পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

বদর সাহেবের মাজার : একটি এক দিনের অনুসন্ধান রিপোর্ট

  • 12 October, 2019
  • 0 Comment(s)
  • 318 view(s)
  • লিখেছেন : নীলাঞ্জন সৈয়দ
মুর্শিদাবাদ ডাঙাপাড়া অঞ্চলের  অন্তর্গত হুলাসপুর গ্রামের সবাই বদর সাহেবের মাজারে যেতেন। তাঁদের জীবন চর্যার একটি অঙ্গ ছিল এই মাজার শরিফ। সেটা ভেঙে দেওয়ার কারন কি?
ঐ যে দেখছেন গাছ টা, ওর পাশেই ছিল মাজার, বদর সাহেবের মাজার। ওটাকেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে ইদ গা তৈরি হয়েছে।
বলছিলেন অমিত মণ্ডল। গাছের ফাঁক দিয়ে ইদগাটিকে দেখা যাচ্ছিল। অমিত কথা বলছিলেন একটি মন্দিরের পাশ থেকে। মন্দিরে দুর্গা উৎযাপন হচ্ছিল। মন্দিরের সামনে কয়েকটি চেয়ারে মানুষজন বসে ছিলেন। মন্দিরের ভেতর কয়েকজন পুজো দিচ্ছে। আমরা যখন উপস্থিত হলাম ওঁরা তটস্থ হয়েছিলেন। চেয়ার থেকে কয়েকজন উঠে এলেন। মন্দিরের পাশটা ঝোপঝাড় হয়ে আছে। বৃষ্টি ঝিপ ঝিপ করে পড়ছিল। আমার সঙ্গে ছিলেন শফিউল্লা হাসান। আমার চেয়ে বেশ কয়েক বছরের ছোট। ও সরকারি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক।

অমিত মণ্ডলরা মুর্শিদাবাদ ডাঙাপাড়া অঞ্চলের  অন্তর্গত হুলাসপুর গ্রামের অধিবাসী। এঁরা সবাই বদর সাহেবের মাজারে যেতেন। তাঁদের জীবন চর্যার একটি অঙ্গ ছিল এই মাজার শরিফ।

কতো বছর আগে একটি মানুষ হুলাসপুরে এসেছিলেন। কথিত আছে তাঁর নাকি অলৌকিক ক্ষমতা ছিল। তিনি মানুষের রোগ নিরাময় করে দিতে পারতেন। আশিক আহমদের মায়ের দিদিমা বহু বছর নিঃসন্তান ছিলেন। বদর সাহেব তাঁকে দোয়া(আশীর্বাদ) করেন।তারপরে আশিকের মায়ের দিদিমার দুটি কন্যা সন্তান হয়। বদর সাহেবের নাম ছড়িয়ে যায়। তিনি অলীক মানুষ হয়ে যান। আশিকের মায়ের দিদিমা বদর সাহেবকে ওই জায়গাটি দান করেন। বদর সাহেব তারপর এখানে থেকে যান।আর কোথাও যান নি। বদর সাহেবের মৃত্যুর পর আশিকের মায়ের দিদিমা জায়গাটাকে মাজার করে দেন। সে প্রায় একশো বছর আগের কথা।
তারপর কতদিন পেরিয়ে গেল, মানুষ মারা গেল, আবার জন্ম নিল। পরিবর্তন এল সব কিছুর। কিন্তু এই মাজার শরিফ থেকে গেল একেবারে অক্ষত। ১৯৫৬ সালে উইল করে মাজার শরিফের নামে জায়গাটা দান করা হয়। তারপরে এই মাজার শরিফ বদর সাহেবের মাজার নামে পরিচিতি লাভ করেছিল।

বিভিন্ন জায়গা থেকে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে এই মাজার শরিফে মানত করতে আসত। মাজার উপলক্ষে মেলা হত। হুলাশপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের  জীবন চর্যার সঙ্গে জুড়ে গেল এই মাজার। তারাও এই মাজার শরীফকে মান্য করত।

মাজার শরীফ যারা দেখাশুনো করে তাদের খাদেম বলে। আশিক আহম্মদের মা মাসি দিদিমারা খাদেম হিসেবে মাজার শরীফের দেখাশুনো করতেন। একটা ব্যাপার পরিষ্কার হচ্ছে মাজার শরীফে মেয়েদের অংশ নেওয়ার, দেখাশুনো করার অধিকার ছিল।

আশিক আহমদ জানাচ্ছেন- মাজার শরীফ উপলক্ষে বিভিন্ন  অনুষ্ঠান থেকে যা রোজগার হত, হুলাশপুরের হিন্দু মুসলমান উভয়েই তার সমান অংশ পেত। আমরা যদি আড়াইশো বাতাসা পেতাম ওরা(হিন্দু সম্প্রদায়) আড়াইশো বাতাসা পেত। মাটির ঘোড়া হিন্দুরা মাজারে দিত। একটি মাজারকে কেন্দ্র করে হিন্দু মুসলমান উভয়েই মিলে গেছিল। অমিত মণ্ডল বলছিলেন- মাজার শরীফের অধীনে একটি পুকুর ছিল। পুকুরটির নাম সর্বজনীন পচা পাট পুকুর। এই পুকুর টাকে ভাড়া দেওয়া হয় পাট পচানোর জন্য। অমিত এবং আরও হিন্দু মানুষজন জানাচ্ছেন- এই পচা পাট পুকুর থেকে যা রোজগার হত আমরা হিন্দু মুসলমান উভয়েই সমান ভাগ করে নিতাম।

যখন শুনছিলাম মনে হচ্ছিল এক অদ্ভুত রূপকথার রাজ্যে প্রবেশ করেছি। বাইরে যখন এত সাম্প্রদায়িক হানাহানি তখন একটা মাজারকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায় মিলে গেছিল।

মাজার শরীফের সম্পত্তি চার বিঘে মোট। এই সম্পত্তি দিয়ে গেছেন আশিক আহমদের মায়ের দিদিমা।

বদর সাহেবের মাজার শরীফটা হয়ে উঠেছিল হিন্দু মুসলমানের মিলনের কেন্দ্রবিন্দু। গত পঁচিশে জুলাই সেই মিলনের কেন্দ্রবিন্দু স্থানটিকে ধুলিস্যাৎ করা হয়। আশিক আহমদ বলছিলেন- আচমকা এরা জিসিবি নিয়ে মাজার টাকে গুঁড়িয়ে দেয়। আমরা যদি এত টুকু আভাস পেতাম তাহলে কিছুতেই এটা করতে দিতাম না।'
এরা বলতে কারা?
-তৃণমূলের আশ্রিত গুণ্ডারা।

আশিক বার বার বলছিলেন হিন্দু মুসলমানের মিলনক্ষেত্রটা আর থাকল না। ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল।

এটা একেবারে ঠিক কথা, দারুণ সত্যি কথা। কিন্তু এই মাজার শরীফ ঘিরে তাঁদের জীবন চর্যার একটা অংশ গড়ে উঠেছিল সেটা হঠাৎ ধূলিস্যাৎ হওয়ায় পীরপন্থী মানুষদের মধ্যে একটা শোকের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে এটাও বলা প্রয়োজন।

এই ভাঙ্গাটা যে বুকে এসে লেগেছে এটা তাদের কথাবার্তাতেই বোঝা যায়। অসীম সেখ মলিন হাসি হেসে বলছিলেন- কি করব বলুন আমরা গরীব মানুষ। সহ্য করতে হবে। কে আমাদের হয়ে বলবে বলুন। এঁরা সরাসরি বলতে পারছেন না যে এই মাজার শরীফ ভাঙা অন্যায়। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনচর্যায় আঘাত দেওয়া হয়েছে। আমরা কেমন ভাবে কাকে নিয়ে বেঁচে থাকব সেটা সম্পূর্ণ আমাদের অধিকার। তোমাদের হস্তক্ষেপ  অন্যায়।
 
তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনচর্যার মাঝে একটা হীনমন্যতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যার ফলে তাঁরা কোনঠাসা। তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আমি আশিককে জিজ্ঞেস করেছিলাম- এই মাজার শরীফ ভাঙার পেছনে তবলিগ জামাতের কোন হাত আছে কি? আশিক জানালেন- সেরকম কোন কথা শুনিনি বা দেখিনি। অথবা থাকলে আমি জানি না। আমার চোখে ধরা পড়েনি। তবে ও একাই একশো। কারুর সাহায্য প্রভাব দরকার নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও জানাচ্ছেন- কোন বাইরের শক্তি আসেনি। ও যখন ভেঙেছিল তখন গ্রামের বেশিরভাগ মুসলমানই (যারা পীরপন্থী নয়) পছন্দ করেনি। কিন্তু ভীষণ ক্ষমতাধর ও। ভয়ে অনেকে এই ভাঙাটাকে সমর্থন করছেন। তবুও কিছু লোক এখনও ক্ষুন্ন। অমিত মণ্ডল বলছিলেন- আমরা যে পুকুর থেকে অর্ধেক অর্থ পাচ্ছিলাম সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। পুরোটাই ওর হয়ে গেছে। বাতাসা পেতাম সেটাও আর পাইনা। আমরা মাটির ঘোড়াগুলো মাজারে রাখতাম সেটাও আর হচ্ছে না। আমাদের দূরে অন্য মাজারে এই ঘোড়াগুলো রাখতে যেতে হচ্ছে।

সবার মাঝেই একটা শূন্যতা নেমে এসেছে। তাঁরাও দুঃখে আচ্ছন্ন। কিন্তু তাঁরা অসহায়। মাজারটা তাঁদের নয়।তাই প্রতিবাদে সামিল হতে পারেন নি।
আশিক বলেছিলেন মাজারে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে যা অর্থ পাওয়া যেত সেটা হিন্দু মুসলমান কে আধাআধি ভাগকরে দেওয়া হত। এখন সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ।

বার বার একজনের কথা উঠে আসছে।সে এই কাণ্ডটা ঘটিয়েছে। তার কি পরিচয়। তিনি একজন তৃণমূল নেতা।
তাঁর সম্পর্কে যত টুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে তিনি মাধ্যমিক পর্যন্ত পাশ করেছেন। পঁয়তাল্লিশ বছর বয়স। অল্প বয়স থেকেই তিনি মস্তানি করে বেড়াতেন। টেবিলের উপর ছুরি রেখে  তিনি নাকি পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁর একটা হোটেল রয়েছে লালবাগে। গ্রিন হাউস নাম। নামেই হোটেল আসলে সেখানে নাকি অন্য ব্যবসা চলে। এখন এলাকা তাঁর নামে কাঁপে।
এখানে আশিক একটা কথা বলেছেন- ওঁর যদি ধর্মে মতি থাকত তাহলে এসব কিছুই করত না। অবশ্যই সে ইসলাম ধর্মকে সমর্থন করে। কিন্তু ঐ পর্যন্ত।
মুসলিম সমাজে খুড়তুতো মাসতুতো, পিসতুতো ভাই বোনের সঙ্গে বিবাহের প্রচলন আছে (এখন তুলনামূলক ভাবে কম হচ্ছে)। ইসলাম ধর্মে অনুমতি আছে বলেই একজন মুসলিম এই ধরনের বিবাহে উৎসাহিত হতে পারছে। তেমনি ইসলাম ধর্মে মাজার শরীফের অনুমোদন নেই বলে ঐ তৃণমূল নেতার ভেঙে ফেলতে দ্বিধাবোধ হয় নি। এখানে সূক্ষ্ম ভাবে ধর্ম আছে। উৎসাহের সঙ্গে একটা ইদ গা তৈরি করে দিয়েছে (এর পিছনে রাজনীতির ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না)। গত বছর বারোই অক্টোবর নামাজও পড়া হয়েছে। মাজার শরীফ ঘিরে জায়গাটা চার বিঘে। পুরোটাই লুঠ।

প্রখ্যাত বাউল গবেষক ও প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ শক্তিনাথ ঝা বলছিলেন -বাউলদের গান করতে না দেওয়া বা মাজার ভাঙা ইত্যাদি কাজগুলো কোন ধর্মপ্রাণ মানুষ করছেন না। যারা সিনেমা দেখে গান শোনে সেরকম মানুষগুলোই এইসব কাজ করছে। অদ্ভুত বৈপরীত্য।

আশিক থানায় কেস করেছেন মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে। সেই কেস ফাইল দেখালেন আমায়।

মাজার ভাঙা হুলাসপুরে প্রথম নয়। কুড়ি কিমি পেছনে নতুনগ্রামে একটি মাজারকে ইদ গা করা হয়েছে। কিন্তু তার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

একটা প্রশ্ন উঠেছে মাজার ভাঙার পিছনে তবলিগ জামাতের হাত আছে কি না। নতুনগ্রামের মিরাজুল ইসলাম  এ প্রসঙ্গে বললেন- এরকম কাজ জামাত করতে উৎসাহ দেয় না। তবে যেহেতু মাজার টাজার ইত্যাদি কাজগুলো অ-ইসলামিক। সেটা শুনে হয়তো কোন অশিক্ষিত গোঁয়ার গোবিন্দ যুবক উৎসাহের চোটে মাজার ভেঙে দিল। এরকম হতে পারে। পাশে ওঁর ভাই সিরাজুল ছিলেন। উনি বললেন- একসময় এখানে দুর্গা পুজোর দশমির ভাসানের দিন মুসলিমরাও খড় আবর্জনায় আগুল লাগিয়ে নদীতে বিসর্জন দিত। দুর্গা ঠাকুরের বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে যেন অশুভ শক্তি গুলোও চলে যায়। মুসলমানরাও এখানে ভাইফোঁটা বা পৌষসংক্রান্তিতে পুলি পিঠে করত একই সময়ে। কিন্তু এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এটা জামাতির প্রভাবে বলতে পারেন।মিরাজুল বললেন- আসলে এই সবই আসে অশিক্ষা থেকে। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে এগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সিরাজুল বললেন- জামাতে সব শিক্ষিত ব্যক্তিরা থাকে। এদের নেটওয়ার্ক বিশাল। গ্রুপ গ্রুপ করে প্রথমে এরা যায় মসজিদে। এদের তবলিগ বলে। মৌলবির সঙ্গে দেখা করে, কথা বলে। তখন মৌলবীকে তাদের পরিকল্পনা বলে। ওদের কাজ হল মানুষকে বোঝানো যে তারা যেন ইসলামকে অনুসরণ করে। কোন নন-ইসলামিক কাজ যেন না করে। প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে শুরু করে। তারা চেষ্টা করে যাতে মানুষের মধ্যে ইসলামিক আবহাওয়া গড়ে ওঠে। অসম্ভব ভদ্র ব্যবহার। নম্র। উচ্চ স্বরে কথা বলে না। আপনাকে খাবার দেওয়া হয়েছে, ওদেরও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপনার দিকে বেশি বেশি করে খাবার গুলো ঠেলে দেবে ওরা। আপনি অভিভূত হয়ে যাবেন। এই ভাবেই মুসলিমদের মধ্য থেকে অ-ইসলামিক লোকাচার উঠে  যাচ্ছে। এই ভাবেই গ্রামের পর গ্রামে তারা ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের আদর্শ। এই গ্রামের আরেক অধিবাসী জানালেন- যা দিনকাল পড়েছে, মারা গেলে কেউ মাটিই দেবে না। এই জামাতিরা এসেছে বলে সে রকম আর হবে না। এরা সমাজের মধ্যে একাত্মতা আনছে। আমি এই কাজে খারাপ কিছু দেখি না।

বৃষ্টি তখন ঝমঝম করে পড়তে শুরু করেছে। আমরা একটা বাড়ির নীচে আশ্রয় নিলাম। সিরাজুল আঙুল দেখিয়ে একটা লোককে দেখালেন। দাড়ি রয়েছে। তারপর বললেন- আপনি ভাবতে পারবেন না এই লোকটা কি ছিল। মদ খেত সিনেমা জুয়া সব করত। এখন সব বন্ধ। জামাতির এটা অবদান। এই লোকটাকে বাড়ি গিয়ে বুঝিয়েছে।বলেছে এগুলো ভুল পথ। ইসলাম হচ্ছে সঠিক পথ। এই পথ গ্রহণ কর। যত শিক্ষিত ব্যক্তিরা জামাতি করে। সেজন্য এরা এত শক্তিশালী। ইসলামপুরে গোবিন্দপুরে প্রতিবছর এরা ইসলামিক আলোচনার অনুষ্ঠান করে। নানা জায়গা থেকে লোক চলে আসে আলোচনা শুনবার জন্য। ত্রিশ চল্লিশ হাজার লোকের সমাগম হয়। কিন্তু এতটুকু বিশৃঙ্খলা  হয় না। কোন পুলিশের দরকার পড়ে না। এতটুকু গোলমাল হয় না। সেই সময় ঘোষণা করে দেওয়া হয়- কোন মহিলার আগমন যেন এই জালসায় না হয়। কঠোর ভাবে এই নিয়ম মানা হয়। আর বাড়ির লোকও এই সময় মেয়েদের বাইরে বেরোতে দেয় না।

হুলাসপুরের তৃণমূলের সেই নেতা জামাতের প্রভাবে বদর সাহেবের মাজারটি ভেঙেছে কিনা তার খবর আশিক আহমদ দিতে পারেন না।ধুলাসপুরের হিন্দু মানুষরাও দিতে পারেন নি। বলেছেন -বাইরের কোন লোককে আসতে দেখেন নি। জামাতের প্রবল প্রভাব রয়েছে  নতুনগ্রামে। হুলাসপুরে কতটা আছে জানা যায় নি। অবশ্য আশিক আহমদ বলেছেন- তাকে বেশ কয়েকবার পীরপন্থী পথটাকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।
-কারা বলেছে এটা?
আশিক বললেন- ফরাজিরা।

আশিকরা জানেন না শেষপর্যন্ত তাঁদের অধিকার ফের ফিরে পাবেন কিনা।মাজার শরীফ এবং তার জায়গাটা ফেরত পাবেন কিনা। হুলাসপুরের হিন্দু  জনসাধারণও জানেন না। কেবল অমিত মণ্ডল বলছিলেন- আজ হচ্ছে না। একদিন হবে।
তিনি কিসের ইঙ্গিত করলেন বোঝা গেল না...




0 Comments

Post Comment