পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

করোনা ষড়যন্ত্র ১

  • 22 August, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 237 view(s)
  • লিখেছেন : ভাস্কর চক্রবর্তী
Sustainable Development এর তত্ত্ব প্রচার করতে গিয়ে প্রমান হয়ে গেছে যে আসলে পরিবেশ ধ্বংসের কারন হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী অতি মুনাফার পেছনে ছোটা। তাই চাই নতুন এক গণশত্রু – এবং সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্ট আজকের সেই গণশত্রুর নাম হল কোভিড ১৯।

সবাই বলছে প্যানডেমিক, সবাই বলছে সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন, সবাই বলছে মাস্ক পড়ুন, গ্লাভস পড়ুন, ফেস শিল্ড পড়ুন, বডি স্যুট পড়ুন, বাইরে বেরোবেন না। সবাই বলছেন লকডাউন চাই এবং একে কড়াভাবে অনুশীলন করানো চাই, ‘প্রয়োজনে’ পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে বা কান ধরে ওঠবস করিয়ে। কিছু মানুষ অবশ্য বলছেন প্যানিক-ডেমিক এবং প্ল্যান-ডেমিক। অর্থাৎ প্ল্যান করে এই আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। এর ফায়দা নিচ্ছে শাসক শ্রেনী এবং রাষ্ট্র। ফল ভুগছে সাধারণ মানুষ। এবং এই রোগ ছড়ানোর উৎস হিসেবে বিভিন্ন অন্য গোষ্ঠীর মানুষদের দায়ী করে নিজেরাই নিজেদের বিভাজিত করে ফেলেছে। একে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখছে। বিভাজন মানুষের মধ্যে ছিলই। তবে করোনা প্যানডেমিক আসার কয়েক বছর আগে থেকে সারা বিশ্বের ঘটনার খতিয়ান দেখলে দেখতে পাবেন যে সারা বিশ্বে মানুষ সম্মিলিত ভাবে আন্দোলনও করছিল। যাক গে, সে সব কথা অন্যত্র। আমরা বর্তমান বক্তব্যে আসি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ইয়োরোপ এবং আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদীরা তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক শিবিরের (বা বলা ভাল রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের শিবিরের বিরুদ্ধে একটা প্রচার করত যে এরা হল সব স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এসব দেশে মানুষের কথা বলার অধিকার নেই, গনতন্ত্রনেই। তারা বলত যে এসব দেশে মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর রাষ্ট্র নাকি কড়া নজর রাখে। কিন্তু আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো (NATO) জোটভুক্ত দেশগুলো, তাদের নিজেদের দেশগুলোর রাষ্ট্র যে গোপনে মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রন করার অপচেষ্টা করত সেটা অপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারের ঢক্কানিনাদে ভুলিয়ে রাখতে চাইত এবং এখনও তাই চায়। আমরা আজ যে ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি, তার আগে শেষবারের মত বিরাট আকারে এই অপচেষ্টা যখন হয়েছিল, তা ফাঁস করে দিয়েছিলেন এডওয়ার্ড স্নোডেন, যিনি ছিলেন সি আই এর এক সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ার। তিনি এই ঘটনা ফাঁস করে দিয়েছিলেন যে সি আইএ, নিজের দেশে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও নাগরিকদের প্রতিটি পদক্ষেপের অপর নজর রাখতে চলেছে তাদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে। এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে কি এই প্রকল্প বাতিল হয়েছে? না, তা হয়নি, কিন্তু সাধারণ মানুষ এই নজরদারী থেকে বাঁচবার জন্য নানা পন্থা খুঁজে নিয়েছে। কারুর কাছেই বিষয়টা আর গোপন নেই। তাছাড়া স্মার্টফোনের সংস্পর্শে না এলে তো নজরদারী ব্যর্থ! সেজন্য তার পরের প্রকল্প হল আরো শক্তপোক্ত নজরদারীর ব্যবস্থা করা। কি সেই ব্যবস্থা? সেই ব্যবস্থার কথা আমরা জানতে পারি আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের কিছু সংবাদ থেকে।

· TED নামে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে একটা সংগঠন আছে যারা খ্যাতিমান (এবং অখ্যাত) ব্যক্তিদের নতুন নতুন চিন্তাভাবনাকে নিয়ে বক্তৃতার আয়োজন করে এবং সেই বক্তৃতার ভিডিও অন্তর্জালের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়। এই বক্তৃতামালার নাম হল TED Talks, এবং ২০১৫ সালের মার্চ মাসে এরকমই এক বক্তৃতায় বক্তা ছিলেন বিল গেটস, মাইক্রোসফটের কর্নধার। তার বক্তৃতার বিষয় ছিল পৃথিবীর আগামী মহামারী। বক্তব্য ছিল যে ওনাদের অর্থাৎ লগ্নীকারীদের আগামী দিনে যুদ্ধাস্ত্রের ওপরে লগ্নী না করে করা উচিত জীবানু সংক্রমণের বিষয়ে। যাতে আগামী মহামারীর জন্য আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি। বক্তার পিছনে স্ক্রিনে চলছিল যে ভিডিওটা তাতে দেখাচ্ছিল একটা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ছবি।

· ২০১৮ সালের ২৮শে এপ্রিল, ম্যাসাচুসেটস মেডিকেল সোসাইটি আর নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন একটি ওয়েবিনার এর আয়োজন করে, নাম ছিল “এপিডেমিকস গোয়িং ভাইরালঃ ইনোভেশন ভার্সাস নেচার”। এই শিরোনামের অর্থ অনেক কিছুই হতে পারে, আমার তো মনে হয়, ভাইরাস ইনোভেশন বা তৈরী করা সংক্রান্ত আলোচনাও হতে পারে। অংশগ্রহণ করেন ইয়োরোপ আমেরিকার নানা বিশ্ববিদ্যালয়, নানা ট্রাস্ট ফান্ড এবং অন্যান্য এন জি ওর প্রতিনিধিরা। আয়োজকদের প্রতিনিধিরা ছাড়াও চেয়ারপার্সনদের মধ্যে ছিলেন গর্ডন এন্ড বেটি মুর ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে হার্ভে ফাইনবার্গ এবং বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের তরফে বিল গেটস।

· ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আইডি ২০২০ (ID 2020) নামে একটি কোম্পানী, যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হল, বিল গেটসের মাইক্রোসফট কোম্পানী, সে একটা গুরুত্বপূর্ন ঘোষনা করে। তারা বলে যে তারা একটা নতুন উদ্যোগ হাতে নিচ্ছে, যাতে ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে শিশুদের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরন সম্ভব হবে। এই গবেষনাটির আর্থিক ব্যয়ভারের দায় হল বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের।

· ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরেই আইডি ২০২০ কোম্পানী তাদের একটি মিটিঙে ঘোষনা করে যে বাংলাদেশে তারা একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্রের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্যোগকারী হবে GAVI (Global Alliance for Vaccines and Immunisation)। এই ‘গাভি’র সদস্যরা কারা? বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, UNICEF, WHO, অংশগ্রহণকারী দেশের সরকার, দাতা দেশের সরকার, বিভিন্ন এন জি ও, গবেষনা সংস্থা, ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী কোম্পানী ইত্যাদি। এই ঘোষনার অনুমোদন শোনা যায় ২০২০ সালের জানুয়ারীতে দাভোসে অনুষ্ঠিতওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ঘোষণায়। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম হল সারা পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদীদের একটি ফোরাম।

· ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, নাম তার “ইভেন্ট ২০১”। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে নিউমেরোলজি নামে যে অপসংস্কৃতিটি বর্তমানে চালু সেই ধারা অনুযায়ী ২০১ সংখ্যাটি হল সৌভাগ্যের প্রতীক। এই অনুষ্ঠানের বর্ননা করতে গিয়ে একে বলা হয়েছিল এটি একটি উচ্চ স্তরের করোনা ভাইরাস অতিমারীর মতো অবস্থার অনুশীলন - a high level Corona Virus Pandemic Simulation Exercise। এই অনুশীলনে সাহায্যকারী ভূমিকায় ছিল বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, আর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। অংশগ্রহণকারী হিসেবে ছিল জাতিসংঘ (UN),পৃথিবীর সব বড় ব্যাংক, সব বড় মিডিয়া, সব বড় সরবরাহকারী কোম্পানী, ইত্যাদির প্রতিনিধিরা। এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল জনসন এন্ড জনসন, বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনে অবস্থিত CDC এর প্রতিনিধিবৃন্দ। এই CDC বা সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল, হল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা, যার প্রাথমিক উদ্দেশ্য আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা এবং সেরকম রোগ নিয়ে গবেষনা করা। এই সংস্থার কিছু শাখা অন্যান্য কিছু দেশেও রয়েছে, যেমন চীনে।

· ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ – পিরব্রাইট ইন্সটিটিউট নামে একটি গবেষনা সংস্থা, ইয়োরোপিয়ান ইউনিয়নের পেটেন্ট অফিস থেকে কর্মক্ষমতাহীন (attenuated) করোনা ভাইরাসের ওপর পেটেন্ট লাভ করে। এই পেটেন্টের আবেদনে গবেষনার উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছিল – হাঁস, মুরগী ইত্যাদির শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণকারী এক ধরনের করোনা ভাইরাসের ওপর গবেষনা; কিন্তু পেটেন্ট দেওয়া হয় কোনো বিশেষ করোনা ভাইরাসের ওপর গবেষনার জন্য নয়, পেটেন্ট দেওয়া হয় সাধারনভাবে করোনা ভাইরাসের ওপর। পেটেন্ট সংখ্যা – ১৫৭৫০০৯৩.৫। আবেদনের তারিখ ২৩।০৭।২০১৫। এই ২০১৫ সালের মার্চ মাসে অর্থাৎ ৪ মাস আগেই ছিল বিল গেটসের সেই ভাষণ। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে এই কর্মক্ষমতাহীন ভাইরাস দিয়েই সাধারণত ভ্যাক্সিন তৈরী হয়।

আচ্ছা, এই করোনা ভাইরাসের প্যানডেমিক যে আসন্ন সে বিষয়ে কি কোনো ‘দৈববাণী’ ছিল যা শুনতে পেয়েছিলেন কেবল রাষ্ট্রের কর্নধারেরা আর সাম্রাজ্যবাদী নেতারা?

· ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৯ – বিল গেটস টুইট করলেন –“ I am particularly excited about what the next year could mean for one of the best buys for global health: vaccines…”

· করোনা ভাইরাসের প্রথম কেস চীনে ধরা পড়ে ১লা ডিসেম্বর, ২০১৯, এবং সেই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঘোষনাটি হয় ১লা জানুয়ারী ২০২০।

ষড়যন্ত্রের মূল ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে এতদুর বললেই হত, কারন এতদুর এসেই আমরা বুঝতে পারছি যে নভেল করোনা ভাইরাস প্রাকৃতিক হোক বা মনুষ্য সৃষ্ট, এই প্যানডেমিক হল মনুষ্য সৃষ্ট অর্থাৎ এটা প্ল্যানডেমিক এবং এই প্যানিকডেমিকও মনুষ্য সৃষ্ট। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহের ধারা আরো একটু বাড়াচ্ছি এটা বোঝাতে কি ভাবে রাষ্ট্রের কর্নধারেরা সাম্রাজ্যবাদীদের নেতাদের কথায় নিজেদের বক্তব্য পরিবর্তন করে।

· মার্চ ২০২০ – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ অ্যালার্জি এ্যন্ড ইনফেকশাস ডিসিসেস’ এর প্রধান ডঃ এ্যন্তনি ফসি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটের এক সাবকমিটির কাছে ঘোষনা করেন যে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ৮০% মানুষের মধ্যে কোনো রোগ দেখা দেয় না এবং তারা নিজে থেকেই এবং নিজের অজান্তেই এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে মুক্ত হন।

· ২৪শে মার্চ ২০২০ – বিল গেটস একটি সাক্ষাতকার দেন TED Talks এর ক্রিস এ্যন্ডারসনকে। এই সাক্ষাতকারে তিনি বলেন যে করোনা পরবর্তী আমেরিকায় প্রতিটি নাগরিকের একটি শংসাপত্রের প্রয়োজন হবে যে হয় তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে রোগমুক্ত হয়েছেন অর্থাৎ করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তাঁর প্রাকৃতিকভাবে তৈরী হয়েছে, অথবা তার ভ্যাক্সিন নেওয়া আছে, অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তাঁর মধ্যে এই ক্ষমতা তৈরী হয়েছে।

· ২০২০ সালের মার্চ মাসেরই শেষ সপ্তাহে আমেরিকার সেনেট এর ডেমোক্র্যাটিক দলের সদস্যদের কমিটির চেয়ারম্যান মাইক স্টিইউয়ার্ট, টেনিসি প্রদেশের গভর্নর বিল লি এর সঙ্গে দেখা করে এক সামাজিক পাসপোর্ট হিসেবে ইমিউনিটি সার্টিফিকেট চালু করার প্রস্তাব দেন। একই সময়ে এই ইমিউনিটি সার্টিফিকেট বা ইমিউনিটি পাসপোর্ট এর দাবীর কথা শোনা যায় ইউনাইটেড কিংডম (ব্রিটেন) এর স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক এর গলায়, ইটালির ভেনিটো প্রদেশের প্রেসিডেন্টের গলায়, এবং এরকম আরো অনেক রাষ্ট্রনেতার ভাষনে।

· ৪ঠা এপ্রিল ২০২০ – বিল গেটস সংবাদ সংস্থা সিবিএস(CBS) কে একটি সাক্ষাতকার দেন। এতে তিনি বলেন যে জনসাধারনের এক বড় অংশের টীকাকরন যতদিন না হচ্ছে, ততদিন বড়সড় জমায়েত নিষিদ্ধ থাকতে হবে, সে মাঠভর্তি ফুটবল দর্শকই হোক বা রাস্তায় গনবিক্ষোভ। টীকাকরন ছাড়া এই সমস্ত জমায়েতকে আইন অমান্য হিসেবে গণ্য করতে হবে।

· ১০ ই এপ্রিল ২০২০ - আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ অ্যালার্জি এ্যন্ড ইনফেকশাস ডিসিসেস’ এর প্রধান ডঃ এ্যন্তনি ফসি একশো আশি ডিগ্রী পালটি খেলেন। ততদিনে তিনি অবশ্য সেদেশের করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের প্রধান হয়েছেন। সি এন এন এর সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি জানালেন যে ভবিষ্যতে আমেরিকানদের এক ধরনের ইমিউনিটি সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরতে হবে।

উপরের ঘটনা পরম্পরা বিশ্লেষন করলে কে কর্তা আর কে কর্মী সেটা খুবই স্পষ্ট হয়ে যায় নাকি? রবার্ট এফ কেনেডি, জুনিয়র, ডেমোক্র্যাট দলেরই এক নেতা, একে আখ্যা দিয়েছেন বিল গেটসের ভ্যাক্সিন ডিক্টেটরশিপ। সাম্রাজ্যবাদী দেশের পার্লামেন্টের এক নেতার ভাষ্যেই বেরিয়ে এসেছে সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রীদের চেহারা। সাংবাদিক পেপে এস্কোবার সেই এপ্রিলেই বলেছেন যে সাম্রাজ্যবাদীরা আসলে এক ডিজিটাল ফিনান্স পুঁজির জাল ছড়াচ্ছে সারা বিশ্বে যার সঙ্গে থাকবে ভ্যাক্সিন এর মাধ্যমে মানব শরীরে ন্যানোচিপ ঢুকিয়ে মানুষের ওপর ডিজিটাল নজরদারী।

আসলে এটা শুধু বিল গেটসের ডিক্টেটরশিপ নয় এবং শুধু ভ্যাক্সিন এর দ্বারা নজরদারীর প্রকল্প নয়। এর উদ্দেশ্য বহুবিধ। সারা পৃথিবীর শেষ কয়েক দশকের আর্থসামাজিক খতিয়ান নিলেই দেখা যাবে যে সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতি এক ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের জালের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং সেই সঙ্কট যত তীব্র হচ্ছে, মানুষের ওপর অর্থনৈতিক এবং সামরিক আক্রমণও ততই তীব্র হয়ে উঠছে। মানুষের পক্ষেও সেরকমই সব উত্তাল গনআন্দোলন গড়ে উঠছিল। ইয়োরোপ, আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়ার দেশে দেশে আন্দোলন দানা বাধছিল। এই সঙ্কট এবং গনআন্দোলন সামাল দিতে সারা পৃথিবীর রাষ্ট্র নেতারা ব্যর্থ হয়েছে। সেই সময় থেকেই বোধহয় শুরু হয়েছে এক কাল্পনিক শত্রু খাড়া করার পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন করোনা ষড়যন্ত্র ২

https://www.sahomon.com/welcome/singlepost/corona-conspiracy-2

সারা পৃথিবী জোড়া অর্থনৈতিক লকডাউন হল সেই সঙ্কটের নিরসনে এক নতুন সাম্রাজ্যবাদী দাওয়াই। পণ্যের পাহাড় জমে উঠেছে সারা পৃথিবী জুড়ে, কিন্তু যথেষ্ট ক্রেতা নেই, কারন বেশীরভাগ ক্রেতাদের হাতে ক্রয়ক্ষমতা নেই। সুতরাং পণ্য উৎপাদন বন্ধ রাখা ছাড়া সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে উপায়ও নেই! একটা কারখানা বন্ধ রাখলে তাকে যেমন বলতো লকআউট, তেমনই পুরো অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে গেলে তাকে বলা হচ্ছে লকডাউন। কারখানার মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ বেড়ে ওঠা ঠেকাতে মিল মালিক যেমন করতো লকআউট, শ্রমিকদের গেটের বাইরে বের করে দিয়ে, তেমনই সাধারণ মানুষের অসন্তোষ, বিক্ষোভ, গনআন্দোলন ঠেকাতে সাম্রাজ্যবাদীরা করলো লকডাউন, মানুষকে গৃহবন্দি করে দিয়ে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন থেকে মানুষকে বের করে দিয়ে। লকআউটে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তেন শ্রমিকেরা, আর আজ সারা বিশ্বের খতিয়ান নিয়ে দেখুন, লকডাউনে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শ্রমজীবী এবং মেধাজীবী মানুষেরা।

আর সেই কাল্পনিক শ্ত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সারা বিশ্বের মানুষকে ‘নেতৃত্ব’ দেবে সাম্রাজ্যবাদ এবং সেই সুযোগে সারা পৃথিবীর আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক চেহারাটাকে নিজেদের মতো সাজিয়ে নেবে। মনে রাখতে হবে যে ২০১৫ সালের মার্চে বিল গেটস তার বক্তৃতায় বলছেন যে তারা অর্থাৎ আন্তর্জাতিক লগ্নীনীকারীরা অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদীরা বেশী লগ্নী করে ফেলেছেন সমরাস্ত্রে, কিন্তু এখন লগ্নী করার সময় হল জীবানু সংক্রমনের প্রতিরোধে। ইঙ্গিতটা স্পষ্ট নয় কি?

সন্ত্রাসবাদ তৈরী করে সন্ত্রাসবাদকে সারা পৃথিবীর শত্রু খাড়া করে অর্থনীতিকে ঢেলে সাজিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। পরিবেশ দূষনকে শত্রু খাড়া করে একাজ করতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেরাই বিপদে পড়েছে। কারন দুই ক্ষেত্রেই সাম্রাজ্যবাদ যে নিজেই মানুষের শত্রু, সেকথা গন মননে জায়গা করে নিয়েছে। তাই বোধহয় এই নতুন কাল্পনিক শত্রু। হুতোম থাকলে বলতেন আজকের পৃথিবীতে এই এক নতুন। একথা ভুললে চলবে না যে যুদ্ধ হল সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পদ্ধতি। তা সে পৃথিবীর একেকটা অংশ নিজেদের মধ্যে ভাগ বাঁটোয়ারা করেই হোক বা স্রেফ ধ্বংস করে আবার সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাজার গড়ার লক্ষ্যেই হোক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে, ঠান্ডা যুদ্ধের কাল পেরিয়ে এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটাই অনুশীলিত হয়ে চলেছে; বিরাট পুঁজি ব্যয় করে, সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিয়ে, গন মননে সন্ত্রাসবাদকে মানবসভ্যতার শ্ত্রু বানিয়ে, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে। কিন্তু এই সন্ত্রাসবাদ যে আসলে সাম্রাজ্যবাদের গর্ভেই জন্ম নিয়েছে, প্রমান হয়ে গেছে তাও। সাম্রাজ্যবাদের শাসন জাল সারা পৃথিবীতে অটুট রাখতে গেলে চাই এক সাধারন গণশত্রু, যার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলো এবং তাদের নেতারা। বিশ্ব উষ্ণায়নকে সামনে রেখে পরিবেশ দূষণকে গণশত্রু বানাতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেরা হয়েছে বহুধা বিভক্ত। Sustainable Development এর তত্ত্ব প্রচার করতে গিয়ে প্রমান হয়ে গেছে যে আসলে পরিবেশ ধ্বংসের কারন হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী অতি মুনাফার পেছনে ছোটা। তাই চাই নতুন এক গণশত্রু – এবং সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্ট আজকের সেই গণশত্রুর নাম হল কোভিড ১৯।

সাম্রাজ্যবাদী মননে সব সময়ের জন্য চাই একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। শান্তির ভাব এবং গণতন্ত্র সাম্রাজ্যবাদী মননের বিপরীতে অবস্থান করে। রোগকে গণশত্রু বানিয়ে যুদ্ধ করার ইতিহাস এর আগেও দেখা গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যেমন তৈরী হয়েছিল মিলিটারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স, তেমনি, ‘বিশ্বায়নের’ যুগে তৈরী হয়েছে মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স। এই ধরনের শিল্প গোষ্ঠীর হাত ধরে বিভিন্ন যুদ্ধ হয়েছে – বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, রক্তের কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ইত্যাদি। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে, গুটিবসন্ত এবং পোলিও ছাড়া কোনও রোগ নির্মূল হয়নি, হওয়ার কথাও ছিল না; কিছু ক্ষেত্রে ঢোক গিলে স্বীকার করে নিতে হয়েছে যে এই রোগকে নিয়ন্ত্রন করতে হয়, নির্মূল করা যায় না। ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মাঝপথ থেকে পরিত্যক্ত, কোলেস্টেরলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রমানিত যে তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তিটাই ছিল ভুল, ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সফল, কারন এর ফলে মানব মনে ক্যানসার নিয়ে যে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরী হয়েছে, তাতে এই মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সগুলোর লাভ হয়েছে বিরাটাকারের। কিন্তু সেই লাভের উর্দ্ধগামী রেখারও একটা সীমা তো আছে। এই যুদ্ধ একটা স্থায়ী ভাব নিয়েছে, আর উর্দ্ধগামী লাভ দিতে পারছে না। কিন্তু এর থেকে সাম্রাজ্যবাদীরা শিক্ষা নিয়েছে। নিয়ে সেই শিক্ষা নতুন ভাবে কাজে প্রয়োগ করেছে।


0 Comments

Post Comment