পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বিলম্বিত বোধোদয় : সচেতন বিলম্ব

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 200 view(s)
  • লিখেছেন : মালবিকা মিত্র
মহামান্য বিচার বিভাগ এবার একটু আয়নার সামনে দাঁড়ান। প্রথমতঃ ২০১৭ সালে ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হলেও, তার শুনানি হয়নি। বলা হলো আপাতত এটা চলুক। ২০১৯ সালে ওই ইলেক্টোরাল বন্ডেই নির্বাচন হয়ে গেল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠিত হলো। আর আজ ২০২৪ এ এসে বলা হচ্ছে ইলেক্টোরাল বন্ড সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ইলেক্টোরাল বন্ড অবৈধ হলে সরকারটি কি করে বৈধ হয়?

জমিদার সমর দাসের জ্ঞাতি, কার্যত নিজেরই জ্যাঠতুতো ভাই জগন্নাথ দাস। প্যাঁচ পঁয়েজার, ছলচাতুরি নানা মাধ্যমে সব হাতিয়ে আজ সে জমিদার। আর জগন্নাথ দাস একজন দিনমজুর। জগন্নাথ দিনমজুরি করতে গিয়ে পাশের গ্রামের এক জোতদার কে গল্প করেছে -- জমিদার সমর দাস আমার আপন খুড়তুতো ভাই। 

এর পরের ঘটনা হলো, সমর দাস জুতো নিয়ে কাছারিতে জগন্নাথ দাস কে পেটাচ্ছে। তুই গাঙ্গুলী বাবুকে বলেছিস আমি তোর ভাই? আমি হলাম জমিদার সমর দাস বুঝলি। আর তুই হ'লি দাস, মানে দাসানুদাস, আমার পায়ের তলার জগন্নাথ দাস, মনে রাখিস। এই পর্বটি যখন চলছিল, তখন কাছারিতে উপস্থিত গাঙ্গুলী মশাই বললেন, আহা সমর, মারো কেন? ও বেচারা যদি ওই কথা বলে একটু আত্মতৃপ্তি লাভ করে থাকে, তো হয়েছেটা কি? তুমি তো সত্যিই ওর ভাই হয়ে যাওনি। ও নিজেকে একটু গৌরবান্বিত মহিমান্বিত করতে চেয়েছে মাত্র। 

সমর দাস বললেন, না না গাঙ্গুলি মশাই সেটা হলে আপত্তি ছিল না। কিন্তু কথা হলো গিয়ে, ও তো সত্যিই আমার জেঠার ছেলে। সত্যি কথা বললে কার না রাগ ধরে বলুন? 

কথার এক পৃষ্ঠ :

ভ্যানতারা থাক, কাজের কথায় আসি। আগে যা বলেছি সবটাই অপ্রাসঙ্গিক, এমনি এমনি। কথাটা হলো :

The Supreme Court will hear today the suo motu case taken over the NCERT Class 8 textbook chapter on "corruption in judiciary."

A bench comprising Chief Justice of India Surya Kant, Justice Joylamlya Bagchi & Justice Vipul Pancholi will hear the matter.

Yesterday morning, the CJI had expressed displeasure over the contents of the book, saying he would not allow anyone to defame the institution.

CJI Surya Kant said that he was aware of the issue and that many judges were perturbed by the developments. "I will not allow anyone on the earth to taint the integrity and defame the entire institution," CJI said, revealing that he has passed orders to take suo motu action. The CJI said that the move appeared to be a "calculated measure".  

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে "বিচার বিভাগের দুর্নীতি" সম্পর্কিত অধ্যায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আজ স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি করবে। প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, জাস্টিস জয়মাল্য বাগচি এবং জাস্টিস ভিপুল পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে। 

গতকাল সকালে, সিজেআই বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে তিনি কাউকে এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানকে অপমান করতে দেবেন না। 

সিজেআই সুর্য কান্ত বলেছেন যে তিনি এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতন এবং অনেক বিচারক এই ঘটনাবলীতে বিরক্ত। "আমি পৃথিবীর কাউকে এই প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করতে দেব না," সিআইজে বলেন, তিনি সুয়ো মোটো অ্যাকশন নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সিআইজে বলেছেন যে এনসিইআরটির এই পদক্ষেপটি একটি "সুপরিকল্পিত" বলে মনে হচ্ছে। 

মহামান্য বিচার বিভাগ এবার একটু আয়নার সামনে দাঁড়ান। প্রথমতঃ ২০১৭ সালে ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হলেও, তার শুনানি হয়নি। বলা হলো আপাতত এটা চলুক। ২০১৯ সালে ওই ইলেক্টোরাল বন্ডেই নির্বাচন হয়ে গেল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠিত হলো। আর আজ ২০২৪ এ এসে বলা হচ্ছে ইলেক্টোরাল বন্ড সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ইলেক্টোরাল বন্ড অবৈধ হলে সরকারটি কি করে বৈধ হয়? এমনকি কারা কারা ইলেক্টোরাল বন্ডে কত টাকা পেয়েছে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও প্রধান বিচারপতি কোন নির্দেশিকা দিলেন না। এরপরেও ভারতের বিচার ব্যবস্থা শালগ্রাম শিলার মতোই পবিত্র।

দ্বিতীয়তঃ ১০ই নভেম্বর, ২০২৫, শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি অবসর গ্রহণের প্রাক্কালে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় সেখানে বলেছেন, যে সময় অযোধ্যা মামলা চলছিল সেই সময় তিনি রোজ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন। যাতে ঈশ্বর অযোধ্যা মামলার রায়ের ক্ষেত্রে তার পথপ্রদর্শক হন। আমরা জানি রাষ্ট্র পরিচালনার পথপ্রদর্শক আমাদের দেশের সংবিধান। ব্যক্তিগত বিশ্বাস আমাদের ব্যক্তিগত জীবনচর্চায় পথ দেখাতে পারে। তিনি বলেন জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঈশ্বরই একমাত্র পথপ্রদর্শক হতে পারেন। তিনি আরো জানান যে, তিনি রোজই ঈশ্বরের সামনে বসেন। কিন্তু অযোধ্যা মামলা চলাকালীন তিনি রাস্তা খোঁজার জন্যই প্রার্থনা করেছিলেন। তার সংযোজন যদি ঈশ্বরের বিশ্বাস থাকে তাহলে যে কোন সমস্যা থেকে পরিত্রাণের রাস্তা পাওয়া সম্ভব। আহা, কি অমৃত বাণী! সকলে ঊর্ধ্ব বাবু হয়ে বলো, জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীরাম, হরিবোল।

তৃতীয়তঃ রাম মন্দির মামলায় যারা মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন সেই পাঁচজন বিচারপতির একজন পরে অন্ধ্রপ্রদেশে রাজ্যপাল হয়েছিলেন। আর একজন সরাসরি রাজ্যসভার সদস্য হন, কয়েক মাসের মধ্যে। তৃতীয়জন কোম্পানি আইন সংক্রান্ত ন্যাশনাল কোম্পানির ল অ্যাপেলেট ট্রাইবুনাল (NCLAT) সংস্থার প্রধান হন। চতুর্থ জন মহারাষ্ট্র ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। পঞ্চম ও সর্বশেষ ব্যক্তি পুরস্কার পদের অপেক্ষায়। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যদি এভাবে বিচারপতিরা ঈশ্বরের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন সে ক্ষেত্রে আর যাই হোক ঈশ্বর কখনো আল্লাহর পক্ষে রায় দেবেন না। 

চতুর্থতঃ এসবই হলো বিচার ব্যবস্থার গৈরিকীকরণের এক অশনি সংকেত। সমস্যা একটাই কেউ সরাসরি বিজেপির নির্বাচনের প্রার্থী হচ্ছেন। কেউ খোলাখুলি ঘোষনা করছেন আমি বহু ছোট বয়স থেকেই আরএসএসের অনুগামী। কেউ রাম মন্দিরের রায় নিয়ে ঈশ্বরের দ্বারস্থ হচ্ছেন। রাম মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সশরীরে উপবিষ্ট থাকছেন। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার অংশটি কখনোই ধর্মনিরপেক্ষ ছিল না। কিন্তু চোখের চামড়া অবশিষ্ট ছিল। এবার বুঝি সেটুকুও রইল না। কিন্তু এরপরেও বিচার বিভাগ এবং শীর্ষ আদালতের পবিত্রতায় আমরা চরম আস্থাশীল। 

পঞ্চমতঃ আইনজীবীদের সম্পর্কে রসিকতা করে গল্প হতো -- মক্কেলের ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে। উদ্বিগ্ন বাড়ির লোক উকিলকে বলছে, অহন কি হইবো স্যার? জবাবে উকিল বলছেন, আপাতত ঝুইল্যা পড়তে কও, তারপর আমি দেখতাছি। কিন্তু উকিলের এই গল্প ঘুরে এসেছে বিচারকের কাছে। ৩৭০ নিয়ে আদালতে সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা হলো। প্রধান বিচারপতি রামানা বলেছিলেন, আপাতত এটা চালু হোক। পরে এর বৈধতা বিচার হবে। তিন চার বছর পরে সেই মামলা শুনানি চলল। তিনটি বছরে কাশ্মীরে যে সন্দেহ অবিশ্বাস এর বাতাবরণ, নিরাপত্তাহীনতা, আতঙ্ক, ভয়ের মধ্য দিয়ে মানুষের পরিবার সমাজ রাজনীতি অতিবাহিত হল, বিশ্বাস মূল্যবোধ পাল্টে গেল, সে সব কি ফিরিয়ে আনা যায়? কিন্তু শুনানি স্থগিত রাখা হলো ৩-৪ বছর। এরপর ও মনে রাখতে হবে বিচার বিভাগের পবিত্রতা। 

ষষ্ঠতঃ নিট পরীক্ষার দুর্নীতি এস আই আর এর নামে মানুষের ভোটাধিকার হরণের ষড়যন্ত্র নির্বাচন কমিশন কে প্রশাসনের হাতে ঠোঁটো জগন্নাথ বানানো এসব কোনো ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্ট শত প্রণোদিত হয়ে কোন রায় দিতে এগিয়ে আসেননি হলে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্রমাগতই ক্ষয় পেয়েছে। একবারও সজোরে বলতে পারেনি গণতন্ত্রের নামে এই প্রহসন বন্ধ করা হোক। আজ যখন বিচারবিভাগের শেষ বস্ত্র খন্ডটি তে টান পড়েছে, বিচার বিভাগ পবিত্রতার রক্ষা নিয়ে সরব ও সোচ্চার হয়েছে। একটু একটু করে এতদিন বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি বিপন্ন করা হয়েছে। এবার মূর্তিটাকে নিয়েই টান পড়েছে।

কথার অপর পৃষ্ঠ :

জর্জ টমসন বলেছিলেন -- বুর্জোয়া গণতন্ত্র হলো পার্লামেন্টের মুখোস আঁটা বুর্জোয়ার একনায়কতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রের আবার কতনা ঠাঁট বাঁট। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ। এখন আবার মহামতি মতেঁস্কুর তেপায়া গণতান্ত্রিক টেবিলের (ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি) চতুর্থ পায়া যুক্ত হয়েছে সংবাদ মাধ্যম। সে মাধ্যম তো এখন ক্ষমতা বা গদি র মুখপত্র, গোদি মিডিয়া হিসেবে পরিচিত হয়েছে। সে দিক থেকে, ফ্যাসিবাদ হলো এই মুখোশ বর্জিত, শুধুই বুর্জোয়ার খোলামেলা একনায়কতন্ত্র। 

শাসন বিভাগের অঙ্গুলী হেলনে ওঠাবসা করবে বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ স্বশাসিত সংস্থার শীর্ষে সদস্যদের নিয়োগ করবে শাসন বিভাগ, কেমন নির্বাচন কমিশনে সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা বিচার বিভাগের হাত থেকে সম্পূর্ণই শাসন বিভাগের হাতে চলে গেল দেখলেন তো। ইডি সিবিআই আয়কর এনআইএ সকলেই শাসন বিভাগের তোতাপাখি। মনিপুরে গণহত্যা চলছে সুপ্রিম কোর্ট কোনো শুওমোটো র কথা ভেবেছিল? প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে পেরেছে সেখানে যেতে? নিট পরীক্ষায় হাতে গরম প্রমাণ ছিল কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে পরীক্ষাকেন্দ্র সিলেকশন হয়েছে। ধরা পড়ার পরে ইচ্ছামত গ্রেস মার্কের ঘোষণা, ১০০% এর বেশি নম্বর পাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা, আদালত কি করেছিল? সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ২৫ লক্ষ পরীক্ষার্থীর এত বড় যজ্ঞে হাজার পাঁচেকের অনিয়ম কিছুই না। 

প্রশ্ন হল, যদি বিচার বিভাগ কে বশংবদ বানিয়ে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে তার ভাবমূর্তি মলিন করতে, সরকার কেন সিলেবাসে ওই সব কথা লিখবে? বরং তো সরকার বিচার বিভাগকে পবিত্র শালগ্রাম শিলা সাজাতেই সচেষ্ট থাকবে। হ্যাঁ ঠিক এইখানেই বুর্জোয়া গণতন্ত্র আর ফ্যাসিবাদের পার্থক্য। গণতন্ত্র বুর্জোয়ার আধিপত্যকে বজায় রাখার জন্য একটি মানবিক মুখোশের আশ্রয় নেয়। আর মুখোশের বিশ্বাসযোগ্যতা রাখতে গেলে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই হয়। হ্যাঁ, নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত। কিন্তু ফ্যাসিবাদ এই গণতন্ত্রকে নির্ভর করে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু এসে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে একের পর এক জাহান্নামে পাঠায়। মুখোশটুকুও বজায় রাখার প্রয়োজন হয় না। ফ্যাসিবাদ হল "ওপেন টেরর"। 

ভাবুন তো কত সহজে আমাদের ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড প্ল্যানিং কমিশনকে শ্মশানে পাঠানো হলো। আইএসআই, আইআইটি, আইআইএসসি, এ সমস্ত কে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ত্তে আনার উদ্যোগ চলছে। আডবাণী, যোশী রা ১৯৯২ এ আদালতে দাঁড়িয়ে বললেন -- কর সেবকরা অযোধ্যায় যাবে ভজন করতে। তারপর সেই কর সেবকরা হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি নিয়ে মসজিদ ভাঙলো। এরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বর্ণিত মন্দির সংলগ্ন মসজিদের জন্য জমি দান কে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট দেখালো। ফ্যাসিবাদ জানে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের মুখোশটা আসলে শুধুই মুখোশ। তাই কত সহজে ৩৭০ ধারার বিলোপ ঘটাতে পারলো। না, সুপ্রিমকোর্ট তখনো দর্শক হয়েই থাকলো। এমতাবস্থায় যখন সমস্ত প্রতিষ্ঠান বা স্তম্ভ গুলি শাসন বিভাগের দাসত্ব করতে থাকে, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে -- কেন অযথা এই সমস্ত প্রহসনের বোঝা বয়ে বেড়াবো। মাথাই থাকবেনা, অতএব মাথা ব্যথাও থাকবে না। অতএব প্রতিষ্ঠান গুলিকেই এবার ঝেড়ে ফেলো। ত্যাগ করতে গেলে আগে কালি লাগাও। মানুষের চোখে এদের অপবিত্র করো। একবার সেটা করতে পারলে, এই প্রতিষ্ঠানের মুখোশ ঝেড়ে ফেলা কোন কঠিন কাজ হবে না। 

এনসিইআরটি সেই কাজটাই একটু পরীক্ষামূলক ভাবে করে দেখতে চেয়েছিল। এগুলো কি শুধুই মুখোশ, নাকি কিছু মুখ অবশিষ্ট আছে। সুপ্রিম কোর্টের চেঁচামেচি শুনে বোঝা যাচ্ছে এখনো সামান্য হলেও মুখ অবশিষ্ট আছে। অতএব আরেকটু ধৈর্য্য ট রাখতেই হবে। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটাকে রঞ্জন গগৈ আর অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বানাতে হবে। এটা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের একটা পরীক্ষামূলক প্রয়াস। লক্ষ্য করবেন, স্টাম্পড হওয়ার আগেই এনসিআরটি ক্রিজে পা ফিরিয়ে এনেছে। অতএব আর একটু অপেক্ষা। ধরা যাক আরও দুই একটা ইঁদুর এবার। 

জগন্নাথ দাসের গল্প দিয়ে শুরু করেছিলাম। তার কথা বলেই শেষ করি। জগন্নাথ দাস শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই দুর্বল। সত্যিই সে দাসানুদাস। তাই গ্রামের সবাই ওর ওপর যৎ পরোনাস্তি উৎপাত চালায়। সকলেই ওকে বলে ঠুঁটো জগন্নাথ। কিন্তু মদ খেলেই জগন্নাথের আত্মসম্মান টা একটু চাগিয়ে ওঠে। সেদিনও মদ খেয়েছে, পাড়ার কুস্তি করা ষন্ডা মার্কা ছেলে তাকে বলছে -- "কিরে এক ভাঁড় খেয়েই উল্টে গেলি? এই তোর ক্ষমতা? তুই সত্যিই ঠুঁটো জগন্নাথ। শুনে জগন্নাথ মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়ে উঠে দাঁড়ায় "কোন শালা বলে আমি ঠুঁটো? কে বলে আমি ঠুঁটো?" কুস্তিগীর ছেলেটি নিজের উরু চাপড়ে বলে, "এই যে, আমি শালা বলি তুই ঠুঁটো। আমি বজরংবলীর সন্তান, জয় বজরংবলী।" জগন্নাথ আপদ মস্তক ভালো করে তাকে দ্যাখে। তারপর বলে "ও তুমি শালা বলো, বেশ তাহলে বলো।"

এনসিআরটি কে তো ধমকে চুপ করানো গেলো। কিন্তু ৫৬ ইঞ্চি ছাতির কুস্তিগীর যদি বলে "আমি শালা বলি তুমি ঠুঁটো"। তখন কি হবে। প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রের আত্মসম্মান তখন কি ঘুরে দাঁড়াবে? নাকি লেজ গুটিয়ে পদতলে আশ্রয় নেবে।

0 Comments

Post Comment