পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

কৃষক আন্দোলন, রাষ্ট্ৰ ও ছবি

  • 20 February, 2021
  • 0 Comment(s)
  • 354 view(s)
  • লিখেছেন : সৌমিত্র ঘোষ
রাস্তায় কৃষকরা বসে থাকুন ঠান্ডায় গরমে বর্ষায়। ছবি না হলেই হলো। টিভিতে যেন দেখানো না হয়, নেটে যেন ঘুরে না বেড়ায়। আজকের ফ্যাসিস্টদের ধারণা, ছবির ওপরই সব নির্ভর করে, ছবি দেখানো কিম্বা তোলা যদি বন্ধ করে দেওয়া যায়, রাষ্ট্ৰবিরোধী আন্দোলনও বন্ধ হয়ে যাবে।

ঋতু বদলাচ্ছে। শীত নিভু নিভু, ধূলোর আর চামড়ায় কর্কশ টানের রুক্ষ মেটে বসন্ত এসে পড়লো বলে। বাংলায় ভোটের আগমনী, যে কোন দিন নির্ঘন্ট ঘোষণা হবে, টিভিপর্দা থেকে স্মার্টফোনপর্দা হয়ে ছবি আর শব্দের বিরামহীন ঢেউ আছড়ে পড়ছে মানুষের চোখে, কানে, চৈতন্যে। ওদিকে দিল্লির উপকণ্ঠে রাস্তায় বসে আছেন সহস্র লক্ষ কৃষক, ভয়ঙ্কর হাড় জমানো ঠান্ডা চলে গিয়ে উত্তর ভারতের দুর্দান্ত গ্রীষ্ম আসছে, তাঁরা তৈরি হচ্ছেন। দিল্লির শাহী দরবার থেকে পুলিশগোয়েন্দাসিপাইসান্ত্রীর দল ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে, গন্ধ শুঁকে বার করছে কে দেশদ্রোহী, কে খালিস্তানি, কে কার সঙ্গে মিলে ঘনঘোর ষড়যন্ত্রের জাল বিছোচ্ছে।

ছবি শোঁকা

গন্ধ শুঁকে বার করার কথাটা ঠিক হলো না বোধহয়। আমাদের কালে রাষ্ট্রের ও রাষ্ট্ৰশাসিত আম লোকজনের যাবতীয় ইন্দ্রিয়, নেটব্রহ্মের অতীন্দ্রিয় রহস্যঘন পরিসরে লীন, ফলে গন্ধ যদি কিছু থেকে থাকে, তা ফোন কম্পিউটার ট্যাব থেকে বিকিরিত হয়ে সার্ভার ডেটা সেন্টার ক্লাউড ঘুরে রাষ্ট্ৰযন্ত্রের সদাজাগ্রত সেন্সরে ধরা পড়ছে। রাষ্ট্ৰ রোঁয়া খাড়া করে, ল্যাজ ফুলিয়ে, দাঁত খিঁচিয়ে কাউকে তাড়া করছে, কাউকে ইউএপিএ লাগিয়ে জেলে দিচ্ছে।

এই কথাটা বলার সম্যক কারণ আছে। যে সরকার বর্তমানে দিল্লি দরবারে আসীন, তারা রাস্তায় আন্দোলনরত জনতার ভিড়ে যত না বিচলিত, তার চাইতে অনেক বেশি সে ভিড়ের সাংখ্য অর্থাৎ ডিজিটাল অবতার নিয়ে। আন্দোলন একটা, দুটো কি দশটা রাস্তায় হয়, আন্দোলনের ডিজিটাল ছবি পৌছয় দু দশ লক্ষ জায়গায়। সে ছবি অন্যদের, অর্থাৎ যারা আন্দোলনের অংশ নয় তাদের প্রাণিত করে মতামত দিতে, হয় পক্ষে নয় বিরুদ্ধে। দিল্লিতে এই ছাব্বিশে জানুয়ারি তরোয়াল ট্রাক্টর নিয়ে কিছু জঙ্গি কৃষক, কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তি ও কিছু আক্ষরিক অর্থেই পথভোলা লোক ঢুকে পড়ে হুলুস্থুল বাঁধালো, লাল কিল্লার ভিতরে ঢুকে পড়ে গন্ডগোল লাগিয়ে দিলো। সে সব উত্তেজক ছবি সবাই দেখেছেন, এই লেখকও দেখেছে। কথাটা হলো, রাস্তায় যখন এসব ঘটছে, সরকারি সিপাইরা প্রায় করুণাময় বুদ্ধ যথা, মারপিট কিছুই তেমন হলো না, লালকিল্লা অভিযান ঘটলো নির্বাধায়। যা হলো সব পরে। রাস্তায় নর্দমা কাটা, গজাল পোঁতা, সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে ব্যারিকেড, কেসকাছারি, সব পরে। রাকেশ টিকায়েতকে ধরতে আসা থেকে সিংঘু গাজীপুরে বিজেপি গুন্ডাদের হামলা ইস্তক সমস্ত আক্রমণ কৃষকেরা আটকালেন, আন্দোলন চলতে থাকলো, এখনো চলছে। সে আন্দোলন বন্ধ করার ফর্মুলা রাষ্ট্রের কাছে নেই, বোঝাও যাচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রীয় হামলা সমেত সে আন্দোলনের ছবি যখন নেটবিশ্বে ভ্রাম্যমাণ, বর্হিবিশ্ব থেকে ট্যুইট আসছে তো আসছেই, রাষ্ট্ৰ অতি-সক্রিয়।

ফেক নিউজ? টেক কোম্পানি বনাম রাষ্ট্ৰ

ট্যুইটার কোম্পানিকে ভয় দেখানো হলো, ফেসবুক কোম্পানিকেও, এদেশে ব্যবসা করতে হলে আইন মানো। নোটিস পাঠানো হলো, পরে সংসদে দাঁড়িয়ে স্বয়ং আইনমন্ত্রী বিবৃতি দিলেন, বেগর্বাই করলে দেখিয়ে দেবো। ট্যুইটারের দিশি কর্মচারীদের জেলে পোরা হবে কিনা সে চর্চা শুরু হয়ে গেলো। বিজেপি-আর এস এস এর চাঁই ও কুচোরা নিয়ম করে বলতে থাকলেন(এখনো বলছেন), ফেক নিউজ সহ্য করা হবে না, কুৎসা ছড়িয়ে যারা দেশের বদনাম করে তাদের আটকানোর জন্য কঠিন আইন চাই। সে আইনের খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে। ওদিকে যে বা যাঁরা ট্যুইটারে বা অন্যত্র হ্যাশট্যাগ ইত্যাদি মেরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ করছিলেন তাঁদের ঠান্ডা করবার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, কাউকে ছাড়া হবে না।

প্রশ্ন উঠছে, কোথায় কে দু চারটি ট্যুইট করলেন, হোয়াটস য়্যাপে কে কি বললো, ফেসবুকে কি পোস্ট গেলো বা শেয়ার হলো, তাতে কি বা যায় আসে? আইন আইন করছেন, কোন আইনে বলা আছে এসব করা যাবে না? রহি বাত ফেক নিউজ কি, কে বলছে ফেক নিউজ চলবে না? বিজেপি, ফেক নিউজ বানানোর রীতিমতো কারখানা আছে যাদের? কি হচ্ছেটা কি? দেশশুদ্ধ সবাই বিচলিত।

এসব প্রশ্ন অত্যন্ত ন্যায্য, করাও উচিত। কিন্তু করে কি লাভ? বিজেপি সরকারের সাত বছর চলছে, এটা বুঝতে আর কদিন লাগবে যে এই সরকার অথবা সরকারদখলে থাকা রাষ্ট্রের কাছ থেকে আর যাইই হোক, ন্যায় আচরণের প্রত্যাশা করা যায় না? ফ্যাসিবাদ কথাটা ইদানীং অতিব্যবহারে জীর্ণ, তা সত্বেও বলতেই হয়, ফ্যাসিবাদের নিজস্ব ন্যায়নীতি ও যুক্তিক্রম থাকে, যার নির্যাস, রাষ্ট্ৰ যা বলে তার বাইরে সব মিথ্যা বা দেশদ্রোহ। ট্রাম্প সায়েবের কথা ভাবুন। আমেরিকা দেশটা অন্য পঞ্চাশ ব্যাপারে শত্রুপক্ষ হলেও, সেখানে রাষ্ট্রনায়কদের গালি দিয়ে জেলে যেতে হয় না, ফলে ট্রাম্প জমানায় সেদেশের প্রধান মিডিয়াঘরগুলো(ফক্স নিউজ ছাড়া) ট্রাম্প ও ট্রাম্পশাসন সম্পর্কে খুব খারাপ খারাপ কথা বলে গেছে। তাতে যারপরনাই খাপ্পা হয়ে ট্রাম্প ও তাঁর অর্বুদ নির্বুদ সমর্থকদের দল ক্রমাগত বলে গেছেন, ফেক ফেক ফেক নিউজ। এখনো বলছেন। এটাই দস্তুর। আমি রাষ্ট্ৰ, সুতরাং ঠিক। আমি ট্যুইটারে হোয়াটস য়্যাপে গোদি মিডিয়ায় অনর্গল নির্জলা মিথ্যে বলে যাবো, কিন্তু যেহেতু আমি বলছি, তা নেহায়েৎ তামাতুলসি মহাসত্য। আমি যা বলছি না, তা কুৎসা, ফেক ও দেশদ্রোহ।

মিথ্যার বাজার

দ্বিতীয়ত, আমাদের সময়ের যে ফ্যাসিবাদ, তার শাসনের একটা দিক যদি হয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার, অন্য দিকটা হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন, চূড়ান্ত ও আগ্রাসী প্রচার। পরেরটায় জোর পড়ে। যেহেতু ঐতিহাসিক ফ্যাসিবাদের তুলনায় আজকের রাষ্ট্রকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্তত একটা বহিরঙ্গকে খাড়া রাখতে হয়, এবং চাইলেই কনসেনট্রেশন ক্যাম্প খুলে লাখ লাখ লোককে মেরে দেওয়া যায় না, প্রচারের উপকরণগুলোর ওপরে একচেটিয়া দখলদারি ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বড় মিডিয়ার দখল নেওয়া সহজ। খবরের কাগজ কি টিভি কোম্পানিগুলোয় কর্পোরেট মালিকানা, সেগুলোকে কিনে নেওয়া যায়, ভয় দেখানো যায়। সোশ্যাল মিডিয়া বা সমাজমাধ্যমে কাজটা আরো সহজে হয়, এমন মনে করা হতো এতদিন। মার্ক জুকারবার্গ যতই কমিউনিটি কমিউনিটি করুন, তাঁর মালিকানাধীন ফেসবুক হোয়াটস য়্যাপ এমুহূর্তে দুনিয়ার সবচাইতে বড় পুঁজিবাড়ানোর কলগুলির অন্যতম, ফলে শেষ বিচারে সে কোম্পানিরও কাজ হচ্ছে পুঁজি বাড়ানো। রাষ্ট্রীয় বা অ-রাষ্ট্ৰীয় ফেক নিউজ অগণিত ব্যবহারকারীর মধ্যে ছড়িয়ে, ঘৃণা ও বিদ্বেষের চাষ করে সে কাজ যদি সমাধা হয়, ক্ষতি কি? বিজেপির সঙ্গে ফেসবুক কোম্পানির যোগাযোগ এমনি এমনি ঘটেনি। গত সাত বছরে বা তার আগে থেকেই যে উগ্র রাষ্ট্র্ববাদী হিন্দুত্ববাদী প্রচার বিজেপি-সঙ্ঘ পরিবার চালিয়েছে তা থেকে ফেসবুক-হোয়াটস য়্যাপ-ট্যুইটার আদি বড় টেক কোম্পানিগুলোর বিশাল, নতুন ও ক্রমবর্ধমান বাজার তৈরি হয়েছে। সে বাজার স্বেচ্ছায় কে ছাড়তে চায়? তদুপরি, সে বাজারের সঙ্গে যখন রাষ্ট্ৰ বিষয়টি সম্পৃক্ত হয়ে যায়, তা সর্বত্রগামী ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে, এমনটাই ধরে নেওয়া হতো। ফলে বিজেপিওয়ালারা তাদের পেশাদারি আইটি সেল, লক্ষ লক্ষ হোয়াটস য়্যাপ গ্ৰুপ ইত্যাদি নিয়ে দিব্যি ছিলেন, সে বাজারে অন্য কেউ ঢুকে পড়তে পারে, সেটা তাদের ভাবনায় ছিলো না বলেই মনে হয়। থাকার কথাও নয়। ২০১৪-র প্রাক নির্বাচনী সময় থেকে শুরু করে বিজেপি দলটা তার রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধির জন্য চূড়ান্ত মাত্রায় ছবি ব্যবহার করেছে। মোদি স্বয়ং ছবি হয়ে উঠেছেন, বিভিন্ন আয়তনের ও ঘরানার পর্দায় সে ছবি ঘুরতে থেকেছে অনবরত। আই টি সেল থেকে রাশি রাশি ভিডিও বানিয়ে বিজেপিবিরোধিতা মানে যে বস্তুত পাকিস্তানবাদ, মুসলিমপন্থা, ঘুসপেট, জিহাদি সন্ত্রাস ও মাওবাদ, তা মানুষের মগজে প্রোথিত করা হয়েছে। ছবি যত না ঘুরেছে গোদি মিডিয়ায়, তার চাইতে বহুগুন বেশি সমাজমাধ্যম বা সাংখ্যমাধ্যমে। ছবি কথা বলে, মানুষ ছবিতে বিশ্বাস করেন ও বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, সুতরাং নোটবন্দী, জিএসটি ইত্যাদির ধাক্কায় অর্থনীতির বারোটা বেজেছে, লোকের পেটে টান পড়েছে, কাজ হারিয়েছেন হিসাবহীন সমুদায়, অথচ মোদীর জনপ্রিয়তা কমেনি। ছবি তৈরির কলটি অবিনশ্বর ও অব্যর্থ, এমন ভাববার কারণ ছিলো।

মুশকিল হচ্ছে, ব্যাপারটা মূলত বাজারের। বড় টেক কোম্পানিগুলোর ডেটাবাজারে ঘৃণাব্যবসায়ী, মিথ্যা ছবি ছড়ানো আই টি সেল ওয়ালারা যতটা স্বাগত, রাষ্ট্ৰবিরোধী বিপ্লবী কিম্বা লিবরল গণতন্ত্রপ্রেমীরা ততটাই। গত এক দশক ধরে পৃথিবীতে যে কটা বড় আন্দোলন খবর হয়েছে তার প্রত্যেকটায় ফেসবুক ট্যুইটার হোয়াটস য়্যাপের যথেচ্ছ ব্যবহার ছিলো। এর সঙ্গে জুড়ে নিতে হবে পশ্চিমী দুনিয়ায়(যাকে আজকাল দক্ষিণ গোলার্ধও বলা হয়) স্বাধীন মতপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ার উপযোগিতা বিষয়ে বহু মানুষের সন্দিহান হয়ে ওঠা। আমেরিকার রাষ্ট্ৰপতি নির্বাচনের পর ট্যুইটার যে ট্রাম্পের য়্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলো, ফেসবুক যে সারাক্ষণ মানবকর্মী বাড়িয়ে 'বিষয়পরীক্ষা' অর্থাৎ কনটেন্ট মনিটরিংয়ের কথা বলতে হচ্ছে, তার প্রধান কারণ, আমব্যবহারকারীদের মধ্যে বড় টেক কোম্পানিগুলোকে নিয়ে অজস্র গোলমেলে প্রশ্ন উঠছে। নেহাতই ব্যবসায়িক কারণে কোম্পানিকর্তারা দেখাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন তাঁরা ফেক নিউজ বা ঘৃণার ব্যাপার সমর্থন করেন না, এবং রাষ্ট্রের কথা শুনে চলার তাদের দায় নেই।

ছবিদখল না আন্দোলন?

এই পরিপ্রেক্ষিতে টেক কোম্পানিগুলোর ওপর বিজেপিওয়ালাদের ও তাদের কবলে থাকা রাষ্ট্রের যুগপৎ আক্রমণের বিষয়টাকে বিচার করা দরকার। আজকের ফ্যাসিস্টদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া ততক্ষণ স্বাগত যতক্ষণ সে তার খাসদখলে থাকে, তার হয়ে ছবি বলে, মিথ্যা ও ঘৃণা ছড়ায়। ছবি যখন অন্য কারুর, অন্য কিছুর, তা পরিত্যাজ্য ও শত্রু। সিংঘু গাজীপুরের রাজপথে গজাল পোঁতা ইত্যাদির ছবি ভাইরাল হয়ে নেটদুনিয়ায় ছড়াতে থাকলো, কান্নায় ভেঙে পড়া রাকেশ টিকায়েতের ছবি দেখে হাজার হাজার কৃষক নতুন করে পথে নামলেন, এটা ফ্যাসিস্টদের কাছে অসহ্য শুধু নয়, বিপদও। তারা ছবি ছড়াতে চায়, ছবির লড়াইতে যেতে চায় না। রাস্তায় কৃষকরা বসে থাকুন ঠান্ডায় গরমে বর্ষায়, একটা কেন দশটা শাহীনবাগ হোক। ছবি না হলেই হলো। টিভিতে যেন দেখানো না হয়, নেটে যেন ঘুরে না বেড়ায়। আজকের ফ্যাসিস্টদের ধারণা, ছবির ওপরই সব নির্ভর করে, ছবি দেখানো কিম্বা তোলা যদি বন্ধ করে দেওয়া যায়, রাষ্ট্ৰবিরোধী আন্দোলনও বন্ধ হয়ে যাবে, বাইরের সেলিব্রিটিরা সরকারের সমালোচনা করে ট্যুইট করবেন না।

ফ্যাসিস্টদের ধারণা কি ঠিক? ছাব্বিশে জানুয়ারির পর থেকে কৃষক আন্দোলনের শারীরিক চৌহদ্দিতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো, সাংবাদিকরা যাতে যেতে না পারেন সে চেষ্টাও চলেছে। আন্দোলন কি বন্ধ হয়ে গিয়েছে সত্যিই? নাকি তা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে? একের পর এক গ্রামে মহাপঞ্চায়েত বসছে, হরিয়ানায়, উত্তরপ্রদেশে, এমনকি পাঞ্জাবে, যেখানে পঞ্চায়েত বসানোর চল নেই। ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে আসছেন জাঠ ও মুসলমানেরা। ফ্যাসিস্টদের কাছে ছবিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাষ্ট্ৰশক্তি ও গুন্ডামি ভিন্ন তাদের জিম্মায় ছবির পিছনের বাস্তব দুনিয়ায় বলবার মত কিছু নেই। কৃষকদের আন্দোলন মাটির, এবং তা মাটির ওপর সবল শারীরিকতা নিয়ে দাঁড়িয়ে। স্রেফ ছবি বন্ধ করে তাকে উপড়ে ফেলা যাবে না।

0 Comments

Post Comment