পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

ভরসা নয়, ভাঁওতার বাজেট

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 202 view(s)
  • লিখেছেন : অমিত দাশগুপ্ত
এবারের রাজ্য বাজেটকে যুগান্তকারী অর্ধ শতাব্দীর বাম-তৃণমূলের অপশাসনের জমানার পরে সুশাসনের ও শিল্প বান্ধব পুঁজি গঠনকারী বাজেট বলে প্রচার মাধ্যমে শোরগোল পড়ে গেছে। এই বাজেটের আগে প্রাক্তন সরকার নির্বাচন পূর্ববর্তী একটি অন্তর্বর্তী পুরো ২০২৬-২৭ সালের বাজেট পেশ করেছিল। ঐরূপ অন্তর্বর্তী বাজেটে বেশ কিছু বরাদ্দ অসম্পূর্ণ থাকে তাই সেটির বরাদ্দের পরিমাণ কম থাকে। তবুও সেটিকেই মাপকাঠি ধরে আলোচনা করতে গেলে দেখা যাবে এটি ভরসা নয়, ভাঁওতার বাজেট।

গোড়াতেই বলে রাখি এই বাজেট বিজেপির ভরসাপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, বরং সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিগুলিতে ভাতা প্রাপকদের ও সরকারি এবং সরকার-পোষিত প্রতি়ষ্ঠানের কর্মচারীদের ভাঁওতা দিয়েছে। তাঁদের কাছে এই বাজেট হয়ে ওঠা উচিত ভরসা নয়, ভাঁওতার বাজেট। সেই ভাঁওতাকে যথাবিহিত ‘প্রতিশ্রুতি পূরণে’র মোড়কে উপস্থাপনের কাজটি করে চলেছে সরকারের তাঁবেদারি করা প্রচার মাধ্যম, যে প্রচার মাধ্যমের একটিও, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে অবশিষ্ট নেই যেটি ন্যাংটো রাজাকে বলবে, রাজা, তোর কাপড় কোথায়?

ভাঁওতা-১. ২৫-৬০ বছরের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে: বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনায় মোট বরাদ্দ ১৫,৫৯৭ কোটি টাকা। যদি ধরে নেওয়া যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের ৮ মাস ওই ভাতা দেওয়া হবে (যদিও ঢাক ঢোল পিটিয়ে তা জুন মাসের গোড়ায় দেওয়া শুরু হয়েছে) তাহলে ওই টাকায় কম-বেশি ৬৬.৫ লক্ষ মহিলাকে তা দেওয়া যাবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক মহিলাদের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লক্ষ। অনেকের মনে হতে পারে, অর্থমন্ত্রী তো বলেছেন ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা। হ্যাঁ, উপরোক্ত ১৫,৫৯৭ কোটির সঙ্গে বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ ২০,৩৯৯ কোটি টাকাও রয়েছে। মোট ৩৫,৯৯৬ কোটি টাকা। এই ধাঁধার সমাধান বাজেটের দস্তাবেজে পাওয়া যায়নি, অন্তত আমি পাইনি। যেহেতু, বিরোধী দলও এখন সরকার পক্ষের তাই লক্ষ্মী এবং অন্নপূর্ণা একত্রেই পূজিত হলেও হতে পারে। যাই হোক, ৩৬,০০০ কোটি টাকাও যদি হয়, তাহলেও সাকুল্যে ১ কোটি মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা যেতে পারে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক সকল মহিলাদের ওই টাকা দিতে বছরে ৮৬,৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এই অপ্রতুল বরাদ্দের ভাওতাকে লুকোতে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর তাঁবেদার প্রচার মাধ্যম ‘বিপুল’ ভুয়ো প্রাপকের গল্প ফাঁদছেন, কিন্তু কোনো জেলাভিত্তিক তালিকা সরকার প্রকাশ করছেন না।  

ভাঁওতা-২.  কর্মসন্ধানী যুবকদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে: এই  প্রতিশ্রুতি যে ভুয়ো তা এই বাজেটে প্রকট হয়েছে। এখন শর্ত জোড়া হয়েছে, গ্রাজুয়েট হলে ৩,০০০ টাকা না হলে মাসে ২,০০০ টাকা। এবং পারিবারিক আয় বছরে ১,০০,০০০ টাকার কম ও পরিবারের কেউ যেন সামাজিক সুরক্ষার কোনো প্রকল্পের টাকা না পায়। ওই শর্ত পূরণকারী পরিবার পাওয়া দুস্কর। তাছাড়া, এরকম কোনো শর্তের কথা তথাকথিত ‘ভরসাপত্রে’ ছিল কি? এটিও ভাঁওতা। ওদিকে বাজেটে এরকম কোনো প্রকল্পের বরাদ্দ নেই।

ভাঁওতা-৩.   বিশেষভাবে সক্ষম ষাটোর্ধ ব্যক্তি এবং বিধবাদের মাসে ২,০০০ টাকা দেওয়া হবে: এই প্রতিশ্রুতিও পালন না করে কমিয়ে মাসিক ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। কতজন প্রাপক তাও বলা হয়নি। বাজেটেও কোনো বরাদ্দ নেই। ২,০০০ টাকা করে মাসে পূর্বতন ভাতা প্রাপকদের দিতে কমবেশি ২০,০০০ কোটি টাকা লাগত। ভাঁওতা দিয়ে কমানো ১,৫০০ টাকা করে দিতেও ১৫,০০০ কোটি টাকা লাগবে।

ভাঁওতা-৪. সরকার বা সরকার পোষিত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া  তরুণীদের এককালীন ৫০, ০০০ টাকা দেওয়া হবে:  বাজেটেও সে কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র  ১,০০০ কোটি টাকা। হিসেব অনুযায়ী ওই টাকায় ২,০০,০০০ ছাত্রীকে ওই অনুদান দেওয়া যাবে। এরাজ্যে মোটামুটি ৯-১০ লক্ষ সরকার বা সরকার পোষিত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রয়েছে। ফলে বরাদ্দের প্রয়োজন ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ কোটি টাকা।

ভাঁওতা-৫. আদালতের রায় অনুযায়ী প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (২০০৮-২০১৯) ক্ষমতায় এসেই মিটিয়ে দেওয়া হবে: মুখ্যমন্ত্রী এখন বলছেন ২০১৬-১৯ তো মেটানো হয়েই গেছে, বাকি ২০০৮-১৫ আস্তে আস্তে মেটানো হবে। প্রথমত, ২০১৬-১৯ এর বকেয়ার কোনো টাকা গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মী বা পেনশন প্রাপকরা পাননি, কলকাতার সরকারি পেনশন প্রাপকরাও পাননি। তাছাড়া, যারা পেয়েছেন তাঁরাও পূর্বতন সরকারের মন্ত্রী ও আমলাদের অদক্ষতা বা কারচুপির কারণে কম পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিতভাবে সেব্যাপারে ওয়াকিবহাল। কিন্তু ক্ষমতায় বসা হয়ে গেছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শিষ্য হিসেবে তিনিও চোখ উল্টোচ্ছেন, যেমন মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় বসার আগে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার সওয়াল করে পরে কর্মচারীদের ঘেউ ঘেউ করতে বারণ করেছিলেন। এছাড়াও ৪৫ দিনের মধ্যে যা মেটানোর প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী  দিয়েছিলেন, এখন কেন আস্তে আস্তে মেটানোর কথা বলছেন? তাঁরা কি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি বা ৮ লক্ষাধিক টাকা ঋণের কথা জানতেন না? তদুপরি বাজেটে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার জন্য কোনো সংস্থান বরাদ্দ করা হয়নি।

জানতে পারলাম, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের মামলায় ৬৫, ০০,০০০ টাকা দিয়েছিলেন। যিনি কাগজে মুড়ে ৫,০০,০০০ টাকা নেন তিনি অত টাকা দিলেন কেন? সেটা কি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের জন্য বিনিয়োগ ছিল?

ভাঁওতা-৬. ৪৫ দিনের মধ্যে এআইসিপিআই (ন্যায্য হারে) অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে: ৪২ শতাংশ বকেয়ার ২০ শতাংশ মেটানোর কথা বলেছেন, তাও উনি ক্ষমতায় বসার ১৪৫ দিন পরে চালু হবে। তাছাড়া, পূর্বতন বাজেটে আগের সরকার ৪ শতাংশ এপ্রিল থেকে দেওয়ার কথা বলেছিল। যেহেতু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের ৬ মাস পর থেকে ও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি চালু হবে তাই পুরো অর্থবর্ষের নিরিখে তা ১০ শতাংশ। যেহেতু আগেই ঘোষণা ছিল ৪ শতাংশের তাই প্রকৃত বৃদ্ধি ৬ শতাংশ।

ভাঁওতা-৭ ক্ষমতায় বসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে:  চালু করা তো দূরের কথা বেতন কমিশন গঠন করাই হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে, অর্থাৎ ক্ষমতায় বসার ২৩৬ দিন বাদে, সেটি কার্যকর করা হবে। সে প্রতিশ্রুতিও ভাঁওতায় পর্যবসিত হবে বলেই মনে হয়।

ভাঁওতা-৮ সমস্ত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করা হবে: এ বিষয়ে একটি কথাও শোনা যাচ্ছে না।

ভাঁওতা-৯ সমকাজে সমবেতন : আশা আইসিডিএস কর্মীদের ভাতা বেড়েছে, তবে তা সমকাজে সম বেতনের ধার কাছ দিয়েও যায়নি। হোমগার্ড, সিভিক পুলিশ, চুক্তিভিত্তিক পরিবহণ কর্মী, মিড-ডে মিল কর্মীদের ভাতা খানিক, কারুর কম কারুর বেশি বাড়ানো হলেও তা যেন অনুগ্রহ করে বাড়ানো হয়েছে, সমকাজে সমবেতনের ধার ধারেনি।

ভাঁওতা-১০ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান করা হবে: সামগ্রিকে সাকুল্যে ১,০০,০০০ নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তবে তা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে করা যাবে বলে মনে হয় না। এভাবে বছরে গড়ে ২০,০০,০০০ কর্মসংস্থান করা সম্ভব নয়।

ভাঁওতা-১১ সমস্ত কল্যাণ মূলক প্রকল্প চালু থাকবে: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার মধ্য দিয়ে ওই প্রকল্পের শর্ত পূরণ না করা ৪-৫ কোটি নাগরিককে স্বাস্থ্যবীমার বাইরে ঠেলে দেওয়া হল, যারা স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসার সুবিধে পেতেন।

এত ভাঁওতা সত্বেও রাজ্য বাজেটকে যুগান্তকারী অর্ধ শতাব্দীর বাম-তৃণমূলের অপশাসনের জমানার পরে সুশাসনের ও শিল্প বান্ধব পুঁজি গঠনকারী বাজেট বলে প্রচার মাধ্যমে শোরগোল পড়ে গেছে। এই বাজেটের আগে প্রাক্তন সরকার নির্বাচন পূর্ববর্তী একটি অন্তর্বর্তী পুরো ২০২৬-২৭ সালের বাজেট পেশ করেছিল। ঐরূপ অন্তর্বর্তী বাজেটে বেশ কিছু বরাদ্দ অসম্পূর্ণ থাকে তাই সেটির বরাদ্দের পরিমাণ কম থাকে। তবুও সেটিকেই মাপকাঠি ধরে আলোচনা করা হবে।  বর্তমান সরকারও পুরো ২০২৬-২৭ সালের বাজেট পেশ করেছে। বাজেটটি ৮ মাসের নয়, যেমনটি ‘বিচক্ষণ’ মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, মানুষকে বোকা বানানোর জন্য। আলোচনার জন্য বহুক্ষেত্রেই ওই অন্তর্বর্তী বাজেটের সঙ্গে তুলনা করা হবে বর্তমান বাজেটকে। বর্তমান বাজেটে সামগ্রিক কর বাবদ রাজস্বকে ১,৩১,০০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তী বাজেটে ছিল ১,১৯,০০০ হাজার কোটি টাকা। এই বৃদ্ধি কীভাবে সম্ভব! রাজ্য পণ্য ও সেবা করেই (জিএসটি) সাড়ে ৪,০০০ কোটি টাকার বাড়তি আয় দেখানো হয়েছে। ভূমি রাজস্ব, স্ট্যাম্প ডিউটি ইত্যাদিতেও এক-দু হাজার কোটি টাকার বৃদ্ধি অনুমান করা হয়েছে। অপরদিকে কেন্দ্রের কাছে প্রাপ্য জিএসটির ভাগ কমে গেছে ৪,২৫০ কোটি টাকা। যে অর্থ দফতরের আমলারা এই হিসেব করেছেন তাঁদের কর্তা কিন্তু পূর্বে যিনি ছিলেন তিনিই রয়েছেন। রাজ্যের মোট রাজস্ব আয় অন্তর্বর্তী বাজেটের ২,৮৮,০০০ কোটির তুলনায় প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা বেড়ে ৩,২০,০০০কোটি টাকা হবে বলে বর্তমান বাজেটে অনুমান করা হয়েছে। ওই বৃদ্ধির ২৪,০০০কোটি টাকাই কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান হিসেবে আসবে, যা আগের সরকারকে দেওয়া হত না। সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পারিতোষিক হিসেবে তা দেওয়া হবে বশম্বদ রাজাকে।

অতিরিক্ত অনুদান পাওয়া সত্বেও বর্তমান বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি অন্তর্বর্তী বাজেটের তুলনায় বেড়েছে, ২১, ৭৫৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২১,৯৮৫ কোটি টাকা হয়েছে। উপরে উল্লেখিত ভাওতায় লক্ষাধিক কোটি টাকার প্রতিশ্রুত রাজস্ব খাতে ব্যয়কে  এড়িয়ে যাওয়ার পরেও। অনেকেই মূলধনী ব্যয় ৱাড়িয়ে রাজ্যের  ৫০ বছরের ভেঙে পড়া শিল্প পরিকাঠামোকে পুনর্গঠিত করার জন্য বাহবা দিচ্ছেন। কিন্তু হিসেব বলছে অন্তর্বর্তী বাজেটের ৪১,৩০০ কোটির তুলনায় মূলধনী ব্যয় বর্তমান বাজেটে কমে ৪০,৯০০ কোটি টাকায় দাঁড় করানো হয়েছে। এটি সত্যি শিল্প ও খনিজে মূলধনী ব্যয় বাড়তি বরাদ্দ অনুমান করা হয়েছে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা; কিন্তু কৃষি ও গ্রামোন্নয়নে তা কমেছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণে মূলধনী ব্যয় বরাদ্দ অন্তর্বর্তী বাজটের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, জল সরবরাহ, নিকাশ, গৃহ নির্মাণ, নগরোন্নয়নে কমেছে ৪০০ কোটি টাকা, তফশিলি জাতি, উপজাতি সমাজ কল্যাণে কমেছে ১,৩০০ কোটি টাকা।  বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিক ব্যয় বরাদ্দ অন্তর্বর্তী বাজটের তুলনায কমেছে বেড়েছে, তবে কৃষিতে তা কমেছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা, শিল্প ও খনিজে বেড়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ১২৫ দিনের কাজ প্রকল্পের উপরে ভর করে গ্রামোন্নয়নে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। ১২৫ দিনের কাজে বরাদ্দ হয়েছে ১৪,০০০ কোটি টাকা। যেহেতু রাজ্যের নির্ধারিত মজুরি ২৫০ টাকা তাই ওই অর্থে, কাজের উপকরণের জন্য ৪০ শতাংশ বরাদ্দের পর, ৩৪ কোটি কর্মদিবস সূষ্টি করা যাবে। ফলে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি কৃষি মজুরদেরকে ১ কোটি পরিবারে অনুমান করা হলেও প্রতি পরিবার পিছু ৩৪ দিন কাজ দেওয়া যেতে পারে, যা ১২৫ দিনের তুলনায় ২৮ শতাংশের কম।

শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ৫০০ কোটি টাকা, বিদ্যুত মাশুলে ছাড়ের বদলে ৩০০ কোটি টাকা, শিল্প তালুক তৈরিতে ১,৫০০ কোটি টাকা, পরিকাঠামোর জন্য অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ শিল্প সম্পর্কে কিঞ্চিত আগ্রহ দেখালেও, সেচে অন্তর্বর্তী বাজেটের তুলনায় ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ হ্রাস কৃষিকে অবহেলাই দেখাচ্ছে, সংখ্যালঘুদের প্রতি যে অবহেলা বাজেটে প্রকট। সেক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ অন্তর্বর্তী বাজেটের ৫৭১৩ কোটি টাকার তুলনায় ৬২ শতাংশ কমে ২,১৬৫ কোটি টাকা হয়েছে যা ২০২৪-২৫ সালে প্রকৃত ব্যয় ৩,১১৮ কোটি টাকার তুলনায়ও ৩০ শতাংশ কম। সংখ্যালঘুদের প্রতি এই বিদ্বেষ মুখ্যমন্ত্রীর বচন থেকে বাজেটের পাতায় প্রকট হয়েছে। যে সব ভ্রমণ সার্কিটের কথা বলা হয়েছে তাতে হাজারদুয়ারি বা ভিক্টোরিয়া, নাখোদা মসজিদ বা সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালের উল্লেখ নেই হেরিটেজ হিসেবে, উল্লেখ রয়েছে  মাত্র কয়েক দশক আগে সৃষ্ট মায়াপুরের। আর সেই ইসকনকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতার বিদ্যালয়ের শিশুদের খাদ্য সরবরাহের, যা সম্ভবত নিরামিষই হবে। এভাবেই এই বাজেট বাঙালির খাদ্যাভ্যাসেও ঢুকে পড়েছে। মনে হয়, সেই জন্যই মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ৩ টাকা ২২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে, এর পরে হাসপাতালেও নিরামিষ খাবারের উপকারিতা খুঁজে পাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যেমনটা পেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেও খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ইসকন পেয়ে যাবে।

একদিকে বাজেট যেমন বকলমে নিরামিষ খাবারের ওকালতি করছে তেমনি তা রাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণের উদ্যোগের ঘোষণাও করেছে। সেগুলিকে শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত করে তার শেয়ার বিক্রি করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের দোকান ও প্রতিষ্ঠান (শপ এন্ড এস্টাবলিশমেন্ট) আইনকে লঘু করে সারা রাত তা খুলে রাখার ব্যবস্থা হবে, আধুনিক হয়ে উঠবে রাজ্য, রাউন্ড দ্য ক্লক শপিংএর সুবিধার বন্দোবস্ত করে। সেই রাজ্যেই গোশালা খোলার জন্যেও বাজেট দরাজ, ১,০০,০০০ টাকার অনুদান তাদের জন্যও বরাদ্দ।

 

0 Comments

Post Comment