পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

“আমার বিস্ময় জাগে নিষ্ঠুর শৃঙ্খল দুই হাতে”... তবুও শিল্পীরা আঁকে ...

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 201 view(s)
  • লিখেছেন : লাবণী জঙ্গী
আজকে আমার দেশে যখন একটি সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু বছর ধরে মানুষের মধ্যে বিভেদ বাড়াচ্ছে; বন জঙ্গল কেটে বন্ধু পুঁজিপতিদের হাতে মাটির নীচের শেষ জলের বিন্দুটুকুও বেচে দিতে বদ্ধপরিকর; সেই সরকার তীব্র উল্লাস প্রচুর টাকার দম্ভ আর রাষ্ট্র ক্ষমতার বড় অংশ চুরি করে যা খুশি তাই করছে; এত কিছুর মধ্যেও কোনো একজন শিল্পীর দেওয়ালকে তারা ভয় পায়, ভয় পায় তাঁর আঁকা সেই খিদে পেটের জল শুকনো চোখের স্কেচগুলোকে সেই জন্যেই ওরা চিত্তপ্রসাদের ছবি মুছে দেয়।

চারিদিকে যখন মানুষের তৈরি করা অনাচার অবিচারে মানুষের প্রাণ যায়, মানুষ তাঁর শিকড়বাকড় বাস্তু জমি থেকে শুরু করে নুন্যতম বেঁচে থাকার অধিকার না পেয়ে তিলে তিলে মারা যায়; সেই ইতিহাস কেতাবে থাকে কয়েকটা লাইন হয়ে অথবা কয়েকটা আনুমানিক সংখ্যা অথবা একটি বড় কোন ঐতিহাসিক ‘ঘটনা’র নাম হিসেবে। কিন্তু সেই আর্ত মানুষের কি নাম ছিল না, তাঁদের পরিচিতি কি, তাঁরা কেমন দেখতে তাঁদের সম্পর্কিত মানুষেরা তাঁদের বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে তাঁদের চোখের কোণাগুলো কেমন ছিল? শুধু কি তাঁরা ইতিহাসের বিপর্যয় কাহিনীর কতক সংখ্যা বা চরিত্র মাত্র ? এই প্রশ্ন আমাকে আমাদেরকে তাড়া করে নিয়ে বেরিয়েছে গোটা কৈশোর আর যৌবনের শিক্ষা সিলেবাসে। সেই কৈশোরে স্কুলে ফোর হবে হয়তো নাকি সিক্স মনে নেই, কঠিন সাল তারিখের ইতিহাস বইয়ের মধ্যে পড়লাম আরেকটা কঠিন শব্দ “বাংলার মন্বন্তর” এখনও মনে আছে এই কঠিন মন্বন্তর শব্দটা উচ্চারণ করতে কিংবা বানান লিখতে কতবার হোঁচট খেয়েছি। তাও সিলেবাস মুখস্ত করে পরীক্ষার খাতায় লিখে এসেছি বাংলার দুই মন্বন্তর এর কথা এক ৭৬ আর এক পঞ্চাশের মন্বন্তর। তবে যেহেতু সিলেবাসের ইতিহাস আর হঠাৎ হঠাৎ পাঠ্যে ঢুকে যাওয়া বাংলার সন তারিখ আর ইংরেজির সন তারিখ প্রায়শ গুলিয়ে ‘ঘেঁটে ঘ’ হয়েই যেত; যেমন বাংলার ১১৭৬ যা ইংরাজি সাল অনুযায়ী ১৭৭০ আবার বাংলার ১৩৫০ যা ইংরাজি ১৯৪৩ এর মন্বন্তর। তবে ভাষার ক্ষেত্রে কিশোরীবেলাতে যে কঠিন মন্বন্তর আর দুর্ভিক্ষ শব্দদুটির সাথে পরিচয় হয়েছিল সেই শব্দকে সহজ করে বুঝতে শিখিয়েছিল মা; মায়ের বিবরণে তাঁর শৈশবে দেখা স্মৃতি থেকে উঠে আসতো কিছু কথা, যেগুলো বাংলার ছিয়াত্তর বা পঞ্চাশের মন্বন্তর নয় বরং তাঁর স্মৃতিতে গ্রামের আরেক ‘খুদার সময়ের’ বিবরণ; তা ছিল ১৯৬৬ সময়ে থেকে চলা টানা দশ পনেরো বছরের মানুষের খিদে আর খিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, মানুষের দেশ হারিয়ে খিদে পেটে শরণার্থী শিবিরে আসা, মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের এপারের বাংলার কথা খিদে আর মানুষের মৃত্যু এমন শব্দগুলো যেন চিরন্তন; প্রজন্মের পড় প্রজন্ম বহন করে চলাটাই যেন তার নিয়তি। আব্বার কাছে শুনেছি ভুখা মানুষের মিছিলের কথা, ভুট্ট মাইলোর গল্প, প্রতিরোধের গল্প। আমার নদীয়া জেলার ধুবুলিয়া বাড়ি ছিল, সে কারণে কৃষ্ণনগরে ৬৬-র খাদ্য আন্দোলনের যে তীব্র প্রভাব পরেছিল সেই ইতিহাসের স্মৃতি আমারা বহন করেছি, কতবার আব্বার কাছে শুনেছি খাদ্য আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত কিশোরের কথা।

 

পাঠ্য ইতিহাস বইয়ের পাতাতেই যতদূর মনে পড়ে কোথাও যেন রুগ্ন পেট মোটা অনাহার কাতর আমাদের পূর্বজদের ছবি দেখেছি। খিদে পেটের মানুষের ছবি। সেই প্রথম ছবি ছিল হয়ত শিল্পী চিত্তপ্রসাদের কোন ছবির অংশও হতে পারে; যা মন্বন্ত্বর নিয়ে লেখার পাশে রাখা ছিল হয়তো অবহেলার সাথেই। মাকে কতবার বলতে শুনেছি গ্রামে ইছা চাচা আর পুরু চাচাদের আরও অনেকের কথা যাঁদের রুগ্ন শরীর ফোলা পেটে মাটির দাওয়াতে নিস্পলক বসে থাকতে থাকতে মরে যেতে দেখার স্মৃতিকথা বা চাষিবাড়িতে ফ্যান চাইতে আসা দিন মজুর পরিবারের মেয়েদের কথা।

  

যাইহোক এই লেখা মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষ নিয়ে নয় একজন শিল্পী যিনি মন্বন্ত্বরের বাংলা অর্থাৎ ১৯৪৩ এর সময়কে লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন তাকে নিয়ে লিখতে বসা। কিন্তু লেখার শুরুতেই মাথায় ঘুরতে থাকা যে প্রশ্নখানি ছিল তা হল আমরা পাঠ্যবইয়ের সিলেবাসে যে দুর্ভিক্ষপীড়িত সময় মানুষ আর আনুমানিক সংখ্যার কথা পড়ে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছিলাম, সেখানে কোন একটা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত কারণেই যেন দুর্ভিক্ষ বা মন্বন্ততরের ইতিহাস বুকের মধ্যে দলা পাকানো কষ্ট তৈরি করেনি। উদার অর্থনীতির নতুন ভারতে আমরা যারা নব্বই দশকে বড় হয়েছি বা তারো পরে জন্মেছি, এই সব ইতিহাসগুলো আমাদের কাছে কেতাবি সিলেবাসের পাঠ্য ছাড়া তেমন কিছু বড় মনে ধাক্কা দেয় নি; এই কথা স্বীকার করে নেওয়াই ভালো। কিন্তু ওই যে একটা দুর্ভিক্ষ থেকে আরেকটা দুর্ভিক্ষ আর মানুষের চলমান খিদে পেটের যে ইতিহাস তাঁর থেকে আমরা কোন প্রজন্ম কি আদেও রেহাই পেয়েছি। আমরা কি দেখিনি লক্ষ লক্ষ শ্রমিক যখন খিদে পেটে গ্রামে ফিরবে বলে বেরিয়ে পরেছিল রোগ আতঙ্ক সব পেরিয়ে দুটো পা সম্বল করে হাজার হাজার কিলোমিটার খালি পেটে হেঁটেছে; সে তো আমাদের সুখী সময়ের বুকেই যখন ভারত চন্দ্রজান পাঠিয়ে নয়া ন্যাশেনালিজমের ভাষা রচনা করেছে তাঁর ঠিক দুই এক বছর আগে জামলো মাকদম নামের এক কিশোরী মেয়ে লঙ্কা ক্ষেতে কাজে গিয়েছিলো তেলেঙ্গানাতে করোনার সময়ে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরতে চাওয়া প্রবল আকাঙ্ক্ষা খালি পেট

দুটো পা সম্বল করে হাঁটা দিয়েছিল ছত্তিসগড় এর দিকে... আচ্ছা ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪ সিভিল সাপ্লাই গোডাউনের বারান্দায় যে কিশোরী মেয়ে আমিনা আর তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে বসেছিল সেই কিশোরী মেয়েটার থেকে জামলো মাকদম এর মধ্যে সময় ছাড়া কি আর খুব তফাৎ? আমরা কি শিল্পী চিত্তপ্রসাদের সেই ছবিটাই দেখছি না, যেখানে গাছের নিচে ক্লান্ত শ্রান্ত খিদে পাওয়া শরীরগুলো বিশ্রাম নিচ্ছে। করোনার সময়ে একদল মানুষ যারা খিদে পেটে রেললাইনের উপর ঘুমিয়ে পরেছিল সেই ক্লান্ত শরীরগুলো কি আলাদা; খিদে পেটে ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলা মানুষের শরীর সে ১৭৭০, ১৯৪৩, ১৯৪৭, ১৯৬৬, ১৯৭১, বা ২০২০-২১-২২। আসলে কোন কোন শিল্পী হয়তো এমন কিছু শাশ্বত ছবি এঁকে ফেলেন যে ছবি অতীত বর্তমান ভবিষ্যতের হয়ে ওঠে। তেমন কোন শিল্পীকে শাসকের ক্ষমতার দম্ভ  চাইলেও ছাই চাপা দিয়ে পার পেয়ে যায় না। পার পেয়ে যাবেনা; সেই ছাই উড়িয়ে যে কালী কালো দেওয়াল থেকে দেওয়ালে, এক সময় থেকে অন্য সময়ে  সেসব ছবি প্রবাহিত হবে বলেই বিশ্বাস। আর এই বিশ্বাস মিথ্যা নয়।

 

গত কয়েকদিন আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সরকারের প্রণোদনাতে চিত্তপ্রসাদের একটি পোট্রেট গ্রাফিটি আর ছবির উপর চুন কালী লেপে দেওয়ার ছবি এলো সামনে। তখন যেন আরও অনিবার্যভাবে প্রকট হয়ে উঠলো তাঁর শিল্প। আমি আবার পুনরায় ফিরে গেলাম ‘ক্ষুধার্ত বাংলার’ তাঁর ছবির কাছে। এবার খানিক নতুনভাবে তাঁর ছবি দেখা শুরু করলাম। যদিও বলে রাখা ভালো এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে  সেই জায়গা যেখানে আমি ২০১১ সালে পড়তে এসে চিত্তপ্রসাদ নামের এক স্ব-শিক্ষিত শিল্পীর কথা আর তাঁর শিল্পের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম  বিস্তারে। অবাক চোখে মানুষের প্রতিরোধের ইতিহাস, ভুখা মানুষের ইতিহাসকে রেখা দিয়ে লিখে রাখা এমন শিল্পীর কাজ দেখে প্রবলভাবে আন্দোলিত হই। কারণ গোটা বাংলার আমরা সকলেই জানি খিদের চলমান ইতিহাস আর একটু ফ্যানের সন্ধানে হেঁটে চলা সারিবদ্ধ মানুষের কখনও শেষ না হওয়া পথের কথা। যাইহোক এবার পুনরায় যখন চিত্তপ্রসাদের রেখা দিয়ে আঁকা ‘ক্ষুধার্ত বাংলার’ সেসব ছবির কাছে। খুঁজে পেলাম আমিনা খাতুন ও তাঁর ভাই, আব্দুল রেহেমান, মোতিলাল গুইন, লু রাজমল, তরুণ মণ্ডল, আহমেদ আলী মোল্লা, এক বাকরুদ্ধ মুসলমান বালক, কমরেড শৈলেশ প্রভাত, বৃদ্ধা মেহেরজান বিবি, নমঃশূদ্র পেয়ারি মোহাল মালী, আলাউদ্দিন, অচ্ছুত শ্রেণীর বিমলা ঋষি, কৃষি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বাসনা কৈবর্ত, উপেন্দ্র ঋষি ও তাঁর তিন সন্তান, ফুলবার বিবি, সতিশ দাস, সুবল মিস্ত্রী, কাশেরুদ্দিন, গণী কারিগর, কবিরাজ ও তাঁর স্ত্রী, রাধাচরন মণ্ডল, ফাতিমা খাতুন, সালিমা খাতুন, সরজুলা  কৈবর্ত, সুমন্ত কৈবর্ত, আলী আকবর, অনাথ নামহীন বাচ্চারা, যোগেশচন্দ্র দে, বিকার্নভ বর্মা , পূর্ণা শশী, কনকসার... এমন অসংখ্য নামের মানুষের মুখ চোখ শরীর, খিদে আর চোখের কোণাতে কোথাও একটা এমন কিছু যা আমাকে কৈশোরের স্কুল সিলেবাসে পড়া একটুও ছুঁতে না পাড়া কঠিন শব্দ মন্বন্ত্বর থেকে অনেক দূরে ঝটকা মেরে ফেলে দিল।

 

যেখানে নিয়ে ফেলল সেই জায়গা থেকে আমার চারিপাশে ছিয়াত্তর, পঞ্চাশ, সাতচল্লিশ, ছেষট্টি, একাত্তর, বিরানব্বই, দুই, তেরো, উনিশ কুড়ি চারিপাশে যেন সব একাকার হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে সময়কাল আর চারিদিকে নানা সময়ের খিদে পেটে মানুষের চোখের কোণ...আর শিল্পীর কাছে এটা শিখতে পারি এই প্রতিটা সময়ের প্রতিটা মানুষের নাম ঠিকানা পরিচিতি আছে, তারা শুধুই সংখ্যা আর শব্দের ভিড়ে হারিয়ে যাবেন না; তাঁদের নাম পরিচিতি নিয়ে প্রতিবার লেখা হবে নতুন সময়ের মানুষের প্রতিরোধের ইতিহাসও...

এখন এসব ছবি রেখা আর নিজের বাস্তব সময় যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে উঠছে; ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে চারিদিকে সেসব জল শুকনো চোখের কোণা; সেখানে সেই সূক্ষ্ম গ্রন্থিতে শুধু এটুকু জমা প্রতিশ্রুতি, যদি ফিরতে হয় তবে চোখের মাঝে আদিম তীব্র প্রেম নিয়ে প্রতিশোধ আর প্রতিরোধ হয়ে ফিরে আসার। শিল্পী চিত্তপ্রসাদের পরবর্তী ছবিতে সে প্রতিরোধ ফিরে এসেছে বারবার; আর তিনি আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন একজন শিল্পী আসলে সময়কে পারাপার করে চলতে পারে, সে তাঁর নিজস্ব বয়ানের রেখার মাধ্যমের ভাষা দিয়ে তো নিশ্চয় পারে। নইলে যাদবপুরের নতুন প্রজন্ম ছেলে মেয়েরা দেওয়ালে চিত্তপ্রসাদের ছবি এঁকে রাখে কেন; আর ক্ষমতা সেই ছবিতে চুনকালি লেপে দিয়ে গেলে আরও মূর্ত হয়ে ওঠে কেন শিল্পী....

আর তাঁর ছবির পাশে লেখা নামগুলো বারবার ফিরে আসে ভারতের শ্রেণী জাত আর সম্প্রদায়ের নিরিখে কারা মন্বন্তর, মহামারী, দাঙ্গা, প্রলয় এলে কারা তাঁর বড় শিকার হয়। আজকে আমার দেশে যখন একটি সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু বছর ধরে ফ্যাসিবাদের ডিজাইনে মানুষের মধ্যে বিভেদ বাড়াচ্ছে; সব লণ্ডভণ্ড করে দিতে চাইছে, বন জঙ্গল কেটে বন্ধু পুঁজিপতিদের হাতে মাটির নীচের শেষ জলের বিন্দুটুকুও বেচে দিতে বদ্ধপরিকর; সেই সরকার তীব্র উল্লাস প্রচুর টাকার দম্ভ আর রাষ্ট্র ক্ষমতার বড় অংশ চুরি করে যা খুশি তাই করছে; এত কিছুর মধ্যেও কোনো একজন শিল্পীর দেওয়ালকে তারা ভয় পায়, ভয় পায় তাঁর আঁকা সেই খিদে পেটের জল শুকনো চোখের স্কেচগুলোকে, ভয় পায় আসলে খিদে নিয়ে বারবার মরে যাওয়া সেই সব মানুষের নামকে যারা কেউ হিন্দু ছিল না, মুসলমান ছিল না, বা  আদিবাসী ছিল না; তারা খিদে নিয়ে বারবার মরে যাওয়া মানুষের দল; তাঁদের ব্রিটিশ রাজত্ব ভয় পেয়েছিল আজকের শাসক ভয় পায়; কারণ শাসকেরা জানে কোন একদিন খুব শিগগির আদিম তীব্র প্রেম নিয়ে প্রতিশোধ আর প্রতিরোধ হয়ে ফিরে আসার এই মানুষেরা শুধু কোন সংখ্যা নয় তারা এক সত্তা এক যৌথ সত্তা। যারা তাঁদের খিদে পেটে রেখে হত্যা করেছে বারবার তাঁদের জঙ্গল কেড়ে নিয়েছে, মাটির পাথর পাহাড় কেটে খুঁড়ে শিশুর অযোগ্য পৃথিবী করে তুলেছে তাঁদের কোন রেহাই নেই...

 

তারা রেহাই পাইনি পাবে না ... ততদিন শিল্পীর ছবি আর কবির লেখা কবিতাগুলো আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যে আলোটুকু দরকার তা জুগিয়ে যাবে; তৈরি হবে নতুন আরও রেখা নতুন আরও কবিতা... যেভাবে অতীতেও হয়েছে শেষে সুকান্তর কবিতাটুকু শ্লোগানের মতো দেওয়াল থেকে দেওয়ালে ছড়িয়ে পড়বে

“আমার মনের প্রান্তে নিয়ত ছড়ায় দীর্ঘশ্বাস—
আমি এক দুর্ভিক্ষের কবি,
প্রত্যহ দুঃস্বপ্ন দেখি, মৃত্যুর সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
আমার বসন্ত কাটে খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষায়,
আমার বিনিদ্র রাত্রে সতর্ক সাইরেন ডেকে যায়,
আমার রোমাঞ্চ লাগে অযথা নিষ্ঠুর রক্তপাতে
আমার বিস্ময় জাগে নিষ্ঠুর শৃঙ্খল দুই হাতে।
তাই আজ আমারো বিশ্বাস,
“শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস।”
তাই আমি চেয়ে দেখি প্রতিজ্ঞা প্রস্তুত ঘরে ঘরে,
দানবের সাথে আজ সংগ্রামের তরে”

 

*দানব শব্দের রূপকের বাইরে পরিবর্তে শাসক আর শোষক শব্দের রাখা যায় 

 

0 Comments

Post Comment