পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

নোবেলপুজো, প্রেসিডেন্টপুজো

  • 30 October, 2019
  • 0 Comment(s)
  • 155 view(s)
  • লিখেছেন : হুতোম প্যাঁচা
আইকনে বাইগনে হল গলাগলি পুজো গেল এ নিয়েই মজিল বাঙালি। কাজে আচে অকাজেও থাকিলেই হয় যারে পাও পায়ে ধরে বলো তার জয় ।

nobel



একে পুজোর মরসুম, তায় হুজুগের যুগ পড়েচে। বিস্তর ফ্রি পাওয়া যাচ্চে। অসমের বাবু বিবিরা ভোট দিয়ে মোছলমান খ্যাদান কিনতে গিয়ে হিন্দু খ্যাদান ফ্রি পেলেন, বোম্বের বাবুরা আচ্ছে দিন কিনে দেউলে ব্যাঙ্ক ফ্রি পেলেন। তা পুজোর মধ্যে বাঙালি বাবুরাও তেমনি ফ্রি পেলেন।

মা দুগগা জানতেন দেবেন ঠাকুরের কনিষ্ঠ পুত্রের নোবেলটি চুরি যাবার পর থেকেই বাঙালির মনটা বড্ড নোবেল নোবেল কচ্ছে। বাপ মায়েরা অ্যালফ্রেড নোবেল সায়েবকে মনে মনে গাল দিচ্চিলেন ইঞ্জিনিয়ার আর ডাক্তারদের জন্যে পুরস্কারের বন্দোবস্ত করে যাননি বলে। নইলে পশ্চিমবাংলার কয়েকশো ভোম্বল আর কয়েক হাজার বাবুসোনা কবেই নোবেল পেয়ে যেত। তা এ বচ্ছর মা দুগগা মুখ তুলে চাইলেন। পুজোর মাসেই বাঙালির ছেলেকে নোবেল দিলেন।

সকলের যে সহ্য হল তা নয়। পরের ছেলের নাম হবে, টাকা হবে আর কোন বাবুর গা জ্বলবে না এ বা কী কথা? তাই এক বাবু বল্লেন মেম বিয়ে কল্লেই নোবেল পাওয়া যায় মনে হচ্চে। বাবুটি সেকালে চন্দ্রবিন্দু নামের গানের দলের গান মন দিয়ে শুনতেন। সেই যে শুনেচিলেন “এম বি এ করে চমকিয়ে দাও বাছা মেম বিয়ে করে ফেলে”, সেই থেকে সংস্কার জন্মেচে অন্য কিচুতে চমকে দেয়া যায় না। বিশ্বাসটি ভেঙে যাওয়ায় প্রলাপ বকলেন। যে বাবুরা নোবেলে উল্লসিত, তেনারা বেচারাকে নাহক দুকথা শুনিয়ে দিলেন। নোবেলজয়ীর গর্ভধারিণী অব্দি রেয়াত কল্লেন না।

বাঙালি বাবু বিবি সক্কলে উদ্দাম নাচছেন, এমনি সময় একজন বলার চেষ্টা কল্লেন আমাদের ছেলেটি কি আর একলা পুরস্কারটি পেয়েচেন? তেনার সহধর্মিণী কম বড় পণ্ডিত নন। তিনিও পেয়েচেন, আবার ক্রেমার বলে আরেক সায়েবও এনাদের সাথে কাজ করেই পেয়েচেন। অমনি কারো গোঁসা হয়ে গেল, মনে কল্লেন বাঙালিকে ছোট করা হচ্চে। যে বাবুরা অধিক বুদ্ধি ধরেন তেনারা অবিশ্যি ঘোষণা কল্লেন, দাদা আমাদের রত্ন, বউদিদি কি কম? ক্রেমার সায়েব বানের জলে ভেসে গেলেন, বাঙালির মানরক্ষা হল। নিন্দুকে বল্লেন, তবে কিনা অভিজিৎবাবু তো ও দেশের নাগরিকত্ব নিয়েচেন। নিন্দুক জানতেন না বাঙালিকে জব্দ করা সোজা কথা নয়। অভিজিতের নাগরিকত্বের ক্ষতি ঢাকতে কলকেতার বাবুরো রোনাল্ড রসকে গিলে করা ধুতি পাঞ্জাবি পরিয়ে হাতে রসগোল্লার হাঁড়ি ধরিয়ে ছাড়েন আর কি।

এ সওয়ায় মোড়ে মোড়ে ইয়া বড় হোর্ডিং দ্যাকা দিতে লাগলেন। এ পাশে অভিজিৎ ও পাশে নেত্রী। কে যে নোবেল পেয়েচেন দূর হতে ঠাওর করা শক্ত হল। কেবল এনার “অনুপ্রেরণায়” উনি নোবেল পেলেন এইটি লেকা বাকি রইল। মা দুগগা এই বিপদটি জানতেন। সেই কেচ্ছাটি ঠ্যাকাতে ঝিঁঝি খেলার বোর্ডের প্রেসিডেন্ট পদটি নোবেলের সাথে ফ্রি দিয়ে রেখেচিলেন। এ যাত্রায় সেই হুজুগটিই অভিজিৎবাবুকে রক্ষে কল্লে।

আনন্দের সেরা বাঙালি, দুখখুর সেরা বাঙালি, সেরা জীবিত বাঙালি ইত্যাদি জয়ধ্বনিপ্রাপ্ত বেহালার বাবুটিকে নিয়ে সকলে মাতলেন, নোবেল সায়েবের আত্মা স্বস্তি পেয়ে পাশ ফিরে শুলেন।

যে বাবু জননীর পেট থেকে পড়েই মহারাজ তিনি যে নিত্য নূতন চেয়ারে বসে জগৎ আলো করবেন সে আর অধিক কী? লন্ডনের ময়দানের ঘাসে সায়েবদের নাক ঘষে দিয়ে তেনাদেরই বারান্দায় আদুল গায়ে মাদুলি প্রদর্শন করে যে বাবু কলকেতার ন্যাকা বাবুদের পুরুষসিংহ বানিয়ে তুলেচিলেন একদা, তিনি প্রেসিডেন্ট হতে বাবুরা পাগলপারা হলেন। আলিপুরের কেষ্টর জীবেরা মনে কল্লে জ্যোতিবাবু, প্রণববাবু সকলের দুখখু মোচন করে বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হয়েচে। 'মহারাজ' শব্দটি আচে এমন বাংলা গানে, ছড়ায়, কবিতায় ফেসবুক ভরে উঠল। কাল অবধি অবাঙালি বসের খেউড়ে ঝিমুনো বাবুটি আপিসে ঢুকেই বিদ্যাসাগর মশায়ের ন্যায় উডল্যান্ডসসজ্জিত পা দুখানি ডেস্কের উপর তুলে দিলেন, বস চেম্বার থেকে দেকেই হাওয়া বুঝে আর ওমুখো হলেন না, ইয়ারলি অ্যাসেসমেন্টের অপেক্ষায় রইলেন। ঝিঁঝিপাগল ছোকরারা তস্য গার্লফ্রেন্ডদের বোঝালেন এবার থেকে রবি শাস্ত্রীবাবুর মহারাজের জুতো পালিশ ভিন্ন কাজ থাকবে না। চাই কি ফিল্ডিংটিও হোয়াটস্যাপের কল্যাণে বিরাটের বদলে বঙ্গসন্তান প্রেসিডেন্টই সাজিয়ে দেবেন।

চালচুলো খোয়ানো বাঙালির স্বপ্ন দ্যাকা সূয্যি পশ্চিমে হেলতে শুরু কল্লেও শেষ হয় না। তাই ট্রেনে বাসে সেনজা, ঘোষজা, বোসজা, বাঁড়ুজ্জে, চাটুজ্জে সকলেই বলতে লাগলেন ও পারের ইমরান খানের মতন এ পারের ইনিও কালে কালে দিল্লীর মসনদে বসবেন। অনেক বাবু অবিশ্যি স্বপ্নেও মধ্যবিত্ত। তেনারা বল্লেন মোদীবাবু ২০২১ এ আমাদের এনাকেই মুখ্যমন্ত্রী করবেন। নবান্নে দিদির পদে দাদা বসবেন। মাথার উপর গার্জেন না থাকলে বাঙালি কিনা অচল।

সবই আচ্ছে বলে বোধ হচ্চিল, কোথা হতে নিন্দুক প্রকট হলেন। এসেই শুধোলেন, যে বুড়ো হাবড়ার জামাতা টাকা ছড়িয়ে খেলার হার জিত ঠিক করেন বলে এত কাণ্ড হল, বাঙালির আইকন, আচ্ছা জনগণমনয়ধিনায়কই হল, তেনার সমর্থন কী করে গ্রহণ কল্লেন? আবার যে ক্যাপ্টেন জুয়ো খেলে ম্যাচ ছেড়ে দিতেন বলে প্রমাণ হয়ে শাস্তি ভোগ কল্লেন, তেনাকেই বা মহারাজের তালুকে সম্বর্ধনা দেয়া হচ্চে কেন? আরেক নিন্দুকের মুখে কিচুই আটকায় না। তিনি বল্লেন রাতারাতি সম্পত্তি অযোধ্যা পাহাড় থেকে হিমালয়ের মতন ফুলে ওঠা বাবুটির মদতে আমাদের ইনি প্রেসিডেন্ট হয়েচেন। তাতে বাঙালি এত লাফাচ্চে কেন? বাংলায় এ অবধি গণপিটুনি কমের মধ্যে আচে, কিন্তু এই দুঃসাহসী নিন্দুকটিকে পিটিয়ে বাপি বাড়ি যা করার উদ্যোগ চলছিল। তিনি বেঁচে গেলেন এক গর্বিত বাবুর একটি ছবিতে নজর আটকে যাওয়ায়। ছবিতে দ্যাকা যাচ্চে মহারাজ পেয়াদার মতন দাঁড়িয়ে আচেন অন্য স্যাঙাতদের নিয়ে, আর সম্পত্তিফোলাবাবু শাহি দেমাকে মসনদে বসে আচেন।

এই না দেখে গর্বিত বাবুরো ফোলাবাবুর চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে মিম বানাতে ব্যস্ত হয়ে পল্লেন, আমাদের নিন্দুকটি পালিয়ে বাঁচলেন।

ইডেন উদ্যানের ফ্লাডলাইটের একটি স্ট্যান্ডে বসে পা দোলাতে দোলাতে দেখলেম এক পাগল গাইচে

 

আইকনে বাইগনে হল গলাগলি

পুজো গেল এ নিয়েই মজিল বাঙালি।

কাজে আচে অকাজেও থাকিলেই হয়

যারে পাও পায়ে ধরে বলো তার জয় ।

0 Comments

Post Comment