পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো যম যাতনা সকল যেত দূরে: লালন সাঁই

hhhhhhhhhhhhhh

আমরা ভেবে করব কী ?

  • 10 July, 2019
  • 0 Comment(s)
  • 405 view(s)
  • লিখেছেন : নবনীতা মুখোপাধ্যায়
মনে রাখা দরকার-- সুন্দরের কিছু বাস্তবতথ্যমূলক দিকও থাকে। তা দেয় পরিবেশ। পরিবেশকে লঙ্ঘন করে নদীতে বাঁধ, নির্বিচারে জঙ্গল সাফ, কারখানা ও হাসপাতালের মারাত্মক বর্জ্য ফেলা হয় নদীতে। মানুষ এমনিতেই পরিবেশের দফারফা করে চলেছে নিরন্তর।

চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, কিংবা চাঁদের কপালে চাঁদ টি দিয়ে যা—এই সব প্রবচন আক্ষরিক অর্থেই এবার সত্যি হতে চলেছে। চীন চাঁদ বানাচ্ছে। আপাতত একটা, সফল হলে আরও তিনটে, চার-এ চন্দ্র হতে আর দেরি নেই। বেদবাদীরা তা কতটা মেনে নেবেন, সেটাই দেখার। নতুন চাঁদের জন্য আর মাত্র দু বছর অপেক্ষা করতে হবে! ঘোর ‘অমাবস্যায় চাঁদের উদয়’ নামক অভিজ্ঞতা-অসম্ভব প্রবাদও এবার সম্ভব হবে। চেংদুর তিয়ান ফু নিউ এরিয়া সায়েন্স সোসাইটির মুখ্য কর্তা উ চুনফেং জানিয়েছেন, সিচুয়ান রাজ্যের রাজধানী চেংদুর কক্ষপথে স্থাপিত হবে নতুন একটি চাঁদ। সেটি শহরে আলো দেবে বারো মাস। সফল হলে আরও চাঁদ অন্য শহরে বসবে। পৃথিবী জুড়ে টুনি বাল্বের মতো চীন সরবরাহ করবে চাঁদ। দীপাবলীতে বড়লোকেরা চাঁদ কিনে নিজের অঞ্চলের কক্ষপথে বসিয়ে রাখবেন। এক-এ চন্দ্রের দিন ফুরলো! দুই-এ পক্ষ-রও। চন্দ্র নিয়ে পুরাণ এবং রাজনীতিতে বহু কথা রয়েছে। সূর্যবংশীয়দের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল চন্দ্রবংশীয়রা। চন্দ্রের নিজস্ব আলো নেই, সে সৌর আলোকে পুষ্ট। এই নিয়ে অধ্যাত্মবাদী ও জড়বাদীদের মধ্যে লড়াইও রয়েছে। চন্দ্রবংশীয়রা ‘আত্মা’ নামক মিথ্যে আলো নিজের দেহে আরোপ করে। সূর্যবংশীদের আলো মজ্জাগত—তার দেহই হল আলো বা আত্মা। অর্থনীতির নানা প্রাচীন ভারতীয় তত্ত্বও সূর্য আর চন্দ্রবংশীয়দের কর্মপ্রণালীর মধ্যে পাওয়া যায়। চীনের হঠাৎ হল কী! সে চাঁদে মজলো কেন? সেও কি সৌর সম্পদ মানে সারা পৃথিবীর সম্পদ এই ভাবে চাঁদের ফাঁদ পেতে লুন্ঠন করতে চায়! বছর কুড়ি আগে রাশিয়া সূর্যের আলোকে ধরার জন্য কক্ষপথে এক বিশেষ আয়না বসিয়েছিল, কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক সেই প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়। তা সৌর দেবতা বা চন্দ্র দেবতার অভিশাপে কিনা, সে কথা জানা যায়নি। আলো চুরির কৃত্রিম পদ্ধতি প্রকৃতিই বা কতটা মেনে নেবে, তা সময় বলবে; যদিও সময়ের ধারণা পালটে দেবে নতুন চন্দ্রসমূহের আগমন। বেশ কয়েক বছর আগে, পশ্চিমবঙ্গের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের বেলা জোরালো আলো লাগানো হয়েছিল। গাছে ভরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পাখিদের তখন মহা সমস্যা তৈরি হয়। প্রতিবাদ ওঠে। কর্তৃপক্ষ ওই আলো তুলে ফেলে মাটির কাছাকাছি ঢাকনাওয়ালা আলো লাগানোর ব্যবস্থা করেন তখন। নতুন যে চাঁদ চীন বানাচ্ছে, তার আলো বিকিরণের ক্ষমতা হবে স্ট্রিট ল্যাম্পের আলোর পাঁচ গুণ। জনজীবনের কী কী লাভ হবে এতে, সেই আলোচনায় না গিয়ে ক্ষতির দিকটি ভেবে দেখা প্রয়োজন। পাখিরা কি ওই অঞ্চলে থাকবে তখন? আর পশুরা যাবে কোথায়! চীন উত্তরে বলবে, কুছ পরোয়া নেহি। উড্ডয়নক্ষম প্লাস্টিকপক্ষী থেকে চলনশীল জানোয়ার সব তারা বানিয়ে দেবে! এমনকি প্রজাপতিও। তারাই গাছের পরাগমিলন ঘটাবে। প্রয়োজনে গাছও থাকবে না। বেশ কিছু কাল ধরে চীন বেশ কয়েকটি প্রদেশ বানিয়েছে ঘন জঙ্গল সাফ করে। এর নাম উন্নয়ন, চাঁদও সেই প্রকল্পের অঙ্গ। এমন মডেল এসে গেছে পৃথিবীতে। চাঁদ দিয়ে সেই বদল শুরু। আমেরিকার মতো প্রবল বলশালী দেশ এবার গুটিয়ে যাচ্ছে, ট্রাম্পের হাত ধরে। লিবারালদের টিকিয়ে রেখেছিল যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তা আবার ভেঙে চুরমার। চীন উঠে আসছে, হাতে তার অসংখ্য চাঁদ। সে এবার সর্বশক্তিমান। পৃথিবীতে তার কোনও বিরোধী থাকবে না। পৃথিবীর দেশগুলো হবে চীনের এক-একটা প্রদেশ। সেখানে চীন বসাবে চন্দ্রের মতো সর্বাধিনায়ক দেবতা। চকোর হয়ে পৃথিবীর সব প্রাণী জ্যোৎস্না পান করে বেঁচে থাকবে, তাইই অমৃত। সর্বাধিনায়কের চায় অন্ধকার, চীন তাও বানিয়ে দেবে! যন্তর মন্তর ঘরে অদ্ভুত অন্ধকার তৈরির ফরমুলা প্রস্তুত।

  চাঁদ-ফুল-পাখি এক সময় বেশ নান্দনিক ছিল—গানে-কবিতায়। এখনও আছে, তবে গানে-কবিতায় আছে কিনা জানা নেই, রয়েছে সুন্দরে। কী সেই সুন্দর? সুন্দর কোনও ঘটনাবিশেষ নয়, সে হল এক ধরণের মূল্য—তার সত্য-মিথ্যা হয় না। হয় মানসিক আরাম। মনের আরামে শরীরের শান্তি। ব্যক্তিভেদে সুন্দরের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার হলেও কিছু আন্তর্ব্যক্তিক সাদৃশ্যও আছে সুন্দরের প্রত্যয়ে। রাতকে রাতের মতো থাকতে না দিলে সেটা হয় স্বাভাবিক সুন্দরের ভাঙন এবং অশ্লীলতার আগমন। পৃথিবী জুড়ে নেমে আসছে সেই গভীর অশ্লীল অসুন্দর—ভূতচতুর্দশী কিংবা কালীপূজার অমাবস্যায় এক-একটি তল্লাটের আকাশে উদিত হবে গোটা দশেক চাঁদ। এক-এ চীন দিয়ে সংখ্যা গুনবে কোনও বালিকা বা বালক আর শেষ করবে দশ-এ চন্দ্র দিয়ে। অভ্যাসের বদল বলে কেউ এর পক্ষ (যেহেতু বিপক্ষ নেই, সবটাই শুক্লপক্ষ) নিতে পারেন বটে, কিন্তু মনে রাখা দরকার-- সুন্দরের কিছু বাস্তবতথ্যমূলক দিকও থাকে। তা দেয় পরিবেশ। পরিবেশকে লঙ্ঘন করে নদীতে বাঁধ, নির্বিচারে জঙ্গল সাফ, কারখানা ও হাসপাতালের মারাত্মক বর্জ্য ফেলা হয় নদীতে। মানুষ এমনিতেই পরিবেশের দফারফা করে চলেছে নিরন্তর। এ সবই অশ্লীল ও অসুন্দর--ঘটনা ও ফলাফলের বিচারে। এই বার সব অসুন্দর ও অশ্লীলতাকে ছাড়িয়ে যাবে নতুন সর্বশক্তিধর রাষ্ট্র। দীর্ঘকাল ধরে এই অ-নান্দনিক আক্রমণের ছুরি শানানো হচ্ছে চীনের কামারশালায়, যে কামারশালার হাপরে কয়লা ঢেলে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের এক ব্যক্তি। ১.১৭ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ রয়েছে যে চীনের কাছে। ট্রাম্পের মোবাইল ফোনও নাকি চীনের গুপ্তচরেদের কব্জায়।

শোনা যায়, চীনা গুপ্তচরেরা কাশ্মীরের হুরিয়ত এবং আরও অনেক ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ শক্তিকে টাকা দেয়। অর্থ আর অস্ত্র দিয়ে একটি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পাশের দেশ তাই করে থাকে। হুরিয়ত কেন, আরও অনেককেও অর্থ-অস্ত্র দিচ্ছে বলে খবর ভেসে বেড়ায়। খুব অচিরেই সেই সব জোগান বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ নতুন এই চীন চেয়েছিল ভারতে ক্ষমতায় বসুক সর্বাধিনায়ক কেউ। তার আশা পূরণ হয়েছে। মোদী বা যোগীর মতো নেতাই যে তাদের প্রধান পছন্দ, সে কথা আর বলে দিতে হবে না। এমন সব একনায়ক চীন ছাড়া অন্য কোথাও মেলে না!

হচ্ছিল চন্দ্র দেবতাকে নিয়ে কথা। তার একচ্ছত্র আধিপত্য ঘোচাতে বৃহস্পতির অভিশাপ যে এত দিন পরে ফলে যাবে, তা কে জানতো! দেবগুরু বৃহস্পতির স্ত্রী তারাকে নিয়ে পালিয়েছিলেন চাঁদ। দক্ষের সাতাশ কন্যাকে বিবাহ করেও চাঁদের কামনার ক্ষয় হয়নি। তারার গর্ভে চাঁদের যে পুত্র জন্মায় তার নাম ‘বুধ’। সে আদপে চাঁদের সন্তান হলে কী হবে, বুধ আসলে বৃহস্পতির ক্ষেত্রজ পুত্র। বৃহস্পতি ‘চাঁদের কুষ্ঠ (মতান্তরে, যক্ষ্মা) হোক’ বলে অভিশাপ প্রদান করেন। সেই প্রাচীন ও অসুস্থ চাঁদের বদলে আসছে আধুনিক ও শস্তা চীনাংশু। আনছেন দেবতাদের গুরু সর্বশক্তিমান বৃহস্পতি, থুড়ি, পৃথিবীর ওস্তাদ সর্বশক্তিমান চীন।

0 Comments

Post Comment