ফান্ডরেজিং উৎসবে খামে টাকা রেখে তার ওপর নিজের নাম লিখে ওদের গেরুয়া পতাকার তলায় রেখে আসতে হতো।কিন্তু তার থেকেও প্রমাণ করা সম্ভব নয় কে অফিসিয়াল সদস্য, আর কে নয়।এই দারুণ সহজ অথচ বুদ্ধিমান খেলাটা আরএসএস চিরকাল খেলে এসেছে।
নাথুরাম গডসে ফাঁসিকাঠে চড়ার আগে আরএসএসের দৈনিক সংস্কৃত প্রার্থনা "নমস্তে সদাবৎসলে মাতৃভূমে" আবৃত্তি করেছিল। সরকারি রেকর্ডেই সে কথা আছে।কিন্তু তাও প্রমাণ করা সম্ভব নয়, সে খাতায় কলমে আরএসএস কিনা।
এসব কথা আমাকে কেউ কখনো বলে দেয়নি। আমাদের মেজেনাইন ফ্লোরের ফ্ল্যাটে রামকৃষ্ণদেব, মা সারদা বিবেকানন্দের ছবির বদলে থাকতো হেগডেওয়ার আর গোলওয়ালকারের ছবি।এই ছবি যাদের বাড়িতে থাকে, তারা কোনো প্রশ্ন করেনা। চ্যালেঞ্জ করতে শেখেনা।তাদের তেমন কোনো পড়াশোনা নেই। ইতিহাস জ্ঞান নেই।
আমাদের হাডুডু খেলার বন্ধু হরিশ রঞ্জন বিজয় শ্যামের বাড়িতেও কেউ কোনো প্রশ্ন করতো না।সবই ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের বাড়ি। তারা ইতিহাস পড়তো না।পরীক্ষা পাশের পড়ার বইয়ের বাইরে কোনো বইই পড়তো না।হিন্দিভাষী ছেলেরাই আরএসএসের শাখায় দাপট দেখিয়ে বেড়াতো।ওই দু একজন পার্থ ব্যানার্জী কিংবা শিবাজী বসু ছিল। তাদের অবস্থা ছিল ত্রিশঙ্কুর মতো।এদিকে স্কুলে কলেজে তাদের বন্ধুরা সব লিবারাল লেফট ফ্যামিলি থেকে আসছে।তারা ইন্দিরা গান্ধী মার্ক্স লেনিন নিয়ে কথা বলছে।মৃণাল সেনের কলকাতা একাত্তর, ইন্টারভিউ, আকালের সন্ধানে নিয়ে আলোচনা করছে তুমুল।ক্রিকেট ফুটবল খেলছে। আমরা তাদের সঙ্গে মিশছি, আমরাও সত্যজিৎ মৃণাল ঋত্বিক দেখছি।পাতৌদি জয়সীমা সোলকার বেদী আর এদিকে চুনী বলরাম পিকে সুধীর কর্মকার করছি। আর এদিকে আবার আমাদের শাখার সেই অবধারিত দৈনিক একঘন্টার মধ্যে সেসব কিছু ভুলিয়ে দেওয়ার নিরন্তর ব্রেনওয়াশিং চলছে।
আমাদের শেখানো হচ্ছে, নজরুল ইসলাম মুসলমান, জওহরলাল নেহেরু নাস্তিক এবং হিন্দুবিদ্বেষী, ইন্দিরা গান্ধী অত্যাচারী কখনো কেউ বলছে না আমাদের নাথুরাম গডসে গান্ধীকে খুন করেছিল, আমাদের "পরম পূজনীয় গুরুজী" গোলওয়ালকার এবং তার ইডিওলজিক্যাল মেন্টর "বীর" সাভারকার হিটলারের পুজো করে এসেছে চিরকাল।
আমাদের আরএসএসের শীতকালীন ক্যাম্পে ভোর পাঁচটায় খড়ের বিছানা থেকে উঠে হিহি করে কাঁপা শীতে সংস্কৃত প্রার্থনা এবং প্রাতঃস্মরণ পর্বে কখনো কোনো মুসলমানের নাম নেওয়া হয়না, খ্রিস্টানের নাম নেওয়া হয়না। আরএসএস জনসঙ্ঘ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবিভিপি --এই চারটে প্রধান ব্র্যাঞ্চের সঙ্গেই আমি এবং আমার বাবা জিতেন্দ্রনাথ যুক্ত ছিলাম।জিতেন্দ্রনাথ আজীবন, আমি দু দশক।কখনো শুনিনি আব্দুল করিম খাঁ, বড়ে গুলাম আলী খাঁ, আলী আকবর, আলাউদ্দিন খাঁর নাম।আরএসএসের সৃষ্ট ভারতের মানচিত্র থেকে যেমন মুসলমান নবাবদের নাম, তাঁদের কয়েক শো বছরেরশাসনকালকে কেবলমাত্র বিদেশী লুন্ঠনকারী হিন্দুধর্ম ধ্বংসকারী নারীলোলুপ বিধর্মী বলে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, তেমনি তাদের অসংখ্য বক্তৃতা, আলোচনা, বৌদ্ধিক থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতেই জন্মানো এবং ভারতকে গর্বিত করা মুসলিম সংগীতশিল্পী, খেলোয়াড়, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম।
ও হ্যাঁ, স্বাধীনতা সংগ্রাম।
আমার বাবা জীতেন্দ্রনাথের লেখা কয়েক পাতার সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী, যার বিরাট অংশই জুড়ে আছে আরএসএস, সেখানে তিনি লিখেছেন কাশী অর্থাৎ বেনারসে আটত্রিশ সালে তাদের "গণবেশ" পরিহিত মিলিটারি স্টাইল রুট মার্চ দেখেই তিনি তাদের প্রতি প্রথম আকর্ষিত হন। আমিও হয়েছিলাম। এতো বেশি হয়েছিলাম যে নিজেই সে পথসঞ্চলনে পরে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছিলাম সাইড ড্রাম বাজাতাম বাবার দেখাদেখি। তারপর মিলিটারি বাঁশি বাজানোর অনুশীলন। আর কিছুদিন লেগে থাকতে পারলে একদিকে বিজেপির এমপি হওয়া, আর একদিকে আরএসএসের প্রধান ব্যান্ড মাস্টার হওয়া ছিল শুরু সময়ের ব্যাপার।
বাবাকে কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি, আটত্রিশ সালে যখন সারা ভারতে তীব্র ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী সংগ্রাম ও লড়াই চলেছে, যখন একদিকে ভগৎ সিং শুকদেব রাজগুরু, আর অন্যদিকে এই বাংলায় তিরিশের দশকে বিনয় বাদল দীনেশ সূর্য সেন প্রীতিলতা, যখন মিটিং মিছিল সমস্ত নিষিদ্ধ, তখন আরএসএস কীভাবে প্রকাশ্যে মিলিটারি ইউনিফর্ম পরে রুট মার্চ করতে পারে? এসব প্রশ্ন করার মতো বৌদ্ধিক প্রস্তুতি আমার ছিলোনা। নিরানব্বই শতাংশ সংঘীর থাকেনা।
আরএসেসে পুরুষ ও নারীর সহাবস্থান, বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ। সেই সেকালেও নিষিদ্ধ ছিল, আজও তাই।এরকম প্রাগৈতিহাসিক পুরুষতান্ত্রিকতা জামাত ইসলামী, আল কায়েদা জাতীয় সন্ত্রাসী অথবা উগ্রপন্থী
ধর্মান্ধ সংগঠনেই কেবল দেখা যায় আজকের দিনে। আরএসএসও তার ব্যতিক্রম নয়।
কলকাতা হাই কোর্টের অ্যাটর্নি পশ্চিমবঙ্গ আরএসএসের প্রধান এক নেতা কালিদাস বসুর স্ত্রী প্রতিমা দেবী কলকাতায় প্রথম রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি শুরু করলেন মহারাষ্ট্রের লক্ষ্মীবাঈ কেলকারের পদাঙ্ক
অনুসরণ করে। আমার মা এসব থেকে শতহস্ত দূরে থাকতেন।কংগ্রেস বাড়ির মেয়ে, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আধুনিকতা তাঁর রক্তে।স্বামী দুঁদে আরএসএস প্রচারক জীবন থেকে সদ্য অবসর নেওয়া অ্যাকটিভিস্ট।নিজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নেই, গরীব পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণে লেখাপড়াও বেশি শেখ হয়নি।কিন্তু তিনি এই সব প্রাগৈতিহাসিক পুরুষতান্ত্রিকতার উগ্রপন্থী দর্শনকে অন্তর থেকে অপছন্দ করতেন বিশেষ করে অপছন্দ করতেন বাঙালি বিদ্বেষী গোঁড়া রক্ষণশীল ভেজিটেরিয়ান মারাঠি লোকগুলোকে।তিনি বুঝতেন, এরা বাঙালিদের ভুলিয়ে ভালিয়ে মিষ্টি কথা বলে মগজধোলাই করছে।স্বামীকে মগজধোলাই করে আর সারাজীবন এক্সপ্লয়েট করে তাঁকে দরিদ্র জীবন যাপন করতে বাধ্য করেছে। আমার মা পৃথা কখনো চান নি আমিও সেই চোরাবালির শিকার হই।
আমি কিছু না জেনে, না বুঝেই কিন্তু সেই চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছিলাম।সেসব দিনের কথা আমি লিখে রেখেছি আমার দেশের স্মৃতিকথা "ঘটিকাহিনি" বইতে।
আরএসএসের বাঙালি ছেলেরা ছিল পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া।মাঠে মারাঠি নেতার ভাঙা ভাঙা বাংলায় অর্থহীন বক্তৃতা শোনার সময়ে ওরা এবং আমিও আক্ষরিক অর্থেই মাটিতে বসে ঘাস চিবোতাম। বক্তৃতা শেষ হলো। প্রশ্ন করা নিষেধ।এমন কি হাততালি দেওয়াও নিষেধ।বন্ধ দরজার পিছনে অন্ধকার ঘরে বল্লাল সেন তৈরী করার কারখানা। কিংবা কু ক্লাক্স ক্ল্যান।
কিংবা হিন্দু তালিবান।
মাটির ময়না সিনেমায় যেমন আছে অন্ধকার ঘরে মৌলবাদী গোঁড়া ইসলামী মোল্লাদের গল্প।দেখতে দেখতে মনে হয়, আরএসএসের সঙ্গে কী ভীষণ আশ্চর্য মিল!
রামচন্দ্র সহস্রভূজনী -- আরএসএস প্রচারক -- মহারাষ্ট্র থেকে বাংলায় এসেছিলেন।ঠিক যেমন অন্যরাও আসতেন।বাংলার সংগীত, সাহিত্য, সংস্কৃতি, নাটক সিনেমা চারুকলা সম্পর্কে কোনো ধারণাই তাঁর ছিলোনা।তিনি আমাদের কল কল ছল ছল বহতী ক্যা কহতি গঙ্গাধারা গান শেখাতেন।আর এক রামচন্দ্র আমাদের গোয়াবাগান প্রভাত শাখার প্রধান এক সিন্ধি ফান্ডার। তাঁর বাড়িতে অনেকবার গেছি। ঠিক যেমন গেছি গোয়াবাগান পার্কের হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সাততলা বাড়ির মালিক সোমানীজির বাড়িতে। বাড়ির মেয়েদের কখনো দেখিনি বললেই চলে। অন্তঃপুরের কনসেপ্ট আরএসএস সার্কেলে যেমন দেখেছি, তেমন আর কোথাও নয়।
মেয়েদের স্থান আরএসএস সার্কেলে যেমন একেবারেই গৌণ, আরএসএস পরিবারেও ঠিক তাই।আমি অসংখ্য স্বয়ংসেবক পরিবারকে খুব কাছ থেকে চিনতাম।আমি তাদের বাড়িতে যেতাম, মিটিং করতাম, আড্ডা দিতাম।প্রচণ্ড বৃষ্টির দিনে বড়লোক আরএসএস পরিবারের বাড়ির কোনো ঘরে বাধ্যতামূলক আরএসএস শাখা বসতো। আউটডোর খেলাধুলোর অভাবে ইনডোর খেলা হতো। গান হতো। বক্তৃতা হতো।
কোনোদিন আরএসএস ক্যাম্পে বা শাখায়, বা কোনো মিটিঙে ভারতের নারীদের নিয়ে একটা বক্তৃতা শুনিনি। ঠিক যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে শুনিনি।
সাভারকারের ব্রিটিশ সরকারের কাছে একাধিকবার মুচলেকা দিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসার কথাও শুনিনি। আর নেতাজী সুভাষচন্দ্র সম্পর্কে একটা কথাও কখনো শুনিনি।
একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছরে আমি ছিল নেতা তৈরী করার আল্টিমেন্ট সঙ্ঘ শিক্ষা বর্গ বা অফিসার্স ট্রেনিং ক্যাম্পে বর্ধমানে। এক মাসের ক্যাম্প।প্রতিদিন যেমন শরীরচর্চা হতো, তেমনি হতো বৌদ্ধিক চর্চা।শিবাজী রাণা প্রতাপ রামদাস তুকারাম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শুনেছি।কিন্তু সুভাষ বসু, গান্ধী, সূর্য সেন, ভগৎ সিং, ক্ষুদিরাম প্রফুল্ল চাকি নিয়ে একটাও কথা কখনো শুনিনি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়ঙ্কর রক্তাক্ত বছরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা আলোচনাও একাত্তরের এক মাসের ক্যাম্পে আমি শুনিনি।
এবিভিপি সার্কেলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করা হতো। তার একটাই কারণ -- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, পূর্ব পাকিস্তানের রেপিস্ট ও খুনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দু বাঙালির বিজয়।
আর পাঁচটা বিশাল ইতিহাস বিকৃতির মতোই এটাও আমার নিজের চোখে দেখা এক ইতিহাস বিকৃতি। যা এখন এক শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে ওরা।