পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

কতটা পথ হাঁটলে নদী বাঁচানো যায়?

  • 19 January, 2022
  • 0 Comment(s)
  • 685 view(s)
  • লিখেছেন : সুপ্রতিম কর্মকার
আমাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে আন্দোলনের শেষ হয় না। হয় শুধু শুরুয়াত। জলঙ্গির বাঁধালই একমাত্র সমস্যা নয়। নদীর দূষণ, নদীর পাশে অবৈধ ইঁটভাটা গুলোর দিনের আলোতে নদীর পার কেটে মাটি চুরি, নদীর পাড়ে অবৈধ নির্মাণ, নদী বুজিয়ে রাস্তা করা এমন হাজারো সমস্যা নদী জীবনে অনেক থাকে। সেই নদী বাঁচানোর জন্য কতটা পথ হাঁটতে হয়? লিখলেন সুপ্রতিম কর্মকার ছবি আঁকলেন লাবণী জঙ্গী


একাটা নদী বাঁচানোর লড়াই এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকল এই সময়। নদীটার নাম জলঙ্গি। নদীটা জীবন ধারা নদিয়া জেলার,আর নদী পাড়ের মানুষেরো। নদীর যাপনের সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষের জীবন ও জীবিকা। কাজেই জীবন যাপনের জন্য আর জীবিকার সুরক্ষার জন্য নদী বাঁচানোর কথা বলতে হয়। বৃহত্তর অর্থে একটা সমাজের কথা বলে নদী।


জলঙ্গি নদীটার বুকে সমস্যা ছিল। নদীর বুকে 'বাঁধাল' দেওয়া হয়েছিল। বাঁশ, ফাঁশ জাল দিয়ে নদীটাকে আড়াআড়ি আটকে দেওয়া হত, কেবল মাছ ধরার জন্য। সেটাই ছিল বাঁধালের পরিচয়। আসলে বাঁধাল নদীর মৃত্যু ডাকছিল।

বহতা নদী আর রমতা সাধু। এই দুজনের জীবনে কোন ক্লেদ বাসা বাঁধে না। কিন্তু যখনি সে থেমে যায়, তখন সে হারিয়ে যায়। উদ্দেশ্য থেকে সরে যায় অনেক দূরে। বাংলা জুড়ে নদী আন্দোলন জোড়দাড় হয় ২০০০ সালের পরবর্তী সময় থেকে। সেই তুলনায় কৃষ্ণনগর শহরে জলঙ্গি নদী বাঁচানো আন্দোলনের দুটি সংগঠন বয়সে খুবই নবীন। কিন্তু ধারাবাহিক লড়াইএর ফল তারা খুব অল্প সময়ে পেল। তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে স্থানীয় জেলা প্রশাসন জলঙ্গি নদীর বুক থেকে বাঁধাল ভাঙে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।

আমাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে আন্দোলনের শেষ হয় না। হয় শুধু শুরুয়াত। জলঙ্গির বাঁধালই একমাত্র সমস্যা নয়। নদীর দূষণ, নদীর পাশে অবৈধ ইঁটভাটা গুলোর দিনের আলোতে নদীর পার কেটে মাটি চুরি, নদীর পাড়ে অবৈধ নির্মাণ, নদী বুজিয়ে রাস্তা করা এমন হাজারো সমস্যা নদী জীবনে অনেক থাকে। নদী কর্মী যারা, তারা জানেন নদীর সমস্যার কথা।জলঙ্গির বাধাল ভাঙার আন্দোলনে আমরা দেখেছি নদী কর্মীদের সঙ্গে এক সাথে কথা বলেছিল প্রান্তিক মৎসবীজীরা। নদীর শরীরের 'প্রাইমারি স্টেক হোল্ডার' মৎস্যজীবী মানুষেরাই। কাজেই তাদের কথা বলার অগ্রাধিকার আগে আছে। কিন্তু যে মানুষটি নদীর জল ব্যবহার করে চাষ করে, সেই কৃষিজীবী মানুষটিও নদীর স্টেক হোল্ডার। তিনি অবশ্যই 'সেকেন্ডারি স্টেকহোল্ডার'। আবার নদী পাড়ের মানুষেরা যারা প্রতিদিনের নানা রকম কাজে নদীকে ব্যবহার করছে, সেও নদীর 'সেকেন্ডারি স্টেকহোল্ডার'। আর ঠিক এখান থেকেই নদী কর্মীদের ভাবনাটা শুরু করা প্রয়োজনে। নদীর প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্টেক হোল্ডারের মধ্যে একটা সহাবস্থান তৈরি করা দরকার। কেন দরকার?


জলঙ্গির পাড়ে অনেক জায়গাতে আমরা দেখেছি মৎস্যজীবীরা সুর চড়াচ্ছে কৃষকের বিরুদ্ধে। কেন? তাদের দাবি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নদীর পাশে চাষের জমির কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদীতে নামে। ঝাঝালো বিষ জল নদীতে মিশলে নদীতে 'গাঁদি' লাগে। অর্থাৎ মাছ মরে ভেসে ওঠে।নদীতে পাট পচালেও নদীর একই সমস্যা হয়। আবার বোরো ধান চাষের সময় নদী থেকে সেচের জন্য জল তুললে নদীর বুকে জল কমে।তাতেও সংকটে পড়ে মৎস্যজীবী। তবে কৃষকের নদীর জলের অধিকারকেও আমরা বঞ্চিত করতে পারি না। তাহলে উপায়?


উপায় রয়েছে।আমাদের দেশের মানুষেরাই সেই পথ দেখিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের নাসিকে গোদাবরী নদীতে তৈরি হয়েছে নদী কোপারেটিভ। যেখানে নদী পাড়ের মৎস্যজীবী ও কৃষিজীবীরা এক সঙ্গে মিলে তৈরি করেছে নদীর জল ব্যবহারের কোঅপারেটিভ। তারা নিজেরাই ঠিক করে নদীর কতটুকু জল কোন কোন খাতে কি ভাবে খরচ করা হবে। আবার কি ভাবে সংরক্ষণ করা হবে নদীকে, সেটাও ঠিক করা হয় কোপারেটিভের মাধ্যমেই।


আসলে সমন্বয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমাধানই পথ দেখায়। নদী বাঁচাতে নদী পারের মানুষদের হাতেই ব্যটনটা তুলে দিতে হবে। নদী কর্মীদের কাজ হোক সেই সমন্বয় ঘটানো।
তবেই নদী আন্দোলন সার্থক রূপ পাবে।

জলঙ্গি বাঁচানোর লড়াইএ সামনে অনেক কাজ। নদী কর্মীরা কোমড় বেঁধে নামুক সেই কাজে। বাঁচুক জলঙ্গি। বাঁচুক নদীয়ালি জীবন।

0 Comments

Post Comment