(১)
বাংলায় সেট তত্ত্ব (Set Theory) বলতে বোঝায় বাস্তব বা কাল্পনিক বস্তুর সুনির্দিষ্ট ও সুসংজ্ঞায়িত সংগ্রহ নিয়ে গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার একটি শাখা। যেখানে প্রতিটি বস্তুকে উপাদান (element) বলা হয় এবং সেটগুলি বিভিন্ন গাণিতিক ধারণা প্রকাশের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে ... ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, আমি গণিত চর্চা করতে বসিনি। আমি নিজেও গণিত বিষয়ে বড়ই কাঁচা। আমি সেই ২০১৯ সাল থেকে শুনে আসা সেটিং তত্ত্বের সন্ধান করছিলাম। পাঠ্য পুস্তক স্তরে দেখলাম সে বড় জটিল ব্যাপার, আমার মোটা মাথায় ঢুকবে না।
প্রথমে শুনেছিলাম বিজেপি আর তৃণমূল পশ্চিমবাংলায় নির্বাচনে সেটিং করেছে। সেটিং করে সিপিএমের প্রায় ২৮% ভোট বিজেপির ঝুলিতে ট্রান্সফার করেছে। মানে পকেট মাররা যেমন কারো পকেট মারার পর, লব্ধবস্তুকে অন্যত্র চালান করে দেয়, তেমনি। তৃণমূল সিপিএমের ২৮ শতাংশ ভোট চুরি করেছে, সেটাও নিজের কাছে রাখেনি পাঠিয়ে দিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। সেই নাদান ভোট অন্ধ গলিতে পথ হারিয়েছে। কিছুতেই সে আর ফিরে আসতে পারছে না নিজের ঘরে। এক ভুলভুলাইয়ায় দিশেহারা। এটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু কি করে এত লক্ষ কোটি ভোট চুরি হয়ে গেল, সিপিএম টেরও পেলো না। কোষাগরের দরজা কি খোলা রাখা ছিল, সেটা কিছুতেই বুঝতে পারছি না।
তারপর এই তথ্যটা আরো মাথা গুলিয়ে দিচ্ছে। ধরুন ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষা বলার অপরাধে বেধড়ক মার খাচ্ছে বাঙালি, এমনকি মারা যাচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করে কাউকে কাউকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে। শুনছি এটাও নাকি তৃণমূল ও বিজেপির সেটিং। তা না হলে বাঙালি নিধন করে বাংলায় বিজেপি নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে যাবে কেন? আর তৃণমূলকেই বা বাঙালির রক্ষাকর্তা হবার সুযোগ করে দেবে কেন? তার মানেই তো সেটিং।
এই যে এসআইআর এর নামে পশ্চিমবাংলার ভোটারদের দুর্বিসহ হয়রানি চলছে, এখনো আশঙ্কা প্রায় দেড় কোটি মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে ভোটার তালিকা থেকে। আর তালিকা থেকে বাদ পড়ার কারণ তারা নাগরিক নয়। প্রথম দফায় মাত্র ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেল। এই বাদ পড়াটা ছিল স্বাভাবিক। কারণ মৃত, অনুপস্থিত, দু জায়গায় নাম, এসব কারণে ওই বাদ পড়ার সংখ্যাটা ছিল স্বাভাবিক। এরপর এলো এক নতুন সূত্রায়ন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। বয়েস, নামের বানান, এসবের অজুহাতে প্রায় এক কোটি পঁয়ত্রিশ লক্ষ মানুষকে সশরীরে হাজিরার নোটিশ। বিদেশ থেকে নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনকেও বাদ দেওয়া হলো না। জাতীয় দলের ক্রিকেট খেলোয়াড় মোহাম্মদ সামিকেও। আর ১০২ বছর বয়সী ভোটার যিনি ১৯৫২ সাল থেকে ভোট দিচ্ছেন, তাকেও না। প্রায় ৮০ জন ভোটার ও বিএলও আত্মঘাতী হয়েছেন। প্রতিদিনই সংখ্যাটা বেড়ে চলেছে। এর ফলে বাঙালি চেতনায় একটা তীব্র এসআইআর বিরোধিতা কাজ করবে। সেটা তৃণমূলকে আগামী ভোটে মাইলেজ দেবে। অর্থাৎ কিনা বিজেপি আর তৃণমূলের সেটিং।
আবার ভাবুন, আরজিকর কান্ডে এতো বড় রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ দেখলাম। সর্বত্র বিচারের দাবি, উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আর সেই জাস্টিসের তদন্তভার সিপিএম সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তুলে দিলেন সিবিআই এর হাতে। যে সিবিআই শুধুই মামলা গিলে খায়, কোন মলত্যাগ করে না। মানে মামলার সুরাহা হয় না। কোন আউটপুট নেই। এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের সিবিআই এর সাথে রাজ্য সরকারের সেটিং। শুধু মাঝখানে কাবাব মে হাড্ডি বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের ভূমিকাটা বুঝতে পারছি না। তাই সেটিং তত্ত্বটা একটু বুঝতে চেষ্টা করছিলাম। মাথায় গুলিয়ে যাচ্ছে কার সাথে কার সেটিং।
আবার ভাবুন এ রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্তের ভার নিল সিবিআই। সেও তো এই বিকাশ বাবুদের দাবিতেই। তারপর অর্ধ দশক হয়ে গেল সিবিআই এর কোন আউটপুট নেই। একে একে অভিযুক্তরা জামিন পাচ্ছে। গরু পাচার কান্ডে সিবিআই, সেখানেও অনুব্রত থেকে তার কন্যা সকলেই জামিন পেল। অতএব এখানেও সেটিং।
এমনকি ইডি তৃণমূলের নির্বাচনী পৃষ্ঠপোষক ও কৌশলী আইপ্যাক এর দপ্তরে হানা দিল। তারা তৃণমূলের আসন্ন নির্বাচন কৌশল চুরি করতে এসেছিল। ঝড়ের গতিতে তৎপরতার সাথে
তৃণমূল সুপ্রিমো শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দপ্তরে পৌঁছে গিয়ে ইডির অফিসারদের হাত থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল ও হার্ডডিস্ক ছিনিয়ে নিলো, মামলা করলো হাইকোর্টে, সুপ্রিম কোর্টে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর করলেন। ইডি পাল্টা মমতার বিরুদ্ধে এফ আই আর করলো। কিন্তু ইডি মমতাকে গ্রেফতার করল না। কমরেড সেলিম দাবি করলেন এখনই মমতাকে গ্রেফতার করা হোক। এর পরেও বলবেন সেটিং নয়।
স্পষ্ট বুঝতে পারছি সবটাই সেটিং, বিজেপি আর তৃণমূলের। কিন্তু দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে, বাংলা বলার অপরাধে মৃতের সংখ্যা শতাধিক হয়ে গেল, এস আই আর এর ফলশ্রুতিতে আতঙ্কিত ভোটার ও অবসাদগ্রস্ত বি এল ওদের মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা পৌনে একশো হতে চলল, সেটিং তত্ত্ব তো মানলাম। তাহলে আপনারা কি করবেন এবার? কি করছেন? পশ্চিমবঙ্গবাসী সেটিং মেনে নিয়েছি। এবার কি করবেন? এইখানে এসেই পথ হারিয়ে কিছু বুঝে উঠতে না পেরে একটু তত্ত্ব টাকে বুঝতে চাইছিলাম।
সেটিং ভাঙ্গার বামপন্থী কৌশলটা কি একটু স্পষ্ট করবেন? খোদ কেরলে সিপিএমের ভোট প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে পৌর স্বায়ত্তশাসন নির্বাচনে। আর সেই ভোট ভাগাভাগি হয়েছে বেশিটা বিজেপিতে, আর কিছুটা কংগ্রেসে। ওখানেও সেটিং। আর বিহারে যে বিপর্যয় ঘটলো সেখানে কার সাথে কার সেটিং? সেখানে তো কংগ্রেস আপনার সহযোগী, তৃণমূল দল নেই। তাহলে? হিং টিং ছট প্রশ্ন এসব মাথার মধ্যে কামড়ায়।
এখন তো মনে হচ্ছে কেরলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসকে দুর্বল করার জন্য বিজেপিকে মদত দিয়ে শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছিল সিপিএম। সেই আহাম্মকী কৌশলে সেখানে ফেঁসে গেছেন। বিজেপি একটা সাংসদ আসনও জিতে নিয়েছে। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে কংগ্রেস এবং বাম উভয় তাদের সমর্থন ও মদত জুগিয়েছে বিজেপিকে। ২০১৯ সালে কোন পুলওয়ামা নয়, প্রধান শত্রু তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে সিপিএম তার ২৮ শতাংশ ভোট হস্তান্তর করেছে বিজেপির ঝুলিতে। এখন তার লজ্জা নিবারণের লুঙ্গিটুকু অবশিষ্ট নেই, সর্বত্র জমানত জব্দ। তবে কি নিজেদের তৈরি সেটিং কৌশল ব্যর্থ হওয়ার দায় চাপাতে চাইছে তৃণমূলের ঘাড়ে পাল্টা সেটিং সেটিং চিৎকার করে? পকেট মার নিজেই ছুটছে আর চিৎকার করছে, পকেটমার পকেটমার, ধরো ধরো।
(২)
তবে মানতেই হবে সিপিএম একটি কমিউনিস্ট পার্টি। মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান কারণ ইহা সত্য। কেন সত্য? কারণ ইহা বিজ্ঞান। সমস্যা হল বিজ্ঞান নিজেই তো ধ্রুব সত্যকে স্বীকার করে না। সে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সতত বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল। কিন্তু সিপিএমের বিজ্ঞান অজর অক্ষয়। তার প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর তাত্ত্বিক ভিত্তি থাকে, তা আরেকবার প্রমাণ হবে এবার। মনে করে দেখুন ১৯৪২ সাল ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণবিদ্রোহ ভারতছাড়ো আন্দোলন। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে। সুভাষচন্দ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের এই মাথা ব্যথার সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাইছেন। কিন্তু উপলব্ধি করলেন অহিংস সত্যাগ্রহের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের বাইরে কংগ্রেস কোন কর্মসূচি নেবে না। তখন তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করলেন। লক্ষ্য ছিল, একদিকে বাইরে থেকে ব্রিটিশ বিরোধী শক্তির সাহায্য পুষ্ট হয়ে বন্দী ভারতীয় সেনাদের নিয়ে তৈরি আজাদ হিন্দ বাহিনী ভারত আক্রমণ করবে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে জনগণ ব্রিটিশ বিরোধী গণঅভুত্থান শুরু করবে এই যুগোপৎ সাঁড়াশি অভিযান ভারতের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করবে।
কমিউনিস্ট পার্টি কিন্তু তত্ত্বগতভাবে স্বীকার করে যে বিশ্বযুদ্ধ হল সাম্রাজ্যবাদীদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক একটা লড়াই। যে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একপক্ষ অপরপক্ষের উপনিবেশ ও বাজার দখল করে। কারণ সমগ্র পৃথিবীর উপনিবেশ ও বাজার সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে বন্টন হয়ে গেছে। এই সময়ে কোন হঠকারী ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধ বাঁধানোর মধ্য দিয়েই পারস্পরিক বাজার পুনর্বন্টন সম্ভব। এই সাম্রাজ্যবাদী বাজার দখলের লড়াইয়ে শ্রমিক শ্রেণীর কোন স্বার্থ নেই। তারা নিজ নিজ দেশে সাম্রাজ্যবাদ এবং পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনা করবে। তার ফলে কার্যত বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ দুর্বল হবে। এটাই কমিউনিস্ট দলগুলির ভূমিকা হবে।
কিন্তু ১৯৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থন করতে পারেনি। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক পক্ষ ছিল অক্ষশক্তি এবং অপরপক্ষ মিত্র শক্তি। এই মিত্রশক্তির অন্যতম শরিক ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাহলে কমিউনিস্ট পার্টিকে বিশ্বযুদ্ধের নতুন সূত্রায়ন করতে হয়। তারা ঘোষণা করল, যেহেতু মিত্র পক্ষের শরিক হলো সোভিয়েত ইউনিয়ন অতএব এই যুদ্ধ জনযুদ্ধ। সোভিয়েত পিতৃভূমি, সমাজতন্ত্রের মক্কা কে সুরক্ষিত করা, মিত্রপক্ষের পক্ষ অবলম্বন করা আশু কর্তব্য। অতএব ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির official stand point was not to disturb and embarrass the British war efforts. এই সিদ্ধান্তেরই ভিন্ন মুখ ছিল ১৯৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করা। এমনকি ব্রিটিশ রাজশক্তির কাছে এই ধরনের আন্দোলনকারীদের নামের তালিকা, গোপন কার্যক্রম প্রকাশ করা, সতীনাথ ভাদুড়ীর জাগরী উপন্যাসে এর নগ্ন ও নির্লজ্জ বিবরণ আছে। তৎকালীন পার্টি মুখপাত্র জনযুদ্ধের পাতায় পাতায় সুভাষের কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র তার সাক্ষ্য বহন করে। আর আমরা জানি, এই সময়েই হিন্দু মহাসভা এবং আরএসএসের সিদ্ধান্ত ছিল ব্রিটিশ রাজের সহযোগী শক্তি হিসেবে দেশের ভেতরে কাজ করা ও বাইরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করে সরকারকে সাহায্য করা। দুই পক্ষের কি অসাধারণ সাদৃশ্য। যদিও অধ্যাপক জ্ঞানেন্দ্র পান্ডে লিখেছেন : Though the formal Communist Party position in 1942 was in support of British war efforts .... many party members supported and even took a leading role in the Quit India movement in different parts of the country. জ্ঞানেন্দ্র পান্ডে আরও দেখিয়েছেন : ".....as some of those involved in the Quite India Movement in the Ghazipur district of UP recalled, the 'leadership' was Gandhi's but the spirit was that of Bhagat Singh."
গবেষক হিতেশ রঞ্জন স্যান্যাল দেখিয়েছেন :
most of the activists and supporters of the Kissan Sabha participated in the Quit India movement. Some of the Communist organisers such as Haren Mitra and Rabi Mitra of Keshpur also took a leading part in the movement. পার্টির আঞ্চলিক স্তরে ও জেলা স্তরের নেতারা সেদিন কমিউনিস্ট পার্টির উঁচু তলার সিদ্ধান্তকে মানতে পারেনি। তারা গ্রাউন্ড রিয়েলিটি অনুধাবন করে যথার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। তবে সেক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো পার্টিটা সজীব হতে হবে, অযান্ত্রিক হতে হবে।
আজ বিশ্ব রাজনীতিতে অনুরূপ আরেকটি সময় উপস্থিত হয়েছে সিপিএমের সামনে। বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিপরীতে চীন ও রাশিয়ান সাম্রাজ্যবাদ জোট বেঁধেছে এবং সেই জোটের (BRICS) সদস্য হল ভারত তথা মোদি সরকার। এটা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক ক্ষেত্রে জোটবদ্ধতা নয় গালওয়ান সমস্যা ভুলে কাছাকাছি আসছে চিন-ভারত ! নেপথ্যে শুল্কযুদ্ধে মার্কিন চাপ। চার বছর বন্ধ থাকার পর শুরু হয়েছে মানস সরোবর যাত্রাও। অপারেশন সিন্দুরে চীন পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন করার পরেও, এসসিও সামিটে হাসিমুখে পাশাপাশি দেখা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদি এবং শি জিনপিংকে। এবার ভারত সফরে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির একটি দল। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দপ্তরে বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। মনে রাখবেন বৈঠক করেছে পার্টি লেভেলে। এইরকম একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে "আগে রাম পরে বাম" তত্ত্বটার একটা তাত্ত্বিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে। ফলে আগামী নির্বাচনে এই বাংলায় সিপিআইএম ও বিজেপির ঘনিষ্ঠতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। কারণ যা ছিল কিছু নেতার মগজের কল্পনার বিষয়, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অজুহাতে তাত্ত্বিক ভিত্তি লাভ করবে। কমিউনিস্ট চিন ও কমিউনিস্ট রাশিয়ার সাধারণ মিত্র আরএসএস ও মোদি সরকার। এই কারণেই পার্টির সদ্যসমাপ্ত রাজ্য সম্মেলনে মোদি সরকার কে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিতে গিয়ে খুবই অস্বস্তিতে পড়েছিল পার্টি নেতৃত্ব। শেষকালে নব্য ফ্যাসিবাদ গোছের একটা পরিভাষায় আটকে যায়।