পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

অমিত শাহের সিএবি-ললিপপ ও ঠাকুরবাড়িতে বিজেপি-হামলা

  • 03 October, 2019
  • 0 Comment(s)
  • 327 view(s)
  • লিখেছেন : মলয় তেওয়ারী
এনআরসি-র বিরুদ্ধে, বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছিল চরচর করে। তাই অমিত শাহ বরাভয় দিতে এসেছিলেন হিন্দুদের, আর মুসলমানদের হুমকি। কিন্তু, দেশের মুসলমান ধর্মাবলম্বিদের বিরুদ্ধে এরকম হুমকিতে বাংলার মানুষের কী লাভ! দেশের কী লাভ?

অমিত শাহ বলে গেলেন বাংলায় এনআরসি হবেই, কিন্তু হিন্দুদের কাউকেই দেশ ছাড়া করা হবেনাএবং করা হবেনা বৌদ্ধ, খ্রীষ্ট, জৈন, শিখ ও পারসিক ধর্মপরিচিতির মানুষদেরও। এরা সকলে শরণার্থী। তাই এদের কাউকেই দেশ ছাড়া করা হবেনা। কিন্তু একজন অনুপ্রবেশকারীকেও ছাড়া হবেনা। তাড়ানো হবে তাদের। বললেন তিনি। এরাজ্যে তার ফড়েটি সাথে সাথে বলল যে প্রয়োজনে লাশ বিছিয়ে এনআরসি করবে তারা।


তো একথা সকলেই জানেন। সকলেই জানেন যে অমিত শাহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উগরালেনে - অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে কেবলমাত্র মুসলমান ধর্ম সম্পর্দায়ের ব্যক্তিকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে, অন্যদের নয়, অন্যরা তো শরণার্থী।


আরএসএস-বিজেপির এই রাজনীতি সকলেরই জানা। সকলেই জানেন যে বিজেপি ভারতের সংখ্যাগুরু জনতাকে হিন্দু পরিচিতিবোধে আনতে চায় এবং নিজেকে সেই জনতার একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত থাকতে চায়। কোনও সদর্থক ভিত্তিতে নয়, মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিঘাংসা তৈরী করেই তারা এই উদ্দেশ্য পূরণ করতে এগোচ্ছে ঠিক যেমন হিটলারী ফ্যাসিবাদ জার্মানিতে ইহুদিদেরকে শত্রু হিসেবে খাড়া করেছিল। হিটলারের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই যে আরএসএস ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিঘাংসা জাগানোর অভিযান চালিয়ে ফয়দা লুটতে চায় তা আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ও দিগদর্শক এম এস গোলওয়ালকার ১৯৩৯ সালেই ঘোষণা করেছিলেন (উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড)অমিত শাহর বক্তব্য সুতরাং নতুন কিছু নয়।


ভারতের গৃহমন্ত্রী এভাবে একটি নির্দিষ্ট ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষদের টার্গেট করে বিতাড়িত করার কথা বলতে পারেন কিনা এবং এই অসাংবিধানিক ও বেআইনী ঘোষণার জন্য ভারতীয় দন্ডবিধি অনুযায়ী অমিত শাহর কোন শাস্তি প্রাপ্য সে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু অনেকের কাছে আরও আশু প্রশ্ন হল অমিত শাহ যা বললেন তা কি আদৌ বাস্তবায়িত হতে পারে? অর্থাৎ এনআরসি হবে এবং সেই তালিকার বাইরে থাকাদের মধ্যে কেবলমাত্র মুসলমানদের বেছে বেছে তাড়িয়ে দেওয়া হবে, বাকিদের রেখে দেওয়া হবে - এরকম কি হতে পারে?


এটুকু নিশ্চয় সবাই বুঝতে পারছেন যে কার পরিবার ভিনদেশ থেকে এসেছে আর কার চোদ্দ পুরুষ এদেশে বসবাস করছে তা পরের কথা, প্রথম কথা হল প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে নিজের উদ্যোগে প্রমাণ করতে হবে যে সে ভারতীয় নাগরিক। নথি জোগাড় করে আপনাকেই প্রমাণ করতে হবে যে আপনার পরিবার নির্দিষ্ট একটি তারিখের আগে থেকেই ভারতে ছিল। নির্দিষ্ট এই তারিখটি, যাকে বলে 'কাট অফ ডেট', আসামের ক্ষেত্রে নার্ধারিত হয়েছিল ২৪ মার্চ ১৯৭১পশ্চিমবাংলায় কাট অফ ডেট কী হবে তা অমিত শাহরাও বলছেনা এখনও। একাত্তর, একান্ন না সাতচল্লিশ তা এখনও জানা যায়নি। যাই হোক আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে তার আগেও আপনার পরিবার এদেশে ছিল। সেই সময়কার নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। এবং তারপর লিগাসি ডেটা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে প্রদত্ত নথিতে উল্লিখিত ব্যক্তিটি বাস্তবিকই আপনার পূর্বপুরুষ। যাচাইকারী অফিসার যদি এইসব প্রমাণপত্র দেখে সন্তুষ্ট হন তাহলে আপনার নাম নাগরিকপঞ্জিতে উঠবে। প্রমাণ করার কাজটা আপনাকে প্রথমে করতেই হচ্ছে, তা সে আপনি হিন্দু হন বা মুসলমান, রাজবংশী হন বা সাঁওতাল, নমশুদ্র হন বা বামুন, ঘটি, বাঙাল, বাঙালী, খোট্টা, গুটকাখোর বা হারামখোর যাই হন না কেন। আমরা তো ভূমিপুত্র, আদি বাসিন্দা – ইত্যাদি বলে ছাড় পাওয়া যাবে না। অমিত শাহ তা বলেনওনি। তিনি কেবল বলেছেন যে হিন্দু (+) ধর্মের ব্যক্তিরা এই প্রক্রিয়ায় নিজেদেরকে নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে না পারলেও তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হবেনা।


এই কথাটুকু যে অমিত শাহ একদম ঠিক বলেছেন তা বোধহয় আপনারা বুঝতে পারছেন। আসামের দিকে তাকালেও তা সহজে বুঝতে পারবেন। আসামে নাগরিক পঞ্জি থেকে যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ বাদ পড়ল তাদের কাউকেই তো তাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাড়িয়ে দেওয়া আদৌ সম্ভব নয়। কোথায় পাঠাবে ওদের? যারা নিজেদের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পারল না তারা ভারতের নাগরিক নয় এরকমটা বলতে পারে সরকার, কিন্তু তারা তাহলে কোন দেশের নাগরিক তা তো বলতে পারা যাচ্ছেনা। যদি  তাদের বাংলাদেশের বলে ধরেও নেওয়া হয় তবু কি তাদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে? তা করতে গেলে তো বাংলাদেশের সাথে বিশেষ চুক্তি করতে লাগে। সেরকম কোনও চুক্তি তো নাই। ভবিষ্যতে হবার সম্ভাবনাও নাই। বাংলাদেশের সরকার স্পষ্ট ভাষায় বারংবার জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের দেশ থেকে তেমন কিছু মানুষ ভারতে পালিয়ে আসেনি। ভারত সরকারও, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং, স্পষ্টভাষায় বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে যে এনআরসি সম্পূর্ণরূপে ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়, তা নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কিছু নাই। সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে দুদেশের মধ্যে কোনও রকম প্রত্যার্পন চুক্তি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই। সুতরাং অমিত শাহ সত্য কথাই বলেছেন যে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেওয়া হবেনা। কিন্তু তিনি একথাও বলেছেন যে তালিকায় নাম-না-থাকা মুসলমানদের অবশ্যই তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এটাওএকই কারণে বাস্তবায়িত হতে পারেনাযতই হুঙ্কার ছাড়ুন না কেন কাউকেই বিতাড়ন করতে পারবেননা উনি।


তবে হ্যাঁ, সাধারণ মানুষের জীনা হারাম করে দিতে পারবেন—হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সকল সাধারণবিত্ত মানুষের—নোটবন্দীর মাধ্যমে যেটুকু পেরেছিলেন তার থেকে হাজার গুণ বেশী। ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু হয়েছে। কাগজ গোছাতে নাভিশ্বাস তুলে দৌড়াতে হচ্ছে আশঙ্কিত মানুষদের। হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে। কাগজের লাইনে দাঁড়িয়ে হার্ট ফেল করছে কারও, কেউ উদ্বেগ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে বসছে। হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে। এনআরসি-র বিরুদ্ধে, বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছিল চরচর করে। তাই অমিত শাহ বরাভয় দিতে এসেছিলেন হিন্দুদের, আর মুসলমানদের হুমকি। কিন্তু, দেশের মুসলমান ধর্মাবলম্বিদের বিরুদ্ধে এরকম হুমকিতে বাংলার মানুষের কী লাভ! দেশের কী লাভ? সকলেই জানেন যে বাংলাদেশ থেকে এসে যারা এদেশে বসবাস করছেন তার সংখ্যাটা যাই হোক না কেন তারা সকলেই মূলত হিন্দু। তারা নাগরিক অধিকার ও পূর্ণ নাগরিকত্ব পাওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন লড়াই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বাংলার পরিস্থিতি আসামের বিপরীত। আসামে আসমীয়াভাষীদেরই সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়ার উদ্বেগ ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ফলত সেখানে বাঙালি খেদাও আন্দোলন হয়েছে। আসামে খেদানোর আন্দোলন হয়েছে, আর বাংলায় হয়েছে গ্রহণ করে নেওয়ার দাবিতে আন্দোলন। সামান্য ঠোকাঠুকি হয়তো হয়েছে, কিন্তু বাংলার সমাজ জীবনে তারা ধীরে ধীরে গৃহীত হয়েছে এবং তাদের মেধা, শ্রম ও উদ্যোগ বহু গ্রামগঞ্জকে সমৃদ্ধ ও বিকশিত করেছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার পেতে তবু তাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। তারপরও রেশন কার্ড ভোটার কার্ড পাননি অনেকে। এমনকি বিদেশী সন্দেহে জেলেও পোরা হয়েছে। কিন্তু ২০০৩ সালে বড়ো আঘাত আসে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে। নিঃশব্দে। কোনও চেঁচামেচি না করে সংবিধানের নাগরিকত্ব আইন(১৯৫৫)-তে দুটি নতুন কথা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মূল আইনে ২ ধারায় একটি অংশ জুড়ে দিয় বৈধ পাসপোর্ট ছাড়া এদেশে আসা বা বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে এসে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও থেকে যাওয়া সকলকে “ইল্লিগাল ইমিগ্রান্ট” হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং মূল আইনের ১৪ ধারায় ১৪(ক) ধারা যুক্ত করে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও জাতীয় পরিচিতিপত্র চালু করার কথা বলা হয়। তৎকালীন বিজেপি সরকার এই সংশোধন আনে। দেশের সমগ্র গণজন ও বিশেষ করে বাংলার উদ্বাস্তু আন্দোলনের বিরুদ্ধে এ এক নিপুন সার্জিকাল স্ট্রাইক।


এখন নতুন করে আবার নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন আনার কথা বলছে বিজেপিসিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল ২০১৬, সংক্ষেপে ‘ক্যাব’। এই সংশোধনে তিনটি মূল কথা আছে। প্রথমত আফগানিস্তান পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে পালিয়ে আসা হিন্দু(+৫) ধর্মের মানুষকে “ইল্লিগাল ইমিগ্রান্ট” হিসেবে গণ্য করা হবেনা, দ্বিতীয়ত এরকম আশ্রয়প্রার্থিদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ভারতের নাগরিকত্ব দাবী করার জন্য ন্যুনতম বসবাসকাল ১১ বছর থেকে কমিয়ে ৬ বছর করা হবে এবং তৃতীয় ধারাটি হল ‘প্রবাসী ভারতীয় নাগরিক’ কার্ড প্রাপ্তরা কোনও ভারতীয় আইন ভঙ্গ করলেই তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিতে পারবে সরকার। নতুন এই সংশোধনী প্রস্তাব ভারতের সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদের উল্লঙ্ঘন, কারণ নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষকে(মুসলমানদের) আইনটি এক চোখে দেখছে আর হিন্দু সহ বাকি ধর্মের মানুষকে অন্য চোখে দেখছে—এরকম সম্প্রদায়ভিত্তিক বৈষম্য ভারতীয় সংবিধান অনুমোদন করেনা। কিন্তু সে প্রশ্নে বিস্তারিত চর্চা না করে, যদি ধরেই নেওয়া যায় যে এই সংশোধনী শেষ পর্যন্ত পাস করিয়ে নেবে বিজেপি সরকার, তাহলেই বা বাংলার উদ্বাস্তুরা প্রকৃতপক্ষে কী পাবে? তাদের আর “ইল্লিগাল মাইগ্রান্ট” হিসেবে গণ্য করা হবেনা একথা ঠিককিন্তু তারা কি ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে? না। তাঁরা “ইমিগ্রান্ট” হিসেবেই গণ্য হবে। ইল্লিগাল না হলেও ইমিগ্রান্ট। এমনকি ‘শরণার্থি’ বা ‘রিফুজি’-ও নয়। কারণ, ‘শরণার্থি’ শব্দটিই এখনও ভারতের কোনও আইনে বর্ণনা করা নাই এবং শরণার্থি প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সনদেও ভারত এখনও স্বাক্ষর করেনি। ক্যাব পাস হলেও তাদের প্রথম ঘোষণা করতে হবে যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক ছিল। ঘোষনা করতে হবে যে তারা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছে তারপর, ছয় বছর ইমিগ্রান্ট হিসেবে বসবাস করার পর তারা আবেদন করতে পারবে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার। ‘ক্যাব’ তাদের এটুকুই এগিয়ে দেবে।


এটা কি এগিয়ে দেওয়া? নাকি উদ্বাস্তু অধিকারের আন্দোলনকে দুর্মুশ করে দেওয়া? নতুন এই সংশোধনী বিল সম্পর্কে জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি(জেপিসি) ৮ জানুয়ারি ২০১৯ তাদের রিপোর্ট পেশ করে। সেখানে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে এই সংশোধনী পাস হলে মোট ৩১,৩১৩ জন, যারা ইতিমধ্যেই আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং লং টার্ম ভিসা গ্রান্ট করা হয়েছে, তারাই উপকৃত হবে। জেপিসির প্রশ্নের উত্তরে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো স্পষ্ট ভাষায় লিখে জানিয়েছে যে এই একত্রিশ হাজার তিনশ তেরো জন ছাড়া “বাকি সকলকে এই ক্যাটেগরিতে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা ধর্মীয় নিপীড়নের ফলে ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছে। ভারতে ঢোকার সময় যদি তারা একথা ঘোষণা করে না থাকে তাহলে এখন সেরকম দাবী করাটা সহজ হবেনা। ভবিষ্যতে এরকম দাবী এলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে অবশ্যই তাকে R&AW (র) সহ বিভিন্ন সংস্থার স্ক্রুটিনির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে”। আই বি আরও জানায় যে যারা ইতিমধ্যেই ভোটার কার্ড রেশন কার্ড ইত্যাদি পেয়ে গেছে তারা এই ‘ক্যাব’ ক্যাটেগরিতে পড়বেনা এবং তাদের ওইসব কার্ড অবৈধভাবে করা কি না তা খতিয়ে দেখা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় এবং তা করার জন্য ফরেনার্স ট্রাইবুনাল আছে (জেপিসি রিপোর্ট, ২ দাগের ১৭-১৯ পয়েন্ট, পৃষ্ঠা ৩৯)।


পহেলা অক্টোবর অমিত শাহের সভাগৃহে যারা উপস্থিত হয়েছিল তারা কেউই “এনআরসি চাই” বলে গলা মেলাতে পারেনি বিজেপি সভাপতির সাথে। সভাপতি বারবার “জোরসে বোলো, জোরসে বোলো” করছিলেন বটে কিন্তু সাড়া পাননি। কিছুক্ষণের মধ্যে সভায়তন ফাঁকা হয়ে গেছিল। এই হতাশার ধাক্কায় পর দিন ঠাকুরনগরে একটি এনআরসি-বিরোধী ওয়ার্কশপে হামলা চালিয়ে উদ্বাস্তু আন্দোলনের পরিচিত মুখ তথা এনআরসি ও ক্যাবের বিরুদ্ধে মুখর ব্যক্তিত্ব শ্রী সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস এবং মতুয়া মহাসঙ্ঘের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বালা ঠাকুরের ওপর হামলা চালায় সেখানকার বিজেপি নেতৃত্ব। এই ওয়ার্কশপে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি দলিত-মুসলমান ঐক্যের যে বার্তা দিচ্ছিল তা মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষে। এই হামলা থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এনআরসি ও ক্যাব নিয়ে বিজেপির অপপ্রচার বাংলার নমশুদ্র সমাজে তেমন গ্রহণযোগ্য হচ্ছেনা। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজ ও পশ্চিমাঞ্চলের আদিবাসী ও মাহাতো সমাজকে বিজেপি নেতারা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তারা তো ভূমিপুত্র, তাদের নাম তো আর বাদ যাবেনা! মানুষকে কি এতটাই বোকা ভাবে বিজেপি?

 


৩ অক্টোবর ২০১৯

0 Comments

Post Comment