পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

একজিট পোল - কী করণীয়

  • 03 June, 2024
  • 0 Comment(s)
  • 597 view(s)
  • লিখেছেন : অনিকেত চট্টোপাধ্যায়
বাম, কংগ্রেস, তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টরা সাবধান। এই একজিট পোল দেখে দান ছেড়ে দিলে মুশকিল, তাহলে আগেই হেরে যেতে হবে। এই একই কথা রাজ্যের বাইরে অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

একজিট পোলের নেত্যও শেষ হয়েছে। কী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, মোট আসনের থেকেও বেশি আসন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি, সেখানেও জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে এইরকম বেশ কিছু উদাহরণ আমাদের সামনে। আপনারাও ইতিমধ্যে দেখেছেন। এই একজিট পোলের হিসেব আমাদের সঙ্গে মিলে গেলে তো এ কথা বলতাম না, তখন জয়ের গন্ধ পেয়ে সেলিব্রেশনের অপেক্ষায় থাকতাম। মেলেনি, কাজেই আপাতত জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে কিছু কথা বলা যাক।

খেলার শেষ ঘুঁটিটা না চেলে দান ছেড়ে দেবো না, এটাই হল মোদ্দা কথা। এখন এই পূণ্যভূমির হায়না সদৃশ ঘাঘু দেবশিশু কিছু পন্ডিতেরা বলবেন সে কি তুমি কি এই খেলার শরিক নাকি? নিশ্চই শরিক, আলবাত শরিক। যে দেশের প্রশাসকের শাসনকালে দেশের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ১৮০ টা দেশের মধ্যে ১৫৯ নম্বরে গিয়ে ঠেকে, মুখ খোলার আগে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, যে দেশের সাংবাদিকদের বিরোধিতা করার জন্য, স্রেফ বিরোধিতা করার জন্য জেলে পুরে দেওয়া হয়, সেই ফাসিস্ট শাসকের রাজত্বে নিরপেক্ষতার নামাবলি চড়িয়ে ‘গায়ে আমার পুলক লাগে চোখে ঘনায় ঘোর’ তো হবার কথা নয়, তাই পক্ষ নেবো, দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে পক্ষ নেবো বৈকি। আর ঠিক তাই দান ছেড়ে দেবো না, নো পাসারন। কাদের হয়ে লড়ছি? এই তৃণমূল, বাম কংগ্রেসের জন্য? এদের কারোর কাছে এক পয়সার ধার ধারিনা, এই সব দল আর তাদের সরকার খুব মহান আর মানুষের জন্য বলিপ্রদত্ত, তাও মনে করি না, কিন্তু তারা তো আমাদের দেশের মানুষ আর সমাজের জন্য এই বিষ ছড়ানোর কাজ করছে না, তারা তো দেশের সংখ্যালঘু মানুষজনদের দেশের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বলে মনে করে না, তারা তো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে পালটে দিচ্ছে না, তারা আমি কী খাব, মাছ না মাংস, মাংস খেলে কিসের মাংস, সেটা ঠিক করে দিচ্ছে না। মানে মোদ্দা কথা হল দেশের বাকি সমস্ত বিরোধী দলগুলোর থেকে বিজেপি আলাদা, তারা ভয়ঙ্কর, তারা দেশকে সমাজকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চায়,  তাই আমি এবং আরো বহু মানুষ্‌ সুস্থ উদার গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক মানুষ, তাদের বিরুদ্ধে। তাই পক্ষ নেবো, আজ যদি না নিই তাহলে আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করবে দেশ যখন রসাতলে যাচ্ছিল, তখন তুমি, আপনি নিরপেক্ষতার নামাবলি জড়িয়ে আসলে কাকে সাহায্য করছিলে? করছিলেন? সেই জন্যই একজন সাংবাদিক হিসেবেও আমি পক্ষ নিচ্ছি।

আবার সেই মোদ্দা কথায় ফেরা যাক, একজিট পোল বের হবার সঙ্গে সঙ্গেই দুটো তিনটে কথা বাজারে ভাসছে,

এক) আবার ইভিএম এর কারসাজি।

দুই) আসলে ইলেকশন কমিশন লক্ষ লক্ষ ভোট বাড়িয়েছে, তা ইভিএম এ ঢোকানো হয়েছে। কেন উঠছে এই কথা? কারা বলছেন এই কথা? আমরা বলছি, যারা আমরা ঐ আর এস এস – বিজেপির বিরোধী, যারা আমরা এই ফলাফল আশাই করি না।

এখন তিনটে বিষয় হতে পারে, প্রথমটা হল ঐ ইভিএম তত্ত্ব, এক্সট্রা ভোটের তত্ত্ব, অন্যটা হল এই একজিট পোল আপন মনের মাধুরী মিশায়ে রচিত আর তিন নম্বর সম্ভাবনা, মানুষ এই ভোট দিয়েছেন। প্রথমে আসুন ঐ ইভিএম তত্ত্ব নিয়ে কথা বলি, না আমাদের দেশে ইভিএম ট্যাম্পারিং করা সম্ভব নয়। কেন আমাদের দেশে বললাম? কারণ আমাদের দেশের ৫৪৩ টা কনস্টিচুয়েন্সিতে কতজন দাঁড়াবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়,আলফাবেটিক্যালি কোন সিরিয়ালে তাদের নাম বা চিহ্ন থাকবে তাও আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। ফ্যাক্টরি থেকে ইভিএম নিয়ে রিজিয়ন, তারপরে স্টেট, তারপরে রিজিয়ন, পরে জেলাতে পাঠানো হয়, যেখানে সেই মেশিনে প্রার্থীর নাম, চিহ্ন ইত্যাদি বসে। কবে? প্রার্থীপদের নাম প্রত্যাহারের পরে। সেই নির্বাচনও হয় দেড় দু মাস ধরে, এক বা দুদিনে নয়। মানে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পরে হাতে সময় কমবেশী ২০ দিন। তারমধ্যে ১০ টা আসনের আসনপিছু কমকরে ২১ হাজার মেশিনকে আলাদা লাদা করে প্রোগ্রাম করা টেকনিক্যালি সম্ভব নয়। তাহলে আমেরিকা কেন ইভিএম থেকে ব্যালটে গ্যালো? কারণ তাদের প্রার্থী দুজন, চিহ্ন দুটো, বহু আগে থেকেই তা জানা যায়, তাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দুই প্রার্থীর জন্য একই সময়ে দেশ জুড়ে, তাই বেশ কঠিন হলেও তা প্রোগ্রামিং সম্ভব, তা ম্যানুভার করা সম্ভব। আমাদের সম্ভব নয়।

দু নম্বর তত্ত্ব হল নির্বাচন কমিশন লক্ষ কোটি ভোট বাড়িয়ে দিচ্ছে, সেটাও সম্ভব নয় কারণ প্রত্যেক বুথে রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের কাছে টোটাল ভোট পোলড, তার মধ্যে মহিলা কত, পুরুষ কত ইতাদি সমস্ত তথ্য থাকে, তা লক করা হয় এবং আবার একজন কাউন্টিং এজেন্টের সামনে পেপার সিল নম্বর মিলিয়ে তা খোলা হয়, টোটাল পোলড ভোট সংখ্যা মেলানো হয়। কাজেই ইলেকশন কমিশন চাইলেন আর লক্ষ কোটি ভোট ঢুকিয়ে দেওয়া হল তা সম্ভব নয়, এটা রেশনের ব্যাগ বা আনাজের থলি নয়। ওসব কন্সপিরেসি থিওরি বাদ দিয়ে ৪ তারিখ রাজ্যের সমস্ত বাম, কংগ্রেস, তৃণমূল পোলিং এজেন্ট দের যা করতে হবে সেটা বলে নিই। প্রথমে রাজনৈতিক দল্গুলোকে ঐ পোলিং এজেন্টের কাছ থেকে পাওয়া ফর্ম সেভেনটিন সি, কাউন্টিং এজেন্টদের বুঝিয়ে দিতে হবে। এই ফর্ম সেভেনটিন সি তে কী আছে? মোট কত ভোট পড়েছে, ইভি এম মেশিনের সিরিয়াল নম্বর আর পেপার সিল নম্বর। আগে সিল নম্বর মেলাতে হবে, তারপরে ইভি এম অন করলেই দুটো জিনিস দেখতে হবে। ১) কারেন্ট ডেট  আর টাইম দেখাবে, দু পাঁচ মিনিট এদিক ওদিক হতে পারে। না থাকলেই গোনা শুরু করতে দেওয়া যাবে না। মানে ৪ জুনের বদলে যদি তারিখ ৩ জুন বা ৪ জুন সকাল ৪ টে হয়, তাহলে সেই ইভিএম কাউন্ট করা যাবে না। ২) মেশিনের  সিরিয়াল নাম্বারটা মিলিয়ে নিন। তারপরে বোতাম টিপলেই মোট কত ভোট পড়েছে তা মিলিয়ে দেখে নিন, না মিলিলে গুনতে বাধা দিন। সেই সময়েই ডেট অফ পোল দেখা যাবে, মানে দক্ষিণ কলকাতা হলে সেখানে ১/০৬/২০২৪ লেখা থাকবে। এবারে কে কত ভোট পেল তা নোট করুন, তার সঙ্গে নোটার ভোট জুড়ে মোট ভোট আবার মিলিয়ে নিন। মানে এই একজিট পোলে হেরেই গেছেন মনে করে দান ছেড়ে দিয়ে আসবেন না, সেটা একটা ষড়যন্ত্র হতেও পারে। কাজেই এই একজিট পোল যদি আপন মনের মাধুরী মিশায়ে রচনা করে বিরোধী প্রার্থীদের আগে থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা হয়, তাকে রুখুন। শেষ সম্ভাবনা হল সত্যি মানুষ এই রায় দিয়েছে, তো এরকম হওয়াও তো অসম্ভব নয়, হিটলার তার রাজত্বকালে ৫ টা ভোট করিয়েছিলেন, পরের তিনটে নির্বাচনে সত্যিই জার্মানির খ্রিস্টান মানুষজন ঝোলা উপুড় করে হিটলারকে ভোট দিয়েছিলেন, সেরকম এখানেও হতে পারে। তাহলে কীং কর্তব্য। নো পাসারন, তাহলেও দান ছাড়বোনা, কিন্তু তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে পরে। 

ইউ টিউব সূত্র-   https://youtu.be/N8q29OQv46E?si=aQIM0CcLEifntRse

0 Comments

Post Comment