বাংলা ও বাঙালির ওপর আসা আঘাত নিয়ে লিখতে গেলে নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য্য ও ঔপন্যাসিক মহাশ্বতা দেবীর সুপুত্র নবারুণ ভট্টাচার্যের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তাঁর কলমসন্তান পুরন্দর ভাটের কবিতার অংশকে শিরোনাম করেই তাই লেখা শুরু করলাম। আগেকার দিনের কবিরা যেরকম বিভিন্ন জনকে স্মরণ করে কাব্য শুরু করতেন।
আপনাদের আজ নতুন করে বলার দরকার নেই যে ভারতের বিভিন্ন অংশে গত কয়েকদিন ধরে প্রথমে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ দিয়ে বাঙালি হেনস্থা শুরু হয়েছিল। ইদানীং সেটা বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে গেছে যে বাংলা থেকে যাওয়া জাতীয় পর্যায়ের স্কেটারদের হোটেলে আগে থেকে বুক করে রাখা ঘরও নাকি বাতিল করা হচ্ছে। এই ঘটনা কি আজকেরই নাকি বহুদিন ধরেই চলছে। এদিকে আবার মিডিয়ার স্টুডিও আলো করে কয়েকজন দাবি করে চলেছেন এসব নাকি ঠিক বাংলা ভাষার বা বাঙালি কৃষ্টির ওপর নাকি আঘাত নয়, এটা অর্থনৈতিক রেষারেষি থেকে শ্রমজীবি শ্রেণীর ওপর আঘাত। তা "ওরা কাজ করে" শ্রেণীর ওপর এই আঘাত কতটা পুরনো এবং যাঁরা এনাদেরকে "ওরা" বানিয়ে রাখেন তাদের এই দেখেও না দেখার প্রবণতাটা যে কতটা গভীর তা একটু খতিয়ে দেখা যাক।
এই মানসিকতা বোঝার জন্য দুটি ঘটনাতে যা প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তার তুলনামূলক উদাহরণ দেওয়াই যথেষ্ট। এখানে সলঙ্গা গণহত্যা এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড—দুইটি ঘটনাই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের নির্মমতা ও দমননীতির জ্বলন্ত উদাহরণ। তবে ইতিহাসের আলোচনায় সলঙ্গার ঘটনা অনেকটাই উপেক্ষিত থেকেছে। সলঙ্গা ছিল কলকাতা থেকে অনেক দূরে, এবং তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ঘটনাগুলো পশ্চিমবঙ্গ বা দিল্লির রাজনৈতিক চর্চায় কম গুরুত্ব পেত। কিন্তু সলঙ্গার চেয়ে ভৌগলিকভাবে বহুদূরে পাঞ্জাবের অমৃতসরে, ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ব্রিগেডিয়ার রেজিনাল্ড ডায়ার যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন তাতে সরকারি হিসাবে নিহত ৩৭৯, বেসরকারিভাবে আনুমানিক ১৫০০। অন্যদিকে ২৭ জানুয়ারি ১৯২২, স্থান ছিল সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ (বর্তমানে বাংলাদেশে)। সেখানে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে হাজার হাজার মানুষ সলঙ্গা হাটে সমবেত হয়। উপস্থিত জনতা কংগ্রেসের তৎকালীন নেতা তর্কবাগীশের মুক্তির দাবি করলে পুলিশ ও ব্রিটিশ বাহিনী সেখানে নির্বিচারে গুলি চালায়। এখানে কজন নিহত তার সরকারি হিসাব নেই, স্থানীয় সূত্রে অনুমান আনুমানিক ৪০০–৫০০ জন। কারও কারও মতে তা ৫ হাজারের কাছাকাছি। জালিয়ানওয়ালাবাগের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ওঠে, রবীন্দ্রনাথ নাইটহুড ত্যাগ করেন। কিন্তু সলঙ্গা গণহত্যার পর কলকাতা বা ভারতের মূলধারার বুদ্ধিজীবী সমাজে তেমন কোনো বড়সড় প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। অর্থাৎ "পাঞ্জাব, সিন্ধু, গুজরাট, মারাঠা,দ্রাবিড়" জুড়ে যা হচ্ছে সেসব নিয়ে কলকাতার সূধীসমাজের চিরকালই যত হইচই তার তুলনায় "ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া" যে জেলাগুলো আছে সেখানকার মানুষের হাসিকান্না "দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া" হয়েই থেকে গেছে। এখনকার টলিউডেও একই অবস্থা। সেখানে সাম্প্রতিককালে অর্ধসত্য, অতিরঞ্জন এমনকি সম্পূর্ণ অপপ্রচারের ওপর ভিত্তি করে একটি সম্প্রদায়কে খলনায়ক বানানোর প্রক্রিয়া বাড়ছে, কিন্তু দুরের জেলাগুলোর মানুষের ভাবনা আজও যেন ব্রাত্য। "বোঝেনা, সে বোঝেনা"র মতো দুএকটি ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, যেখানে দূরের কলকাতায় কাজ খুঁজতে আসা একটি মেয়ের সমস্যা কিম্বা অন্য জেলায় কাজ করা পরিযায়ী শ্রমিকের প্রেম দেখানো হয়েছে। যদিও তা দক্ষিণী সিনেমার অনুসরণে করা।
এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে মনে যে ভাবের উদয় হয় তা ব্যক্ত করতে সেই নবারুণেরই শরণ নিতে হয়। "বাঙালির তরে যদি বাঙালি না কাঁদে" তাহলে ফ্যাতাড়ুপ্রবর পুরন্দর ভাটের নিদান অনুযায়ী তাকে কি বলে "ভীমনাদে" ডাকতে বলা হয়েছে তা আপনারা জানেন।
এবার একটু রাজনীতির জগতটা দেখা যাক। ১৯০৫ সালে কার্জনের বঙ্গভঙ্গের সময় অনেক আন্দোলন, কবিতা-গান, ক্ষুদিরাম-প্রফুল্ল-হেমচন্দ্রের দুঃসাহসিক অভিযান হয়েছিল। তারপর ১৯১১ সালে এসে দেখা গেল সেগুলো কিছুটা জোড়া লেগেছে। মাঝে বিহার ও উড়িষ্যা আলাদা হয়ে গেছে। তারসাথে মানভূম ও সিলেটের বিস্তীর্ণ বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চল হাতছাড়া হয়ে গেছিল। তা নিয়ে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে বিশেষ মাথাব্যাথা ছিল না। বিহারে বাঙালিদের কি দশা হতো তা নিয়ে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এক প্রবন্ধ লিখেছিলেন 'সে চায় না পিবে' নামে, যা তাঁর 'সুনন্দ জার্নাল' নামের সঙ্কলনে আছে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ উপন্যাস "বহ্নি-পতঙ্গ"তে বিহারে কিভাবে বাঙালি বিদ্বেষ বাড়ছিল তার উল্লেখ আছে। তারপর লাবণ্যপ্রভা ঘোষদের মত মানুষদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে মানভূমের পুরুলিয়া অংশটি শেষমেষ ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠনের সময় পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভূক্ত হয়। তার সাথে পুরনো ভাগলপুর বিভাগের কিছু অংশও উত্তরবঙ্গের সাথে বাকি অংশের সংযোগের জন্য দেওয়া হয় যা আজকের উত্তর দিনাজপুর জেলার অংশ। বিহারে পড়ে যাওয়া বাঙালির এরপরের ইতিহাস আরও মর্মান্তিক। যদিও এর মাঝে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্য বিহার রাজনীতিতে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তবুও পূর্ণিয়ার সাবেক বিধায়ক অজিত সরকারের হত্যাকান্ড কিম্বা শরৎচন্দ্রর স্মৃতিবিজড়িত ভাগলপুরে বাঙালি নির্যাতন_এসব ভুলে যাওয়ার নয়। স্বাধীনতার পরে গোবলয়ে শিক্ষার হার আর জনসংখ্যা দুইই বেড়েছে, সাথে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় হিন্দীর গুরুত্ব থেকেছে বাকি ভারতীয় ভাষার থেকে অনেক বেশি। ফলে যে বাঙালি চাকরিগর্বী হয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যক' উপন্যাসের বর্ণণার মতো পশ্চিমে 'আমব্রেলু' খুঁজতে বেরতো, সেই বাঙালিকে এখন হাহুতাশ করতে হয় হিন্দিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসা কর্তাব্যক্তিরা কেন বাংলা ভাষাকে অবহেলা করেন তা নিয়ে।
এবার আসামের বাঙালিদের প্রসঙ্গে আসা যাক। শিলং পাহাড়ের অমিত-কেতকীর মত পরিবারের বাইরে যদি দেখা যায় তাহলে ছবিটা অত মধুর ছিল না। ১৯২০-এর দশক থেকে পূর্ববঙ্গের ভূমিহীন কৃষকরা—বিশেষত ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, কোচবিহার ও ত্রিপুরা অঞ্চল থেকে—জমিদার ও মহাজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আসামের অনাবাদী বনভূমিতে পাড়ি জমান। গোয়ালপাড়া, তেজপুর, নওগাঁও, দারং ও কামরূপ জেলার দুর্গম অঞ্চল পরিষ্কার করে তাঁরা বাঁশ-খড়ের অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করেন এবং ধান, পাট, আলু, শাকসবজি চাষ শুরু করেন, যা খাদ্য উৎপাদন ও ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৩৭ সালে কে এম সাদুল্লাহর সরকার তাঁদের বসতি বৈধতা দিলেও ১৯৪৬-এর নির্বাচনে গোপিনাথ বরদোলই-এর নেতৃত্বাধীন সরকার বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাব গ্রহণ করে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আসাম চাষী মজুর সমিতি গঠিত হয়। বাংলা বিধানসভায় এই বিষয়ে তীব্র বিতর্ক হয়, এবং ১৯৪৬ সালের বিধানসভা প্রসিডিংসের ৭১নং খণ্ড, দ্বিতীয় ভাগ, ৯০-৯৯ নং পৃষ্ঠায় দেখা যায়, আসামে বাঙালি মুসলিম চাষীদের হেনস্থার বিরুদ্ধে গভর্নর জেনারেলের হস্তক্ষেপের দাবি উঠলেও কংগ্রেস সদস্যরা তা বিরোধিতা করেন। এমনকি জ্যোতি বসুসহ অন্যান্য কমিউনিস্টরাও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। পরবর্তীতে কমিউনিস্টরা বাংলার অখন্ড অবস্থায় পাকিস্তানভুক্তি ও আসাম বিভাজন দুইয়ের বিরুদ্ধেই ভোট দেন। তাঁদের এই আচরণ তবুও ভারতের অখন্ডতা রক্ষার প্রয়াস হিসেবে মেনে নেওয়া যায় কিন্তু একথা নিসন্দেহে বলা যায়, বাঙালি জাতিস্বত্তার ওপর আঘাতের চরিত্র তাঁরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ। বারবার দেখা গেছে বাংলার বাম রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বাইরের গোষ্ঠী। এই প্রসঙ্গে আরেকটি ঘটনা অত্যন্ত দুঃখের সাথে স্মরণ করতে হচ্ছে, কংগ্রেস বিধায়িকা ও নেতাজির শিক্ষক বেণীমাধব দাসের কন্যা বিপ্লবী বীণা দাস সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার সময় অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাষায় বলেন, "আসামকে জিন্নাহর প্রস্তাবিত পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে পূর্ববঙ্গ থেকে মুসলমান পাঠানো হচ্ছে।"
অথচ সেই জিন্নাহই ভাসানী সাহেবের মুখে আসামের বাঙালি চাষীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে বলেছিলেন, "মওলানার মতো লোকেরা নেতা হওয়ার যোগ্য নয় মোটেই। ‘রাজনীতিতে বাজে ভাবুলতা ও আবেগের কোনো স্থান নেই।"
এর সাথে বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে এক অদ্ভুত বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়, যেখানে বাঙালি নেতারা বারবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হয়ে কোণঠাসা হয়েছেন, অথচ অবাঙালি নেতারা অবাধে প্রভাব বিস্তার করেছেন। শরৎ বসু, হেমচন্দ্র নস্কর কিংবা সৈফুদ্দীন চৌধুরীর মতো নেতারা যথাক্রমে কংগ্রেস ও বাম রাজনীতিতে তাঁদের আদর্শ ও ভূমিকা সত্ত্বেও উপেক্ষিত থেকে গেছেন। সৈফুদ্দীন চৌধুরীর মতো প্রগতিশীল নেতা শাহবানু মামলায় নারীমুক্তির পক্ষে সওয়াল করেও পরবর্তীতে দলীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা হন। অন্যদিকে, ঘনশ্যাম দাস বিড়লা, লক্ষ্মীপত সিংহানিয়া, রামকৃষ্ণ ডালমিয়া কিংবা বিজয় নাহারের মতো অবাঙালি ব্যক্তিত্বরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে গেছেন—কখনও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে, কখনও শিল্প ও সমাজসেবার ছত্রছায়ায়। বিজয় নাহার তো সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত থেকেও কংগ্রেসের মাথায় স্থান পেয়েছেন, যেখানে নেতাজি ১৯৩৮ সালে ফজলুল হক সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে আদাজল খেয়ে লেগে পড়েছিলেন, সেই নেতাজিই ক্যালকাটা ট্রায়ো নামের দুষ্টচক্রের আব্দুর রহমান সিদ্দিকীর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে মেয়র বানিয়েছেন। আর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ বাঙালি বীরেন্দ্রনাথ শাসমলকে মেয়র করতে চাননি, অথচ হাস্যকর বাংলা জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সেই মেদিনীপুরেরই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ডেপুটি বানিয়েছিলেন। সাম্প্রতিককালে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় অবাঙালি অমর সিং সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ডানা মেলেন। এইসব ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে বাঙালি নেতৃত্বের প্রতি অবজ্ঞা এবং অবাঙালি প্রভাবের এক দীর্ঘস্থায়ী চিত্র তুলে ধরে।
তথাকথিত ভদ্রলোক রাজনীতির কারবারিরা স্বাধীনতার আগে, বা বলা ভালো দেশভাগের আগে যখন বাংলার জনসংখ্যার বড় অংশ ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাষাভুষো, তখন তাঁদের শ্রেণীস্বার্থ রক্ষার জন্য বারবার সার্বজনীন ভোটাধিকারের বিরোধিতা করে গেছেন। এমনকি নারীদেরও ভোটাধিকারের বিরোধিতা করতে দেখা গেছে বারবার। কিন্তু মারোয়াড়ি বা ইউরোপীয়দের বিধানসভায় জনপ্রতিনিধিত্ব নিয়ে কোনও কিছু বলতে শোনা যায়নি। ব্যতিক্রম ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক যিনি বলেছিলেন, "Nor can it be said, that the system of Communal representation is based on any mischievous new fangled ideas foisted of Indian policies by cunning Anglo-Indian Administrators."
এইভাবেই যুগে যুগে বাংলা ও বাঙালির ওপর আঘাত নেমে এসেছে। কখনও হাতে মারা হয়েছে, কখনও ভাতে। বাংলা সংযুক্ত থাকুক, বা বিভক্ত। প্রত্যেকবারই প্রথমে শ্রমজীবি থেকে শুরু করে উচ্চ শ্রেণীর ওপর ধীরে ধীরে এই আঘাত এগিয়েছে। আর প্রত্যকে বারই এই বাঙালি নির্যাতনের পক্ষে কথা বলা কিম্বা দেখেও উদাসীন থাকা লোকের অভাব বাংলায় হয়নি। 'সেই tradition সমানে চলেছে, কোথাও তার পরিবর্তন ঘটেনি'।