পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

সাত রকমের শত্তুর

  • 21 June, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 412 view(s)
  • লিখেছেন : হুতোম প্যাঁচা
দেশের হাল মোটে ভাল নয়। তাই হুতোম এ যাত্রা দেশের শত্তুরদের সমন্দে সকলকে সাবধান করে দেবেন ঠিক কল্লেন। এনাদের দেকলেই সরকার বাহাদুর চটে লাল হন। বাবু বিবিরো তফাতে থাকবেন।
 
 
দেশের হাল মোটে ভাল নয়। তাই হুতোম এ যাত্রা দেশের শত্তুরদের সমন্দে সকলকে সাবধান করে দেবেন ঠিক কল্লেন। এনাদের দেকলেই সরকার বাহাদুর চটে লাল হন। বাবু বিবিরো তফাতে থাকবেন।
 
স্টুডেন্ট: এরা হচ্চে পয়লা নম্বরের শত্তুর। পাঁচটি বইয়ের পাতা না উল্টোতে এরা প্রশ্ন কত্তে শিকে যায়। অভ্যেসটি বিলক্ষণ মন্দ। ক্লাস ঘর পার হয়ে মাঠে ময়দানে সওয়াল জবাব করে বেড়ায়। মাষ্টার ছেড়ে প্রধান সেবককে প্রশ্ন কত্তে আরম্ভ করে। একন চাদ্দিকে কোরোনা তাই রক্ষে। নইলে দিল্লী বোম্বাই কলকেতা বাঙ্গালোর লখনৌ পটনা হায়দরাবাদ ভরে পথের উপর গান কোবতে ছবি স্লোগানে নাহক হুজ্জত কচ্ছিল। লকডাউন হতেই সরকার বাহাদুর ব্যাঙের মাছি ধরার মতন কপাৎ কপাৎ করে ধরচেন আর হাজতে ভরচেন। এদিকে দাঙ্গা ওদিকে যুদ্ধু সেদিকে বিষ্টি সকলই স্টুডেন্টরা ষড় করে করেচে। অতেব পাকড়াও করা বেজায় সোজা। একটি বার ধত্তে পাল্লে আর ছাড়ার বন্দোবস্ত নেই। অসুখ করুক কি পেটে সন্তান থাকুক। স্টুডেন্ট মানেই হল টেররিস্ট। অতেব পেটের সন্তানটির প্রিভেনটিভ ডিটেনশন হচ্চে। একই ঢিলে দুটি পাখি।
 
ঠ্যাঁটা রিপোর্টার: ত্রেতা দ্বাপরে কুকুরের লেজ ছিল। ঘোর কলিতে হয়েচে ঠ্যাঁটা রিপোর্টার। রিপোর্টিং করে যে বাবু বিবিদের ঘরে ঘরে ভক্ত সমাগম হয়েচে তেনাদের দেকে এ ঠ্যাঁটার দল শিকতে পারে না। রাম রাজত্বে সংবাদের মানে কী তা এদের ঘটে ঢুকচে না কিচুতে। গরীব গুরবো ফালতো লোকের খবর লিকে বেড়িয়ে ভাবচে ভারী কাজ কল্লেম। দেশে গরীব আচে সে কতা সকলে জানে। পাঁচ কান কত্তে আচে? দেশের মান সম্মান নেই নাকি? বলি পাকিস্তানে ভাববে কী? এসব ল্যাঠা চুকিয়ে দিতে দলে দলে সাংবাদিক খ্যাদানো হচ্চে দেকেও এ রিপোর্টারদের শিক্ষে হয় না। পাবলিকের ইন্টারেস্টে সরকার বাহাদুর এদের এগেনস্টে এফ আই আর কত্তে লেগেচেন। এম্নি কেরামতি না কল্লে কে বা জানত এস সি এস টি লোক খেতে পাচ্চে না লিকলে এস সি এস টি অ্যাক্টো অনুসারে সেটি অপরাধ হয়? বাবুরো কেবল পাঁচো ইয়ার সরকার বাহাদুরের বাপান্ত করেন। এই কাজগুলি চোকে দেকতে পান না। এমন পাপ ধম্মে সইবে না।
 
পরিযায়ী শ্রমিক: এদের মতন বালাই দুটি নেই। পথে মত্তে মত্তে সরকার বাহাদুরের গলার কাঁটা হয়েচিল। শেষে বড্ড বেশি মরচে দেকে পরাণ কাঁদায় সরকার বাহাদুর ট্রেনে তুলে দিলেন। অমনি এরা ছোট সরকারের গলায় গিয়ে বিঁধলে। কাল অবধি যারা দাবী কচ্ছিলেন দুখখী মানুষগুলিকে ঘরে আনার বেওস্তা কত্তে হবে। তেনারাই রেগে গাল পাড়তে লাগলেন। বল্লেন ট্রেন ভত্তি করে সরকার বাহাদুর আমাদের ঘরে কোরোনা ঢোকাচ্চেন। ওদিকে ট্রেনগুলি বাবু বিবিদের ব্যাডমিন্টন খেলার ককের মতন ত্রিশ চল্লিশ ঘন্টা যাবৎ এদিক সেদিক কত্তে লাগল। ভিতরে মজে হেজে মরে যাওয়া শ্রমিকরা জানতে পাল্লে না কোন ফাঁকে তবলিগি জামাতকে টেক্কা দে তারাই কোরোনার এক নম্বর ক্যারিয়ার হয়ে পল্লে। তারা কেবল শুনলে বাবুরো পিরীতের চোটে তাদের ডানা লাগিয়ে ভিন দেশের পাখিদের দলে ভিড়িয়ে দিয়েচেন। ইংরেজিতে মাইগ্র‍্যান্ট লেবারার আর বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিক।
 
চায়না মাল: বিশ জন জওয়ানকে চীনেরা সেরেফ পিটিয়ে মেরে ফেল্লে। তাদের শায়েস্তা কত্তে সরকার বাহাদুর মাতা চুলকানোর অবসরে বাবুরো উতলা হলেন। তেনারা ফ্রন্টে গেলে দেশে অর্থনৈতিক মন্দার উপরি দেশভক্তের মন্দা দ্যাকা দেবে। এদিকে চীনে ব্যাটাদের টাইট দেওয়া কর্তব্য হয়। তাই চায়না মাল ত্যাগ করার বেওস্তা হল। দু তলা দালানের উপর হতে সাধের টিভিটি উঠোনে বিসর্জন দেওয়া হল। ভক্ত ইয়ার বকশি শাওমিকে লাঠিপেটা করে শি জিনপিংকে ঠান্ডা কল্লেন। চাউমিন রাঁধার আগে বাড়ীর জানালা দরোজা বন্দ করা দস্তুর হল। সোশাল ডিস্ট্যান্সিং মানতে চুমু খাওয়া বন্দ ছিল। একন চীনেবাদাম খাওয়া বন্দ হতে ব্রেক আপের হিড়িক পল্ল। এম্নি ত্যাগের পাল্লায় পড়ে চীনেরা পালাতে পথ পেলে না।
 
রাহুল গান্ধী: বাবুটি পঞ্চাশ পার কল্লেন তবু ক্লাসে বসা ছাড়লেন না। কেবল পণ্ডিতদের ধরেন অমুক চ্যাপ্টারটি পড়িয়ে দিন। তমুক কাণ্ডটি হচ্চে কী উপায় বলে দিন। দেশের উন্নতির পথ কী? দুনিয়ায় যা হচ্চে তা হচ্চে কেন? দিন রাত্তির এটা সেটা শুধোচ্চেন। কোরোনা ড্যাং ড্যাং করে সিটি বাজিয়ে ঘুরে বেড়াচ্চে। ইকোনমি বেহাল। চীনেরা বাঁদরামি কচ্ছে। নেপাল মুখ ভ্যাংচাচ্ছে। এ সওয়ায় রাহুল গান্ধীর পদত্যাগ করে ইতালি চলে যাবার কতা ছিল। গোঁসাইয়ের প্রাইম টাইম বিলক্ষণ জমে যেত। তা না করে রাহুলবাবু কেবল অলক্ষুণে কতা বলচেন। দেশের এমন শত্তুর আর নেই।
ইরফান পাঠান: ইনি অ্যাদ্দিন দেশের হয়ে ঝিঁঝি খেলেচেন। তাবড় খেলোয়াড়দের দেকে কিচ্ছুটি শিকতে পারেননি। বাউন্ডারির বাইরে নট ইন সেভেন নট ইন ফাইভ হয়ে থাকলে জীবনটি কী তোফা হয় ইরফানবাবু বুজলেন না। মার্কিন মুলুকের কালো মানুষদের জন্যি দেশের লোকের হাপুস নয়নে কান্না দেকে তিনি আবার বলতে গ্যাচেন, লোকের ধম্ম দেকে বাড়ি ভাড়া না দেওয়াও একরকম রেসিজম। শাস্তরে বলেচে অপ্রিয় সত্য বলতে নেই। সে কতা ইরফানবাবু জানেন না। দেশভক্তরা অবিশ্যি তেনাকে শিক্ষে দেবার দায় নিয়েচেন। এমন ধারা শত্তুরকে ছেড়ে দেওয়া ভাল কাজ হয় না।
 
রামচন্দ্র গুহ: বাবুটি ভারী ধূর্ত। নামের গোড়ায় রাম বসিয়ে রেকেচেন আবার ভিন দেশে নাম করেচেন। তাই হাজতে পোরা সুবিধে হচ্চে না। সেবকবাবুর নোবেল পীস প্রাইজ পাছে ফস্কে যায়। মওকা পেয়ে গুহবাবু পাবলিককে গান্ধী নেহরু শোনাচ্চেন। সে তবু হজম হয়। সায়েব কমুনিষ্টের লেকা তুলে বাংলাকে শিক্ষিত আর গুজরাটকে ধনী বলবেন এ বা কি কতা? ছোট সরকার বড় সরকার মিলে তেনাকে শায়েস্তা কত্তে নেমে পল্লেন। ধনী হলে ক্ষতি কী সে কতা ভিন্ন। কতা হচ্চে ম্যাপের কাশ্মীর হতে কন্যাকুমারী অবধি সমস্তই যে একন গুজরাট সে কতা যদি না-ই বুজলেন তো গুহবাবু ছাই লেকাপড়া কল্লেন অ্যাতকাল। অমন ডিগ্রী মিনিস্টাররা কত পেয়েচেন। নেহাত আর টি আই কল্লে খুঁজে পাওয়া যায় না। নইলে দেকিয়ে দেওয়া হত শত্তুরচন্দ্র গুহকে।
0 Comments

Post Comment