পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

গরম ভাতের গন্ধ

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 204 view(s)
  • লিখেছেন : দীপক সাহা
কলকাতার উপকণ্ঠে ছোট্ট একটি সরকারি বিদ্যালয়—উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি খুব বড় নয়। পুরোনো দোতলা ভবনের দেওয়ালে কোথাও রং খসে পড়েছে, কোথাও বৃষ্টির জল শুকিয়ে কালচে দাগ ফেলেছে।

সামনে একটি বটগাছ, তার ছায়ায় সিমেন্টের গোল বেঞ্চ। সকালের রোদ উঠোনে পড়তেই কয়েকটি শালিক নেমে আসে। দূর থেকে দেখলে স্কুলটিকে অন্য দশটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই মনে হয়। দুপুর বারোটার ঘণ্টা বাজলেই স্কুলের চেহারা বদলে যায়। সেই ঘণ্টার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাধিক ছোট্ট জীবনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের ঘণ্টার শব্দটা অন্য সব নামি-দামি প্রাইভেট স্কুলের মতো নয়। এই ঘণ্টা বাজলে কেউ শুধু টিফিন খেতে যায় না; কেউ যায় দিনের প্রথম পেটভরা খাবার খেতে, কেউ যায় মায়ের কপালের দুশ্চিন্তা একটু কমাতে, আবার কেউ মনে মনে হিসেব করে, আজ যদি পেট ভরে খাওয়া যায়, তাহলে রাতে বাড়িতে মায়ের ভাগের ভাতটুকু আর কমাতে হবে না। প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধ মাইতি এই ঘণ্টার শব্দ প্রায় কুড়ি বছর ধরে শুনছেন। তাঁর কাছে এটি কেবল একটি বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন রুটিন নয়, বরং শতাধিক শিশুর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নীরব প্রতিশ্রুতি। তিনি প্রায়ই ভাবেন, পৃথিবীতে যত বড় বড় বক্তৃতাই হোক, একটি ক্ষুধার্ত শিশুর সামনে গরম ভাতের থালার চেয়ে বড় ভাষণ আর কিছু নেই।

সেদিন সকাল থেকেই স্কুলের গেটের বাইরে অস্বাভাবিক ভিড়। সেদিন থেকেই নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তে এই এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবারের একটি অংশ এখন কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে পৌঁছে আসছে। আজ ভাত, ডাল, সবজি আর সয়াবিন-পনিরের তরকারি সেখান থেকেই এসেছে। তবে সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে ডিম এখনও স্কুলের রান্নাঘরেই রান্না হবে। নতুন এই ব্যবস্থাকে ঘিরে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এতে খাবারের মান ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হবে। কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন, এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে। সেই বিতর্কের রেশই যেন সকালবেলা এসে পৌঁছেছে উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে। অথচ স্কুলের ভেতরে পড়াশোনা আর শিশুদের ক্ষুধা—দুটোই আগের মতোই রয়ে গেছে।

দু'টি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। বুম হাতে সাংবাদিকেরা অপেক্ষা করছেন। কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী নিজেদের মধ্যে উত্তপ্ত তর্কে ব্যস্ত। কেউ মোবাইলে সরাসরি সম্প্রচার করছেন, কেউ আবার জোর গলায় নিজের মত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। কয়েকজন অভিভাবক দূরে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী চোখে সব দেখছেন। আলোচনার বিষয় পড়াশোনা নয়, পরীক্ষার ফলও নয়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটি দুপুরের খাবার। কেউ জানতে চাইছে খাবার কোথা থেকে এসেছে, কেউ জানতে চাইছে আজ মেনুতে কী আছে, কেউ আবার খাবারের মধ্যেই নীতি, পুষ্টি আর মতাদর্শের হিসেব কষে ফেলছেন। অনিরুদ্ধবাবু সবার কথা শুনছিলেন, কিন্তু তাঁর মনে বারবার ফিরে আসছিল একটাই প্রশ্ন—এই এত মানুষের মধ্যে একজনও কি জানতে চাইবে, আজ বাচ্চাগুলো পেট ভরে খেতে পারবে তো?

স্কুলের ভেতরে অবশ্য সম্পূর্ণ অন্য এক পৃথিবী। প্রথম শ্রেণির ছোট্ট মেঘলা স্লেটে অ আ ক খ লিখতে লিখতে মাঝেমধ্যে জিভ বের করে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় শ্রেণির আয়েশা আর সুমন একসঙ্গে কবিতা আবৃত্তি করছে। তৃতীয় শ্রেণির বাবাই জানলার বাইরে আকাশে ভেসে যাওয়া সাদা মেঘ গুনছে। আর চতুর্থ শ্রেণির রিনা বারবার দেওয়ালে ঝোলানো গোল ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছে। কাঁটা যেন আজ এগোতেই চাইছে না।

সকাল থেকে তার পেটে একফোঁটা ভাত পড়েনি। মা ভোরে দু'টি বাড়িতে কাজ করতে বেরিয়ে যাওয়ার আগে এক গ্লাস চিনি মেশানো জল খেতে দিয়ে বলেছিলেন, "স্কুলে গিয়ে দুপুরে পেট ভরে খেয়ে নিস।" কথাটা বলার সময় মায়ের মুখে যে হাসিটুকু ছিল, রিনা জানে সেটি আসলে অভাবকে লুকিয়ে রাখার হাসি। সংসারে চাল কম পড়লে মা নিজের ভাগের ভাতও মেয়ের থালায় তুলে দেন। অনেক দিন এমন হয়েছে, মা নিজে শুধু জল খেয়ে শুয়ে পড়েছেন, কিন্তু রিনাকে বুঝতে দেননি। তাই স্কুলের দুপুরের খাবার তার কাছে কোনো সরকারি প্রকল্প নয়; এটি মায়ের বুকের ভেতর জমে থাকা দুশ্চিন্তার সামান্য অবকাশ।

বাংলা ক্লাস নিচ্ছিলেন সুচিত্রা দিদিমণি। পড়া বোঝাতে বোঝাতে তিনি লক্ষ্য করলেন, রিনার চোখ বইয়ের পাতায় থাকলেও মন সেখানে নেই। তিনি কাছে এসে মৃদু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে রিনা? শরীর খারাপ লাগছে?"

রিনা মাথা নেড়ে বলল, "না দিদিমণি।"

পাশে বসা বাবাই হেসে বলে উঠল, "দিদিমণি, ওর খুব খিদে পেয়েছে।"

মুহূর্তের জন্য পুরো ক্লাস হেসে উঠল। আয়েশাও হেসে ফেলল। কিন্তু হাসতে হাসতেই তার মনে পড়ে গেল, গত সপ্তাহে একদিন তারও সকালবেলা কিছু খাওয়া হয়নি। হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। সুচিত্রা দিদিমণি রিনার মাথায় আলতো করে হাত রেখে বললেন, "আর একটু অপেক্ষা করো। ঘণ্টা পড়লেই খেতে যাবে।"

রিনা জানলার বাইরে তাকিয়ে রইল। মাঠের ওপারে স্কুলের রান্নাঘর। আজ সেখানে রান্না হচ্ছে না, কিন্তু বড় বড় তাপরোধী পাত্রে করে আসা খাবার পরিবেশনের প্রস্তুতি চলছে। মাঝেমধ্যে কোনো পাত্রের ঢাকনা খুলতেই গরম ভাতের বাষ্প হালকা ধোঁয়ার মতো বাতাসে ভেসে উঠছে। সেই গন্ধ যেন ধীরে ধীরে ক্লাসঘর পর্যন্ত এসে পৌঁছল। পেটের ভেতরটা আবার মোচড় দিয়ে উঠল। সে আর ঘড়ির দিকে তাকাল না। শুধু অপেক্ষা করতে লাগল—দুপুরের সেই ঘণ্টার জন্য।

এদিকে স্কুলের রান্নাঘরের সামনে সকাল থেকেই অন্যরকম ব্যস্ততা। বহু বছর ধরে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব সামলানো সরলা দিদি বড় বড় তাপরোধী স্টিলের পাত্রগুলোর ঢাকনা খুলে একবার করে দেখে নিচ্ছেন। ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত, ঘন ডাল, মিশ্র সবজি আর সয়াবিন-পনিরের তরকারি ঠিকঠাক আছে কি না, গরম রয়েছে কি না—সবই তাঁর চোখ এড়ায় না। পাশে সারি করে রাখা থালা, গ্লাস আর জলের জগ। কাল ডিমের মেনু। সেটি রান্না হবে এই স্কুলের রান্নাঘরেই। কিন্তু আজ তাঁর সমস্ত ব্যস্ততা খাবার গ্রহণ, পরীক্ষা আর পরিবেশন ঘিরে।

সরলা দিদির বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। এই রান্নাঘরেই তাঁর জীবনের অনেকটা সময় কেটে গেছে। সরকার বদলেছে, নিয়ম পাল্টেছে, কত মেনু এসেছে-গিয়েছে—সব তিনি দেখেছেন। কিন্তু একটি দৃশ্য কোনোদিন বদলায়নি। দুপুরের ঘণ্টা বাজলেই একঝাঁক ছোট ছোট হাত থালা নিয়ে সার বেঁধে দাঁড়ায়। সেই মুখগুলোর দিকে তাকালেই তাঁর মনে হয়, বড় বড় পাত্রগুলোর ভেতর শুধু ভাত বা ডাল নয়, আরও কিছু এসে পৌঁছায়—কারও দিনের প্রথম তৃপ্তি, কারও মায়ের স্বস্তি, কারও আগামীকাল স্কুলে আসার উৎসাহ।

প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধবাবু।ধীরে ধীরে রান্নাঘরে ঢুকলেন। একটি পাত্রের ঢাকনা খুলতেই গরম ভাতের বাষ্প উঠে এসে তাঁর চশমার কাচ ঝাপসা করে দিল। তিনি হেসে বললেন, "আজ গন্ধটা কিন্তু বেশ ভালো লাগছে।" 

সরলা দিদিও মুচকি হেসে বললেন, "বাচ্চাদের মুখে হাসি দেখলেই বুঝব, খাবার ভালো হয়েছে স্যার।"

ঠিক তখনই রান্নাঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালেন এক তরুণ সাংবাদিক। সঙ্গে ক্যামেরাম্যান। অনুমতি নিয়ে তিনি বললেন, "দিদি, আজকের মেনুটা একটু বলবেন?"

সরলা দিদি পাত্রের ঢাকনা বন্ধ করতে করতেই উত্তর দিলেন, "ভাত, ডাল, সবজি, সয়াবিন আর পনির।"

"ডিম নেই?"

"আজ নেই। কাল ডিম হবে। কাল সকালে এখানেই রান্না হবে।"

সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করলেন, "নতুন ব্যবস্থা নিয়ে তো অনেক আলোচনা হচ্ছে। আপনার কী মনে হয়?"

সরলা দিদি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন। তারপর খুব শান্ত গলায় বললেন, "আমি এত কিছু বুঝি না বাবু। আমি শুধু বুঝি, দুপুরে একটা বাচ্চাও যেন খালি পেটে বাড়ি না ফেরে। আজ যা এসেছে, সেটা ভালোভাবে ওদের হাতে তুলে দেওয়াই আমার কাজ। কাল আবার ডিম রান্না হবে। বাচ্চারা খুশি থাকলেই আমরা খুশি।"

সাংবাদিক আর কিছু বললেন না। ক্যামেরা ধীরে ধীরে ধোঁয়া ওঠা ভাতের পাত্রের দিকে ঘুরে গেল। বাইরে এখনও বিতর্ক চলছে। কিন্তু রান্নাঘরের ভেতরে শোনা যাচ্ছে শুধু থালা সাজানোর শব্দ, ঢাকনা খোলার শব্দ আর গরম ভাতের গন্ধে ভরে ওঠা এক ব্যস্ত দুপুরের অপেক্ষা।

ঠিক সেই সময়—

ঢং... ঢং... ঢং...

দুপুরের ঘণ্টা বেজে উঠল।

মুহূর্তের মধ্যে যেন পুরো বিদ্যালয়ের চেহারাই বদলে গেল। ক্লাসঘর থেকে বই বন্ধ করার শব্দ ভেসে এল। করিডোর জুড়ে ছোট ছোট পায়ের ছুটে চলা। কেউ থালা হাতে লাইনের দিকে দৌড়াচ্ছে, কেউ বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছে, কেউ আবার বলছে, "ধীরে চল, সবাই তো খাবার পাব।" কয়েক মুহূর্ত আগেও যে স্কুলে পড়ার নীরবতা ছিল, সেখানে এখন শুধু শিশুদের কোলাহল।

রিনা, আয়েশা আর বাবাই একসঙ্গে ক্লাসঘর থেকে বেরিয়ে এল। তিনজনের চোখেই একরকম উজ্জ্বলতা। রিনার মুখে সকালবেলার ক্লান্তি আর নেই। ক্ষুধা তখনও আছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে অপেক্ষার শেষ হওয়ার আনন্দ। রান্নাঘরের সামনে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন পড়ে গেছে। প্রথম শ্রেণির ছোটরা সামনে, তারপর একে একে বড়রা। অনিরুদ্ধবাবু নিজে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন, যাতে কেউ ধাক্কাধাক্কি না করে। তিনি প্রতিদিনের মতো বললেন, "সবাই পাবে। কেউ তাড়াহুড়ো করবে না।"

কথাটা শুনে লাইনটা যেন নিজে থেকেই গুছিয়ে গেল। সরলা দিদি প্রথম থালায় ধোঁয়া ওঠা ভাত তুলে দিলেন। তার পাশে এক হাতা গরম ডাল, একটু মিশ্র সবজি, তারপর সয়াবিন-পনিরের তরকারি। ছোট্ট মেঘলা দুই হাতে থালাটা এমনভাবে ধরল, যেন খুব মূল্যবান কিছু পেয়েছে।

"সাবধানে মা, গরম আছে," সরলা দিদি মুচকি হেসে বললেন।

একটার পর একটা থালা ভরে উঠতে লাগল। রান্নাঘরের সামনে যেন এক নিঃশব্দ ছন্দ। কেউ ভাত দিচ্ছেন, কেউ ডাল, কেউ তরকারি। সারি এগোচ্ছে, একের পর এক থালা ভরে উঠছে, কিন্তু কারও মুখে বিরক্তি নেই। শুধু একের পর এক শিশুর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে দুপুরের খাবার।

রিনার হাতে থালা আসতেই সে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। গরম ভাতের বাষ্প তার মুখে এসে লাগল। সে অজান্তেই চোখ বুজে একবার গভীর শ্বাস নিল। যেন এই গন্ধটাই সকাল থেকে তার অপেক্ষার শেষ উত্তর। আয়েশা পাশে এসে বলল, "চল, বটগাছের নিচে বসি।" 

বাবাইও থালা হাতে তাদের সঙ্গে গিয়ে বসে পড়ল। তিনজনই একবার নিজের নিজের থালার দিকে তাকাল। বাবাই হেসে বলল, "দেখ, আমার থালায় দুটো পনির!"

আয়েশা সঙ্গে সঙ্গে বলল, "আমারও!"

রিনা একটু নেড়ে দেখে মৃদু হেসে বলল, "আমারও আছে।"

তারপর আর কোনো কথা নয়। প্রথম গ্রাস মুখে যেতেই যেন চারপাশের সব শব্দ দূরে মিলিয়ে গেল। শুধু স্টিলের থালায় হাতের মৃদু শব্দ, ডাল মাখা ভাতের গন্ধ আর একঝাঁক শিশুর নিশ্চিন্ত মুখ। উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠোন তখন দুপুরের রোদে ভরে উঠেছে,  আর সেই রোদের মধ্যেই গরম ভাতের গন্ধ নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উঠোনজুড়ে।

খাওয়া শেষ হতে হতে উঠোনে আবার কোলাহল ফিরল। কেউ কলের সামনে থালা ধুচ্ছে, কেউ শেষ ভাতের দানাটুকু আঙুল দিয়ে তুলে মুখে দিচ্ছে, কেউ বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছে। সরলা দিদি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ফিরে আসা থালাগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। বেশিরভাগ থালাই ঝকঝকে। তিনি মৃদু হেসে বললেন, "আজও একটুও খাবার নষ্ট হলো না।"

ছুটির ঘণ্টা বাজতেই বাচ্চারা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। গেটের কাছে পৌঁছে রিনা দেখল, তার মা দাঁড়িয়ে আছেন।

"আজ কী খেয়েছিস?"

রিনা গুনে গুনে বলল, "ভাত, ডাল, সবজি, সয়াবিন, পনির..."

তারপর মুখে হাসি ফুটে উঠল।

" জানো মা, কাল ডিম।"

মা মেয়ের হাতটা ধরে হাঁটতে শুরু করলেন। মা-মেয়ে ধীরে ধীরে রাস্তার বাঁক পেরিয়ে চোখের আড়ালে মিলিয়ে গেল। পেছনে উত্তরপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেট বন্ধ হয়ে গেল। রান্নাঘরের সামনে সারি করে রাখা খালি থালাগুলো রোদে চিকচিক করছে। বড় স্টিলের পাত্রগুলোর ঢাকনাও বন্ধ। তবু যেন বিকেলের বাতাসে এখনও ভেসে আছে গরম ভাতের সেই পরিচিত গন্ধ।

0 Comments

Post Comment