শ্যামলী অবশ্য নিজে থেকে সংসারের জন্য কিছু চাই নি। রুবের সব ইচ্ছেতেই ওর ইচ্ছে। মাঝে মাঝে রুব অনুযোগের সুরে বলে তোমার সংসার তুমি কিছু চাও না যে। আমিই কেবল তোমার সংসার সাজাতে ভেবে মরি।
শ্যামলী মুচকি হেসে বলল, তোমার ইচ্ছেই আমার আনন্দ।
রূব এবার শ্যামলীর কোল থেকে মাথা তুলে উঠে বসে হাত দুটো দিয়ে শ্যামলীর গলা জড়িয়ে ধরে বলল, বিয়ের পর কিন্তু আমি তোমাকে এত কাজ করতে দেব না। তখন তোমার কাজের ছুটি।
সংসারের কাজ করবে কে শুনি?
সুখদেব কাকা করবে।
শ্যামলী মুচকি হেসে বলল, তুমি যে বললে আমরা অনেক দূরে চলে যাবো। তা এ বাড়িতে না থাকলে শুকদেব কাকাকে পাবে কোথায় মহারাজ?
রূব বলল, সুখদেব কাকা আমাদের সঙ্গেই যাবে।
শ্যামলী মুখটা শুকনো করে বলল, আমার যে ভীষণ ভয় করে রুব। এসব স্বপ্ন মিথ্যা হয়ে যাবে না তো?
একইরকম ভাবে রুব নিজের হাত দুটো দিয়ে শ্যামলীর গলা জড়িয়ে ধরেই বলল, আমাদের এত ভালবাসা কখনো মিথ্যা হবে না দেখে নিও।
শ্যামলী ……! শ্যামলী……! গিন্নিমার প্রবল চিৎকারে শ্যামলী তাড়াতাড়ি রুবের বাহু বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে দ্রুত পা চালাল। কিন্তু বিছানার চাদরে শ্যামলীর পা আটকে যেতেই শ্যামলীর ভাঙ্গল।
ও! এতক্ষণ তবে স্বপ্ন দেখছিল সে!
আজ অবশ্য স্বপ্ন দ্যাখেনি শ্যামলী।
আজ সত্যি সত্যিই দুই পাখিতে উড়ে গিয়েছিল ইছামতীর তীরে নির্জন নিভৃত বাসে।
এই প্রথম দুজনে দুজনের কাছাকাছি।
এত কাছাকাছি এসেও শ্যামলী সব কথা বলতে পারল না রুবকে। শ্যামলী কিছু বলতে গেলে রুব হাত দিয়ে শ্যামলীর মুখ চেপে বলল, আজ থেকে আর কোনো না নয়।
শ্যামলী একই রকম নিরুত্তর।
রুব শ্যামলীকে আশ্বস্ত করে বলল, তুমি এত ভেবো না। বাবা মা আমাকে খুব ভালোবাসেন। আমার স্বপ্ন তাদের স্বপ্ন, আমার সুখ তাঁদের সুখ।
রূব অনুযোগের সুরে বলল, শ্যামলী বড্ড সেকেলে নাম। আমি তোমায় ও নামে ডাকব না।
শ্যামলী রুবের পিঠে মাথা রেখে বলল, তবে তোমার মনের মত নামে ডেকো।
রুব শ্যামলীর মুখের খুব কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল, শর্মি। তোমার পছন্দ?
শ্যামলী হেসে বলল, খুব।
ইছামতীর নিভৃত নিবাস। তির তির করে বাতাস বইছে গাছের কচি পাতার ওপর দিয়ে। এমন সুন্দর সময় প্রিয়তমের কাছে শ্যামলীর নতুন নামকরণ হলো শর্মি।
দুজনে দুজনকে এত কাছে পাওয়ায় যেন হঠাৎ করে সব কথা হারিয়ে গেছে। দুজনেই নিশ্চুপ।
সারাটাদিন এমনভাবে কাটার পর শ্যামলী ভারাক্রান্ত দৃষ্টি নিয়ে রুবের দিকে তাকাল। গলার স্বর নামিয়ে বলল, কিন্তু আমাকে যে কলকাতা ছাড়তে হবে রুব।
শ্যামলীর কথা শেষ না হতেই রুব শ্যামলীর হাত দুটো নিজের বুকের মধ্যে ধরে বলল, তুমি এই কথা বার বার কেন বলো। এমন কথা বোলো না শর্মি।
রুবের মুখ থেকে এই প্রথম শর্মি নামটা শুনে শ্যামলীর গা কাঁটা দিয়ে উঠল। রুবের হাতটা ধরে বসে রইল শ্যমলী। তারপর হঠাত রুবের কোলে মুখ গুঁজে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠতেই রুব বিস্মিত হয়ে বলল, কী হল শর্মী! কাঁদছ কেন?
দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল, জানি না। ভীষণ ভয় করছে যে রুব!
রুব বলল, মা কি তোমায় কিছু বলেছেন?
শ্যামলী অবনত মুখে বলল, না।
রুব শ্যামলীর হাত দুটো একসঙ্গে শক্ত মুঠোতে ধরে বলল, অবুঝ হয়ো না শর্মি। নিজেকে শক্ত করো। তোমার কিসের ভয়? কাকে ভয়? আমাকে বল।
শ্যামলী খুব শান্ত কন্ঠে বলল, তোমাকে হারানোর ভয়।
রূব চিন্তিত হয়ে বলল, তোমাকে কি কেউ কিছু বলেছেন?
শ্যামলী বলল না।
আরো বসে থাকলে এতটা পথ ফিরতে দেরি হয়ে যাবে।
উঠে পড়ল ওরা।
রুব খুব তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে শ্যামলীকে নামিয়ে দিয়ে গেল তিনতলা বাড়িটার গাড়ি বারান্দার সামনে।
শ্যামলী ঝটপট পা চালিয়ে সোজা চলে গেল নিচের তলায় শেষের ঘরটায়।
এ বাড়ির গিন্নীমা বিজয়লক্ষ্মী দেবীর তিনতলার ছাদ থেকে চোখ এড়াল না ব্যাপারটা।
২
সরোজ নায়েকের বড় ছেলে কোম্পানির কনফারেন্সে এ বার গোয়া যাচ্ছে। সরোজ নায়েক চেয়েছিলেন ছোট ছেলে যাক। বড় ছেলে ব্যবসাটা ভালো বোঝে। বড় ছেলে অফিসে কদিন না বসলে অফিসের একাউন্টস সুবীর ভৌমিক খাতায় গোলমাল করে লাখ টাকা সরিয়ে ফেলতে ওস্তাদ।
কিন্তু ছোট ছেলে কলেজের একটা অজুহাত দেখিয়ে গোয়া গেল না।
ব্যাপারটা সরোজ নায়েক ধরতে না পারলেও সরোজ নায়েকের স্ত্রী কিন্তু কিছুটা আঁচ করেছিলেন।
তখন থেকেই সরোজ নায়েকের স্ত্রী বিজয়লক্ষ্মী দেবী নড়ে চড়ে বসেছেন।
না। আর দেরি করলে সমুহ বিপদ। আত্মীয় পরিজন, সমাজ, পাড়া প্রতিবেশীর কাছে মুখ দেখানো যাবে না। সবাইকে কী জবাব দেবে ওরা। শেষে কিনা একটা বাড়ির ঝি ছেলের বৌ হল!
সকলের অলক্ষ্যে বিজয়লক্ষ্মী দেবীকে বিষয়টা খুব ভাবাচ্ছিল।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী যখন কপালে ভাঁজ নিয়ে চিন্তায় মগ্ন এই সময় রুব মায়ের ঘরে ঢুকে বলল, আমি কদিনের জন্য একটা আউট ডোর ট্যুরে যেতে চায়। তার জন্য কিছু টাকা দরকার।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী জিজ্ঞেস করলেন কত টাকা?
রুব বলল বিশ হাজার হলেই চলে যাবে।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী বললেন, আউট ডোর ট্যুর টা কোথায় যাচ্ছ তুমি?
রুব বলল, ভাবছি এবার দার্জিলিং ঘুরে আসব।
বেশ তো। দাদাকেও সঙ্গে নিও।
রুব চোখ কপালে তুলে বলল, দাদাকে?
প্লিজ মা। দাদাকে সঙ্গে নয়। দাদা সঙ্গে গেলে বাবার মতো শাসন করবেন। আমার বেড়ানোটায় মাটি হয়ে যাবে।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী একটু গম্ভীর হয়ে বললেন, পাথরের দেশে মাটি সঙ্গে থাকা ভালো। প্রয়োজনে কাজে লাগবে।
রুব বলল, কিন্তু মা আমি যে একা একাই যেতে চাই।
বিজয়লক্ষ্মী কী একটা বলতে গিয়ে থেমে গেলেন। তারপর বললেন, এখন তুমি এসো আমাকে বের হতে হবে।
রুব মুখখানা গম্ভীর করে বেরিয়ে গেলে বিজয়লক্ষ্মী দেবী খানিকটা অপ্রতিভ হয়ে ফোনের রিসিভারটা তুলে কল করে রিসিভারটা কানে ধরলেন।
ফোনের ওপার থেকে গম্ভীর কণ্ঠে জবাব এল এখন আমি ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করছি।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী ল্যান্ড ফোনের রিসিভারটা নামিয়ে রেখে হন হন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
মা ছেলের মধ্যে হালকা সুতোর মন কষা কষি রূবকে মাঝে মাঝে একটু বিব্রতই করছিল।
রুব নিজের মনেই এই ভেবে কষ্ট পাচ্ছিল মা যেন দিন দিন সেকেলে হয়ে পড়ছেন।
দাদাকে সঙ্গে নেওয়ার কি হল। আমার কি একা থাকার স্বাধীনতা নেই। একা ভাবনার জগতে ইচ্ছে ডানা মেলে ঘুরে বেড়াতে প্রাপ্ত বয়স্ক সকলেরই অধিকার আছে। পরক্ষণেই রুব কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে আপন মনেই বলল, মা কি শর্মির সঙ্গে ইছামতীর বেড়াতে যাওয়ার কথা কিছু জানতে পেরেছেন?
৩
রবিবারের সকাল। সরোজ নায়েক গাড়ি নিয়ে প্রতিদিনের মতো ময়দানে চলে গেছেন। দীপ রোববারের রুটিন মত বড় লঞ্চ এ চেপে গঙ্গায় প্রাতভ্রমণে বের হয়েছে। রুব তখনও বিছানা ছাড়েনি। রুব জানে আজ তার মা তাকে কপালে চন্দনের টিপ পরিয়ে, চুমো খেয়ে ঘুম থেকে তুলবে।
রুবের এমন ভাবনার মাঝেই বিজয়লক্ষ্মী দেবী রুবের ঘরে ঢুকে বললেন, আজ একটু দেরি হয়ে গেল রুব।
রুব বলল, আজ বিকেলে আমরা কোথায় বেড়াতে যাচ্ছি মা।
প্রতিবছর রুবের জন্মদিনে এ বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার রীতি।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী বললেন, আজ আমরা গঙ্গার ধারে চন্দন নগরের বাগান বাড়িতে যাচ্ছি।
আজ রাতে আমরা ওখানেই থাকব।
তবে তো বেশ হবে। তারপর কপালে একটু চিন্তা নিয়ে বলল, আমরা ওখানে কে কে থাকছি মা?
বিজয়লক্ষ্মী দেবী বলেলন, তোমার দাদা দীপ থাকছে। তোমার বাবাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন।
কথা গুলো বলে বিজয়লক্ষ্মী দেবী রুবের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে একটা চুমো খেয়ে বললেন, তৈরি হয়ে নাও। শুকদেব সব গুছিয়ে নিয়েছে। আমি বিকেলে যাবো। কতগুলো কেজো কথা বলে বিজয়লক্ষ্মী দেবী বেরিয়ে গেলেন।
সন্ধের পর বিজয়লক্ষ্মী দেবীকে একা গাড়ি থেকে নামতে দেখে রুবের কপালে চিন্তার ভাঁজ! মা একা কেন? শর্মি এল না?
নানা কথার পর বিজয়লক্ষ্মী দেবী জানালেন শ্যামলী ওদের গ্রামের বাড়ি চলে গেল। ড্রাইভার ওকে বাসে তুলে দিতে গিয়েছিল। তাই বিজয়লক্ষ্মী দেবীর আসতে এত দেরি।
সেদিন রুবের চোখে ঘুম এলো না। কেবল একটাই চিন্তা মাথায় অনবরত ঘুরপাক খেতে লাগলো। শর্মি রূবকে না বলে বাড়ি চলে গেল! কেউ ষড়যন্ত্র করে শর্মিকে বাড়ি পাঠিয়ে দিল না তো?
এতক্ষণ তেতলার ছাদে রুব পায়চারি করছিল। ঘরে ঢুকে বই এর আলমারি থেকে একটা বই নিয়ে টেবিলে আনমনে বসে রইল যে কতক্ষণ।
হুঁশ ফিরল রাত যখন প্রায় বারোটা।
শুকদেবের ডাকে। সরোজ নায়েক রুবকে ডেকেছেন।
রুব বাবার ঘরে ঢুকে দেখে বাবা সোফায় বসে। সিগারেট হাতে।
সরোজ নায়েকের পাশে সোফায় বসে দাদা দীপ।
সরোজ নায়েক রুবকে দেখে সামনের চেয়ারে বসতে বললেন।
তারপর সিগারেটে টান দিতে দিতে রুবকে বললেন, তোমার সঙ্গে কিছু জরুরী কথা আছে।
রুব বিস্মিত হল সকলকে এখানে একসঙ্গে দেখে। গলার স্বর নামিয়ে বলল, বলুন।
সরোজ নায়েক মেজাজি কণ্ঠে বললেন, কত দিন হল তুমি আমাদের পরিচারিকার সঙ্গে মেলামেশা করছ?
হঠাত বাবার মুখে এমন কথা শুনে রুব খানিকটা অপ্রস্তত হয়ে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে বিস্মিত কণ্ঠে বলল, বাবা!
সরোজ নায়েক আর একটু গলার স্বর নামিয়ে বলেলন, আশ্চর্য হলে নাকি?।
এবার দীপ একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলল, ভীষণ ডিসগাস্টিং ব্যাপার।
রুবের দিকে তাকিয়ে দীপ বলল, এসব কথা পাঁচজনে শুনলে সমাজে আমাদের মুখ দেখানোই দায় হয়ে পড়বে। তারপর সরোজ নায়েকের দিকে তাকিয়ে দীপ বলল, বাবা যত দ্রুত সম্ভব এর একটা ব্যবস্থা কর।
রুবের নীরবতা দেখে এবার আরো গলার স্বর চড়িয়ে সরোজ নায়েক রূবকে বললেন, কোন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছ না যে?
এতক্ষণ পর রুব একটু রাগত স্বরে বলল, আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নয়।
সরোজ নায়েক বললেন, আমি তোমার কাছে আমি জানতে চাই আমরা এতক্ষণ যা বললাম সে সব কী সত্যি?
রূব ভারী গলায় উত্তর দিল, হ্যাঁ। তারপর গম্ভীর হয়ে বলল, আর কী শুনতে চান বলুন।
সরোজ নায়েক প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বললেন, এসব ভিখিরি ঘরের মেয়েরা কলকাতা শহরে বাড়িতে বাড়িতে কাজ করার নামে ভদ্র বাড়ির ছেলেদের টোপ দিয়ে টাকা রোজগার করে। ওদের এটা একটা ব্যবসা। সেটা কি জানো?
দীপ মেজাজি কণ্ঠে বললো, সে্টা যদি ও জানতো তাহলে এত নিচে ও নামতে পারত না।
রূব ঠান্ডা গলায় বলল, এখানে শর্মির কী অপরাধ?
দীপ ব্যঙ্গ করে হেসে বলল, শর্মি! কে শর্মি? ও! তুমি আবার বাড়ির ঝি এর বলিউডি নামকরণ করেছ দেখছি?
শর্মি!
এতক্ষণ বিজয়লক্ষ্মী দেবী সোফার একপ্রান্তে গালে হাত দিয়ে বসেছিলেন।
এবার গম্ভীর স্বরে বললেন, কোনটা ঠিক বাবা? আমাদের মান সম্মান না তোমার ছেলেমানুষী ?
রুব শান্ত কণ্ঠে প্রশ্নের সুরে মাকে বলল, কোনটা ছেলেমানুষী মা? একটা প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের উপর কিছু মানুষের ইচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া? না কি একটা প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ নিজের জীবন সঙ্গী বেছে নিতে চাইলে সেটা?
বিজয়লক্ষ্মী দেবী অনুনয়ের সুরে বললেন, আমাদের পরিবারের সম্মানের কথা তুমি একবারও ভাবলে না? এসব প্রেম সিনেমার গল্পে হয়। রুব তুমি এখনও স্বপ্নের ঘোরে আছো। বাস্তবের দিকে একবার তাকাও।
রুব বলল, আমি স্বপ্ন নিয়েই বাঁচতে চায় যে মা।
সরোজ নায়েক একই রকম গলার স্বর চড়িয়ে বললেন, তোমাকে স্বাধীনতা দিয়েছি বলে তুমি বাড়ির মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারো না।
রুব আর কথা বাড়ালো না। বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, আপনাদের কথা শেষ হয়েছে? এখন আমি আসতে পারি?
দীপ বলল, এটাই কি তোর শেষ কথা?
রুব এক ঝলক দাদার দিকে তাকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার উদ্দেশে পা বাড়ালে
সরোজ নায়েক চড়া গলায় বললেন, আমার কথার উত্তর দিয়ে এ ঘর ছাড়বে।
রুব কঠিন গলায় বলল, আমি শর্মিকে ছাড়া বাঁচবো না। কথাটা শেষ করেই কারোর অপেক্ষা না করে রূব দ্রুত ঘরের বাইরে পা দিল।
রুবের যাওয়ার পথের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল সরোজ নায়েক, বিজয়লক্ষ্মী দেবী এবং দীপ।
পরদিন সকালে রুব মায়ের ঘরে গিয়েছিল।
না। কোনো আশ্বাসই পেল না সে মায়ের কাছে। উল্টে রুব দেখেছিল মিথ্যে আভিজাত্য, বংশ মর্যাদা রক্ষার অহংকারের কাছে সন্তানের আশা আকাঙ্খা, স্বপ্ন, অনুভূতি গুলোকে পায়ের তলায় মাড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা নেই বিজয়লক্ষী দেবীদের।
মায়ের কাছ থেকে ফিরে এসে রুব চন্দননগরের বাড়িতে একাই থাকার সিদ্ধান্ত নিলে বিজয়লক্ষ্মী দেবী শুকদেবকে রেখে দিয়েছিলেন ছেলের কাছে। যাতে ছেলের কোনো অসুবিধে না হয়।
রুব শুকদেব কাকাকে কলকাতার বাড়িতে ফেরৎ পাঠিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল, সে এখানে একাই থাকতে চায়।
৪
মাস খানেক পর সরোজ নায়েক নিজেই গিয়েছিলেন ছেলেকে কলকাতার বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে।
রুবের পাশে বসে ছেলের পিঠে হাত রেখে বলেছিলেন তুমি বাড়ি ফিরে চল।
সরোজ নায়েকের এমন ভাবে আত্মসর্পণ রুব কোনোদিন দেখে নি । এ যেন তৃণের কাছে মহীরুহের নতজানু হওয়া।
শর্মিকে যে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরিয়ে এনেছে সরোজ নায়েক কথা প্রসঙ্গে সেটা বলতে ভুল করেননি।
ছেলে বাড়ি ফিরে এলে বিজয়লক্ষ্মী দেবী রুবের সুবিধে অসুবিধের ব্যাপারে সদাই সজাগ।
দীপও যেন ভায়ের অপেক্ষাতেই ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই কথা বার্তা বলছিল দীপ। যেন কোনো কিছু হয়নি।
সরোজ নায়েক বললেন, রুব চাইলে ওরা সকলে মিলে কোথাও একটা মিনি ট্যুরে বের হতে পারে।
শুকদেব চা দিয়ে গেলে দীপ ভাই এর দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে জিজ্ঞেস করল, তুই কি আজ আমার সঙ্গে অফিসে যাবি?
রুব স্বাভাবিক গলায় বলল, আজ থাক। আমি আগামী সপ্তাহ থেকে কলেজ ছুটির দিন গুলোতে অফিস যাবো।
অন্য সময় হলে দীপ বকা - ঝকা করত। বলত, এভাবে চললে ব্যবসা লাটে উঠবে। যার যা ইচ্ছে মত অফিসে যাবে। অফিসের হিসেব থেকে মোটা মোটা টাকা নিয়ে খরচ করবে।
আজ কিছু বলল না। উল্টে আদরের সুরে বলল, বাবার বয়স হচ্ছে আমাদের দুজনকেই ব্যবসাটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তুইও ব্যবসাতে এবার একটু মন দে।
দীপ উঠে দাঁড়িয়ে রুবের কাঁধে হাত রেখে বলল, আমি এখন যাই। এখানে বসে থাকলে ওদিকে আবার সুবীরেশ বাবু কী করবে কে জানে।
এবার চন্দন নগরের বাড়ি থেকে ফেরার পর রুব লক্ষ্য করছে শর্মি রূবকে এড়িয়েই চলে।
তার থেকেও রুবকে যা বেশি পীড়া দিচ্ছে তা হল শর্মির নীরবতা।
সেদিন বিজয়লক্ষ্মী দেবী দুপুরে বেরিয়ে গেলে শর্মির পথ আটকালো রুব।
প্রশ্নের সুরে জিজ্ঞেস করল, বাড়ি চলে গিয়েছিলে কেন? আমাকে কোন কথা গোপন কোরো না।
আমাকে জানতেই হবে তুমি আমাকে কোনো কথা না জানিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলে কেন?
কিছুক্ষণ পর শ্যামলী রুবের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হল। শ্যামলী রুবের বুকে মাথা রেখে ডুকরে কেঁদে শেষ হল অভিমানের পালা।
তারপর দুজনে ড্রয়িং রুমের রাখা সোফাটায় বসল পাশাপাশি। এখন রুবের হাত শ্যামলীর হাতে্র উপর।
হঠাৎ বিজয়লক্ষ্মী দেবীর দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলেন।
বিজয়লক্ষ্মী দেবীর হঠাৎ আগমনে দুজনেই হতচকিত।
ওদের দুজনকে একসঙ্গে দেখে মা কীভাবে রাগে ফেটে পড়বেন রুব সে প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য মানসিক প্রস্তুত করছিল নিজেকে। রুব মনে মনে এটা সিদ্ধান্ত নিল যে শর্মির ব্যাপারটা বাড়ির সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় দরকার।
রুবের সব ভাবনায় নস্যাৎ করে দিয়ে বিজয়লক্ষ্মী দেবী বললেন, তোমাদের দুপুরের খাবার খাওয়া হয়ে গেছে।
রুব নীরবতা ভেঙ্গে বলল, না।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী আরো অবাক করে দিয়ে বললেন, তবে তোমরা খাবার টেবিলে চলে এসো। আমরা একসঙ্গে খেয়ে নেবো।
এই ভেবে রুবের ভালো লাগছিল দেরিতে হলেও মা রুবের কথা ভাবলেন।
কিন্তু পরক্ষণেই রুবের মনে একটা খটকা রয়েই গেল, মা কেন ফিরে এলেন। তবে কি মা এমনি পুজো দেবার অছিলায় বাইরে গিয়েছিলেন। নাকি মায়ের তাড়াতাড়িই পুজো দেওয়া হয়ে গেল।
শ্যামলী টেবিল থেকে একটু তফাতে মেঝেতে একপাশে ভাত নিয়ে বসলে বিজয়লক্ষ্মী দেবী বললেন, তুমিও আমাদের সঙ্গে টেবিলে এসে বসো।
গিন্নীমার আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা শ্যামলীর ছিল না। গুটি গুটি পায়ে শ্যামলী টেবিলের এক প্রান্তে এসে বসল।
বিজয়লক্ষ্মী দেবী খুব সহজ ভঙ্গিতে শর্মিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, এবার থেকে তুমি আমাদের সঙ্গে টেবিলে বসেই খাবে। মনে থাকবে।
শ্যামলী বাধ্য মেয়ের মতো ঘাড় কাত করে সম্মতি জানিয়ে বলল, হ্যাঁ।
তবু শ্যামলীর আড়ষ্টতা গেল না।
শ্যামলী কেবলই অবাক হচ্ছিল গিন্নীমার নতুন ব্যবহারে।
শ্যামলী নিজের মনেই ভাবছে এই কদিন আগেই গিন্নিমা তাকে বাড়ি পাঠাবার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন। আজ হঠাৎ এমন আপন করে নিলেন!
আবার নিজের মনেই বলল, বড় বড় রাজা বাদশার সব হিসেব ওলট পালট হয়ে যায। সেখানে শ্যামলীর মতো এক গরীব বাপের মেয়ের কথা হিসেবের মধ্যেই পড়ে না।
ব্যাপারটার সঙ্গে ধাতস্থ হতে শ্যামলীর সময়ই লাগছিল। তবে রুব যে খুব আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে গেল তা নয়।
অনেকদিন পর পরেরদিন রুব বড় দাদার সঙ্গে অফিসে বের হল।
৫
কতদিন নিজের ঘরের আলমারির বইগুলোতে হাত দেয় নি রুব। তেতলায় নিজের ঘরে আলমারির বইয়ের সারিতে আলতো করে হাত বোলাতে বোলাতে আপন মনেই গেয়ে উঠলো —
‘ভালোবাসার মানুষ ভালোবাসার মানুষ
যখন তুমি রাস্তা হাঁটো সারাদিনের ক্লান্তি
তোমার মুখের আবির
ভালোবাসার মানুষ ভালোবাসার মানুষ।’……
এমন সময় শ্যামলী রুবের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালে,
রুব শ্যামলী কে দেখে একটা চেয়ার টেনে ইশারায় বসতে বলে, বাকি গানটুকু শ্যামলীর দিকে তাকিয়ে গানটা শেষ করল।
শ্যামলী একদৃষ্টে রুবের দিকে তাকিয়ে গানটা শুনছিল।
গান শেষ হলে শ্যামলী রূবকে বলল, কার গান এটা?
রূব বলল, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের। প্রতুল মুখোপাধ্যায় একজন আধুনিক গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত শিল্পী। উনি হারমোনিয়াম ছাড়া অপূর্ব গান করেন। এই গানটা তাঁরই।
রুব জিজ্ঞাসা করল, গানের কথা গুলো চমৎকার না?
শ্যামলী বলল, হু। তারপর বলল, তুমি মাঝে মাঝে আমাকে এ গানটা শুনিও।
দুজনে দুজনের মুখোমুখি বসে রইল অনেকক্ষণ। নীরবতা ভাঙলো রুব।
বলল, শর্মি মাধ্যমিকের সিলেবাস তো তোমার কিছুটা পড়া আছে।
শ্যামলী বলল, হ্যাঁ আছে। বাবার দোকানের কাজটা চলে গেল। সংসার চালানো, আমার পড়ার খরচ। কী করে বইবেন। এমন সময় তোমাদের বাড়িতে ফাইফরমাস খাটার জন্য একটা কাজের মেয়ে খুঁজছিল। গ্রামের একজন খবর দিলেন। বাবা পাঠিয়ে দিলেন আমাকে। তাই আর মাধ্যমিক পরীক্ষাটা দেওয়া হল না।
রুব বলল ওসব কথা থাক। কাছাকাছি একটা স্কুলে আমি কথা বলেছি। ওখানে ডিসট্যান্সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ওখানে তোমায় ভর্তি করে দেবো।
শ্যামলী মাথা নিচু করে রূবের কথাগুলো শুনে বলল, আবার লেখাপড়া কেন। এই বেশ আছি।
রুব বলল, শর্মি নিজেকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে লেখাপড়া শিখতে হবে।
শ্যামলী ম্লান হেসে বলল, থাক না রূব। এখন পড়তে গিয়ে যন্ত্রণা বাড়বে। তার চেয়ে বরং এখন যেটুকু আছে সেটুকুই থাক।
রুব চেয়ারটা টেনে নিয়ে শ্যামলীর হাতের উপর হাত রেখে বলল, তুমি পড়বে।
বর্ষায় ভেজা গাছের পাতার মতো মাথা নিচু করে শ্যামলী কী একটা বলতে গেলে রূব শ্যামলীর মুখে নিজের আঙ্গুল দিয়ে চেপে বলল, সেদিন যে বলেছি আর কোন না নয়।
শ্যামলী তাড়াতাড়ি উঠে পড়ল। বলল, মা ডাকছেন তোমায়। আমি তোমায় ডাকতে এসে গল্পে ভুলে গেছি। এখন আমি আসি।
শ্যামলী সিঁড়ির দিকে দু পা এগিয়ে সিঁড়ির কাছাকাছি যেতেই কে যেন সিঁড়ি থেকে ঝট করে সরে গেল।
শ্যামলী হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল সিঁড়ির মুখে।
রূব বলল, কি হলো?
শ্যামলী বলল, কেউ যেন সিঁড়িতে দাঁড়িয়েছিল। আমি আসতেই মনে হল দৌড়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাচ্ছে।
রূব তাড়াতাড়ি সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়াল। কেউ অন্ধকারে খসখস শব্দ করে নেমে যাচ্ছে, এটুকু বোঝা ছাড়া আর কিছু দেখতে পেল না সে। অজ্ঞাত পরিচয় মানুষটি দ্রুত পা চালাতে গিয়ে কি যেন একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ হলো মাত্র।
রূব তাড়াতাড়ি শ্যামলীর হাতটা ধরে বলল, তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমি তোমাকে নিচে পৌঁছে দিয়ে আসবো।
তারপর রুব শ্যামলীর হাতখানা ধরেই বলল, তুমি সাবধানে থেকো শর্মি। প্রয়োজন হলেই আমাকে ডেকো।
শ্যামলী রুবের দিকে অনেকক্ষণ এক দৃষ্টি তাকিয়ে থেকে ঘাড় নেড়ে বলল, হুঁ।
রূব শ্যামলীকে একেবারে শেষ সিড়িতে পৌঁছে দিয়ে একটু অন্যমনস্কভাবেই উঠে আসছিল। রুবের হঠাৎ চোখ চলে গেল সিঁড়িতে বাঁক নেওয়ার জায়গাটায় মেঝেতে পড়ে থাকা জিনিসটার উপর।
রূব জিনিষটা হাতে তুলে নিয়ে জিনিসটার দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ। এই দামি ফাউন্টেন পেনটা তো দাদার পকেটে থাকে!
রূব পেনটা হাতে নিয়ে নিজের ঘরে এসে চেয়ারটায় স্থানুর মতো হয়ে বসে রইল কতক্ষণ খেয়াল নেই। হুঁশ ফিরল রুবদের বাড়ির দক্ষিণ দিকে অশ্বত্থ গাছে রাতচরা পাখি গুলোর ডাকার শব্দে।
৬
দু একদিন পরে একদিন তেতলার ছাদের ঘরে রুব আপন মনেই একলাটি বসেছিল। শ্যামলী ধীর পায়ে ঘরে ঢুকেই লুটিয়ে পড়ল রুবের পা দুটোতে। হতচকিত রুব দু হাত দিয়ে শ্যামলীকে তুলে সামনে বসাতেই শ্যামলী ডুকরে কেঁদে উঠলো।
রুব অবাক হয়ে বলল, কি হয়েছে শর্মি?
শ্যামলী মাথা তুলে রুবের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আমাকে তুমি বাড়ি যেতে অনুমতি দাও রুব।
রুব্ বিস্ময়ে বলল, এমন কথা তোমার মনে হল কেন?
কেউ কি কিছু বলেছে তোমায়?
শ্যামলী এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমার ভীষণ ভয় করছে রুব!
রুব শ্যামলীর হাত দুটো ধরে বলল কিসের ভয়? কাকে ভয়?
শ্যামলী আবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, যে বাড়ির দেওয়াল গুলো পর্যন্ত আমার ভালোবাসা সেই দেওয়াল গুলোকেই এখন আমার ভয় করছে! তাছাড়া আমার জন্য তোমার কষ্ট যে আমি সইতে পারছি না।
রুব বলল, তুমি না থাকলেই আমার কষ্ট। তুমি থাকলে আমার সব ভরসা।
শর্মির চিবুক ধরে রুব বলল, আমি অফিসের কাজে পাটনা যাচ্ছি। পাটনা থেকে ফিরে এসে আমরা এখান থেকে চলে যাব শর্মি। কারো কোনো অসুবিধে করব না। আমাদের জন্য মা বাবাকে কাউকে কোনো জবাব দিতে হবে না কারো কাছে।
দিন সাতেক পর রুব পাটনা থেকে ফিরে এসেছিল। তবে রুব সে রাতেই এ বাড়ি ছেড়েছিল। রুবের শর্মিও চিরকালের জন্য এ বাড়ি নয় পৃথিবী ছেড়েই চলে গেছে ।
শর্মির মৃত্যু নিয়ে কানা ঘুষো নানা কথা ভেসে বেড়ায় এ বাড়ির আনাচে কানাচে। বাড়িময় রটনা শর্মি আত্মহত্যা করেছে। কেউ বলে, ছোট বাবুকে সরিয়ে দিয়ে তিনজনে মিলে গুন্ডা লাগিয়ে মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে।
শুকদেব বুক চাপড়ে চাপড়ে অস্ফুটে আপন মনেই বলত বালিশ চাপা অবস্থায় মেয়েটা কই মাছের মতো কি ছটপট টায় না করেছিল। তাতেও হল না লাশটা শেষে কিনা ঝুলিয়ে দিল। কী শক্ত পরাণ মালকিনের। বড় বড় নিশ্বাস ফেলে শ্যামলীমার বাক্সটা উঠোনে টেনে ছুঁড়ে ফেলে দিলে।
এসব কথা মালিকের কানে যেতেই মোটা টাকা বকশিস দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন শুকদেবের।
শুকদেব সে টাকাই হাত দেয়নি। মালিককে প্রনাম করে গ্রামে চলে গেছে। কখনো আর এ মুখো হয়নি সে।
আজ দশ বছর হয়ে গেল রুবের খোঁজ পায়নি বিজয়লক্ষ্মী দেবীরা।
বিজয়লক্ষ্মী দেবীও অনেক বছর হল বাড়ি ছাড়া। ছেলের খোঁজে বেরিয়ে তিনি আর বাড়ি ফেরেন নি। কখনো গঙ্গা সাগরের মেলা, কখনো কুম্ভমেলা, কখনো দুর্গম পাহাড়ি পথে হেঁটে হেঁটে বিজয়লক্ষ্মী দেবী ছেলেকে খুঁজে চলেছেন আজও।