ঘন কালো মেঘে আকাশ ছাওয়া। সেখানে ছিটেফোঁটা আলো নেই। মন খারাপ হয়ে গেল। জানলা বন্ধ করে বিছানায় ফিরে এলাম।
গতকাল সুমনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। আজ সকাল দশটায় সে আমার বাড়ি আসবে। তারপর আমরা দুজনে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ব। রেল স্টেশন টপকে সুগন্ধ্যা মোড় পেরিয়ে যতদূর যাওয়া যায়, যাব। চায়ের দোকানে বাঁশের বেঞ্চে বসে চা খাব। ঘুঘনি আলুর দম, তার সঙ্গে হাতেগড়া রুটি বা পরোটা পাওয়া গেলে দুপুরের পেট ভরাব। বড় বড় আমগাছে ভরা বাগানের ছায়ায় চাদর বিছিয়ে শুয়ে গল্প করব। আমাদের দুজনেরই অনেক কথা জমা হয়ে আছে।
আমার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত পরশুদিন। স্কুল, পরীক্ষা, প্রাইভেট টিউশন এসব নিয়ে দু আড়াই মাস বেশ চাপে ছিলাম। সুমন দশ দিনের ছুটিতে বাড়ি এসেছে এক বছর পর।
গতকাল সারাদিন রোদ ছিল। অল্প অল্প হাওয়া দিচ্ছিল। আবহাওয়াটা বেশ আরামদায়ক। মন ভাল করা। আমার মনে হয়েছিল। সুমন ঘাড় নেড়ে আমার কথায় সায় দিয়েছিল, ঠিক বলেছিস। স্কুল জীবনে আমরা এমন দিনই চাইতাম। এলোমেলো ঘোরার জন্য আইডিয়াল। একটু চুপ করে থেকে বলেছিলো, জীবনটা তখনই ভাল ছিল। যখন স্কুলটাই জীবন ছিল।
আমার ঠাকুমা বলত, 'ভোরের বাদল বাদল নয়'। তা নাকি স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বরং পর্বটি মিটে গেলে, ভালবাসার ঘনত্ব বেড়ে যায়। ঠাকুমার কথা মিলছে কোথায় ! বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তোড় বাড়ছে। বদ্ধ ঘরের মধ্যে বসেও বুঝতে পারছি পথঘাট জনশূন্য হয়ে গেছে। মানুষের কণ্ঠস্বর, যানবাহনের আওয়াজ কিছু শোনা যাচ্ছে না। হাজামজা ডোবা উপচে জল রাস্তা পেরিয়ে গ্যারেজ ঘরের টিনের দরজায় এসে ধাক্কা দিচ্ছে। তার শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
সুমনকে ফোন করলাম ! হতাশ গলায় জবাব এল, এবার হল না।
- আমারও তেমনটাই মনে হচ্ছে। আমি বললাম, বৃষ্টি বন্ধ হলে আগামীকাল চেষ্টা করা যেতে পারে।
- সম্ভব নয়। আগামীকাল আবহাওয়া ফেয়ার থাকলে কোন্নগরে মামার বাড়ি যেতে হবে। বড়মামা গুরুতর অসুস্থ। পরশু ব্যাংক পোস্টাফিসের জরুরী কাজ। তারপর দিন গোছগাছ। ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি।
সুমন বলল, বৃষ্টিতে ভেজার বয়স তো আর নেই। যে যার বাড়িতে চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া দ্বিতীয় কোন অপসন নেই। তুই লেখালিখি করিস। সময়টা কাজে লাগাতে পারিস।
- অনেস্টলি বলছি, আমার লিখতে ইচ্ছে করছে না। এই মুহূর্তে লেখার কোন মেটিরিয়াল মাথায় নেই। আসলে মনটাকে তৈরী করে ফেলেছিলাম, চেনা ছকের বাইরে অন্যরকমভাবে আজকের দিনটা কাটাব। প্রতিটা দিন একইরকম মনে হয়। অসহ্য একঘেয়েমি। ভেনটিলেশনের দরকার। ঠিক বলছি কিনা ....!
আমি স্পষ্ট শুনতে পেলাম সুমন লম্বা করে শ্বাস ফেলল।
জিজ্ঞেস করলাম, কী হল ?
সুমন বলল, ফোনটা রাখ। বিদেশ বিভুঁয়ে ফিরে যেতে হবে। ইনডাসট্রিয়াল বেল্ট। সেখানে জীবন বলে কিছু নেই। তোর চেয়ে অনেক বেশী নিঃসঙ্গ। একা।
(দুই)
কলেজ জীবনে তৃষার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়েছিল। আমরা একই কলেজের একই ইয়ারের। আমার কেমিস্ট্রি অনার্স। তৃষা বি.এস. সি. পাস কোর্স।
মেলামেশা, ঘোরা বেড়ানো বা আশপাশের মানুষজনকে জানান দেওয়ার জন্য একজন প্রেমিক যেমনটা করে থাকে, আমি খুব সচেতনভাবেই এ ব্যাপারগুলিকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম। তৃষাকে ভাললাগার অনুভূতি সযত্নে সাবধানে আত্মারামের কৌটোর মতো আমার বুকের মধ্যে আগলে রেখেছিলাম। এর একটাই কারণ, তা হল আমাদের পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং সেটাকে অতিক্রম করার জন্য মন দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে তৈরী করা। আমার বাবা-মা দুজনেরই আমার ওপর অগাধ ভরসা এবং বিশ্বাস ছিল। আমি ভাল নম্বর পেয়ে বি.এস.সি. পাশ করব। তারপর নিজের যোগ্যতায় একটি চাকরি পাব। সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছাব। বাবা মায়ের এই ইচ্ছের মধ্যে আমি কোন অন্যায় সেদিনও দেখিনি। আজও দেখি না।
তৃষাকে ভাললাগার যতগুলি কারণ আছে, তার সবগুলি আজও আমার কাছে সমান সম্মানীয়। যদিও সে এখন অন্যের স্ত্রী। একটি সন্তানও আছে। তারপরেও তৃষা আমার বিশ্বস্ত বন্ধু। পথেঘাটে বা কোন অনুষ্ঠান বাড়িতে দেখা হলে আমারা শালীনতা বজায় রেখে পরস্পরের কুশল কামনা করি। তৃষা আন্তরিক গলায় বলে, যে কোন প্রয়োজনে আমাকে ফোন করবে। মাসীমার বয়স হয়েছে। মাকে নিয়ে একা থাক, তাই বলছি।
বর্ষাকালের মতো একটানা বৃষ্টি পড়ছে। পাশের ঘরে মা ঘুমোচ্ছে। সারা বাড়ি জুড়ে নিস্তব্ধতা। আবহসংগীতের মতো বৃষ্টি আর বাতাসের শব্দ। হঠাৎ করে মনে হল তৃষাকে ফোন করি। এমনটা আগে কোনদিন হয়নি। আজ এই মুহূর্তে, ইচ্ছে নয় যেন তাগিদ অনুভব করছি। ফোনে তৃষার গলা শুনতে পেলে আমার নিঃসঙ্গতা, মনখারাপ সব ঠিক হয়ে যাবে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কি এমনটা হচ্ছে ! হয় ! কে জানে !
তৃষার মোবাইলের কলার টিউনে গান বাজছে – বাদল রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে।
চমকে উঠলাম। ব্যাপারটা কাকতালীয় ! নাকি আবহাওয়ার মেজাজ মর্জি বুঝে কলার টিউন আপনিই বদলে যায় !
তৃষার মিহি গলা শুনতে পেলাম। সে গলায় উদ্বেগের সুর, কী হল ? মাসীমার শরীর ঠিক আছে তো ?
- পাশের ঘরে মা ঘুমোচ্ছে। আমার ঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে আমি একা বসে আছি।
তৃষা হেসে বলল, এমন দুর্যোগের মধ্যে কে ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে ভিজছে বলো?
- তা ঠিক। আমি বললাম, হঠাৎ করে মনে হল, তাই ফোন করলাম। কোন কিছু জানানো বা জানার জন্য নয়। এমনি এমনি করলাম। তুমি বিরক্ত বোধ করছ না তো?
- এ আবার কেমন সৃষ্টিছাড়া কথা। আমরা পরস্পরকে যে কোন সময়ে ফোন করতে পারি। কারণে অকারণে পারি। ওই যে তুমি বললে না, এমনিএমনি করলাম, বিশ্বাস করো আমার সারা শরীর শিউরে উঠল।
- কেন ? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
- এমনিএমনি, মিছিমিছি এই শব্দগুলো ভুলেই গেছিলাম, জোর আবদার না থাকলে এমন শব্দ বলা যায় না। তুমি আমাকে নসটালজিক করে দিলে। কী হল ? চুপ করে আছ ? বিশ্বাস হচ্ছে না ? তোমার মতো আমিও বদ্ধ ঘরে একা বসে আছি। রজত অফিসের কাজে বাইরে আছে। পরশু ফিরবে। ছেলে পাশের ঘরে টিভি-তে কার্টুন দেখছে। বাইরে লাগামছাড়া বৃষ্টি। কিশোরী বেলায় এমন বৃষ্টির দিনে, মনে হোত একটা ছাতার নীচে প্রিয় বন্ধুটির পাশাপাশি জল ঠেলতে ঠেলতে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে হাঁটি। অনেকটা পথ হাঁটি। আজ সেসব কেমন অলীক স্বপ্নের মতো মনে হয়। রজত তার কাজের জায়গায় ওপরে আরও ওপরে ওঠার জন্য দৌড়চ্ছে। রাতে বাড়ি ফিরে ল্যাপটপের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে, ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়। আমরা একই বাড়িতে পাশাপাশি আছি। আবার নেই-ও। প্রতিবেশী আত্মীয় পরিজন জানে এবং মানে আমরা হ্যাপি কাপল।
- তৃষা ?
- বলো ?
- তুমি কি কষ্টে আছ ?
- মোটেও না। সুখে আছি। নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যে আছি। আবার বড় একাও আছি। নির্জন দ্বীপের মতো। দূরতর নক্ষত্রের কাছে। অরণ্য ?
- হ্যাঁ। বলো।
- কোন বৃষ্টিপাগল দিনে তোমার ফোনের অপেক্ষায় থাকব।
তৃষা চুপ করে আছে। আমিও কিছু বলছি না। দুজনের কেউ-ই বন্ধ করে দিইনি ! শব্দহীন একাত্মতা।
(তিন)
পাশের ঘরে লেখার টেবিলে রাখা আমার দ্বিতীয় মোবাইলটি বেজে উঠল।
শ্রাবণী সেনের সুরেলা গলায় – ওলো সই। ওলো সই। আমারও যে ইচ্ছে করে মনের কথা কই।
আমায় নিশ্চুপ দেখে, তৃষা তার বাকি কথাগুলি বলবে বলে দ্বিতীয় নম্বরে ফোন করছে ?
বড় বড় পা ফেলে এ ঘর ছেড়ে ও ঘরে গেলাম। গান থেমে গেছে। মিস কল। অচেনা নম্বর।
রিং ব্যাক করলাম, হ্যালো !
চাপা ধরা গলা জানতে চাইল, কেমন আছিস অরণ্য ? বাড়িতে নিশ্চয়ই ?
- হ্যাঁ। আমি বললাম, তুই কেমন সার্থক? গলাটা অন্যরকম শোনাচ্ছে।
- তারপরেও চিনতে পেরেছিস? আমার পরম সৌভাগ্য।
- এভাবে বলছিস কেন? অনেক দিন দেখা না হলেও, আমাদের মধ্যে আত্মিক টান আছে। আমি বিশ্বাস করি।
- সত্যি বলছিস? সার্থকের গলাটা কেঁপে উঠল। আমার মতো একজন হেরো মানুষকে কে মনে রাখে ! কিসের দায় !
- তোর মেয়ে কোন ক্লাসে পড়ছে? আমি জানতে চাইলাম।
- ফাইভ। ছেলেটা সুস্থ হলে এ বছরে বার ক্লাস ফাইনাল দিত। মালার কথা জানতে চাইলি না তো ?
- ও কেমন আছে ? আমি আলতো করে বললাম।
- কেমন নয়। কতটা খারাপ আছে। ঠিকঠাক প্রশ্ন করতে শেখ। বলে সার্থক হো হো করে হেসে উঠল। হাসি থামিয়ে বলল, তোকে বললাম, আমার মতো হেরো মানুষ ....! একটু থেমে বলল, মজা করে বলছি। আসলে আমি বেশ আছি। আজ সেকেন্ড শিফট ডিউটি। ফোন করে জানলাম ঝড় বৃষ্টির জন্য লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেছে। বেরোতে পারলাম না। নো ওয়ার্ক নো পে। একটা রোজ গেল। মন খারাপ করে কি লাভ ! মেয়েকে বললাম, দাদুর পুরনো হারমোনিয়ামটা বের কর। মেয়েটা অল্প অল্প বাজাতে শিখেছে। বাপ মেয়ে ডুয়েটে গান ধরলাম 'পাগলা হাওয়ায় বাদল দিনে ....!' পাশের ঘরে চৌকিতে শুয়ে জন্মাবধি সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছেলে। মেঝেতে ছেলের দুশ্চিন্তায় মেন্টাল পেশেন্ট মালা ঘুমোচ্ছে। ছেলের চেয়েও বেশী ঘুমোয়। দুদিন স্নান করেনি। গতকাল থেকে এখনও পর্যন্ত দাঁতে কুটোটি কাটেনি। জানিস অরণ্য, আমার বাবা মা-র দূরদৃষ্টি ছিল তাই আমার নাম রেখেছিল সার্থক। যা হোক হঠাৎ তোর কথা মনে পড়ে গেল। একাভেকা মানুষ। এই দুর্যোগে নিশ্চয়ই বাড়িতেই আছিস ? কী করছিস ? জানলায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিস ? একা একা তো আর দেওয়ালের সঙ্গে ঝগড়া করা যায় না। তোর তো সব ছিল। সংসারী হলি না কেন ? আমাদের স্কুল বন্ধুদের মধ্যে তুই একমাত্র সন্ন্যাসী। কেন এমনটা হল! আমায় দেখ। অভাব আছে, কষ্ট আছে। দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনা আছে। আবার লড়াই-ও আছে। লড়াইটা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জেদও আছে। আর এই সব মিলিয়ে সব কিছু নিয়ে আমি একজন সংসারী। স্কুলে বাংলার স্যার অমূল্যবাবু বলতেন, এমন কোন লম্বা রাত নেই, যার শেষে ভোর হবে না। মনে পড়ছে ? এই দেখ, তোকে বলতে গিয়ে আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। কি ফাইটিং লাইন। তাই না ? কী হল অরণ্য ? চুপ করে আছিস ? একটু বেশী বলে ফেললাম। তাই কি ! তুই মাস্টার। তার ওপর মাস্টার ফলাচ্ছি। খোদার ওপর খোদকারি। অরণ্য .... !
- পরে কথা হবে। আমি বললাম, পাশের ঘরে আমার মোবাইল বাজছে।
(চার)
- হ্যালো ?
- অরণ্য বসু বলছেন ?
- 'এবং বাতায়ন' পত্রিকার সম্পাদক রাজীব চক্রবর্তী বলছি।
- আশা করি আপনি আমাদের পত্রিকার সঙ্গে পরিচিত।
- অবশ্যই। আপনার পত্রিকার একজন নিয়মিত গ্রাহক।
- অজস্র ধন্যবাদ আপনাকে। তার সঙ্গে একটি বিনীত অনুরোধ।
- 'এবং বাতায়ন' আপনার কাছে একটি উপন্যাসের আব্দার করছে। শব্দ সংখ্যার সীমাবদ্ধতা নেই। উপন্যাসটি আমাদের পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। আগামী নতুন বছরের প্রথম সংখ্যা থেকে। আশা করি আপনি আমাদের এই অনুরোধকে মর্যাদা দেবেন।
সম্পাদকের সঙ্গে কথা শেষ হয়ে গেছে। টেবিলে ফোন রেখে দিয়ে চুপ করে বসে আছি। বুঝতে পারছি কেমন যেন একটা ঘোরলাগা অবস্থা আমার। এই অল্প সময়ের মধ্যে যা কিছু ঘটল, তা স্বপ্ন নয় তো ! এ যে গলা ফাটিয়ে বলার মতো একটা ব্যাপার।
কিন্তু কাকে বলব ! কীভাবে বলব !
এখন এই মুহূর্তে আমি তো একটি বদ্ধ ঘরে। বাইরে টালমাটাল অবস্থা। কি মনে হল জানলার একটি পাল্লা খুলে বাইরের অবস্থা দেখতে গেলাম।আর মুহূর্তে খ্যাপা বৃষ্টি খোলা জানলা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাকে ভিজিয়ে দিল।
অন্যমনস্কতায় জানলা বন্ধ করতে ভুলে গেছি। ভেজা শরীরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে।
বৃষ্টি যেন ফিসফিসিয়ে বলছে, লেখাটা শুরু করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। পারলে আজই। এখনি।
লেখা তো তৈরী হয়েই আছে।