পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

ভাগ্‌ ইঁহা সে

  • 01 January, 1970
  • 0 Comment(s)
  • 208 view(s)
  • লিখেছেন : নীহারুল ইসলাম
ফৈয়াজ রোজকার মতো আজকেও এসে বসেছিল পদ্মার পাড়ে। পদ্মার ভয়ঙ্কর রূপ প্রত্যক্ষ করছিল! গত কয়েকদিনের তুলনায় পদ্মার জল অনেকটাই বেড়েছে। একেবারে পাড় ছুঁয়ে ফণা তোলা হিংস্র সাপের মতো স্রোত বয়ে যাচ্ছে।

এসব দেখে ফৈয়াজ মনে মনে ভাবছে, ঝাড়খণ্ড-বিহার আর উত্তরপ্রদেশে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের দরুণ ফারাক্কার ১০৯টি গেট খুলে দেওয়ার ফলেই অনেক অনেক দিন পর পদ্মা তার বিধ্বংসী রূপ ফিরে পেয়েছে। এবার এদিকে বর্ষণ শুরু হলে কে বলতে পারে তাদের এই সীমান্তবর্তী জেলা ১৯৭৮ কিংবা ১৯৯৮ সালের মতো এবছর আবার বন্যায় হাবুডুবু খাবে না! কিংবা ভাঙনের কবলে পড়বে না!

ফৈয়াজের এমন ভাবনার মধ্যেই মাঝ-পদ্মা থেকে কিছু একটা তার চোখে এমনভাবে ঝিলিক মারে যে তার চোখ অন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়। কিন্তু সে অন্ধ হয় না, ভয় পেয়ে শুধু চোখদুটি বন্ধ করে নেয়। তারপর একটু ধাতস্থ হয়ে আবার চোখ খোলে। আর দেখতে পায় মাঝ-পদ্মার তীব্র স্রোতে ভেসে যাচ্ছে বেশ বড়সড় একটা টিনের বাক্স। যার ওপর পশ্চিমে হেলে পড়া সূর্যের ছটা প্রতিফলিত হয়ে তার চোখে এসে সূচের মতো বিঁধছে।

তৎক্ষণাৎ ফৈয়াজের মনে পড়ে যায় তার মায়ের সেই বাক্সটির কথা। যেটি তার মাকে দিয়েছিল এক কাশ্মীরি শাল-বিক্রেতা। তার মায়ের ‘রহমানচাচা’। মা তখন খুব ছোট ছিল। মায়ের বাপের বাড়ির বৈঠক-ঘরে এসে থাকত ওই রহমানচাচা। সারাটা শীতকাল কাটাত। গ্রামে গ্রামে শীতবস্ত্র বিক্রি করে বেড়াত। মাকে সে ‘বেটি’ বলত। বাদাম, পেস্তা, আখরোট খাওয়াত। এসব গল্প ফৈয়াজ তার মায়ের মুখেই শুনেছিল ছোটবেলায় ওই বাক্সের ওপর শুয়ে শুয়ে। বাক্সটির গায়ে ইংরেজির বড় অক্ষরে লেখা ছিল KASHMIR, অর্থাৎ পৃথিবীর ‘জান্নাত’।

অথচ সেই ‘জান্নাত’ থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে রাষ্ট্র ওই ভূখণ্ডটিকে আজ দু-মাসের ওপর গোটা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে নাকি সেখানকার ‘বান্দা’দের ভালর জন্য!

যেমন এখন তাদের ভালর জন্য রাষ্ট্র তাদেরকেও আকারে ঈঙ্গিতে বলছে কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে। রাষ্ট্র আরও বলছে- প্রতিটি নাগরিক যে রাষ্ট্রের নাগরিক তা তাদেরকেই প্রমাণ করতে হবে। যেমন ইতিমধ্যে প্রমাণ করতে হয়েছে অসমে বসবাসকারী মানুষদের। সেখানে যারা নিজেদের নাগরিক প্রমাণ করতে পেরেছে ভাল, কিন্তু যে ১৯ লক্ষ মানুষ প্রমাণ করতে পারেনি, তাদের জন্য তৈরি হয়েছে 'ডিটেনশন ক্যাম্প' নামে এক ধরণের জাহান্নাম।

আজ ক’দিন যাবৎ ফৈয়াজ টিভিতে, খবরের কাগজে, রাস্তাঘাটে, এমনকি চায়ের দোকানের আড্ডায় শুধুই এসব কথা শুনে আসছিল। আর নিজের চোখেই দেখছিল মানুষের ছুটোছুটি। কখনও পঞ্চায়েত তো কখনও বিডিও অফিস। কখনও আবার বিএলআরও অফিস। আবার কখনও ফুডসাপ্লাই অফিস। কার নামের বানান ভুল তো কার বাপের নাম উধাও। কারও আবার পদবী ভুল। এসব ভুলে ভরা নিত্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মানুষ খেয়ে না খেয়ে ভোর থেকে সাঁঝ পর্যন্ত শুধু ছুটে বেড়াচ্ছে অফিসে অফিসে। লাইনে দাঁড়াচ্ছে দিনের পর দিন, ঘন্টার পর ঘন্টা। যদিও এসব দেখে ফৈয়াজের মনে তেমন কোনও উদ্বেগ জন্মায়নি। বরং সে বিরক্ত হয়েছে। ভেবেছে, সব হুজুগ। অকারণ মানুষ আতঙ্কে ভুগছে। সামনের বছর রাজ্যে বিধানসভার ভোট। বিরোধীরা এসব রটিয়ে ভোটে ফায়দা লুটতে চাইছে। তার বেশি কিছু নয়। আর যদি বেশি কিছু হয়ও, সে কী-ই বা করতে পারে? তার যাবতীয় কাগজপত্র তো মায়ের টিনের বাক্সের সঙ্গে সেই কবেই পদ্মার স্রোতে ভেসে গেছে।

আচ্ছা- পদ্মার স্রোতে এখন যে টিনের বাক্সটি ভেসে যাচ্ছে, সেটি তার মায়ের সেদিনের ভেসে যাওয়া সেই বাক্সটি নয় তো?

ফৈয়াজের মনে প্রশ্ন জাগছে। শুধু প্রশ্ন জাগছে না, পদ্মার স্রোতে টিনের বাক্সটিকে ভেসে যেতে দেখে সেই প্রশ্ন নিয়ে সে আর পদ্মাপাড়ে নিশ্চুপ বসে থাকতে পারছে না। তার মনে হচ্ছে, সত্যি সত্যি ওই বাক্সেই হয়ত তার পূর্বপুরুষের যাবতীয় দলিল দস্তাবেজ গচ্ছিত আছে। তাহলে চোখে দেখে সেটিকে ভেসে যেতে দেয় কী করে? দলিল দস্তাবেজ সব ভেসে গেলে সে বাঁচবে কী করে?

না, ফৈয়াজ আর সময় নষ্ট করে না, নিজেকে বাঁচাতে বাক্সটিকে লক্ষ্যে রেখে সে পদ্মার পাড় ধরে ছুটতে শুরু করে।

 

***

ফৈয়াজ কতক্ষণ ছোটে তার কোনও হিসেব থাকে না। কিন্তু সময়ের ঠিক হিসেব থাকে। সময় হঠাৎ এক জায়গায় তাকে দাঁড় করাতে বাধ্য হয়। আর সে দেখতে পায় খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্প লাগোয়া মেঠো রাস্তার ওপর নিজেকে হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে। সামনে রাস্তা থাকলেও এখন সেটা বন্ধ। রাস্তাসহ আশপাশের কয়েক একর কর্দমাক্ত নামাল জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। যার ভিতরে শ-য়ে শ-য়ে গরু-মোষ বাঁধা। তার মধ্যে আবার অনেকগুলি গরু-মোষ মরে পড়ে আছে। বাকি গরু-মোষগুলি কোনোমতে বেঁচে দাঁড়িয়ে থাকলেও ওদের জন্য না আছে খাবার না আছে জল। চামড়া জড়ানো কঙ্কাল শরীর নিয়ে ওরা ঘোলাটে দৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে আছে আকাশ পানে। যেন আল্লার রহম ভিক্ষা করছে।

ফৈয়াজ বেশকিছুদিন যাবৎ এরকম কিছু সংবাদ খবরের কাগজে পড়ে আসছিল। অসমে নাকি ঠিক এ ভাবেই এনআরসি-র নামে ডিটেনশন ক্যাম্পে মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। ওইসব বন্দি মানুষদের অবস্থা তাহলে ঠিক এইসব গরু-মোষগুলির মতোই। ওদের জন্যে না আছে খাবার, না আছে চিকিৎসা। স্বভাবতই অনেকেই সেখানে মরে পড়ে থাকছে। এই তো কয়েকদিন আগে দিলীপ পাল নামে একজন মরে পড়েছিল। গত কাল মরেছে ফালু দাস নামে আর একজন। তার আগে ২৪ জন মরেছে। কিন্তু এই দু-জনের পরিবার ওদের লাশ নিতে অস্বীকার করেছে। প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, “ ভিনদেশি মানুষের লাশ তারা কেন নিতে যাবে? ”

তাহলে লোকে যা বলছে তা শুধুই রটনা নয়, সত্যি সত্যিই এইসব ঘটছে এই দেশে। এই তো চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছে সে।

আতঙ্ক যখন ঠিক এভাবে ফৈয়াজের মগজের একটু একটু করে দখল নিতে শুরু করেছে, আচমকা বিএসএফ ক্যাম্পের ভেতর থেকে একজন বিএসএফ ছুটে এসে ডাণ্ডা উঁচিয়ে বলল,  অ্যাই- ভাগ্‌ য়হাঁ সে!

অগত্যা আরও কিছু বোঝার আগেই ফৈয়াজকে সেখান থেকে ফিরে চলে আসতে হয় আবার ওই খান্দুয়ার মোড়ে, পদ্মার পাড়ে। কেননা, টিনের বাক্সটি ততক্ষণে তার দৃষ্টির আড়ালে কোথায় হারিয়ে গেছে।

 

***

এই খান্দুয়ার মোড় জায়গাটা ফৈয়াজের খুব প্রিয়। এখান থেকেই পদ্মা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সামনাসামনি ওপারটা বাংলাদেশের নবাবগঞ্জ। আর একটু ডান দিক ঘেষে পদ্মার অভিমুখ যেদিকে যাচ্ছে, সেটা ওপারের গোদাগাড়ি। অনেক অনেক দিন আগে সে একবার গিয়েছিল। তার মনে পড়ছে কোদালকাটি চরের সেই বৃদ্ধ মানুষটিকে। যে আফশোস করে তাকে বলেছিল, " দ্যাশ তো ভাই একটাই ছিল। হামরাও সব এক ছিনু। কিন্তু কিছু ধান্দাবাজদের ফ্যারে পড়ে হামরা ভাগ হয়ে গেনু। কার কী লাভ হইল জানি না, তবে হামরা আর ভাই ভাই থাকনু না। একে অপরের দুষমন হয়ে গেনু।"

ফৈয়াজ যখনই এখানে এসে দাঁড়ায়, তার মনে পড়ে কোদালকাটি চরের সেই বৃদ্ধ মানুষটিকে। যদিও তার চোখে পড়ে নদীতে ভাসমান জাতীয় পতাকা টাঙানো অসংখ্য মাছধরা ডিঙি। ওপারের ভিনদেশি গ্রাম। ভিনদেশের মোবাইল টাওয়ার। ভিনদেশি ইটভাটার চিমনি, যা থেকে গলগল করে বেরিয়ে আসছে কালো ধোঁয়ার স্রোত। নাকি হিংসার কুন্ডলী!

ফৈয়াজ এখন সেসবই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে আর আসমান-জমিন ভাবছে। পাশে কিছু অল্প বয়সী চ্যাংড়ারা জটলা করে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলাবলি করছে। অপরিচিত মুখ সব। যদিও ফৈয়াজ জানে এইসব মুখ অপরিচিত হলেও এরা সবাই স্থানীয়। সারা বছর ভাতভিক্ষার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকে। শুধু পরবের সময় বাড়ি আসে। যেমন এবারেও এসেছে ওই পরবের জন্য। ক’দিন পরে বকরীদ। কিন্তু তা নিয়ে কারও উৎসাহ বা উদ্দীপনা নেই। এখন সবাই নিজেকে দেশের নাগরিক প্রমাণ করতে ব্যস্ত। তা নিয়েই হয়ত নিজেদের মধ্যে আড্ডার ছলে আলাপ আলোচনা করছে।

ফৈয়াজ একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। সব শুনছিল। হঠাৎ কে এসে বলল, একলা দাঁড়িয়ে কী করছিস হে ফাজু?

ফৈয়াজ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে রাধাকেষ্টপুরের হরাকে। হরা মানে হরেন ঘোষ। তার ন্যাংটাকালের বন্ধু। একসময় তার সহপাঠী ছিল। একসঙ্গে রাধাকেষ্টপুর প্রাইমারী স্কুলে পড়েছিল। ইনফিন থেকে ক্লাস ফোর পর্যন্ত। তারপর হরা ক্লাস ফাইভে সেখালিপুর হাইস্কুলে ভর্তি হলেও তার আর পড়া হয়নি। পদ্মার বন্যায় তখন তাদের গ্রাম মালতিপুর-চামাপাড়া এককোমর জলের তলায়। অগত্যা আরও অনেক পরিবারের মতো তাদের পরিবারকেও ভিটেমাটি ছেড়ে বাঁধপুলের ওপরে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সরকারি ত্রাণ ত্রিপাল-চিড়া-গুড়কে অবলম্বন করে কাটাতে হয়েছিল এক মাসেরও বেশি সময়। তারপর বাড়ি ফিরে যে আবার নতুন করে শুরু করবে, তাও আর সম্ভব হয়নি।

কেননা, ততদিনে বন্যার জল কমার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মায় ভাঙন শুরু হয়েছিল। জমিজিরাত-বাড়িঘর সব পদ্মা রাক্ষসের মতো গিলে খেয়েছিল। শুধু মায়ের সেই টিনের বাক্সটিকে গিলতে পারেনি। সেটা ভেসে গেছিল স্রোতে। আর তারা আশ্রয় নিয়েছিল পণ্ডিতপুরের বস্তিতে। এখনও সেই বস্তিতেই আছে। কষ্টেসৃষ্টে সেখানে একটা বাড়ি বানিয়েছে। যে বাড়ির দলিল নেই। তবে পাট্টা আছে।

হরেন ঘোষের কথার জবাবে ফৈয়াজ বলল, এই দাঁড়িয়ে আছি ভাই।

-কী করে যে এখ্যানে দাঁড়িয়ে আছিস? তোর নাক বন্ধ নাকি! দুজ্ঞন্ধ পেছিস না?

-দুজ্ঞন্ধ! কীসের দুজ্ঞন্ধ?

-ক্যানে, খান্দুয়া ক্যাম্পের গরু-মহিষের খোঁয়াড় থেকে মরা গরু-মহিষের দুজ্ঞন্ধ ভেসে আসছে যে বাতাসে!

না, শ্বাস টেনে কোনও দুর্গন্ধ পায় না ফৈয়াজ, তখন ক্যাম্পের পাশে হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা খোঁয়াড়ের কারণ খোঁজে। হরেনকে জিজ্ঞেস করে, ক্যাম্পের পাশে খোঁয়াড়! ব্যাপারটা কী- খুলে বোল তো হরা?

হরেন ঘোষ বলে, খুলে বোলার কী আছে ভাই। পাচারকারীরা রাতের আঁধারে হাজার পিস গরু-মহিষ লিয়ে এস্যাছিল পাচার করতে। সেসব পাচার হয়নি, বিএসএফ আটক কর‍্যা রেখ্যাছে।

-ক্যানে? বিএসএফের সুথে রফা হয়নি নাকি?

-রফা হবে না ক্যানে, রফা হয়েছিল বুলেই তো পাচারকারীরা ওই গরু-মহিষগিলা লিয়ে এস্যাছিল। কিন্তু বাংলাদ্যাশের বিজেবিরা অধের দ্যাশে ঢুকতে দ্যায়নি।

ফৈয়াজ খুব অবাক হয়। অবাক হয়ে জানতে চায়, অরা তো যা পায় তাই ল্যায়। আর গরু-মহিষ তো অধের কাছে সব থেকে দামি জিনিস। তাও লিলে না?

-না। হারঘের দ্যাশের এনআরসি ভয়ে যাতে কেহু ওই দ্যাশে ঢুকতে না পারে তাই অরা বর্ডার সিল কর‍্যা রেখ্যাছে। যে কারণে গরু-মহিষগিলার এমন অবস্থা।

হ্যাঁ, একটু আগে অবস্থাটা নিজের চোখে দেখে এসেছে ফৈয়াজ। এখন আসল কারণটা জানার পর ধক করে সেই বিকট দুর্গন্ধটা এসে ঢোকে তার নাকে। পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসার জোগাড় হয়। অগত্যা সে পদ্মাপাড় ছেড়ে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। এমনিতেই সে বাড়ি চলে যেত গন্ধটা নাকে এসে না ঢুকলেও। কেননা, একটু পর বিএসএফ টহল মারতে এসে রাইফেল উঁচিয়ে বলবে,  অ্যাই- ভাগ্‌ ইঁহা সে!

 

দুই

ফৈয়াজ নিজেকে কুরবানির খাসি ভাবছে। ছোরা-ছুরি-চাকু ধার দেওয়ার আওয়াজ ভেসে আসছে তার কানে। মুখের কাছে প্রিয় কাঁঠাল পাতা, তাও খেতে ইচ্ছে করছে না। খাবে কী, সেই কাঁঠাল পাতা তো সে চোখেই দেখতে পাচ্ছে না। বদলে দেখছে ছোরা-ছুরি-চাকু! তার মধ্যেই দেখছে, কেউ কেউ আবার তাকে তেল-ফুল-ফিতে দিয়ে সাজাতে আসছে। অন্য সময় হলে কী করত, সে জানে না। তবে এখন সে এমন বিরক্ত হচ্ছে যে, তার জোড়া লাথি ছুঁড়তে ইচ্ছে করছে। কিংবা মাথা দিয়ে ঢিস মারতে। কিন্তু সেসব কিছুই করতে পারছে না। গণতন্ত্রের দড়ি তার মাথা-গলা-হাতে-পায়ে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরছে যে, তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। তার খুব ভয় করছে। এমনই ভয় যে, সে বিকট আওয়াজ করে চিৎকার করে উঠছে। কিন্তু সেটা যে তার একান্ত অসহায় গোঙানি ছাড়া আর কিছু নয়, ঘুম ভাঙার পর সে টের পাচ্ছে। ঠিক তখনই গোয়ালঘর থেকে তার কানে ভেসে আসছে তাদের কুরবানির খাসিটার অবিরাম ব্যা ব্যা ডাক। অথচ ফৈয়াজ শুনছে, ভাগ্‌ ইঁহা সে! ভাগ্‌ ইঁহা সে!

 

 

 

 

 

 

0 Comments

Post Comment