পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন গৃহস্থের দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছে। গণতন্ত্রের উৎসব শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। ৯১ লক্ষ সাধারণ মানুষ এক কলমের খোঁচায় রাতারাতি নিজেদের নাগরিকত্ব খুইয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং তার পোষ্য নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত চক্রান্ত মোটামুটি সফল। ৯১ লক্ষ রোহিঙ্গা কিংবা বাংলাদেশি ছাঁটাই হয়েছে কিনা! লাখ লাখ মানুষের এখন আত্মারাম খাঁচাছাড়া অবস্থা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় 'লড়াই শেষতক' অবধি থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তার পিছু পিছু এসেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বাংলা দখল করতে বিজেপি দৃশ্যত আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরাম বসুর মতো মনিষী-স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে যে বিজেপি বিভিন্ন সময় নানাধরণের অবমাননাকর মন্তব্য করেছে, আজ সেই মাটিকে দখল করতে এলে বাংলার জনগণ যে তাদের রুখে দিতে যথেষ্ট– এ'কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভোট আসে, ভোট যায়। আর প্রতিবারই বিজেপির বাংলা অধিকারের চেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।
যাক সেসব কথা। মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বিজেপির তাবড়-তাবড় নেতারা বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্নতা দেখিয়েছেন। যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, যেখানে যেখানে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে, সেখানে 'মা-বোনেদের' জন্য কাজ ও চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। 'মা-বোন'-এর পরিচয়ে মহিলাদের দাগিয়ে দেওয়া অসম্মানজনক। মহিলাদের স্বতন্ত্র ব্যক্তিপরিচয় আছে। তবে মহিলাদের ইস্যুতে যোগী আদিত্যনাথের কাছ থেকে 'পলিটিকাল কারেক্টনেস' আশা করা, আর দিনেদুপুরে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখা– দুটোই এক পর্যায় পড়ে। আসুন দেখে নিই, উত্তরপ্রদেশের ডবল ইঞ্জিন সরকার মহিলাদের জন্য এত বছরে কতটা সুরক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে! ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রিপোর্ট থেকে জানা যায়, যোগী শাসনে উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের উপর নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ শীর্ষস্থানে ছিল। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৫৯,৪০০-এর বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল, যা সারা দেশের মোট অপরাধের প্রায় ১৫ শতাংশ। ধর্ষণ, হত্যা, শ্লীলতাহানি, গণধর্ষণের পর খুন, যৌতুক দিতে না পারলে শারীরিক অত্যাচার, নারী পাচারের অভিযোগ উত্তরপ্রদেশে রোজকার ঘটনা। ২০১৭ সালে, বিজেপির তৎকালীন বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার ও তার দলের ছেলেরা একজন নাবালিকাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওতে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পুলিশ প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ নিতে চায়নি। পরদিন নির্যাতিতার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে বিধায়কের ভাড়া করা গুন্ডাবাহিনী। এরপর পুলিশ দোষীদের শাস্তি সুনিশ্চিত করার বদলে নির্যাতিতার বাবাকে জেলবন্দি করে। নির্যাতিতা কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। রাতারাতি সেই খবর দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। নির্যাতিতার পরিবার এফআইআর দায়ের করতে চাইলে পুলিশ তাদের অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দেয়। এমতাবস্থায়, তাঁরা আদালতের দারস্থ হন। তখন ইউপি পুলিশ মুখরক্ষার খাতিরে চারজনকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। ২০১৮ সালে যখন মামলা সিবিআই-এর হাতে যায়, তখন অভিযুক্তদের ফর্দতে বিজেপি বিধায়কের নাম যুক্ত হয়। ওই বছর আগস্ট মাসে মূল সাক্ষ্মী রহস্যজনকভাবে মারা যান। নির্যাতিতার কাকাকে একাধিক মিথ্যে কেসে ফাঁসিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৯ সালে নির্যাতিতা, তাঁর কাকিমা, বোন এবং আইনজীবীর সাথে রায়বেরিলিতে জেলে আটক কাকার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিল। যে গাড়ি করে ওঁরা যাচ্ছিল, সেই গাড়িতে একটি ট্রাক ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলে নির্যাতিতার কাকিমা এবং বোনের মৃত্যু হয়। ক্রাইম থ্রিলার সিরিজের গল্পের মতো লাগছে না? উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার অবশ্য এসব গল্প সত্যি করে দেখিয়েছেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ করে খুন করে চারজন উচ্চবর্ণের যুবক। শ্বাসরোধ করে তাঁর জিভ কেটে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ছিল বিস্ময়াবিভূত। প্রমাণ লোপাটের স্বার্থে পুলিশ রাতের অন্ধকারে নির্যাতিতার পরিবারের সম্মতি ছাড়াই পেট্রোল ঢেলে তাঁর মরদেহ জ্বালিয়ে দেয়। নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি দিতে দেখা যায় আরএসএস-এর প্রচারকদের। এই নৃশংসতা, পাশবিকতা, বর্বরতার অন্য নামই 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার।
উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মহিলাদের সুরক্ষার চিহ্নমাত্র নেই। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের, মুসলমান মহিলা চিকিৎসকের হিজাব টেনে খুলে দেওয়ার মতো অসভ্যতার সঙ্গে আমরা আগেই পরিচিত হয়েছি। উড়িষ্যায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা ভবানী শঙ্কর দাস। ভারতের কুস্তিগীররা ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের ব্রীজভূষণ শরণ সিং-এর নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিল। কিছুদিন আগে বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশের রিবা জেলায় দুই মহিলা অভিযোগ করেন, রাজেশ সিং নামক একজন ব্যক্তি তাঁদের জমি দখল করে সেই জমিতে রাস্তা তৈরি করছিলেন। প্রতিবাদ করার 'শাস্তিস্বরূপ' দুই মহিলাকে জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে দিতে চায় রাজেশ ও তার অনুচরবর্গ। সম্প্রতি বিহারের একটি হাড়হিম করা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। অনেকে তা দেখেছেন, অনেকে দেখেননি। আমিও দেখিনি। ছবি দেখেছি। ছবিটা এতটাই রোমহষর্ক যে ভিডিওটা দেখার সাহস হয়নি। বিহারের নালন্দা জেলার এক যুবতী পাড়ার দোকান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়িতে তাঁর দুই সন্তান। স্বামী কর্মসূত্রে থাকেন মহারাষ্ট্রের নাসিকে। ফিরতি পথে আচমকা তিন যুবক মেয়েটিকে ঘিরে ধরে। সর্বসমক্ষে তাঁর জামাকাপড় টেনেহিঁচড়ে খুলতে শুরু করে এবং গণধর্ষণের চেষ্টা করে। দর্শকেরা কেউ কেউ এই ঘটনা ক্যামেরা বন্দী করলে, অভিযুক্ত যুবকেরা আরো ভালোভাবে ভিডিও বানাতে বলে। জান্তব উল্লাসে মেতে ওঠে তাঁরা। কী ভয়ানক সেই আনন্দাতিশয্য!
অনাদিকাল থেকে দেখছি, বিজেপি ও বিজেপির জোটসঙ্গীরা খুল্লামখুল্লা ধর্ষকদের পক্ষ নেয়। আমরা দেখেছি, কাশ্মীরে আসিফার ধর্ষকদের পক্ষে ভারতীয় পতাকা হাতে বিজেপির মিছিল– গুজরাট দাঙ্গায় গণধর্ষণের শিকার হওয়া বিলকিস বানোর ধর্ষকদের ফুল-মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া– ব্রীজভূষণের মতো যৌন-নিপীড়কদের ক্ষমতার জোরে বাঁচানোর চেষ্টা সহ আরো আরো নিদর্শন। ২০১৩ সালে যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, নারীরা স্বাধীনতার যোগ্য নয়। নারীরা পুরুষের মতো হলে সংসার ধ্বংস হয়ে যাবে। আদিত্যনাথরা ভারতীয় সংবিধানের বদলে 'মনুসংহিতা' চায়। যে মনুসংহিতা নারীদের শরীরের উপর পুরুষের কতৃত্ব কায়েম করে। মনুসংহিতার বহু শ্লোকে বলা হয়েছে, নারী, শূদ্র এবং পশু সমতুল্য। মনুর মতে, নারীর জ্ঞান আরোহন, শিক্ষা অর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই– বিবাহ, পতিসেবা, আর বংশবৃদ্ধি করাই মহিলাদের বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে কর্মক্ষেত্রে যৌন-হেনস্তা বিরোধী ইন্টারনাল কমপ্লেইন্টস কমিটি (ICC)-র ক্ষমতা খর্ব করেছে। প্রায় সর্বত্র কর্তৃপক্ষ দ্বারা মনোনীত পছন্দসই ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই কমিটি। যার ফলে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির ঘটনা অধিকাংশ সময় নথিভুক্ত হয় না, অথবা নথিভুক্ত হলেও সঠিক পদ্ধতিতে তদন্ত হয় না। নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থায় আইসিসি গঠন আর বাধ্যতামূলক নয়। এছাড়াও, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলিতে 'লাভ-জিহাদ' বিরোধী আইন এনে নারীদের সঙ্গী নির্বাচনের অধিকারকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এর দরুন নারীর যৌনতার উপর পুরুষের নিয়ন্ত্রণ সসরাসরিভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই আইনের প্রণেতারা মনে করেন, মেয়েরা মুক্ত মনে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারে না। তাই বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দু যুবতী এবং মুসলমান যুবকের সম্মতিসূচক বিবাহের পরেও 'অনার কিলিং'-এর মতো অমানবিক ঘটনা মুহুর্মুহু ঘটতে দেখা যায়।
এই লেখা যাঁরা পড়ছেন, আমার ধারণা ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের ঘটনা তাঁদের সকলের জানা। কলকাতার আরজিকর মেডিকেল কলেজের পড়ুয়া এবং চিকিৎসককে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। অধ্যক্ষ সহ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাশি রাশি অভিযোগ আমাদের সামনে আসে। পশ্চিমবঙ্গের আপামর জনসাধারণ বিচারের দাবিতে পথের দখল নেয়। তাঁরা রাত জাগে। নারী আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকা মেয়েরা, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করার পাশাপাশি, ধর্ষণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সামাজিক কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তোলে। গোটা বাংলাই চেয়েছিল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার হোক। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার মেয়েরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিল। আশ্চর্যের ব্যাপার, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে পানিহাটী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছেন আরজিকর-এর নির্যাতিতার মা, শ্রীমতি রত্না দেবনাথ। ভোটে দাঁড়ানোর পর থেকে তৃণমূলের পাশাপাশি বামেদেরও তুলোধোনা করছেন রত্না দেবনাথ। সন্তানহারা মায়ের প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রেখে ওঁকে কয়েকটা প্রশ্ন করা জরুরি বলে মনে হয়।
একদিকে যেমন শিক্ষাক্ষেত্রে-কর্মক্ষেত্রে, ট্রেনে-বাসে, এমনকি নিজের বাড়িতে নারীদের যৌন-হেনস্তার সম্মুখীন হওয়ার ঘটনা, অপহরণ, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা, দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো এ'রাজ্যেও ঘটে– অন্যদিকে তেমনই প্রতিবাদী জনতা নিশ্চিত অন্য রাজ্যগুলিতেও আছে। তাদেরও সরকারের উপর ক্ষোভ আছে। তারাও রাস্তায় নামে। কিন্তু এই এত বড় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আছে তো? আপনাদের একটু মনে করিয়ে দিই, 'জাস্টিস ফর আরজিকর' আন্দোলন চলাকালীন মহারাষ্ট্রের বদলাপুরে বছর চারেকের দুই ছাত্রী যৌন নিগ্রহের শিকার হয়। এই নিন্দনীয় ঘটনার বিরুদ্ধে যাঁরা প্রতিবাদ করেছিল, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনের নামে এফআইআর দায়ের করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। এই ৩০০ জনের মধ্যে আবার ৪০ জনকে গ্রেফতারও করে। পশ্চিমবঙ্গ আন্দোলনের মাটি, লড়াইয়ের মাটি। এই ভিটেতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে মানুষ লড়তে জানে। তৃণমূল কংগ্রেসের মতো স্বেচ্ছাচারী শাসকের বিরুদ্ধে আজও আন্দোলন চলছে। কিন্তু বিজেপির ফ্যাসিবাদী চরিত্র প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে রুখতে সবকিছু করতে পারে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দমনে ওঁরা ফার্স্ট বয়।
যে অঞ্চলে রত্না দেবনাথ বিজেপির হয়ে লড়ছেন, সেই পানিহাটিতেই ২০২৪ সালে ১০৯ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি স্পন্দন দাশের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে বাড়িতে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি এই ভোটের ডামাডোলের বাজারে, জলপাইগুড়িতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের ভেতরেই এক বিজেপি কর্মী মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে ধর্ষণ করে। এই কোনো ঘটনাই কি রত্না দেবনাথের চোখে পড়েনি? আজ এই দুর্দিনে, যে বা যাঁরা নারীবিদ্বেষী বিজেপির পক্ষে, আমার লিঙ্গপরিচয় আমাকে তাঁদের প্রতি আন্তরিকভাবে সহানুভূতি দেখানোর অনুমতি দেয় না। তাই বর্তমান বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে, রত্না দেবনাথের রাজনৈতিক পরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উনি বিজেপির প্রার্থী। আরজিকর-এর ঘটনায় সাধারণ মানুষ সহ বাম-প্রগতিশীলদের লড়াইকে যিনি অস্বীকার করেন। পরিবর্তে, ধর্ষকরাজ বলবৎ করতে চাওয়া বিজেপিকে নির্দ্বিধায় সুবিধা করে দেন। বলাবাহুল্য, হাজার হাজার আসিফার মায়ের কান্না যাঁর কানে পৌঁছায়না, তাঁর বধিরতাকেই বিজেপি এ'বারের নির্বাচনে ঢাল করেছে। তবু আমার বিশ্বাস, সারা বাংলার মেয়েরা নিজেদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে নারীবিদ্বেষী বিজেপিকে এ'বারও প্রত্যেকবারের মতো ভোট দেবে না। বাংলা যাতে উত্তরপ্রদেশ না হয়, তাঁর দায়ভার কাঁধে তুলে নিক বাংলার আমজনতা। ভোটের ময়দানে গণদেবতার রায়ই হবে একমাত্র যথার্থ উত্তর।